📄 কবরে বাতি জ্বালানো
কবরের মধ্যে বাতি জ্বালানো, মোমবাতি, বিজলী বাতি ইত্যাদি জ্বালানোর কোন ভিত্তি শরীয়াতে নেই; বরং সত্য ধর্ম এ জাতীয় নোংরা চালচলনের বিরোধিতা করে। তিরমিযীর শরাহ উরফুস সাজী কিতাবে রয়েছে,
الْغُلُو الَّذِي كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ مِنْ إِيْقَادِ النَّارِ
অর্থাৎ কবরে আগুন দেয়া জাহেলী যুগের বাড়াবাড়ি। ২৪৮ সুতরাং বুঝা গেল যে, কবরওয়ালা যে-ই হোন না কেন, কবরে বাতি জ্বালানো নিষিদ্ধ।
টিকাঃ
২৪৮ উরফুস সাজী, ২/৪০৮
কবরের মধ্যে বাতি জ্বালানো, মোমবাতি, বিজলী বাতি ইত্যাদি জ্বালানোর কোন ভিত্তি শরীয়াতে নেই; বরং সত্য ধর্ম এ জাতীয় নোংরা চালচলনের বিরোধিতা করে। তিরমিযীর শরাহ উরফুস সাজী কিতাবে রয়েছে,
الْغُلُو الَّذِي كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ مِنْ إِيْقَادِ النَّارِ
অর্থাৎ কবরে আগুন দেয়া জাহেলী যুগের বাড়াবাড়ি। ২৪৮ সুতরাং বুঝা গেল যে, কবরওয়ালা যে-ই হোন না কেন, কবরে বাতি জ্বালানো নিষিদ্ধ।
টিকাঃ
২৪৮ উরফুস সাজী, ২/৪০৮
📄 মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিদ‘আত
মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত কামনার নামে তাহলীল পড়ানো, কুরআন খতম পড়ানো মত ব্যক্তির চার পাশে বসে কুরআন পাঠ করা, গোসলের জন্য গরম পানি দেওয়ার জন্য পাক ঘরের চুলা বাদ দিয়ে বাইরে চুলা করে পানি গরম করা, মৃত ব্যক্তিকে যেখানে গোসল দেওয়া হয় সে স্থান ৪দিন কিংবা ৪০ দিন পর্যন্ত বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করা এবং রাতের বেলায় সেখানে মোম, হ্যারিকেন বা বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে আলোকিত করে রাখা, জানাযা নিয়ে যাওয়ার সময় আল্লাহু রাব্বী, মুহাম্মাদুন নবী কিংবা কালিমা শাহাদাৎ পাঠ করা, জানাযা কবর স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় খাটিয়ার উপর আগর বাতি জ্বালানো এবং জানাযার যাত্রীদের উপর গোলাপ জল ছিটানো, কবর স্থানে জানাযা নেয়ার সময় খাটিয়াকে ছাতা বা কোনো আচ্ছাদন দিয়ে ছায়াদান করে নিয়ে যাওয়া।
জানাযার সালাত শেষে "এ মানুষটি কেমন ছিল "উপস্থিত সবাই "বেশ ভালো ছিল” একথা বলা, জানাযার সালাতের পূর্বে মৃত ব্যক্তির স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেয়া, জানাযা পড়ানোর সময় ইমামের একখন্ড সাদা কাপড় জায়নামায হিসেবে ব্যবহার করা - যা মূলত কাফনের কাপড়ের অংশ বিশেষ, জানাযার নামাজ পড়ার পর পুনরায় খাটিয়ার সামনে দু'আ করা ঐ সময় ক্বিয়াম করা নামাজ ও সালাম পেশ করা, জানাযার সালাতের পর মত ব্যক্তিকে শেষ বারের মত দেখার জন্য মুখের কাফনখোলা, কাফনের উপর যে কোনো রকমের দুআ লিখে দেয়া কিংবা দু'আ লিখিত কাপড় খন্ড কাফনের সাথে লাগিয়ে দেয়া, কোনো কাপড় খন্ডের উপর কালিমা লিখে ঐ কাপড় খন্ড কবরের ভেতর মৃতের ডান পাশেমুখ বরাবর কবরের দেয়ালে টাঙ্গিয়ে দেয়া। কবরের উপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করা, দাফন করার সময় প্রথম তিন অঞ্জলি মাটি দেওয়ার ক্ষেত্রে মিনহা খালাকনাকুম ওয়া মিনহা"
কুরআন মাজীদের এ আয়াত পাঠ করা, দাফনের পর দুআ করার পূর্বে একবার সূরা ফাতিহা তিনবার সূরা খলাস একবার সূরা ফালাক্ব একবার সূরা নাস এভাবে কুরআন মাজীদ থেকে কোনো সূরা বা আয়াতপাঠ করা, দাফন ও দুআ শেষে সবাই চলে আসার পর একজন বসে কবর তালক্বীন করা, কবর পাকা করা ও তাতে মৃত ব্যক্তির নাম ফলক করা, কবরের উপর ঘর তৈরি করা বা মাযার নির্মাণ করা, মৃত্যুর পর চার দিন পর্যন্ত কিংবা চল্লিশ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন ফাতিহা পড়ানো, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে তিন দিন পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজন কত্রিক পালা ক্রমেখানা পাঠানো। মৃত্যুর পর চার দিন বা চল্লিশ দিন পর্যন্ত মোল্লা- মৌলভী দিয়ে প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে কবর পাহারা দেয়া, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে তিনদিন পর্যন্ত চুলা না জ্বালানো ও খানা পাক না করা, মৃত ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্ব কিংবা জাতীয় নেতা-নেত্রী হলে অথবা সামরিক ব্যক্তি হলে দাফনের সময় তোপধ্বনি করা ও যুদ্ধের বাজনা বাজানো, জানাযার সালাতে প্রথম তাকবীরের পর 'ছানা পড়া, মৃত ব্যক্তিকে কবওে রাখার সময় আযান দেয়া, নেককার বা বুযুর্গ ব্যক্তি হিসেবে কোনো কবরে বিছানা-বালিশ দেয়া, মৃত্যুর পূর্বেই কবর খনন করে রাখা, মৃত ব্যক্তির কাযা নামায থাকলে কিংবা মৃত ব্যক্তি বেনামাযী হলে তার নামাযের আর্থিক কাফফারা হিসাব করে কাফফারা আদায় করা এং এ মৃত ব্যক্তি গরীব লোক হলে কাফফারার পরিবর্তে একটি কুরআন মাজীদ কাউকে হাদীয়া প্রদান করে কাফফারা এসক্বাত্ব (দূরীভূত করা) ইত্যাদি ইত্যাদি।
উল্লেখিত কাজসমূহ বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তি বিশেষ কর্তৃক সম্পূর্ণ নব উদ্ভাবিত। অর্থ্যাৎ আল্লাহর রসূল যেমন এসব কাজ করেছেন বলে কোন প্রমাণ নেই, তেমনি সাহাবায়ে কেরাম এসব কাজ করেছেন বলে কোন ভিত্তি নেই। এ সমস্ত - অনুষ্ঠানে শরীক হয়ে হাদীয়া ও টাকা-পয়সা গ্রহণ বা প্রদান করা সম্পূর্ণ হারাম। শুধু তাই নয়, এসব কাজের কোন শারঈ ভিত্তি নেই বরং এসব অনুষ্ঠান পালন করা সম্পূর্ণ বিদ'আত। আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন: আল-কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে-
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بالْإِيمَانِ. (الحشر
'যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ও আমাদের যে সকল ভাই পূর্বে ঈমান গ্রহণ করেছে তাদের ক্ষমা কর।' এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে সকল মুসলিম দুনিয়া থেকে চলে গেছেন, তাদের মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করতে শিখিয়েছেন। তাই বুঝা যাচ্ছে যে, মৃত ব্যক্তিদের জন্য মাগফিরাতের দু'আ তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। যদি এটা তাঁদের জন্য কল্যাণকর না হত, তবে আল্লাহ তা করতে আমাদের উৎসাহিত করতেন না। এমনিভাবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মৃত ব্যক্তিদের জন্য দুআ-প্রার্থনা করার কথা কুরআনের একাধিক আয়াতে উল্লেখ করেছেন। হাদীসে এসেছে-
عن أبي أسيد الساعدي قال سأل رجل من بني سلمة فقال يارسول الله هل بقي من بر أبواي شيء أبرهما بعد موتهما، فقال نعم ، الصلاة عليهما والاستغفار لهما وإنفاذ عهدهما بعد موتهما وصلة الرحم التي لا توصل إلا بهما وإكرام صديقهما . رواه أبو داود وابن ماجة
সাহাবী আবু উসাইদ আস-সায়েদী হতে বর্ণিত, বনু সালামা গোত্রের এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর এমন কোন কল্যাণমূলক কাজ আছে যা করলে পিতা-মাতার উপকার হবে? আল্লাহর রসূল উত্তর দিলেন: হ্যাঁ, আছে। তাহল, তাদের উভয়ের জন্য আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করা। উভয়ের মাগফিরাতের জন্য দুআ করা। তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করা। তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখা ও তাদের বন্ধু-বান্ধবদের সম্মান করা। সুতরাং, আধুনিককালে সমাজে কবর যেয়ারত নিয়ে যেসব কাজসমূহ দেখা যায় তা বিদ'আত। সুতরাং, মৃত ব্যক্তির জন্য যেসব কাজ নাজায়েয ও বিদ'আত বলে উপরে উল্লেখ করা হয়েছে তা রসূলুল্লাহ - এর এই সহীহ হাদীস অনুযায়ী সত্যিই নাজায়েয এবং বিদ'আত। আর বিদ'আত হলো -- গোমরাহী যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত কামনার নামে তাহলীল পড়ানো, কুরআন খতম পড়ানো মত ব্যক্তির চার পাশে বসে কুরআন পাঠ করা, গোসলের জন্য গরম পানি দেওয়ার জন্য পাক ঘরের চুলা বাদ দিয়ে বাইরে চুলা করে পানি গরম করা, মৃত ব্যক্তিকে যেখানে গোসল দেওয়া হয় সে স্থান ৪দিন কিংবা ৪০ দিন পর্যন্ত বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করা এবং রাতের বেলায় সেখানে মোম, হ্যারিকেন বা বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে আলোকিত করে রাখা, জানাযা নিয়ে যাওয়ার সময় আল্লাহু রাব্বী, মুহাম্মাদুন নবী কিংবা কালিমা শাহাদাৎ পাঠ করা, জানাযা কবর স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় খাটিয়ার উপর আগর বাতি জ্বালানো এবং জানাযার যাত্রীদের উপর গোলাপ জল ছিটানো, কবর স্থানে জানাযা নেয়ার সময় খাটিয়াকে ছাতা বা কোনো আচ্ছাদন দিয়ে ছায়াদান করে নিয়ে যাওয়া।
জানাযার সালাত শেষে "এ মানুষটি কেমন ছিল "উপস্থিত সবাই "বেশ ভালো ছিল” একথা বলা, জানাযার সালাতের পূর্বে মৃত ব্যক্তির স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেয়া, জানাযা পড়ানোর সময় ইমামের একখন্ড সাদা কাপড় জায়নামায হিসেবে ব্যবহার করা - যা মূলত কাফনের কাপড়ের অংশ বিশেষ, জানাযার নামাজ পড়ার পর পুনরায় খাটিয়ার সামনে দু'আ করা ঐ সময় ক্বিয়াম করা নামাজ ও সালাম পেশ করা, জানাযার সালাতের পর মত ব্যক্তিকে শেষ বারের মত দেখার জন্য মুখের কাফনখোলা, কাফনের উপর যে কোনো রকমের দুআ লিখে দেয়া কিংবা দু'আ লিখিত কাপড় খন্ড কাফনের সাথে লাগিয়ে দেয়া, কোনো কাপড় খন্ডের উপর কালিমা লিখে ঐ কাপড় খন্ড কবরের ভেতর মৃতের ডান পাশেমুখ বরাবর কবরের দেয়ালে টাঙ্গিয়ে দেয়া। কবরের উপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করা, দাফন করার সময় প্রথম তিন অঞ্জলি মাটি দেওয়ার ক্ষেত্রে মিনহা খালাকনাকুম ওয়া মিনহা"
কুরআন মাজীদের এ আয়াত পাঠ করা, দাফনের পর দুআ করার পূর্বে একবার সূরা ফাতিহা তিনবার সূরা খলাস একবার সূরা ফালাক্ব একবার সূরা নাস এভাবে কুরআন মাজীদ থেকে কোনো সূরা বা আয়াতপাঠ করা, দাফন ও দুআ শেষে সবাই চলে আসার পর একজন বসে কবর তালক্বীন করা, কবর পাকা করা ও তাতে মৃত ব্যক্তির নাম ফলক করা, কবরের উপর ঘর তৈরি করা বা মাযার নির্মাণ করা, মৃত্যুর পর চার দিন পর্যন্ত কিংবা চল্লিশ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন ফাতিহা পড়ানো, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে তিন দিন পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজন কত্রিক পালা ক্রমেখানা পাঠানো। মৃত্যুর পর চার দিন বা চল্লিশ দিন পর্যন্ত মোল্লা- মৌলভী দিয়ে প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে কবর পাহারা দেয়া, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে তিনদিন পর্যন্ত চুলা না জ্বালানো ও খানা পাক না করা, মৃত ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্ব কিংবা জাতীয় নেতা-নেত্রী হলে অথবা সামরিক ব্যক্তি হলে দাফনের সময় তোপধ্বনি করা ও যুদ্ধের বাজনা বাজানো, জানাযার সালাতে প্রথম তাকবীরের পর 'ছানা পড়া, মৃত ব্যক্তিকে কবওে রাখার সময় আযান দেয়া, নেককার বা বুযুর্গ ব্যক্তি হিসেবে কোনো কবরে বিছানা-বালিশ দেয়া, মৃত্যুর পূর্বেই কবর খনন করে রাখা, মৃত ব্যক্তির কাযা নামায থাকলে কিংবা মৃত ব্যক্তি বেনামাযী হলে তার নামাযের আর্থিক কাফফারা হিসাব করে কাফফara আদায় করা এং এ মৃত ব্যক্তি গরীব লোক হলে কাফফারার পরিবর্তে একটি কুরআন মাজীদ কাউকে হাদীয়া প্রদান করে কাফফara এসক্বাত্ব (দূরীভূত করা) ইত্যাদি ইত্যাদি।
উল্লেখিত কাজসমূহ বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তি বিশেষ কর্তৃক সম্পূর্ণ নব উদ্ভাবিত। অর্থ্যাৎ আল্লাহর রসূল যেমন এসব কাজ করেছেন বলে কোন প্রমাণ নেই, তেমনি সাহাবায়ে কেরাম এসব কাজ করেছেন বলে কোন ভিত্তি নেই। এ সমস্ত - অনুষ্ঠানে শরীক হয়ে হাদীয়া ও টাকা-পয়সা গ্রহণ বা প্রদান করা সম্পূর্ণ হারাম। শুধু তাই নয়, এসব কাজের কোন শারঈ ভিত্তি নেই বরং এসব অনুষ্ঠান পালন করা সম্পূর্ণ বিদ'আত। আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন: আল-কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে-
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بالْإِيمَانِ. (الحشر
'যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ও আমাদের যে সকল ভাই পূর্বে ঈমান গ্রহণ করেছে তাদের ক্ষমা কর।' এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে সকল মুসলিম দুনিয়া থেকে চলে গেছেন, তাদের মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করতে শিখিয়েছেন। তাই বুঝা যাচ্ছে যে, মৃত ব্যক্তিদের জন্য মাগফিরাতের দু'আ তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। যদি এটা তাঁদের জন্য কল্যাণকর না হত, তবে আল্লাহ তা করতে আমাদের উৎসাহিত করতেন না। এমনিভাবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মৃত ব্যক্তিদের জন্য দুআ-প্রার্থনা করার কথা কুরআনের একাধিক আয়াতে উল্লেখ করেছেন। হাদীসে এসেছে-
عن أبي أسيد الساعدي قال سأل رجل من بني سلمة فقال يارسول الله هل بقي من بر أبواي شيء أبرهما بعد موتهما، فقال نعم ، الصلاة عليهما والاستغفار لهما وإنفاذ عهدهما بعد موتهما وصلة الرحم التي لا توصل إلا بهما وإكرام صديقهما . رواه أبو داود وابن ماجة
সাহাবী আবু উসাইদ আস-সায়েদী হতে বর্ণিত, বনু সালামা গোত্রের এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর এমন কোন কল্যাণমূলক কাজ আছে যা করলে পিতা-মাতার উপকার হবে? আল্লাহর রসূল উত্তর দিলেন: হ্যাঁ, আছে। তাহল, তাদের উভয়ের জন্য আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করা। উভয়ের মাগফিরাতের জন্য দুআ করা। তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করা। তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখা ও তাদের বন্ধু-বান্ধবদের সম্মান করা। সুতরাং, আধুনিককালে সমাজে কবর যেয়ারত নিয়ে যেসব কাজসমূহ দেখা যায় তা বিদ'আত। সুতরাং, মৃত ব্যক্তির জন্য যেসব কাজ নাজায়েয ও বিদ'আত বলে উপরে উল্লেখ করা হয়েছে তা রসূলুল্লাহ - এর এই সহীহ হাদীস অনুযায়ী সত্যিই নাজায়েয এবং বিদ'আত। আর বিদ'আত হলো -- গোমরাহী যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
📄 জানাযা সালাত শেষে সম্মিলিতভাবে দুআ-মুনাজাত
আমাদের দেশের অনেক স্থানে দেখা যায় যে, জানাযা নামাজ পড়া হলে মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা নিবেদন ও তার জন্য মাগফিরাত কামনার জন্য দুআ-প্রার্থনা করে। অথচ ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী এরূপ করা সম্পূর্ণ বিদ'আত। জানাযা নামাজে তার জন্য দুআ-মুনাজাত শেষ করে আবার সাথে সাথে দুআ-মুনাজাত করার মধ্যে কি হিকমত থাকতে পারে? উদ্দেশ্য হতে পারে, আল্লাহকে এ কথা জানিয়ে দেয়া যে, হে আল্লাহ! মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ-মুনাজাত করার যে পদ্ধতি আপনার রসূল আমাদের শিখিয়ে গেছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। তাই আমরা আবার আমাদের পছন্দ মত নিয়মানুসারে আমাদের মত করে দুআ-মুনাজাত করে নিলাম। মূলতঃ এ প্রচলিত মুনাজাত নবী এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীন কারো যুগে ছিল না। সুতরাং এ প্রচলিত মুনাজাতসমূহ বিদ'আতের অন্তর্ভুক্ত। মিরকাত গ্রন্থ প্রণেতা বলেন,
لَا يَدْعُوا لِلْمَيِّتِ بَعْدَ صَلوةِ الْجَنَازَةِ لِأَنَّهُ يَشْبَهُ الزِّيَادَةَ فِي صَلوةِ الْجَنَازَةِ
অর্থাৎ জানাযার নামাযের পর দ্বিতীয়বার মৃত ব্যক্তির জন্য দু'আ করবে না। কারণ এর দ্বারা জানাযার নামাযের মধ্যে অতিরিক্ত কিছু প্রসার হওয়ার সাথে সামঞ্জস্য হয়ে যায়। ২৪৯
তবে জানাযার নামাযের পর বা দাফনের পর এককভাবে মৃত ব্যক্তির জন্য দু'আ বা ক্ষমা প্রার্থনা করা উত্তম। যেমন হাদীসে এসেছে -
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَحِيرٍ ، عَنْ هَانِي، مَوْلَى عُثْمَانَ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ، وَسُلُوا لَهُ بِالتَّثْبِيتِ، فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ : بَحِيرُ ابْنُ رَيْسَانَ
উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) মৃতের দাফন শেষ করে সেখানে দাঁড়িয়ে বলতেনঃ তোমাদের ভাইয়ের জন্য তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সে যেন প্রতিষ্ঠিত থাকে সেজন্য দু'আ করো। কেননা তাকে এখনই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ২৫০
টিকাঃ
২৪৯ মিরকাত, ২/২১৯。
২৫০ আবু দাউদ, হাঃ ৩২২১
আমাদের দেশের অনেক স্থানে দেখা যায় যে, জানাযা নামাজ পড়া হলে মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা নিবেদন ও তার জন্য মাগফিরাত কামনার জন্য দুআ-প্রার্থনা করে। অথচ ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী এরূপ করা সম্পূর্ণ বিদ'আত। জানাযা নামাজে তার জন্য দুআ-মুনাজাত শেষ করে আবার সাথে সাথে দুআ-মুনাজাত করার মধ্যে কি হিকমত থাকতে পারে? উদ্দেশ্য হতে পারে, আল্লাহকে এ কথা জানিয়ে দেয়া যে, হে আল্লাহ! মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ-মুনাজাত করার যে পদ্ধতি আপনার রসূল আমাদের শিখিয়ে গেছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। তাই আমরা আবার আমাদের পছন্দ মত নিয়মানুসারে আমাদের মত করে দুআ-মুনাজাত করে নিলাম। মূলতঃ এ প্রচলিত মুনাজাত নবী এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীন কারো যুগে ছিল না। সুতরাং এ প্রচলিত মুনাজাতসমূহ বিদ'আতের অন্তর্ভুক্ত। মিরকাত গ্রন্থ প্রণেতা বলেন,
لَا يَدْعُوا لِلْمَيِّتِ بَعْدَ صَلوةِ الْجَنَازَةِ لِأَنَّهُ يَشْبَهُ الزِّيَادَةَ فِي صَلوةِ الْجَنَازَةِ
অর্থাৎ জানাযার নামাযের পর দ্বিতীয়বার মৃত ব্যক্তির জন্য দু'আ করবে না। কারণ এর দ্বারা জানাযার নামাযের মধ্যে অতিরিক্ত কিছু প্রসার হওয়ার সাথে সামঞ্জস্য হয়ে যায়। ২৪৯
তবে জানাযার নামাযের পর বা দাফনের পর এককভাবে মৃত ব্যক্তির জন্য দু'আ বা ক্ষমা প্রার্থনা করা উত্তম। যেমন হাদীসে এসেছে -
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَحِيرٍ ، عَنْ هَانِي، مَوْلَى عُثْمَانَ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ، وَسُلُوا لَهُ بِالتَّثْبِيتِ، فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ : بَحِيرُ ابْنُ رَيْسَانَ
উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) মৃতের দাফন শেষ করে সেখানে দাঁড়িয়ে বলতেনঃ তোমাদের ভাইয়ের জন্য তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সে যেন প্রতিষ্ঠিত থাকে সেজন্য দু'আ করো। কেননা তাকে এখনই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ২৫০
টিকাঃ
২৪৯ মিরকাত, ২/২১৯。
২৫০ আবু দাউদ, হাঃ ৩২২১
📄 প্রচলিত তাবলীগ এবং চিস্তিয়া প্রথা
ইসলাম কারো মনগড়া ধর্ম ও জীবন ব্যবস্থা নয়। এটা বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহ প্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। আর এ দ্বীন প্রচারিত হয়েছিল নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) - এর মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে রসূল (সাঃ) এর একটি হাদীস উল্লেখযোগ্য। হাদীসটি নিরূপঃ
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مِسْعَرٍ، وَغَيْرِهِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ لِعُمَرَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَوْ أَنَّ عَلَيْنَا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإسْلامَ دِينًا } لاتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدًا . فَقَالَ عُمَرُ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَيَّ يَوْمٍ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ، نَزَلَتْ يَوْمَ عَرَفَةً فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ. سَمِعَ سُفْيَانُ مِنْ مِسْعَرٍ وَمِسْعَرَّ قَيْسًا وَقَيْسٌ طَارِقًا.
হুমায়দী (রহঃ) ...... তারিক ইবনে শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইহুদী উমর (রাঃ) কে বলল, হে আমীরুল মু'মিনীন! আমাদের উপর যদি এই আয়াতঃ "আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন মনোনীত করলাম” (৫ : ৩) অবতীর্ণ হত, তাহরে সে দিনটিকে আমরা ঈদ (উৎসবের) দিন হিসাবে গণ্য করতাম। উমর (রাঃ) বললেন, আমি অবশ্যই জানি এ আয়াতটি কোন দিন অবতীর্ণ হয়েছিল। আরাফার দিন জুমু'আ দিবসে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল। হাদীসটি সুফিয়ান থেকে, মিসআর কায়স থেকে, কায়স তারিক থেকে শুনেছেন। ২৫১
সুতরাং রসূল এর উপরোক্ত হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, এই দ্বীন তথা ইসলাম পরিপূর্ণ এবং এই দ্বীন তথা ইসলামের মূল দর্শন হল তাওহীদের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা দান। মূলতঃ এ কারণেই তাবলীগের অন্যতম জনপ্রিয় একটা গ্রুপ হল তাবলীগ জামায়াত। এই জামায়াত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে আছে। এমনকি শুনা যায় যে, বিশ্বের যেখানে সত্যিকারের মুসলিমের প্রবেশ নিষেধ সেখানেও এই জামায়াতের অবাধ বিচরণ। অথচ রসূল এর তাবলীগের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই বললেই চলে এবং দ্বীনের ভিতরে নব উদ্ভাবিত বিদ'আত।
সউদী আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের সদস্য শাইখ সালেহ বিন ফাওযান বলেন, দাওয়াতের নাম ব্যবহার করে তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা যা করে তা বিদ'আত; সাহাবী, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈ অর্থাৎ সালফে সালেহীনরা এভাবে দাওয়াত দেননি। এদের মাঝে অনেক বিদ'আত এবং ভ্রান্ত কুসংস্কার রয়েছে। এদের কর্মনীতি রসূল এর কর্মসূচী ও কর্মনীতির পরিপন্থী ও বিরোধী। এটি একটি বিদ'আতী সূফী জামায়াত, এদের সম্পর্কে সাবধান থাকা অপরিহার্য। তারা বিদ'আতী চিল্লা দেয়। তাদের দ্বারা ইসলামের কোন ফায়দা হবে না এবং কোন মুসলিমের জায়েয হবে না এ জামায়াতের সাথে সম্পর্ক রাখা এবং এদের সাথে চলা। ২৫২
টিকাঃ
২৫১ সহীহ বুখারী, হাঃ ৩৭৩
২৫২ তারিখঃ ১৩/৫/১৪১৭ হিজরী, ফাতাওয়া ও চিঠিপত্র, শাইখ সালহ বিন ফাওযান, সউদী আরব এবং দাওয়াত ও ইলমের ব্যাপারে তিনটি বক্তব্য-শায়েখ ফাওযান。
ইসলাম কারো মনগড়া ধর্ম ও জীবন ব্যবস্থা নয়। এটা বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহ প্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। আর এ দ্বীন প্রচারিত হয়েছিল নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) - এর মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে রসূল (সাঃ) এর একটি হাদীস উল্লেখযোগ্য। হাদীসটি নিরূপঃ
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مِسْعَرٍ، وَغَيْرِهِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ لِعُمَرَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَوْ أَنَّ عَلَيْنَا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإسْلامَ دِينًا } لاتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدًا . فَقَالَ عُمَرُ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَيَّ يَوْمٍ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ، نَزَلَتْ يَوْمَ عَرَفَةً فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ. سَمِعَ سُفْيَانُ مِنْ مِسْعَرٍ وَمِسْعَرَّ قَيْسًا وَقَيْسٌ طَارِقًا.
হুমায়দী (রহঃ) ...... তারিক ইবনে শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইহুদী উমর (রাঃ) কে বলল, হে আমীরুল মু'মিনীন! আমাদের উপর যদি এই আয়াতঃ "আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন মনোনীত করলাম” (৫ : ৩) অবতীর্ণ হত, তাহরে সে দিনটিকে আমরা ঈদ (উৎসবের) দিন হিসাবে গণ্য করতাম। উমর (রাঃ) বললেন, আমি অবশ্যই জানি এ আয়াতটি কোন দিন অবতীর্ণ হয়েছিল। আরাফার দিন জুমু'আ দিবসে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল। হাদীসটি সুফিয়ান থেকে, মিসআর কায়স থেকে, কায়স তারিক থেকে শুনেছেন। ২৫১
সুতরাং রসূল এর উপরোক্ত হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, এই দ্বীন তথা ইসলাম পরিপূর্ণ এবং এই দ্বীন তথা ইসলামের মূল দর্শন হল তাওহীদের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা দান। মূলতঃ এ কারণেই তাবলীগের অন্যতম জনপ্রিয় একটা গ্রুপ হল তাবলীগ জামায়াত। এই জামায়াত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে আছে। এমনকি শুনা যায় যে, বিশ্বের যেখানে সত্যিকারের মুসলিমের প্রবেশ নিষেধ সেখানেও এই জামায়াতের অবাধ বিচরণ। অথচ রসূল এর তাবলীগের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই বললেই চলে এবং দ্বীনের ভিতরে নব উদ্ভাবিত বিদ'আত।
সউদী আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের সদস্য শাইখ সালেহ বিন ফাওযান বলেন, দাওয়াতের নাম ব্যবহার করে তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা যা করে তা বিদ'আত; সাহাবী, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈ অর্থাৎ সালফে সালেহীনরা এভাবে দাওয়াত দেননি। এদের মাঝে অনেক বিদ'আত এবং ভ্রান্ত কুসংস্কার রয়েছে। এদের কর্মনীতি রসূল এর কর্মসূচী ও কর্মনীতির পরিপন্থী ও বিরোধী। এটি একটি বিদ'আতী সূফী জামায়াত, এদের সম্পর্কে সাবধান থাকা অপরিহার্য। তারা বিদ'আতী চিল্লা দেয়। তাদের দ্বারা ইসলামের কোন ফায়দা হবে না এবং কোন মুসলিমের জায়েয হবে না এ জামায়াতের সাথে সম্পর্ক রাখা এবং এদের সাথে চলা। ২৫২
টিকাঃ
২৫১ সহীহ বুখারী, হাঃ ৩৭৩
২৫২ তারিখঃ ১৩/৫/১৪১৭ হিজরী, ফাতাওয়া ও চিঠিপত্র, শাইখ সালহ বিন ফাওযান, সউদী আরব এবং দাওয়াত ও ইলমের ব্যাপারে তিনটি বক্তব্য-শায়েখ ফাওযান。