📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 গম্বুজ ভূপতিত করার নির্দেশ

📄 গম্বুজ ভূপতিত করার নির্দেশ


করবস্থানে, রাস্তার আশে-পাশে, চৌরাস্তায় ও বটগাছ তলায় কবর পাকা করে, চুনকাম করে, তাতে উন্নত নেমপ্লেট ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির জন্ম, মৃত্যু তারিখ ও বিভিন্ন ধরনের বানী লিখে রাখা হয়। এ ধরনের সকল কাজ শরীয়ত বিরোধী। শরীয়তে এর হুকুম হল বিদ'আত। বিশেষ করে কবরে প্লাস্টার লাগানো, চুন কাম করা, পাকা করা, কবরের উপর বিল্ডিং ও গম্বুজ নির্মাণ করা কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তাই গম্বুজ ভূপতিত করার নির্দেশ দিতে গিয়ে হাদীসে এসেছে -
عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الْأَسَدِيِّ قَالَ قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ لَا تَدَاعَ تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتَهُ وَلَا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ
আবুল হাইয়াজ আল আসাদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী আমাকে বলেছেন, আমি কি তোমাকে ঐ কাজের জন্য প্রেরণ করব না, যে কাজের জন্য রসূলুল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছিলেন। আর তা ছিল ছবি ও মূর্তিকে ধ্বংস করে দেয়া এবং এসবের কোন কিছু অবশিষ্ট না রাখা; আর সমস্ত উঁচু কবরকে মাটির সাথে সমান করে দেয়া। ২৪৪
ইমাম নববী বলেন,
أَنَّ السُّنَّةَ أَنَّ الْقَبْرَ لَا يُرْفَعُ عَلَى الْأَرْضِ رَفْعًا كَثِيرًا ، وَلَا يُسَنَّمُ ، بَلْ يُرْفَعُ نَحْوَ شِبْرٍ وَيُسَطَحُ
কবরের সুন্নাত নিয়ম হলো, এটা জমিন থেকে অর্ধ হাতের চেয়ে বেশি উঁচু হবে না। বরং শুধু অর্ধহাত পরিমাণ উঁচু হবে এবং উপর সমান করে দেবে। ২৪৫
আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী (মৃতঃ ৯৭৪ হিঃ) লিখেন,
تَجِبُ الْمُبَادَرَةُ إِلَى هَدْمِهَا وَهَدْمِ الْقُبَابِ الَّتِي عَلَيْهَا
ঐ সমস্ত উঁচু কবরসমূহ এবং কবরের উপর যে গম্বুজ এবং স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে তা ভেঙ্গে দেয়া ওয়াজিব।
মোল্লা আলী কারী বলেন,
وَيَجِبُ الْهَدْمُ وَلَوْ كَانَ مَسْجِدًا
কবরের উপর সৌধ তা মসজিদ আকারে হলেও ভেঙ্গে ফেলা ওয়াজিব। ২৪৬
যে কোন কবরকে কেন্দ্র করে দরগাহ বা মাযার স্থাপন করা এবং তাতে যে কোন রকমের বাতি জ্বালানো ও নাম লেখা শুধু বিদ'আতই নয় বরং এসব কাজকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মুসলিম জাতির বিরাট অংশ শিরকের মতো পাপে জড়িয়ে পড়েছে।
হাদীসে মাযার করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং উঁচু কবরকে ভেঙ্গে সমান করে দিতে বলা হয়েছে। তাই কোন মাযার ভেঙ্গে দিলে আউলিয়া-বুযুর্গদের সাথে কোন বেয়াদবী করা হয় না বরং রসূলুল্লাহ এর বাণীকে মান্য করা হয়। আর রসূলুল্লাহ এর বাণীকে মান্য করা হলো ঈমানের দাবী।

টিকাঃ
২৪৪ সহীহ মুসলিম, হাঃ ২২৮৭; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭৪১; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ ১৩৬৬。
২৪৫ শরহে মুসলিম, ৩/৩৮৯。
২৪৬ মিরকাত, হা: ২/৩৭২。

করবস্থানে, রাস্তার আশে-পাশে, চৌরাস্তায় ও বটগাছ তলায় কবর পাকা করে, চুনকাম করে, তাতে উন্নত নেমপ্লেট ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির জন্ম, মৃত্যু তারিখ ও বিভিন্ন ধরনের বানী লিখে রাখা হয়। এ ধরনের সকল কাজ শরীয়ত বিরোধী। শরীয়তে এর হুকুম হল বিদ'আত। বিশেষ করে কবরে প্লাস্টার লাগানো, চুন কাম করা, পাকা করা, কবরের উপর বিল্ডিং ও গম্বুজ নির্মাণ করা কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তাই গম্বুজ ভূপতিত করার নির্দেশ দিতে গিয়ে হাদীসে এসেছে -
عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الْأَسَدِيِّ قَالَ قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ أَلَا أَبْعثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ لَا تَدَاعَ تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتَهُ وَلَا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ
আবুল হাইয়াজ আল আসাদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী আমাকে বলেছেন, আমি কি তোমাকে ঐ কাজের জন্য প্রেরণ করব না, যে কাজের জন্য রসূলুল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছিলেন। আর তা ছিল ছবি ও মূর্তিকে ধ্বংস করে দেয়া এবং এসবের কোন কিছু অবশিষ্ট না রাখা; আর সমস্ত উঁচু কবরকে মাটির সাথে সমান করে দেয়া। ২৪৪
ইমাম নববী বলেন,
أَنَّ السُّنَّةَ أَنَّ الْقَبْرَ لَا يُرْفَعُ عَلَى الْأَرْضِ رَفْعًا كَثِيرًا ، وَلَا يُسَنَّمُ ، بَلْ يُرْفَعُ نَحْوَ شِبْرٍ وَيُسَطَحُ
কবরের সুন্নাত নিয়ম হলো, এটা জমিন থেকে অর্ধ হাতের চেয়ে বেশি উঁচু হবে না। বরং শুধু অর্ধহাত পরিমাণ উঁচু হবে এবং উপর সমান করে দেবে। ২৪৫
আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী (মৃতঃ ৯৭৪ হিঃ) লিখেন,
تَجِبُ الْمُبَادَرَةُ إِلَى هَدْمِهَا وَهَدْمِ الْقُبَابِ الَّتِي عَلَيْهَا
ঐ সমস্ত উঁচু কবরসমূহ এবং কবরের উপর যে গম্বুজ এবং স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে তা ভেঙ্গে দেয়া ওয়াজিব।
মোল্লা আলী কারী বলেন,
وَيَجِبُ الْهَدْمُ وَلَوْ كَانَ مَسْجِدًا
কবরের উপর সৌধ তা মসজিদ আকারে হলেও ভেঙ্গে ফেলা ওয়াজিব। ২৪৬
যে কোন কবরকে কেন্দ্র করে দরগাহ বা মাযার স্থাপন করা এবং তাতে যে কোন রকমের বাতি জ্বালানো ও নাম লেখা শুধু বিদ'আতই নয় বরং এসব কাজকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মুসলিম জাতির বিরাট অংশ শিরকের মতো পাপে জড়িয়ে পড়েছে।
হাদীসে মাযার করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং উঁচু কবরকে ভেঙ্গে সমান করে দিতে বলা হয়েছে। তাই কোন মাযার ভেঙ্গে দিলে আউলিয়া-বুযুর্গদের সাথে কোন বেয়াদবী করা হয় না বরং রসূলুল্লাহ এর বাণীকে মান্য করা হয়। আর রসূলুল্লাহ এর বাণীকে মান্য করা হলো ঈমানের দাবী।

টিকাঃ
২৪৪ সহীহ মুসলিম, হাঃ ২২৮৭; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭৪১; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ ১৩৬৬。
২৪৫ শরহে মুসলিম, ৩/৩৮৯。
২৪৬ মিরকাত, হা: ২/৩৭২。

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 মাযারের দান বাক্স

📄 মাযারের দান বাক্স


বিভিন্ন মাযারের নামে দান বাক্সে যে টাকা পয়সা দেয়া হয় তা শরীয়াতের দৃষ্টিতে সবই অবৈধ তথা হারাম। উক্ত টাকা পয়সা মসজিদ, মাদ্রাসায় খরচ করা জায়েয হবে না। বর্তমানে আমাদের দেশে এই শিরকজনিত কাজের ঢল নেমে গেছে। সুতরাং মাযারের নামে এ সমস্ত বাক্স কায়েম করা থেকে সকলেরই বিরত থাকা ওয়াজিব। অবশ্য মসজিদ, মাদ্রাসায় প্রয়োজনের ভিত্তিতে যদি বাক্স স্থাপন করা হয়, তাহলে তা মাযার থেকে দূরবর্তী কোন জায়গায় মাদ্রাসা বা মসজিদের স্পষ্ট নাম উল্লেখ করে স্থাপন করতে হবে।
قَالَ فِي الدُّرِّ الْمُخْتَارِ وَالْعِلْمُ أَنَّ النَّذْرَ الَّذِي يَقَعُ لِلْأَمْوَاتِ مِنْ أَكْثَرِ الْعَوَامِ وَمَا يُؤْخَذُ مِنَ الدَّرَاهِمِ وَالشَّمْعِ وَالزَّيْتِ وَنَحْوِهِ إِلَى الْأَوْلِيَاءِ الْكِرَامِ تَقَرُبَا إِلَيْهِمْ فَهُوَ بِالْإِجْمَاعِ بَاطِلٌ وَحَرَامٌ
দুররে মুখতারের মধ্যে রয়েছে, এটা জানা বিষয় যে, যে সকল মান্নত মৃত ব্যক্তির জন্য করা হয়, যা অধিকাংশ মূর্খ লোকেরা করে থাকে এবং যেসকল দান, তৈল এবং আরো অন্যান্য যা কিছু ওলী-আউলিয়াদের নামে গ্রহণ করা হয় তাদের নৈকট্য লাভের জন্য তা ইজমা দ্বারা বাতিল এবং হারাম। ২৪৭

টিকাঃ
২৪৭ ফতোয়ায়ে শামী, পৃঃ ১৭০।

বিভিন্ন মাযারের নামে দান বাক্সে যে টাকা পয়সা দেয়া হয় তা শরীয়াতের দৃষ্টিতে সবই অবৈধ তথা হারাম। উক্ত টাকা পয়সা মসজিদ, মাদ্রাসায় খরচ করা জায়েয হবে না। বর্তমানে আমাদের দেশে এই শিরকজনিত কাজের ঢল নেমে গেছে। সুতরাং মাযারের নামে এ সমস্ত বাক্স কায়েম করা থেকে সকলেরই বিরত থাকা ওয়াজিব। অবশ্য মসজিদ, মাদ্রাসায় প্রয়োজনের ভিত্তিতে যদি বাক্স স্থাপন করা হয়, তাহলে তা মাযার থেকে দূরবর্তী কোন জায়গায় মাদ্রাসা বা মসজিদের স্পষ্ট নাম উল্লেখ করে স্থাপন করতে হবে।
قَالَ فِي الدُّرِّ الْمُخْتَارِ وَالْعِلْمُ أَنَّ النَّذْرَ الَّذِي يَقَعُ لِلْأَمْوَاتِ مِنْ أَكْثَرِ الْعَوَامِ وَمَا يُؤْخَذُ مِنَ الدَّرَاهِمِ وَالشَّمْعِ وَالزَّيْتِ وَنَحْوِهِ إِلَى الْأَوْلِيَاءِ الْكِرَامِ تَقَرُبَا إِلَيْهِمْ فَهُوَ بِالْإِجْمَاعِ بَاطِلٌ وَحَرَامٌ
দুররে মুখতারের মধ্যে রয়েছে, এটা জানা বিষয় যে, যে সকল মান্নত মৃত ব্যক্তির জন্য করা হয়, যা অধিকাংশ মূর্খ লোকেরা করে থাকে এবং যেসকল দান, তৈল এবং আরো অন্যান্য যা কিছু ওলী-আউলিয়াদের নামে গ্রহণ করা হয় তাদের নৈকট্য লাভের জন্য তা ইজমা দ্বারা বাতিল এবং হারাম। ২৪৭

টিকাঃ
২৪৭ ফতোয়ায়ে শামী, পৃঃ ১৭০。

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 কবরে বাতি জ্বালানো

📄 কবরে বাতি জ্বালানো


কবরের মধ্যে বাতি জ্বালানো, মোমবাতি, বিজলী বাতি ইত্যাদি জ্বালানোর কোন ভিত্তি শরীয়াতে নেই; বরং সত্য ধর্ম এ জাতীয় নোংরা চালচলনের বিরোধিতা করে। তিরমিযীর শরাহ উরফুস সাজী কিতাবে রয়েছে,
الْغُلُو الَّذِي كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ مِنْ إِيْقَادِ النَّارِ
অর্থাৎ কবরে আগুন দেয়া জাহেলী যুগের বাড়াবাড়ি। ২৪৮ সুতরাং বুঝা গেল যে, কবরওয়ালা যে-ই হোন না কেন, কবরে বাতি জ্বালানো নিষিদ্ধ।

টিকাঃ
২৪৮ উরফুস সাজী, ২/৪০৮

কবরের মধ্যে বাতি জ্বালানো, মোমবাতি, বিজলী বাতি ইত্যাদি জ্বালানোর কোন ভিত্তি শরীয়াতে নেই; বরং সত্য ধর্ম এ জাতীয় নোংরা চালচলনের বিরোধিতা করে। তিরমিযীর শরাহ উরফুস সাজী কিতাবে রয়েছে,
الْغُلُو الَّذِي كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ مِنْ إِيْقَادِ النَّارِ
অর্থাৎ কবরে আগুন দেয়া জাহেলী যুগের বাড়াবাড়ি। ২৪৮ সুতরাং বুঝা গেল যে, কবরওয়ালা যে-ই হোন না কেন, কবরে বাতি জ্বালানো নিষিদ্ধ।

টিকাঃ
২৪৮ উরফুস সাজী, ২/৪০৮

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিদ‘আত

📄 মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিদ‘আত


মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত কামনার নামে তাহলীল পড়ানো, কুরআন খতম পড়ানো মত ব্যক্তির চার পাশে বসে কুরআন পাঠ করা, গোসলের জন্য গরম পানি দেওয়ার জন্য পাক ঘরের চুলা বাদ দিয়ে বাইরে চুলা করে পানি গরম করা, মৃত ব্যক্তিকে যেখানে গোসল দেওয়া হয় সে স্থান ৪দিন কিংবা ৪০ দিন পর্যন্ত বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করা এবং রাতের বেলায় সেখানে মোম, হ্যারিকেন বা বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে আলোকিত করে রাখা, জানাযা নিয়ে যাওয়ার সময় আল্লাহু রাব্বী, মুহাম্মাদুন নবী কিংবা কালিমা শাহাদাৎ পাঠ করা, জানাযা কবর স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় খাটিয়ার উপর আগর বাতি জ্বালানো এবং জানাযার যাত্রীদের উপর গোলাপ জল ছিটানো, কবর স্থানে জানাযা নেয়ার সময় খাটিয়াকে ছাতা বা কোনো আচ্ছাদন দিয়ে ছায়াদান করে নিয়ে যাওয়া।
জানাযার সালাত শেষে "এ মানুষটি কেমন ছিল "উপস্থিত সবাই "বেশ ভালো ছিল” একথা বলা, জানাযার সালাতের পূর্বে মৃত ব্যক্তির স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেয়া, জানাযা পড়ানোর সময় ইমামের একখন্ড সাদা কাপড় জায়নামায হিসেবে ব্যবহার করা - যা মূলত কাফনের কাপড়ের অংশ বিশেষ, জানাযার নামাজ পড়ার পর পুনরায় খাটিয়ার সামনে দু'আ করা ঐ সময় ক্বিয়াম করা নামাজ ও সালাম পেশ করা, জানাযার সালাতের পর মত ব্যক্তিকে শেষ বারের মত দেখার জন্য মুখের কাফনখোলা, কাফনের উপর যে কোনো রকমের দুআ লিখে দেয়া কিংবা দু'আ লিখিত কাপড় খন্ড কাফনের সাথে লাগিয়ে দেয়া, কোনো কাপড় খন্ডের উপর কালিমা লিখে ঐ কাপড় খন্ড কবরের ভেতর মৃতের ডান পাশেমুখ বরাবর কবরের দেয়ালে টাঙ্গিয়ে দেয়া। কবরের উপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করা, দাফন করার সময় প্রথম তিন অঞ্জলি মাটি দেওয়ার ক্ষেত্রে মিনহা খালাকনাকুম ওয়া মিনহা"
কুরআন মাজীদের এ আয়াত পাঠ করা, দাফনের পর দুআ করার পূর্বে একবার সূরা ফাতিহা তিনবার সূরা খলাস একবার সূরা ফালাক্ব একবার সূরা নাস এভাবে কুরআন মাজীদ থেকে কোনো সূরা বা আয়াতপাঠ করা, দাফন ও দুআ শেষে সবাই চলে আসার পর একজন বসে কবর তালক্বীন করা, কবর পাকা করা ও তাতে মৃত ব্যক্তির নাম ফলক করা, কবরের উপর ঘর তৈরি করা বা মাযার নির্মাণ করা, মৃত্যুর পর চার দিন পর্যন্ত কিংবা চল্লিশ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন ফাতিহা পড়ানো, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে তিন দিন পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজন কত্রিক পালা ক্রমেখানা পাঠানো। মৃত্যুর পর চার দিন বা চল্লিশ দিন পর্যন্ত মোল্লা- মৌলভী দিয়ে প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে কবর পাহারা দেয়া, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে তিনদিন পর্যন্ত চুলা না জ্বালানো ও খানা পাক না করা, মৃত ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্ব কিংবা জাতীয় নেতা-নেত্রী হলে অথবা সামরিক ব্যক্তি হলে দাফনের সময় তোপধ্বনি করা ও যুদ্ধের বাজনা বাজানো, জানাযার সালাতে প্রথম তাকবীরের পর 'ছানা পড়া, মৃত ব্যক্তিকে কবওে রাখার সময় আযান দেয়া, নেককার বা বুযুর্গ ব্যক্তি হিসেবে কোনো কবরে বিছানা-বালিশ দেয়া, মৃত্যুর পূর্বেই কবর খনন করে রাখা, মৃত ব্যক্তির কাযা নামায থাকলে কিংবা মৃত ব্যক্তি বেনামাযী হলে তার নামাযের আর্থিক কাফফারা হিসাব করে কাফফারা আদায় করা এং এ মৃত ব্যক্তি গরীব লোক হলে কাফফারার পরিবর্তে একটি কুরআন মাজীদ কাউকে হাদীয়া প্রদান করে কাফফারা এসক্বাত্ব (দূরীভূত করা) ইত্যাদি ইত্যাদি।
উল্লেখিত কাজসমূহ বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তি বিশেষ কর্তৃক সম্পূর্ণ নব উদ্ভাবিত। অর্থ্যাৎ আল্লাহর রসূল যেমন এসব কাজ করেছেন বলে কোন প্রমাণ নেই, তেমনি সাহাবায়ে কেরাম এসব কাজ করেছেন বলে কোন ভিত্তি নেই। এ সমস্ত - অনুষ্ঠানে শরীক হয়ে হাদীয়া ও টাকা-পয়সা গ্রহণ বা প্রদান করা সম্পূর্ণ হারাম। শুধু তাই নয়, এসব কাজের কোন শারঈ ভিত্তি নেই বরং এসব অনুষ্ঠান পালন করা সম্পূর্ণ বিদ'আত। আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন: আল-কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে-
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بالْإِيمَانِ. (الحشر
'যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ও আমাদের যে সকল ভাই পূর্বে ঈমান গ্রহণ করেছে তাদের ক্ষমা কর।' এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে সকল মুসলিম দুনিয়া থেকে চলে গেছেন, তাদের মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করতে শিখিয়েছেন। তাই বুঝা যাচ্ছে যে, মৃত ব্যক্তিদের জন্য মাগফিরাতের দু'আ তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। যদি এটা তাঁদের জন্য কল্যাণকর না হত, তবে আল্লাহ তা করতে আমাদের উৎসাহিত করতেন না। এমনিভাবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মৃত ব্যক্তিদের জন্য দুআ-প্রার্থনা করার কথা কুরআনের একাধিক আয়াতে উল্লেখ করেছেন। হাদীসে এসেছে-
عن أبي أسيد الساعدي قال سأل رجل من بني سلمة فقال يارسول الله هل بقي من بر أبواي شيء أبرهما بعد موتهما، فقال نعم ، الصلاة عليهما والاستغفار لهما وإنفاذ عهدهما بعد موتهما وصلة الرحم التي لا توصل إلا بهما وإكرام صديقهما . رواه أبو داود وابن ماجة
সাহাবী আবু উসাইদ আস-সায়েদী হতে বর্ণিত, বনু সালামা গোত্রের এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর এমন কোন কল্যাণমূলক কাজ আছে যা করলে পিতা-মাতার উপকার হবে? আল্লাহর রসূল উত্তর দিলেন: হ্যাঁ, আছে। তাহল, তাদের উভয়ের জন্য আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করা। উভয়ের মাগফিরাতের জন্য দুআ করা। তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করা। তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখা ও তাদের বন্ধু-বান্ধবদের সম্মান করা। সুতরাং, আধুনিককালে সমাজে কবর যেয়ারত নিয়ে যেসব কাজসমূহ দেখা যায় তা বিদ'আত। সুতরাং, মৃত ব্যক্তির জন্য যেসব কাজ নাজায়েয ও বিদ'আত বলে উপরে উল্লেখ করা হয়েছে তা রসূলুল্লাহ - এর এই সহীহ হাদীস অনুযায়ী সত্যিই নাজায়েয এবং বিদ'আত। আর বিদ'আত হলো -- গোমরাহী যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত কামনার নামে তাহলীল পড়ানো, কুরআন খতম পড়ানো মত ব্যক্তির চার পাশে বসে কুরআন পাঠ করা, গোসলের জন্য গরম পানি দেওয়ার জন্য পাক ঘরের চুলা বাদ দিয়ে বাইরে চুলা করে পানি গরম করা, মৃত ব্যক্তিকে যেখানে গোসল দেওয়া হয় সে স্থান ৪দিন কিংবা ৪০ দিন পর্যন্ত বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করা এবং রাতের বেলায় সেখানে মোম, হ্যারিকেন বা বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে আলোকিত করে রাখা, জানাযা নিয়ে যাওয়ার সময় আল্লাহু রাব্বী, মুহাম্মাদুন নবী কিংবা কালিমা শাহাদাৎ পাঠ করা, জানাযা কবর স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় খাটিয়ার উপর আগর বাতি জ্বালানো এবং জানাযার যাত্রীদের উপর গোলাপ জল ছিটানো, কবর স্থানে জানাযা নেয়ার সময় খাটিয়াকে ছাতা বা কোনো আচ্ছাদন দিয়ে ছায়াদান করে নিয়ে যাওয়া।
জানাযার সালাত শেষে "এ মানুষটি কেমন ছিল "উপস্থিত সবাই "বেশ ভালো ছিল” একথা বলা, জানাযার সালাতের পূর্বে মৃত ব্যক্তির স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেয়া, জানাযা পড়ানোর সময় ইমামের একখন্ড সাদা কাপড় জায়নামায হিসেবে ব্যবহার করা - যা মূলত কাফনের কাপড়ের অংশ বিশেষ, জানাযার নামাজ পড়ার পর পুনরায় খাটিয়ার সামনে দু'আ করা ঐ সময় ক্বিয়াম করা নামাজ ও সালাম পেশ করা, জানাযার সালাতের পর মত ব্যক্তিকে শেষ বারের মত দেখার জন্য মুখের কাফনখোলা, কাফনের উপর যে কোনো রকমের দুআ লিখে দেয়া কিংবা দু'আ লিখিত কাপড় খন্ড কাফনের সাথে লাগিয়ে দেয়া, কোনো কাপড় খন্ডের উপর কালিমা লিখে ঐ কাপড় খন্ড কবরের ভেতর মৃতের ডান পাশেমুখ বরাবর কবরের দেয়ালে টাঙ্গিয়ে দেয়া। কবরের উপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করা, দাফন করার সময় প্রথম তিন অঞ্জলি মাটি দেওয়ার ক্ষেত্রে মিনহা খালাকনাকুম ওয়া মিনহা"
কুরআন মাজীদের এ আয়াত পাঠ করা, দাফনের পর দুআ করার পূর্বে একবার সূরা ফাতিহা তিনবার সূরা খলাস একবার সূরা ফালাক্ব একবার সূরা নাস এভাবে কুরআন মাজীদ থেকে কোনো সূরা বা আয়াতপাঠ করা, দাফন ও দুআ শেষে সবাই চলে আসার পর একজন বসে কবর তালক্বীন করা, কবর পাকা করা ও তাতে মৃত ব্যক্তির নাম ফলক করা, কবরের উপর ঘর তৈরি করা বা মাযার নির্মাণ করা, মৃত্যুর পর চার দিন পর্যন্ত কিংবা চল্লিশ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন ফাতিহা পড়ানো, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে তিন দিন পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজন কত্রিক পালা ক্রমেখানা পাঠানো। মৃত্যুর পর চার দিন বা চল্লিশ দিন পর্যন্ত মোল্লা- মৌলভী দিয়ে প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে কবর পাহারা দেয়া, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে তিনদিন পর্যন্ত চুলা না জ্বালানো ও খানা পাক না করা, মৃত ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্ব কিংবা জাতীয় নেতা-নেত্রী হলে অথবা সামরিক ব্যক্তি হলে দাফনের সময় তোপধ্বনি করা ও যুদ্ধের বাজনা বাজানো, জানাযার সালাতে প্রথম তাকবীরের পর 'ছানা পড়া, মৃত ব্যক্তিকে কবওে রাখার সময় আযান দেয়া, নেককার বা বুযুর্গ ব্যক্তি হিসেবে কোনো কবরে বিছানা-বালিশ দেয়া, মৃত্যুর পূর্বেই কবর খনন করে রাখা, মৃত ব্যক্তির কাযা নামায থাকলে কিংবা মৃত ব্যক্তি বেনামাযী হলে তার নামাযের আর্থিক কাফফারা হিসাব করে কাফফara আদায় করা এং এ মৃত ব্যক্তি গরীব লোক হলে কাফফারার পরিবর্তে একটি কুরআন মাজীদ কাউকে হাদীয়া প্রদান করে কাফফara এসক্বাত্ব (দূরীভূত করা) ইত্যাদি ইত্যাদি।
উল্লেখিত কাজসমূহ বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তি বিশেষ কর্তৃক সম্পূর্ণ নব উদ্ভাবিত। অর্থ্যাৎ আল্লাহর রসূল যেমন এসব কাজ করেছেন বলে কোন প্রমাণ নেই, তেমনি সাহাবায়ে কেরাম এসব কাজ করেছেন বলে কোন ভিত্তি নেই। এ সমস্ত - অনুষ্ঠানে শরীক হয়ে হাদীয়া ও টাকা-পয়সা গ্রহণ বা প্রদান করা সম্পূর্ণ হারাম। শুধু তাই নয়, এসব কাজের কোন শারঈ ভিত্তি নেই বরং এসব অনুষ্ঠান পালন করা সম্পূর্ণ বিদ'আত। আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন: আল-কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে-
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بالْإِيمَانِ. (الحشر
'যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ও আমাদের যে সকল ভাই পূর্বে ঈমান গ্রহণ করেছে তাদের ক্ষমা কর।' এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে সকল মুসলিম দুনিয়া থেকে চলে গেছেন, তাদের মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করতে শিখিয়েছেন। তাই বুঝা যাচ্ছে যে, মৃত ব্যক্তিদের জন্য মাগফিরাতের দু'আ তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। যদি এটা তাঁদের জন্য কল্যাণকর না হত, তবে আল্লাহ তা করতে আমাদের উৎসাহিত করতেন না। এমনিভাবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মৃত ব্যক্তিদের জন্য দুআ-প্রার্থনা করার কথা কুরআনের একাধিক আয়াতে উল্লেখ করেছেন। হাদীসে এসেছে-
عن أبي أسيد الساعدي قال سأل رجل من بني سلمة فقال يارسول الله هل بقي من بر أبواي شيء أبرهما بعد موتهما، فقال نعم ، الصلاة عليهما والاستغفار لهما وإنفاذ عهدهما بعد موتهما وصلة الرحم التي لا توصل إلا بهما وإكرام صديقهما . رواه أبو داود وابن ماجة
সাহাবী আবু উসাইদ আস-সায়েদী হতে বর্ণিত, বনু সালামা গোত্রের এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর এমন কোন কল্যাণমূলক কাজ আছে যা করলে পিতা-মাতার উপকার হবে? আল্লাহর রসূল উত্তর দিলেন: হ্যাঁ, আছে। তাহল, তাদের উভয়ের জন্য আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করা। উভয়ের মাগফিরাতের জন্য দুআ করা। তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করা। তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখা ও তাদের বন্ধু-বান্ধবদের সম্মান করা। সুতরাং, আধুনিককালে সমাজে কবর যেয়ারত নিয়ে যেসব কাজসমূহ দেখা যায় তা বিদ'আত। সুতরাং, মৃত ব্যক্তির জন্য যেসব কাজ নাজায়েয ও বিদ'আত বলে উপরে উল্লেখ করা হয়েছে তা রসূলুল্লাহ - এর এই সহীহ হাদীস অনুযায়ী সত্যিই নাজায়েয এবং বিদ'আত। আর বিদ'আত হলো -- গোমরাহী যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00