📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 ওরস

📄 ওরস


বুযুর্গানে দ্বীনের তিরোধানের পর শরীয়াতসম্মত নিয়মের অধীনে থেকে ইসালে সওয়াব করা এবং তাদের জন্য দু'আ করা শরী'য়াতে একটি ভালো কাজ। যদি কেউ কোন বুযুর্গের কবরের নিকটবর্তী হয় তাহলে তথায় উপস্থিত হয়ে সুন্নাত মোতাবেক সালাম বলা জায়েয। তবে দূর-দূরান্ত থেকে যিয়ারতের জন্য উপস্থিত হওয়া নিষেধ। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : لَا تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ : الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِ الرَّسُولِ ﷺ وَمَسْجِدِ الْأَقْطَى
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেন, তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে যাওয়ার জন্য সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে না। এ তিন মসজিদ হলো- (১) মসজিদে হারাম অর্থাৎ খানায়ে কা'বা, (২) মসজিদুর রসূল অর্থাৎ মসজিদে নববী, (৩) মসজিদে আক্সা বা বাইতুল মাকদিস (শুধু এ তিন মসজিদের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে সফর করা জায়েয। এ ছাড়া পৃথিবীর সকল মসজিদই সমমর্যাদার অধিকারী)। ২৩৬
শাহ ওলীউল্লাহ উক্ত হাদীসের বরাত দিয়ে লিখেন যে, আমার নিকট সত্য হলো এটাই যে, কোন ওলীর মাযারে দূর- দূরান্ত থেকে যিয়ারতের জন্য উপস্থিত হওয়া উক্ত হাদীসের নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। ২৩৭ তিনি আরো লিখেন, যে ব্যক্তি খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী এর কবরে এবং এ জাতীয় কোন বুযুর্গের কবরে উপস্থিত হয়ে দু'আ করে এ বিশ্বাসে যে, উক্ত স্থানে দু'আ করলে কবুল হয়, তাহলে সে যেন হত্যা এবং জিনাকারীর চেয়েও বেশি গোনাহের কাজ করল। ২৩৮
এমনিভাবে কবর যিয়ারতের, জন্য দিন নির্দিষ্ট করা এবং উক্ত নির্দিষ্ট দিনে বা তারিখে ইজতেমা করা কিছুতেই শরীয়াত কর্তৃক প্রমাণিত নয়। বিশেষ করে বছরান্তে ওরসের নামে যে দিন তারিখ নির্দিষ্ট করা হয় শরীয়াতে তার কোন অস্তিত্ব বা ভিত্তি বলতে কিছুই নেই। নবী বলেন,
لَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا
অর্থাৎ তোমরা আমার কবরকে ঈদ বানিয়ে নিও না। ২৩৯
হাদীস বিশারদগণ এ হাদীসকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন - মিশকাত গ্রন্থের ব্যাখ্যা গ্রন্থ মির'আতুল মাফাতীহ গ্রন্থে বলা হয়েছে,
لَا تَجْتَمِعُوا لِلزِّيَارَةِ اجْتِمَاعُكُمْ لِلْعِيدِ
অর্থাৎ তোমরা ঈদের ন্যায় যিয়ারতের জন্য একত্রিত হয়ো না। ২৪০
ওরসের গোশত খাওয়া হারাম
প্রচলিত আছে যে, বিভিন্ন ওলী-আওলিয়াদের মাযারকে কেন্দ্র করে, এমনকি অনেক ভন্ড পীর-ফকীরের কবরকে মাযার নাম দিয়ে তাতে বাৎসরিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে গরু, ছাগল জবাই করে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। মূলতঃ এই খাবার মাযারকে কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে যবেহ করা জন্তু খাওয়া হারাম। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاعٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴾
তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জীবজন্তু, রক্ত, শুকরের গোশত এবং সেসব জীবজন্তু, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্যই যেসকল লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয় তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা মহান ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু। ২৪১
কোন ওলী-আওলিয়ার মাযারে গরু, ছাগল, মুরগী, মোমবাতি, মিষ্টি এ জাতীয় যা কিছু উৎসর্গ করা হয় এসবই হারামের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া এসব কাজকর্ম হিন্দুদের ধর্মীয় কাজকর্মের সাথে সাদৃশ্য রাখে, যা মুসলিমদের জন্য অনুসরণ করা কোনভাবেই বৈধ নয়। আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য যবেহ করা বা উৎসর্গ করা জন্তুর দুটি দিক হতে পারেঃ
প্রথমত : আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যা উৎসর্গ করা হয় এবং যবেহ করার সময়ও সে নাম নিয়েই যবেহ করা হয়, এমতাবস্থায় যবেহকৃত জন্তু সকল আলেম ও ফকীহগণের দৃষ্টিতে হারাম এবং নাপাক। এর কোন অংশের দ্বারাই ফায়দা গ্রহণ করা বৈধ নয়। কারণ এ প্রাণী মৃত প্রাণীর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। আর مَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ আয়াতে যে অবস্থার কথা বুঝানো হয়েছে তা সরাসরি এই অবস্থারই নমুনাস্বরূপ। এ ব্যাপারে কারো কোন মতভেদ নেই।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর সন্তুষ্টি বা নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যা যবেহ করা হয়, তবে যবেহ করার সময় তা আল্লাহর নাম নিয়েই যবেহ করা হয়। যেমন অনেক অজ্ঞ মুসলিম পীর-বুযুর্গদের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে গরু, ছাগল, মুরগী ইত্যাদি মান্নত করে তা যবেহ করে থাকে। কিন্তু যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম নিয়েই যবেহ করে থাকে। এ অবস্থায়ও ফকীহগণের সর্বসম্মতিক্রমে তা হারাম এবং যবেহকৃত জন্তু মৃতের মধ্যে শামিল। ফখরুদ্দীন রাজী বলেন,
قَالَ الْعُلَمَاءُ : لَوْ ذَبَحَ مُسْلِمٌ ذَبِيحَةً وَقَصَدَ بِذَبْحِهِ التَّقَرُّبَ بِهَا إِلَى غَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى صَارَ مُرْتَدًّا وَذَبِيحَتُهُ ذَبِيحَةُ مُرْتَدٍ
আমাদের আলেমগণ বলেন, যদি কোন মুসলিম কোন প্রাণী যবেহ করে এবং এর দ্বারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য করে তাহলে সে মুরতাদ হয়ে যাবে এবং তার যবেহটা মুরতাদের যবেহের ন্যায় হবে। ২৪২
মোটকথা, মৃত ব্যক্তির জন্য ইসালে সওয়াব কিংবা সওয়াব পৌঁছানোর নামে উল্লিখিত কাজগুলো সম্পূর্ণ বিদ'আত এবং নাজায়েয। তার কারণ হলো এসব কাজের মধ্যে কোনটিই রসূলুল্লাহ এর পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয়।
শুধু তাই নয়, রসূলুল্লাহ এর পর তাঁর কোন সাহাবায়ে কেরামও এসব কাজ কোন মৃত ব্যক্তির জন্য করেছেন বলে তার কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং দ্বীনি আমলের ক্ষেত্রে মূলত যে কাজ রসূলুল্লাহ এর পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয় কিংবা সাহাবায়ে কেরামের কোন আমল থেকেও প্রমাণিত নয় তা হলো বিদ'আত।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মুসলিম সমাজে এসব কাজ নিয়মিত হচ্ছে। কিছু আলেম-উলামা এতে অংশ গ্রহণ করার কারণে সাধারণ লোকজন এসব কাজকে সাওয়াবের কাজ মনে করে নির্দ্বিধায় করে যাচ্ছে। তাই আমাদের কর্তব্য হলো – এসব কুপ্রথা ও বিদ'আত থেকে বিরত থাকা। যারা এসব অনুষ্ঠানের জন্য দাওয়াত করে তাদেরকে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝিয়ে দিলে এবং এ ব্যাপারে জায়েয পদ্ধতিতে ইসালে সাওয়াবের পথ বলে দিলে আশা করা যায়, তারা তা মেনে নেবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে বিদ'আত ও কুপ্রথা থেকে হেফাযত করুন এবং সুন্নাতের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

টিকাঃ
২৩৬ সহীহ বুখারী, হা: ১১৮৯; সহীহ মুসলিম, হাঃ ৩৪৫০; আবু দাউদ, হাঃ ২০৩৫; তিরমিযী, হাঃ ৩২৬; নাসাঈ, হা : ৭০০; ইবনে মাজাহ, হাঃ ১৪০৯; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭১৯১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ১৬১৯。
২৩৭ হুজ্জাতুল্লাহীল বালেগাহ - ১/১৯২。
২৩৮ তাফহীমাতে এলাহিয়া- ২/৪৮。
২৩৯ আবু দাউদ, হাঃ ২০৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৮৭৯০。
২৪০ মির'আতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ ৯৩২ নং হাদীসের ব্যাখ্যা。
২৪১ সূরা বাকারা: ১৭৩
২৪২ তাফসীরুল মানার, ৮/২৪。

বুযুর্গানে দ্বীনের তিরোধানের পর শরীয়াতসম্মত নিয়মের অধীনে থেকে ইসালে সওয়াব করা এবং তাদের জন্য দু'আ করা শরী'য়াতে একটি ভালো কাজ। যদি কেউ কোন বুযুর্গের কবরের নিকটবর্তী হয় তাহলে তথায় উপস্থিত হয়ে সুন্নাত মোতাবেক সালাম বলা জায়েয। তবে দূর-দূরান্ত থেকে যিয়ারতের জন্য উপস্থিত হওয়া নিষেধ। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : لَا تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ : الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِ الرَّسُولِ ﷺ وَمَسْجِدِ الْأَقْطَى
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেন, তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে যাওয়ার জন্য সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে না। এ তিন মসজিদ হলো- (১) মসজিদে হারাম অর্থাৎ খানায়ে কা'বা, (২) মসজিদুর রসূল অর্থাৎ মসজিদে নববী, (৩) মসজিদে আক্সা বা বাইতুল মাকদিস (শুধু এ তিন মসজিদের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে সফর করা জায়েয। এ ছাড়া পৃথিবীর সকল মসজিদই সমমর্যাদার অধিকারী)। ২৩৬
শাহ ওলীউল্লাহ উক্ত হাদীসের বরাত দিয়ে লিখেন যে, আমার নিকট সত্য হলো এটাই যে, কোন ওলীর মাযারে দূর- দূরান্ত থেকে যিয়ারতের জন্য উপস্থিত হওয়া উক্ত হাদীসের নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। ২৩৭ তিনি আরো লিখেন, যে ব্যক্তি খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী এর কবরে এবং এ জাতীয় কোন বুযুর্গের কবরে উপস্থিত হয়ে দু'আ করে এ বিশ্বাসে যে, উক্ত স্থানে দু'আ করলে কবুল হয়, তাহলে সে যেন হত্যা এবং জিনাকারীর চেয়েও বেশি গোনাহের কাজ করল। ২৩৮
এমনিভাবে কবর যিয়ারতের, জন্য দিন নির্দিষ্ট করা এবং উক্ত নির্দিষ্ট দিনে বা তারিখে ইজতেমা করা কিছুতেই শরীয়াত কর্তৃক প্রমাণিত নয়। বিশেষ করে বছরান্তে ওরসের নামে যে দিন তারিখ নির্দিষ্ট করা হয় শরীয়াতে তার কোন অস্তিত্ব বা ভিত্তি বলতে কিছুই নেই। নবী বলেন,
لَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا
অর্থাৎ তোমরা আমার কবরকে ঈদ বানিয়ে নিও না। ২৩৯
হাদীস বিশারদগণ এ হাদীসকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন - মিশকাত গ্রন্থের ব্যাখ্যা গ্রন্থ মির'আতুল মাফাতীহ গ্রন্থে বলা হয়েছে,
لَا تَجْتَمِعُوا لِلزِّيَارَةِ اجْتِمَاعُكُمْ لِلْعِيدِ
অর্থাৎ তোমরা ঈদের ন্যায় যিয়ারতের জন্য একত্রিত হয়ো না। ২৪০
ওরসের গোশত খাওয়া হারাম
প্রচলিত আছে যে, বিভিন্ন ওলী-আওলিয়াদের মাযারকে কেন্দ্র করে, এমনকি অনেক ভন্ড পীর-ফকীরের কবরকে মাযার নাম দিয়ে তাতে বাৎসরিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে গরু, ছাগল জবাই করে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। মূলতঃ এই খাবার মাযারকে কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে যবেহ করা জন্তু খাওয়া হারাম। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاعٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴾
তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জীবজন্তু, রক্ত, শুকরের গোশত এবং সেসব জীবজন্তু, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্যই যেসকল লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয় তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা মহান ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু। ২৪১
কোন ওলী-আওলিয়ার মাযারে গরু, ছাগল, মুরগী, মোমবাতি, মিষ্টি এ জাতীয় যা কিছু উৎসর্গ করা হয় এসবই হারামের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া এসব কাজকর্ম হিন্দুদের ধর্মীয় কাজকর্মের সাথে সাদৃশ্য রাখে, যা মুসলিমদের জন্য অনুসরণ করা কোনভাবেই বৈধ নয়। আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য যবেহ করা বা উৎসর্গ করা জন্তুর দুটি দিক হতে পারেঃ
প্রথমত : আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যা উৎসর্গ করা হয় এবং যবেহ করার সময়ও সে নাম নিয়েই যবেহ করা হয়, এমতাবস্থায় যবেহকৃত জন্তু সকল আলেম ও ফকীহগণের দৃষ্টিতে হারাম এবং নাপাক। এর কোন অংশের দ্বারাই ফায়দা গ্রহণ করা বৈধ নয়। কারণ এ প্রাণী মৃত প্রাণীর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। আর مَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ আয়াতে যে অবস্থার কথা বুঝানো হয়েছে তা সরাসরি এই অবস্থারই নমুনাস্বরূপ। এ ব্যাপারে কারো কোন মতভেদ নেই।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর সন্তুষ্টি বা নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যা যবেহ করা হয়, তবে যবেহ করার সময় তা আল্লাহর নাম নিয়েই যবেহ করা হয়। যেমন অনেক অজ্ঞ মুসলিম পীর-বুযুর্গদের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে গরু, ছাগল, মুরগী ইত্যাদি মান্নত করে তা যবেহ করে থাকে। কিন্তু যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম নিয়েই যবেহ করে থাকে। এ অবস্থায়ও ফকীহগণের সর্বসম্মতিক্রমে তা হারাম এবং যবেহকৃত জন্তু মৃতের মধ্যে শামিল। ফখরুদ্দীন রাজী বলেন,
قَالَ الْعُلَمَاءُ : لَوْ ذَبَحَ مُسْلِمٌ ذَبِيحَةً وَقَصَدَ بِذَبْحِهِ التَّقَرُّبَ بِهَا إِلَى غَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى صَارَ مُرْتَدًّا وَذَبِيحَتُهُ ذَبِيحَةُ مُرْتَدٍ
আমাদের আলেমগণ বলেন, যদি কোন মুসলিম কোন প্রাণী যবেহ করে এবং এর দ্বারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য করে তাহলে সে মুরতাদ হয়ে যাবে এবং তার যবেহটা মুরতাদের যবেহের ন্যায় হবে। ২৪২
মোটকথা, মৃত ব্যক্তির জন্য ইসালে সওয়াব কিংবা সওয়াব পৌঁছানোর নামে উল্লিখিত কাজগুলো সম্পূর্ণ বিদ'আত এবং নাজায়েয। তার কারণ হলো এসব কাজের মধ্যে কোনটিই রসূলুল্লাহ এর পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয়।
শুধু তাই নয়, রসূলুল্লাহ এর পর তাঁর কোন সাহাবায়ে কেরামও এসব কাজ কোন মৃত ব্যক্তির জন্য করেছেন বলে তার কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং দ্বীনি আমলের ক্ষেত্রে মূলত যে কাজ রসূলুল্লাহ এর পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয় কিংবা সাহাবায়ে কেরামের কোন আমল থেকেও প্রমাণিত নয় তা হলো বিদ'আত।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মুসলিম সমাজে এসব কাজ নিয়মিত হচ্ছে। কিছু আলেম-উলামা এতে অংশ গ্রহণ করার কারণে সাধারণ লোকজন এসব কাজকে সাওয়াবের কাজ মনে করে নির্দ্বিধায় করে যাচ্ছে। তাই আমাদের কর্তব্য হলো – এসব কুপ্রথা ও বিদ'আত থেকে বিরত থাকা। যারা এসব অনুষ্ঠানের জন্য দাওয়াত করে তাদেরকে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝিয়ে দিলে এবং এ ব্যাপারে জায়েয পদ্ধতিতে ইসালে সাওয়াবের পথ বলে দিলে আশা করা যায়, তারা তা মেনে নেবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে বিদ'আত ও কুপ্রথা থেকে হেফাযত করুন এবং সুন্নাতের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

টিকাঃ
২৩৬ সহীহ বুখারী, হা: ১১৮৯; সহীহ মুসলিম, হাঃ ৩৪৫০; আবু দাউদ, হাঃ ২০৩৫; তিরমিযী, হাঃ ৩২৬; নাসাঈ, হা : ৭০০; ইবনে মাজাহ, হাঃ ১৪০৯; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭১৯১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ১৬১৯。
২৩৭ হুজ্জাতুল্লাহীল বালেগাহ - ১/১৯২。
২৩৮ তাফহীমাতে এলাহিয়া- ২/৪৮。
২৩৯ আবু দাউদ, হাঃ ২০৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৮৭৯০。
২৪০ মির'আতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ ৯৩২ নং হাদীসের ব্যাখ্যা。
২৪১ সূরা বাকারা: ১৭৩
২৪২ তাফসীরুল মানার, ৮/২৪。

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 ওরসের গোশত খাওয়া হারাম

📄 ওরসের গোশত খাওয়া হারাম


📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 কবরের উপর দরগাহ বা মাযার স্থাপন করা

📄 কবরের উপর দরগাহ বা মাযার স্থাপন করা


মৃত ব্যক্তি যত বড় ওলী-বুযুর্গ কিংবা কামেল লোকই হোক না কেন তার কবরের উপর ছাউনি দিয়ে দরগাহ বা মাযার স্থাপন করা, কবরে বাতি জ্বালানো বিদ'আত। ওলীগণের মাযারকে বড় করা এবং এর উপর গম্বুজ নির্মাণ করা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। হাদীসে এসেছে,
عَنْ جَابِرٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ
জাবের হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ আমাদেরকে কবর বড় করা, পাকা বানানো, এর উপর ঘর নির্মাণ করা এবং এর উপর বসা থেকে নিষেধ করেছেন। ২৪৩
যখন নবী এ থেকে বারণ করেছেন তাহলে এমন কে আছে, যে এ নিষিদ্ধ জিনিসের মধ্যে মঙ্গল বা উপকার প্রমাণ করতে পারে?

টিকাঃ
২৪৩ সহীহ মুসলিম, হাঃ

মৃত ব্যক্তি যত বড় ওলী-বুযুর্গ কিংবা কামেল লোকই হোক না কেন তার কবরের উপর ছাউনি দিয়ে দরগাহ বা মাযার স্থাপন করা, কবরে বাতি জ্বালানো বিদ'আত। ওলীগণের মাযারকে বড় করা এবং এর উপর গম্বুজ নির্মাণ করা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। হাদীসে এসেছে,
عَنْ جَابِرٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ
জাবের হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ আমাদেরকে কবর বড় করা, পাকা বানানো, এর উপর ঘর নির্মাণ করা এবং এর উপর বসা থেকে নিষেধ করেছেন। ২৪৩
যখন নবী এ থেকে বারণ করেছেন তাহলে এমন কে আছে, যে এ নিষিদ্ধ জিনিসের মধ্যে মঙ্গল বা উপকার প্রমাণ করতে পারে?

টিকাঃ
২৪৩ সহীহ মুসলিম, হাঃ

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 গম্বুজ ভূপতিত করার নির্দেশ

📄 গম্বুজ ভূপতিত করার নির্দেশ


করবস্থানে, রাস্তার আশে-পাশে, চৌরাস্তায় ও বটগাছ তলায় কবর পাকা করে, চুনকাম করে, তাতে উন্নত নেমপ্লেট ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির জন্ম, মৃত্যু তারিখ ও বিভিন্ন ধরনের বানী লিখে রাখা হয়। এ ধরনের সকল কাজ শরীয়ত বিরোধী। শরীয়তে এর হুকুম হল বিদ'আত। বিশেষ করে কবরে প্লাস্টার লাগানো, চুন কাম করা, পাকা করা, কবরের উপর বিল্ডিং ও গম্বুজ নির্মাণ করা কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তাই গম্বুজ ভূপতিত করার নির্দেশ দিতে গিয়ে হাদীসে এসেছে -
عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الْأَسَدِيِّ قَالَ قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ لَا تَدَاعَ تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتَهُ وَلَا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ
আবুল হাইয়াজ আল আসাদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী আমাকে বলেছেন, আমি কি তোমাকে ঐ কাজের জন্য প্রেরণ করব না, যে কাজের জন্য রসূলুল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছিলেন। আর তা ছিল ছবি ও মূর্তিকে ধ্বংস করে দেয়া এবং এসবের কোন কিছু অবশিষ্ট না রাখা; আর সমস্ত উঁচু কবরকে মাটির সাথে সমান করে দেয়া। ২৪৪
ইমাম নববী বলেন,
أَنَّ السُّنَّةَ أَنَّ الْقَبْرَ لَا يُرْفَعُ عَلَى الْأَرْضِ رَفْعًا كَثِيرًا ، وَلَا يُسَنَّمُ ، بَلْ يُرْفَعُ نَحْوَ شِبْرٍ وَيُسَطَحُ
কবরের সুন্নাত নিয়ম হলো, এটা জমিন থেকে অর্ধ হাতের চেয়ে বেশি উঁচু হবে না। বরং শুধু অর্ধহাত পরিমাণ উঁচু হবে এবং উপর সমান করে দেবে। ২৪৫
আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী (মৃতঃ ৯৭৪ হিঃ) লিখেন,
تَجِبُ الْمُبَادَرَةُ إِلَى هَدْمِهَا وَهَدْمِ الْقُبَابِ الَّتِي عَلَيْهَا
ঐ সমস্ত উঁচু কবরসমূহ এবং কবরের উপর যে গম্বুজ এবং স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে তা ভেঙ্গে দেয়া ওয়াজিব।
মোল্লা আলী কারী বলেন,
وَيَجِبُ الْهَدْمُ وَلَوْ كَانَ مَسْجِدًا
কবরের উপর সৌধ তা মসজিদ আকারে হলেও ভেঙ্গে ফেলা ওয়াজিব। ২৪৬
যে কোন কবরকে কেন্দ্র করে দরগাহ বা মাযার স্থাপন করা এবং তাতে যে কোন রকমের বাতি জ্বালানো ও নাম লেখা শুধু বিদ'আতই নয় বরং এসব কাজকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মুসলিম জাতির বিরাট অংশ শিরকের মতো পাপে জড়িয়ে পড়েছে।
হাদীসে মাযার করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং উঁচু কবরকে ভেঙ্গে সমান করে দিতে বলা হয়েছে। তাই কোন মাযার ভেঙ্গে দিলে আউলিয়া-বুযুর্গদের সাথে কোন বেয়াদবী করা হয় না বরং রসূলুল্লাহ এর বাণীকে মান্য করা হয়। আর রসূলুল্লাহ এর বাণীকে মান্য করা হলো ঈমানের দাবী।

টিকাঃ
২৪৪ সহীহ মুসলিম, হাঃ ২২৮৭; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭৪১; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ ১৩৬৬。
২৪৫ শরহে মুসলিম, ৩/৩৮৯。
২৪৬ মিরকাত, হা: ২/৩৭২。

করবস্থানে, রাস্তার আশে-পাশে, চৌরাস্তায় ও বটগাছ তলায় কবর পাকা করে, চুনকাম করে, তাতে উন্নত নেমপ্লেট ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির জন্ম, মৃত্যু তারিখ ও বিভিন্ন ধরনের বানী লিখে রাখা হয়। এ ধরনের সকল কাজ শরীয়ত বিরোধী। শরীয়তে এর হুকুম হল বিদ'আত। বিশেষ করে কবরে প্লাস্টার লাগানো, চুন কাম করা, পাকা করা, কবরের উপর বিল্ডিং ও গম্বুজ নির্মাণ করা কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তাই গম্বুজ ভূপতিত করার নির্দেশ দিতে গিয়ে হাদীসে এসেছে -
عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الْأَسَدِيِّ قَالَ قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ أَلَا أَبْعثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ لَا تَدَاعَ تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتَهُ وَلَا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ
আবুল হাইয়াজ আল আসাদী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী আমাকে বলেছেন, আমি কি তোমাকে ঐ কাজের জন্য প্রেরণ করব না, যে কাজের জন্য রসূলুল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছিলেন। আর তা ছিল ছবি ও মূর্তিকে ধ্বংস করে দেয়া এবং এসবের কোন কিছু অবশিষ্ট না রাখা; আর সমস্ত উঁচু কবরকে মাটির সাথে সমান করে দেয়া। ২৪৪
ইমাম নববী বলেন,
أَنَّ السُّنَّةَ أَنَّ الْقَبْرَ لَا يُرْفَعُ عَلَى الْأَرْضِ رَفْعًا كَثِيرًا ، وَلَا يُسَنَّمُ ، بَلْ يُرْفَعُ نَحْوَ شِبْرٍ وَيُسَطَحُ
কবরের সুন্নাত নিয়ম হলো, এটা জমিন থেকে অর্ধ হাতের চেয়ে বেশি উঁচু হবে না। বরং শুধু অর্ধহাত পরিমাণ উঁচু হবে এবং উপর সমান করে দেবে। ২৪৫
আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী (মৃতঃ ৯৭৪ হিঃ) লিখেন,
تَجِبُ الْمُبَادَرَةُ إِلَى هَدْمِهَا وَهَدْمِ الْقُبَابِ الَّتِي عَلَيْهَا
ঐ সমস্ত উঁচু কবরসমূহ এবং কবরের উপর যে গম্বুজ এবং স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে তা ভেঙ্গে দেয়া ওয়াজিব।
মোল্লা আলী কারী বলেন,
وَيَجِبُ الْهَدْمُ وَلَوْ كَانَ مَسْجِدًا
কবরের উপর সৌধ তা মসজিদ আকারে হলেও ভেঙ্গে ফেলা ওয়াজিব। ২৪৬
যে কোন কবরকে কেন্দ্র করে দরগাহ বা মাযার স্থাপন করা এবং তাতে যে কোন রকমের বাতি জ্বালানো ও নাম লেখা শুধু বিদ'আতই নয় বরং এসব কাজকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মুসলিম জাতির বিরাট অংশ শিরকের মতো পাপে জড়িয়ে পড়েছে।
হাদীসে মাযার করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং উঁচু কবরকে ভেঙ্গে সমান করে দিতে বলা হয়েছে। তাই কোন মাযার ভেঙ্গে দিলে আউলিয়া-বুযুর্গদের সাথে কোন বেয়াদবী করা হয় না বরং রসূলুল্লাহ এর বাণীকে মান্য করা হয়। আর রসূলুল্লাহ এর বাণীকে মান্য করা হলো ঈমানের দাবী।

টিকাঃ
২৪৪ সহীহ মুসলিম, হাঃ ২২৮৭; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭৪১; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ ১৩৬৬。
২৪৫ শরহে মুসলিম, ৩/৩৮৯。
২৪৬ মিরকাত, হা: ২/৩৭২。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00