📄 উচ্চৈঃস্বরে বা চিৎকার করে যিকির করা বা হালকায় যিকিরের অনুষ্ঠান করা
সূফীদের যত জিকির রয়েছে তার সবই বানোয়াট ও বিদ'আতী যিকির। কেননা এগুলো সবই হাদীসে বর্ণিত শরীয়ত সম্মত জিকিরের পরিপন্থী। তাছাড়া দলবদ্ধ হয়ে উচ্চে কন্ঠে বা চিৎকার করে যিকির করা বা হালকায়ে যিকির করা যেমন : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর জিকির, আল্লাহু আল্লাহু বলে জিকির করা, জিকিরে যলী, জিকিরে খফী, জিকিরে রূহী, জিকিরে কলবী ইত্যাদি সবই ইবাদতের নামে নতুন সৃষ্টি তথা বিদ'আত বা ইসলাম বহির্ভুত কাজ। অনেক বিজ্ঞ আলেম ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, সবচেয়ে সেরা যিকির হচ্ছে, কুরআনুল কারীম। ইমাম নবভী এ প্রসঙ্গে বলেনঃ 'জেনে রাখো, কুরআনের তিলাওয়াত সর্ব শ্রেষ্ঠ যিকির আর তা হচ্ছে, চিন্তা-ভাবনার সাথে তিলাওয়াত করা। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে প্রমাণিত যিকিরসমূহ (দোয়াই মাসূরাহ)। তন্মধ্যে উত্তম হচ্ছে, সুবহানাল্লাহ, ওয়াল্ হামদু লিল্লাহ্ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আক্ বার]। নবী বলেন: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় বাক্য চারটি, সুবহানাল্লাহ, ওয়াল্ হামদু লিল্লাহ্ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আক্ বার। এর মধ্যে যার দ্বারায় শুরু কর না কেন কোন অসুবিধা নেই। ২৩১ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেনঃ 'শুধু (আল্লাহর) নাম তা গোপনে হোক কিংবা প্রকাশ্যে তা একটি পূর্ণ কথা নয় আর না একটি পূর্ণ বাক্য। আর না এর সম্পর্ক কুফর বা ঈমানের সাথে আছে, না আদেশ কিংবা নিষেধের সাথে সম্পর্কিত। আর না সালাফ (পূর্বসূরী) থেকে প্রমাণিত আর না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৈধ করেছেন। ২৩২ এই জন্য এই যিকিরকে বহু আলেম- উলামা বিদ'আত বলেছেন। ২৩৩
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনায় বলা যায় যে, এভাবে জিকির করে থাকেন ভ্রান্ত আকীদার পীর-ফকীর ও সূফীগণ। এই সকল পীর-ফকীর ও সূফীদের অনেকেই আবার আল্লাহ শব্দ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র হু হু বলে জিকির করেন। এমনিভাবে তারা দীনের মধ্যে বিদ'আত চালু করেছেন। আল্লাহ সবুহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদেরকে এ সকল বিদ'আত থেকে পরিত্রাণ ও হেফাযত করুন, আমীন।
টিকাঃ
২৩১ মুসলিম
২৩২ মাজমুউল ফাতাওয়া ১০/৫৫৬
২৩৩ সাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ হাফেযাহুল্ললাহের ওয়েব সাইট। www.islam-qa.com
সূফীদের যত জিকির রয়েছে তার সবই বানোয়াট ও বিদ'আতী যিকির। কেননা এগুলো সবই হাদীসে বর্ণিত শরীয়ত সম্মত জিকিরের পরিপন্থী। তাছাড়া দলবদ্ধ হয়ে উচ্চে কন্ঠে বা চিৎকার করে যিকির করা বা হালকায়ে যিকির করা যেমন : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর জিকির, আল্লাহু আল্লাহু বলে জিকির করা, জিকিরে যলী, জিকিরে খফী, জিকিরে রূহী, জিকিরে কলবী ইত্যাদি সবই ইবাদতের নামে নতুন সৃষ্টি তথা বিদ'আত বা ইসলাম বহির্ভুত কাজ। অনেক বিজ্ঞ আলেম ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, সবচেয়ে সেরা যিকির হচ্ছে, কুরআনুল কারীম। ইমাম নবভী এ প্রসঙ্গে বলেনঃ 'জেনে রাখো, কুরআনের তিলাওয়াত সর্ব শ্রেষ্ঠ যিকির আর তা হচ্ছে, চিন্তা-ভাবনার সাথে তিলাওয়াত করা। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে প্রমাণিত যিকিরসমূহ (দোয়াই মাসূরাহ)। তন্মধ্যে উত্তম হচ্ছে, সুবহানাল্লাহ, ওয়াল্ হামদু লিল্লাহ্ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আক্ বার]। নবী বলেন: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় বাক্য চারটি, সুবহানাল্লাহ, ওয়াল্ হামদু লিল্লাহ্ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আক্ বার। এর মধ্যে যার দ্বারায় শুরু কর না কেন কোন অসুবিধা নেই। ২৩১ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেনঃ 'শুধু (আল্লাহর) নাম তা গোপনে হোক কিংবা প্রকাশ্যে তা একটি পূর্ণ কথা নয় আর না একটি পূর্ণ বাক্য। আর না এর সম্পর্ক কুফর বা ঈমানের সাথে আছে, না আদেশ কিংবা নিষেধের সাথে সম্পর্কিত। আর না সালাফ (পূর্বসূরী) থেকে প্রমাণিত আর না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৈধ করেছেন। ২৩২ এই জন্য এই যিকিরকে বহু আলেম- উলামা বিদ'আত বলেছেন। ২৩৩
টিকাঃ
২৩১ মুসলিম
২৩২ মাজমুউল ফাতাওয়া ১০/৫৫৬
২৩৩ সাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ হাফেযাহুল্ললাহের ওয়েব সাইট। www.islam-qa.com
📄 পীর মুরিদী ও পীর ব্যবসায়
নিকৃষ্ট বিদ'আতের সর্ব উৎকৃষ্ট উদাহরণটি হল - তথাকথিত পীর ব্যবসায়। কারন এদের কিছু কিছু কাজ বিদ'আত তো বটেই সরাসরি শিরক এর পর্যায়ে পড়ে। যেমন এরা নিজেরাই কিছু সামা সঙ্গীত, গজল, যিকির ইত্যাদি তৈরি করে যার কথাগুলো পুরাপুরি শিরক। আবার এরা মাজারে গিয়ে দোয়া প্রার্থনা করে এসবও শিরক। তাসাউফ অর্জন এর নাম করেও এরা দ্বীনের ভেতর নতুন জিনিসের উদ্ভাবন করেছে। যেমন: আম্বিয়া, আউলিয়া, পীর-দরবেশসহ সকল মৃত মুসলমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা, তাদের জন্য দুআ করা। এ মাহফিলে জীবিত-মৃত আউলিয়া-বুজুর্গ, পীর-দরবেশ ও তাদের খাদেম ভক্তদের কেরামত বয়ান করা হয়। ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে মানুষকে আয়োজক দরবারের দিকে আকৃষ্ট করা হয়। আল্লাহর কাছে এ দরবার ছাড়া আর কোন প্রিয় দরবার যে নেই এটা জোর-জবরদস্তি করে বুঝানো হয় সাধারণ মানুষকে। মীলাদ পড়া হয়। দরবারে অবস্থিত মাদরাসা, মসজিদ ও খানকাহর জন্য চাঁদা তোলা হয়। সর্বশেষে, আখেরি মুনাজাত ও তাবারুকের ব্যবস্থা থাকে। শুধু তাই নয় এরা যে গান বাজনার আসর বসায়, গানের মাহফিলে নর্তন-কুন্দন, নাচতে নাচতে অজ্ঞান হয়ে যায়, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে দুনিয়ার কেউ প্রমাণ করতে পারবে না রাসুলুল্লাহ বা সাহাবীদের জামানায় এমন কিছু ছিল। অতএব নিসন্দেহে এসব বিদ'আত এবং সম্পূর্ণ বিদ'আতী কাজ। অতএব, ইসলাম শরীয়ত এ কাজ সমর্থন করে না। কারো আনুগত্য করা যাবে না যদি সে আল্লাহর শরীয়াতের বিপরীতে কোন হুকুম করে। রসূলুল্লাহ বলেছেন,
إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ
অর্থাৎ আনুগত্য কেবল সৎ কাজে। ২৩৪ এ হাদীস থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, শরীয়াতের বিরুদ্ধে কারো হুকুমের আনুগত্য করা যাবে না। বর্তমানে পীর-মুরিদীর যে সিলসিলা দেখা যাচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ নতুন ও মনগড়াভাবে উদ্ভাবিত। এটা রসূলুল্লাহ এর যুগে ছিল না, তিনি কখনো পীর-মুরিদি করেননি। তিনি নিজে বর্তমান অর্থে না ছিলেন পীর আর না ছিল তাঁর কোন মুরিদ। সাহাবায়ে কেরামও কখনো এই পীর-মুরিদী করেননি। তাঁদের কেউ কারো পীর ছিলেন না এবং তাদের মুরিদও কেউ ছিল না। তাবেয়ীন ও তাবে তবেয়ীনের যুগেও এ পীর-মুরিদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ বর্তমানকালের এক শ্রেণীর পীর নামে কথিত জাহেল লোক ও তাদের ততোধিক জাহেলী মুরিদ এ পীর-মুরিদীকে ইসলামের অন্যতম ভিত্তিগত জিনিস বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। আর এর মাধ্যমে অজ্ঞ লোকদেরকে মুরিদ বানিয়ে এক একটি বড় আকারের বিনা পুঁজির ব্যবসায় সাজিয়ে বসেছে।
এ ক্ষেত্রে করণীয়: কেউ যদি ওসীলা নিতে চায় তবে যেসব ওসীলা কুরআন ও সুন্নাহতে রয়েছে বা যেসব বিষয়ের ওসীলা নেয়া জায়েয আছে সেসব বিষয়ের ওসীলা নিতে হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর ওসীলা তালাশ করো এবং তাঁর পথে জিহাদ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। ২৩৫
উপরোক্ত আয়াত থেকে জানা যায় যে, ওসীলা তালাশ করা শুধু জায়েয নয় বরং আল্লাহর নির্দেশ। কিন্তু প্রশ্ন থাকল যে, সেই ওসীলা কী জিনিস? উত্তর হলো - ওসীলা হচ্ছে নেক আমল। ব্যক্তি যে কোন নেক আমল করে আল্লাহর কাছে ওসীলা নিতে পারে। এছাড়াও আল্লাহ তা'আলার গুণবাচক নামের ওসীলা নিয়ে তাঁর কাছে চাওয়া যায় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়। যেমন বনী ইসরাঈলের তিন ব্যক্তি বিপদে পড়ে তারা নিজেদের নেক আমলের ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।
ইবনে উমর কর্তৃক নবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিন ব্যক্তি (ঘর থেকে) বের হয়ে রাস্তা চলতে থাকাকালে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে তারা একটি পাহাড়ের গর্তে প্রবেশ করল। (এ সময়) উপর থেকে একটি বড় পাথর পড়ে গর্তের মুখ আঁটকে গেল। রসূলুল্লাহ বলেন, তখন তারা একজন অন্যজনকে বলল, তোমাদের সর্বোৎकृष्ट আমলের কথা বলে (পাথর দূর হওয়ার জন্য) আল্লাহর নিকটে দু'আ করো। সুতরাং, যে কোন নেক আমলের ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করা যায় বা কিছু চাওয়া যায়। কিন্তু মাযার, পীর, ফকীর অথবা কোন ওলীর ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে চাওয়া ইসলামে জায়েয নেই। এটা হলো শিরক। প্রত্যেক মুসলিমকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। কারণ মুশরিক অবস্থায় কেউ মারা গেলে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদের এসব বিদ'আতী কাজ থেকে হেফাযতে রাখুন, আমীন।
টিকাঃ
২৩৪ সহীহ মুসলিম, হাঃ ৪৮৭২; সহীহ বুখারী, হাঃ ৪৬১৫。
২৩৫ সূরা মায়েদা: ৩৫
নিকৃষ্ট বিদ'আতের সর্ব উৎকৃষ্ট উদাহরণটি হল - তথাকথিত পীর ব্যবসায়। কারন এদের কিছু কিছু কাজ বিদ'আত তো বটেই সরাসরি শিরক এর পর্যায়ে পড়ে। যেমন এরা নিজেরাই কিছু সামা সঙ্গীত, গজল, যিকির ইত্যাদি তৈরি করে যার কথাগুলো পুরাপুরি শিরক। আবার এরা মাজারে গিয়ে দোয়া প্রার্থনা করে এসবও শিরক। তাসাউফ অর্জন এর নাম করেও এরা দ্বীনের ভেতর নতুন জিনিসের উদ্ভাবন করেছে। যেমন: আম্বিয়া, আউলিয়া, পীর-দরবেশসহ সকল মৃত মুসলমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা, তাদের জন্য দুআ করা। এ মাহফিলে জীবিত-মৃত আউলিয়া-বুজুর্গ, পীর-দরবেশ ও তাদের খাদেম ভক্তদের কেরামত বয়ান করা হয়। ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে মানুষকে আয়োজক দরবারের দিকে আকৃষ্ট করা হয়। আল্লাহর কাছে এ দরবার ছাড়া আর কোন প্রিয় দরবার যে নেই এটা জোর-জবরদস্তি করে বুঝানো হয় সাধারণ মানুষকে। মীলাদ পড়া হয়। দরবারে অবস্থিত মাদরাসা, মসজিদ ও খানকাহর জন্য চাঁদা তোলা হয়। সর্বশেষে, আখেরি মুনাজাত ও তাবারুকের ব্যবস্থা থাকে। শুধু তাই নয় এরা যে গান বাজনার আসর বসায়, গানের মাহফিলে নর্তন-কুন্দন, নাচতে নাচতে অজ্ঞান হয়ে যায়, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে দুনিয়ার কেউ প্রমাণ করতে পারবে না রাসুলুল্লাহ বা সাহাবীদের জামানায় এমন কিছু ছিল। অতএব নিসন্দেহে এসব বিদ'আত এবং সম্পূর্ণ বিদ'আতী কাজ। অতএব, ইসলাম শরীয়ত এ কাজ সমর্থন করে না। কারো আনুগত্য করা যাবে না যদি সে আল্লাহর শরীয়াতের বিপরীতে কোন হুকুম করে। রসূলুল্লাহ বলেছেন,
إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ
অর্থাৎ আনুগত্য কেবল সৎ কাজে। ২৩৪ এ হাদীস থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, শরীয়াতের বিরুদ্ধে কারো হুকুমের আনুগত্য করা যাবে না। বর্তমানে পীর-মুরিদীর যে সিলসিলা দেখা যাচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ নতুন ও মনগড়াভাবে উদ্ভাবিত। এটা রসূলুল্লাহ এর যুগে ছিল না, তিনি কখনো পীর-মুরিদি করেননি। তিনি নিজে বর্তমান অর্থে না ছিলেন পীর আর না ছিল তাঁর কোন মুরিদ। সাহাবায়ে কেরামও কখনো এই পীর-মুরিদী করেননি। তাঁদের কেউ কারো পীর ছিলেন না এবং তাদের মুরিদও কেউ ছিল না। তাবেয়ীন ও তাবে তবেয়ীনের যুগেও এ পীর-মুরিদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ বর্তমানকালের এক শ্রেণীর পীর নামে কথিত জাহেল লোক ও তাদের ততোধিক জাহেলী মুরিদ এ পীর-মুরিদীকে ইসলামের অন্যতম ভিত্তিগত জিনিস বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। আর এর মাধ্যমে অজ্ঞ লোকদেরকে মুরিদ বানিয়ে এক একটি বড় আকারের বিনা পুঁজির ব্যবসায় সাজিয়ে বসেছে।
এ ক্ষেত্রে করণীয়: কেউ যদি ওসীলা নিতে চায় তবে যেসব ওসীলা কুরআন ও সুন্নাহতে রয়েছে বা যেসব বিষয়ের ওসীলা নেয়া জায়েয আছে সেসব বিষয়ের ওসীলা নিতে হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর ওসীলা তালাশ করো এবং তাঁর পথে জিহাদ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। ২৩৫
উপরোক্ত আয়াত থেকে জানা যায় যে, ওসীলা তালাশ করা শুধু জায়েয নয় বরং আল্লাহর নির্দেশ। কিন্তু প্রশ্ন থাকল যে, সেই ওসীলা কী জিনিস? উত্তর হলো - ওসীলা হচ্ছে নেক আমল। ব্যক্তি যে কোন নেক আমল করে আল্লাহর কাছে ওসীলা নিতে পারে। এছাড়াও আল্লাহ তা'আলার গুণবাচক নামের ওসীলা নিয়ে তাঁর কাছে চাওয়া যায় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়। যেমন বনী ইসরাঈলের তিন ব্যক্তি বিপদে পড়ে তারা নিজেদের নেক আমলের ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।
ইবনে উমর কর্তৃক নবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিন ব্যক্তি (ঘর থেকে) বের হয়ে রাস্তা চলতে থাকাকালে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে তারা একটি পাহাড়ের গর্তে প্রবেশ করল। (এ সময়) উপর থেকে একটি বড় পাথর পড়ে গর্তের মুখ আঁটকে গেল। রসূলুল্লাহ বলেন, তখন তারা একজন অন্যজনকে বলল, তোমাদের সর্বোৎकृष्ट আমলের কথা বলে (পাথর দূর হওয়ার জন্য) আল্লাহর নিকটে দু'আ করো। সুতরাং, যে কোন নেক আমলের ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করা যায় বা কিছু চাওয়া যায়। কিন্তু মাযার, পীর, ফকীর অথবা কোন ওলীর ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে চাওয়া ইসলামে জায়েয নেই। এটা হলো শিরক। প্রত্যেক মুসলিমকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। কারণ মুশরিক অবস্থায় কেউ মারা গেলে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদের এসব বিদ'আতী কাজ থেকে হেফাযতে রাখুন, আমীন।
টিকাঃ
২৩৪ সহীহ মুসলিম, হাঃ ৪৮৭২; সহীহ বুখারী, হাঃ ৪৬১৫。
২৩৫ সূরা মায়েদা: ৩৫
📄 ওরস
বুযুর্গানে দ্বীনের তিরোধানের পর শরীয়াতসম্মত নিয়মের অধীনে থেকে ইসালে সওয়াব করা এবং তাদের জন্য দু'আ করা শরী'য়াতে একটি ভালো কাজ। যদি কেউ কোন বুযুর্গের কবরের নিকটবর্তী হয় তাহলে তথায় উপস্থিত হয়ে সুন্নাত মোতাবেক সালাম বলা জায়েয। তবে দূর-দূরান্ত থেকে যিয়ারতের জন্য উপস্থিত হওয়া নিষেধ। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : لَا تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ : الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِ الرَّسُولِ ﷺ وَمَسْجِدِ الْأَقْطَى
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেন, তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে যাওয়ার জন্য সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে না। এ তিন মসজিদ হলো- (১) মসজিদে হারাম অর্থাৎ খানায়ে কা'বা, (২) মসজিদুর রসূল অর্থাৎ মসজিদে নববী, (৩) মসজিদে আক্সা বা বাইতুল মাকদিস (শুধু এ তিন মসজিদের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে সফর করা জায়েয। এ ছাড়া পৃথিবীর সকল মসজিদই সমমর্যাদার অধিকারী)। ২৩৬
শাহ ওলীউল্লাহ উক্ত হাদীসের বরাত দিয়ে লিখেন যে, আমার নিকট সত্য হলো এটাই যে, কোন ওলীর মাযারে দূর- দূরান্ত থেকে যিয়ারতের জন্য উপস্থিত হওয়া উক্ত হাদীসের নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। ২৩৭ তিনি আরো লিখেন, যে ব্যক্তি খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী এর কবরে এবং এ জাতীয় কোন বুযুর্গের কবরে উপস্থিত হয়ে দু'আ করে এ বিশ্বাসে যে, উক্ত স্থানে দু'আ করলে কবুল হয়, তাহলে সে যেন হত্যা এবং জিনাকারীর চেয়েও বেশি গোনাহের কাজ করল। ২৩৮
এমনিভাবে কবর যিয়ারতের, জন্য দিন নির্দিষ্ট করা এবং উক্ত নির্দিষ্ট দিনে বা তারিখে ইজতেমা করা কিছুতেই শরীয়াত কর্তৃক প্রমাণিত নয়। বিশেষ করে বছরান্তে ওরসের নামে যে দিন তারিখ নির্দিষ্ট করা হয় শরীয়াতে তার কোন অস্তিত্ব বা ভিত্তি বলতে কিছুই নেই। নবী বলেন,
لَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا
অর্থাৎ তোমরা আমার কবরকে ঈদ বানিয়ে নিও না। ২৩৯
হাদীস বিশারদগণ এ হাদীসকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন - মিশকাত গ্রন্থের ব্যাখ্যা গ্রন্থ মির'আতুল মাফাতীহ গ্রন্থে বলা হয়েছে,
لَا تَجْتَمِعُوا لِلزِّيَارَةِ اجْتِمَاعُكُمْ لِلْعِيدِ
অর্থাৎ তোমরা ঈদের ন্যায় যিয়ারতের জন্য একত্রিত হয়ো না। ২৪০
ওরসের গোশত খাওয়া হারাম
প্রচলিত আছে যে, বিভিন্ন ওলী-আওলিয়াদের মাযারকে কেন্দ্র করে, এমনকি অনেক ভন্ড পীর-ফকীরের কবরকে মাযার নাম দিয়ে তাতে বাৎসরিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে গরু, ছাগল জবাই করে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। মূলতঃ এই খাবার মাযারকে কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে যবেহ করা জন্তু খাওয়া হারাম। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاعٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴾
তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জীবজন্তু, রক্ত, শুকরের গোশত এবং সেসব জীবজন্তু, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্যই যেসকল লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয় তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা মহান ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু। ২৪১
কোন ওলী-আওলিয়ার মাযারে গরু, ছাগল, মুরগী, মোমবাতি, মিষ্টি এ জাতীয় যা কিছু উৎসর্গ করা হয় এসবই হারামের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া এসব কাজকর্ম হিন্দুদের ধর্মীয় কাজকর্মের সাথে সাদৃশ্য রাখে, যা মুসলিমদের জন্য অনুসরণ করা কোনভাবেই বৈধ নয়। আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য যবেহ করা বা উৎসর্গ করা জন্তুর দুটি দিক হতে পারেঃ
প্রথমত : আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যা উৎসর্গ করা হয় এবং যবেহ করার সময়ও সে নাম নিয়েই যবেহ করা হয়, এমতাবস্থায় যবেহকৃত জন্তু সকল আলেম ও ফকীহগণের দৃষ্টিতে হারাম এবং নাপাক। এর কোন অংশের দ্বারাই ফায়দা গ্রহণ করা বৈধ নয়। কারণ এ প্রাণী মৃত প্রাণীর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। আর مَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ আয়াতে যে অবস্থার কথা বুঝানো হয়েছে তা সরাসরি এই অবস্থারই নমুনাস্বরূপ। এ ব্যাপারে কারো কোন মতভেদ নেই।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর সন্তুষ্টি বা নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যা যবেহ করা হয়, তবে যবেহ করার সময় তা আল্লাহর নাম নিয়েই যবেহ করা হয়। যেমন অনেক অজ্ঞ মুসলিম পীর-বুযুর্গদের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে গরু, ছাগল, মুরগী ইত্যাদি মান্নত করে তা যবেহ করে থাকে। কিন্তু যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম নিয়েই যবেহ করে থাকে। এ অবস্থায়ও ফকীহগণের সর্বসম্মতিক্রমে তা হারাম এবং যবেহকৃত জন্তু মৃতের মধ্যে শামিল। ফখরুদ্দীন রাজী বলেন,
قَالَ الْعُلَمَاءُ : لَوْ ذَبَحَ مُسْلِمٌ ذَبِيحَةً وَقَصَدَ بِذَبْحِهِ التَّقَرُّبَ بِهَا إِلَى غَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى صَارَ مُرْتَدًّا وَذَبِيحَتُهُ ذَبِيحَةُ مُرْتَدٍ
আমাদের আলেমগণ বলেন, যদি কোন মুসলিম কোন প্রাণী যবেহ করে এবং এর দ্বারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য করে তাহলে সে মুরতাদ হয়ে যাবে এবং তার যবেহটা মুরতাদের যবেহের ন্যায় হবে। ২৪২
মোটকথা, মৃত ব্যক্তির জন্য ইসালে সওয়াব কিংবা সওয়াব পৌঁছানোর নামে উল্লিখিত কাজগুলো সম্পূর্ণ বিদ'আত এবং নাজায়েয। তার কারণ হলো এসব কাজের মধ্যে কোনটিই রসূলুল্লাহ এর পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয়।
শুধু তাই নয়, রসূলুল্লাহ এর পর তাঁর কোন সাহাবায়ে কেরামও এসব কাজ কোন মৃত ব্যক্তির জন্য করেছেন বলে তার কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং দ্বীনি আমলের ক্ষেত্রে মূলত যে কাজ রসূলুল্লাহ এর পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয় কিংবা সাহাবায়ে কেরামের কোন আমল থেকেও প্রমাণিত নয় তা হলো বিদ'আত।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মুসলিম সমাজে এসব কাজ নিয়মিত হচ্ছে। কিছু আলেম-উলামা এতে অংশ গ্রহণ করার কারণে সাধারণ লোকজন এসব কাজকে সাওয়াবের কাজ মনে করে নির্দ্বিধায় করে যাচ্ছে। তাই আমাদের কর্তব্য হলো – এসব কুপ্রথা ও বিদ'আত থেকে বিরত থাকা। যারা এসব অনুষ্ঠানের জন্য দাওয়াত করে তাদেরকে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝিয়ে দিলে এবং এ ব্যাপারে জায়েয পদ্ধতিতে ইসালে সাওয়াবের পথ বলে দিলে আশা করা যায়, তারা তা মেনে নেবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে বিদ'আত ও কুপ্রথা থেকে হেফাযত করুন এবং সুন্নাতের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
টিকাঃ
২৩৬ সহীহ বুখারী, হা: ১১৮৯; সহীহ মুসলিম, হাঃ ৩৪৫০; আবু দাউদ, হাঃ ২০৩৫; তিরমিযী, হাঃ ৩২৬; নাসাঈ, হা : ৭০০; ইবনে মাজাহ, হাঃ ১৪০৯; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭১৯১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ১৬১৯。
২৩৭ হুজ্জাতুল্লাহীল বালেগাহ - ১/১৯২。
২৩৮ তাফহীমাতে এলাহিয়া- ২/৪৮。
২৩৯ আবু দাউদ, হাঃ ২০৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৮৭৯০。
২৪০ মির'আতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ ৯৩২ নং হাদীসের ব্যাখ্যা。
২৪১ সূরা বাকারা: ১৭৩
২৪২ তাফসীরুল মানার, ৮/২৪。
বুযুর্গানে দ্বীনের তিরোধানের পর শরীয়াতসম্মত নিয়মের অধীনে থেকে ইসালে সওয়াব করা এবং তাদের জন্য দু'আ করা শরী'য়াতে একটি ভালো কাজ। যদি কেউ কোন বুযুর্গের কবরের নিকটবর্তী হয় তাহলে তথায় উপস্থিত হয়ে সুন্নাত মোতাবেক সালাম বলা জায়েয। তবে দূর-দূরান্ত থেকে যিয়ারতের জন্য উপস্থিত হওয়া নিষেধ। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : لَا تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ : الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِ الرَّسُولِ ﷺ وَمَسْجِدِ الْأَقْطَى
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেন, তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে যাওয়ার জন্য সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে না। এ তিন মসজিদ হলো- (১) মসজিদে হারাম অর্থাৎ খানায়ে কা'বা, (২) মসজিদুর রসূল অর্থাৎ মসজিদে নববী, (৩) মসজিদে আক্সা বা বাইতুল মাকদিস (শুধু এ তিন মসজিদের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে সফর করা জায়েয। এ ছাড়া পৃথিবীর সকল মসজিদই সমমর্যাদার অধিকারী)। ২৩৬
শাহ ওলীউল্লাহ উক্ত হাদীসের বরাত দিয়ে লিখেন যে, আমার নিকট সত্য হলো এটাই যে, কোন ওলীর মাযারে দূর- দূরান্ত থেকে যিয়ারতের জন্য উপস্থিত হওয়া উক্ত হাদীসের নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। ২৩৭ তিনি আরো লিখেন, যে ব্যক্তি খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী এর কবরে এবং এ জাতীয় কোন বুযুর্গের কবরে উপস্থিত হয়ে দু'আ করে এ বিশ্বাসে যে, উক্ত স্থানে দু'আ করলে কবুল হয়, তাহলে সে যেন হত্যা এবং জিনাকারীর চেয়েও বেশি গোনাহের কাজ করল। ২৩৮
এমনিভাবে কবর যিয়ারতের, জন্য দিন নির্দিষ্ট করা এবং উক্ত নির্দিষ্ট দিনে বা তারিখে ইজতেমা করা কিছুতেই শরীয়াত কর্তৃক প্রমাণিত নয়। বিশেষ করে বছরান্তে ওরসের নামে যে দিন তারিখ নির্দিষ্ট করা হয় শরীয়াতে তার কোন অস্তিত্ব বা ভিত্তি বলতে কিছুই নেই। নবী বলেন,
لَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا
অর্থাৎ তোমরা আমার কবরকে ঈদ বানিয়ে নিও না। ২৩৯
হাদীস বিশারদগণ এ হাদীসকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন - মিশকাত গ্রন্থের ব্যাখ্যা গ্রন্থ মির'আতুল মাফাতীহ গ্রন্থে বলা হয়েছে,
لَا تَجْتَمِعُوا لِلزِّيَارَةِ اجْتِمَاعُكُمْ لِلْعِيدِ
অর্থাৎ তোমরা ঈদের ন্যায় যিয়ারতের জন্য একত্রিত হয়ো না। ২৪০
ওরসের গোশত খাওয়া হারাম
প্রচলিত আছে যে, বিভিন্ন ওলী-আওলিয়াদের মাযারকে কেন্দ্র করে, এমনকি অনেক ভন্ড পীর-ফকীরের কবরকে মাযার নাম দিয়ে তাতে বাৎসরিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে গরু, ছাগল জবাই করে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। মূলতঃ এই খাবার মাযারকে কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে যবেহ করা জন্তু খাওয়া হারাম। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاعٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴾
তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জীবজন্তু, রক্ত, শুকরের গোশত এবং সেসব জীবজন্তু, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্যই যেসকল লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয় তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা মহান ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু। ২৪১
কোন ওলী-আওলিয়ার মাযারে গরু, ছাগল, মুরগী, মোমবাতি, মিষ্টি এ জাতীয় যা কিছু উৎসর্গ করা হয় এসবই হারামের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া এসব কাজকর্ম হিন্দুদের ধর্মীয় কাজকর্মের সাথে সাদৃশ্য রাখে, যা মুসলিমদের জন্য অনুসরণ করা কোনভাবেই বৈধ নয়। আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য যবেহ করা বা উৎসর্গ করা জন্তুর দুটি দিক হতে পারেঃ
প্রথমত : আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যা উৎসর্গ করা হয় এবং যবেহ করার সময়ও সে নাম নিয়েই যবেহ করা হয়, এমতাবস্থায় যবেহকৃত জন্তু সকল আলেম ও ফকীহগণের দৃষ্টিতে হারাম এবং নাপাক। এর কোন অংশের দ্বারাই ফায়দা গ্রহণ করা বৈধ নয়। কারণ এ প্রাণী মৃত প্রাণীর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। আর مَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ আয়াতে যে অবস্থার কথা বুঝানো হয়েছে তা সরাসরি এই অবস্থারই নমুনাস্বরূপ। এ ব্যাপারে কারো কোন মতভেদ নেই।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর সন্তুষ্টি বা নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যা যবেহ করা হয়, তবে যবেহ করার সময় তা আল্লাহর নাম নিয়েই যবেহ করা হয়। যেমন অনেক অজ্ঞ মুসলিম পীর-বুযুর্গদের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে গরু, ছাগল, মুরগী ইত্যাদি মান্নত করে তা যবেহ করে থাকে। কিন্তু যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম নিয়েই যবেহ করে থাকে। এ অবস্থায়ও ফকীহগণের সর্বসম্মতিক্রমে তা হারাম এবং যবেহকৃত জন্তু মৃতের মধ্যে শামিল। ফখরুদ্দীন রাজী বলেন,
قَالَ الْعُلَمَاءُ : لَوْ ذَبَحَ مُسْلِمٌ ذَبِيحَةً وَقَصَدَ بِذَبْحِهِ التَّقَرُّبَ بِهَا إِلَى غَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى صَارَ مُرْتَدًّا وَذَبِيحَتُهُ ذَبِيحَةُ مُرْتَدٍ
আমাদের আলেমগণ বলেন, যদি কোন মুসলিম কোন প্রাণী যবেহ করে এবং এর দ্বারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য করে তাহলে সে মুরতাদ হয়ে যাবে এবং তার যবেহটা মুরতাদের যবেহের ন্যায় হবে। ২৪২
মোটকথা, মৃত ব্যক্তির জন্য ইসালে সওয়াব কিংবা সওয়াব পৌঁছানোর নামে উল্লিখিত কাজগুলো সম্পূর্ণ বিদ'আত এবং নাজায়েয। তার কারণ হলো এসব কাজের মধ্যে কোনটিই রসূলুল্লাহ এর পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয়।
শুধু তাই নয়, রসূলুল্লাহ এর পর তাঁর কোন সাহাবায়ে কেরামও এসব কাজ কোন মৃত ব্যক্তির জন্য করেছেন বলে তার কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং দ্বীনি আমলের ক্ষেত্রে মূলত যে কাজ রসূলুল্লাহ এর পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয় কিংবা সাহাবায়ে কেরামের কোন আমল থেকেও প্রমাণিত নয় তা হলো বিদ'আত।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মুসলিম সমাজে এসব কাজ নিয়মিত হচ্ছে। কিছু আলেম-উলামা এতে অংশ গ্রহণ করার কারণে সাধারণ লোকজন এসব কাজকে সাওয়াবের কাজ মনে করে নির্দ্বিধায় করে যাচ্ছে। তাই আমাদের কর্তব্য হলো – এসব কুপ্রথা ও বিদ'আত থেকে বিরত থাকা। যারা এসব অনুষ্ঠানের জন্য দাওয়াত করে তাদেরকে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝিয়ে দিলে এবং এ ব্যাপারে জায়েয পদ্ধতিতে ইসালে সাওয়াবের পথ বলে দিলে আশা করা যায়, তারা তা মেনে নেবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে বিদ'আত ও কুপ্রথা থেকে হেফাযত করুন এবং সুন্নাতের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
টিকাঃ
২৩৬ সহীহ বুখারী, হা: ১১৮৯; সহীহ মুসলিম, হাঃ ৩৪৫০; আবু দাউদ, হাঃ ২০৩৫; তিরমিযী, হাঃ ৩২৬; নাসাঈ, হা : ৭০০; ইবনে মাজাহ, হাঃ ১৪০৯; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭১৯১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ১৬১৯。
২৩৭ হুজ্জাতুল্লাহীল বালেগাহ - ১/১৯২。
২৩৮ তাফহীমাতে এলাহিয়া- ২/৪৮。
২৩৯ আবু দাউদ, হাঃ ২০৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৮৭৯০。
২৪০ মির'আতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ ৯৩২ নং হাদীসের ব্যাখ্যা。
২৪১ সূরা বাকারা: ১৭৩
২৪২ তাফসীরুল মানার, ৮/২৪。