📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 জায়নামাযের দু‘আ পড়া

📄 জায়নামাযের দু‘আ পড়া


নামায শুরু করার পূর্বে জায়নামাযে বা সালাতের জায়গায় দাঁড়িয়ে "ইন্নী ওয়াজ্জাহ্ ....." এ দু'আ পাঠ করা বিদ'আত। কারণ রসূলুল্লাহ নামায শুরু করার পূর্বে জায়নামাযে বা নামাযের জায়গায় দাঁড়িয়ে 'আল্লাহু আকবার' এ তাকবীর বলতেন। কিন্তু এর আগে কোন কিছু পড়েছেন বলে কোন হাদীসে প্রমাণিত নেই।
এ ক্ষেত্রে করণীয়
নামাযের শুরুতে যেটা করণীয় তা হলো প্রথমে মনে মনে নিয়ত করতে হবে। অর্থাৎ কোন্ ওয়াক্তের কোন্ নামায পড়বে তা মনে মনে স্থির করবে। তারপর তাকবীর দিয়ে হাত বাঁধবে। তারপর সানা পাঠ করবে। যে দু'আটি জায়নামাযের দু'আ হিসেবে পাঠ করা হয় সেটি মূলত কুরআনের একটি আয়াত। নবী এ দু'আর সাথে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ দু'আ একত্র করে তাকবীরে তাহরীমার পর সানা হিসেবে পাঠ করতেন। তাই তাকবীর বলার পূর্বে না পড়ে তাকবীর বলার পর সানা হিসেবে হাদীসে যেভাবে এসেছে সেভাবে দু'আটি পাঠ করতে হবে। আলী বলেন, নবী নামায শুরু করার সময় তাকবীর বলতেন এবং এ দু'আ পাঠ করতেন।
وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ ، قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ - اَللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ. أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِ وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ، لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ، أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থ: আমি একনিষ্ঠভাবে ঐ সত্তার দিকে মুখ ফিরালাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন; আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সলাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ সবই বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই। এসব কাজের জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি, আমি হলাম মুসলিমদের মধ্যে একজন। হে আল্লাহ! তুমিই মালিক, তুমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তুমি আমার রব এবং আমি তোমার দাস। আমি নিজের উপর অনেক অন্যায় করেছি এবং আমি আমার পাপের স্বীকৃতি দিচ্ছি। সুতরাং তুমি আমার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দাও। কারণ তুমি ছাড়া গোনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আর তুমি আমাকে সবচেয়ে উত্তম চরিত্র দান করো। কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ উত্তম চরিত্র দান করতে পারে না। আর তুমি আমাকে খারাপ চরিত্র থেকে বাঁচিয়ে রাখো। কেননা তুমি ছাড়া কেউ মন্দ চরিত্র থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে না। হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত। আমি তোমার সামনে হাযির। সকল কল্যাণ তোমারই হাতে। অমঙ্গল তোমার দিক থেকে নয়। আমি তোমার সাহায্যে তোমার দিকেই মনোনিবেশ করি। হে আল্লাহ! তুমি বরকতময় এবং মহান। আমি তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি এবং তোমার দিকে ফিরে আসি। ২০২

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 তাসবীহ পাঠ করতে তাসবীহ-মালা ব্যবহার করা কি বিদ‘আত

📄 তাসবীহ পাঠ করতে তাসবীহ-মালা ব্যবহার করা কি বিদ‘আত


সমাজে তাসবীহ দানা দিয়ে যিকির করার প্রচলন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ফরয সালাতের পর, হাটে-বাজারে, রাস্তায়, বাসে-ট্রেনে, অফিস- আদালতে সর্বত্র একশ্রেণীর মানুষকে তাসবীহ পাঠ করতে দেখা যায়। এতে যে রিয়া সৃষ্টি হয় তাতে কোন সন্দেহ নেই। অনেক মসজিদের কাতারে কাতারে রেখে দেয়া হয় কিংবা দেওয়ালে ও জালানায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। তাসবীহই যেন মূল ইবাদত। অথচ এর সহীহ কোন ভিত্তি নেই। উক্ত মর্মে যে সমস্ত বর্ণনা রয়েছে তার সবই জাল কিংবা যঈফ।
عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصَى تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ فَقَالَ سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللهُ أَكْبَرُ مِثْلُ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلُ ذَلِكَ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِثْلُ ذَلِكَ. وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةً إِلَّا بِاللَّهِ مِثلُ ذَلِكَ
আয়েশা বিনতে সা'দ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা রসূল - এর সাথে এক মহিলার নিকটে যান। তখন স্ত্রীলোকটির সম্মুখে কিছু খেজুরের বিচি অথবা কংকর ছিল, যার দ্বারা সে তাসবীহ পাঠ করছিল। রসূল বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কথা বলে দিব না, যা এটা অপেক্ষা অধিক সহজ বা উত্তম হবে? তা হচ্ছে - 'সুবহা-নাল্লাহ' অর্থাৎ, আল্লাহর পবিত্রতা যে পরিমাণ তিনি আসমানে মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, 'সুবহা-নাল্লাহ' যে পরিমাণ তিনি যমীনে মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, 'সুবহা-নাল্লাহ' যে পরিমাণ উভয়ের মাঝে রয়েছে এবং 'সুবহা-নাল্লাহ' যে পরিমাণ তিনি ভবিষ্যতে সৃষ্টি করবেন। 'আল্লাহু আকবার' তার অনুরূপ, 'আলহামদু লিল্লাহ' তার অনুরূপ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু' উহার অনুরূপ এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' অনুরূপ। ২২৩
তাহক্বীক্ব: যঈফ। উক্ত হাদীসের সনদে খুযায়মাহ ও সাঈদ ইবনু আবী হেলাল নামে দুইজন ত্রুটিপূর্ণ রাবী আছে। ২২৪ তাছাড়া এটি সহীহ হাদীসের বিরোধী। কারণ রসূল ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে তাসবীহ গণনা করতেন। ২২৫
উল্লেখ্য যে, ভারতীয় ছাপা তিরমিযীতে উক্ত অংশ নেই দ্রঃ ২/১৮৬ পৃষ্ঠা। যেমন - হাদীসে এসেছঃ
عَنْ عَلَى قَالَ قَالَ النَّبِيُّ نِعْمَ الْمُذَكِّرُ السُّبْحَةَ
আলী বলেন, রসূল বলেছেন, যে দানা দ্বারা যিকির করে সে কতইনা উত্তম!
তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি জাল। উক্ত বর্ণনার প্রত্যেক রাবীই ত্রুটিপূর্ণ। ২২৬
আলবানী বলেন,
إِنَّ السُّبْحَةَ بِدُعَةٌ لَّمْ تَكُنْ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا حَدَثَتْ بَعْدَهُ
'নিশ্চয় তাসবীহ দানা বিদ'আত। এটি রসূল -এর যুগে ছিল না। বরং তাঁর পরে সৃষ্টি হয়েছে'। ২২৭
এ বিষয়ে আরও একটি জাল হাদীস উল্লেখ করা যায়। যেমন -
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ كَانَ النَّبِيُّ يُسَبِّحُ بِالْحَصَى.
আবু হুরায়রাহ হতে বর্ণিত, নবী কংকর দ্বারা তাসবীহ গণনা করতেন। ২২৮
তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি জাল। এর সনদে কুদামা বিন মাযউন এবং সালেহ ইবনু আলী নামে অভিযুক্ত রাবী আছে। ২২৯
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, তাসবীহ দানা প্রসঙ্গে বহু আলেম একে বিদ'আত বলেছেন আর তা না হলেও তাসবীহ দানা ব্যবহার না করাই উত্তম। কারণ: মহানবী আঙ্গুল দ্বারা তাসবীহ গণনা করেছেন এবং বলেছেন,
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ هَانِي بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ حُمَيْضَةً بِنْتِ يَاسِرٍ، عَنْ يُسَيْرَةَ، أَخْبَرَتْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُنَّ أَنْ يُرَاعِينَ بالتَّكْبِيرِ وَالتَّقْدِيسِ وَالتَّهْلِيلِ وَأَنْ يَعْقِدُنَ بِالأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولَاتٌ مُسْتَنطَقَاتٌ.
"আঙ্গুলগুলোকে (তাঁর দ্বারা কৃত কর্মের ব্যপারে) জিজ্ঞাসা করা হবে, কথা বলানো হবে। ২৩০ সুতরাং কিয়ামতের দিন আঙ্গুলগুলো তাসবীহ পড়ার সাক্ষ্য দেবে, মালা সাক্ষ্য দেবে না। মালা ব্যবহার করে তাসবীহ পড়লে সাধারনতঃ মনোযোগ ও একাগ্রতা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। আঙ্গুল ব্যবহার করলে তা হয় না। তাসবীহ - মালা ব্যবহার লোক-দেখানি বা 'রিয়া' হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রং- বেরঙের মালা ও তাঁর খটখট শব্দ মানুষের দৃষ্টি ও মন আকর্ষণ করে। আর আমলে 'রিয়া' ঢুকলে সাওয়াবের জায়গায় শিরক ঘটে বসবে। বলা বাহুল্য, তাসবীহ-দানার চেয়ে আঙ্গুল ব্যবহার করাই শরীয়ত সম্মত।

টিকাঃ
২২৩ তিরমিযী হাঃ ৩৫৬৮, ২/১৯৭ পৃঃ ও হাঃ ৩৫৫৪; আবু দাউদ, হাঃ ১৫০০, ১/২১০ পৃঃ; মিশকাত হাঃ ২৩১১; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হাঃ ২২০৩
২২৪ যঈফ তিরমিযী হাঃ ৩৫৬৮, ২/১৯৭ পৃঃ, 'দু'আ সমূহ' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৩০; যঈফ আবুদাউদ হা : ১৫০০, ১/২১০ পৃঃ; যঈফ আত-তারগীব হাঃ ৯৫৯; সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ৮৩
২২৫ আবু দাউদ হাঃ ১৫০২, ১/২১০ পৃঃ; বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা হা/৩১৪৮; হহীহ ইবনে হিববান হাঃ ৮৪৩; তিরমিযী হাঃ ৩৪৮৬
২২৬ সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ৮৩
২২৭ সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ৮৩
২২৮ আবুল কাসেম জুরজানী, তারীখে জুরজান হাঃ ৬৮
২২৯ সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ১০০২
২৩০ আহমাদ, হাঃ ৬/৩৭১, আবূ দাউদ, হাঃ ১৫০১, তিরমিযী, হাঃ ৩৫৮৩

সমাজে তাসবীহ দানা দিয়ে যিকির করার প্রচলন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ফরয সালাতের পর, হাটে-বাজারে, রাস্তায়, বাসে-ট্রেনে, অফিস- আদালতে সর্বত্র একশ্রেণীর মানুষকে তাসবীহ পাঠ করতে দেখা যায়। এতে যে রিয়া সৃষ্টি হয় তাতে কোন সন্দেহ নেই। অনেক মসজিদের কাতারে কাতারে রেখে দেয়া হয় কিংবা দেওয়ালে ও জালানায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। তাসবীহই যেন মূল ইবাদত। অথচ এর সহীহ কোন ভিত্তি নেই। উক্ত মর্মে যে সমস্ত বর্ণনা রয়েছে তার সবই জাল কিংবা যঈফ।
عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصَى تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ فَقَالَ سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللهُ أَكْبَرُ مِثْلُ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلُ ذَلِكَ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِثْلُ ذَلِكَ. وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةً إِلَّا بِاللَّهِ مِثلُ ذَلِكَ
আয়েশা বিনতে সা'দ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা রসূল - এর সাথে এক মহিলার নিকটে যান। তখন স্ত্রীলোকটির সম্মুখে কিছু খেজুরের বিচি অথবা কংকর ছিল, যার দ্বারা সে তাসবীহ পাঠ করছিল। রসূল বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কথা বলে দিব না, যা এটা অপেক্ষা অধিক সহজ বা উত্তম হবে? তা হচ্ছে - 'সুবহা-নাল্লাহ' অর্থাৎ, আল্লাহর পবিত্রতা যে পরিমাণ তিনি আসমানে মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, 'সুবহা-নাল্লাহ' যে পরিমাণ তিনি যমীনে মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, 'সুবহা-নাল্লাহ' যে পরিমাণ উভয়ের মাঝে রয়েছে এবং 'সুবহা-নাল্লাহ' যে পরিমাণ তিনি ভবিষ্যতে সৃষ্টি করবেন। 'আল্লাহু আকবার' তার অনুরূপ, 'আলহামদু লিল্লাহ' তার অনুরূপ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু' উহার অনুরূপ এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' অনুরূপ। ২২৩
তাহক্বীক্ব: যঈফ। উক্ত হাদীসের সনদে খুযায়মাহ ও সাঈদ ইবনু আবী হেলাল নামে দুইজন ত্রুটিপূর্ণ রাবী আছে। ২২৪ তাছাড়া এটি সহীহ হাদীসের বিরোধী। কারণ রসূল ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে তাসবীহ গণনা করতেন। ২২৫
উল্লেখ্য যে, ভারতীয় ছাপা তিরমিযীতে উক্ত অংশ নেই দ্রঃ ২/১৮৬ পৃষ্ঠা। যেমন - হাদীসে এসেছঃ
عَنْ عَلَى قَالَ قَالَ النَّبِيُّ نِعْمَ الْمُذَكِّرُ السُّبْحَةَ
আলী বলেন, রসূল বলেছেন, যে দানা দ্বারা যিকির করে সে কতইনা উত্তম!
তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি জাল। উক্ত বর্ণনার প্রত্যেক রাবীই ত্রুটিপূর্ণ। ২২৬
আলবানী বলেন,
إِنَّ السُّبْحَةَ بِدُعَةٌ لَّمْ تَكُنْ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا حَدَثَتْ بَعْدَهُ
'নিশ্চয় তাসবীহ দানা বিদ'আত। এটি রসূল -এর যুগে ছিল না। বরং তাঁর পরে সৃষ্টি হয়েছে'। ২২৭
এ বিষয়ে আরও একটি জাল হাদীস উল্লেখ করা যায়। যেমন -
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ كَانَ النَّبِيُّ يُسَبِّحُ بِالْحَصَى.
আবু হুরায়রাহ হতে বর্ণিত, নবী কংকর দ্বারা তাসবীহ গণনা করতেন। ২২৮
তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি জাল। এর সনদে কুদামা বিন মাযউন এবং সালেহ ইবনু আলী নামে অভিযুক্ত রাবী আছে। ২২৯
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, তাসবীহ দানা প্রসঙ্গে বহু আলেম একে বিদ'আত বলেছেন আর তা না হলেও তাসবীহ দানা ব্যবহার না করাই উত্তম। কারণ: মহানবী আঙ্গুল দ্বারা তাসবীহ গণনা করেছেন এবং বলেছেন,
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ هَانِي بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ حُمَيْضَةً بِنْتِ يَاسِرٍ، عَنْ يُسَيْرَةَ، أَخْبَرَتْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُنَّ أَنْ يُرَاعِينَ بالتَّكْبِيرِ وَالتَّقْدِيسِ وَالتَّهْلِيلِ وَأَنْ يَعْقِدُنَ بِالأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولَاتٌ مُسْتَنطَقَاتٌ.
"আঙ্গুলগুলোকে (তাঁর দ্বারা কৃত কর্মের ব্যপারে) জিজ্ঞাসা করা হবে, কথা বলানো হবে। ২৩০ সুতরাং কিয়ামতের দিন আঙ্গুলগুলো তাসবীহ পড়ার সাক্ষ্য দেবে, মালা সাক্ষ্য দেবে না। মালা ব্যবহার করে তাসবীহ পড়লে সাধারনতঃ মনোযোগ ও একাগ্রতা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। আঙ্গুল ব্যবহার করলে তা হয় না। তাসবীহ - মালা ব্যবহার লোক-দেখানি বা 'রিয়া' হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রং- বেরঙের মালা ও তাঁর খটখট শব্দ মানুষের দৃষ্টি ও মন আকর্ষণ করে। আর আমলে 'রিয়া' ঢুকলে সাওয়াবের জায়গায় শিরক ঘটে বসবে। বলা বাহুল্য, তাসবীহ-দানার চেয়ে আঙ্গুল ব্যবহার করাই শরীয়ত সম্মত।

টিকাঃ
২২৩ তিরমিযী হাঃ ৩৫৬৮, ২/১৯৭ পৃঃ ও হাঃ ৩৫৫৪; আবু দাউদ, হাঃ ১৫০০, ১/২১০ পৃঃ; মিশকাত হাঃ ২৩১১; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হাঃ ২২০৩
২২৪ যঈফ তিরমিযী হাঃ ৩৫৬৮, ২/১৯৭ পৃঃ, 'দু'আ সমূহ' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৩০; যঈফ আবুদাউদ হা : ১৫০০, ১/২১০ পৃঃ; যঈফ আত-তারগীব হাঃ ৯৫৯; সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ৮৩
২২৫ আবু দাউদ হাঃ ১৫০২, ১/২১০ পৃঃ; বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা হা/৩১৪৮; হহীহ ইবনে হিববান হাঃ ৮৪৩; তিরমিযী হাঃ ৩৪৮৬
২২৬ সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ৮৩
২২৭ সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ৮৩
২২৮ আবুল কাসেম জুরজানী, তারীখে জুরজান হাঃ ৬৮
২২৯ সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ১০০২
২৩০ আহমাদ, হাঃ ৬/৩৭১, আবূ দাউদ, হাঃ ১৫০১, তিরমিযী, হাঃ ৩৫৮৩

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 উচ্চৈঃস্বরে বা চিৎকার করে যিকির করা বা হালকায় যিকিরের অনুষ্ঠান করা

📄 উচ্চৈঃস্বরে বা চিৎকার করে যিকির করা বা হালকায় যিকিরের অনুষ্ঠান করা


সূফীদের যত জিকির রয়েছে তার সবই বানোয়াট ও বিদ'আতী যিকির। কেননা এগুলো সবই হাদীসে বর্ণিত শরীয়ত সম্মত জিকিরের পরিপন্থী। তাছাড়া দলবদ্ধ হয়ে উচ্চে কন্ঠে বা চিৎকার করে যিকির করা বা হালকায়ে যিকির করা যেমন : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর জিকির, আল্লাহু আল্লাহু বলে জিকির করা, জিকিরে যলী, জিকিরে খফী, জিকিরে রূহী, জিকিরে কলবী ইত্যাদি সবই ইবাদতের নামে নতুন সৃষ্টি তথা বিদ'আত বা ইসলাম বহির্ভুত কাজ। অনেক বিজ্ঞ আলেম ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, সবচেয়ে সেরা যিকির হচ্ছে, কুরআনুল কারীম। ইমাম নবভী এ প্রসঙ্গে বলেনঃ 'জেনে রাখো, কুরআনের তিলাওয়াত সর্ব শ্রেষ্ঠ যিকির আর তা হচ্ছে, চিন্তা-ভাবনার সাথে তিলাওয়াত করা। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে প্রমাণিত যিকিরসমূহ (দোয়াই মাসূরাহ)। তন্মধ্যে উত্তম হচ্ছে, সুবহানাল্লাহ, ওয়াল্ হামদু লিল্লাহ্ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আক্ বার]। নবী বলেন: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় বাক্য চারটি, সুবহানাল্লাহ, ওয়াল্ হামদু লিল্লাহ্ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আক্ বার। এর মধ্যে যার দ্বারায় শুরু কর না কেন কোন অসুবিধা নেই। ২৩১ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেনঃ 'শুধু (আল্লাহর) নাম তা গোপনে হোক কিংবা প্রকাশ্যে তা একটি পূর্ণ কথা নয় আর না একটি পূর্ণ বাক্য। আর না এর সম্পর্ক কুফর বা ঈমানের সাথে আছে, না আদেশ কিংবা নিষেধের সাথে সম্পর্কিত। আর না সালাফ (পূর্বসূরী) থেকে প্রমাণিত আর না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৈধ করেছেন। ২৩২ এই জন্য এই যিকিরকে বহু আলেম- উলামা বিদ'আত বলেছেন। ২৩৩
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনায় বলা যায় যে, এভাবে জিকির করে থাকেন ভ্রান্ত আকীদার পীর-ফকীর ও সূফীগণ। এই সকল পীর-ফকীর ও সূফীদের অনেকেই আবার আল্লাহ শব্দ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র হু হু বলে জিকির করেন। এমনিভাবে তারা দীনের মধ্যে বিদ'আত চালু করেছেন। আল্লাহ সবুহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদেরকে এ সকল বিদ'আত থেকে পরিত্রাণ ও হেফাযত করুন, আমীন।

টিকাঃ
২৩১ মুসলিম
২৩২ মাজমুউল ফাতাওয়া ১০/৫৫৬
২৩৩ সাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ হাফেযাহুল্ললাহের ওয়েব সাইট। www.islam-qa.com

সূফীদের যত জিকির রয়েছে তার সবই বানোয়াট ও বিদ'আতী যিকির। কেননা এগুলো সবই হাদীসে বর্ণিত শরীয়ত সম্মত জিকিরের পরিপন্থী। তাছাড়া দলবদ্ধ হয়ে উচ্চে কন্ঠে বা চিৎকার করে যিকির করা বা হালকায়ে যিকির করা যেমন : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর জিকির, আল্লাহু আল্লাহু বলে জিকির করা, জিকিরে যলী, জিকিরে খফী, জিকিরে রূহী, জিকিরে কলবী ইত্যাদি সবই ইবাদতের নামে নতুন সৃষ্টি তথা বিদ'আত বা ইসলাম বহির্ভুত কাজ। অনেক বিজ্ঞ আলেম ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, সবচেয়ে সেরা যিকির হচ্ছে, কুরআনুল কারীম। ইমাম নবভী এ প্রসঙ্গে বলেনঃ 'জেনে রাখো, কুরআনের তিলাওয়াত সর্ব শ্রেষ্ঠ যিকির আর তা হচ্ছে, চিন্তা-ভাবনার সাথে তিলাওয়াত করা। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে প্রমাণিত যিকিরসমূহ (দোয়াই মাসূরাহ)। তন্মধ্যে উত্তম হচ্ছে, সুবহানাল্লাহ, ওয়াল্ হামদু লিল্লাহ্ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আক্ বার]। নবী বলেন: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় বাক্য চারটি, সুবহানাল্লাহ, ওয়াল্ হামদু লিল্লাহ্ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আক্ বার। এর মধ্যে যার দ্বারায় শুরু কর না কেন কোন অসুবিধা নেই। ২৩১ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেনঃ 'শুধু (আল্লাহর) নাম তা গোপনে হোক কিংবা প্রকাশ্যে তা একটি পূর্ণ কথা নয় আর না একটি পূর্ণ বাক্য। আর না এর সম্পর্ক কুফর বা ঈমানের সাথে আছে, না আদেশ কিংবা নিষেধের সাথে সম্পর্কিত। আর না সালাফ (পূর্বসূরী) থেকে প্রমাণিত আর না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৈধ করেছেন। ২৩২ এই জন্য এই যিকিরকে বহু আলেম- উলামা বিদ'আত বলেছেন। ২৩৩

টিকাঃ
২৩১ মুসলিম
২৩২ মাজমুউল ফাতাওয়া ১০/৫৫৬
২৩৩ সাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ হাফেযাহুল্ললাহের ওয়েব সাইট। www.islam-qa.com

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 পীর মুরিদী ও পীর ব্যবসায়

📄 পীর মুরিদী ও পীর ব্যবসায়


নিকৃষ্ট বিদ'আতের সর্ব উৎকৃষ্ট উদাহরণটি হল - তথাকথিত পীর ব্যবসায়। কারন এদের কিছু কিছু কাজ বিদ'আত তো বটেই সরাসরি শিরক এর পর্যায়ে পড়ে। যেমন এরা নিজেরাই কিছু সামা সঙ্গীত, গজল, যিকির ইত্যাদি তৈরি করে যার কথাগুলো পুরাপুরি শিরক। আবার এরা মাজারে গিয়ে দোয়া প্রার্থনা করে এসবও শিরক। তাসাউফ অর্জন এর নাম করেও এরা দ্বীনের ভেতর নতুন জিনিসের উদ্ভাবন করেছে। যেমন: আম্বিয়া, আউলিয়া, পীর-দরবেশসহ সকল মৃত মুসলমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা, তাদের জন্য দুআ করা। এ মাহফিলে জীবিত-মৃত আউলিয়া-বুজুর্গ, পীর-দরবেশ ও তাদের খাদেম ভক্তদের কেরামত বয়ান করা হয়। ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে মানুষকে আয়োজক দরবারের দিকে আকৃষ্ট করা হয়। আল্লাহর কাছে এ দরবার ছাড়া আর কোন প্রিয় দরবার যে নেই এটা জোর-জবরদস্তি করে বুঝানো হয় সাধারণ মানুষকে। মীলাদ পড়া হয়। দরবারে অবস্থিত মাদরাসা, মসজিদ ও খানকাহর জন্য চাঁদা তোলা হয়। সর্বশেষে, আখেরি মুনাজাত ও তাবারুকের ব্যবস্থা থাকে। শুধু তাই নয় এরা যে গান বাজনার আসর বসায়, গানের মাহফিলে নর্তন-কুন্দন, নাচতে নাচতে অজ্ঞান হয়ে যায়, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে দুনিয়ার কেউ প্রমাণ করতে পারবে না রাসুলুল্লাহ বা সাহাবীদের জামানায় এমন কিছু ছিল। অতএব নিসন্দেহে এসব বিদ'আত এবং সম্পূর্ণ বিদ'আতী কাজ। অতএব, ইসলাম শরীয়ত এ কাজ সমর্থন করে না। কারো আনুগত্য করা যাবে না যদি সে আল্লাহর শরীয়াতের বিপরীতে কোন হুকুম করে। রসূলুল্লাহ বলেছেন,
إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ
অর্থাৎ আনুগত্য কেবল সৎ কাজে। ২৩৪ এ হাদীস থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, শরীয়াতের বিরুদ্ধে কারো হুকুমের আনুগত্য করা যাবে না। বর্তমানে পীর-মুরিদীর যে সিলসিলা দেখা যাচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ নতুন ও মনগড়াভাবে উদ্ভাবিত। এটা রসূলুল্লাহ এর যুগে ছিল না, তিনি কখনো পীর-মুরিদি করেননি। তিনি নিজে বর্তমান অর্থে না ছিলেন পীর আর না ছিল তাঁর কোন মুরিদ। সাহাবায়ে কেরামও কখনো এই পীর-মুরিদী করেননি। তাঁদের কেউ কারো পীর ছিলেন না এবং তাদের মুরিদও কেউ ছিল না। তাবেয়ীন ও তাবে তবেয়ীনের যুগেও এ পীর-মুরিদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ বর্তমানকালের এক শ্রেণীর পীর নামে কথিত জাহেল লোক ও তাদের ততোধিক জাহেলী মুরিদ এ পীর-মুরিদীকে ইসলামের অন্যতম ভিত্তিগত জিনিস বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। আর এর মাধ্যমে অজ্ঞ লোকদেরকে মুরিদ বানিয়ে এক একটি বড় আকারের বিনা পুঁজির ব্যবসায় সাজিয়ে বসেছে।
এ ক্ষেত্রে করণীয়: কেউ যদি ওসীলা নিতে চায় তবে যেসব ওসীলা কুরআন ও সুন্নাহতে রয়েছে বা যেসব বিষয়ের ওসীলা নেয়া জায়েয আছে সেসব বিষয়ের ওসীলা নিতে হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর ওসীলা তালাশ করো এবং তাঁর পথে জিহাদ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। ২৩৫
উপরোক্ত আয়াত থেকে জানা যায় যে, ওসীলা তালাশ করা শুধু জায়েয নয় বরং আল্লাহর নির্দেশ। কিন্তু প্রশ্ন থাকল যে, সেই ওসীলা কী জিনিস? উত্তর হলো - ওসীলা হচ্ছে নেক আমল। ব্যক্তি যে কোন নেক আমল করে আল্লাহর কাছে ওসীলা নিতে পারে। এছাড়াও আল্লাহ তা'আলার গুণবাচক নামের ওসীলা নিয়ে তাঁর কাছে চাওয়া যায় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়। যেমন বনী ইসরাঈলের তিন ব্যক্তি বিপদে পড়ে তারা নিজেদের নেক আমলের ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।
ইবনে উমর কর্তৃক নবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিন ব্যক্তি (ঘর থেকে) বের হয়ে রাস্তা চলতে থাকাকালে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে তারা একটি পাহাড়ের গর্তে প্রবেশ করল। (এ সময়) উপর থেকে একটি বড় পাথর পড়ে গর্তের মুখ আঁটকে গেল। রসূলুল্লাহ বলেন, তখন তারা একজন অন্যজনকে বলল, তোমাদের সর্বোৎकृष्ट আমলের কথা বলে (পাথর দূর হওয়ার জন্য) আল্লাহর নিকটে দু'আ করো। সুতরাং, যে কোন নেক আমলের ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করা যায় বা কিছু চাওয়া যায়। কিন্তু মাযার, পীর, ফকীর অথবা কোন ওলীর ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে চাওয়া ইসলামে জায়েয নেই। এটা হলো শিরক। প্রত্যেক মুসলিমকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। কারণ মুশরিক অবস্থায় কেউ মারা গেলে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদের এসব বিদ'আতী কাজ থেকে হেফাযতে রাখুন, আমীন।

টিকাঃ
২৩৪ সহীহ মুসলিম, হাঃ ৪৮৭২; সহীহ বুখারী, হাঃ ৪৬১৫。
২৩৫ সূরা মায়েদা: ৩৫

নিকৃষ্ট বিদ'আতের সর্ব উৎকৃষ্ট উদাহরণটি হল - তথাকথিত পীর ব্যবসায়। কারন এদের কিছু কিছু কাজ বিদ'আত তো বটেই সরাসরি শিরক এর পর্যায়ে পড়ে। যেমন এরা নিজেরাই কিছু সামা সঙ্গীত, গজল, যিকির ইত্যাদি তৈরি করে যার কথাগুলো পুরাপুরি শিরক। আবার এরা মাজারে গিয়ে দোয়া প্রার্থনা করে এসবও শিরক। তাসাউফ অর্জন এর নাম করেও এরা দ্বীনের ভেতর নতুন জিনিসের উদ্ভাবন করেছে। যেমন: আম্বিয়া, আউলিয়া, পীর-দরবেশসহ সকল মৃত মুসলমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা, তাদের জন্য দুআ করা। এ মাহফিলে জীবিত-মৃত আউলিয়া-বুজুর্গ, পীর-দরবেশ ও তাদের খাদেম ভক্তদের কেরামত বয়ান করা হয়। ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে মানুষকে আয়োজক দরবারের দিকে আকৃষ্ট করা হয়। আল্লাহর কাছে এ দরবার ছাড়া আর কোন প্রিয় দরবার যে নেই এটা জোর-জবরদস্তি করে বুঝানো হয় সাধারণ মানুষকে। মীলাদ পড়া হয়। দরবারে অবস্থিত মাদরাসা, মসজিদ ও খানকাহর জন্য চাঁদা তোলা হয়। সর্বশেষে, আখেরি মুনাজাত ও তাবারুকের ব্যবস্থা থাকে। শুধু তাই নয় এরা যে গান বাজনার আসর বসায়, গানের মাহফিলে নর্তন-কুন্দন, নাচতে নাচতে অজ্ঞান হয়ে যায়, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে দুনিয়ার কেউ প্রমাণ করতে পারবে না রাসুলুল্লাহ বা সাহাবীদের জামানায় এমন কিছু ছিল। অতএব নিসন্দেহে এসব বিদ'আত এবং সম্পূর্ণ বিদ'আতী কাজ। অতএব, ইসলাম শরীয়ত এ কাজ সমর্থন করে না। কারো আনুগত্য করা যাবে না যদি সে আল্লাহর শরীয়াতের বিপরীতে কোন হুকুম করে। রসূলুল্লাহ বলেছেন,
إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ
অর্থাৎ আনুগত্য কেবল সৎ কাজে। ২৩৪ এ হাদীস থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, শরীয়াতের বিরুদ্ধে কারো হুকুমের আনুগত্য করা যাবে না। বর্তমানে পীর-মুরিদীর যে সিলসিলা দেখা যাচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ নতুন ও মনগড়াভাবে উদ্ভাবিত। এটা রসূলুল্লাহ এর যুগে ছিল না, তিনি কখনো পীর-মুরিদি করেননি। তিনি নিজে বর্তমান অর্থে না ছিলেন পীর আর না ছিল তাঁর কোন মুরিদ। সাহাবায়ে কেরামও কখনো এই পীর-মুরিদী করেননি। তাঁদের কেউ কারো পীর ছিলেন না এবং তাদের মুরিদও কেউ ছিল না। তাবেয়ীন ও তাবে তবেয়ীনের যুগেও এ পীর-মুরিদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ বর্তমানকালের এক শ্রেণীর পীর নামে কথিত জাহেল লোক ও তাদের ততোধিক জাহেলী মুরিদ এ পীর-মুরিদীকে ইসলামের অন্যতম ভিত্তিগত জিনিস বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। আর এর মাধ্যমে অজ্ঞ লোকদেরকে মুরিদ বানিয়ে এক একটি বড় আকারের বিনা পুঁজির ব্যবসায় সাজিয়ে বসেছে।
এ ক্ষেত্রে করণীয়: কেউ যদি ওসীলা নিতে চায় তবে যেসব ওসীলা কুরআন ও সুন্নাহতে রয়েছে বা যেসব বিষয়ের ওসীলা নেয়া জায়েয আছে সেসব বিষয়ের ওসীলা নিতে হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর ওসীলা তালাশ করো এবং তাঁর পথে জিহাদ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। ২৩৫
উপরোক্ত আয়াত থেকে জানা যায় যে, ওসীলা তালাশ করা শুধু জায়েয নয় বরং আল্লাহর নির্দেশ। কিন্তু প্রশ্ন থাকল যে, সেই ওসীলা কী জিনিস? উত্তর হলো - ওসীলা হচ্ছে নেক আমল। ব্যক্তি যে কোন নেক আমল করে আল্লাহর কাছে ওসীলা নিতে পারে। এছাড়াও আল্লাহ তা'আলার গুণবাচক নামের ওসীলা নিয়ে তাঁর কাছে চাওয়া যায় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়। যেমন বনী ইসরাঈলের তিন ব্যক্তি বিপদে পড়ে তারা নিজেদের নেক আমলের ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।
ইবনে উমর কর্তৃক নবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিন ব্যক্তি (ঘর থেকে) বের হয়ে রাস্তা চলতে থাকাকালে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে তারা একটি পাহাড়ের গর্তে প্রবেশ করল। (এ সময়) উপর থেকে একটি বড় পাথর পড়ে গর্তের মুখ আঁটকে গেল। রসূলুল্লাহ বলেন, তখন তারা একজন অন্যজনকে বলল, তোমাদের সর্বোৎकृष्ट আমলের কথা বলে (পাথর দূর হওয়ার জন্য) আল্লাহর নিকটে দু'আ করো। সুতরাং, যে কোন নেক আমলের ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করা যায় বা কিছু চাওয়া যায়। কিন্তু মাযার, পীর, ফকীর অথবা কোন ওলীর ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে চাওয়া ইসলামে জায়েয নেই। এটা হলো শিরক। প্রত্যেক মুসলিমকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। কারণ মুশরিক অবস্থায় কেউ মারা গেলে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদের এসব বিদ'আতী কাজ থেকে হেফাযতে রাখুন, আমীন।

টিকাঃ
২৩৪ সহীহ মুসলিম, হাঃ ৪৮৭২; সহীহ বুখারী, হাঃ ৪৬১৫。
২৩৫ সূরা মায়েদা: ৩৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00