📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 ফরয নামাযের পরে সম্মিলিত মুনাজাত : একটি প্রচলিত বিদ‘আত

📄 ফরয নামাযের পরে সম্মিলিত মুনাজাত : একটি প্রচলিত বিদ‘আত


পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের জাম'আত শেষে ইমাম কর্তৃক সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে মুনাজাত করা বিদ'আত। মুহাম্মাদ এর জীবনে অনেক ফরয সালাত আদায় করেছেন। কিন্তু এ বিরাট সংখ্যক ফরয সালাতের কোন একটির পরও সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দু'আ করেছেন এমন কোন বর্ণনা কোন হাদীসে নেই।
এ দু'আ সম্পর্কে শ্রেষ্ঠ আলেমগণের অভিমত: (১) শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়াহ কে ফরয নামাযের পর ইমাম-মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে দ"আ করা জায়েয কি-না এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, সালাতের পর ইমাম-মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে দু'আ করা বিদ'আত। রসূলুল্লাহ এর যুগে এরূপ দু'আ ছিল না। বরং তাঁর দু'আ ছিল নামাযের মধ্যে। কারণ নামাযের মধ্যে মুসল্লী স্বীয় প্রতিপালকের সাথে নীরবে কথা বলে। আর নীরবে কথা বলার সময় দু'আ করা যথাযথ। ২১১
(২) শাইখ আবদুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত ও নফল সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু'আ করা স্পষ্ট বিদ'আত। কারণ এরূপ দু'আ রসূলুল্লাহ এর যুগে এবং তাঁর সাহাবীদের যুগেও ছিল না। যে ব্যক্তি ফরয সালাতের পর অথবা নফল সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু'আ করে, সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের বিরোধিতা করে। ২১২
(৩) শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমিন বলেন, সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু'আ করা এমন বিদ'আত, যার প্রমাণ রসূলুল্লাহ ও তার সাহাবীগণ থেকেও নেই। মুসল্লীদের জন্য বিধান হচ্ছে প্রত্যেক মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যিকির করবে। ২১৩ প্রকাশ থাকে যে, কোন কোন আলেম ফরয নামাযান্তে হাত উঠিয়ে দু'আ করার পক্ষে মতামত দিলেও বিষয়টি বিতর্কিত নয়। সিদ্ধান্তহীনতার ফলে অথবা স্বার্থান্বেষী হয়ে বিষয়টিকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। কারণ এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, রসূলুল্লাহ এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণ ইমাম-মুক্তাদী মিলে হাত উঠিয়ে দু'আ করেননি এবং পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় আলেমগণও করেননি এবং বর্তমানেও করেন না। কাজেই এটি স্পষ্ট বিদ'আত।

টিকাঃ
২১১ মাজমূআ ফাতাওয়া ২২/৫১৯。
২১২ হায়াতু কিবারিল ওলামা ১/২৪৪。
২১৩ ফাতাওয়া ওয়ায়মীন, পৃ: ১২০。

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের জাম'আত শেষে ইমাম কর্তৃক সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে মুনাজাত করা বিদ'আত। মুহাম্মাদ এর জীবনে অনেক ফরয সালাত আদায় করেছেন। কিন্তু এ বিরাট সংখ্যক ফরয সালাতের কোন একটির পরও সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দু'আ করেছেন এমন কোন বর্ণনা কোন হাদীসে নেই।
এ দু'আ সম্পর্কে শ্রেষ্ঠ আলেমগণের অভিমত: (১) শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়াহ কে ফরয নামাযের পর ইমাম-মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে দ"আ করা জায়েয কি-না এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, সালাতের পর ইমাম-মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে দু'আ করা বিদ'আত। রসূলুল্লাহ এর যুগে এরূপ দু'আ ছিল না। বরং তাঁর দু'আ ছিল নামাযের মধ্যে। কারণ নামাযের মধ্যে মুসল্লী স্বীয় প্রতিপালকের সাথে নীরবে কথা বলে। আর নীরবে কথা বলার সময় দু'আ করা যথাযথ। ২১১
(২) শাইখ আবদুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত ও নফল সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু'আ করা স্পষ্ট বিদ'আত। কারণ এরূপ দু'আ রসূলুল্লাহ এর যুগে এবং তাঁর সাহাবীদের যুগেও ছিল না। যে ব্যক্তি ফরয সালাতের পর অথবা নফল সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু'আ করে, সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের বিরোধিতা করে। ২১২
(৩) শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমিন বলেন, সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু'আ করা এমন বিদ'আত, যার প্রমাণ রসূলুল্লাহ ও তার সাহাবীগণ থেকেও নেই। মুসল্লীদের জন্য বিধান হচ্ছে প্রত্যেক মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যিকির করবে। ২১৩ প্রকাশ থাকে যে, কোন কোন আলেম ফরয নামাযান্তে হাত উঠিয়ে দু'আ করার পক্ষে মতামত দিলেও বিষয়টি বিতর্কিত নয়। সিদ্ধান্তহীনতার ফলে অথবা স্বার্থান্বেষী হয়ে বিষয়টিকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। কারণ এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, রসূলুল্লাহ এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণ ইমাম-মুক্তাদী মিলে হাত উঠিয়ে দু'আ করেননি এবং পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় আলেমগণও করেননি এবং বর্তমানেও করেন না। কাজেই এটি স্পষ্ট বিদ'আত।

টিকাঃ
২১১ মাজমূআ ফাতাওয়া ২২/৫১৯。
২১২ হায়াতু কিবারিল ওলামা ১/২৪৪。
২১৩ ফাতাওয়া ওয়ায়মীন, পৃ: ১২০。

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 ফরয নামাযের পর করণীয়

📄 ফরয নামাযের পর করণীয়


প্রকৃতপক্ষে জামা'আত শেষে সুন্নাত হলো- নিজে নিজে ঐসব দু'আ পড়া, যা রসূলুল্লাহ নামাযের সালাম ফেরানোর পর পড়ার জন্য শিক্ষা দিয়েছেন। ফরয নামাযসমূহের পর নবী যেসব তাসবীহ, হামদ, তাকবীর, তাহলীল, ইস্তেগফার, সূরা ও প্রাণ জুড়ানো যেসব অনুপম কালেমা ও দু'আ পাঠ করেছেন তা-ই হচ্ছে উম্মতের জন্য অনুসরণীয় সুন্নাত ও আদর্শ। নবী বলেছেন:
وَمَنْ أَحْيَا سُنَّتِي فَقَدْ أَحَبَّنِي. وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে ভালোবাসল সে তো আমাকেই ভালোবাসল। আর যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসল সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। ২১৪ ফরয নামাযের সালাম ফিরানোর পর নবী নিজে যেসব দু'আ পাঠ করতেন তা হাদীসের সকল কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। সেই দু'আগুলো বাদ দিয়ে প্রচলিত মুনাজাত করার কারণে অনেকেই ঐ দু'আগুলো শিখেন না বা আমল করেন না। এজন্য উচিত হলো হাদীসে বর্ণিত ঐ দু'আগুলো সালাম ফিরানোর পর এককভাবে পাঠ করা। দু'আগুলো নিম্নরূপঃ
(১) একবার اللهُ اَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার) বলাঃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : كُنْتُ أَعْرِفُ انْقِضَاءَ صَلَاةِ النَّبِيِّ بِالتَّكْبِيرِ
ইবনে আব্বাস বলেন, আমি তাকবীর শুনে বুঝতাম যে, নবী এর নামায শেষ হয়েছে। ২১৫
(২) তিনবার এ দু'আ পাঠ করা :
اسْتَغْفِرُ اللهَ اسْتَغْفِرُ اللهَ اسْتَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লা-হ, আসতাগফিরুল্লা-হ, আসতাগফিরুল্লা-হ।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
(৩) একবার এ দু'আটি পাঠ করা:
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَاذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতাস্ সালা-ম, ওয়ামিনকাস্ সালা-ম, তাবা-রাকতা ইয়া-যাল্যালা-লি ওয়াল ইকরা-ম।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি শান্তি, আপনার থেকেই শান্তি আসে। হে সম্মান ও মহত্ত্বের অধিকারী! আপনি বরকতময়।
হাদীসটি নিম্নরূপঃ
عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلَاتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلَاثًا وَقَالَ : اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ . قَالَ الْوَلِيدُ فَقُلْتُ لِلْأَوْزَاعِي كَيْفَ الْإِسْتِغْفَارُ قَالَ تَقُوْلُ اسْتَغْفِرُ اللَّهَ اسْتَغْفِرُ اللَّهَ
সাওবান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ নামায শেষ করে তিনবার ইসতিগফার করতেন এবং আল্লা-হুম্মা আনতাস সালাম .... এ দু'আ পাঠ করতেন। বর্ণনাকারী ওয়ালীদ বলেন - আমি আওযা'ঈকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কীভাবে ইস্তিগফার করতেন? তিনি বললেন, তিনি বলতেন- 'আস্তাগফিরুল্লা-হ, আস্তাগফিরুল্লা-হ'। ২১৬
(৪) একবার দু'আ পাঠ করা: দুআটি নিম্নে আলোচনা করা হলো:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَةً لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ - لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ ، لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ
উচ্চারণ: লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা - শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া 'আলা কুলি - শায়ইন ক্বাদীর, লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ্, ওয়ালা না'বুদু ইল্লা ইয়্যা-হ, লাহুন্নি'মাতু ওয়ালাহুল ফালু ওয়ালাহুস্ সানা-উলহাসান, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু মুখলিসীনা লাহুদ্দীন, ওয়ালাও কারিহাল কা-ফিরূন।
আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর জন্য, প্রশংসাও তাঁর জন্য। তিনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি ব্যতীত কোন শক্তি নেই। আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মাবুদ নেই। আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদাত করি না। সকল নিয়ামত ও অনুগ্রহ তাঁরই। সকল সুন্দর প্রশংসা তাঁর জন্যই। তিনি ব্যতীত আর কোন মাবুদ নেই। আমরা একমাত্র তাঁরই জন্য দ্বীনকে নির্ধারিত করেছি, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। হাদীসটি নিম্নরূপঃ
عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ قَالَ كَانَ ابْنُ الزُّبَيْرِ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ حِينَ يُسَلِّمُ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَةً .... وَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُهَلِّلُ بِهِنَّ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ
আবু যুবায়ের থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের প্রত্যেক ওয়াক্তের সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতেন, “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহ্ । ....। তিনি (ইবনে যুবায়ের) বলেছেন, রসূলুল্লাহ প্রত্যেক ওয়াক্তের সালাতের পর কথাগুলো বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। ২১৭
(৫) একবার এ দু'আ পাঠ করা:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ -
اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
উচ্চারণ: লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়া হুওয়া 'আলা কুলি- শায়ইন ক্বাদীর। আল্লা-হুম্মা লা মা- নি'আ লিমা আ'ত্বাইতা, ওয়ালা মু'ত্বিয়া লিমা মানা'তা, ওয়ালা-ইয়ানফা'উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু। আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ (মাবুদ) নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই। সমস্ত প্রশংসা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট, তিনি সবকিছুর ব্যাপারেই ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তা বাধা দেয়ার কেউ নেই এবং যা তুমি বাধা দাও তা দেয়ার কেউ নেই। আর তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রচেষ্টাকারীর প্রচেষ্টারও কোন মূল্য নেই।
এ সংক্রান্ত হাদীসটি হলোঃ
عَنْ وَرَادٍ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ أَمْلَى عَلَيَّ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فِي كِتَابٍ إِلى مُعَاوِيَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَا إِلَهَ إِلَّا الله ........
মুগীরা ইবনে শু'বার কাতিব (সেক্রেটারী) ওয়ারাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরা ইবনে শু'বা আমাকে দিয়ে মু'আবিয়াকে এ ব্যাপারে একটি চিঠি লিখালেন যে, নবী ﷺ প্রত্যেক ফরয নামাযের পর উক্ত দু'আ পাঠ করতেন। ২১৮
(৬) একবার এ দু'আ পাঠ করাঃ
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আ'ইন্নী 'আলা-যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়াহুসনি 'ইবা- দাতিক। অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার যিকির করা, শুকরিয়া আদায় করা ও উত্তম ইবাদাত করার ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করো।
এ সংক্রান্ত হাদীসটি হলোঃ
মু'আয বলেন, নবী ﷺ আমার হাত ধরে বললেন,
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَخَذَ بِيَدِهِ وَقَالَ : يَا مُعَاذُ وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكَ وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكَ. فَقَالَ : أُوْصِيْكَ يَا مُعَادُ لَا تَدَعَنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ تَقُولُ : اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
হে মু'আয! আমি তোমাকে খুবই ভালোবাসি। তখন মু'আয বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমিও আপনাকে ভালোবাসি। এরপর নবী বললেন, তুমি প্রত্যেক নামাযের পর এ দু'আটি পাঠ করা ছেড়ে দিও না। ২১৯
(৭) ৩৩ বার سُبْحَانَ اللَّهِ (সুবহানাল্লাহ), ৩৩ বার الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহামদু লিল্লাহ), ৩৩ বার اَللهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার) এবং একবার-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَةً لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ : লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহ্ লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া 'আলা- কুল্লি শায়ইন্ ক্বাদীর। আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তার কোন শরীক নেই। সমস্ত রাজত্ব তার জন্য এবং সমস্ত প্রশংসাও তার জন্য। আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। -
এ সংক্রান্ত হাদীসটি হলোঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ مَنْ سَبَّحَ اللهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَحَمِدَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَكَبَّرَ اللهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ فَتِلْكَ تِسْعَةً وَتِسْعُونَ وَقَالَ تَمَامَ الْمِائَةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَةً لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ
আবু হুরায়রা রসূলুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর ৩৩ বার سُبْحَانَ اللهِ (সুবহানাল্লাহ), ৩৩ বার الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহামদু লিল্লাহ) ও ৩৩ বার اللهُ اَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার) এবং একবার - লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু .... এ দু'আটি পড়ে একশ'বার পূর্ণ করবে, তার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে - যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো বেশি হয়। ২২০
(৮) একবার আয়াতুল কুরসী পাঠ করা:
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ)
আল্লাহ তিনি, যিনি ব্যতীত কোন (প্রকৃত) উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক। তন্দ্রা এবং নিদ্রা কিছুই তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পেছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন ততটুকু ছাড়া তাঁর জ্ঞানসমূদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না। তার সিংহাসন আসমান ও জমিনকে বেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে মোটেই ক্লান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও সর্বাপেক্ষা মহান। ২২১ এ সংক্রান্ত হাদীসটি হলোঃ
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَمْنَعُهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا أَنْ يَمُوْتَ
আবু উমামা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে মৃত্যু ছাড়া তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে বাঁধা প্রদান করার মতো কোন কিছু থাকবে না। ২২২

টিকাঃ
২১৪ তিরমিযী, হাঃ ২৮৯৪。
২১৫ সহীহ বুখারী, হা: ৮৪২; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ১৯৩৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা: ১৭০৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ২২৩২。
২১৬ সহীহ মুসলিম, হাঃ ১৩৬২; নাসাঈ, হাঃ ১৩৩৭。
২১৭ সহীহ মুসলিম, হাঃ ১৩৭১; আবু দাউদ, হাঃ ১৫০৮; নাসাঈ, হাঃ ১৩৩৯; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ১৬১৫০。
২১৮ সহীহ বুখারী, হাঃ ৮৪৪; সহীহ মুসলিম, হাঃ ১৩৬৬; আবু দাউদ, হাঃ ১৫০৭; সুনানে নাসাঈ, হাঃ ১৩৪১。
২১৯ আবু দাউদ, হাঃ ১৫২৪; নাসাঈ, হা: ১৩০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা: ২২১৭২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাঃ ৭৫১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ২০২০; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা: ১০১০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হাঃ ১৫৯৬。
২২০ সহীহ মুসলিম, হাঃ ১৩৮০; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৮৮২০; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ২০১৬; সিলসিলাহ সহীহাহ,
২২১ সূরা বাক্বারা: ২৫৫
২২২ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হাঃ ৯৮৪৮; মু'জামুল কাবীর লিত ত্বাবারানী, হা: ৭৪০৮; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হাঃ ১৫৯৫

প্রকৃতপক্ষে জামা'আত শেষে সুন্নাত হলো- নিজে নিজে ঐসব দু'আ পড়া, যা রসূলুল্লাহ নামাযের সালাম ফেরানোর পর পড়ার জন্য শিক্ষা দিয়েছেন। ফরয নামাযসমূহের পর নবী যেসব তাসবীহ, হামদ, তাকবীর, তাহলীল, ইস্তেগফার, সূরা ও প্রাণ জুড়ানো যেসব অনুপম কালেমা ও দু'আ পাঠ করেছেন তা-ই হচ্ছে উম্মতের জন্য অনুসরণীয় সুন্নাত ও আদর্শ। নবী বলেছেন:
وَمَنْ أَحْيَا سُنَّتِي فَقَدْ أَحَبَّنِي. وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে ভালোবাসল সে তো আমাকেই ভালোবাসল। আর যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসল সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। ২১৪ ফরয নামাযের সালাম ফিরানোর পর নবী নিজে যেসব দু'আ পাঠ করতেন তা হাদীসের সকল কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। সেই দু'আগুলো বাদ দিয়ে প্রচলিত মুনাজাত করার কারণে অনেকেই ঐ দু'আগুলো শিখেন না বা আমল করেন না। এজন্য উচিত হলো হাদীসে বর্ণিত ঐ দু'আগুলো সালাম ফিরানোর পর এককভাবে পাঠ করা। দু'আগুলো নিম্নরূপঃ
(১) একবার اللهُ اَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার) বলাঃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : كُنْتُ أَعْرِفُ انْقِضَاءَ صَلَاةِ النَّبِيِّ بِالتَّكْبِيرِ
ইবনে আব্বাস বলেন, আমি তাকবীর শুনে বুঝতাম যে, নবী এর নামায শেষ হয়েছে। ২১৫
(২) তিনবার এ দু'আ পাঠ করা :
اسْتَغْفِرُ اللهَ اسْتَغْفِرُ اللهَ اسْتَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লা-হ, আসতাগফিরুল্লা-হ, আসতাগফিরুল্লা-হ।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
(৩) একবার এ দু'আটি পাঠ করা:
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَاذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতাস্ সালা-ম, ওয়ামিনকাস্ সালা-ম, তাবা-রাকতা ইয়া-যাল্যালা-লি ওয়াল ইকরা-ম।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি শান্তি, আপনার থেকেই শান্তি আসে। হে সম্মান ও মহত্ত্বের অধিকারী! আপনি বরকতময়।
হাদীসটি নিম্নরূপঃ
عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلَاتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلَاثًا وَقَالَ : اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ . قَالَ الْوَلِيدُ فَقُلْتُ لِلْأَوْزَاعِي كَيْفَ الْإِسْتِغْفَارُ قَالَ تَقُوْلُ اسْتَغْفِرُ اللَّهَ اسْتَغْفِرُ اللَّهَ
সাওবান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ নামায শেষ করে তিনবার ইসতিগফার করতেন এবং আল্লা-হুম্মা আনতাস সালাম .... এ দু'আ পাঠ করতেন। বর্ণনাকারী ওয়ালীদ বলেন - আমি আওযা'ঈকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কীভাবে ইস্তিগফার করতেন? তিনি বললেন, তিনি বলতেন- 'আস্তাগফিরুল্লা-হ, আস্তাগফিরুল্লা-হ'। ২১৬
(৪) একবার দু'আ পাঠ করা: দুআটি নিম্নে আলোচনা করা হলো:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَةً لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ - لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ ، لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ
উচ্চারণ: লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা - শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া 'আলা কুলি - শায়ইন ক্বাদীর, লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ্, ওয়ালা না'বুদু ইল্লা ইয়্যা-হ, লাহুন্নি'মাতু ওয়ালাহুল ফালু ওয়ালাহুস্ সানা-উলহাসান, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু মুখলিসীনা লাহুদ্দীন, ওয়ালাও কারিহাল কা-ফিরূন।
আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর জন্য, প্রশংসাও তাঁর জন্য। তিনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি ব্যতীত কোন শক্তি নেই। আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মাবুদ নেই। আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদাত করি না। সকল নিয়ামত ও অনুগ্রহ তাঁরই। সকল সুন্দর প্রশংসা তাঁর জন্যই। তিনি ব্যতীত আর কোন মাবুদ নেই। আমরা একমাত্র তাঁরই জন্য দ্বীনকে নির্ধারিত করেছি, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। হাদীসটি নিম্নরূপঃ
عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ قَالَ كَانَ ابْنُ الزُّبَيْرِ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ حِينَ يُسَلِّمُ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَةً .... وَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُهَلِّلُ بِهِنَّ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ
আবু যুবায়ের থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের প্রত্যেক ওয়াক্তের সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতেন, “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহ্ । ....। তিনি (ইবনে যুবায়ের) বলেছেন, রসূলুল্লাহ প্রত্যেক ওয়াক্তের সালাতের পর কথাগুলো বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। ২১৭
(৫) একবার এ দু'আ পাঠ করা:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ -
اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
উচ্চারণ: লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়া হুওয়া 'আলা কুলি- শায়ইন ক্বাদীর। আল্লা-হুম্মা লা মা- নি'আ লিমা আ'ত্বাইতা, ওয়ালা মু'ত্বিয়া লিমা মানা'তা, ওয়ালা-ইয়ানফা'উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু। আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ (মাবুদ) নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই। সমস্ত প্রশংসা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট, তিনি সবকিছুর ব্যাপারেই ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তা বাধা দেয়ার কেউ নেই এবং যা তুমি বাধা দাও তা দেয়ার কেউ নেই। আর তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রচেষ্টাকারীর প্রচেষ্টারও কোন মূল্য নেই।
এ সংক্রান্ত হাদীসটি হলোঃ
عَنْ وَرَادٍ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ أَمْلَى عَلَيَّ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فِي كِتَابٍ إِلى مُعَاوِيَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَا إِلَهَ إِلَّا الله ........
মুগীরা ইবনে শু'বার কাতিব (সেক্রেটারী) ওয়ারাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরা ইবনে শু'বা আমাকে দিয়ে মু'আবিয়াকে এ ব্যাপারে একটি চিঠি লিখালেন যে, নবী ﷺ প্রত্যেক ফরয নামাযের পর উক্ত দু'আ পাঠ করতেন। ২১৮
(৬) একবার এ দু'আ পাঠ করাঃ
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আ'ইন্নী 'আলা-যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়াহুসনি 'ইবা- দাতিক। অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার যিকির করা, শুকরিয়া আদায় করা ও উত্তম ইবাদাত করার ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করো।
এ সংক্রান্ত হাদীসটি হলোঃ
মু'আয বলেন, নবী ﷺ আমার হাত ধরে বললেন,
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَخَذَ بِيَدِهِ وَقَالَ : يَا مُعَاذُ وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكَ وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكَ. فَقَالَ : أُوْصِيْكَ يَا مُعَادُ لَا تَدَعَنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ تَقُولُ : اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
হে মু'আয! আমি তোমাকে খুবই ভালোবাসি। তখন মু'আয বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমিও আপনাকে ভালোবাসি। এরপর নবী বললেন, তুমি প্রত্যেক নামাযের পর এ দু'আটি পাঠ করা ছেড়ে দিও না। ২১৯
(৭) ৩৩ বার سُبْحَانَ اللَّهِ (সুবহানাল্লাহ), ৩৩ বার الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহামদু লিল্লাহ), ৩৩ বার اَللهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার) এবং একবার-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَةً لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ : লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহ্ লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া 'আলা- কুল্লি শায়ইন্ ক্বাদীর। আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তার কোন শরীক নেই। সমস্ত রাজত্ব তার জন্য এবং সমস্ত প্রশংসাও তার জন্য। আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। -
এ সংক্রান্ত হাদীসটি হলোঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ مَنْ سَبَّحَ اللهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَحَمِدَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَكَبَّرَ اللهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ فَتِلْكَ تِسْعَةً وَتِسْعُونَ وَقَالَ تَمَامَ الْمِائَةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَةً لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ
আবু হুরায়রা রসূলুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর ৩৩ বার سُبْحَانَ اللهِ (সুবহানাল্লাহ), ৩৩ বার الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহামদু লিল্লাহ) ও ৩৩ বার اللهُ اَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার) এবং একবার - লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু .... এ দু'আটি পড়ে একশ'বার পূর্ণ করবে, তার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে - যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো বেশি হয়। ২২০
(৮) একবার আয়াতুল কুরসী পাঠ করা:
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ)
আল্লাহ তিনি, যিনি ব্যতীত কোন (প্রকৃত) উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক। তন্দ্রা এবং নিদ্রা কিছুই তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পেছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন ততটুকু ছাড়া তাঁর জ্ঞানসমূদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না। তার সিংহাসন আসমান ও জমিনকে বেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে মোটেই ক্লান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও সর্বাপেক্ষা মহান। ২২১ এ সংক্রান্ত হাদীসটি হলোঃ
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَمْنَعُهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا أَنْ يَمُوْتَ
আবু উমামা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে মৃত্যু ছাড়া তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে বাঁধা প্রদান করার মতো কোন কিছু থাকবে না। ২২২

টিকাঃ
২১৪ তিরমিযী, হাঃ ২৮৯৪。
২১৫ সহীহ বুখারী, হা: ৮৪২; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ১৯৩৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা: ১৭০৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ২২৩২。
২১৬ সহীহ মুসলিম, হাঃ ১৩৬২; নাসাঈ, হাঃ ১৩৩৭。
২১৭ সহীহ মুসলিম, হাঃ ১৩৭১; আবু দাউদ, হাঃ ১৫০৮; নাসাঈ, হাঃ ১৩৩৯; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ১৬১৫০。
২১৮ সহীহ বুখারী, হাঃ ৮৪৪; সহীহ মুসলিম, হাঃ ১৩৬৬; আবু দাউদ, হাঃ ১৫০৭; সুনানে নাসাঈ, হাঃ ১৩৪১。
২১৯ আবু দাউদ, হাঃ ১৫২৪; নাসাঈ, হা: ১৩০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা: ২২১৭২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাঃ ৭৫১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ২০২০; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা: ১০১০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হাঃ ১৫৯৬。
২২০ সহীহ মুসলিম, হাঃ ১৩৮০; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৮৮২০; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ২০১৬; সিলসিলাহ সহীহাহ,
২২১ সূরা বাক্বারা: ২৫৫
২২২ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হাঃ ৯৮৪৮; মু'জামুল কাবীর লিত ত্বাবারানী, হা: ৭৪০৮; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হাঃ ১৫৯৫

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 জায়নামাযের দু‘আ পড়া

📄 জায়নামাযের দু‘আ পড়া


নামায শুরু করার পূর্বে জায়নামাযে বা সালাতের জায়গায় দাঁড়িয়ে "ইন্নী ওয়াজ্জাহ্ ....." এ দু'আ পাঠ করা বিদ'আত। কারণ রসূলুল্লাহ নামায শুরু করার পূর্বে জায়নামাযে বা নামাযের জায়গায় দাঁড়িয়ে 'আল্লাহু আকবার' এ তাকবীর বলতেন। কিন্তু এর আগে কোন কিছু পড়েছেন বলে কোন হাদীসে প্রমাণিত নেই।
এ ক্ষেত্রে করণীয়
নামাযের শুরুতে যেটা করণীয় তা হলো প্রথমে মনে মনে নিয়ত করতে হবে। অর্থাৎ কোন্ ওয়াক্তের কোন্ নামায পড়বে তা মনে মনে স্থির করবে। তারপর তাকবীর দিয়ে হাত বাঁধবে। তারপর সানা পাঠ করবে। যে দু'আটি জায়নামাযের দু'আ হিসেবে পাঠ করা হয় সেটি মূলত কুরআনের একটি আয়াত। নবী এ দু'আর সাথে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ দু'আ একত্র করে তাকবীরে তাহরীমার পর সানা হিসেবে পাঠ করতেন। তাই তাকবীর বলার পূর্বে না পড়ে তাকবীর বলার পর সানা হিসেবে হাদীসে যেভাবে এসেছে সেভাবে দু'আটি পাঠ করতে হবে। আলী বলেন, নবী নামায শুরু করার সময় তাকবীর বলতেন এবং এ দু'আ পাঠ করতেন।
وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ ، قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ - اَللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ. أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِ وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ، لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ، أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থ: আমি একনিষ্ঠভাবে ঐ সত্তার দিকে মুখ ফিরালাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন; আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সলাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ সবই বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই। এসব কাজের জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি, আমি হলাম মুসলিমদের মধ্যে একজন। হে আল্লাহ! তুমিই মালিক, তুমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তুমি আমার রব এবং আমি তোমার দাস। আমি নিজের উপর অনেক অন্যায় করেছি এবং আমি আমার পাপের স্বীকৃতি দিচ্ছি। সুতরাং তুমি আমার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দাও। কারণ তুমি ছাড়া গোনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আর তুমি আমাকে সবচেয়ে উত্তম চরিত্র দান করো। কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ উত্তম চরিত্র দান করতে পারে না। আর তুমি আমাকে খারাপ চরিত্র থেকে বাঁচিয়ে রাখো। কেননা তুমি ছাড়া কেউ মন্দ চরিত্র থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে না। হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত। আমি তোমার সামনে হাযির। সকল কল্যাণ তোমারই হাতে। অমঙ্গল তোমার দিক থেকে নয়। আমি তোমার সাহায্যে তোমার দিকেই মনোনিবেশ করি। হে আল্লাহ! তুমি বরকতময় এবং মহান। আমি তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি এবং তোমার দিকে ফিরে আসি। ২০২

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 তাসবীহ পাঠ করতে তাসবীহ-মালা ব্যবহার করা কি বিদ‘আত

📄 তাসবীহ পাঠ করতে তাসবীহ-মালা ব্যবহার করা কি বিদ‘আত


সমাজে তাসবীহ দানা দিয়ে যিকির করার প্রচলন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ফরয সালাতের পর, হাটে-বাজারে, রাস্তায়, বাসে-ট্রেনে, অফিস- আদালতে সর্বত্র একশ্রেণীর মানুষকে তাসবীহ পাঠ করতে দেখা যায়। এতে যে রিয়া সৃষ্টি হয় তাতে কোন সন্দেহ নেই। অনেক মসজিদের কাতারে কাতারে রেখে দেয়া হয় কিংবা দেওয়ালে ও জালানায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। তাসবীহই যেন মূল ইবাদত। অথচ এর সহীহ কোন ভিত্তি নেই। উক্ত মর্মে যে সমস্ত বর্ণনা রয়েছে তার সবই জাল কিংবা যঈফ।
عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصَى تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ فَقَالَ سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللهُ أَكْبَرُ مِثْلُ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلُ ذَلِكَ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِثْلُ ذَلِكَ. وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةً إِلَّا بِاللَّهِ مِثلُ ذَلِكَ
আয়েশা বিনতে সা'দ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা রসূল - এর সাথে এক মহিলার নিকটে যান। তখন স্ত্রীলোকটির সম্মুখে কিছু খেজুরের বিচি অথবা কংকর ছিল, যার দ্বারা সে তাসবীহ পাঠ করছিল। রসূল বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কথা বলে দিব না, যা এটা অপেক্ষা অধিক সহজ বা উত্তম হবে? তা হচ্ছে - 'সুবহা-নাল্লাহ' অর্থাৎ, আল্লাহর পবিত্রতা যে পরিমাণ তিনি আসমানে মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, 'সুবহা-নাল্লাহ' যে পরিমাণ তিনি যমীনে মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, 'সুবহা-নাল্লাহ' যে পরিমাণ উভয়ের মাঝে রয়েছে এবং 'সুবহা-নাল্লাহ' যে পরিমাণ তিনি ভবিষ্যতে সৃষ্টি করবেন। 'আল্লাহু আকবার' তার অনুরূপ, 'আলহামদু লিল্লাহ' তার অনুরূপ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু' উহার অনুরূপ এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' অনুরূপ। ২২৩
তাহক্বীক্ব: যঈফ। উক্ত হাদীসের সনদে খুযায়মাহ ও সাঈদ ইবনু আবী হেলাল নামে দুইজন ত্রুটিপূর্ণ রাবী আছে। ২২৪ তাছাড়া এটি সহীহ হাদীসের বিরোধী। কারণ রসূল ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে তাসবীহ গণনা করতেন। ২২৫
উল্লেখ্য যে, ভারতীয় ছাপা তিরমিযীতে উক্ত অংশ নেই দ্রঃ ২/১৮৬ পৃষ্ঠা। যেমন - হাদীসে এসেছঃ
عَنْ عَلَى قَالَ قَالَ النَّبِيُّ نِعْمَ الْمُذَكِّرُ السُّبْحَةَ
আলী বলেন, রসূল বলেছেন, যে দানা দ্বারা যিকির করে সে কতইনা উত্তম!
তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি জাল। উক্ত বর্ণনার প্রত্যেক রাবীই ত্রুটিপূর্ণ। ২২৬
আলবানী বলেন,
إِنَّ السُّبْحَةَ بِدُعَةٌ لَّمْ تَكُنْ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا حَدَثَتْ بَعْدَهُ
'নিশ্চয় তাসবীহ দানা বিদ'আত। এটি রসূল -এর যুগে ছিল না। বরং তাঁর পরে সৃষ্টি হয়েছে'। ২২৭
এ বিষয়ে আরও একটি জাল হাদীস উল্লেখ করা যায়। যেমন -
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ كَانَ النَّبِيُّ يُسَبِّحُ بِالْحَصَى.
আবু হুরায়রাহ হতে বর্ণিত, নবী কংকর দ্বারা তাসবীহ গণনা করতেন। ২২৮
তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি জাল। এর সনদে কুদামা বিন মাযউন এবং সালেহ ইবনু আলী নামে অভিযুক্ত রাবী আছে। ২২৯
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, তাসবীহ দানা প্রসঙ্গে বহু আলেম একে বিদ'আত বলেছেন আর তা না হলেও তাসবীহ দানা ব্যবহার না করাই উত্তম। কারণ: মহানবী আঙ্গুল দ্বারা তাসবীহ গণনা করেছেন এবং বলেছেন,
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ هَانِي بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ حُمَيْضَةً بِنْتِ يَاسِرٍ، عَنْ يُسَيْرَةَ، أَخْبَرَتْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُنَّ أَنْ يُرَاعِينَ بالتَّكْبِيرِ وَالتَّقْدِيسِ وَالتَّهْلِيلِ وَأَنْ يَعْقِدُنَ بِالأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولَاتٌ مُسْتَنطَقَاتٌ.
"আঙ্গুলগুলোকে (তাঁর দ্বারা কৃত কর্মের ব্যপারে) জিজ্ঞাসা করা হবে, কথা বলানো হবে। ২৩০ সুতরাং কিয়ামতের দিন আঙ্গুলগুলো তাসবীহ পড়ার সাক্ষ্য দেবে, মালা সাক্ষ্য দেবে না। মালা ব্যবহার করে তাসবীহ পড়লে সাধারনতঃ মনোযোগ ও একাগ্রতা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। আঙ্গুল ব্যবহার করলে তা হয় না। তাসবীহ - মালা ব্যবহার লোক-দেখানি বা 'রিয়া' হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রং- বেরঙের মালা ও তাঁর খটখট শব্দ মানুষের দৃষ্টি ও মন আকর্ষণ করে। আর আমলে 'রিয়া' ঢুকলে সাওয়াবের জায়গায় শিরক ঘটে বসবে। বলা বাহুল্য, তাসবীহ-দানার চেয়ে আঙ্গুল ব্যবহার করাই শরীয়ত সম্মত।

টিকাঃ
২২৩ তিরমিযী হাঃ ৩৫৬৮, ২/১৯৭ পৃঃ ও হাঃ ৩৫৫৪; আবু দাউদ, হাঃ ১৫০০, ১/২১০ পৃঃ; মিশকাত হাঃ ২৩১১; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হাঃ ২২০৩
২২৪ যঈফ তিরমিযী হাঃ ৩৫৬৮, ২/১৯৭ পৃঃ, 'দু'আ সমূহ' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৩০; যঈফ আবুদাউদ হা : ১৫০০, ১/২১০ পৃঃ; যঈফ আত-তারগীব হাঃ ৯৫৯; সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ৮৩
২২৫ আবু দাউদ হাঃ ১৫০২, ১/২১০ পৃঃ; বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা হা/৩১৪৮; হহীহ ইবনে হিববান হাঃ ৮৪৩; তিরমিযী হাঃ ৩৪৮৬
২২৬ সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ৮৩
২২৭ সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ৮৩
২২৮ আবুল কাসেম জুরজানী, তারীখে জুরজান হাঃ ৬৮
২২৯ সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ১০০২
২৩০ আহমাদ, হাঃ ৬/৩৭১, আবূ দাউদ, হাঃ ১৫০১, তিরমিযী, হাঃ ৩৫৮৩

সমাজে তাসবীহ দানা দিয়ে যিকির করার প্রচলন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ফরয সালাতের পর, হাটে-বাজারে, রাস্তায়, বাসে-ট্রেনে, অফিস- আদালতে সর্বত্র একশ্রেণীর মানুষকে তাসবীহ পাঠ করতে দেখা যায়। এতে যে রিয়া সৃষ্টি হয় তাতে কোন সন্দেহ নেই। অনেক মসজিদের কাতারে কাতারে রেখে দেয়া হয় কিংবা দেওয়ালে ও জালানায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। তাসবীহই যেন মূল ইবাদত। অথচ এর সহীহ কোন ভিত্তি নেই। উক্ত মর্মে যে সমস্ত বর্ণনা রয়েছে তার সবই জাল কিংবা যঈফ।
عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصَى تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ فَقَالَ سُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللهُ أَكْبَرُ مِثْلُ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلُ ذَلِكَ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِثْلُ ذَلِكَ. وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةً إِلَّا بِاللَّهِ مِثلُ ذَلِكَ
আয়েশা বিনতে সা'দ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা রসূল - এর সাথে এক মহিলার নিকটে যান। তখন স্ত্রীলোকটির সম্মুখে কিছু খেজুরের বিচি অথবা কংকর ছিল, যার দ্বারা সে তাসবীহ পাঠ করছিল। রসূল বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কথা বলে দিব না, যা এটা অপেক্ষা অধিক সহজ বা উত্তম হবে? তা হচ্ছে - 'সুবহা-নাল্লাহ' অর্থাৎ, আল্লাহর পবিত্রতা যে পরিমাণ তিনি আসমানে মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, 'সুবহা-নাল্লাহ' যে পরিমাণ তিনি যমীনে মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, 'সুবহা-নাল্লাহ' যে পরিমাণ উভয়ের মাঝে রয়েছে এবং 'সুবহা-নাল্লাহ' যে পরিমাণ তিনি ভবিষ্যতে সৃষ্টি করবেন। 'আল্লাহু আকবার' তার অনুরূপ, 'আলহামদু লিল্লাহ' তার অনুরূপ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু' উহার অনুরূপ এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' অনুরূপ। ২২৩
তাহক্বীক্ব: যঈফ। উক্ত হাদীসের সনদে খুযায়মাহ ও সাঈদ ইবনু আবী হেলাল নামে দুইজন ত্রুটিপূর্ণ রাবী আছে। ২২৪ তাছাড়া এটি সহীহ হাদীসের বিরোধী। কারণ রসূল ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে তাসবীহ গণনা করতেন। ২২৫
উল্লেখ্য যে, ভারতীয় ছাপা তিরমিযীতে উক্ত অংশ নেই দ্রঃ ২/১৮৬ পৃষ্ঠা। যেমন - হাদীসে এসেছঃ
عَنْ عَلَى قَالَ قَالَ النَّبِيُّ نِعْمَ الْمُذَكِّرُ السُّبْحَةَ
আলী বলেন, রসূল বলেছেন, যে দানা দ্বারা যিকির করে সে কতইনা উত্তম!
তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি জাল। উক্ত বর্ণনার প্রত্যেক রাবীই ত্রুটিপূর্ণ। ২২৬
আলবানী বলেন,
إِنَّ السُّبْحَةَ بِدُعَةٌ لَّمْ تَكُنْ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا حَدَثَتْ بَعْدَهُ
'নিশ্চয় তাসবীহ দানা বিদ'আত। এটি রসূল -এর যুগে ছিল না। বরং তাঁর পরে সৃষ্টি হয়েছে'। ২২৭
এ বিষয়ে আরও একটি জাল হাদীস উল্লেখ করা যায়। যেমন -
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ كَانَ النَّبِيُّ يُسَبِّحُ بِالْحَصَى.
আবু হুরায়রাহ হতে বর্ণিত, নবী কংকর দ্বারা তাসবীহ গণনা করতেন। ২২৮
তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি জাল। এর সনদে কুদামা বিন মাযউন এবং সালেহ ইবনু আলী নামে অভিযুক্ত রাবী আছে। ২২৯
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, তাসবীহ দানা প্রসঙ্গে বহু আলেম একে বিদ'আত বলেছেন আর তা না হলেও তাসবীহ দানা ব্যবহার না করাই উত্তম। কারণ: মহানবী আঙ্গুল দ্বারা তাসবীহ গণনা করেছেন এবং বলেছেন,
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ هَانِي بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ حُمَيْضَةً بِنْتِ يَاسِرٍ، عَنْ يُسَيْرَةَ، أَخْبَرَتْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُنَّ أَنْ يُرَاعِينَ بالتَّكْبِيرِ وَالتَّقْدِيسِ وَالتَّهْلِيلِ وَأَنْ يَعْقِدُنَ بِالأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولَاتٌ مُسْتَنطَقَاتٌ.
"আঙ্গুলগুলোকে (তাঁর দ্বারা কৃত কর্মের ব্যপারে) জিজ্ঞাসা করা হবে, কথা বলানো হবে। ২৩০ সুতরাং কিয়ামতের দিন আঙ্গুলগুলো তাসবীহ পড়ার সাক্ষ্য দেবে, মালা সাক্ষ্য দেবে না। মালা ব্যবহার করে তাসবীহ পড়লে সাধারনতঃ মনোযোগ ও একাগ্রতা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। আঙ্গুল ব্যবহার করলে তা হয় না। তাসবীহ - মালা ব্যবহার লোক-দেখানি বা 'রিয়া' হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রং- বেরঙের মালা ও তাঁর খটখট শব্দ মানুষের দৃষ্টি ও মন আকর্ষণ করে। আর আমলে 'রিয়া' ঢুকলে সাওয়াবের জায়গায় শিরক ঘটে বসবে। বলা বাহুল্য, তাসবীহ-দানার চেয়ে আঙ্গুল ব্যবহার করাই শরীয়ত সম্মত।

টিকাঃ
২২৩ তিরমিযী হাঃ ৩৫৬৮, ২/১৯৭ পৃঃ ও হাঃ ৩৫৫৪; আবু দাউদ, হাঃ ১৫০০, ১/২১০ পৃঃ; মিশকাত হাঃ ২৩১১; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হাঃ ২২০৩
২২৪ যঈফ তিরমিযী হাঃ ৩৫৬৮, ২/১৯৭ পৃঃ, 'দু'আ সমূহ' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৩০; যঈফ আবুদাউদ হা : ১৫০০, ১/২১০ পৃঃ; যঈফ আত-তারগীব হাঃ ৯৫৯; সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ৮৩
২২৫ আবু দাউদ হাঃ ১৫০২, ১/২১০ পৃঃ; বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা হা/৩১৪৮; হহীহ ইবনে হিববান হাঃ ৮৪৩; তিরমিযী হাঃ ৩৪৮৬
২২৬ সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ৮৩
২২৭ সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ৮৩
২২৮ আবুল কাসেম জুরজানী, তারীখে জুরজান হাঃ ৬৮
২২৯ সিলসিলা যঈফাহ হাঃ ১০০২
২৩০ আহমাদ, হাঃ ৬/৩৭১, আবূ দাউদ, হাঃ ১৫০১, তিরমিযী, হাঃ ৩৫৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00