📄 ফরয নামাযের আগে-পরে দলবদ্ধভাবে জিকির করা
আমর বিন ইয়াহয়া হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমার পিতাকে আমার দাদা হতে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমরা একবার ফজরের নামাযের পূর্বে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এর ঘরের দরজার সামনে বসা ছিলাম। উদ্দেশ্য হল তিনি যখন বের হবেন, আমরা তার সাথে পায়ে হেঁটে মসজিদের দিকে যাত্রা করব। এমন সময় আমাদের কাছে আবু মূসা আশআরী আগমণ করে বললেন, আবু আব্দুর রাহমান (ইবনে মাসউদের উপনাম) কি বের হয়েছেন?
আমরা বললাম, এখনও বের হন নি। তিনিও আমাদের সাথে বসে গেলেন। তিনি যখন বের হলেন, আামরা সকলেই তাঁর কাছে গেলাম। আবু মূসা আশআরী বললেন, হে আবু আব্দুর রাহআন! আমি মসজিদে এখনই একটি নতুন বিষয় দেখে আসলাম। আল-হাম্দু লিল্লাহ, এতে খারাপ কিছু দেখিনি। তিনি বললেন সেটি কি? আবু মুসা বললেন, আপনার হায়াত দীর্ঘ হলে আপনিও তা দেখতে পাবেন। তিনি বললেন, আমি দেখলাম মসজিদে একদল লোক গোলাকার হয়ে বসে নামাযের অপেক্ষা করছে। সেই দলের মাঝখানে একজন লোক রয়েছে। আর সবার হাতে রয়েছে ছোট ছোট পাথর। মাঝখানের লোকটি বলছে, একশতবার আল্লাহু আকবার পাঠ কর। এতে সকলেই একশতবার আল্লাহু আকবার পাঠ করে। তারপর বলে একশতবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ পাঠ কর। এ কথা শুনে সবাই একশতবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করে থাকে। তারপর লোকটি বলে এবার একশতবার সুবহানাল্লাহ পাঠ কর। সবাই একশতবার সুবহানাল্লাহ পাঠ করে থাকে। একথা শুনে ইবনে মাসউদ বললেন, তুমি তাদেরকে তাদের পাপের কাজগুলো গণনা করে রাখতে বললে না কেন? আর এটা বললে না কেন যে তাদের নেকীর কাজগুলো থেকে একটি নেকীও নষ্ট হবেনা। কাজেই এগুলো হিসাব করে রাখার কোন দরকার নাই। অতঃপর ইবনে মাসউদ চলতে থাকলেন। আমরাও তার সাথে চললাম এবং একটি হালাকার (বৈঠকের) কাছে এসে উপস্থিত হলাম। তিনি তাদের কাছে দাঁড়িয়ে বললেন, একি করছ তোমরা? তারা সবাই বলল পাথরের মাধ্যমে গণনা করে আমরা তাকবীর, তাসবীহ্ ইত্যাদি পাঠ করছি। ইবনে মাসউদ বললেন, তাহলে তোমরা তোমাদের পাপের কাজগুলোর হিসাব কর। কারণ পাপের কাজগুলো হিসাব করে তা থেকে তাওবা করা দরকার। আমি এ ব্যাপারে জিম্মাদার হলাম যে, তোমাদের ভাল কাজগুলোর একটি ভাল কাজও নষ্ট হবেনা। এ কথা বলার কারণ এই যে আল্লাহর কাছে কারও আমল বিনষ্ট হয়না। বরং একটি আমলের বিনিময়ে দশটি সাওয়াব দেয়া হয় এবং দশ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়। তারপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদের উম্মাত! অমঙ্গল হোক তোমাদের! কিসে তোমাদেরকে এত তাড়াতাড়ি ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে?!! এখনও নবী মুহাম্মাদের অসংখ্য সাহাবী জীবিত আছেন। এই তো রসূল এর কাপড় এখনও পূরাতন হয়নি। তাঁর ব্যবহারকৃত থালা-বাসন গুলো এখনও ভেঙ্গে যায়নি। ঐ সত্বার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তোমরা যে দ্বীন তৈরী করেছ তা কি মুহাম্মাদের দ্বীন হতে উত্তম? না তোমরা গোমরাহীর দ্বার উন্মুক্ত করেছ? তারা বলল, হে আবু আব্দুর রাহমান! আমরা এর মাধ্যমে কল্যাণ ছাড়া অন্য কোন ইচ্ছা করিনি। তিনি বললেন, অনেক কল্যাণকামী আছে, যে তার উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। আল্লাহর নবী আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, একটি দল কুরআন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালীর ভিতরে প্রবেশ করবেনা। আল্লাহর শপথ করে বলছি, মনে হয় তাদের অধিকাংশই তোমাদের থেকে বের হবে। অতঃপর ইবনে মাসউদ তাদেরকে ছেড়ে চলে আসলেন। আমর ইবনু সালামা বলেন, আমরা তাদের অধিকাংশকেই দেখলাম নাহ্রাওয়ানের যুদ্ধে খারেজীদের সাথে আমাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছে। এখানে কয়েকটি কারণে ইবনু মাসউদ এ ভাল কাজগুলো অপছন্দ করেছেন:
প্রথমতঃ তাস্বীহ পাঠ করার জন্য গোলাকার হয়ে বসা।
দ্বিতীয়তঃ তাসবীহ্ সমূহের সংখ্যা ১০০ নির্ধারণ করা।
তৃতীয়তঃ পাথরের মাধ্যমে হিসাব করে এগুলো পাঠ করা। কেননা তাসবীহ্ পাঠের উল্লেখিত পদ্ধতির কোনটিই রসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নয়। সুতরাং, যিকিরের ক্ষেত্রে মূলনীতি হল, প্রত্যেক ব্যক্তি হাদীসে বর্ণিত যিকিরগুলো একা একা পাঠ করবে। অতএব, সালাত শেষে বা সালাতের আগে দলবদ্ধভাবে যিকির করা বিদ'আত যা ইসলাম সমর্থন করে না। তাই এইসব কাজ আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন, আমীন।
আমর বিন ইয়াহয়া হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমার পিতাকে আমার দাদা হতে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমরা একবার ফজরের নামাযের পূর্বে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এর ঘরের দরজার সামনে বসা ছিলাম। উদ্দেশ্য হল তিনি যখন বের হবেন, আমরা তার সাথে পায়ে হেঁটে মসজিদের দিকে যাত্রা করব। এমন সময় আমাদের কাছে আবু মূসা আশআরী আগমণ করে বললেন, আবু আব্দুর রাহমান (ইবনে মাসউদের উপনাম) কি বের হয়েছেন?
আমরা বললাম, এখনও বের হন নি। তিনিও আমাদের সাথে বসে গেলেন। তিনি যখন বের হলেন, আামরা সকলেই তাঁর কাছে গেলাম। আবু মূসা আশআরী বললেন, হে আবু আব্দুর রাহআন! আমি মসজিদে এখনই একটি নতুন বিষয় দেখে আসলাম। আল-হাম্দু লিল্লাহ, এতে খারাপ কিছু দেখিনি। তিনি বললেন সেটি কি? আবু মুসা বললেন, আপনার হায়াত দীর্ঘ হলে আপনিও তা দেখতে পাবেন। তিনি বললেন, আমি দেখলাম মসজিদে একদল লোক গোলাকার হয়ে বসে নামাযের অপেক্ষা করছে। সেই দলের মাঝখানে একজন লোক রয়েছে। আর সবার হাতে রয়েছে ছোট ছোট পাথর। মাঝখানের লোকটি বলছে, একশতবার আল্লাহু আকবার পাঠ কর। এতে সকলেই একশতবার আল্লাহু আকবার পাঠ করে। তারপর বলে একশতবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ পাঠ কর। এ কথা শুনে সবাই একশতবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করে থাকে। তারপর লোকটি বলে এবার একশতবার সুবহানাল্লাহ পাঠ কর। সবাই একশতবার সুবহানাল্লাহ পাঠ করে থাকে। একথা শুনে ইবনে মাসউদ বললেন, তুমি তাদেরকে তাদের পাপের কাজগুলো গণনা করে রাখতে বললে না কেন? আর এটা বললে না কেন যে তাদের নেকীর কাজগুলো থেকে একটি নেকীও নষ্ট হবেনা। কাজেই এগুলো হিসাব করে রাখার কোন দরকার নাই। অতঃপর ইবনে মাসউদ চলতে থাকলেন। আমরাও তার সাথে চললাম এবং একটি হালাকার (বৈঠকের) কাছে এসে উপস্থিত হলাম। তিনি তাদের কাছে দাঁড়িয়ে বললেন, একি করছ তোমরা? তারা সবাই বলল পাথরের মাধ্যমে গণনা করে আমরা তাকবীর, তাসবীহ্ ইত্যাদি পাঠ করছি। ইবনে মাসউদ বললেন, তাহলে তোমরা তোমাদের পাপের কাজগুলোর হিসাব কর। কারণ পাপের কাজগুলো হিসাব করে তা থেকে তাওবা করা দরকার। আমি এ ব্যাপারে জিম্মাদার হলাম যে, তোমাদের ভাল কাজগুলোর একটি ভাল কাজও নষ্ট হবেনা। এ কথা বলার কারণ এই যে আল্লাহর কাছে কারও আমল বিনষ্ট হয়না। বরং একটি আমলের বিনিময়ে দশটি সাওয়াব দেয়া হয় এবং দশ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়। তারপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদের উম্মাত! অমঙ্গল হোক তোমাদের! কিসে তোমাদেরকে এত তাড়াতাড়ি ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে?!! এখনও নবী মুহাম্মাদের অসংখ্য সাহাবী জীবিত আছেন। এই তো রসূল এর কাপড় এখনও পূরাতন হয়নি। তাঁর ব্যবহারকৃত থালা-বাসন গুলো এখনও ভেঙ্গে যায়নি। ঐ সত্বার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তোমরা যে দ্বীন তৈরী করেছ তা কি মুহাম্মাদের দ্বীন হতে উত্তম? না তোমরা গোমরাহীর দ্বার উন্মুক্ত করেছ? তারা বলল, হে আবু আব্দুর রাহমান! আমরা এর মাধ্যমে কল্যাণ ছাড়া অন্য কোন ইচ্ছা করিনি। তিনি বললেন, অনেক কল্যাণকামী আছে, যে তার উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। আল্লাহর নবী আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, একটি দল কুরআন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালীর ভিতরে প্রবেশ করবেনা। আল্লাহর শপথ করে বলছি, মনে হয় তাদের অধিকাংশই তোমাদের থেকে বের হবে। অতঃপর ইবনে মাসউদ তাদেরকে ছেড়ে চলে আসলেন। আমর ইবনু সালামা বলেন, আমরা তাদের অধিকাংশকেই দেখলাম নাহ্রাওয়ানের যুদ্ধে খারেজীদের সাথে আমাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছে। এখানে কয়েকটি কারণে ইবনু মাসউদ এ ভাল কাজগুলো অপছন্দ করেছেন:
প্রথমতঃ তাস্বীহ পাঠ করার জন্য গোলাকার হয়ে বসা।
দ্বিতীয়তঃ তাসবীহ্ সমূহের সংখ্যা ১০০ নির্ধারণ করা।
তৃতীয়তঃ পাথরের মাধ্যমে হিসাব করে এগুলো পাঠ করা। কেননা তাসবীহ্ পাঠের উল্লেখিত পদ্ধতির কোনটিই রসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নয়। সুতরাং, যিকিরের ক্ষেত্রে মূলনীতি হল, প্রত্যেক ব্যক্তি হাদীসে বর্ণিত যিকিরগুলো একা একা পাঠ করবে। অতএব, সালাত শেষে বা সালাতের আগে দলবদ্ধভাবে যিকির করা বিদ'আত যা ইসলাম সমর্থন করে না। তাই এইসব কাজ আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন, আমীন।
📄 ছুটে যাওয়া নামায সমূহের কাফফারা আদায় করা
সহীহ হাদীসে অনাদায়ী নামাযের জন্য কোন কাফফারার বিধান নেই। অথচ আমাদের সমাজে দেখা যায় যে, কোন ব্যক্তির কিছু ওয়াক্ত বা কিছু দিনের জন্য নামাজ কাযা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে ঐ ব্যক্তির পাপ মুক্তির জন্য ইমাম সাহেব মৃত ব্যক্তির ওয়ারিসগণের উপর একটা টাকার পরিমাণ ধরে যা শরীয়ত অনুযায়ী ঠিক নয় এবং প্রচলিত নিয়ম বিদ'আত ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই এসব বিদ'আত পরিত্যাজ্য।
তাছাড়া শুধু মৃত মানুষের ক্ষেত্রেই নয় জীবিত মানুষের মধ্যেও নামাজের বিষয়ে প্রচুর বিদ'আত পরিলক্ষিত হয়। তাই এ ক্ষেত্রে বলা যায় যে, ছুটে যাওয়া কাযা নামায সমূহ প্রথমে আদায় করবে। তারপর বর্তমান সময়ের নামায আদায় করবে। দেরী করা ঠিক হবে না। মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত বিদ'আতী প্রথা আছে যে, কারো যদি একাধিক ফরয নামায ছুটে গিয়ে থাকে তবে ঐ সালাতের সময় উপস্থিত হলে তার কাযা আদায় করবে।
আজ কারো ফজর নামায ছুটে গেছে। সে উক্ত নামায পরবর্তী দিন ফজরের সময়ে কাযা আদায় করবে। এটা মারাত্মক ভুল এবং নবী এর বাণী ও কর্মের বিরোধী। নবী এর বাণীঃ
مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا
"যে ব্যক্তি সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা ভুলে যায়, সে যেন এটি স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে আদায় করে নেয়।” এখানে এরূপ বলা হয়নি, দ্বিতীয় দিন তা আদায় করে নিবে। খন্দক যুদ্ধের সময় নবী এর কয়েকটি নামায ছুটে যায়। তখন তিনি বর্তমান সময়ের নামাযের আগেই উক্ত নামাযগুলোর কাযা আদায় করেন। অতএব ছুটে যাওয়া নামাযের ক্বাযা প্রথমে আদায় করবে তারপর বর্তমান সময়ের নামায আদায় করবে। কিন্তু যদি ভুলক্রমে বা অজ্ঞতা বশতঃ ক্বাযা নামাযের পূর্বে বর্তমান সময়ের নামায আদায় করে ফেলে তবে তা বিশুদ্ধ হবে। কেননা এটা তার ওযর।
সহীহ হাদীসে অনাদায়ী নামাযের জন্য কোন কাফফারার বিধান নেই। অথচ আমাদের সমাজে দেখা যায় যে, কোন ব্যক্তির কিছু ওয়াক্ত বা কিছু দিনের জন্য নামাজ কাযা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে ঐ ব্যক্তির পাপ মুক্তির জন্য ইমাম সাহেব মৃত ব্যক্তির ওয়ারিসগণের উপর একটা টাকার পরিমাণ ধরে যা শরীয়ত অনুযায়ী ঠিক নয় এবং প্রচলিত নিয়ম বিদ'আত ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই এসব বিদ'আত পরিত্যাজ্য।
তাছাড়া শুধু মৃত মানুষের ক্ষেত্রেই নয় জীবিত মানুষের মধ্যেও নামাজের বিষয়ে প্রচুর বিদ'আত পরিলক্ষিত হয়। তাই এ ক্ষেত্রে বলা যায় যে, ছুটে যাওয়া কাযা নামায সমূহ প্রথমে আদায় করবে। তারপর বর্তমান সময়ের নামায আদায় করবে। দেরী করা ঠিক হবে না। মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত বিদ'আতী প্রথা আছে যে, কারো যদি একাধিক ফরয নামায ছুটে গিয়ে থাকে তবে ঐ সালাতের সময় উপস্থিত হলে তার কাযা আদায় করবে।
আজ কারো ফজর নামায ছুটে গেছে। সে উক্ত নামায পরবর্তী দিন ফজরের সময়ে কাযা আদায় করবে। এটা মারাত্মক ভুল এবং নবী এর বাণী ও কর্মের বিরোধী। নবী এর বাণীঃ
مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا
"যে ব্যক্তি সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা ভুলে যায়, সে যেন এটি স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে আদায় করে নেয়।” এখানে এরূপ বলা হয়নি, দ্বিতীয় দিন তা আদায় করে নিবে। খন্দক যুদ্ধের সময় নবী এর কয়েকটি নামায ছুটে যায়। তখন তিনি বর্তমান সময়ের নামাযের আগেই উক্ত নামাযগুলোর কাযা আদায় করেন। অতএব ছুটে যাওয়া নামাযের ক্বাযা প্রথমে আদায় করবে তারপর বর্তমান সময়ের নামায আদায় করবে। কিন্তু যদি ভুলক্রমে বা অজ্ঞতা বশতঃ ক্বাযা নামাযের পূর্বে বর্তমান সময়ের নামায আদায় করে ফেলে তবে তা বিশুদ্ধ হবে। কেননা এটা তার ওযর।
📄 ক্বাযা নামাযসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত
প্রথম প্রকার: দেরী করার ওযর দূর হয়ে গেলেই ক্বাযা আদায় করে নিবে। তা হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের ক্ষেত্রে। অনুরূপভাবে বিতর ও সুন্নাত নামায সমূহ।
দ্বিতীয় প্রকার: যার পরিবর্তে অন্য সালাত ক্বাযা হিসেবে আদায় করবে। তা হচ্ছে, জুমআর সালাত। এ সালাত ছুটে গেলে তার পরিবর্তে যোহর সালাত আদায় করবে। কেউ যদি জুমআর দিন ইমামের দ্বিতীয় রাকাআতের রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর সালাতে শামিল হয়, তবে সে যোহর সালাত আদায় করবে। ঐ অবস্থায় যোহরের নিয়ত করে ইমামের সাথে সালাতে শামিল হবে।
অনুরূপভাবে কেউ যদি ইমামের সালামের পর আসে তবে সেও যোহর পড়বে। তবে কেউ যদি দ্বিতীয় রাকাআতে ইমামের সাথে রুকু পায়, তবে সে জুমআর সালাতই আদায় করবে। অর্থাৎ ইমাম সালাম ফিরালে এক রাকাআত আদায় করবে। অনেক লোক ইমামের দ্বিতীয় রাকাআতের রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর জুমআর সালাতে শামিল হয়। অতঃপর সালাম শেষে জুমআর সালাত হিসেবে দু'রাকাআত নামায আদায় করে। এটা ভুল। বরং তার জন্য উচিত হচ্ছে ইমামের সালাম ফেরানোর পর যোহর হিসেবে চার রাকাআত সালাত আদায় করা। কেননা নবী বলেছেন,
مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلَاةِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلَاةَ
“যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকআত পেয়ে গেল, সে পূর্ণ সলাত পেয়ে গেল।” এ দ্বারা বুঝা যায় কেউ যদি এর কম পায় সে সালাত পেল না। তখন যোহর সালাত আদায় করবে। এই কারণে নারীরা বাড়িতে, মসজিদে আসতে অপারগ অসুস্থ ব্যক্তিরা যোহর সালাত আদায় করবে। তারা জুমআ আদায় করবে না। তারা যদি বাড়িতে জুমআ আদায়ও করে, তাদের নামায প্রত্যাখ্যাত হবে - বাতিল বলে গণ্য হবে।
তৃতীয় প্রকারঃ এমন নামায যা ছুটে যাওয়া সময়েই কাযা আদায় করতে হবে। আর তা হচ্ছে ঈদের নামায। ঈদের দিন সম্পর্কে জানা গেল না। কিন্তু সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়া পর জানা গেল যে আজকে ঈদের দিন ছিল। এক্ষেত্রে বিদ্বানগণ বলেন, পরবর্তী দিন সকাল বেলা উক্ত ঈদের নামাযের কাযা আদায় করতে হবে। কেননা ঈদের নামায আদায় করার সময় হচ্ছে সকাল বেলা। ২১০
টিকাঃ
২১০ গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, বিভাগের নামঃ ঈমান, লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন, অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
প্রথম প্রকার: দেরী করার ওযর দূর হয়ে গেলেই ক্বাযা আদায় করে নিবে। তা হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের ক্ষেত্রে। অনুরূপভাবে বিতর ও সুন্নাত নামায সমূহ।
দ্বিতীয় প্রকার: যার পরিবর্তে অন্য সালাত ক্বাযা হিসেবে আদায় করবে। তা হচ্ছে, জুমআর সালাত। এ সালাত ছুটে গেলে তার পরিবর্তে যোহর সালাত আদায় করবে। কেউ যদি জুমআর দিন ইমামের দ্বিতীয় রাকাআতের রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর সালাতে শামিল হয়, তবে সে যোহর সালাত আদায় করবে। ঐ অবস্থায় যোহরের নিয়ত করে ইমামের সাথে সালাতে শামিল হবে।
অনুরূপভাবে কেউ যদি ইমামের সালামের পর আসে তবে সেও যোহর পড়বে। তবে কেউ যদি দ্বিতীয় রাকাআতে ইমামের সাথে রুকু পায়, তবে সে জুমআর সালাতই আদায় করবে। অর্থাৎ ইমাম সালাম ফিরালে এক রাকাআত আদায় করবে। অনেক লোক ইমামের দ্বিতীয় রাকাআতের রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর জুমআর সালাতে শামিল হয়। অতঃপর সালাম শেষে জুমআর সালাত হিসেবে দু'রাকাআত নামায আদায় করে। এটা ভুল। বরং তার জন্য উচিত হচ্ছে ইমামের সালাম ফেরানোর পর যোহর হিসেবে চার রাকাআত সালাত আদায় করা। কেননা নবী বলেছেন,
مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلَاةِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلَاةَ
“যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকআত পেয়ে গেল, সে পূর্ণ সলাত পেয়ে গেল।” এ দ্বারা বুঝা যায় কেউ যদি এর কম পায় সে সালাত পেল না। তখন যোহর সালাত আদায় করবে। এই কারণে নারীরা বাড়িতে, মসজিদে আসতে অপারগ অসুস্থ ব্যক্তিরা যোহর সালাত আদায় করবে। তারা জুমআ আদায় করবে না। তারা যদি বাড়িতে জুমআ আদায়ও করে, তাদের নামায প্রত্যাখ্যাত হবে - বাতিল বলে গণ্য হবে।
তৃতীয় প্রকারঃ এমন নামায যা ছুটে যাওয়া সময়েই কাযা আদায় করতে হবে। আর তা হচ্ছে ঈদের নামায। ঈদের দিন সম্পর্কে জানা গেল না। কিন্তু সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়া পর জানা গেল যে আজকে ঈদের দিন ছিল। এক্ষেত্রে বিদ্বানগণ বলেন, পরবর্তী দিন সকাল বেলা উক্ত ঈদের নামাযের কাযা আদায় করতে হবে। কেননা ঈদের নামায আদায় করার সময় হচ্ছে সকাল বেলা। ২১০
টিকাঃ
২১০ গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, বিভাগের নামঃ ঈমান, লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন, অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
📄 ফরয নামাযের পরে সম্মিলিত মুনাজাত : একটি প্রচলিত বিদ‘আত
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের জাম'আত শেষে ইমাম কর্তৃক সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে মুনাজাত করা বিদ'আত। মুহাম্মাদ এর জীবনে অনেক ফরয সালাত আদায় করেছেন। কিন্তু এ বিরাট সংখ্যক ফরয সালাতের কোন একটির পরও সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দু'আ করেছেন এমন কোন বর্ণনা কোন হাদীসে নেই।
এ দু'আ সম্পর্কে শ্রেষ্ঠ আলেমগণের অভিমত: (১) শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়াহ কে ফরয নামাযের পর ইমাম-মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে দ"আ করা জায়েয কি-না এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, সালাতের পর ইমাম-মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে দু'আ করা বিদ'আত। রসূলুল্লাহ এর যুগে এরূপ দু'আ ছিল না। বরং তাঁর দু'আ ছিল নামাযের মধ্যে। কারণ নামাযের মধ্যে মুসল্লী স্বীয় প্রতিপালকের সাথে নীরবে কথা বলে। আর নীরবে কথা বলার সময় দু'আ করা যথাযথ। ২১১
(২) শাইখ আবদুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত ও নফল সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু'আ করা স্পষ্ট বিদ'আত। কারণ এরূপ দু'আ রসূলুল্লাহ এর যুগে এবং তাঁর সাহাবীদের যুগেও ছিল না। যে ব্যক্তি ফরয সালাতের পর অথবা নফল সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু'আ করে, সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের বিরোধিতা করে। ২১২
(৩) শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমিন বলেন, সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু'আ করা এমন বিদ'আত, যার প্রমাণ রসূলুল্লাহ ও তার সাহাবীগণ থেকেও নেই। মুসল্লীদের জন্য বিধান হচ্ছে প্রত্যেক মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যিকির করবে। ২১৩ প্রকাশ থাকে যে, কোন কোন আলেম ফরয নামাযান্তে হাত উঠিয়ে দু'আ করার পক্ষে মতামত দিলেও বিষয়টি বিতর্কিত নয়। সিদ্ধান্তহীনতার ফলে অথবা স্বার্থান্বেষী হয়ে বিষয়টিকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। কারণ এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, রসূলুল্লাহ এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণ ইমাম-মুক্তাদী মিলে হাত উঠিয়ে দু'আ করেননি এবং পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় আলেমগণও করেননি এবং বর্তমানেও করেন না। কাজেই এটি স্পষ্ট বিদ'আত।
টিকাঃ
২১১ মাজমূআ ফাতাওয়া ২২/৫১৯。
২১২ হায়াতু কিবারিল ওলামা ১/২৪৪。
২১৩ ফাতাওয়া ওয়ায়মীন, পৃ: ১২০。
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের জাম'আত শেষে ইমাম কর্তৃক সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে মুনাজাত করা বিদ'আত। মুহাম্মাদ এর জীবনে অনেক ফরয সালাত আদায় করেছেন। কিন্তু এ বিরাট সংখ্যক ফরয সালাতের কোন একটির পরও সম্মিলিতভাবে হাত তুলে দু'আ করেছেন এমন কোন বর্ণনা কোন হাদীসে নেই।
এ দু'আ সম্পর্কে শ্রেষ্ঠ আলেমগণের অভিমত: (১) শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়াহ কে ফরয নামাযের পর ইমাম-মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে দ"আ করা জায়েয কি-না এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, সালাতের পর ইমাম-মুক্তাদী সম্মিলিতভাবে দু'আ করা বিদ'আত। রসূলুল্লাহ এর যুগে এরূপ দু'আ ছিল না। বরং তাঁর দু'আ ছিল নামাযের মধ্যে। কারণ নামাযের মধ্যে মুসল্লী স্বীয় প্রতিপালকের সাথে নীরবে কথা বলে। আর নীরবে কথা বলার সময় দু'আ করা যথাযথ। ২১১
(২) শাইখ আবদুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত ও নফল সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু'আ করা স্পষ্ট বিদ'আত। কারণ এরূপ দু'আ রসূলুল্লাহ এর যুগে এবং তাঁর সাহাবীদের যুগেও ছিল না। যে ব্যক্তি ফরয সালাতের পর অথবা নফল সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু'আ করে, সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের বিরোধিতা করে। ২১২
(৩) শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমিন বলেন, সালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু'আ করা এমন বিদ'আত, যার প্রমাণ রসূলুল্লাহ ও তার সাহাবীগণ থেকেও নেই। মুসল্লীদের জন্য বিধান হচ্ছে প্রত্যেক মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যিকির করবে। ২১৩ প্রকাশ থাকে যে, কোন কোন আলেম ফরয নামাযান্তে হাত উঠিয়ে দু'আ করার পক্ষে মতামত দিলেও বিষয়টি বিতর্কিত নয়। সিদ্ধান্তহীনতার ফলে অথবা স্বার্থান্বেষী হয়ে বিষয়টিকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। কারণ এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, রসূলুল্লাহ এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণ ইমাম-মুক্তাদী মিলে হাত উঠিয়ে দু'আ করেননি এবং পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় আলেমগণও করেননি এবং বর্তমানেও করেন না। কাজেই এটি স্পষ্ট বিদ'আত।
টিকাঃ
২১১ মাজমূআ ফাতাওয়া ২২/৫১৯。
২১২ হায়াতু কিবারিল ওলামা ১/২৪৪。
২১৩ ফাতাওয়া ওয়ায়মীন, পৃ: ১২০。