📄 জুমু‘আর খুতবার সময় মসজিদের জন্য চাঁদা উঠানো
জুমু'আর দ্বিতীয় খুতবার সময় কোন টাকা-পয়সা উঠানো এবং কোন টাকা-পয়সা দেয়া বা নেয়া নাজায়েয। এ সময় কোন টাকা-পয়সা দেয়া-নেয়া তো দূরের কথা, বরং কোন কথা বলাও ঠিক নয়। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ : إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتُ . يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেন, জুমু'আর দিন খুতবা চলাকালীন সময়ে তুমি যদি তোমার ভাইকে এ কথা বল যে, চুপ থাকো -তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে। ২০৫
এ ক্ষেত্রে করণীয়: টাকা-পয়সা উঠানোর বিশেষ প্রয়োজন হলে নামাযে সালাম ফিরানোর পরপরই তার ব্যবস্থা করা যায়।
টিকাঃ
২০৫ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাঃ ২৩২; সহীহ মুসলিম, হাঃ ২০০২; নাসাঈ, হাঃ ১৪০২; ইবনে মাজাহ, হা/১১১০; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭৬৭২; ইবনে খুযাইমা, হাঃ ১৮০৫; ইবনে হিব্বান, হাঃ ২৭৯৩।
জুমু'আর দ্বিতীয় খুতবার সময় কোন টাকা-পয়সা উঠানো এবং কোন টাকা-পয়সা দেয়া বা নেয়া নাজায়েয। এ সময় কোন টাকা-পয়সা দেয়া-নেয়া তো দূরের কথা, বরং কোন কথা বলাও ঠিক নয়। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ : إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتُ . يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেন, জুমু'আর দিন খুতবা চলাকালীন সময়ে তুমি যদি তোমার ভাইকে এ কথা বল যে, চুপ থাকো -তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে। ২০৫
এ ক্ষেত্রে করণীয়: টাকা-পয়সা উঠানোর বিশেষ প্রয়োজন হলে নামাযে সালাম ফিরানোর পরপরই তার ব্যবস্থা করা যায়।
টিকাঃ
২০৫ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাঃ ২৩২; সহীহ মুসলিম, হাঃ ২০০২; নাসাঈ, হাঃ ১৪০২; ইবনে মাজাহ, হা/১১১০; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭৬৭২; ইবনে খুযাইমা, হাঃ ১৮০৫; ইবনে হিব্বান, হাঃ ২৭৯৩。
📄 শাহাদাত আংগুলে চুম্বন করা ও চোখে মাসাহ করা
“আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ”- শুনে শাহাদাত আঙ্গুলে চুম্বন করা ও চোখে মাসাহ করা! একটি বিদ'আতী আমল। কারন উক্ত আমল শরী'আত সম্মত নয়। এর পক্ষে কোন সহীহ হাদীস নেই। এর পক্ষে যা কিছু বর্ণনা এসেছে তা জাল বা মিথ্যা। যেমন -
১ম বর্ণনাঃ খিযিরা বলেন, মুয়াযযিন যখন 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ' বলবে, তখন যে ব্যক্তি বলবে, আমার প্রিয় ব্যক্তিকে স্বাগত, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর কারণে আমার চক্ষু শীতল হয়েছে, অতঃপর তার দুই হাতের বৃদ্ধা আংগুলে চুম্বন করবে ও দুই চোখ মাসাহ করবে, সে কখনো অন্ধ হবে না এবং তার চোখও উঠবে না। ২০৬
তাহক্বীক্ব: বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বর্ণনা। এর কোন সনদই নেই। ২০৭
২য় বর্ণনাঃ আবুবকর হতে বর্ণিত, তিনি যখন মুয়াযযিনের 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ' বলা শুনতেন, তখন তিনি অনুরূপ বলতেন। অতঃপর দুই শাহাদাত আঙ্গুলের পেটে চুম্বন করতেন এবং দুই চোখ মাসাহ করতেন। তখন রসূল বলেন, আমার বন্ধু যা করল তা যদি কেউ করে, তবে আমার শাফা'আত তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে। ২০৮
তাহক্বীক্ব : এটিও ডাহা মিথ্যা বর্ণনা। এর কোন সনদ নেই। ২০৯
টিকাঃ
২০৬ ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ আল- জারাহী, কাশফুল খাফা ২/২০৬ পৃঃ; তাযকিরাতুল মাওযু'আত, পৃঃ ৩৪
২০৭ মাক্বাছিদুল হাসানাহ, পৃঃ ৬০৫; আল-ফাওয়াইদুল মাজমূ'আহ ফিল আহাদীছিল মাওযূ'আহ, পৃঃ ২০
২০৮ তাযকিরাতুল মাওযূ'আত, পৃঃ নংঃ ৩৪
২০৯ আব্দুর রহমান আস-সাখাবী, আল- মাক্বাছিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিন মিনাল আহাদীছিল মুশড়হারা আলাল আলসিনাহ, পৃঃ ৬০৫; শাওকানী, আল-ফাওয়াইদুল মাজমু'আহ ফিল আহাদীছিল মাওযূ'আহ, পৃঃ নংঃ ২০
“আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ”- শুনে শাহাদাত আঙ্গুলে চুম্বন করা ও চোখে মাসাহ করা! একটি বিদ'আতী আমল। কারন উক্ত আমল শরী'আত সম্মত নয়। এর পক্ষে কোন সহীহ হাদীস নেই। এর পক্ষে যা কিছু বর্ণনা এসেছে তা জাল বা মিথ্যা। যেমন -
১ম বর্ণনাঃ খিযিরা বলেন, মুয়াযযিন যখন 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ' বলবে, তখন যে ব্যক্তি বলবে, আমার প্রিয় ব্যক্তিকে স্বাগত, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর কারণে আমার চক্ষু শীতল হয়েছে, অতঃপর তার দুই হাতের বৃদ্ধা আংগুলে চুম্বন করবে ও দুই চোখ মাসাহ করবে, সে কখনো অন্ধ হবে না এবং তার চোখও উঠবে না। ২০৬
তাহক্বীক্ব: বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বর্ণনা। এর কোন সনদই নেই। ২০৭
২য় বর্ণনাঃ আবুবকর হতে বর্ণিত, তিনি যখন মুয়াযযিনের 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ' বলা শুনতেন, তখন তিনি অনুরূপ বলতেন। অতঃপর দুই শাহাদাত আঙ্গুলের পেটে চুম্বন করতেন এবং দুই চোখ মাসাহ করতেন। তখন রসূল বলেন, আমার বন্ধু যা করল তা যদি কেউ করে, তবে আমার শাফা'আত তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে। ২০৮
তাহক্বীক্ব : এটিও ডাহা মিথ্যা বর্ণনা। এর কোন সনদ নেই। ২০৯
টিকাঃ
২০৬ ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ আল- জারাহী, কাশফুল খাফা ২/২০৬ পৃঃ; তাযকিরাতুল মাওযু'আত, পৃঃ ৩৪
২০৭ মাক্বাছিদুল হাসানাহ, পৃঃ ৬০৫; আল-ফাওয়াইদুল মাজমূ'আহ ফিল আহাদীছিল মাওযূ'আহ, পৃঃ ২০
২০৮ তাযকিরাতুল মাওযূ'আত, পৃঃ নংঃ ৩৪
২০৯ আব্দুর রহমান আস-সাখাবী, আল- মাক্বাছিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিন মিনাল আহাদীছিল মুশড়হারা আলাল আলসিনাহ, পৃঃ ৬০৫; শাওকানী, আল-ফাওয়াইদুল মাজমু'আহ ফিল আহাদীছিল মাওযূ'আহ, পৃঃ নংঃ ২০
📄 ফরয নামাযের আগে-পরে দলবদ্ধভাবে জিকির করা
আমর বিন ইয়াহয়া হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমার পিতাকে আমার দাদা হতে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমরা একবার ফজরের নামাযের পূর্বে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এর ঘরের দরজার সামনে বসা ছিলাম। উদ্দেশ্য হল তিনি যখন বের হবেন, আমরা তার সাথে পায়ে হেঁটে মসজিদের দিকে যাত্রা করব। এমন সময় আমাদের কাছে আবু মূসা আশআরী আগমণ করে বললেন, আবু আব্দুর রাহমান (ইবনে মাসউদের উপনাম) কি বের হয়েছেন?
আমরা বললাম, এখনও বের হন নি। তিনিও আমাদের সাথে বসে গেলেন। তিনি যখন বের হলেন, আামরা সকলেই তাঁর কাছে গেলাম। আবু মূসা আশআরী বললেন, হে আবু আব্দুর রাহআন! আমি মসজিদে এখনই একটি নতুন বিষয় দেখে আসলাম। আল-হাম্দু লিল্লাহ, এতে খারাপ কিছু দেখিনি। তিনি বললেন সেটি কি? আবু মুসা বললেন, আপনার হায়াত দীর্ঘ হলে আপনিও তা দেখতে পাবেন। তিনি বললেন, আমি দেখলাম মসজিদে একদল লোক গোলাকার হয়ে বসে নামাযের অপেক্ষা করছে। সেই দলের মাঝখানে একজন লোক রয়েছে। আর সবার হাতে রয়েছে ছোট ছোট পাথর। মাঝখানের লোকটি বলছে, একশতবার আল্লাহু আকবার পাঠ কর। এতে সকলেই একশতবার আল্লাহু আকবার পাঠ করে। তারপর বলে একশতবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ পাঠ কর। এ কথা শুনে সবাই একশতবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করে থাকে। তারপর লোকটি বলে এবার একশতবার সুবহানাল্লাহ পাঠ কর। সবাই একশতবার সুবহানাল্লাহ পাঠ করে থাকে। একথা শুনে ইবনে মাসউদ বললেন, তুমি তাদেরকে তাদের পাপের কাজগুলো গণনা করে রাখতে বললে না কেন? আর এটা বললে না কেন যে তাদের নেকীর কাজগুলো থেকে একটি নেকীও নষ্ট হবেনা। কাজেই এগুলো হিসাব করে রাখার কোন দরকার নাই। অতঃপর ইবনে মাসউদ চলতে থাকলেন। আমরাও তার সাথে চললাম এবং একটি হালাকার (বৈঠকের) কাছে এসে উপস্থিত হলাম। তিনি তাদের কাছে দাঁড়িয়ে বললেন, একি করছ তোমরা? তারা সবাই বলল পাথরের মাধ্যমে গণনা করে আমরা তাকবীর, তাসবীহ্ ইত্যাদি পাঠ করছি। ইবনে মাসউদ বললেন, তাহলে তোমরা তোমাদের পাপের কাজগুলোর হিসাব কর। কারণ পাপের কাজগুলো হিসাব করে তা থেকে তাওবা করা দরকার। আমি এ ব্যাপারে জিম্মাদার হলাম যে, তোমাদের ভাল কাজগুলোর একটি ভাল কাজও নষ্ট হবেনা। এ কথা বলার কারণ এই যে আল্লাহর কাছে কারও আমল বিনষ্ট হয়না। বরং একটি আমলের বিনিময়ে দশটি সাওয়াব দেয়া হয় এবং দশ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়। তারপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদের উম্মাত! অমঙ্গল হোক তোমাদের! কিসে তোমাদেরকে এত তাড়াতাড়ি ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে?!! এখনও নবী মুহাম্মাদের অসংখ্য সাহাবী জীবিত আছেন। এই তো রসূল এর কাপড় এখনও পূরাতন হয়নি। তাঁর ব্যবহারকৃত থালা-বাসন গুলো এখনও ভেঙ্গে যায়নি। ঐ সত্বার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তোমরা যে দ্বীন তৈরী করেছ তা কি মুহাম্মাদের দ্বীন হতে উত্তম? না তোমরা গোমরাহীর দ্বার উন্মুক্ত করেছ? তারা বলল, হে আবু আব্দুর রাহমান! আমরা এর মাধ্যমে কল্যাণ ছাড়া অন্য কোন ইচ্ছা করিনি। তিনি বললেন, অনেক কল্যাণকামী আছে, যে তার উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। আল্লাহর নবী আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, একটি দল কুরআন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালীর ভিতরে প্রবেশ করবেনা। আল্লাহর শপথ করে বলছি, মনে হয় তাদের অধিকাংশই তোমাদের থেকে বের হবে। অতঃপর ইবনে মাসউদ তাদেরকে ছেড়ে চলে আসলেন। আমর ইবনু সালামা বলেন, আমরা তাদের অধিকাংশকেই দেখলাম নাহ্রাওয়ানের যুদ্ধে খারেজীদের সাথে আমাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছে। এখানে কয়েকটি কারণে ইবনু মাসউদ এ ভাল কাজগুলো অপছন্দ করেছেন:
প্রথমতঃ তাস্বীহ পাঠ করার জন্য গোলাকার হয়ে বসা।
দ্বিতীয়তঃ তাসবীহ্ সমূহের সংখ্যা ১০০ নির্ধারণ করা।
তৃতীয়তঃ পাথরের মাধ্যমে হিসাব করে এগুলো পাঠ করা। কেননা তাসবীহ্ পাঠের উল্লেখিত পদ্ধতির কোনটিই রসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নয়। সুতরাং, যিকিরের ক্ষেত্রে মূলনীতি হল, প্রত্যেক ব্যক্তি হাদীসে বর্ণিত যিকিরগুলো একা একা পাঠ করবে। অতএব, সালাত শেষে বা সালাতের আগে দলবদ্ধভাবে যিকির করা বিদ'আত যা ইসলাম সমর্থন করে না। তাই এইসব কাজ আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন, আমীন।
আমর বিন ইয়াহয়া হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমার পিতাকে আমার দাদা হতে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমরা একবার ফজরের নামাযের পূর্বে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এর ঘরের দরজার সামনে বসা ছিলাম। উদ্দেশ্য হল তিনি যখন বের হবেন, আমরা তার সাথে পায়ে হেঁটে মসজিদের দিকে যাত্রা করব। এমন সময় আমাদের কাছে আবু মূসা আশআরী আগমণ করে বললেন, আবু আব্দুর রাহমান (ইবনে মাসউদের উপনাম) কি বের হয়েছেন?
আমরা বললাম, এখনও বের হন নি। তিনিও আমাদের সাথে বসে গেলেন। তিনি যখন বের হলেন, আামরা সকলেই তাঁর কাছে গেলাম। আবু মূসা আশআরী বললেন, হে আবু আব্দুর রাহআন! আমি মসজিদে এখনই একটি নতুন বিষয় দেখে আসলাম। আল-হাম্দু লিল্লাহ, এতে খারাপ কিছু দেখিনি। তিনি বললেন সেটি কি? আবু মুসা বললেন, আপনার হায়াত দীর্ঘ হলে আপনিও তা দেখতে পাবেন। তিনি বললেন, আমি দেখলাম মসজিদে একদল লোক গোলাকার হয়ে বসে নামাযের অপেক্ষা করছে। সেই দলের মাঝখানে একজন লোক রয়েছে। আর সবার হাতে রয়েছে ছোট ছোট পাথর। মাঝখানের লোকটি বলছে, একশতবার আল্লাহু আকবার পাঠ কর। এতে সকলেই একশতবার আল্লাহু আকবার পাঠ করে। তারপর বলে একশতবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ পাঠ কর। এ কথা শুনে সবাই একশতবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করে থাকে। তারপর লোকটি বলে এবার একশতবার সুবহানাল্লাহ পাঠ কর। সবাই একশতবার সুবহানাল্লাহ পাঠ করে থাকে। একথা শুনে ইবনে মাসউদ বললেন, তুমি তাদেরকে তাদের পাপের কাজগুলো গণনা করে রাখতে বললে না কেন? আর এটা বললে না কেন যে তাদের নেকীর কাজগুলো থেকে একটি নেকীও নষ্ট হবেনা। কাজেই এগুলো হিসাব করে রাখার কোন দরকার নাই। অতঃপর ইবনে মাসউদ চলতে থাকলেন। আমরাও তার সাথে চললাম এবং একটি হালাকার (বৈঠকের) কাছে এসে উপস্থিত হলাম। তিনি তাদের কাছে দাঁড়িয়ে বললেন, একি করছ তোমরা? তারা সবাই বলল পাথরের মাধ্যমে গণনা করে আমরা তাকবীর, তাসবীহ্ ইত্যাদি পাঠ করছি। ইবনে মাসউদ বললেন, তাহলে তোমরা তোমাদের পাপের কাজগুলোর হিসাব কর। কারণ পাপের কাজগুলো হিসাব করে তা থেকে তাওবা করা দরকার। আমি এ ব্যাপারে জিম্মাদার হলাম যে, তোমাদের ভাল কাজগুলোর একটি ভাল কাজও নষ্ট হবেনা। এ কথা বলার কারণ এই যে আল্লাহর কাছে কারও আমল বিনষ্ট হয়না। বরং একটি আমলের বিনিময়ে দশটি সাওয়াব দেয়া হয় এবং দশ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়। তারপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদের উম্মাত! অমঙ্গল হোক তোমাদের! কিসে তোমাদেরকে এত তাড়াতাড়ি ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে?!! এখনও নবী মুহাম্মাদের অসংখ্য সাহাবী জীবিত আছেন। এই তো রসূল এর কাপড় এখনও পূরাতন হয়নি। তাঁর ব্যবহারকৃত থালা-বাসন গুলো এখনও ভেঙ্গে যায়নি। ঐ সত্বার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তোমরা যে দ্বীন তৈরী করেছ তা কি মুহাম্মাদের দ্বীন হতে উত্তম? না তোমরা গোমরাহীর দ্বার উন্মুক্ত করেছ? তারা বলল, হে আবু আব্দুর রাহমান! আমরা এর মাধ্যমে কল্যাণ ছাড়া অন্য কোন ইচ্ছা করিনি। তিনি বললেন, অনেক কল্যাণকামী আছে, যে তার উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। আল্লাহর নবী আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, একটি দল কুরআন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালীর ভিতরে প্রবেশ করবেনা। আল্লাহর শপথ করে বলছি, মনে হয় তাদের অধিকাংশই তোমাদের থেকে বের হবে। অতঃপর ইবনে মাসউদ তাদেরকে ছেড়ে চলে আসলেন। আমর ইবনু সালামা বলেন, আমরা তাদের অধিকাংশকেই দেখলাম নাহ্রাওয়ানের যুদ্ধে খারেজীদের সাথে আমাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছে। এখানে কয়েকটি কারণে ইবনু মাসউদ এ ভাল কাজগুলো অপছন্দ করেছেন:
প্রথমতঃ তাস্বীহ পাঠ করার জন্য গোলাকার হয়ে বসা।
দ্বিতীয়তঃ তাসবীহ্ সমূহের সংখ্যা ১০০ নির্ধারণ করা।
তৃতীয়তঃ পাথরের মাধ্যমে হিসাব করে এগুলো পাঠ করা। কেননা তাসবীহ্ পাঠের উল্লেখিত পদ্ধতির কোনটিই রসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নয়। সুতরাং, যিকিরের ক্ষেত্রে মূলনীতি হল, প্রত্যেক ব্যক্তি হাদীসে বর্ণিত যিকিরগুলো একা একা পাঠ করবে। অতএব, সালাত শেষে বা সালাতের আগে দলবদ্ধভাবে যিকির করা বিদ'আত যা ইসলাম সমর্থন করে না। তাই এইসব কাজ আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন, আমীন।
📄 ছুটে যাওয়া নামায সমূহের কাফফারা আদায় করা
সহীহ হাদীসে অনাদায়ী নামাযের জন্য কোন কাফফারার বিধান নেই। অথচ আমাদের সমাজে দেখা যায় যে, কোন ব্যক্তির কিছু ওয়াক্ত বা কিছু দিনের জন্য নামাজ কাযা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে ঐ ব্যক্তির পাপ মুক্তির জন্য ইমাম সাহেব মৃত ব্যক্তির ওয়ারিসগণের উপর একটা টাকার পরিমাণ ধরে যা শরীয়ত অনুযায়ী ঠিক নয় এবং প্রচলিত নিয়ম বিদ'আত ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই এসব বিদ'আত পরিত্যাজ্য।
তাছাড়া শুধু মৃত মানুষের ক্ষেত্রেই নয় জীবিত মানুষের মধ্যেও নামাজের বিষয়ে প্রচুর বিদ'আত পরিলক্ষিত হয়। তাই এ ক্ষেত্রে বলা যায় যে, ছুটে যাওয়া কাযা নামায সমূহ প্রথমে আদায় করবে। তারপর বর্তমান সময়ের নামায আদায় করবে। দেরী করা ঠিক হবে না। মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত বিদ'আতী প্রথা আছে যে, কারো যদি একাধিক ফরয নামায ছুটে গিয়ে থাকে তবে ঐ সালাতের সময় উপস্থিত হলে তার কাযা আদায় করবে।
আজ কারো ফজর নামায ছুটে গেছে। সে উক্ত নামায পরবর্তী দিন ফজরের সময়ে কাযা আদায় করবে। এটা মারাত্মক ভুল এবং নবী এর বাণী ও কর্মের বিরোধী। নবী এর বাণীঃ
مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا
"যে ব্যক্তি সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা ভুলে যায়, সে যেন এটি স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে আদায় করে নেয়।” এখানে এরূপ বলা হয়নি, দ্বিতীয় দিন তা আদায় করে নিবে। খন্দক যুদ্ধের সময় নবী এর কয়েকটি নামায ছুটে যায়। তখন তিনি বর্তমান সময়ের নামাযের আগেই উক্ত নামাযগুলোর কাযা আদায় করেন। অতএব ছুটে যাওয়া নামাযের ক্বাযা প্রথমে আদায় করবে তারপর বর্তমান সময়ের নামায আদায় করবে। কিন্তু যদি ভুলক্রমে বা অজ্ঞতা বশতঃ ক্বাযা নামাযের পূর্বে বর্তমান সময়ের নামায আদায় করে ফেলে তবে তা বিশুদ্ধ হবে। কেননা এটা তার ওযর।
সহীহ হাদীসে অনাদায়ী নামাযের জন্য কোন কাফফারার বিধান নেই। অথচ আমাদের সমাজে দেখা যায় যে, কোন ব্যক্তির কিছু ওয়াক্ত বা কিছু দিনের জন্য নামাজ কাযা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে ঐ ব্যক্তির পাপ মুক্তির জন্য ইমাম সাহেব মৃত ব্যক্তির ওয়ারিসগণের উপর একটা টাকার পরিমাণ ধরে যা শরীয়ত অনুযায়ী ঠিক নয় এবং প্রচলিত নিয়ম বিদ'আত ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই এসব বিদ'আত পরিত্যাজ্য।
তাছাড়া শুধু মৃত মানুষের ক্ষেত্রেই নয় জীবিত মানুষের মধ্যেও নামাজের বিষয়ে প্রচুর বিদ'আত পরিলক্ষিত হয়। তাই এ ক্ষেত্রে বলা যায় যে, ছুটে যাওয়া কাযা নামায সমূহ প্রথমে আদায় করবে। তারপর বর্তমান সময়ের নামায আদায় করবে। দেরী করা ঠিক হবে না। মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত বিদ'আতী প্রথা আছে যে, কারো যদি একাধিক ফরয নামায ছুটে গিয়ে থাকে তবে ঐ সালাতের সময় উপস্থিত হলে তার কাযা আদায় করবে।
আজ কারো ফজর নামায ছুটে গেছে। সে উক্ত নামায পরবর্তী দিন ফজরের সময়ে কাযা আদায় করবে। এটা মারাত্মক ভুল এবং নবী এর বাণী ও কর্মের বিরোধী। নবী এর বাণীঃ
مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا
"যে ব্যক্তি সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা ভুলে যায়, সে যেন এটি স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে আদায় করে নেয়।” এখানে এরূপ বলা হয়নি, দ্বিতীয় দিন তা আদায় করে নিবে। খন্দক যুদ্ধের সময় নবী এর কয়েকটি নামায ছুটে যায়। তখন তিনি বর্তমান সময়ের নামাযের আগেই উক্ত নামাযগুলোর কাযা আদায় করেন। অতএব ছুটে যাওয়া নামাযের ক্বাযা প্রথমে আদায় করবে তারপর বর্তমান সময়ের নামায আদায় করবে। কিন্তু যদি ভুলক্রমে বা অজ্ঞতা বশতঃ ক্বাযা নামাযের পূর্বে বর্তমান সময়ের নামায আদায় করে ফেলে তবে তা বিশুদ্ধ হবে। কেননা এটা তার ওযর।