📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 সালাত সংক্রান্ত বিদ‘আত নামাযের জন্য নিয়ত পড়া

📄 সালাত সংক্রান্ত বিদ‘আত নামাযের জন্য নিয়ত পড়া


আরবী বা নিজের মাতৃভাষায় মুখে উচ্চারণ করে নামাযের জন্য নিয়ত পড়া বিদ'আত। নামাযের জন্য নিয়ত করা ফরয, তবে তা আরবী বা অন্য কোন ভাষায় মুখে উচ্চারণ করে নয় রবং তা হবে মনে মনে। কারণ রসূলুল্লাহ নামাযে দাঁড়িয়ে মুখে নিয়ত উচ্চারণ করে পড়েছেন এমন কোন প্রমাণ হাদীসে বর্ণিত হয়নি। কেননা নিয়তের স্থান হল অন্তর। নিয়ত অন্তরের কাজ, মুখের কাজ নয়। হাফেয ইবনে রজব বলেন, নিয়ত হল অন্তরের ইচ্ছা। কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে নিয়ত মুখে বলা ওয়াজিব নয়। ২০১
পক্ষান্তরে যারা বলেন, নিয়ত মনে মনে করতে হয় ঠিক, তবে আরবী বা নিজের মাতৃভাষায় বলা উত্তম একথা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ শরীয়াতে এমন কোন বিষয় অবশিষ্ট নেই যা আমল বা ইবাদাতের জন্য উত্তম অথচ রসূলুল্লাহ কিংবা সাহাবায়ে কেরাম তা বর্ণনা করেননি। সুতরাং রসূলুল্লাহ কিংবা সাহাবায়ে কেরাম যা উত্তম মনে করেননি উম্মতের মধ্যে আর কেউ তা উত্তম মনে করার প্রশ্নই ওঠে না।
জায়নামাযের দু'আ পড়া
নামায শুরু করার পূর্বে জায়নামাযে বা সালাতের জায়গায় দাঁড়িয়ে "ইন্নী ওয়াজ্জাহ্ ....." এ দু'আ পাঠ করা বিদ'আত। কারণ রসূলুল্লাহ নামায শুরু করার পূর্বে জায়নামাযে বা নামাযের জায়গায় দাঁড়িয়ে 'আল্লাহু আকবার' এ তাকবীর বলতেন। কিন্তু এর আগে কোন কিছু পড়েছেন বলে কোন হাদীসে প্রমাণিত নেই।
এ ক্ষেত্রে করণীয়
নামাযের শুরুতে যেটা করণীয় তা হলো প্রথমে মনে মনে নিয়ত করতে হবে। অর্থাৎ কোন্ ওয়াক্তের কোন্ নামায পড়বে তা মনে মনে স্থির করবে। তারপর তাকবীর দিয়ে হাত বাঁধবে। তারপর সানা পাঠ করবে। যে দু'আটি জায়নামাযের দু'আ হিসেবে পাঠ করা হয় সেটি মূলত কুরআনের একটি আয়াত। নবী এ দু'আর সাথে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ দু'আ একত্র করে তাকবীরে তাহরীমার পর সানা হিসেবে পাঠ করতেন। তাই তাকবীর বলার পূর্বে না পড়ে তাকবীর বলার পর সানা হিসেবে হাদীসে যেভাবে এসেছে সেভাবে দু'আটি পাঠ করতে হবে। আলী বলেন, নবী নামায শুরু করার সময় তাকবীর বলতেন এবং এ দু'আ পাঠ করতেন।
وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ ، قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ - اَللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ. أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِ وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ، لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ، أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থ: আমি একনিষ্ঠভাবে ঐ সত্তার দিকে মুখ ফিরালাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন; আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সলাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ সবই বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই। এসব কাজের জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি, আমি হলাম মুসলিমদের মধ্যে একজন। হে আল্লাহ! তুমিই মালিক, তুমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তুমি আমার রব এবং আমি তোমার দাস। আমি নিজের উপর অনেক অন্যায় করেছি এবং আমি আমার পাপের স্বীকৃতি দিচ্ছি। সুতরাং তুমি আমার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দাও। কারণ তুমি ছাড়া গোনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আর তুমি আমাকে সবচেয়ে উত্তম চরিত্র দান করো। কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ উত্তম চরিত্র দান করতে পারে না। আর তুমি আমাকে খারাপ চরিত্র থেকে বাঁচিয়ে রাখো। কেননা তুমি ছাড়া কেউ মন্দ চরিত্র থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে না। হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত। আমি তোমার সামনে হাযির। সকল কল্যাণ তোমারই হাতে। অমঙ্গল তোমার দিক থেকে নয়। আমি তোমার সাহায্যে তোমার দিকেই মনোনিবেশ করি। হে আল্লাহ! তুমি বরকতময় এবং মহান। আমি তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি এবং তোমার দিকে ফিরে আসি। ২০২

টিকাঃ
২০১ জামে'উল উলুম ওয়াল হিকাম: ১/৯২
২০২ মুসলিম, হাঃ ১৮৪৮।

আরবী বা নিজের মাতৃভাষায় মুখে উচ্চারণ করে নামাযের জন্য নিয়ত পড়া বিদ'আত। নামাযের জন্য নিয়ত করা ফরয, তবে তা আরবী বা অন্য কোন ভাষায় মুখে উচ্চারণ করে নয় রবং তা হবে মনে মনে। কারণ রসূলুল্লাহ নামাযে দাঁড়িয়ে মুখে নিয়ত উচ্চারণ করে পড়েছেন এমন কোন প্রমাণ হাদীসে বর্ণিত হয়নি। কেননা নিয়তের স্থান হল অন্তর। নিয়ত অন্তরের কাজ, মুখের কাজ নয়। হাফেয ইবনে রজব বলেন, নিয়ত হল অন্তরের ইচ্ছা। কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে নিয়ত মুখে বলা ওয়াজিব নয়। ২০১
পক্ষান্তরে যারা বলেন, নিয়ত মনে মনে করতে হয় ঠিক, তবে আরবী বা নিজের মাতৃভাষায় বলা উত্তম একথা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ শরীয়াতে এমন কোন বিষয় অবশিষ্ট নেই যা আমল বা ইবাদাতের জন্য উত্তম অথচ রসূলুল্লাহ কিংবা সাহাবায়ে কেরাম তা বর্ণনা করেননি। সুতরাং রসূলুল্লাহ কিংবা সাহাবায়ে কেরাম যা উত্তম মনে করেননি উম্মতের মধ্যে আর কেউ তা উত্তম মনে করার প্রশ্নই ওঠে না।
জায়নামাযের দু'আ পড়া
নামায শুরু করার পূর্বে জায়নামাযে বা সালাতের জায়গায় দাঁড়িয়ে "ইন্নী ওয়াজ্জাহ্ ....." এ দু'আ পাঠ করা বিদ'আত। কারণ রসূলুল্লাহ নামায শুরু করার পূর্বে জায়নামাযে বা নামাযের জায়গায় দাঁড়িয়ে 'আল্লাহু আকবার' এ তাকবীর বলতেন। কিন্তু এর আগে কোন কিছু পড়েছেন বলে কোন হাদীসে প্রমাণিত নেই।
এ ক্ষেত্রে করণীয়
নামাযের শুরুতে যেটা করণীয় তা হলো প্রথমে মনে মনে নিয়ত করতে হবে। অর্থাৎ কোন্ ওয়াক্তের কোন্ নামায পড়বে তা মনে মনে স্থির করবে। তারপর তাকবীর দিয়ে হাত বাঁধবে। তারপর সানা পাঠ করবে। যে দু'আটি জায়নামাযের দু'আ হিসেবে পাঠ করা হয় সেটি মূলত কুরআনের একটি আয়াত। নবী এ দু'আর সাথে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ দু'আ একত্র করে তাকবীরে তাহরীমার পর সানা হিসেবে পাঠ করতেন। তাই তাকবীর বলার পূর্বে না পড়ে তাকবীর বলার পর সানা হিসেবে হাদীসে যেভাবে এসেছে সেভাবে দু'আটি পাঠ করতে হবে। আলী বলেন, নবী নামায শুরু করার সময় তাকবীর বলতেন এবং এ দু'আ পাঠ করতেন।
وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ ، قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ - اَللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ. أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِ وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ، لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ، أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থ: আমি একনিষ্ঠভাবে ঐ সত্তার দিকে মুখ ফিরালাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন; আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সলাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ সবই বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই। এসব কাজের জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি, আমি হলাম মুসলিমদের মধ্যে একজন। হে আল্লাহ! তুমিই মালিক, তুমি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তুমি আমার রব এবং আমি তোমার দাস। আমি নিজের উপর অনেক অন্যায় করেছি এবং আমি আমার পাপের স্বীকৃতি দিচ্ছি। সুতরাং তুমি আমার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দাও। কারণ তুমি ছাড়া গোনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আর তুমি আমাকে সবচেয়ে উত্তম চরিত্র দান করো। কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ উত্তম চরিত্র দান করতে পারে না। আর তুমি আমাকে খারাপ চরিত্র থেকে বাঁচিয়ে রাখো। কেননা তুমি ছাড়া কেউ মন্দ চরিত্র থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে না। হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত। আমি তোমার সামনে হাযির। সকল কল্যাণ তোমারই হাতে। অমঙ্গল তোমার দিক থেকে নয়। আমি তোমার সাহায্যে তোমার দিকেই মনোনিবেশ করি। হে আল্লাহ! তুমি বরকতময় এবং মহান। আমি তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি এবং তোমার দিকে ফিরে আসি। ২০২

টিকাঃ
২০১ জামে'উল উলুম ওয়াল হিকাম: ১/৯২
২০২ মুসলিম, হাঃ ১৮৪৮。

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে নামায না পড়ে বয়ান শুনার জন্য বসে পড়া

📄 মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে নামায না পড়ে বয়ান শুনার জন্য বসে পড়া


মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে বসে যাওয়া বা জুমু'আর দিন মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে সুন্নাত নামায না পড়ে খুতবা শুনতে বসে যাওয়া কিংবা ইমাম কর্তৃক প্রথমে খুতবা শুনার জন্য সুন্নাত সালাত পড়তে বাঁধা দেয়া এবং খুতবার পরেই সুন্নাত সালাতের জন্য সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া বিদ'আত।
এ ক্ষেত্রে করণীয়: কোন ব্যক্তি যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন তার সর্বপ্রথম দায়িত্ব হলো তাহিয়্যাতুল মসজিদ এর দুরাক'আত সলাত আদায় করা, এমনকি খুতবা চলাকালীন সময়ে হলেও, তারপর বসবে। রসূলুল্লাহ তাহিয়্যাতুল মসজিদের দুরাক'আত নামায কিংবা কোন সুন্নাত নামায না পড়ে বসতে নিষেধ করেছেন। এ ব্যাপারে নবী এর স্পষ্ট নির্দেশ থাকার কারণে এ দুরাক'আত নামায খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ بْنِ رِبْعِيِّ الْأَنْصَارِيِّ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلَا يَجْلِسُ حَتَّى يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ
আবু কাতাদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন দুরাক'আত সলাত আদায় করার পূর্বে না বসে। ২০৩
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ سُلَيْكَ الْغَطَفَانِي وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَخْطُبُ فَقَالَ لَهُ : أَصَلَّيْتَ شَيْئًا قَالَ لَا ، قَالَ : صَلِّ رَكْعَتَيْنِ تَجَوَّزْ فِيهِمَا
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সুলায়েক গাতফানী নামক এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন নবী খুতবা দিচ্ছিলেন। নবী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন সলাত আদায় করেছ? তিনি বললেন, না। তখন নবী বললেন, তুমি দু'রাক'আত সালাত আদায় করো এবং সংক্ষেপ করো। ২০৪

টিকাঃ
২০৩ সহীহ বুখারী, হাঃ ১১৬৭; তিরমিযী, হাঃ ৩১৬; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ২২৭০৫; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হাঃ ৩২০৪; সুনানুল বায়হাকী, হাঃ ৪৭০২。
২০৪ আবু দাউদ, হাঃ ১১১৮; নাসাঈ, হাঃ ১৪০৮。

মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে বসে যাওয়া বা জুমু'আর দিন মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে সুন্নাত নামায না পড়ে খুতবা শুনতে বসে যাওয়া কিংবা ইমাম কর্তৃক প্রথমে খুতবা শুনার জন্য সুন্নাত সালাত পড়তে বাঁধা দেয়া এবং খুতবার পরেই সুন্নাত সালাতের জন্য সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া বিদ'আত।
এ ক্ষেত্রে করণীয়: কোন ব্যক্তি যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন তার সর্বপ্রথম দায়িত্ব হলো তাহিয়্যাতুল মসজিদ এর দুরাক'আত সলাত আদায় করা, এমনকি খুতবা চলাকালীন সময়ে হলেও, তারপর বসবে। রসূলুল্লাহ তাহিয়্যাতুল মসজিদের দুরাক'আত নামায কিংবা কোন সুন্নাত নামায না পড়ে বসতে নিষেধ করেছেন। এ ব্যাপারে নবী এর স্পষ্ট নির্দেশ থাকার কারণে এ দুরাক'আত নামায খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ بْنِ رِبْعِيِّ الْأَنْصَارِيِّ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلَا يَجْلِسُ حَتَّى يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ
আবু কাতাদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন দুরাক'আত সলাত আদায় করার পূর্বে না বসে। ২০৩
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ سُلَيْكَ الْغَطَفَانِي وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَخْطُبُ فَقَالَ لَهُ : أَصَلَّيْتَ شَيْئًا قَالَ لَا ، قَالَ : صَلِّ رَكْعَتَيْنِ تَجَوَّزْ فِيهِمَا
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সুলায়েক গাতফানী নামক এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন নবী খুতবা দিচ্ছিলেন। নবী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন সলাত আদায় করেছ? তিনি বললেন, না। তখন নবী বললেন, তুমি দু'রাক'আত সালাত আদায় করো এবং সংক্ষেপ করো। ২০৪

টিকাঃ
২০৩ সহীহ বুখারী, হাঃ ১১৬৭; তিরমিযী, হাঃ ৩১৬; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ২২৭০৫; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হাঃ ৩২০৪; সুনানুল বায়হাকী, হাঃ ৪৭০২。
২০৪ আবু দাউদ, হাঃ ১১১৮; নাসাঈ, হাঃ ১৪০৮。

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 জুমু‘আর খুতবার সময় মসজিদের জন্য চাঁদা উঠানো

📄 জুমু‘আর খুতবার সময় মসজিদের জন্য চাঁদা উঠানো


জুমু'আর দ্বিতীয় খুতবার সময় কোন টাকা-পয়সা উঠানো এবং কোন টাকা-পয়সা দেয়া বা নেয়া নাজায়েয। এ সময় কোন টাকা-পয়সা দেয়া-নেয়া তো দূরের কথা, বরং কোন কথা বলাও ঠিক নয়। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ : إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتُ . يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেন, জুমু'আর দিন খুতবা চলাকালীন সময়ে তুমি যদি তোমার ভাইকে এ কথা বল যে, চুপ থাকো -তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে। ২০৫
এ ক্ষেত্রে করণীয়: টাকা-পয়সা উঠানোর বিশেষ প্রয়োজন হলে নামাযে সালাম ফিরানোর পরপরই তার ব্যবস্থা করা যায়।

টিকাঃ
২০৫ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাঃ ২৩২; সহীহ মুসলিম, হাঃ ২০০২; নাসাঈ, হাঃ ১৪০২; ইবনে মাজাহ, হা/১১১০; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭৬৭২; ইবনে খুযাইমা, হাঃ ১৮০৫; ইবনে হিব্বান, হাঃ ২৭৯৩।

জুমু'আর দ্বিতীয় খুতবার সময় কোন টাকা-পয়সা উঠানো এবং কোন টাকা-পয়সা দেয়া বা নেয়া নাজায়েয। এ সময় কোন টাকা-পয়সা দেয়া-নেয়া তো দূরের কথা, বরং কোন কথা বলাও ঠিক নয়। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ : إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتُ . يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেন, জুমু'আর দিন খুতবা চলাকালীন সময়ে তুমি যদি তোমার ভাইকে এ কথা বল যে, চুপ থাকো -তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে। ২০৫
এ ক্ষেত্রে করণীয়: টাকা-পয়সা উঠানোর বিশেষ প্রয়োজন হলে নামাযে সালাম ফিরানোর পরপরই তার ব্যবস্থা করা যায়।

টিকাঃ
২০৫ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাঃ ২৩২; সহীহ মুসলিম, হাঃ ২০০২; নাসাঈ, হাঃ ১৪০২; ইবনে মাজাহ, হা/১১১০; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৭৬৭২; ইবনে খুযাইমা, হাঃ ১৮০৫; ইবনে হিব্বান, হাঃ ২৭৯৩。

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 শাহাদাত আংগুলে চুম্বন করা ও চোখে মাসাহ করা

📄 শাহাদাত আংগুলে চুম্বন করা ও চোখে মাসাহ করা


“আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ”- শুনে শাহাদাত আঙ্গুলে চুম্বন করা ও চোখে মাসাহ করা! একটি বিদ'আতী আমল। কারন উক্ত আমল শরী'আত সম্মত নয়। এর পক্ষে কোন সহীহ হাদীস নেই। এর পক্ষে যা কিছু বর্ণনা এসেছে তা জাল বা মিথ্যা। যেমন -
১ম বর্ণনাঃ খিযিরা বলেন, মুয়াযযিন যখন 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ' বলবে, তখন যে ব্যক্তি বলবে, আমার প্রিয় ব্যক্তিকে স্বাগত, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর কারণে আমার চক্ষু শীতল হয়েছে, অতঃপর তার দুই হাতের বৃদ্ধা আংগুলে চুম্বন করবে ও দুই চোখ মাসাহ করবে, সে কখনো অন্ধ হবে না এবং তার চোখও উঠবে না। ২০৬
তাহক্বীক্ব: বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বর্ণনা। এর কোন সনদই নেই। ২০৭
২য় বর্ণনাঃ আবুবকর হতে বর্ণিত, তিনি যখন মুয়াযযিনের 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ' বলা শুনতেন, তখন তিনি অনুরূপ বলতেন। অতঃপর দুই শাহাদাত আঙ্গুলের পেটে চুম্বন করতেন এবং দুই চোখ মাসাহ করতেন। তখন রসূল বলেন, আমার বন্ধু যা করল তা যদি কেউ করে, তবে আমার শাফা'আত তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে। ২০৮
তাহক্বীক্ব : এটিও ডাহা মিথ্যা বর্ণনা। এর কোন সনদ নেই। ২০৯

টিকাঃ
২০৬ ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ আল- জারাহী, কাশফুল খাফা ২/২০৬ পৃঃ; তাযকিরাতুল মাওযু'আত, পৃঃ ৩৪
২০৭ মাক্বাছিদুল হাসানাহ, পৃঃ ৬০৫; আল-ফাওয়াইদুল মাজমূ'আহ ফিল আহাদীছিল মাওযূ'আহ, পৃঃ ২০
২০৮ তাযকিরাতুল মাওযূ'আত, পৃঃ নংঃ ৩৪
২০৯ আব্দুর রহমান আস-সাখাবী, আল- মাক্বাছিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিন মিনাল আহাদীছিল মুশড়হারা আলাল আলসিনাহ, পৃঃ ৬০৫; শাওকানী, আল-ফাওয়াইদুল মাজমু'আহ ফিল আহাদীছিল মাওযূ'আহ, পৃঃ নংঃ ২০

“আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ”- শুনে শাহাদাত আঙ্গুলে চুম্বন করা ও চোখে মাসাহ করা! একটি বিদ'আতী আমল। কারন উক্ত আমল শরী'আত সম্মত নয়। এর পক্ষে কোন সহীহ হাদীস নেই। এর পক্ষে যা কিছু বর্ণনা এসেছে তা জাল বা মিথ্যা। যেমন -
১ম বর্ণনাঃ খিযিরা বলেন, মুয়াযযিন যখন 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ' বলবে, তখন যে ব্যক্তি বলবে, আমার প্রিয় ব্যক্তিকে স্বাগত, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর কারণে আমার চক্ষু শীতল হয়েছে, অতঃপর তার দুই হাতের বৃদ্ধা আংগুলে চুম্বন করবে ও দুই চোখ মাসাহ করবে, সে কখনো অন্ধ হবে না এবং তার চোখও উঠবে না। ২০৬
তাহক্বীক্ব: বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বর্ণনা। এর কোন সনদই নেই। ২০৭
২য় বর্ণনাঃ আবুবকর হতে বর্ণিত, তিনি যখন মুয়াযযিনের 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ' বলা শুনতেন, তখন তিনি অনুরূপ বলতেন। অতঃপর দুই শাহাদাত আঙ্গুলের পেটে চুম্বন করতেন এবং দুই চোখ মাসাহ করতেন। তখন রসূল বলেন, আমার বন্ধু যা করল তা যদি কেউ করে, তবে আমার শাফা'আত তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে। ২০৮
তাহক্বীক্ব : এটিও ডাহা মিথ্যা বর্ণনা। এর কোন সনদ নেই। ২০৯

টিকাঃ
২০৬ ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ আল- জারাহী, কাশফুল খাফা ২/২০৬ পৃঃ; তাযকিরাতুল মাওযু'আত, পৃঃ ৩৪
২০৭ মাক্বাছিদুল হাসানাহ, পৃঃ ৬০৫; আল-ফাওয়াইদুল মাজমূ'আহ ফিল আহাদীছিল মাওযূ'আহ, পৃঃ ২০
২০৮ তাযকিরাতুল মাওযূ'আত, পৃঃ নংঃ ৩৪
২০৯ আব্দুর রহমান আস-সাখাবী, আল- মাক্বাছিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিন মিনাল আহাদীছিল মুশড়হারা আলাল আলসিনাহ, পৃঃ ৬০৫; শাওকানী, আল-ফাওয়াইদুল মাজমু'আহ ফিল আহাদীছিল মাওযূ'আহ, পৃঃ নংঃ ২০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00