📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 মীলাদ কিয়াম করা

📄 মীলাদ কিয়াম করা


"কিয়াম” শব্দের আভিধানিক অর্থ দাঁড়ানো। আর মুআশারা তথা সমাজ সামাজিকতার পরিভাষায় "কিয়াম” বলতে বোঝায় কারও আগমনে দাঁড়ানো। আর মীলাদ প্রসঙ্গে উল্লেখিত কিয়াম দ্বারা বোঝানো হয় বিশেষ ধরনের কাসীদা পাঠ করার পর রসূল মজলিসে হাজির হয়ে গেছেন ধারণায় "ইয়া নবী" বলার সময় দাঁড়িয়ে যাওয়া এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দুরুদ পাঠ করা। কোন বুযুর্গ তথা সম্মানী ব্যক্তি যখন স্বশরীরে আগমন করেন, তখন কোন কোন মুহূর্তে কোন ধরণের বাড়াবাড়ি ছাড়া ক্বেয়াম করা (আগন্তুক ব্যক্তির সম্মানে দাঁড়িয়ে যাওয়া) বৈধ।
অথচ ইসলাম এ ব্যাপারে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে। যেমন- এ ব্যাপারে ইমাম নববী (قُومُوا إِلَىٰ سَيِّدِكُمْ) (অর্থাৎ তোমরা তোমাদের নেতার কাছে গিয়ে দাঁড়াও) হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন। অন্যান্য উলামায়ে কেরাম এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এ ভাবে যে, সাআদ ইবনে মু'আয আহত প্রাপ্ত ছিলেন। নবী কারীম তাঁকে গাঁধার পিঠ থেকে নামানোর জন্য মজলিস থেকে উঠেছিলেন। এটা কোন সম্মান প্রদর্শনের নিমিত্তে দাঁড়ানো নয়। এ ব্যপারে মুসনাদে আহমদে বিবরণ নিম্নরূপঃ
قُومُوا إِلَىٰ سَيِّدِكُمْ فَأَنْزِلُوهُ مِنَ الْحِمَارِ
অর্থাৎ তোমরা তোমাদের নেতার কাছে গিয়ে দাঁড়াও তাঁকে গাঁধার পিঠ থেকে নামাও। এজন্যই إِلَىٰ سَيِّدِكُمْ "তোমাদের নেতার কাছে" কথাটা বলেছে - لِسَيِّدِكُمْ "নেতার জন্য” কথাটা বলেননি। ১৮৭
উপরোক্ত হাদীস অকাট্য অর্থ বোধক না হওয়ায় এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের আমল কি ছিল এবং নবী কারীম ﷺ কোন আমলটিকে পছন্দ করতেন, তা দেখা দরকার এবং সেটাই হবে আমাদের আমল। আর এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে জানা যায় আনাস কর্তৃক বর্ণিত নিমোক্ত হাদীস দ্বারা -
عن انس قال - لم يكن شخص احب اليهم من رسول الله ﷺ وكانوا اذا راوه لم يقوموا لما يعلمون من كراهيته لذلك - رواه الترمذى في اباب الاستيذان عن رسول الله ﷺ - باب ما جاء في ركاهية قيام الرجل للرجل وقال هذا حديث حسن صحيح غريب و رواه احمد حدیث رقم و اسناده صحيح كذا في هامشه
অর্থাৎ, আনাস বলেন, সাহাবায়ে কেরামের কাছে নবী কারীম এর জাত মোবারকের চেয়ে বড় সম্মানের ও প্রিয় এ দুনিয়তে আর কোন কিছুই ছিল না, এতদসত্বেও তাঁরা নবী কারীম ﷺ কে দেখলে কিয়াম করতেন না। যেহেতু তারা জানতেন নবী কারীম ﷺ এ কাজটিকে (তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়ে যাওয়া কিয়াম করাকে) অপছন্দ করেন। ১৮৮
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী কারীম ﷺ নিজের জন্য কিয়াম করাকে অপছন্দ করতেন। তাই সাহাবায়ে কেরাম নবী কারীম ﷺ এর প্রতি চরম ভালবাসা পোষণ করা সত্ত্বেও নবী কারীম ﷺ যখন স্বশরীরে উপস্থিত হতেন তখন তাঁকে দেখতে পেয়েও তাঁরা দাঁড়াতেন না। কেননা, নবী কারীম ﷺ এর জীবদ্দশায় ও তাঁর জন্য কিয়াম করা হত না এবং তিনি তাঁর উদ্দেশ্যে কিয়াম করা তথা দাঁড়িয়ে যাওয়াকে পছন্দ করতেন না।
তদুপরি মীলাদ-মাহফিলে রসূল ﷺ এর নাম আসলে সেখানে রসূল ﷺ এর আগমন ঘটে এটা শরী'আতের কোন দলীল দ্বারাও প্রমাণিত নয় বরং রসূল ﷺ এর উদ্দেশ্যে দুরূদ পাঠ করা হলে তিনি সেখানে হাজির হন না বরং নির্ধারিত ফেরেশতারা রসূল ﷺ এর কাছে সে দুরূদ পৌঁছে দেন- এ কথা স্পষ্ট হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং শারী'য়াতের সঠিক বিধান হলো- সোমবার দিন নফল রোযা পালনের মাধ্যমে রসূলুল্লাহ ﷺ এর অনুসরণ করা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা এবং কোন অবস্থাতেই মীলাদ মাহফিল বা 'ঈদে মীলাদুন্নাবী ইত্যাদি বিদ'আতী কর্মকান্ড না করা।

টিকাঃ
১৮৭ মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, হাঃ ৫২১৫
১৮৮ তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ হা: ৫২৩০

"কিয়াম” শব্দের আভিধানিক অর্থ দাঁড়ানো। আর মুআশারা তথা সমাজ সামাজিকতার পরিভাষায় "কিয়াম” বলতে বোঝায় কারও আগমনে দাঁড়ানো। আর মীলাদ প্রসঙ্গে উল্লেখিত কিয়াম দ্বারা বোঝানো হয় বিশেষ ধরনের কাসীদা পাঠ করার পর রসূল মজলিসে হাজির হয়ে গেছেন ধারণায় "ইয়া নবী" বলার সময় দাঁড়িয়ে যাওয়া এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দুরুদ পাঠ করা। কোন বুযুর্গ তথা সম্মানী ব্যক্তি যখন স্বশরীরে আগমন করেন, তখন কোন কোন মুহূর্তে কোন ধরণের বাড়াবাড়ি ছাড়া ক্বেয়াম করা (আগন্তুক ব্যক্তির সম্মানে দাঁড়িয়ে যাওয়া) বৈধ।
অথচ ইসলাম এ ব্যাপারে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে। যেমন- এ ব্যাপারে ইমাম নববী (قُومُوا إِلَىٰ سَيِّدِكُمْ) (অর্থাৎ তোমরা তোমাদের নেতার কাছে গিয়ে দাঁড়াও) হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন। অন্যান্য উলামায়ে কেরাম এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এ ভাবে যে, সাআদ ইবনে মু'আয আহত প্রাপ্ত ছিলেন। নবী কারীম তাঁকে গাঁধার পিঠ থেকে নামানোর জন্য মজলিস থেকে উঠেছিলেন। এটা কোন সম্মান প্রদর্শনের নিমিত্তে দাঁড়ানো নয়। এ ব্যপারে মুসনাদে আহমদে বিবরণ নিম্নরূপঃ
قُومُوا إِلَىٰ سَيِّدِكُمْ فَأَنْزِلُوهُ مِنَ الْحِمَارِ
অর্থাৎ তোমরা তোমাদের নেতার কাছে গিয়ে দাঁড়াও তাঁকে গাঁধার পিঠ থেকে নামাও। এজন্যই إِلَىٰ سَيِّدِكُمْ "তোমাদের নেতার কাছে" কথাটা বলেছে - لِسَيِّدِكُمْ "নেতার জন্য” কথাটা বলেননি। ১৮৭
উপরোক্ত হাদীস অকাট্য অর্থ বোধক না হওয়ায় এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের আমল কি ছিল এবং নবী কারীম ﷺ কোন আমলটিকে পছন্দ করতেন, তা দেখা দরকার এবং সেটাই হবে আমাদের আমল। আর এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে জানা যায় আনাস কর্তৃক বর্ণিত নিমোক্ত হাদীস দ্বারা -
عن انس قال - لم يكن شخص احب اليهم من رسول الله ﷺ وكانوا اذا راوه لم يقوموا لما يعلمون من كراهيته لذلك - رواه الترمذى في اباب الاستيذان عن رسول الله ﷺ - باب ما جاء في ركاهية قيام الرجل للرجل وقال هذا حديث حسن صحيح غريب و رواه احمد حدیث رقم و اسناده صحيح كذا في هامشه
অর্থাৎ, আনাস বলেন, সাহাবায়ে কেরামের কাছে নবী কারীম এর জাত মোবারকের চেয়ে বড় সম্মানের ও প্রিয় এ দুনিয়তে আর কোন কিছুই ছিল না, এতদসত্বেও তাঁরা নবী কারীম ﷺ কে দেখলে কিয়াম করতেন না। যেহেতু তারা জানতেন নবী কারীম ﷺ এ কাজটিকে (তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়ে যাওয়া কিয়াম করাকে) অপছন্দ করেন। ১৮৮
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী কারীম ﷺ নিজের জন্য কিয়াম করাকে অপছন্দ করতেন। তাই সাহাবায়ে কেরাম নবী কারীম ﷺ এর প্রতি চরম ভালবাসা পোষণ করা সত্ত্বেও নবী কারীম ﷺ যখন স্বশরীরে উপস্থিত হতেন তখন তাঁকে দেখতে পেয়েও তাঁরা দাঁড়াতেন না। কেননা, নবী কারীম ﷺ এর জীবদ্দশায় ও তাঁর জন্য কিয়াম করা হত না এবং তিনি তাঁর উদ্দেশ্যে কিয়াম করা তথা দাঁড়িয়ে যাওয়াকে পছন্দ করতেন না।
তদুপরি মীলাদ-মাহফিলে রসূল ﷺ এর নাম আসলে সেখানে রসূল ﷺ এর আগমন ঘটে এটা শরী'আতের কোন দলীল দ্বারাও প্রমাণিত নয় বরং রসূল ﷺ এর উদ্দেশ্যে দুরূদ পাঠ করা হলে তিনি সেখানে হাজির হন না বরং নির্ধারিত ফেরেশতারা রসূল ﷺ এর কাছে সে দুরূদ পৌঁছে দেন- এ কথা স্পষ্ট হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং শারী'য়াতের সঠিক বিধান হলো- সোমবার দিন নফল রোযা পালনের মাধ্যমে রসূলুল্লাহ ﷺ এর অনুসরণ করা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা এবং কোন অবস্থাতেই মীলাদ মাহফিল বা 'ঈদে মীলাদুন্নাবী ইত্যাদি বিদ'আতী কর্মকান্ড না করা।

টিকাঃ
১৮৭ মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, হাঃ ৫২১৫
১৮৮ তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ হা: ৫২৩০

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 পবিত্রতা সংক্রান্ত বিদ‘আত

📄 পবিত্রতা সংক্রান্ত বিদ‘আত


ওযু করার সময় বিশেষ দু'আ পাঠ করাঃ
ওযু করার সময় "বিসমিল্লাহিল 'আলিয়্যিল 'আযীম ওয়াল হামদুলিল্লাহি 'আলা দ্বীনিল ইসলাম....' এই দু'আ পাঠ করা বিদ'আত। কেননা, রসূলুল্লাহ ওযু করার সময় এই দু'আ পাঠ করেছেন কিংবা পাঠ করতে বলেছেন তার কোন প্রমাণ নেই। তাছাড়া ওযুর প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধোয়ার সময় দু'আ হিসেবে যেসব বাক্য আছে তাও কোন হাদীসের কিতাবে নেই।
এ ক্ষেত্রে করণীয়: মূলত ওযুর সুন্নাত হলো- প্রথমত বিসমিল্লাহ বলে ওযু শুরু করা। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا مَسَّ طَهُورَهُ يُسَبِّي اللَّهَ
আয়েশা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ যখন পবিত্রতা অর্জন করতেন তখন তিনি বিসমিল্লাহ বলে শুরু করতেন। ১৮৯
ওযু শেষ হলে নিচের দু'আটি পড়বে:
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَةً لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
উচ্চারণঃ আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারসূলুহ্।
অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। আর আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রসূল।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ ، فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ ، ثُمَّ يَقُوْلُ : أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ ، يَدْخُلُ مِنْ أَيْهَا شَاءَ
উমর ইবনে খাত্তাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন, যখন কোন মুসলিম সুন্দরভাবে ওযু করবে তারপর এ দু'আটি পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে। ১৯০
অন্য হাদীসে উপরোক্ত দু'আর সাথে এ অংশটুকুও বর্ণিত রয়েছে,
﴿اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ ، وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ﴾
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মাজ'আল্লী মিনাত্তাওয়া-বীন, ওয়াজ্'আল্লী মিনাল্ মুতাত্বাহিরীন।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।১৯১

টিকাঃ
১৮৯ দার কুতনী, হাঃ ২৩১
১৯০ ইবনে মাজাহ, হাঃ ৪৭০; সুনানে নাসাঈ, হাঃ ১৪৮; সহীহ মুসলিম, হা: ৫৭৬; আবু দাউদ, হাঃ ১৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ১৭৩৫২; ইবনে খুযাইমা, হাঃ ২২৩; মিশকাত, হাঃ ২৮৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হাঃ ২২৪।
১৯১ তিরমিযী, হা: ৫৫।

ওযু করার সময় বিশেষ দু'আ পাঠ করাঃ
ওযু করার সময় "বিসমিল্লাহিল 'আলিয়্যিল 'আযীম ওয়াল হামদুলিল্লাহি 'আলা দ্বীনিল ইসলাম....' এই দু'আ পাঠ করা বিদ'আত। কেননা, রসূলুল্লাহ ওযু করার সময় এই দু'আ পাঠ করেছেন কিংবা পাঠ করতে বলেছেন তার কোন প্রমাণ নেই। তাছাড়া ওযুর প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধোয়ার সময় দু'আ হিসেবে যেসব বাক্য আছে তাও কোন হাদীসের কিতাবে নেই।
এ ক্ষেত্রে করণীয়: মূলত ওযুর সুন্নাত হলো- প্রথমত বিসমিল্লাহ বলে ওযু শুরু করা। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا مَسَّ طَهُورَهُ يُسَبِّي اللَّهَ
আয়েশা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ যখন পবিত্রতা অর্জন করতেন তখন তিনি বিসমিল্লাহ বলে শুরু করতেন। ১৮৯
ওযু শেষ হলে নিচের দু'আটি পড়বে:
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَةً لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
উচ্চারণঃ আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারসূলুহ্।
অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। আর আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রসূল।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ ، فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ ، ثُمَّ يَقُوْلُ : أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ ، يَدْخُلُ مِنْ أَيْهَا شَاءَ
উমর ইবনে খাত্তাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন, যখন কোন মুসলিম সুন্দরভাবে ওযু করবে তারপর এ দু'আটি পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে। ১৯০
অন্য হাদীসে উপরোক্ত দু'আর সাথে এ অংশটুকুও বর্ণিত রয়েছে,
﴿اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ ، وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ﴾
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মাজ'আল্লী মিনাত্তাওয়া-বীন, ওয়াজ্'আল্লী মিনাল্ মুতাত্বাহিরীন।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।১৯১

টিকাঃ
১৮৯ দার কুতনী, হাঃ ২৩১
১৯০ ইবনে মাজাহ, হাঃ ৪৭০; সুনানে নাসাঈ, হাঃ ১৪৮; সহীহ মুসলিম, হা: ৫৭৬; আবু দাউদ, হাঃ ১৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ১৭৩৫২; ইবনে খুযাইমা, হাঃ ২২৩; মিশকাত, হাঃ ২৮৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হাঃ ২২৪。
১৯১ তিরমিযী, হা: ৫৫。

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 আযান সংক্রান্ত বিদ‘আত

📄 আযান সংক্রান্ত বিদ‘আত


আযান দেয়ার পূর্বে সলাত ও সালাম পেশ করা: ফরয নামাযের জন্য আযান দেয়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আযানের উদ্দেশ্য হলো এলাকাবাসী সকলে যেন একই সময়ে মসজিদে সমবেত হতে পারে এবং জামা'আতের সাথে সালাত আদায় করতে পারে তার সুব্যবস্থা করা। মুয়াজ্জিন কর্তৃক নামাযের উদ্দেশ্য দিনের নির্ধারিত সময়ে ৫ বার আহবান করাকে আযান বলা হয়। আযান (আযান) শব্দের মূল অর্থ দাঁড়ায় আযনٌ শোন্; যার মূল উদ্দেশ্য হল অবগত করানো। এই শব্দের আরেকটি বুৎপত্তিগত অর্থ হল আজুন। (إِذْنٌ) যার অর্থ হল "শোনা"। আযানের শব্দগুলো যেমন ভাবে সালফে সালেহীনদের থেকে নকল হয়ে আসছে সেভাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বর্তমান সময়ের বিভিন্ন জায়গায় আযানের পূর্বে নামায ও সালাম ইত্যাদি যা বলা হয় তা সালফে সালেহীনদের কাছ থেকে বর্ণিত না থাকার কারণে বিদ'আত এবং এটা সম্পূর্ণ পরিত্যাজ্য। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ﴾
আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমা অতিক্রম করল, সে নিজের উপর যুলুম করল। ১৯২
আযান দেয়ার পর মাইকে আযানের দু'আ পাঠ করা: মাইকের আযান দেয়ার লক্ষ্য হলো মানুষ যাতে নামাযের আহ্বান শুনতে পায়। কিন্তু দু'আর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য কোনটিই মানুষের শুনার জন্য নয় বরং দু'আ করতে হবে আল্লাহর কাছে এবং এর লক্ষ্য হবে তিনি যাতে তা কবুল করেন। আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করার নিয়ম হলো, চুপে চুপে অনুচ্চৈঃস্বরে এবং কাকুতি- মিনতি সহকারে দু'আ করা। আল্লাহ তা'আলা এ প্রসঙ্গে বলেন,
﴿ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ﴾
তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো- বিনয় ও ভয় সহকারে। নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। ১৯৩
আযানের পর হাত তুলে দু'আ করা: যে সমস্ত দু'আয় হাত উঠানোর বর্ণনা নেই, সেসব দু'আয় হাত উঠানোর প্রয়োজন নেই।
عَنْ حُصَيْنٌ قَالَ : سَمِعْتُ عُمَارَةَ بْنَ رُوَيْبَةَ ، وَبِشْرُ بْنُ مَرْوَانَ يَخْطُبُ ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ فِي الدُّعَاءِ ، فَقَالَ عُمَارَةُ : قَبَّحَ اللهُ هَاتَيْنِ الْيُدَيَّتَيْنِ القُصَيَّرَتَيْنِ ، لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ، وَمَا يَزِيدُ عَلَى أَنْ يَقُولَ هُكَذَا، وَأَشَارَ هُشَيْمٌ بِالسَّبَّابَةِ.
হুসাইন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমারাহ ইবনে রুওয়াইবা থেকে শুনেছি যে, একদা বিশর ইবনে মারওয়ান খুতবা দিচ্ছিলেন এবং দু'আ করার সময় হাত উত্তোলন করেন। তখন ওমর বলেন, আল্লাহ তা'আলা ঐ ছোট হাত দুটিকে ধ্বংস করুন। আমি রসূলুল্লাহ কে খুতবা দিতে দেখেছি, কিন্তু এ থেকে অতিরিক্ত কিছু করতে দেখিনি। অতঃপর তিনি শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেন। অর্থাৎ রসূলুল্লাহ যেভাবে আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতেন সেভাবে ইশারা করে তিনি দেখালেন। ১৯৪

টিকাঃ
১৯২ সূরা তালাক - ১
১৯৩ সূরা আরাফ: ৫৫
১৯৪ তিরমিযী, হা: ৫১৫; শারহুস সুন্নাহ, হাঃ ১০৭৯।

আযান দেয়ার পূর্বে সলাত ও সালাম পেশ করা: ফরয নামাযের জন্য আযান দেয়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আযানের উদ্দেশ্য হলো এলাকাবাসী সকলে যেন একই সময়ে মসজিদে সমবেত হতে পারে এবং জামা'আতের সাথে সালাত আদায় করতে পারে তার সুব্যবস্থা করা। মুয়াজ্জিন কর্তৃক নামাযের উদ্দেশ্য দিনের নির্ধারিত সময়ে ৫ বার আহবান করাকে আযান বলা হয়। আযান (আযান) শব্দের মূল অর্থ দাঁড়ায় আযনٌ শোন্; যার মূল উদ্দেশ্য হল অবগত করানো। এই শব্দের আরেকটি বুৎপত্তিগত অর্থ হল আজুন। (إِذْنٌ) যার অর্থ হল "শোনা"। আযানের শব্দগুলো যেমন ভাবে সালফে সালেহীনদের থেকে নকল হয়ে আসছে সেভাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বর্তমান সময়ের বিভিন্ন জায়গায় আযানের পূর্বে নামায ও সালাম ইত্যাদি যা বলা হয় তা সালফে সালেহীনদের কাছ থেকে বর্ণিত না থাকার কারণে বিদ'আত এবং এটা সম্পূর্ণ পরিত্যাজ্য। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ﴾
আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমা অতিক্রম করল, সে নিজের উপর যুলুম করল। ১৯২
আযান দেয়ার পর মাইকে আযানের দু'আ পাঠ করা: মাইকের আযান দেয়ার লক্ষ্য হলো মানুষ যাতে নামাযের আহ্বান শুনতে পায়। কিন্তু দু'আর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য কোনটিই মানুষের শুনার জন্য নয় বরং দু'আ করতে হবে আল্লাহর কাছে এবং এর লক্ষ্য হবে তিনি যাতে তা কবুল করেন। আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করার নিয়ম হলো, চুপে চুপে অনুচ্চৈঃস্বরে এবং কাকুতি- মিনতি সহকারে দু'আ করা। আল্লাহ তা'আলা এ প্রসঙ্গে বলেন,
﴿ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ﴾
তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো- বিনয় ও ভয় সহকারে। নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। ১৯৩
আযানের পর হাত তুলে দু'আ করা: যে সমস্ত দু'আয় হাত উঠানোর বর্ণনা নেই, সেসব দু'আয় হাত উঠানোর প্রয়োজন নেই।
عَنْ حُصَيْنٌ قَالَ : سَمِعْتُ عُمَارَةَ بْنَ رُوَيْبَةَ ، وَبِشْرُ بْنُ مَرْوَانَ يَخْطُبُ ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ فِي الدُّعَاءِ ، فَقَالَ عُمَارَةُ : قَبَّحَ اللهُ هَاتَيْنِ الْيُدَيَّتَيْنِ القُصَيَّرَتَيْنِ ، لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ ، وَمَا يَزِيدُ عَلَى أَنْ يَقُولَ هُكَذَا، وَأَشَارَ هُشَيْمٌ بِالسَّبَّابَةِ.
হুসাইন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমারাহ ইবনে রুওয়াইবা থেকে শুনেছি যে, একদা বিশর ইবনে মারওয়ান খুতবা দিচ্ছিলেন এবং দু'আ করার সময় হাত উত্তোলন করেন। তখন ওমর বলেন, আল্লাহ তা'আলা ঐ ছোট হাত দুটিকে ধ্বংস করুন। আমি রসূলুল্লাহ কে খুতবা দিতে দেখেছি, কিন্তু এ থেকে অতিরিক্ত কিছু করতে দেখিনি। অতঃপর তিনি শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেন। অর্থাৎ রসূলুল্লাহ যেভাবে আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতেন সেভাবে ইশারা করে তিনি দেখালেন। ১৯৪

টিকাঃ
১৯২ সূরা তালাক - ১
১৯৩ সূরা আরাফ: ৫৫
১৯৪ তিরমিযী, হা: ৫১৫; শারহুস সুন্নাহ, হাঃ ১০৭৯。

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 আযানের দু‘আয় বাড়তি বিষয়সমূহ

📄 আযানের দু‘আয় বাড়তি বিষয়সমূহ


আযানের দু'আয় কয়েকটি বিষয় বাড়তিভাবে চালু হয়েছে, যা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। কারণ রসূলুল্লাহ কঠোরভাবে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যারোপ করল, সে জাহান্নামে তার ঠিকানা করে নিল'।১৯৫
সাহাবী বারা বিন আযেব রাতে শয়নকালে রসূলুল্লাহ - এর শিখানো একটি দু'আয় 'আ-মানতু বে নাবিইয়েকাল্লাযী আরসালতা' - এর স্থলে 'বে রসূলেকা' বলেছিলেন। তাতেই রসূলুল্লাহ রেগে ওঠেন ও তার বুকে ধাক্কা দিয়ে 'বে নাবিইয়্যেকা' বলার তাকীদ করেন। অথচ সেখানে অথের কোন তারতম্য ছিল না। প্রকাশ থাকে যে, আযান একটি ইবাদত। এতে কোনরূপ কমবেশী করা জায়েয নয়। তবুও আযানের দু'আয় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্য যোগ হয়েছে, যার কিছু নিম্নরূপ:
(১) বায়হাক্বীতে বর্ণিত আযানের দু'আর শুরুতে 'আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস- আলুকা বি হাকক্বি হা-যিহিদ দাওয়াতে'
(২) একই হাদীসের শেষে বর্ণিত 'ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী'আ-দ
(৩) ইমাম ত্বাহাভীর 'শারহু মা'আনিল আসার'-য়ে বর্ণিত 'আ-তে সাইয়্যিদানা মুহাম্মাদান'
(৪) ইবনুস সুন্নীর 'ফী 'আমালিল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ'তে 'ওয়াদ্দারাজাতার রাফী'আতা'
(৫) রাফেঈ প্রণীত 'আল-মুহারির'- য়ে আযানের দু'আর শেষে বর্ণিত 'ইয়া আরহামার রা-হিমীন'।
(৬) আযান বা ইক্বামতে 'আশহাদু আন্না সাইয়্যেদানা মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ' বলা।১৯৬
(৭) বর্তমানে রেডিও বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে প্রচারিত আযানের দু'আয় 'ওয়ারঝুকুনা শাফা'আতাহ্ ইয়াওমাল ক্বিয়া-মাহ' বাক্যটি যোগ করা হচ্ছে। যার কোন শারঈ ভিত্তি জানা যায় না। এছাড়া ওয়াল ফাযীলাতা-র পরে ওয়াদ্দারাজাতার রাফী'আতা এবং শেষে ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী'আ-দ যোগ করা হয় যা পরিত্যাজ্য।
(৮) মাইকে আযানের দু'আ পাঠ করা, অতঃপর শেষে লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লা-হ, সাল্লাল্লা-হু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা। ১৯৭
এ ক্ষেত্রে করণীয়:
আযানের পর নির্দিষ্ট দু'আ পাঠ করা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে এবং তা সাহাবায়ে কেরাম এবং সালফে সালেহীনদের সময়কাল থেকে নিঃসন্দেহে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। কিন্তু দু'আ পাঠ করার সময় হাত উঠানো কিছুতেই প্রমাণিত নয়। আযান শেষ হলে প্রথমে নবীর উপর দরূদ পড়া সুন্নাত।১৯৮
তারপর নিচের দু'আটি পড়বে -
اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدَنِ الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُودَنِ الَّذِي وَعَدْتَهُ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা রাব্বা হা-যিহিদ্‌ দা'ওয়াতিত্তা-ম্মাহ, ওয়াসসালা-তিল ক্বা-ইমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়ালফাযীলাহ, ওয়াব'আছহু মাক্বা- মাম্ মাহমূদানিল্লাযী ওয়া'আত্তাহ।
অর্থঃ হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত নামাযের তুমিই প্রভু। মুহাম্মাদ কে দান কর ওসীলা নামক স্থান ও মর্যাদা। আর তাঁকে অধিষ্ঠিত কর সেই প্রশংসিত স্থানে, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছ।১৯৯
হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ : إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُوْلُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَى فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةٌ ﷺ بِهَا عَشْرًا ثُمَّ سَلُوا اللَّهَ لِي الْوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لَا تَنْبَغِي إِلَّا لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস থেকে বর্ণিত। তিনি নবী কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মুওয়াযযিনকে আযান দিতে শুন, তখন সে যা বলে তোমরাও তাই বলো। অতঃপর আমার উপর দরূদ পাঠ করো। কেননা, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে ওসীলা প্রার্থনা করো। কেননা, ওসীলা জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেয়া হবে। আমি আশা করি, আমিই হব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলা প্রার্থনা করবে তার জন্য (আমার) শাফা'আত ওয়াজিব হয়ে যাবে। ২০০

টিকাঃ
১৯৫ বুখারী, মিশকাত, হাঃ ১৯৮ 'ইল্ম' অধ্যায়-২
১৯৬ ফিক্বহুস সুন্নাহ পৃঃ ১/৯২
১৯৭ বায়হাক্বী, ১ম খন্ড, পৃঃ ৪১০
১৯৮ মুসলিম, মিশকাত, হা।৪৬৫ও
১৯৯ মুসলিম, মিশকাত, হাঃ ৬৫৯
২০০ সহীহ মুসলিম, হাঃ ৮৭৫; আবু দাউদ, হাঃ ৫২৩; তিরমিযী, হাঃ ৩৬১৪; নাসাঈ, হাঃ ৬৭৮; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৬৫৬৮; ইবনে খুযাইমা, হাঃ ৪১৮; ইবনে হিব্বান, হাঃ ১৬৯০।

আযানের দু'আয় কয়েকটি বিষয় বাড়তিভাবে চালু হয়েছে, যা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। কারণ রসূলুল্লাহ কঠোরভাবে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যারোপ করল, সে জাহান্নামে তার ঠিকানা করে নিল'।১৯৫
সাহাবী বারা বিন আযেব রাতে শয়নকালে রসূলুল্লাহ - এর শিখানো একটি দু'আয় 'আ-মানতু বে নাবিইয়েকাল্লাযী আরসালতা' - এর স্থলে 'বে রসূলেকা' বলেছিলেন। তাতেই রসূলুল্লাহ রেগে ওঠেন ও তার বুকে ধাক্কা দিয়ে 'বে নাবিইয়্যেকা' বলার তাকীদ করেন। অথচ সেখানে অথের কোন তারতম্য ছিল না। প্রকাশ থাকে যে, আযান একটি ইবাদত। এতে কোনরূপ কমবেশী করা জায়েয নয়। তবুও আযানের দু'আয় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্য যোগ হয়েছে, যার কিছু নিম্নরূপ:
(১) বায়হাক্বীতে বর্ণিত আযানের দু'আর শুরুতে 'আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস- আলুকা বি হাকক্বি হা-যিহিদ দাওয়াতে'
(২) একই হাদীসের শেষে বর্ণিত 'ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী'আ-দ
(৩) ইমাম ত্বাহাভীর 'শারহু মা'আনিল আসার'-য়ে বর্ণিত 'আ-তে সাইয়্যিদানা মুহাম্মাদান'
(৪) ইবনুস সুন্নীর 'ফী 'আমালিল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ'তে 'ওয়াদ্দারাজাতার রাফী'আতা'
(৫) রাফেঈ প্রণীত 'আল-মুহারির'- য়ে আযানের দু'আর শেষে বর্ণিত 'ইয়া আরহামার রা-হিমীন'।
(৬) আযান বা ইক্বামতে 'আশহাদু আন্না সাইয়্যেদানা মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ' বলা।১৯৬
(৭) বর্তমানে রেডিও বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে প্রচারিত আযানের দু'আয় 'ওয়ারঝুকুনা শাফা'আতাহ্ ইয়াওমাল ক্বিয়া-মাহ' বাক্যটি যোগ করা হচ্ছে। যার কোন শারঈ ভিত্তি জানা যায় না। এছাড়া ওয়াল ফাযীলাতা-র পরে ওয়াদ্দারাজাতার রাফী'আতা এবং শেষে ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী'আ-দ যোগ করা হয় যা পরিত্যাজ্য।
(৮) মাইকে আযানের দু'আ পাঠ করা, অতঃপর শেষে লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লা-হ, সাল্লাল্লা-হু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা। ১৯৭
এ ক্ষেত্রে করণীয়:
আযানের পর নির্দিষ্ট দু'আ পাঠ করা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে এবং তা সাহাবায়ে কেরাম এবং সালফে সালেহীনদের সময়কাল থেকে নিঃসন্দেহে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। কিন্তু দু'আ পাঠ করার সময় হাত উঠানো কিছুতেই প্রমাণিত নয়। আযান শেষ হলে প্রথমে নবীর উপর দরূদ পড়া সুন্নাত।১৯৮
তারপর নিচের দু'আটি পড়বে -
اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدَنِ الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُودَنِ الَّذِي وَعَدْتَهُ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা রাব্বা হা-যিহিদ্‌ দা'ওয়াতিত্তা-ম্মাহ, ওয়াসসালা-তিল ক্বা-ইমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়ালফাযীলাহ, ওয়াব'আছহু মাক্বা- মাম্ মাহমূদানিল্লাযী ওয়া'আত্তাহ।
অর্থঃ হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত নামাযের তুমিই প্রভু। মুহাম্মাদ কে দান কর ওসীলা নামক স্থান ও মর্যাদা। আর তাঁকে অধিষ্ঠিত কর সেই প্রশংসিত স্থানে, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছ।১৯৯
হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ : إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُوْلُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَى فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةٌ ﷺ بِهَا عَشْرًا ثُمَّ سَلُوا اللَّهَ لِي الْوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لَا تَنْبَغِي إِلَّا لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস থেকে বর্ণিত। তিনি নবী কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মুওয়াযযিনকে আযান দিতে শুন, তখন সে যা বলে তোমরাও তাই বলো। অতঃপর আমার উপর দরূদ পাঠ করো। কেননা, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে ওসীলা প্রার্থনা করো। কেননা, ওসীলা জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেয়া হবে। আমি আশা করি, আমিই হব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলা প্রার্থনা করবে তার জন্য (আমার) শাফা'আত ওয়াজিব হয়ে যাবে। ২০০

টিকাঃ
১৯৫ বুখারী, মিশকাত, হাঃ ১৯৮ 'ইল্ম' অধ্যায়-২
১৯৬ ফিক্বহুস সুন্নাহ পৃঃ ১/৯২
১৯৭ বায়হাক্বী, ১ম খন্ড, পৃঃ ৪১০
১৯৮ মুসলিম, মিশকাত, হা।৪৬৫ও
১৯৯ মুসলিম, মিশকাত, হাঃ ৬৫৯
২০০ সহীহ মুসলিম, হাঃ ৮৭৫; আবু দাউদ, হাঃ ৫২৩; তিরমিযী, হাঃ ৩৬১৪; নাসাঈ, হাঃ ৬৭৮; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ৬৫৬৮; ইবনে খুযাইমা, হাঃ ৪১৮; ইবনে হিব্বান, হাঃ ১৬৯০。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00