📄 আমাদের দেশে উল্লেখযোগ্য বিদ‘আতসমূহ
আমাদের দেশে আরও বহু বিদ'আতী কাজ সংগঠিত হচ্ছে। তাই একজন খাঁটি মুসলিম কোন আমল সম্পাদনের আগে অবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে যে, তার কৃত আমলটি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমানিত কি না? কিন্তু আমাদের দেশের সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মানুষ এমন অনেক কাজ বা আমলের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে রেখেছেন যার সাথে শরীয়তে মুহাম্মাদ (ﷺ) আমলের সাথে কোন মিল নেই। অথচ ইসলামে এর কোন ভিত্তি নেই এবং সম্পূর্ণ বিদ'আত। নিম্নে বাংলাদেশে প্রচলিত কতিপয় বিদ'আত ও কুসংস্কার বিষয়গুলো থেকে কয়েকটি বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ
আমাদের দেশে আরও বহু বিদ'আতী কাজ সংগঠিত হচ্ছে। তাই একজন খাঁটি মুসলিম কোন আমল সম্পাদনের আগে অবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে যে, তার কৃত আমলটি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমানিত কি না? কিন্তু আমাদের দেশের সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মানুষ এমন অনেক কাজ বা আমলের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে রেখেছেন যার সাথে শরীয়তে মুহাম্মাদ (ﷺ) আমলের সাথে কোন মিল নেই। অথচ ইসলামে এর কোন ভিত্তি নেই এবং সম্পূর্ণ বিদ'আত। নিম্নে বাংলাদেশে প্রচলিত কতিপয় বিদ'আত ও কুসংস্কার বিষয়গুলো থেকে কয়েকটি বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ
আমাদের দেশে আরও বহু বিদ'আতী কাজ সংগঠিত হচ্ছে। তাই একজন খাঁটি মুসলিম কোন আমল সম্পাদনের আগে অবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে যে, তার কৃত আমলটি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমানিত কি না? কিন্তু আমাদের দেশের সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মানুষ এমন অনেক কাজ বা আমলের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে রেখেছেন যার সাথে শরীয়তে মুহাম্মাদ (ﷺ) আমলের সাথে কোন মিল নেই। অথচ ইসলামে এর কোন ভিত্তি নেই এবং সম্পূর্ণ বিদ'আত। নিম্নে বাংলাদেশে প্রচলিত কতিপয় বিদ'আত ও কুসংস্কার বিষয়গুলো থেকে কয়েকটি বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ
📄 মুহররম ও আশুরা কেন্দ্রিক বিদ‘আত
মহররম মাসের ১০ তারিখ আশুরার দিনকে কেন্দ্র করে খিচুড়ি বা বিরানী খাওয়া এবং মাতমের অনুষ্ঠান করা, তাজিয়া মিছিল করা ইত্যাদি বিদ'আত। প্রকৃতপক্ষে আশুরার দিন ও তার পূর্ববর্তী অথবা পরবর্তী দিন- এ দুদিন একমাত্র নফল রোযা রাখাই সুন্নাত। এছাড়া অন্য কোন আমলের শরয়ী ভিত্তি নেই। নবী (ﷺ) বলেন,
صِيَامُ يَوْمٍ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يَكَفِّرَ السَّنَةَ اللَّتِي قَبْلَهُ
আমি আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, আশুরার রোযা বিগত এক বছরের গোনাহের কাফফারা হয়ে যাবে। ১৮২
টিকাঃ
১৮২ সহীহ মুসলিম, হাঃ ২৮০৩; আবু দাউদ, হাঃ ২৪২৭; তিরমিযী, হাঃ ৭৫২; ইবনে মাজাহ, হাঃ ১৭৩৮; ইবনে খুযাইমা, হাঃ ২০৮৭; ইবনে হিব্বান, হাঃ ৩৬৩২; মিশকাত, হা: ২০৪৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা: ১০১৭
মহররম মাসের ১০ তারিখ আশুরার দিনকে কেন্দ্র করে খিচুড়ি বা বিরানী খাওয়া এবং মাতমের অনুষ্ঠান করা, তাজিয়া মিছিল করা ইত্যাদি বিদ'আত। প্রকৃতপক্ষে আশুরার দিন ও তার পূর্ববর্তী অথবা পরবর্তী দিন- এ দুদিন একমাত্র নফল রোযা রাখাই সুন্নাত। এছাড়া অন্য কোন আমলের শরয়ী ভিত্তি নেই। নবী (ﷺ) বলেন,
صِيَامُ يَوْمٍ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يَكَفِّرَ السَّنَةَ اللَّتِي قَبْلَهُ
আমি আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, আশুরার রোযা বিগত এক বছরের গোনাহের কাফফara হয়ে যাবে। ১৮২
টিকাঃ
১৮২ সহীহ মুসলিম, হাঃ ২৮০৩; আবু দাউদ, হাঃ ২৪২৭; তিরমিযী, হাঃ ৭৫২; ইবনে মাজাহ, হাঃ ১৭৩৮; ইবনে খুযাইমা, হাঃ ২০৮৭; ইবনে হিব্বান, হাঃ ৩৬৩২; মিশকাত, হা: ২০৪৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা: ১০১৭
মহররম মাসের ১০ তারিখ আশুরার দিনকে কেন্দ্র করে খিচুড়ি বা বিরানী খাওয়া এবং মাতমের অনুষ্ঠান করা, তাজিয়া মিছিল করা ইত্যাদি বিদ'আত। প্রকৃতপক্ষে আশুরার দিন ও তার পূর্ববর্তী অথবা পরবর্তী দিন- এ দুদিন একমাত্র নফল রোযা রাখাই সুন্নাত। এছাড়া অন্য কোন আমলের শরয়ী ভিত্তি নেই। নবী (ﷺ) বলেন,
صِيَامُ يَوْمٍ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يَكَفِّرَ السَّنَةَ اللَّتِي قَبْلَهُ
আমি আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, আশুরার রোযা বিগত এক বছরের গোনাহের কাফফara হয়ে যাবে। ১৮২
টিকাঃ
১৮২ সহীহ মুসলিম, হাঃ ২৮০৩; আবু দাউদ, হাঃ ২৪২৭; তিরমিযী, হাঃ ৭৫২; ইবনে মাজাহ, হাঃ ১৭৩৮; ইবনে খুযাইমা, হাঃ ২০৮৭; ইবনে হিব্বান, হাঃ ৩৬৩২; মিশকাত, হা: ২০৪৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা: ১০১৭
📄 সফর মাসের শেষ বুধবার ‘আখেরী চাহার শোম্বা’ পালন করা
সফর মাসের শেষ বুধবারকে ফার্সীতে বলা হয় 'আখেরী চাহার শোম্বা'। নবী (ﷺ) তাঁর জীবনের শেষ পর্যায়ে সফর মাসের শেষ বুধবারে অসুস্থতা থেকে সুস্থতা অনুভব করেছিলেন। তাই ঐ দিনকে কেন্দ্র করে তা পালন করা এবং ঐ দিন কলাপাতা কিংবা কাগজে কোন দু'আ লিখে তা ভিজিয়ে ঐ পানি দিয়ে গোসল করা হলে এবং ঐ পানি পান করা হলে সারা বছর রোগমুক্ত থাকা যাবে- এসব আক্বীদা-বিশ্বাস সম্পূর্ণ নব উদ্ভাবিত। রসূলুল্লাহ যেমন ঐ দিনের কোন ফযীলত বর্ণনা করেননি কিংবা ঐ দিনে কাউকে কোন আমল করতে বলেননি, তেমনি কোন সাহাবায়ে কেরামও ঐ দিবস পালন করেছেন কিংবা ঐ দিনকে কেন্দ্র করে কোন আমল করছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং ঐ দিনকে কেন্দ্র করে কোন দিবস পালন করা বা কোন ধরনের আমল করা সম্পূর্ণ বিদ'আত।
সফর মাসের শেষ বুধবারকে ফার্সীতে বলা হয় 'আখেরী চাহার শোম্বা'। নবী (ﷺ) তাঁর জীবনের শেষ পর্যায়ে সফর মাসের শেষ বুধবারে অসুস্থতা থেকে সুস্থতা অনুভব করেছিলেন। তাই ঐ দিনকে কেন্দ্র করে তা পালন করা এবং ঐ দিন কলাপাতা কিংবা কাগজে কোন দু'আ লিখে তা ভিজিয়ে ঐ পানি দিয়ে গোসল করা হলে এবং ঐ পানি পান করা হলে সারা বছর রোগমুক্ত থাকা যাবে- এসব আক্বীদা-বিশ্বাস সম্পূর্ণ নব উদ্ভাবিত। রসূলুল্লাহ যেমন ঐ দিনের কোন ফযীলত বর্ণনা করেননি কিংবা ঐ দিনে কাউকে কোন আমল করতে বলেননি, তেমনি কোন সাহাবায়ে কেরামও ঐ দিবস পালন করেছেন কিংবা ঐ দিনকে কেন্দ্র করে কোন আমল করছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং ঐ দিনকে কেন্দ্র করে কোন দিবস পালন করা বা কোন ধরনের আমল করা সম্পূর্ণ বিদ'আত।
সফর মাসের শেষ বুধবারকে ফার্সীতে বলা হয় 'আখেরী চাহার শোম্বা'। নবী (ﷺ) তাঁর জীবনের শেষ পর্যায়ে সফর মাসের শেষ বুধবারে অসুস্থতা থেকে সুস্থতা অনুভব করেছিলেন। তাই ঐ দিনকে কেন্দ্র করে তা পালন করা এবং ঐ দিন কলাপাতা কিংবা কাগজে কোন দু'আ লিখে তা ভিজিয়ে ঐ পানি দিয়ে গোসল করা হলে এবং ঐ পানি পান করা হলে সারা বছর রোগমুক্ত থাকা যাবে- এসব আক্বীদা-বিশ্বাস সম্পূর্ণ নব উদ্ভাবিত। রসূলুল্লাহ যেমন ঐ দিনের কোন ফযীলত বর্ণনা করেননি কিংবা ঐ দিনে কাউকে কোন আমল করতে বলেননি, তেমনি কোন সাহাবায়ে কেরামও ঐ দিবস পালন করেছেন কিংবা ঐ দিনকে কেন্দ্র করে কোন আমল করছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং ঐ দিনকে কেন্দ্র করে কোন দিবস পালন করা বা কোন ধরনের আমল করা সম্পূর্ণ বিদ'আত।
📄 শবে মিরাজ-এর রাত্রি উদযাপন করা
রসূল এর মিরাজে গমণ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করা এবং রজব মাসের ২৭ তারিখের রাত্রিতে শবে মিরাজের নামে এ রাত্রি উয্যাপন করা ও এতে বিভিন্ন ইবাদতে লিপ্ত হওয়া বিদ'আত। এমনিভাবে হিজরী নব বর্ষ পালন করা এবং এতে শুভেচ্ছা বিনিময় করার ক্ষেত্রে শরীয়তের কোন দলীল নাই। তাছাড়া রজব মাস তথা শবে মিরাজ কে কেন্দ্র করে এবং ফজীলতপূর্ণ মনে করে এ মাসে বিভিন্ন ইবাদত করা বিদ'আত। এ মাসে ওমরাহ্ পালন করা। এটাকে রজবী ওমরাহ্ বলা হয়ে থাকে, বেশী করে নফল নামায পড়া এবং নফল রোযা রাখা, সবই বিদআতের অন্তর্ভূক্ত। কেননা অন্যান্য মাসের উপর রজব মাসের আলাদা কোন ফজীলত নেই। এ মাসের ওমরাহ্, নামায, রোযা এবং অন্য কোন প্রকার ইবাদতে অন্য মাসের চেয়ে অতিরিক্ত কোন সওয়ার পাওয়া যায় না। ১৮৩
টিকাঃ
১৮৩ ড: শাইখ সালেহ বিন ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ)। অনুবাদকঃ শাইখ আব্দুল্লাহ শাহেদ মাদানী। দাঈ ও শিক্ষক হিসেবে কর্মরত: জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদী আরব।
রসূল এর মিরাজে গমণ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করা এবং রজব মাসের ২৭ তারিখের রাত্রিতে শবে মিরাজের নামে এ রাত্রি উয্যাপন করা ও এতে বিভিন্ন ইবাদতে লিপ্ত হওয়া বিদ'আত। এমনিভাবে হিজরী নব বর্ষ পালন করা এবং এতে শুভেচ্ছা বিনিময় করার ক্ষেত্রে শরীয়তের কোন দলীল নাই। তাছাড়া রজব মাস তথা শবে মিরাজ কে কেন্দ্র করে এবং ফজীলতপূর্ণ মনে করে এ মাসে বিভিন্ন ইবাদত করা বিদ'আত। এ মাসে ওমরাহ্ পালন করা। এটাকে রজবী ওমরাহ্ বলা হয়ে থাকে, বেশী করে নফল নামায পড়া এবং নফল রোযা রাখা, সবই বিদআতের অন্তর্ভূক্ত। কেননা অন্যান্য মাসের উপর রজব মাসের আলাদা কোন ফজীলত নেই। এ মাসের ওমরাহ্, নামায, রোযা এবং অন্য কোন প্রকার ইবাদতে অন্য মাসের চেয়ে অতিরিক্ত কোন সওয়ার পাওয়া যায় না। ১৮৩
টিকাঃ
১৮৩ ড: শাইখ সালেহ বিন ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ)। অনুবাদকঃ শাইখ আব্দুল্লাহ শাহেদ মাদানী। দাঈ ও শিক্ষক হিসেবে কর্মরত: জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদী আরব।
রসূল এর মিরাজে গমণ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করা এবং রজব মাসের ২৭ তারিখের রাত্রিতে শবে মিরাজের নামে এ রাত্রি উয্যাপন করা ও এতে বিভিন্ন ইবাদতে লিপ্ত হওয়া বিদ'আত। এমনিভাবে হিজরী নব বর্ষ পালন করা এবং এতে শুভেচ্ছা বিনিময় করার ক্ষেত্রে শরীয়তের কোন দলীল নাই। তাছাড়া রজব মাস তথা শবে মিরাজ কে কেন্দ্র করে এবং ফজীলতপূর্ণ মনে করে এ মাসে বিভিন্ন ইবাদত করা বিদ'আত। এ মাসে ওমরাহ্ পালন করা। এটাকে রজবী ওমরাহ্ বলা হয়ে থাকে, বেশী করে নফল নামায পড়া এবং নফল রোযা রাখা, সবই বিদআতের অন্তর্ভূক্ত। কেননা অন্যান্য মাসের উপর রজব মাসের আলাদা কোন ফজীলত নেই। এ মাসের ওমরাহ্, নামায, রোযা এবং অন্য কোন প্রকার ইবাদতে অন্য মাসের চেয়ে অতিরিক্ত কোন সওয়ার পাওয়া যায় না। ১৮৩
টিকাঃ
১৮৩ ড: শাইখ সালেহ বিন ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ)। অনুবাদকঃ শাইখ আব্দুল্লাহ শাহেদ মাদানী। দাঈ ও শিক্ষক হিসেবে কর্মরত: জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদী আরব।