📄 বিদ‘আতের নিন্দা, তিরস্কার ও তা থেকে সতর্কতা প্রদর্শন এবং দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা
সুতরাং - এ কারনেই বিদ'আতের নিন্দা, তিরস্কার ও তা থেকে সতর্কতা প্রদর্শন করে রসূল অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন। যেমন, হাদীসে এসেছে-
حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِي حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ " مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدُّ"
আয়িশাহ থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ বলেন: যদি কেউ আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে যা তাতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত। ১৭৪ মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় রয়েছে: যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করল যা আমাদের পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত। ১৭৫
জাবের বিন আব্দুল্লাহ বর্ণিত, রসূল স্বীয় জুমআর খুতবায় বলেছেনঃ হতে
فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ وَشَرِّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلِّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ) . مسلم
অর্থঃ উত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার বাণী। আর উত্তম পথনির্দেশনা হচ্ছে মুহাম্মাদ এর পথনির্দেশনা। নিকৃষ্টতম বিষয় হচ্ছে (দ্বীনের মধ্যে) নতুন নতুন বিধান ইবাদতের নামে প্রবর্তন করা, প্রত্যেক বিদ'আতই ভ্রষ্টতা। ১৭৬
জারির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রসুল বলেনঃ আ
مَنْ سَنْ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ وَمَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ مسلم
অর্থঃ যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন ভাল কাজের প্রচলন করল তার জন্য সে কাজের প্রতিদান রয়েছে এবং পরবর্তীতে যারা ঐ ভাল কাজের উপর আমল করল তা থেকেও সে প্রতিদান পাবে, এতে কারো প্রতিদান কম করা হবে না। এমনিভাবে যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজের প্রচলন করল তার আমলনামায় সে মন্দ কাজের গুনাহ রয়েছে এবং পরবর্তীতে উক্ত গুনাহে লিপ্তদের গুনাহও লিখা হবে। এতে কারো গুনাহ কম হবে না। ১৭৭
ইরবাজ বিন সারিয়া হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
وَعَظَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَوْعِظَةٌ وَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ وَذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ فَقُلْنَا: يَارَسُوْلَ اللهِ كَأَنَّهَا مَوْعِظَةٌ مُوْدِعُ فَأَوْصِنَا قَالَ: أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ تَأَمَّرُ عَلَيْكُمْ عَبْدُ ، فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشُ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافَا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّواءَ عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنْ كُلِّ بِدْعَةٍ ضَلَالَ) . أبو داود
অর্থঃ একদা রসূল আমাদের মাঝে এমন ভাষণ দিলেন যাতে আমাদের অন্তর বিগলিত হল এবং চক্ষু হতে অশ্রু প্রবাহিত হল, তখন আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! মনে হচ্ছে এ আলোচনা যেন বিদায়ী উপদেশ। সুতরাং আমাদের আরো কিছু ওসিয়ত করুন। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহকে ভয় কর, আমীরের কথা শোন এবং তার আনুগত্য কর; যদিও সে কৃতদাস হয়। আর যে ব্যক্তি আমার পর বেঁচে থাকবে সে অনেক মতানৈক্য দেখতে পাবে, সে সময় তোমাদের উচিত হবে আমার এবং আমার খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা যেমনি তোমরা কোন বস্তু মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুত ভাবে আঁকড়ে ধর। বিদ'আত পরিহার কর। কেননা সকল প্রকার বিদ'আতই পথভ্রষ্টতা। ১৭৮
হুযাইফা হতে বর্ণিত। রসূল বলেন,
كَانَ النَّاسُ يَسْأَلُونَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْخَيْرِ وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنْ الشَّرِّ مَخَافَةَ أَنْ يُدْرِ كَنِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَشَرٍ فَجَاءَنَا اللَّهُ بِهَذَا الْخَيْرِ فَهَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ مِنْ شَرِّ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ وَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍ قَالَ نَعَمْ وَفِيهِ دَخَنْ قُلْتُ وَمَا دَخَنُهُ قَالَ قَوْمٌ يَهْدُونَ بِغَيْرِ هَدْيِي تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ قُلْ تُ فَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الْخَيْرِ مِنْ شَرِّ قَالَ نَعَمْ دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَ ذَفُوهُ فِيهَا قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صِفَهُمْ لَنَا قَالَ هُمْ مِنْ جِلْدَتِنَا وَيَتَكَلِّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا قُلْ تُ فَمَا تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ قَالَ تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَإِمَامَهُمْ قُلْتُ فَإِنْ لَمْ يَدُ نْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلَا إِمَامٌ قَالَ فَاعْتَزِلُ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلْهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضُّ بِأَصْلِ شَجَرَةٍ حَ تَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ عَلَى ذَلِكَ متفق عليه
অর্থঃ লোকজন রসূল ﷺ কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করত, আর আমি অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতাম যাতে তা থেকে বেঁচে থাকতে পারি। কোন এক সময় আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা জাহেলিয়াত ও কুসংস্কারের মাঝে নিমজ্জিত ছিলাম, অতঃপর আল্লাহ আমাদের কল্যাণের পথ দেখালেন, এ কল্যাণের পরে কি আবার অকল্যাণ আসবে?
উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ; অতঃপর আবার জিজ্ঞেস করলাম, এ অকল্যাণের পর কি আবার কল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ; কিন্তু তার মধ্যে ফ্যাসাদ থাকবে। আমি বললাম, তার মধ্যে ফ্যাসাদ কি? তিনি বললেন, এক দল লোক সুন্নাতের অনুসারী হবে বটে, তবে তা আমার সুন্নাত নয়। তারা আমার সুন্নাত ছেড়ে অন্য মতাদর্শ গ্রহণ করবে, তাদের মাঝে সৎকর্ম এবং অসৎকর্ম উভয়টিই পাওয়া যাবে। আমি বললাম, এ কল্যাণের পরও কি আবার অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ; একদল লোক মানুষকে জাহান্নামের দিকে আহ্বান করবে, যারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে তারা জাহান্নামের স্বাদ গ্রহণ করবে।
অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! তাদের পরিচয় দিন। তিনি বললেন, তারা আমাদের স্ব-জাতি ও আমাদের ভাষাতেই কথা বলবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! ঐ সময় যদি আমি বেঁচে থাকি তাহলে আমার জন্য আপনার পরামর্শ কি? তিনি বললেন, তুমি মুসলিম জামাআত ও তাদের ইমামের অনুসরণ করবে। আমি বললাম, যদি তাদের জামাআত ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেন, তাহলে সকল জামাআতই পরিত্যাগ করবে। যদি প্রয়োজন হয় কোন গাছের শিকড় ধরে আমরণ এভাবে পড়ে থাকবে। ১৭৯ এ হাদীসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, হাদী (هدي ) শব্দের অর্থ হল ত্বরীকা ও আদর্শ।
আর জাহান্নামের দিকে আহ্বানকারী দল প্রসঙ্গে উলামায়ে কেরাম বলেন, তারা হল সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ যারা মানুষকে বিদআতের দিকে আহবান করে। যেমন - খারেজী, কারামতী ও বস্তুবাদী দল।১৮০
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূল (সঃ) বলেনঃ
يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجْالُونَ كَذَّابُونَ يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُو ا أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ لَا يُضِلُّونَكُمْ وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ مسلم
অর্থঃ শেষ জমানায় এমন কিছু মিথ্যাবাদী প্রতারকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা তোমাদের কাছে এমন সব হাদীস বর্ণনা করবে; যা তোমরা ও তোমাদের পূর্ব পুরুষ কোন দিন শোননি। অতএব তোমরা তাদের হতে দূরে থাক যাতে তারা তোমাদের গোমরাহী ও ফিতনায় ফেলতে না পারে।১৮১
টিকাঃ
১৭৪ বুখারী, হা: ২৬৯৭, মুসলিম, হা: ১৭১৮, আবু দাউদ, হাঃ ৪৬০৬, আহমাদ, হাঃ ২৩৯২৯, ২৪৬০৪, ২৪৯৪৪, ২৫৫০২, ২৫৬৫৯, ২৫৭৯৭
১৭৫ মুসলিম, হাঃ ৪৫৮৯
১৭৬ মুসলিম, হাঃ ১৫৩৫, নাসাঈ, হাঃ ১৫৬০
১৭৭ মুসলিম, হাঃ ৬৬৯৩, নাসাঈ, হাঃ ২৫৫৪, ইবনে মাজাহ, হাঃ ২০৩, তিরমিযী, হাঃ ২৬৭৫, আহমাদ, হাঃ ১৮৬৭৫, ১৮৬৯৩, ১৮৭০১; দারিমী, হাঃ ৫১২, ত্বাবারানীর কাবীর, হা: ১৭৬৪৫, সহীহ তারগীব, হাঃ ৬২, হাদীস সম্ভার, হাঃ ১৬২৩
১৭৮ আবু দাউদ, হাঃ ৪৭০৭, তিরমিযী, হাঃ ২৬৭৬
১৭৯ বুখারী, হাঃ ৭০৮৪, মুসলিম
১৮০ শরহে মুসলিম: ১২/৪৭৯
১৮১ মুকাদ্দামায়ে মুসলিমঃ ৬,৭
📄 দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা
ইবনুল হাম্মাম বলেন: যখন কোনো ইবাদতে ওয়াজিব ও বিদ'আতের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিবে, তখন সতর্কতার খাতিয়ে তা করা হবে; কিন্তু যদি বিদ'আত ও সুন্নাতের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিবে, তখন তা পরিত্যাগ করবে; কারণ, বিদ'আত ত্যাগ করা আবশ্যক, আর সুন্নাত আদায় করা আবশ্যক নয়। অবশ্য 'আল-খোলাসা' গ্রন্থকারের একটি মাস'আলা প্রমাণ করে যে, ওয়াজিব তরক ত্যাগ করার চেয়ে বিদ'আত অনেক বেশি ক্ষতিকর, যেমন তিনি বলেনঃ যখন কেউ তার সালাতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে, সে কি তা সলাত আদায় করেছে, নাকি আদায় করেনি? এমতাবস্থায় সে যদি ওয়াক্তের মধ্যে থাকে, তাহলে পুনরায় তা আদায় করে নেবে; আর যদি সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, অতঃপর সে সন্দেহ করে, তাহলে কিছুই করতে হবে না। তবে যদি আসরের সালাত (পড়েছে কি পড়েনি) এর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে, তাহলে সে (যখন দ্বিতীয়বার তা আদায় করবে তখন) প্রথম ও তৃতীয় রাকাআতে পাঠ করবে, দ্বিতীয় ও চতুর্থ রাকাআতে পাঠ করবে না; কারণ, ফরয সালাতের ক্ষেত্রে কিরাআতের জন্য প্রথম দুই রাকআতকে নির্দিষ্ট করা ওয়াজিব। পক্ষান্তরে নফল সালাতে প্রতি দু'রাকাআতেই কিরাআত মিলাতে হয়, তাই যদি পরপর দু'রাকাআতে কিরাআত পড়া হয়, তখন কোনো কারণে পূর্বে সে যদি ফরয সলাত আসলেই পড়ে থাকে তবে তো সেটা নফল হিসেবে ধর্তব্য হয়ে যাবে, অথচ আসরের পরে কোনো নফল সলাত আদায় করা মাকরূহ, তাই তাকে পরপর প্রতি রাকআতে সূরা মিলিয়ে পড়তে নিষেধ করা হয়েছে, যাতে করে দ্বিতীয়বার পড়া সলাতটি কোনো ক্রমেই ফরয না হয়ে নফল সলাত হিসেবে ধর্তব্য হয়। কারণ যদি আসরের পরে নফল সলাত আদায় করা হয় সেটি হবে বিদ'আত, যা অপছন্দনীয়।
দীনের মধ্যে যদি বৃদ্ধি করাটা বৈধ হয়, তাহলে ফজরের সলাত চার রাকাত এবং যোহরের সলাত ছয় রাক'আত আদায় করা বৈধ হবে, আর বলা হবে - এটা সৎ আমলের বৃদ্ধি, তার বৃদ্ধিতে কোনো ক্ষতি হবে না; কিন্তু কারও জন্য এ কথা বলার অধিকার নেই। কেননা, বিদ'আত প্রবর্তনকারী যে কল্যাণ ও ফযিলতের কথা ব্যক্ত করে, যদি তা নবী এর সময়ে সাব্যস্ত হত এবং তা সত্ত্বেও তিনি তা না করতেন, তাহলে এই ধরনের কাজ পরিত্যাগ করা সুন্নাত, যা প্রত্যেক ব্যাপক নির্দেশ ও কিয়াসের উপর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। আর সুফিয়ান সাওরী থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলতেনঃ "ইবলিসের নিকট সকল পাপের চেয়ে বিদ'আতই সবচেয়ে বেশি প্রিয়; কারণ, পাপ থেকে তাওবা করা হয়, আর বিদ'আত থেকে তাওবা করা হয় না।"
📄 বিদ‘আতের ব্যাপারে সাহাবীগণের অবস্থান
বিদ'আতের এই অর্থকেই আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ বুঝাতে চেয়েছেন, যখন তাঁকে এমন এক দলের ব্যাপারে সংবাদ দেওয়া হলো, যারা মাগরিবের সালাতের পর বসে তাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি বলতে থাকে: তোমরা এতবার 'আল্লাহু আকবার' পড়, তোমরা এতবার 'সুবহানাল্লাহ' পড় এবং তোমরা এতবার 'আলহামদুলিল্লাহ' পড়। অতঃপর শ্রোতারা তা করতে থাকে। একথা শুনে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ "আমি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ, ঐ আল্লাহর কসম, যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, অবশ্যই তোমরা অন্ধকারপূর্ণ বিদ'আত নিয়ে এসেছ অথবা তোমরা জ্ঞানের দিক থেকে মুহাম্মদ এর সাহাবীদেরকে ছাড়িয়ে গেছ।”
অর্থাৎ তোমরা যা নিয়ে এসেছ, হয় তা অন্ধকারাচ্ছন্ন বিদ'আত, নতুবা তোমরা সাহাবীগণের কর্মকান্ডের সাথে সেটা যুক্ত করছ যা তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে; তাদের মনোযোগের অভাবে অথবা তাঁদের অলসতার কারণে, ফলে ইবাদতের নিত্য-নতুন পদ্ধতি জানার মাধ্যমে তোমরা সাহাবীগণকে পরাজিত করছ; আর এ ক্ষেত্রে যেহেতু দ্বিতীয়টি অগ্রহণযোগ্য, যথাযথ নয়, সেহেতু প্রথমটিই সাব্যস্ত হলো, অর্থাৎ তোমাদের এ কর্মকান্ড অন্ধকারপূর্ণ বিদ'আত হওয়া।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। এর উপর ভিত্তি করে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তা বলা যাবে, যে নির্ভেজাল শারীরিক ইবাদতের মধ্যে এমন ধরন বা বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসবে, যা সাহাবীদের যুগে ছিল না। কারণ, সে যদি বিদ'আতী কাজকে ইবাদত হিসেবে বর্ণনা করে তাকে 'উত্তম বিদ'আত' (বিদ'আতে হাসানাহ) বলে গ্রহণ করে, তাহলে সে ইবাদতসমূহের মধ্যে অপছন্দনীয় ও নিন্দনীয় বিদ'আত বলতে কিছু পাবে না অথচ ইবাদতের মধ্যে অপছন্দনীয় বিদ'আতের অস্তিত্ব অবশ্যই রয়েছে, যেমনটি আলেমগণ স্পষ্টভাবে তাদের গ্রন্থসমূহের মধ্যে বর্ণনা করেছেন।