📄 পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ
সাহাবী ওমর একবার সালাতে তারাবীহ সম্পর্কে বলেছিলেনঃ نعمت البدعة هذه )কত সুন্দর বিদ'আত এটি) বিদ'আতকে হাসানাহ ও সাইয়্যেআহ দ্বারা বিভক্তকারীদের নিকট ওমরের এ উক্তিটি ব্যতীত তাদের মতের স্বপক্ষে আর কোন দলিল নেই। তারা আরো বলে যে, এরূপ আরো অনেক নতুন নতুন বিষয়ের প্রবর্তন হয়েছিল কিন্তু সালাফের কেউ সে গুলোকে ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান করেননি, যেমন কুরআনুল কারীমকে এক মাসহাফে একত্রিত করা, (যা রাসূলের যুগে ছিল না) হাদীস লেখা ও সংকলন করা এটিও রসূল নিজে করে যাননি। আপত্তি উত্থাপিত বিষয়গুলো বিদ'আত নয় বরং শরীয়তের এগুলোর একটি ভিত্তি আছে।
আর ওমর এর বক্তব্য نعمتالبدعة তে শরঈ بدعة নয়। সুতরাং যে সকল বিষয়ের একটি শরঈ ভিত্তি থাকবে সেগুলো সম্পর্কে যখন بدعة (বিদ'আত) বলে মন্তব্য করা হবে তখন শাব্দিক বিদ'আত বুঝতে হবে শরঈ নয়। আর সালাতে তারাবীহ তো রসূলুল্লাহ নিজেই সাহাবীদের নিয়ে পড়ে ছিলেন। শেষ দিকে এসে ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি তাদের থেকে পিছিয়ে গেছেন। তবে সাহাবারা বিক্ষিপ্তভাবে রাসূলের জীবদ্দশায় এবং ওফাতের পর ধারাবাহিকভাবে পড়েছেন। এক পর্যায়ে এসে ওমর সকলকে এক ইমামের পিছনে একত্রিত করে দিয়েছেন যেমন তারা রাসূলের পিছনে পড়ে ছিলেন। ১০৫
উপরোক্ত আলোচনার পর বলা যায় যে, আর এক গ্রন্থে কুরআন মজীদ একত্রিত করাও শরীয়তের একটি ভিত্তি আছে। কারণ রসূলুল্লাহ নিজে কুরআন লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেগুলো বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তাকারে ছিল পরে সাহাবায়ে কেরাম সংরক্ষণের নিমিত্তে সবগুলোকে এক গ্রন্থে জমা করেছেন। হাদীস লিপিবদ্ধ করারও একটি শরঈ ভিত্তি আছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জানা যাবে যে ইলম ও ইবাদত সংশ্লিষ্ট সাধারণ বিদ'আতের প্রচলন উম্মতের মধ্যে খোলাফায়ে রাশেদীনের শেষ যুগে শুরু হয়েছে। যেমন রসূলুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেছেনঃ
فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّينَ فَتَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ
তোমাদের উপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাত ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত ধারণ করা। তোমরা একে শক্তভাবে ধারণ করো এবং তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরো। সাবধান! ইবাদাতের নামে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে তৈরি করা সকল নব উদ্ভাবিত কাজ থেকে বিরত থাকো। ১০৬ অতএব, উপরোক্ত আলোচনার সারাংশে বলা যায় যেঃ
(১) ঐ বিদ'আতী কাজ বা আমল আল্লাহর নিকট কখনোই গৃহীত হবে না।
(২) বিদ'আতী কাজ বা আমলের ফলে মুসলিম সমাজে গোমরাহী বিস্তার লাভ করে এবং
(৩) এ গোমরাহীর চূড়ান্ত ফলাফল হলো বিদ'আত কার্য সম্পাদনকারীকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
টিকাঃ
১০৫ আলআহাদীসুল মুখতারা, ইমাম জিয়াউদ্দীন মাকদেসী ১/৪৮১/১১৬১
১০৬ আবু দাউদ, হাঃ ৪৬০৭; সুনানে বায়হাকী আল কুবরা, হা: ২০১২৫; দারেমী, হাঃ ৯৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ ৩২৯; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ১৭১৪৫
📄 বিদ‘আত উৎপত্তির কতিপয় কারণ
বিদ'আত সৃষ্টির অনেকগুলো কারণ রয়েছে। বিদ'আতের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তায়মিয়া বলেন,
وَاعْلَمْ أَنَّ عَامَّةَ الْبِدَاعِ الْمُتَعَلِّقَةِ بِالْعُلُومِ وَالْعِبَادَاتِ فِي هَذَا الْقَدَرِ وَغَيْرِهِ إِنَّمَا وَقَعَ فِي الْأُمَّةِ فِي أَوَاخِرِ خِلَافَةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ كَمَا أَخْبَرَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيْثُ قَالَ : مَنْ يَعِشُ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ مِنْ بَعْدِي
'জেনে রাখা দরকার যে, খুলাফায়ে রাশেদা তথা চার খলীফার খেলাফতকালের শেষের দিকে মুসলিম উম্মাহর মাঝে ইবাদতের ক্ষেত্রে বিদ'আত ঢুকে পড়ে। আর এ সম্পর্কে রসূল ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছেন, 'তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই ব্যাপক মতানৈক্য দেখতে পাবে। সুতরাং সে অবস্থায় তোমরা আমার সুন্নাত ও আমার পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। ১০৭
ইমাম মালেক -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তাঁর অন্যতম ছাত্র ও শিষ্য ইবনে মাজিশূন বলেন, আমি ইমাম মালেক -কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে বিদ'আত চালু করল এবং সেটিকে হাসানা বা ভাল মনে করল, সে যেন এমন দাবী করল যে, মুহাম্মাদ রিসালতের দায়িত্ব পালনে খেয়ানত করেছেন। ১০৮ এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ 'আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম।'১০৯
সুতরাং সেদিন যা দ্বীন ছিল না, আজও তা দ্বীন হিসাবে পরিগণিত হবে না।'
যেমন - (১) অজ্ঞতা: আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَلا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنهُ مَسْئُولاً.
অর্থঃ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই কর্ণ, চক্ষু, হৃদয় এর প্রত্যেকটির ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।১১০
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْها وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بَغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلُ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
অর্থঃ আপনি বলে দিন, প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, পাপ, অসংগত বিরোধিতা এবং কোন কিছুকে আল্লাহর সাথে শরিক করা যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোন দলিল অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যে ব্যাপারে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই, এ সবই আমার রব নিষিদ্ধ করেছেন।১১১
আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূল কে বলতে শুনেছিঃ
إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِّن رَّبِّهِمُ الْهُدى.
অর্থঃ আল্লাহ মানুষ থেকে (দ্বীনি) জ্ঞান ছিনিয়ে নেবেন না বরং আলেমগণকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিবেন, তাদের সাথে ইল্মও উঠে যাবে। দুনিয়াতে মুর্খ নেতারা বেঁচে থাকবে তারা (কুরআন-হাদীসের) ইল্ম ব্যতীত ফতোয়া দিবে। ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে। ১১২
(২) প্রবৃত্তির অনুকরণ: প্রবৃত্তির অনুকরণ অত্যন্ত ভয়ঙ্কর যা মানুষকে বিদ'আত সৃষ্টিকারী ও আত্মপুজারী বানিয়ে দেয়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ
অর্থঃ হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি। অতএব তুমি মানুষের মাঝে সুবিচার কর এবং প্রবৃত্তির (খেয়াল খুশির) অনুসরণ কর না। কেননা এটা তোমাকে আল্লাহ্র পথ হতে বিচ্যুত করবে। যারা আল্লাহ্র পথ পরিত্যাগ করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। কেননা তারা বিচার দিবসকে ভুলে গেছে। ১১৩
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا.
অর্থঃ আপনি তার অনুসরণ করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি। সে আপন প্রবৃত্তির অনুসরণ করে ও তার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে। ১১৪
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
أَفَرَعَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَ قَلْبِهِ و جَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشْوَةً فَمَن يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
অর্থঃ আপনি কি ঐ ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করেছেন, যে প্রবৃত্তিকে নিজের ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে। আল্লাহ যথার্থই তাকে বিভ্রান্ত করেছেন, তার কর্ণ ও হৃদয়ে মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপরে রেখেছেন আবরণ। অতঃপর আল্লাহর পর কে তাকে পথ নির্দেশ করবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?১১৫
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ ۚ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
অর্থঃ আল্লাহর পক্ষ হতে হিদায়াত ব্যতীত যে আত্মপুজারী হয়, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে?১১৬
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِّن رَّبِّهُمُ الْهُدِي.
অর্থঃ তারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, অথচ তাদের নিকট আপন রবের পথ নির্দেশ এসেছে। ১১৭
(৩) সন্দিহান হওয়া: বিদ'আতপন্থী সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বিদ'আতে জড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأَخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيَغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ، وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ أَمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِندِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُوا الْأَلْبَابِ.
অর্থঃ তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন যাতে সুস্পষ্ট ও অকাট্য আয়াতসমূহ রয়েছে। ওগুলো কিতাবের মূল আর কিছু আয়াত অস্পষ্ট। অতএব যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে তারাই অশান্তি সৃষ্টি ও (ইচ্ছামত) ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে অস্পষ্টের অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ব্যতীত এর অর্থ কেউই জানে না। যারা জ্ঞানী তারা বলে, আমরা এতে বিশ্বাস করি। সবই আমাদের রবের নিকট হতে আগত। জ্ঞানীরা ব্যতীত কেউই উপদেশ গ্রহণ করে না। ১১৮
(৪) যুক্তির উপর নির্ভর করা: যে ব্যক্তি আকল বা যুক্তির উপর নির্ভর করে এবং কুরআন ও সুন্নাহ ছেড়ে দেয় অথবা কোন একটি ছেড়ে দেয়, সে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
অর্থঃ রসূল তোমাদের জন্য যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ কর এবং যা হতে নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর। ১১৯
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِن وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا.
অর্থঃ আল্লাহ এবং তাঁর রসূল যদি কোন ব্যাপারে ফায়সালা করেন তখন কোন মুমিন পরুষ বা নারীর জন্য নিজেদের ব্যাপারে (অন্য কোন) সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার থাকবে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর হুকুমের অবাধ্য হল সে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্ট হয়ে গেল।১২০
(৫) অন্ধ অনুকরণ ও গোঁড়ামী: অধিকাংশ বিদ'আতপন্থী তাদের পূর্ব পুরুষ ও পীর-মাশায়েখদের তাকলীদ তথা অন্ধ অনুকরণ এবং নিজ মাজহাবের ব্যাপারে গোঁড়ামী করে থাকে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا.
অর্থঃ যখন তাদের বলা হয়, তোমরা আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ কর; তখন তারা বলে, বরং আমরা তারই অনুসরণ করব যার উপর আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি।১২১
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُهْتَدُونَ
অর্থঃ বরং আমরা পূর্বপুরুষদের একটি মতাদর্শের উপর পেয়েছি এবং তাদের পথ ধরেই আমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হব। ১২২
বিদ'আতপন্থীদের নিকট তাদের বিদ'আতী কর্মকান্ড আকর্ষণীয় করে দেয়া হয়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
أَفَمَن زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَوَاهُ حَسَنًا فَإِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَاء وَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَاتٍ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا يَصْنَعُونَ.
অর্থঃ কাউকে যদি তার মন্দ কর্ম সুন্দর করে দেখানো হয় তখন সে ওটাকে উত্তম মনে করে। আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা গোমরাহ করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত করেন। অতএব আপনি তাদের জন্য আক্ষেপ করে নিজ প্রাণকে ধ্বংস করবেন না। তারা যা করে আল্লাহ্ সে সম্পর্কে সম্মক জ্ঞাত। ১২৩
বিদ'আতপন্থীর পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
يَوْمَ تُقَلَّبُ وَجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يَا لَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولا. وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكَبُرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلا. رَبَّنَا ءَاتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْنَا كَبِيرًا
অর্থঃ যে দিন তাদের মুখমন্ডল অগ্নিতে উলট পালট করা হবে সে দিন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করতাম! তারা আরো বলবে, হে আমাদের রব! আমরা নিজ নেতা ও বড়দের আনুগত্য করেছিলাম এবং তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের রব! তাদের দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন ও তাদের উপর লানত বর্ষণ করুন। ১২৪
(৬) বিদ'আতপন্থীদের সংশ্রব ও তাদের সাথে উঠা বসা করা : বিদ'আতপন্থীদের সঙ্গ দেয়া ও তাদের সাথে উঠা বসা করার দ্বারাও সমাজে বিদ'আত প্রচার-প্রসার লাভ করে। আল্লাহ তা'আলা বিদ'আতের অনুসারীদের সংশ্রবকে নিন্দনীয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন যে -
وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمِ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلاً. يَا وَيْلَتي لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلاً . لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَان الشَّيْطَانُ لِلإِنْسَانِ خَذُولاً.
অর্থঃ যালিমরা সে দিন নিজ হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে সৎপথ অবলম্বন করতাম। হায়! দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধু রূপে গ্রহণ না করতাম। আমার নিকট উপদেশ পৌঁছার পর সে আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল। শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক। ১২৫
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
وَإِذَا رَأَيْتَ الذِيْنَ يَخُوضُونَ فِي وَايَاتِنَا فَأَعْرِضَ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدُ بَعْدَ الذِّكْرِي مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ.
অর্থঃ যখন আপনি দেখবেন লোকজন আমার আয়াতসমূহে দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করছে। তখন আপনি তাদের হতে দূরে সরে যাবেন, যতক্ষণ না তারা অন্য কোন প্রসঙ্গে নিমগ্ন হয়। শয়তান যদি এটা আপনাকে ভুলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর আর এ যালিমদের সাথে বসবেন না। ১২৬
রসুল বলেন:
إِنَّمَا مَثَلُ الْجَلِيسِ الصَّالِحِ وَالْجَلِيسِ السَّوْءِ كَحَامِلِ الْمِسْكِ وَنَافِخِ الْكِيرِ فَحَامِلُ الْمِسْكِ إِمَّا أَنْ يُحْذِيَكَ وَإِمَّا أَنْ تَبْتَاعَ مِنْهُ وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ مِنْهُ رِيحًا طَيِّبَةً وَنَافِخُ الْكِيرِ إِمَّا أَنْ يُحْرِقَ ثِيَابَكَ وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ رِيحًا خَبِيثَةً
অর্থঃ নিশ্চয়ই সৎসঙ্গ ও অসৎসঙ্গের দৃষ্টান্ত হল কস্তুরী বহনকারী ও কামারের ন্যায়। অতঃপর কস্তুরী বহনকারী হয়ত তোমাকে কিছু দেবে অথবা তুমি তার থেকে কিছু কিনবে। আর তা না হলে কমপক্ষে তার থেকে সুঘ্রাণযুক্ত বাতাস পাবে। আর কামার হাপরে ফুৎকারের মাধ্যমে হয়ত তোমার কাপড় জ্বালিয়ে দেবে অথবা তার থেকে তুমি দূর্গন্ধময় বাতাস পাবে। ১২৭
(৭) আলেমদের নিশ্চুপ থাকা ও সঠিক ইল্ম গোপন করা : এটা লোক সমাজে বিদ'আত ও ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টির অন্যতম কারণ। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلَ اللهُ مِنَ الْكِتَابِ وَ يَشْتَرُونَ بَهِ ثَمَنًا قَلِيلاً أُولَئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمُ
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ যা কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন তা যারা গোপন করে ও সামান্য মূল্যে বিক্রি করে, তারা স্ব-স্ব উদরে অগ্নি ছাড়া আর কিছুই ভক্ষণ করে না। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং এদের জন্যই রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ১২৮
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَذُوْهُ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَوْا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلاً فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ
অর্থঃ স্মরণ করুন, যখন আহলে কিতাবদের থেকে আল্লাহ্ অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তোমরা নিশ্চয়ই এটা মানুষের কাছে প্রকাশ করবে, গোপন করবে না। এরপরও তারা তা অগ্রাহ্য করে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করলো। অতএব তারা যা ক্রয় করে তা খুবই নিকৃষ্ট।১২৯
আল্লাহ তা'আলা এ উম্মতের একটি দলের উপর দাওয়াত ইলাল্লাহ, সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা ওয়াজিব করেছেন। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَلْتَكُنْ مِنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থঃ তোমাদের মধ্যে এরূপ একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। এরাই সফলকাম।১৩০
রসূল এ প্রসঙ্গে তাই বলেছেনঃ
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرُهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ
অর্থঃ তোমাদের যে কেউ গর্হিত কাজ হতে দেখে, সে যেন তা হাত দ্বারা বাধা করে। যদি এ শক্তি না থাকে তাহলে যেন মুখ দ্বারা বাঁধা প্রদান করে, তাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে যেন অন্তরে ঘৃণা করে। এটা ঈমানের দুর্বলতম স্তর। ১৩১
এ হাদীস দ্বারা একথাই প্রমাণিত হয় যে, প্রত্যেক মুসলিমের উপর নিজের ক্ষমতা ও শক্তি অনুযায়ী সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা ওয়াজিব। এছাড়াও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ হতে বর্ণিত, রসূল বলেনঃ
مَا مِنْ نَبِي بَعَثَهُ اللَّهُ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إِلَّا كَانَ لَهُ مِنْ أُمَّتِهِ حَوَارِيُّونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الْإِيمَانِ حَبَّةٌ خَرْدَلٍ
অর্থ: আমার পূর্বে যত নবী এসেছেন তাদের প্রত্যেকেরই স্বীয় উম্মতের মধ্য থেকে কিছু সাথী এবং ঘনিষ্ঠ লোক ছিল। যারা তাঁর সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরত এবং তাঁর হুকুম মেনে চলত। পরবর্তীতে এমন এক প্রজন্ম এল, তারা যা বলত তা করত না এবং তারা এমন কাজ করত যার নির্দেশ ছিল না। যে ব্যক্তি সর্বশক্তি দিয়ে তাদের প্রতিরোধ করবে সে মুমিন, যে মৌখিকভাবে প্রতিবাদ করবে সে মুমিন এবং যে অন্তরে ঘৃণা করবে সেও মুমিন। এর বাইরে কারো অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান নেই। ১৩২
আবু হুরাইরা হতে বর্ণিত, রসূল বলেনঃ
مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ عَلِمَهُ ثُمَّ كَتَمَهُ الْجِمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ (ترمذي, أبو داود و ابن ماجة)
অর্থঃ যদি কাউকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয় যা সে জানে অতঃপর সে তা গোপন করে, তাহলে তাকে কিয়ামতের দিন আগুনের লাগাম পরানো হবে। ১৩৩
(৮) কাফেরদের সাদৃশ অবলম্বন ও তাদের অনুসরণ করা: এটা মুসলিমদের মাঝে বিদ'আত ছড়ানোর বড় কারণ। এ বিষয়টি আবু ওয়াকেদ লাইসি বর্ণিত হাদীস দ্বারা বুঝা যায়। যেমন: সাঈদ ইবন আবদুর রহমান মাখযুমী আবূ ওয়াকীদ লায়সী থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন, রসূলুল্লাহ যখন হুনায়ন অভিযানে বের হন তখন মুশরিকদের একটি বৃক্ষের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। একে "যাত আনওয়াত” বলা হত। তারা এতে তাদের অস্ত্র-সস্ত্র ঝুলিয়ে রাখত। সাহাবীগণ আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, এদের যেমন "যাত আনওয়াত" আছে আমাদের জন্যও একটা 'যাত আনওয়াত' নির্ধারণ করে দিন। ১৩৪ নবী বললেন, আল্লাহু আকবার! তোমরা এমন কথা বলছ, যেমন বণী ইসরাইলের লোকেরা মূসা কে বলেছিল।
اجْعَل لَّنَا إِلَهَا كَمَا لَهُمْ وَالِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ
"আপনি আমাদের জন্য মাবুদ নির্বাচন করুন, যেমন তাদের জন্য অনেক মা'বুদ রয়েছে। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তোমরা তো মূর্খ জাতি।” ১৩৫ তোমরা অবশ্যই পূর্ববর্তী লোকদের পথ অবলম্বন করবে। ১৩৬
তাহক্বীক্ব: এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাহাবী আবু ওয়াকিদ লায়সী এর নাম হল হারিস ইবন আওফ। এ বিষয়ে আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
উপরোক্ত হাদীস থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়, যেমনি কাফিরদের সাদৃশ্য করা বনী ইসরাইলদের উপরোক্ত অসঙ্গত প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করেছিল তেমনি সাহাবীদেরকেও রাসূলের কাছে আল্লাহ ছাড়া অন্যের দ্বারা বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে এমন একটি গাছের প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করেছিল। এভাবেই অধিকাংশ মানুষ কাফিরদের অনুসরণ বা সাদৃশ্য অবলম্বন করতে গিয়ে বিদ'আত ও শিরকে লিপ্ত হয়। যথা- মিলাদ মাহফিল, জানাযা সংক্রান্ত বিদ'আত, কবরের উপর বিল্ডিং নির্মাণ ইত্যাদি। নিঃসন্দেহে এ সকল বিষয় বা পূর্ববর্তীদের অনুসরণ প্রবৃত্তির পূজা ও বিদ'আতেরই অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়টি আবু সাঈদ খুদরী বর্ণিত হাদীস দ্বারা আরো স্পষ্ট হয়।
রসূল বলেনঃ
لَتَتْبَعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ شِبْرًا شِبْرًا وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ تَبِعْتُمُوهُمْ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى قَالَ فَمَنْ
অর্থঃ নিশ্চয়ই তোমরা পূর্ববর্তী লোকদের রীতিনীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুকরণ করবে। এমনকি তারা যদি গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তোমরাও তা করবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! ইহুদী-খৃষ্টানদের? তিনি বলেন, তাদের ব্যতীত আর কাদের?১৩৭
ইমাম নববী বলেন, “السن” অর্থ রাস্তা।
হাদীসের শব্দ شبر ذراع و جحر الضب তথা বিঘত, হাত ও গুইসাপের গর্তে প্রবেশ দ্বারা এ উম্মতের পূর্বেকার লোকদের সাথে শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ ও অন্যায়ের মাঝে হুবহু মিল থাকার উপমা দেয়া হয়েছে, কুফরীতে মিল থাকার উপমা নয়। এ হাদীসের মাধ্যমে রসূল এর মু'জিযা বাস্তবায়িত হল। কেননা তিনি যে সংবাদ দিয়ে গেছেন, তা আজ সংঘটিত হচ্ছে। প্রকাশ থাকে যে, বিঘত, হাত, রাস্তা ও গর্তে প্রবেশ এ সবই শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ ও নিন্দিত বিষয়ে তাদের (কাফেরদের) অনুসরণ-অনুকরণ করার কারণে রসূল উপমা হিসেবে তুলে ধরেছেন, অথচ তিনি অমুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
(৯). দুর্বল ও বানোয়াট হাদীসের উপর নির্ভর করা: এ ধরণের হাদীসের উপর নির্ভর করার ফলে অধিকাংশ বিদ'আত সৃষ্টি হয় ও তার প্রচার-প্রসার ঘটে। অধিকাংশ বিদ'আতপন্থীই অনির্ভরযোগ্য, দুর্বল ও মিথ্যা হাদীসের উপর নির্ভর করে। তারা এমন হাদীসের উপর নির্ভরশীল যা হাদীস বিশারদগণের নিকট অগ্রহণযোগ্য। তারা সহীহ হাদীস পরিত্যাগ করে। যার ফলে অনিবার্য ক্ষতি, ধ্বংস ও বিপদে পতিত হয়। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সৎকর্ম সম্পাদন ও অসৎকর্ম পরিত্যাগ সম্ভব নয়। ১৩৮
(১০) বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন: এটাও বিদ'আত প্রসারের অন্যতম কারণ এবং শিরকে লিপ্ত হওয়ারও কারণ। কেননা আদম এর পরবর্তী ১০ যুগ পর্যন্ত লোকজন তাওহীদ ও আল্লাহ তা'আলার একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিল। তারপর থেকে লোকজন তৎকালীন নেক্কার ব্যক্তিবর্গের দিকে ঝুঁকে গিয়ে তাদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন করতে করতে এক পর্যায়ে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ইবাদত শুরু করে দেয়। এরপর আল্লাহ তা'আলা তাওহীদের দিকে আহবান কল্পে নূহ কে প্রেরণ করেন, এরই সূত্র ধরে তাওহীদের বাণী নিয়ে নবী-রসূল প্রেরণের ধারাবাহিকতা শুরু হয়।
সীমালংঘন ব্যক্তি পর্যায়েও হতে পারে। যথা ইমাম ও অলীদের নিষ্পাপ মনে করা এবং তাদেরকে প্রাপ্য মর্যাদার চেয়ে উঁচু মর্যাদায় আসীন করা। এ ধরণের বাড়াবাড়ির এক পর্যায়ে তাদের ইবাদতও করা হয়। সীমালংঘন দ্বীনের মাঝেও হতে পারে। যথা- আল্লাহর দেয়া বিধানে অতিরঞ্জন অথবা কোন বিষয়ে কঠোরতা কিংবা অন্যায়ভাবে কাউকে কাফির বলে আখ্যায়িত করা। সীমালংঘন বলতে বুঝায় : বিশ্বাস ও আমলের ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করা। এটা কারো প্রশংসা বা দূর্নাম বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যধিক বাড়াবাড়ির ফলে হয়ে থাকে। অথচ আল্লাহ তা'আলা এ সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করতে গিয়ে আহলে কিতাবদের উদ্দেশ্য করে বলেনঃ
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ
অর্থঃ হে আহলে কিতাবরা! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না। ১৩৯ তেমনি রসূল ও দ্বীনের ব্যাপারে সীমালংঘন করতে নিষেধ করেছেন। ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন, রসূল বলেছেন: তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে সীমালংঘন থেকে বিরত থাক, কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা দ্বীনের ব্যাপারে সীমালংঘন করার ফলে ধ্বংস হয়েছে। ১৪০
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দ্বীনের মধ্যে সীমালংঘনই শিরক ও বিদ'আত সৃষ্টি এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণের অন্যতম কারণ। দ্বীনের মধ্যে সীমালংঘনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে রসূল বলেনঃ
لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ فَقُولُوا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ
অর্থঃ তোমরা আমাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না যেমনিভাবে খ্রিস্টানরা ঈসা ইবনে মারিয়াম -কে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছিল। আমি আল্লাহর বান্দা, তাই আমাকে আল্লাহর বান্দা ও রসূল বলবে। ১৪১
(১১) শয়তানই মানুষের মধ্যে বিদ'আত চালু করে: বিদ'আত সুন্নাতের বিপরীত আমল এবং ইবাদতের নামে ইসলামের মধ্যে নতুন সংযোজন। বিদ'আতকারীর কোন আমল আল্লাহর নিকট কবুল হবে না ১৪২ এবং আখেরাতে রসূলুল্লাহ - এর শাফা'আত ও কাওসারের পানি থেকে বঞ্চিত হবে। ১৪৩
তাই একজন বিদ'আতীর জাহান্নামে যাওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ গোনাহগারের চেয়ে বেশী। তাই শয়তান সমাজে বিদ'আত চালু করতে চায়। সুফিয়ান সাওরী বলেন,
الْبِدْعَةُ أَحَبُّ إِلَى إِبْلِيسَ مِنَ الْمَعْصِيَةِ الْمَعْصِيَةُ يُتَابُ مِنْهَا، وَالْبِدْعَةُ لَا يُتَابُ مِنْهَا
'ইবলীসের কাছে সাধারণ গোনাহ ও পাপাচারের চেয়ে বিদ'আত বেশী প্রিয়। কারণ গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তির তাওবা করার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু বিদ'আতে লিপ্ত ব্যক্তির তাওবা করার সম্ভাবনা থাকে না। ১৪৪
রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে: রাগ মানুষের একটি খারাপ স্বভাব। রাগের কারণে মানুষ যে কোন অন্যায় করতে পারে। আর রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। হাদীসে এসেছে -
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ عَدِي بْنِ ثَابِتٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَجُلَانِ يَسْتَبَّانِ فَأَحَدُهُمَا احْمَرَّ وَجْهُهُ وَانْتَفَخَتْ أَوْدَاجُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنِّي لَاعْلَمُ كَلِمَةً لَوْ قَالَهَا ذَهَبَ عَنْهُ مَا يَجِدُ لَوْ قَالَ أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنْ الشَّيْطَانِ ذَهَبَ عَنْهُ مَا يَجِدُ فَقَالُوا لَهُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ تَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَقَالَ وَهَلْ بِي جُنُونٌ
সুলায়মান ইবনু সুরাদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী - এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন দু'জন লোক গালাগালি করছিল। তাদের একজনের চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল এবং তার রগগুলো ফুলে গিয়েছিল। তখন নবী করীম বললেন, আমি এমন একটি দু'আ জানি, যদি এই লোকটি তা পড়ে তবে তার রাগ দূর হয়ে যাবে। সে যদি পড়ে 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানি' তবে তার রাগ চলে যাবে। তখন লোকেরা তাকে বলল, নবী করীম বলেছেন, তুমি আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় চাও। সে বলল, আমি কি পাগল হয়েছি'। ১৪৫
শয়তান মানুষকে গুমরাহ করার জন্য অলস করে তোলে: শয়তান মানুষকে গুমরাহ করার জন্য কর্মবিমুখ ও অলস করে তোলে। বিশেষ করে দ্বীনের কাজের ক্ষেত্রে অলস করে তোলে এবং দুনিয়াবী ও খারাপ কাজে উৎসাহিত করে। মানুষ ঘুমালে ফজর নামাজ কাযা করার জন্য চেষ্টা করে। হাদীসে এসেছে -
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ عَلَى كُلِّ عُقْدَةٍ : عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدُ. فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ تَوَضَّأُ انْحَلَّتْ عُقْدَةً فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانًا . (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেন, 'যখন তোমাদের কেউ ঘুমায় শয়তান তার মাথার পিছন দিকে তিনটি গিরা দেয় এবং প্রত্যেক গিরার উপর মোহর মেরে বা থাবা মেরে বলে, রাত অনেক আছে তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও। যদি সে জাগে ও দু'আ পড়ে তাহ'লে একটি গিরা খুলে যায়। তারপর যদি সে ওযু করে তাহ'লে আরও একটি গিরা খুলে যায়। তারপর যদি সে সলাত আদায় করে তবে অপর গিরাটিও খুলে যায় এবং সে সকালে প্রফুল্ল মন ও পবিত্র অন্তরসহ সকাল অতিবাহিত করে। অন্যথা সে সকালে উঠে কলুষিত অন্তর ও অলস মনে। ১৪৬
শয়তানই মানুষকে পরস্পর তর্কের মাধ্যমে ঝগড়া লাগানো ও আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলায় যা সে জানে না: শয়তান মানুষের মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং আস্তে আস্তে তর্ক ঝগড়ায় রূপ নেয়। আল্লাহ বলেন,
وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ .
'নিশ্চয়ই শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্রত্যাদেশ করে, যেন তারা তোমাদের সাথে তর্ক করে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তোমরাও মুশরিক হয়ে যাবে। ১৪৭ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَّرِيدٍ
'কতক মানুষ অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে। ১৪৮ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,
إِنَّمَا يَأْمُرُكُمْ بِالسُّوءِ وَالْفَحْشَاءِ وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
'নিশ্চয়ই সে তোমাদেরকে মন্দ ও অশ্লীল কাজের আদেশ দেয় এবং তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলতে উৎসাহিত করে যা তোমরা জান না। ১৪৯
শয়তানই মানুষকে পাপকাজের চাকচিক্য দেখিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান করায়: বদর যুদ্ধের দিন কাফেরদের সাথে গায়িকা মেয়েরা ছিল এবং তারা গানবাজনাও করছিল। শয়তান তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। সে তাদেরকে মিষ্টি কথা দিয়ে ভুলাচ্ছিল এবং তাদের কার্যাবলী তাদের দৃষ্টিতে খুব চাকচিক্যময় ও শোভনীয় করে দেখাচ্ছিল। তাদের কানে কানে সে বলছিল, 'তোমাদেরকে কে পরাজিত করতে পারে? আমি তোমাদের সাহায্যকারী হিসাবে রয়েছি'। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَكُمْ
'যখন শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের দৃষ্টিতে খুব চাকচিক্যময় ও শোভনীয় করে দেখাচ্ছিল, তখন সে গর্বভরে বলেছিল, কোন মানুষই আজ তোমাদের উপর বিজয় লাভ করতে পারবে না, আমি সাহায্যার্থে তোমাদের নিকটেই থাকব'। ১৫০
শয়তানই মানুষকে রসূলুল্লাহ ﷺ সম্পর্কে অতিরঞ্জিত কথা চালু করায় : রসূলুল্লাহ ﷺ-কে মুহাববত করতে হবে সেভাবে যেভাবে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন। শয়তান মাঝে মাঝে এসে রসূলুল্লাহ ﷺ সম্পর্কে এমন কথা চালু করে, যা তিনি বলতে নিষেধ করেছেন। যেমন কতিপয় লোক রসূলুল্লাহ ﷺ-কে লক্ষ্য করে বলল, হে আমাদের রসূল, হে আমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি ও সর্বোত্তমের সন্তান, আমাদের প্রভু, আমাদের প্রভু তনয়! তখন তিনি বললেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيْكُمْ بِتَقْوَا كُمْ وَلَا يَسْتَهْوِ يَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَاللَّهِ مَا أُحِبُّ أَنْ تَرْفَعُونِي فَوْقَ مَنْزِلَتِي الَّتِي أَنْزَلَنِي اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
'হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের কথা বলে যাও। শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করতে না পারে। আমি হচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল। আল্লাহ আমাকে যে মর্যাদার স্থানে অধিষ্ঠিত করেছেন, তোমরা এর ঊর্ধ্বে আমাকে স্থান দাও এটা আমি পছন্দ করি না'। ১৫১
অন্য হাদীসে এসেছে, রসূলুল্লাহ ﷺ-এর কতিপয় সাহাবী তাঁকে বলল, আপনি আমাদের প্রভু। তদুত্তরে তিনি বললেন, 'বরকতময় 'মহান আল্লাহই হ'লেন একমাত্র প্রভু'। আর তারা যখন বললেন, আপনি আমাদের মধ্যে মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বোত্তম এবং আমাদের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল। তখন তিনি বললেন, 'তোমরা যা বলছিলে বলে যাও। শয়তান যেন তোমাদের উপর সওয়ার না হ'তে পারে'। ১৫২
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনার সারাংশে বলা যায় যে, এ কথা আমাদের জানা উচিত যে, বিদ'আতী কাজের ভিত্তি কি? বিভিন্ন বিদ'আতী কাজ সমাজে চালু হওয়ার পেছনে সাধারণ জনসাধারণ কেবল অনুসরণের দোষেরই দোষী। বিদ'আত সমাজে জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের তেমন অবদান নেই। কিছু নামধারী আলেম, কতিপয় ভণ্ড পীর সমাজে বিদ'আতের প্রবর্তন করে। এসব বিদ'আতগুলোকে সমাজে চালু করার জন্য প্রথমত কোন কোন আলেমের অসাধারণ ও বিস্ময়কর বুজুর্গ ও ফজিলত তুলে ধরা হয়। কোন না কোন ভাবে তার বংশ নিয়ে টেকানো হয় রসূলে এর সাথে। দেয়া হয় 'আওলাদে রসূলের (!) খেতাব। আবার কেউ নিয়ে বংশ টেকান মোল্লা আলী ক্বারী বা অন্য কোন প্রখ্যাত ইমামের সাথে। (নাউযুবিল্লাহ)। অতঃপর ঐ বুজুর্গের বুজুর্গীর দোহাই দিয়ে বিদ'আত বাজারজাতকরণে প্রয়াস চালায়। বলা হয় অমুক বড় বুজুর্গ এ কাজ করেছেন, তিনি অনেক বড় বড় আলেম, অলিয়ে কামেল ছিলেন সুতরাং এ কাজ জায়েয হওয়ার এটাই বড় দলিল (!)। কথিত বুজুর্গের বাহারী টাইটেলের আবর্তে অবুঝ শিশুর ন্যায় কিছু লোক ব্যাকুল হযে যায়। অতএব, হে মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে সমাজে প্রচলিত বিদ'আত হতে হেফাজত করুন এবং কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক দ্বীন বুঝার তৌফিক দিন, আমীন।
টিকাঃ
১০৭ ইবনু তায়মিয়া, মাজমূ' ফাতাওয়া ১০/২৫৪
১০৮ সূরা আল-ইতিছাম, পৃঃ নংঃ ১/৬৪-৬৫.
১০৯ সূরা মায়েদা: ৩
১১০ সূরা ইসরা: ৩৬
১১১ সূরা আ'রাফ: ৩৩
১১২ বুখারী, হাঃ ৭৩০৭, মুসলিম, হাঃ ২৬৭০
১১৩ সূরা ছোয়াদঃ ২৬
১১৪ সূরা কাহাফ: ২৮
১১৫ সূরা জাসিয়া: ২৩
১১৬ সূরা কাসাসঃ ৫০
১১৭ সূরা নাজম: ২৩
১১৮ সূরা আলে-ইমরান: ৭
১১৯ সূরা আল-হাশর: ৭
১২০ সূরা আহযাবঃ ৩৬
১২১ সূরা আল-বাকারা: ১৭০
১২২ সূরা যুখরুফ: ২২
১২৩ সূরা ফাতির: ৮
১২৪ সূরা আহযাবঃ ৬৬-৬৭
১২৫ সূরা ফুরকান: ২৭-২৯
১২৬ সূরা আনআম: ৬৮
১২৭ বুখারী, হাঃ ৫৫৩৪, মুসলিম; মুস্তাদরিক; সূত্র: [https://islam inbangla2017/2668](https://islaminbangla2017/2668)
১২৮ সূরা বাকারা : ১৭৪
১২৯ সূরা আলে-ইমরান : ১৮৭
১৩০ সূরা আলে-ইমরান : ১০৪
১৩১ মুসলিম, হাঃ ৪৯
১৩২ মুসলিম, হাঃ ৫০
১৩৩ তিরমিযী, হা: ২৬৪৯, আবু দাউদ, হাঃ ৩৬৫৮ ইবনে মাজাহ, হাঃ ২৬৬
১৩৪ যিযালুল জান্নাহ, হাঃ ৭৬, মিশকাত, হাঃ ৫৩৬৯, তিরমিযী, হাঃ ২১৮৩
১৩৫ সূরা আ'রাফ: ১৩৮
১৩৬ তিরমিযী, হাঃ ২১৮৭
১৩৭ বুখারী, হাঃ ৭৩২০, মুসলিম, হাঃ ২৬৬৯
১৩৮ ফতোয়া ইবনে তাইমিয়া: ২২নং খন্ড; ৩৬১-৩৬৩, ইতিসাম: আল্লামা শাতেবী ১ম: ২৮৭-২৯৪
১৩৯ সূরা নিসা : ১৭১
১৪০ নাসাঈ, হাঃ ৫/২৬৮
১৪১ বুখারী, হাঃ ৩৪৪৫
১৪২ মুসলিম, হাঃ ১৭১৮; রিয়াযুস সালেহীন, হাঃ ১৬৪৬, ১৬৯
১৪৩ মুসলিম, হাঃ ৪২৪৩
১৪৪ শাত্বেবী, আল-ই'তিছাম ১/১১৯; সুয়ূতী, আল-আমরু বিল ইত্তিবা, পৃঃ ১৯
১৪৫ বুখারী হাঃ ৩২৮২, মুসলিম হাঃ ২৬১০
১৪৬ বুখারী, হাঃ ১১৪২, মুসলিম, হাঃ ৭৭৬, মিশকাত হা: ১২১৯
১৪৭ সূরা আন'আম: ৬/১২১
১৪৮ সূরা হজ্জ্বঃ ২২/৩
১৪৯ সূরা বাক্বারাহঃ ২/১৬৯
১৫০ সূরা আনফালঃ ৮/৪৮
১৫১ আহমাদ, হাঃ ১২৫৭৪; সিলসিলাহ সহীহাহ হাঃ ১৫৭২
১৫২ আবুদাউদ, হাঃ ৪৮০৬, মিশকাত, হাঃ ৪৯০১
📄 বিদ‘আতের অপকারিতা
বিদ'আতের অপকারিতা সমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ
আল্লাহ বিদ'আতীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন: আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেনঃ
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا
কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে যেদিকে সে ফিরে যায় সেদিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব; অবশেষে তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব। আর তা কতই না মন্দ আবাস !১৫৩
যে হিদায়াত সুস্পষ্ট মূলত তা-ই সুন্নাত। এ সুন্নাতই হিদায়াতের একমাত্র রাজপথ। যারা রসূলুল্লাহ এর আদর্শ অনুসরণ করে চলতে প্রস্তুত হয় না এবং মুমিনদের অনুসৃত আদর্শকে বাদ দিয়ে অপর কোন আদর্শ অনুসরণ করে চলে, তারাই বিদ'আতী। এদের পরিণام জাহান্নাম ছাড়া আর কিছু নয়। অতএব রসূলুল্লাহ এর সুন্নাতকে অনুসরণ করে চলাই কল্যাণ ও মুক্তি লাভের একমাত্র উপায়।
বিদ'আতী আমল যতই সুন্দর হোক কোন কাজে আসবে না: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا - الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا
তাদেরকে বলে দাও, আমি কি তোমাদেরকে আমলের দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পর্কে সংবাদ দেব? তারা তো ঐসব লোক, পার্থিব জীবনে যাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে; অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্মই করছে। ১৫৪
অত্র আয়াতে বিদ'আতের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মূলত যাবতীয় কাজকর্ম ভুল ভিত্তিতে সম্পাদিত হওয়া সত্ত্বেও যারা নিজেদের কাজকে খুবই ভালো ও খুবই ন্যায়সঙ্গত বা সাওয়াবের কাজ বলে মনে করে, অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লোক। বিদ'আতপন্থীরাও ঠিক তেমনি। তারা যেসব কাজ করে, আসলে তা আল্লাহর দেয়া নীতির ভিত্তিতে নয়। তা সত্ত্বেও তারা এসব সাওয়াবের কাজ বলে মনে করে। এ আয়াত সাধারণভাবে এমন সব লোকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যারা আল্লাহর ইবাদাত করে আল্লাহর পছন্দনীয় পন্থার বিপরীত পন্থায়। তারা যদিও মনে করছে যে, তারা ঠিক কাজই করছে এবং আশা করছে যে, তাদের আমল আল্লাহর নিকট স্বীকৃত ও গৃহীত হবে। অথচ প্রকৃতপক্ষে তারা ভুল নীতির অনুসারী এবং তাদের আমল আল্লাহর নিকট প্রত্যাখ্যাত। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আয়েশা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيْهِ فَهُوَ رَدُّ
যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনে নতুন কিছু সংযোজন করবে, যা মূলত তাতে নেই, সেটি পরিত্যাজ্য। ১৫৫
উপরোক্ত হাদীসে রসূলুল্লাহ (أَمْرِنَا هَذَا) (আমার) বলতে ইসলামকেই বুঝিয়েছেন। এ দ্বীন এক পরিপূর্ণ দ্বীন। এ দ্বীন বা দ্বীনের কোন মৌলিক খুঁটিনাটি দিকও লুকায়িত নেই। এখন যদি কেউ এতে দ্বীন-বহির্ভূত কোন জিনিস বৃদ্ধি করতে চায় অথবা কোন দ্বীন বহির্ভূত বিষয়কে দ্বীনী বিষয় হিসেবে চালিয়ে দিতে চায় তাহলে সে গোটা দ্বীনকেই বিনষ্ট করে দেবে।
বিদ'আত থেকে দূরে থাকার জন্য নবী কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন : রসূল বলেন,
فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّينَ فَتَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ
তোমাদের উপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাত ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত ধারণ করা। তোমরা একে শক্তভাবে ধারণ করো এবং তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরো। সাবধান! ইবাদাতের নামে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে তৈরি করা সকল নব উদ্ভাবিত কাজ থেকে বিরত থাকো। ১৫৬
সকল বিদ'আতই গোমরাহী : হাদীসে এসেছে যে -
عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةً قَالَ .. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
ইবরায বিন সারিয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূল বলেছেন, তোমাদের উপর আবশ্যক হচ্ছে, তোমরা প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বিষয় থেকে দূরে থাকবে। কেননা প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদ'আত এবং প্রত্যেক বিদ'আতই গোমরাহী। ১৫৭
এ হাদীসে রসূলুল্লাহ বলেছেন, প্রত্যেক বিদ'আতই গোমরাহী। এটি দ্বীনের একটি বিশেষ মূলনীতি। সুতরাং যে কেউ নতুন কিছু উদ্ভাবন ও প্রবর্তন করবে এবং তাকে দ্বীনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করবে, সেটিই গোমরাহী ও ভ্রষ্টতা। দ্বীন এ সকল বস্তু থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। অনেকে বিদ'আতকে হাসানাহ ও সাইয়্যেআহ- এভাবে ভাগ করে থাকেন। কিন্তু এভাবে ভাগ করার কোন প্রয়োজন নেই। হাদীসে সকল বিদ'আতকেই গোমরাহী বলা হয়েছে। সুতরাং বিদ'আতকে ভাগ করা হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়। বিদ'আতে হাসানাহ বলতে যা বুঝানো হয়েছে তা মূলত বিদ'আতের সংজ্ঞায় পড়ে না।
বিশ্বনবী মুহাম্মাদ এর সাহাবীরা বিদ'আতকে সহ্য করেননি: আমর ইবনে ইয়াহইয়া বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন,
عَنْ عُمَرِو بْنِ يَحْيَى ، قَالَ : سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ : كُنَّا نَجْلِسُ عَلَى بَابِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَبْلَ صَلَاةِ الْغَدَاةِ فَإِذَا خَرَجَ مَشَيْنَا مَعَهُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَجَاءَنَا أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ فَقَالَ أَخَرَجَ إِلَيْكُمْ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ بَعْدُ قُلْنَا لَا بَعْدُ فَجَلَسَ مَعَنَا حَتَّى خَرَجَ فَلَمَّا خَرَجَ قُمْنَا إِلَيْهِ جَمِيعًا فَقَالَ لَهُ أَبُو مُوسَى يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنِّي رَأَيْتُ فِي الْمَسْجِدِ انِفًا أَمْرًا أَنْكَرْتُهُ وَلَمْ أَرَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ إِلَّا خَيْرًا . قَالَ فَمَا هُوَ فَقَالَ إِنْ عِشْتَ فَسَتَرَاهُ ، قَالَ : رَأَيْتُ فِي الْمَسْجِدِ قَوْمًا حِلَقًا جُلُوسًا يَنْتَظِرُونَ الصَّلَاةَ فِي كُلِّ حَلْقَةٍ رَجُلٌ وَفِي أَيْدِيهِمْ حَصًى فَيَقُولُ : كَبِرُوا مِائَةً فَيُكَبِّرُونَ مِائَةً فَيَقُولُ : هَلِلُوا مِائَةً فَيُهَلِّلُونَ مِائَةً وَيَقُولُ : سَبِّحُوا مِائَةً فَيُسَبِّحُوْنَ مِائَةً قَالَ فَمَاذَا قُلْتَ لَهُمْ قَالَ مَا قُلْتُ لَهُمْ شَيْئًا انْتِظَارَ رَأْيِكَ ، أَوِ انْتِظَارَ أَمْرِكَ قَالَ أَفَلَا أَمَرْتَهُمْ أَنْ يَعُدُّوا سَيِّئَاتِهِمْ وَضَمِنْتَ لَهُمْ أَنْ لَا يَضِيعَ مِنْ حَسَنَاتِهِمْ ، ثُمَّ مَضَى وَمَضَيْنَا مَعَهُ حَتَّى آتى حَلَقَةً مِنْ تِلْكَ الْحِلَقِ فَوَقَفَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ مَا هُذَا الَّذِي أَرَاكُمْ تَصْنَعُوْنَ قَالُوا : يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَتَّى نَعُتُ بِهِ التَّكْبِيرَ وَالتَّهْلِيلَ وَالتَّسْبِيحَ قَالَ فَعُدُّوا سَيِّئَاتِكُمْ فَأَنَا ضَامِنْ أَنْ لَا يَضِيعَ مِنْ حَسَنَاتِكُمْ شَيْءٌ وَيُحَكُمْ يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ مَا أَسْرَعَ هَلَكَتَكُمْ هُؤُلَاءِ صَحَابَةُ نَبِيِّكُمْ مُتَوَافِرُوْنَ وَهُذِهِ ثِيَابُهُ لَمْ تَبْلَ وَانِيَتُهُ لَمْ تُكْسَرُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّكُمْ لَعَلَى مِلَّةٍ هِيَ أَهْدَى مِنْ مِلَّةِ مُحَمَّدٍ ﷺ أَوْ مُفْتَتِحُوا بَابِ ضَلَالَةٍ قَالُوا وَاللَّهِ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَا أَرَدْنَا إِلَّا الْخَيْرَ قَالَ وَكَمْ مِنْ مُرِيدٍ لِلْخَيْرِ لَنْ يُصِيبَهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ حَدَّثَنَا أَنَّ قَوْمًا يَقْرَؤُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ وَايْمُ اللَّهِ مَا أَدْرِي لَعَلَّ أَكْثَرَهُمْ مِنْكُمْ ، ثُمَّ تَوَلَّى عَنْهُمْ
একদা আমরা ফজরের সালাতের পূর্বে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর দরজায় বসা ছিলাম। অতঃপর তিনি মসজিদের দিকে হেটে বের হলেন। এমন সময় আবু মুসা আশআরী (রাঃ) ও আমাদের কাছে আসলেন এবং বললেন, আবু আবদুর রহমান কি তোমাদের নিকট এসেছে? আমরা বললাম, না- আসেনি। অতঃপর তিনি আবু আবদুর রহমান না আসা পর্যন্ত আমাদের সাথে বসলেন। পরে যখন তিনি আসলেন তখন আমরা সকলে তার দিকে অগ্রসর হলাম। অতঃপর আবু মুসা (রাঃ) বললেন, হে আবু আবদুর রহমান! আমি এখনি মসজিদের মধ্যে এমন কিছু দেখতে পেলাম, যা আমি পছন্দ করিনি এবং ইতোপূর্বে আমি তা কখনো দেখিনি। তবে আমি এর মধ্যে ভালো ছাড়া আর কিছু দেখতে পাচ্ছি না। তিনি বললেন, সেটা কি? আবু মুসা (রাঃ) বললেন, তুমি বেঁচে থাকলে দেখতে পাবে। এরপর বললেন, আমি মসজিদে দেখলাম যে, কিছু লোক একসাথে বসে আছে। তারা সালাতের অপেক্ষা করছে আর তাদের প্রত্যেকের হাতে পাথরকণা রয়েছে এবং প্রত্যেক হালকাতে একজন লোক রয়েছে যে বলছে, তোমরা একশ' বার সুবহানাল্লাহ, একশ' বার আল্লাহু আকবার এবং একশ' বার লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ পড়। তাই তারা এ পাথর দ্বারা তাসবীহ পাঠ করছিল। এটা শুনে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তাদেরকে কী বলেছ? আবু মুসা (রাঃ) বললেন, আপনার মতামত জানার আগে আমি কিছুই বলিনি। তিনি বললেন, তুমি কি তাদেরকে এটা বলতে পারলে না যে, তারা যেন তাদের পাপসমূহ গণনা করে। আর তাদের নেক আমলসমূহ নষ্ট না হওয়ার জন্য তুমি জামিন হতে পারলে না? এরপর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) তাদের সামনে আসলেন এবং আমরাও তার সাথে গেলাম। তিনি বললেন, আমি তোমাদের মধ্যে এটা কী দেখতে পেলাম। তারা বলল, হে আবু আবদুর রহমান! এগুলো হলো পাথরকণা, যা দ্বারা আমরা তাসবীহ গণনা করি। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি এভাবে তোমাদের নেক আমলগুলো নষ্ট করতে শুরু করেছ। আমি জামিন হচ্ছি যে, তোমাদের কোন নেক আমল নষ্ট হবে না। শুন, হে রসূল (সঃ)-এর উম্মত! তোমরা এত দ্রুত কীভাবে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছ। অথচ নবীর সাহাবীরা এখনো জীবিত, তার পোষাকগুলো এখনো নষ্ট হয়ে যায়নি, তার বাসনগুলো এখনো ভেঙ্গে যায়নি। আল্লাহর কসম! তোমরা মুহাম্মাদের আদর্শের চেয়ে উত্তম কোন আদর্শ পেয়ে বসেছ? নাকি তোমরা কোন গোমরাহীর দরজা খুলে দিচ্ছ? তখন তারা বলল, হে আবু আবদুর রহমান! আমরা তো এর দ্বারা ভালো ছাড়া অন্য কিছু চাইনি। তিনি বললেন, শুন! অনেক কল্যাণকামী আছে কল্যাণের আকাংখা করে কিন্তু সে মূলত কল্যাণ পায় না। নিশ্চয় রসূল (সঃ) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয় এমন একটি সম্প্রদায় আসবে, যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালীর নিচে পৌঁছবে না। আল্লাহর কসম! আমি জানি না যে, তাদের মধ্যে কি তোমাদের সংখ্যা বেশি হবে? এরপর তিনি তাদের থেকে সরে গেলেন।১৫৮
যেখানেই কোন বিদ'আত শুরু হয় সেখান থেকে সমপরিমাণ সুন্নাত উঠে যায়: হাদীসে এসেছ -
عَنِ ابْنِ سِيرِينَ قَالَ : مَا أَخَذَ رَجُلٌ بِبِدْعَةٍ فَرَاجَعَ سُنَّةً
ইবনে সীরীন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি যে পরিমাণ বিদ'আত করে সেই পরিমাণ সুন্নাত তার থেকে বিলিন হয়ে যায়।১৫৯
সুন্নাতের উপর সীমাবদ্ধ থাকা বিদ'আতে কষ্ট স্বীকার করার চেয়ে উত্তম : হাদীসে এসেছে - আবদল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ﷺ قَالَ : الْقَصْدُ فِي السُّنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الْاجْتِهَادِ فِي الْبِدْعَةِ
সুন্নাতের উপর আমল করে প্রতিষ্ঠিত থাকা বিদ'আতের উপর প্রচেষ্টা করার চেয়ে অনেক উত্তম। ১৬০
বিদ'আত মুহাম্মাদ এর শাফা'আত প্রাপ্তি হতে বাঁধা প্রদান করবে: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ
আমি অবশ্যই তোমাকে (হওযে) কাউসার (বা প্রভূত কল্যাণ) দান করেছি। ১৬১
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা যায় যে, كوثر শব্দটির উৎপত্তি كثرة থেকে। এর বিভিন্ন অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। ইবনে কাসীর 'প্রভূত কল্যাণ' অর্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ এই অর্থ নেওয়াতে এমন ব্যাপকতা রয়েছে, যাতে অন্যান্য অর্থ শামিল হয়ে যায়। সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে যে, 'এটা একটি নদী যা বেহেস্তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - কে দান করা হবে'। কোন কোন হাদীসে কাওসার বলতে 'হওয' বুঝানো হয়েছে। যে হওয হতে ঈমানদাররা জান্নাতে যাওয়ার পূর্বে নবী - এর মুবারক হাতে পানি পান করবে। জান্নাতের ঐ নদী থেকেই পানি সেই হাওযের মধ্যে আসতে থাকবে। অনুরূপ দুনিয়ার বিজয়, নবী -এর মর্যাদা ও খ্যাতি, চিরস্থায়ীভাবে তাঁর সুনাম এবং আখেরাতের প্রতিদান ও বিনিময় ইত্যাদি সমস্ত জিনিসই 'প্রভূত কল্যাণ'- এ শামিল হয়ে যায়। ১৬২ অথচ যারা দুনিয়ার বুকে বিদ'আতে লিপ্ত থাকবে তাদেরকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লামের শাফা'আত প্রাপ্তি হতে বাঁধা প্রদান করা হবে।
কারণ হাদীসের মধ্যে বলা হয়েছে যে, বিদ'আতীকে হাওযে কাওসারের পানি পান করা হতে বঞ্চিত করা হবে। তিনি তাদের দূর হয়ে যেতে বলবেন। এটি প্রমাণ করছে যে তারা তাঁর শাফা'আত হতেও বঞ্চিত হবে। এখানে শাতেবী একটি দূর্বল হাদীস দিয়ে দলীল গ্রহণ করে, সেটির অর্থকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। সেটি হচ্ছে 'বিদ'আতী ছাড়া আমার উম্মতের সবাই আমার শাফা'আত পাবে'। ১৬৩ হাদীসে এসেছে - আবু হাসেম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি সাহালকে বলতে শুনেছি তিনি রসূল কে বলতে শুনেছেন, "আমি তোমাদের পূর্বেই হাওযে কাওসারের নিকট পৌঁছে যাব। যে ব্যক্তি সেখানে নামবে এবং তার পানি পান করবে সে আর কখনও পিপাসিত হবে না। কতিপয় লোক আমার নিকট আসতে চাইবে, আমি তাদেরকে চিনি আর তারাও আমাকে চেনে। অতঃপর আমার ও তাদের মধ্যে পর্দা পড়ে যাবে। রসূল বলবেন তারা তো আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত। তাকে বলা হবে আপনি জানেন না আপনার পরে তারা কি আমল করেছে। তখন যে ব্যক্তি আমার পরে (দ্বীনকে) পরিবর্তন করেছে তাকে আমি বলবো: দূর হয়ে যাহ্, দূর হয়ে যাহ্।”১৬৪
বিদ'আত সহীহ সুন্নাহকে বিতাড়িত করে তার স্থলাভিষিক্ত হয়: বাস্তব নমুনায় এর বিরাট প্রমাণ। সলাত শেষে জামা'বদ্ধ হয়ে হাত তুলে দু'আ করলে, সালাতের পরে পঠিতব্য মুতাওয়াতির সূত্রের সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত দু'আ ও যিকিরগুলো পড়া হয় না। এছাড়া ইসলামের বিভিন্ন ইবাদাতের মধ্যে দূর্বল হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এরূপ বহু আমল আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যা সরাসরি সহীহ হাদীসর বিপরীত আমল। বিজ্ঞ পাঠকবৃন্দে নিকট এর চেয়ে আর বেশী কিছু বলা প্রয়োজন মনে করছি না। অতএব দূর্বল বা জাল হাদীসের উপর আমল করলে সহীহ সুন্নাহ বিতাড়িত হবেই।
বিদ'আত পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত বিদ'আতীর কোন প্রকার তওবাহ করার সুযোগ জুটবে না: "আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক বিদ'আতির বিদ'আতকে পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তাওবার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন।"১৬৫
বিদ'আতীর কোন আমল কবুল করা হবে না: রসূল বলেছেন: "যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করবে বা কোন বিদআতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ এবং সকল ফেরেশতা ও মানুষের অভিশাপ তার ফরয ইবাদাত বা তাওবাহ, নফল ইবাদাত বা ফিদইয়া কবুল করা হবে না।”১৬৬
ইমাম আওযা'ঈ বলেন, কোন কোন বিশেষজ্ঞ আলেম বলেছেন: বিদ'আতীর সলাত, সিয়াম, সাদাকাহ, জিহাদ, হাজ্জ, উমরাহ, কোন ফরয ইবাদাত বা তাওবাহ, নফল ইবাদাত বা ফিদইয়া গ্রহণযোগ্য হবে না। অনুরূপ কথা হিশাম ইবনু হাসানও বলেছেন। আইউব আস-সুখতিয়ানী বলেন: বিদ'আতী তার প্রচেষ্টা যতই বৃদ্ধি করবে আল্লাহর নিকট হতে তার দূরত্ব ততই বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া যে বিদ'আতকে পছন্দ করে তার ধারণা শরীয়ত পূর্ণ নয়, অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিয়েছি।”১৬৭ কেননা তার নিকট যদি দ্বীন পরিপূর্ণ হয়ে যেয়েই থাকে তাহলে সে শরীয়তের মধ্যে নতুন কিছুর প্রবেশ ঢুকাবে কেন বা তাকে অবহিত করার পরেও কেনই বা বিদ'আতের উপর আমল করবে।
বিদ'আতীর উপর দুনিয়াতে লাঞ্ছনা আর আখেরাতে আল্লাহর ক্রোধ চাপিয়ে দেয়া হবে: আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَذِلَّةٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُفْتَرِينَ
"অবশ্যই যারা গাভীর বাচ্চাকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে তাদের উপর তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দুনিয়াতেই ক্রোধ ও লাঞ্ছনা এসে পড়বে। মিথ্যারোপকারীদেরকে আমি অনুরূপ শাস্তি দিয়ে থাকি।”১৬৮
সামেরীর প্ররোচনায় গাভীর বাচ্চা দ্বারা তারা পথভ্রষ্ট হয়েছিল এমনকি তারা তার ইবাদাতও করেছিল। আল্লাহ তা'আলা আয়াতের শেষে বলেছেনঃ “মিথ্যারোপকারীদেরকে আমি অনুরূপ শাস্তি দিয়ে থাকি এটি ব্যাপকভিত্তিক কথা। এর সাথে বিদ'আতেরও সাদৃশ্যতা আছে। কারণ সকল প্রকার বিদ'আতও আল্লাহর উপর মিথ্যারোপের শামিল। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা নিজ সন্তানদেরকে নির্বুদ্ধিতাবশতঃ বিনা জ্ঞানে হত্যা করেছে এবং আল্লাহ তাদেরকে যেসব রিযিক দিয়েছিলেন, সেগুলোকে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করে হারাম করে দিয়েছে। নিশ্চয় তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং সুপথগামী হয়নি।"১৬৯
অতএব আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে যে ব্যক্তিই বিদ'আত সৃষ্টি করবে তাকেই তার বিদ'আতের কারণে লজ্জিত ও লাঞ্ছিত হতে হবে। তাবেঈ'দের যুগে বাস্তবে বিদ'আতীদের ভাগ্যে এমনটিই ঘটেছিল। তাদেরকে তাদের বিদ'আত নিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। রসূল এ প্রসঙ্গে তাই বলেছেন: “যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু আবিস্কার করবে বা কোন নব-আবিস্কারকারীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ এবং সকল ফেরেশতা ও মানুষের অভিশাপ।”১৭০
টিকাঃ
১৫৩ সূরা নিসা: ১১৫
১৫৪ সূরা কাহফঃ ১০৩, ১০৪
১৫৫ সহীহ বুখারী, হাঃ ২৬৯৭; সহীহ মুসলিম, হাঃ ৪৫৮৯; আবু দাউদ, হা: ৪৬০৬; ইবনে মাজাহ, হাঃ ১৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ২৬০৩৩।
১৫৬ আবু দাউদ, হাঃ ৪৬০৭; সুনানে বায়হাকী আল কুবরা, হাঃ ২০১২৫; দারেমী, হাঃ ৯৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ ৩২৯; মুসনাদে আহমাদ, হা: ১৭১৪৫।
১৫৭ আবু দাউদ, হাঃ ৪৬০৭; দারেমী, হাঃ ৯৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ ৩৩২; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ১৭১৪৪।
১৫৮ মুসনাদুদ দারেমী, হাঃ ২১০।
১৫৯ মুসনাদুদ দারেমী, হাঃ ২১৪।
১৬০ মুসনাদুদ দারেমী, হাঃ ২২৩
১৬১ সূরা কাওসার: ১
১৬২ ইবনে কাসীর, ১৮ খন্ড, পৃঃ নং: ২৯৪ এছাড়াও আরও দেখুন- তাফসীর আহসানুল বায়ান, আল্লামা হাফিয সালাহুদ্দীন ইউসুফ, সম্পাদনা: আব্দুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী, পৃঃ নংঃ ১২৫২
১৬৩ আল-ইতিসাম ১/১৫৯
১৬৪ মুসলিম, হাঃ ৪২৪৩
১৬৫ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব পৃঃ ১/১৩০, হাঃ ৫৪
১৬৬ বুখারী, হাঃ ৩১৮০
১৬৭ সূরা মায়েদা: ৩
১৬৮ সূরা আরাফ: ১৫২
১৬৯ সূরা আন'আম: ১৪০
১৭০ বুখারী, হাঃ ৩১৮০