📄 বিদ‘আত হারাম
ধর্মের মধ্যে নতুন কিছুর সংযোজন বা বিয়োজন করা বিদআত বা হারাম বলে বিবেচিত। কারণ শরীয়তের বিধান প্রণয়নের দায়িত্ব এককভাবে শুধুই আল্লাহর এবং তাঁর ইচ্ছা ও অনুমতি ব্যতীত শরীয়তের বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার কারো নেই। পবিত্র কুরআন ধর্মীয় পুরোহিতদের অন্ধ অনুসরণের কারণে ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং তাদের নিরঙ্কুশ কর্মবিধায়ক নির্ধারণ করার কারণে ভর্ৎসনা করে বলেছে,
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ
তারা আল্লাহর পরিবর্তে তাদের ধর্মযাজক ও সংসার বিরাগী পুরোহিতদের নিজেদের পালনকর্তা বলে গ্রহণ করেছে। ৯৫
যদিও ইহুদী আলেমরা তাঁদের অনুসারীদের নিজেদের উপাসনার দিকে আহ্বান করতেন না কিংবা তাঁদের অনুসারীরাও তাঁদের উপাসনা করত না, কিন্তু তাঁরা আল্লাহর হালাল করা বস্তুকে হারাম এবং হারাম করা বস্তুকে হালাল বলে ঘোষণা করতেন। জনসাধারণ তা জানা সত্ত্বেও তাঁদের আনুগত্য করত ও তাঁদের কথা শুনত। এ কারণেই এ আনুগত্যকে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিপালক গণ্যকারী বলেছেন যা প্রকৃতপক্ষে একরূপ উপাসনার নামান্তর। খ্রিস্টানদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন,
وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ
আর বৈরাগ্য, তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল যা আল্লাহ তাদের জন্য নির্ধারণ করেননি। ৯৬ সহীহ হাদীসসমূহেও কঠোরভাবে বিদ'আত কে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। মহানবী বলেছেন,
مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةً وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ.
আল্লাহ্ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোন পথ প্রদর্শনকারী নেই। নিশ্চয়ই সর্বাধিক সত্যবাণী হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবের বাণী। আর সর্বোত্তম পথ হলো মুহাম্মাদ কর্তৃক প্রদর্শিত পথ। আর মন্দ বিষয়গুলো হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবসৃষ্ট আমল বা কাজ। প্রত্যেক নবসৃষ্ট আমলই বিদ'আত। প্রত্যেক বিদ'আতই ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণام জাহান্নাম।১৭ নিশ্চয়ই শরীয়তে সকল প্রকার বিদ'আত হারাম ও পথভ্রষ্টতা। এ প্রসঙ্গে রসূল বলেনঃ
وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ.
তোমরা নব্য সৃষ্ট বিষয় হতে বেঁচে থাক। কেননা সকল নবসৃষ্ট বস্তু বিদ'আত ও সকল বিদ'আত পথভ্রষ্টতা। ১৮ রসূল বলেনঃ
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدُّ
যে আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু প্রবর্তন করে যা এর অন্তর্ভূক্ত নয় তা প্রত্যাখ্যাত। ১৯ অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ.
অর্থঃ যে ব্যক্তি (ইবাদতের) নামে এমন কোন আমল করে যা আমাদের পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত। ১০০
উভয় হাদীসে এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, দ্বীনের মাঝে নবসৃষ্ট সকল বিষয় 'বিদ'আত এবং সকল বিদ'আতই ভ্রষ্টতা ও প্রত্যাখ্যাত। অতএব ইবাদতে বিদ'আত হারাম।
ইমাম শাতেবী বলেন, বিদ'আতপন্থীর গুনাহ একটির মধ্যে সীমিত থাকে না বরং বিভিন্ন দিকে শাখা বিস্তার করে। যেমন-
১। বিদ'আতী ব্যক্তি ইজতিহাদের দাবীদার হয় বা কারো তাকলীদ করে।
২। বিদ'আতপন্থী হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে বিদ'আত প্রবর্তন করে। যথা মান-সম্মান, ধন-দৌলত, ধর্ম, বুদ্ধি অথবা অন্য কোন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে।
৩। বিদ'আতপন্থী স্বীয় কর্মকান্ড প্রকাশ্যে অথবা গোপনে করে।
৪। স্বীয় বিদ'আতের দিকে মানুষকে আহ্বান করে আবার কখনও করে না।
৫। সে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বহির্ভূত গণ্য হবে বা হবে না।
৬। সেটা মৌলিক বিদ'আত অথবা আপেক্ষিক বিদ'আত হবে।
৭। বিদ'আতটি স্পস্ট হবে অথবা অস্পষ্ট হবে।
৮। বিদ'আতটি কুফরী হবে বা হবে না।
৯। বিদ'আতটি একাধিকবার করা হবে বা হবে না। তিনি (ইমাম শাতেবী) বলেন, এ সকল দিক তথা কারণগুলোর ভিন্নতার ফলে গুনাহও বিভিন্ন ধরণের হয়। ১০১
অতএব বিদ'আত ও শরীয়তের দলিল দ্বারা সাব্যস্ত আমল এক হতে পারে না। আর যা মাকরুহ ও হারাম তা পুরোপুরিই বিদ'আত। ১০২ মোট কথা - ধর্মের কাজ নবীর তরীকা অনুযায়ী করলে নবীর সুন্নাত হবে আর ধর্মের কাজ নিজের ইচ্ছামত করলে বিদ'আত হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথের হেদায়ত দান করুন, আমীন।
টিকাঃ
৯৫ সূরা তাওবা: ৩১
৯৬ সূরা হাদীদ: ২৭
৯৭ মুসলিম, হাঃ ৮৬৭, ১৫৩৫, নাসাঈ, হাঃ ১৫৬০, ১৫৭৮
৯৮ আবু দাউদ, হাঃ ৪৬০৭, তিরমিযী, হাঃ ২৬৭৬
৯৯ সহীহুল বুখারী, হাঃ ২৬৯৭, মুসলিম, হা: ১৭১৮, আবু দাউদ, হাঃ ৪৬০৭, ইবনু মাজাহ, হাঃ ১৪, আহমাদ, হাঃ ২৩৯২৯, ২৪৬০৪, ২৪৯৪৪, ২৫৫০২, ২৫৬৫৯, ২৫৭৯৭
১০০ সহীহ মুসলিম, হাঃ ১৭১৮
১০১ আল-ইতিসাম - শাতেবী, পৃঃ নং: ১/২১৬-২২৪
১০২ আল-ইতিসাম- শাতেবী ১/২৪৬
📄 বিদ‘আতের প্রকারভেদ
দ্বীনের ভিতর সকল বিদ'আতই হারাম। যারা বিদ'আতকে হাসানাহ ও সাইয়্যেআহ বলে বিভক্ত করে, তারা ভুল করে থাকেন এবং রসূল ﷺ - এর বানী
فإنكلبدعة ضلالة.
নিশ্চয়ই প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহ এর বিরোধিতাকারী। ১০৩ অতএব, রসূলুল্লাহ ﷺ বিদ'আত প্রসঙ্গে রায় দিতে গিয়ে বলেছেন প্রত্যেক বিদ'আতই গোমরাহী আর বিদআতীরা বলছে, না প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহী নয় বরং কিছু বিদ'আত আছে হাসানাহ (ভাল)। আল্লামা হফেয ইবনে রজব বলেন: নবী আকরাম ﷺ - এর বাণী (كل بدعة ضلالة) (প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহী) একটি (جوامعالكلم) তথা ব্যাপক অর্থ বোধক বাক্য। কোন কিছুই তার বহির্ভূত নয়। সকল প্রকারই তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এটি দ্বীনের একটি বিশেষ মূলনীতি। এটি রসূলের নিম্নোক্ত বাণীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বক্তব্য। রসূল ﷺ বলেনঃ
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَةٌ.
(যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, সেটি পরিত্যাজ্য হবে)। ১০৪
আল্লামা সুযুতী তার ‘মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজ বিসূন্নাহ’ কিতাবে লেখেন - তোমরা জেনে রাখ! - আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করুন - যে ব্যক্তি রসূল এর হাদীস - চাই তা তার কথা হোক বা কর্ম হোক - দলীল হওয়াকে অস্বীকার করল, সে কুফরী করল, সে ইসলামের গন্ডী থেকে বের হয়ে গেল। তার হাশর ইয়াহূদী ও নাসারাদের সাথে হবে অথবা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কোনো কাফের দলের সাথে হবে।' সুতরাং যে কেউ নতুন কিছু উদ্ভাবন ও প্রবর্তন করবে এবং তাকে দ্বীনের দিকে নিসবত (সম্বন্ধ) করবে অথচ দ্বীনে তার কোন মূল ভিত্তি নেই যার দিকে সে ফিরতে পারে, সেটিই গোমরাহী ও ভ্রষ্টতা। দ্বীন এ সকল বস্তু থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। এ ক্ষেত্রে সকল বিষয় যথা আকীদাহ ও আমল সব সমান।
টিকাঃ
১০৩ মুসলিম, হাঃ ৮৬৭
১০৪ সহীহুল বুখারী, হাঃ ২৬৯৭, মুসলিম, হাঃ ১৭১৮, আবু দাউদ, হাঃ ৪৬০৭, ইবনু মাজাহ, হাঃ ১৪, আহমাদ, হাঃ ২৩৯২৯, ২৪৬০৪, ২৪৯৪৪, ২৫৫০২, ২৫৬৫৯, ২৫৭৯৭
📄 পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ
সাহাবী ওমর একবার সালাতে তারাবীহ সম্পর্কে বলেছিলেনঃ نعمت البدعة هذه )কত সুন্দর বিদ'আত এটি) বিদ'আতকে হাসানাহ ও সাইয়্যেআহ দ্বারা বিভক্তকারীদের নিকট ওমরের এ উক্তিটি ব্যতীত তাদের মতের স্বপক্ষে আর কোন দলিল নেই। তারা আরো বলে যে, এরূপ আরো অনেক নতুন নতুন বিষয়ের প্রবর্তন হয়েছিল কিন্তু সালাফের কেউ সে গুলোকে ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান করেননি, যেমন কুরআনুল কারীমকে এক মাসহাফে একত্রিত করা, (যা রাসূলের যুগে ছিল না) হাদীস লেখা ও সংকলন করা এটিও রসূল নিজে করে যাননি। আপত্তি উত্থাপিত বিষয়গুলো বিদ'আত নয় বরং শরীয়তের এগুলোর একটি ভিত্তি আছে।
আর ওমর এর বক্তব্য نعمتالبدعة তে শরঈ بدعة নয়। সুতরাং যে সকল বিষয়ের একটি শরঈ ভিত্তি থাকবে সেগুলো সম্পর্কে যখন بدعة (বিদ'আত) বলে মন্তব্য করা হবে তখন শাব্দিক বিদ'আত বুঝতে হবে শরঈ নয়। আর সালাতে তারাবীহ তো রসূলুল্লাহ নিজেই সাহাবীদের নিয়ে পড়ে ছিলেন। শেষ দিকে এসে ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি তাদের থেকে পিছিয়ে গেছেন। তবে সাহাবারা বিক্ষিপ্তভাবে রাসূলের জীবদ্দশায় এবং ওফাতের পর ধারাবাহিকভাবে পড়েছেন। এক পর্যায়ে এসে ওমর সকলকে এক ইমামের পিছনে একত্রিত করে দিয়েছেন যেমন তারা রাসূলের পিছনে পড়ে ছিলেন। ১০৫
উপরোক্ত আলোচনার পর বলা যায় যে, আর এক গ্রন্থে কুরআন মজীদ একত্রিত করাও শরীয়তের একটি ভিত্তি আছে। কারণ রসূলুল্লাহ নিজে কুরআন লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেগুলো বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তাকারে ছিল পরে সাহাবায়ে কেরাম সংরক্ষণের নিমিত্তে সবগুলোকে এক গ্রন্থে জমা করেছেন। হাদীস লিপিবদ্ধ করারও একটি শরঈ ভিত্তি আছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জানা যাবে যে ইলম ও ইবাদত সংশ্লিষ্ট সাধারণ বিদ'আতের প্রচলন উম্মতের মধ্যে খোলাফায়ে রাশেদীনের শেষ যুগে শুরু হয়েছে। যেমন রসূলুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেছেনঃ
فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّينَ فَتَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ
তোমাদের উপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাত ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত ধারণ করা। তোমরা একে শক্তভাবে ধারণ করো এবং তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরো। সাবধান! ইবাদাতের নামে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে তৈরি করা সকল নব উদ্ভাবিত কাজ থেকে বিরত থাকো। ১০৬ অতএব, উপরোক্ত আলোচনার সারাংশে বলা যায় যেঃ
(১) ঐ বিদ'আতী কাজ বা আমল আল্লাহর নিকট কখনোই গৃহীত হবে না।
(২) বিদ'আতী কাজ বা আমলের ফলে মুসলিম সমাজে গোমরাহী বিস্তার লাভ করে এবং
(৩) এ গোমরাহীর চূড়ান্ত ফলাফল হলো বিদ'আত কার্য সম্পাদনকারীকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
টিকাঃ
১০৫ আলআহাদীসুল মুখতারা, ইমাম জিয়াউদ্দীন মাকদেসী ১/৪৮১/১১৬১
১০৬ আবু দাউদ, হাঃ ৪৬০৭; সুনানে বায়হাকী আল কুবরা, হা: ২০১২৫; দারেমী, হাঃ ৯৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ ৩২৯; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ১৭১৪৫
📄 বিদ‘আত উৎপত্তির কতিপয় কারণ
বিদ'আত সৃষ্টির অনেকগুলো কারণ রয়েছে। বিদ'আতের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তায়মিয়া বলেন,
وَاعْلَمْ أَنَّ عَامَّةَ الْبِدَاعِ الْمُتَعَلِّقَةِ بِالْعُلُومِ وَالْعِبَادَاتِ فِي هَذَا الْقَدَرِ وَغَيْرِهِ إِنَّمَا وَقَعَ فِي الْأُمَّةِ فِي أَوَاخِرِ خِلَافَةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ كَمَا أَخْبَرَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيْثُ قَالَ : مَنْ يَعِشُ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ مِنْ بَعْدِي
'জেনে রাখা দরকার যে, খুলাফায়ে রাশেদা তথা চার খলীফার খেলাফতকালের শেষের দিকে মুসলিম উম্মাহর মাঝে ইবাদতের ক্ষেত্রে বিদ'আত ঢুকে পড়ে। আর এ সম্পর্কে রসূল ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছেন, 'তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই ব্যাপক মতানৈক্য দেখতে পাবে। সুতরাং সে অবস্থায় তোমরা আমার সুন্নাত ও আমার পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। ১০৭
ইমাম মালেক -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তাঁর অন্যতম ছাত্র ও শিষ্য ইবনে মাজিশূন বলেন, আমি ইমাম মালেক -কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে বিদ'আত চালু করল এবং সেটিকে হাসানা বা ভাল মনে করল, সে যেন এমন দাবী করল যে, মুহাম্মাদ রিসালতের দায়িত্ব পালনে খেয়ানত করেছেন। ১০৮ এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ 'আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম।'১০৯
সুতরাং সেদিন যা দ্বীন ছিল না, আজও তা দ্বীন হিসাবে পরিগণিত হবে না।'
যেমন - (১) অজ্ঞতা: আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَلا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنهُ مَسْئُولاً.
অর্থঃ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই কর্ণ, চক্ষু, হৃদয় এর প্রত্যেকটির ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।১১০
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْها وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بَغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلُ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
অর্থঃ আপনি বলে দিন, প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, পাপ, অসংগত বিরোধিতা এবং কোন কিছুকে আল্লাহর সাথে শরিক করা যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোন দলিল অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যে ব্যাপারে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই, এ সবই আমার রব নিষিদ্ধ করেছেন।১১১
আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূল কে বলতে শুনেছিঃ
إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِّن رَّبِّهِمُ الْهُدى.
অর্থঃ আল্লাহ মানুষ থেকে (দ্বীনি) জ্ঞান ছিনিয়ে নেবেন না বরং আলেমগণকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিবেন, তাদের সাথে ইল্মও উঠে যাবে। দুনিয়াতে মুর্খ নেতারা বেঁচে থাকবে তারা (কুরআন-হাদীসের) ইল্ম ব্যতীত ফতোয়া দিবে। ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে। ১১২
(২) প্রবৃত্তির অনুকরণ: প্রবৃত্তির অনুকরণ অত্যন্ত ভয়ঙ্কর যা মানুষকে বিদ'আত সৃষ্টিকারী ও আত্মপুজারী বানিয়ে দেয়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ
অর্থঃ হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি। অতএব তুমি মানুষের মাঝে সুবিচার কর এবং প্রবৃত্তির (খেয়াল খুশির) অনুসরণ কর না। কেননা এটা তোমাকে আল্লাহ্র পথ হতে বিচ্যুত করবে। যারা আল্লাহ্র পথ পরিত্যাগ করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। কেননা তারা বিচার দিবসকে ভুলে গেছে। ১১৩
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا.
অর্থঃ আপনি তার অনুসরণ করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি। সে আপন প্রবৃত্তির অনুসরণ করে ও তার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে। ১১৪
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
أَفَرَعَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَ قَلْبِهِ و جَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشْوَةً فَمَن يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
অর্থঃ আপনি কি ঐ ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করেছেন, যে প্রবৃত্তিকে নিজের ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে। আল্লাহ যথার্থই তাকে বিভ্রান্ত করেছেন, তার কর্ণ ও হৃদয়ে মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপরে রেখেছেন আবরণ। অতঃপর আল্লাহর পর কে তাকে পথ নির্দেশ করবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?১১৫
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ ۚ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
অর্থঃ আল্লাহর পক্ষ হতে হিদায়াত ব্যতীত যে আত্মপুজারী হয়, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে?১১৬
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الأَنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِّن رَّبِّهُمُ الْهُدِي.
অর্থঃ তারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, অথচ তাদের নিকট আপন রবের পথ নির্দেশ এসেছে। ১১৭
(৩) সন্দিহান হওয়া: বিদ'আতপন্থী সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বিদ'আতে জড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأَخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيَغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ، وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ أَمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِندِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُوا الْأَلْبَابِ.
অর্থঃ তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন যাতে সুস্পষ্ট ও অকাট্য আয়াতসমূহ রয়েছে। ওগুলো কিতাবের মূল আর কিছু আয়াত অস্পষ্ট। অতএব যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে তারাই অশান্তি সৃষ্টি ও (ইচ্ছামত) ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে অস্পষ্টের অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ব্যতীত এর অর্থ কেউই জানে না। যারা জ্ঞানী তারা বলে, আমরা এতে বিশ্বাস করি। সবই আমাদের রবের নিকট হতে আগত। জ্ঞানীরা ব্যতীত কেউই উপদেশ গ্রহণ করে না। ১১৮
(৪) যুক্তির উপর নির্ভর করা: যে ব্যক্তি আকল বা যুক্তির উপর নির্ভর করে এবং কুরআন ও সুন্নাহ ছেড়ে দেয় অথবা কোন একটি ছেড়ে দেয়, সে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
অর্থঃ রসূল তোমাদের জন্য যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ কর এবং যা হতে নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর। ১১৯
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِن وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا.
অর্থঃ আল্লাহ এবং তাঁর রসূল যদি কোন ব্যাপারে ফায়সালা করেন তখন কোন মুমিন পরুষ বা নারীর জন্য নিজেদের ব্যাপারে (অন্য কোন) সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার থাকবে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর হুকুমের অবাধ্য হল সে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্ট হয়ে গেল।১২০
(৫) অন্ধ অনুকরণ ও গোঁড়ামী: অধিকাংশ বিদ'আতপন্থী তাদের পূর্ব পুরুষ ও পীর-মাশায়েখদের তাকলীদ তথা অন্ধ অনুকরণ এবং নিজ মাজহাবের ব্যাপারে গোঁড়ামী করে থাকে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا.
অর্থঃ যখন তাদের বলা হয়, তোমরা আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ কর; তখন তারা বলে, বরং আমরা তারই অনুসরণ করব যার উপর আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি।১২১
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُهْتَدُونَ
অর্থঃ বরং আমরা পূর্বপুরুষদের একটি মতাদর্শের উপর পেয়েছি এবং তাদের পথ ধরেই আমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হব। ১২২
বিদ'আতপন্থীদের নিকট তাদের বিদ'আতী কর্মকান্ড আকর্ষণীয় করে দেয়া হয়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
أَفَمَن زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَوَاهُ حَسَنًا فَإِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَاء وَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَاتٍ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا يَصْنَعُونَ.
অর্থঃ কাউকে যদি তার মন্দ কর্ম সুন্দর করে দেখানো হয় তখন সে ওটাকে উত্তম মনে করে। আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা গোমরাহ করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত করেন। অতএব আপনি তাদের জন্য আক্ষেপ করে নিজ প্রাণকে ধ্বংস করবেন না। তারা যা করে আল্লাহ্ সে সম্পর্কে সম্মক জ্ঞাত। ১২৩
বিদ'আতপন্থীর পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
يَوْمَ تُقَلَّبُ وَجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يَا لَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولا. وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكَبُرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلا. رَبَّنَا ءَاتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْنَا كَبِيرًا
অর্থঃ যে দিন তাদের মুখমন্ডল অগ্নিতে উলট পালট করা হবে সে দিন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করতাম! তারা আরো বলবে, হে আমাদের রব! আমরা নিজ নেতা ও বড়দের আনুগত্য করেছিলাম এবং তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের রব! তাদের দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন ও তাদের উপর লানত বর্ষণ করুন। ১২৪
(৬) বিদ'আতপন্থীদের সংশ্রব ও তাদের সাথে উঠা বসা করা : বিদ'আতপন্থীদের সঙ্গ দেয়া ও তাদের সাথে উঠা বসা করার দ্বারাও সমাজে বিদ'আত প্রচার-প্রসার লাভ করে। আল্লাহ তা'আলা বিদ'আতের অনুসারীদের সংশ্রবকে নিন্দনীয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন যে -
وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمِ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلاً. يَا وَيْلَتي لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلاً . لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَان الشَّيْطَانُ لِلإِنْسَانِ خَذُولاً.
অর্থঃ যালিমরা সে দিন নিজ হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে সৎপথ অবলম্বন করতাম। হায়! দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধু রূপে গ্রহণ না করতাম। আমার নিকট উপদেশ পৌঁছার পর সে আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল। শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক। ১২৫
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
وَإِذَا رَأَيْتَ الذِيْنَ يَخُوضُونَ فِي وَايَاتِنَا فَأَعْرِضَ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدُ بَعْدَ الذِّكْرِي مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ.
অর্থঃ যখন আপনি দেখবেন লোকজন আমার আয়াতসমূহে দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করছে। তখন আপনি তাদের হতে দূরে সরে যাবেন, যতক্ষণ না তারা অন্য কোন প্রসঙ্গে নিমগ্ন হয়। শয়তান যদি এটা আপনাকে ভুলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর আর এ যালিমদের সাথে বসবেন না। ১২৬
রসুল বলেন:
إِنَّمَا مَثَلُ الْجَلِيسِ الصَّالِحِ وَالْجَلِيسِ السَّوْءِ كَحَامِلِ الْمِسْكِ وَنَافِخِ الْكِيرِ فَحَامِلُ الْمِسْكِ إِمَّا أَنْ يُحْذِيَكَ وَإِمَّا أَنْ تَبْتَاعَ مِنْهُ وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ مِنْهُ رِيحًا طَيِّبَةً وَنَافِخُ الْكِيرِ إِمَّا أَنْ يُحْرِقَ ثِيَابَكَ وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ رِيحًا خَبِيثَةً
অর্থঃ নিশ্চয়ই সৎসঙ্গ ও অসৎসঙ্গের দৃষ্টান্ত হল কস্তুরী বহনকারী ও কামারের ন্যায়। অতঃপর কস্তুরী বহনকারী হয়ত তোমাকে কিছু দেবে অথবা তুমি তার থেকে কিছু কিনবে। আর তা না হলে কমপক্ষে তার থেকে সুঘ্রাণযুক্ত বাতাস পাবে। আর কামার হাপরে ফুৎকারের মাধ্যমে হয়ত তোমার কাপড় জ্বালিয়ে দেবে অথবা তার থেকে তুমি দূর্গন্ধময় বাতাস পাবে। ১২৭
(৭) আলেমদের নিশ্চুপ থাকা ও সঠিক ইল্ম গোপন করা : এটা লোক সমাজে বিদ'আত ও ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টির অন্যতম কারণ। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلَ اللهُ مِنَ الْكِتَابِ وَ يَشْتَرُونَ بَهِ ثَمَنًا قَلِيلاً أُولَئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمُ
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ যা কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন তা যারা গোপন করে ও সামান্য মূল্যে বিক্রি করে, তারা স্ব-স্ব উদরে অগ্নি ছাড়া আর কিছুই ভক্ষণ করে না। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং এদের জন্যই রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ১২৮
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ
وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَذُوْهُ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَوْا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلاً فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ
অর্থঃ স্মরণ করুন, যখন আহলে কিতাবদের থেকে আল্লাহ্ অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তোমরা নিশ্চয়ই এটা মানুষের কাছে প্রকাশ করবে, গোপন করবে না। এরপরও তারা তা অগ্রাহ্য করে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করলো। অতএব তারা যা ক্রয় করে তা খুবই নিকৃষ্ট।১২৯
আল্লাহ তা'আলা এ উম্মতের একটি দলের উপর দাওয়াত ইলাল্লাহ, সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা ওয়াজিব করেছেন। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَلْتَكُنْ مِنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
অর্থঃ তোমাদের মধ্যে এরূপ একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। এরাই সফলকাম।১৩০
রসূল এ প্রসঙ্গে তাই বলেছেনঃ
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرُهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ
অর্থঃ তোমাদের যে কেউ গর্হিত কাজ হতে দেখে, সে যেন তা হাত দ্বারা বাধা করে। যদি এ শক্তি না থাকে তাহলে যেন মুখ দ্বারা বাঁধা প্রদান করে, তাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে যেন অন্তরে ঘৃণা করে। এটা ঈমানের দুর্বলতম স্তর। ১৩১
এ হাদীস দ্বারা একথাই প্রমাণিত হয় যে, প্রত্যেক মুসলিমের উপর নিজের ক্ষমতা ও শক্তি অনুযায়ী সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা ওয়াজিব। এছাড়াও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ হতে বর্ণিত, রসূল বলেনঃ
مَا مِنْ نَبِي بَعَثَهُ اللَّهُ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إِلَّا كَانَ لَهُ مِنْ أُمَّتِهِ حَوَارِيُّونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الْإِيمَانِ حَبَّةٌ خَرْدَلٍ
অর্থ: আমার পূর্বে যত নবী এসেছেন তাদের প্রত্যেকেরই স্বীয় উম্মতের মধ্য থেকে কিছু সাথী এবং ঘনিষ্ঠ লোক ছিল। যারা তাঁর সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরত এবং তাঁর হুকুম মেনে চলত। পরবর্তীতে এমন এক প্রজন্ম এল, তারা যা বলত তা করত না এবং তারা এমন কাজ করত যার নির্দেশ ছিল না। যে ব্যক্তি সর্বশক্তি দিয়ে তাদের প্রতিরোধ করবে সে মুমিন, যে মৌখিকভাবে প্রতিবাদ করবে সে মুমিন এবং যে অন্তরে ঘৃণা করবে সেও মুমিন। এর বাইরে কারো অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান নেই। ১৩২
আবু হুরাইরা হতে বর্ণিত, রসূল বলেনঃ
مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ عَلِمَهُ ثُمَّ كَتَمَهُ الْجِمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ (ترمذي, أبو داود و ابن ماجة)
অর্থঃ যদি কাউকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয় যা সে জানে অতঃপর সে তা গোপন করে, তাহলে তাকে কিয়ামতের দিন আগুনের লাগাম পরানো হবে। ১৩৩
(৮) কাফেরদের সাদৃশ অবলম্বন ও তাদের অনুসরণ করা: এটা মুসলিমদের মাঝে বিদ'আত ছড়ানোর বড় কারণ। এ বিষয়টি আবু ওয়াকেদ লাইসি বর্ণিত হাদীস দ্বারা বুঝা যায়। যেমন: সাঈদ ইবন আবদুর রহমান মাখযুমী আবূ ওয়াকীদ লায়সী থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন, রসূলুল্লাহ যখন হুনায়ন অভিযানে বের হন তখন মুশরিকদের একটি বৃক্ষের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। একে "যাত আনওয়াত” বলা হত। তারা এতে তাদের অস্ত্র-সস্ত্র ঝুলিয়ে রাখত। সাহাবীগণ আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, এদের যেমন "যাত আনওয়াত" আছে আমাদের জন্যও একটা 'যাত আনওয়াত' নির্ধারণ করে দিন। ১৩৪ নবী বললেন, আল্লাহু আকবার! তোমরা এমন কথা বলছ, যেমন বণী ইসরাইলের লোকেরা মূসা কে বলেছিল।
اجْعَل لَّنَا إِلَهَا كَمَا لَهُمْ وَالِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ
"আপনি আমাদের জন্য মাবুদ নির্বাচন করুন, যেমন তাদের জন্য অনেক মা'বুদ রয়েছে। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তোমরা তো মূর্খ জাতি।” ১৩৫ তোমরা অবশ্যই পূর্ববর্তী লোকদের পথ অবলম্বন করবে। ১৩৬
তাহক্বীক্ব: এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাহাবী আবু ওয়াকিদ লায়সী এর নাম হল হারিস ইবন আওফ। এ বিষয়ে আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
উপরোক্ত হাদীস থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়, যেমনি কাফিরদের সাদৃশ্য করা বনী ইসরাইলদের উপরোক্ত অসঙ্গত প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করেছিল তেমনি সাহাবীদেরকেও রাসূলের কাছে আল্লাহ ছাড়া অন্যের দ্বারা বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে এমন একটি গাছের প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করেছিল। এভাবেই অধিকাংশ মানুষ কাফিরদের অনুসরণ বা সাদৃশ্য অবলম্বন করতে গিয়ে বিদ'আত ও শিরকে লিপ্ত হয়। যথা- মিলাদ মাহফিল, জানাযা সংক্রান্ত বিদ'আত, কবরের উপর বিল্ডিং নির্মাণ ইত্যাদি। নিঃসন্দেহে এ সকল বিষয় বা পূর্ববর্তীদের অনুসরণ প্রবৃত্তির পূজা ও বিদ'আতেরই অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়টি আবু সাঈদ খুদরী বর্ণিত হাদীস দ্বারা আরো স্পষ্ট হয়।
রসূল বলেনঃ
لَتَتْبَعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ شِبْرًا شِبْرًا وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ تَبِعْتُمُوهُمْ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى قَالَ فَمَنْ
অর্থঃ নিশ্চয়ই তোমরা পূর্ববর্তী লোকদের রীতিনীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুকরণ করবে। এমনকি তারা যদি গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তোমরাও তা করবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! ইহুদী-খৃষ্টানদের? তিনি বলেন, তাদের ব্যতীত আর কাদের?১৩৭
ইমাম নববী বলেন, “السن” অর্থ রাস্তা।
হাদীসের শব্দ شبر ذراع و جحر الضب তথা বিঘত, হাত ও গুইসাপের গর্তে প্রবেশ দ্বারা এ উম্মতের পূর্বেকার লোকদের সাথে শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ ও অন্যায়ের মাঝে হুবহু মিল থাকার উপমা দেয়া হয়েছে, কুফরীতে মিল থাকার উপমা নয়। এ হাদীসের মাধ্যমে রসূল এর মু'জিযা বাস্তবায়িত হল। কেননা তিনি যে সংবাদ দিয়ে গেছেন, তা আজ সংঘটিত হচ্ছে। প্রকাশ থাকে যে, বিঘত, হাত, রাস্তা ও গর্তে প্রবেশ এ সবই শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ ও নিন্দিত বিষয়ে তাদের (কাফেরদের) অনুসরণ-অনুকরণ করার কারণে রসূল উপমা হিসেবে তুলে ধরেছেন, অথচ তিনি অমুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
(৯). দুর্বল ও বানোয়াট হাদীসের উপর নির্ভর করা: এ ধরণের হাদীসের উপর নির্ভর করার ফলে অধিকাংশ বিদ'আত সৃষ্টি হয় ও তার প্রচার-প্রসার ঘটে। অধিকাংশ বিদ'আতপন্থীই অনির্ভরযোগ্য, দুর্বল ও মিথ্যা হাদীসের উপর নির্ভর করে। তারা এমন হাদীসের উপর নির্ভরশীল যা হাদীস বিশারদগণের নিকট অগ্রহণযোগ্য। তারা সহীহ হাদীস পরিত্যাগ করে। যার ফলে অনিবার্য ক্ষতি, ধ্বংস ও বিপদে পতিত হয়। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সৎকর্ম সম্পাদন ও অসৎকর্ম পরিত্যাগ সম্ভব নয়। ১৩৮
(১০) বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন: এটাও বিদ'আত প্রসারের অন্যতম কারণ এবং শিরকে লিপ্ত হওয়ারও কারণ। কেননা আদম এর পরবর্তী ১০ যুগ পর্যন্ত লোকজন তাওহীদ ও আল্লাহ তা'আলার একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিল। তারপর থেকে লোকজন তৎকালীন নেক্কার ব্যক্তিবর্গের দিকে ঝুঁকে গিয়ে তাদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন করতে করতে এক পর্যায়ে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ইবাদত শুরু করে দেয়। এরপর আল্লাহ তা'আলা তাওহীদের দিকে আহবান কল্পে নূহ কে প্রেরণ করেন, এরই সূত্র ধরে তাওহীদের বাণী নিয়ে নবী-রসূল প্রেরণের ধারাবাহিকতা শুরু হয়।
সীমালংঘন ব্যক্তি পর্যায়েও হতে পারে। যথা ইমাম ও অলীদের নিষ্পাপ মনে করা এবং তাদেরকে প্রাপ্য মর্যাদার চেয়ে উঁচু মর্যাদায় আসীন করা। এ ধরণের বাড়াবাড়ির এক পর্যায়ে তাদের ইবাদতও করা হয়। সীমালংঘন দ্বীনের মাঝেও হতে পারে। যথা- আল্লাহর দেয়া বিধানে অতিরঞ্জন অথবা কোন বিষয়ে কঠোরতা কিংবা অন্যায়ভাবে কাউকে কাফির বলে আখ্যায়িত করা। সীমালংঘন বলতে বুঝায় : বিশ্বাস ও আমলের ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করা। এটা কারো প্রশংসা বা দূর্নাম বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যধিক বাড়াবাড়ির ফলে হয়ে থাকে। অথচ আল্লাহ তা'আলা এ সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করতে গিয়ে আহলে কিতাবদের উদ্দেশ্য করে বলেনঃ
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ
অর্থঃ হে আহলে কিতাবরা! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না। ১৩৯ তেমনি রসূল ও দ্বীনের ব্যাপারে সীমালংঘন করতে নিষেধ করেছেন। ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন, রসূল বলেছেন: তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে সীমালংঘন থেকে বিরত থাক, কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা দ্বীনের ব্যাপারে সীমালংঘন করার ফলে ধ্বংস হয়েছে। ১৪০
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দ্বীনের মধ্যে সীমালংঘনই শিরক ও বিদ'আত সৃষ্টি এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণের অন্যতম কারণ। দ্বীনের মধ্যে সীমালংঘনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে রসূল বলেনঃ
لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ فَقُولُوا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ
অর্থঃ তোমরা আমাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না যেমনিভাবে খ্রিস্টানরা ঈসা ইবনে মারিয়াম -কে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছিল। আমি আল্লাহর বান্দা, তাই আমাকে আল্লাহর বান্দা ও রসূল বলবে। ১৪১
(১১) শয়তানই মানুষের মধ্যে বিদ'আত চালু করে: বিদ'আত সুন্নাতের বিপরীত আমল এবং ইবাদতের নামে ইসলামের মধ্যে নতুন সংযোজন। বিদ'আতকারীর কোন আমল আল্লাহর নিকট কবুল হবে না ১৪২ এবং আখেরাতে রসূলুল্লাহ - এর শাফা'আত ও কাওসারের পানি থেকে বঞ্চিত হবে। ১৪৩
তাই একজন বিদ'আতীর জাহান্নামে যাওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ গোনাহগারের চেয়ে বেশী। তাই শয়তান সমাজে বিদ'আত চালু করতে চায়। সুফিয়ান সাওরী বলেন,
الْبِدْعَةُ أَحَبُّ إِلَى إِبْلِيسَ مِنَ الْمَعْصِيَةِ الْمَعْصِيَةُ يُتَابُ مِنْهَا، وَالْبِدْعَةُ لَا يُتَابُ مِنْهَا
'ইবলীসের কাছে সাধারণ গোনাহ ও পাপাচারের চেয়ে বিদ'আত বেশী প্রিয়। কারণ গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তির তাওবা করার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু বিদ'আতে লিপ্ত ব্যক্তির তাওবা করার সম্ভাবনা থাকে না। ১৪৪
রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে: রাগ মানুষের একটি খারাপ স্বভাব। রাগের কারণে মানুষ যে কোন অন্যায় করতে পারে। আর রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। হাদীসে এসেছে -
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ عَدِي بْنِ ثَابِتٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَجُلَانِ يَسْتَبَّانِ فَأَحَدُهُمَا احْمَرَّ وَجْهُهُ وَانْتَفَخَتْ أَوْدَاجُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنِّي لَاعْلَمُ كَلِمَةً لَوْ قَالَهَا ذَهَبَ عَنْهُ مَا يَجِدُ لَوْ قَالَ أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنْ الشَّيْطَانِ ذَهَبَ عَنْهُ مَا يَجِدُ فَقَالُوا لَهُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ تَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَقَالَ وَهَلْ بِي جُنُونٌ
সুলায়মান ইবনু সুরাদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী - এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন দু'জন লোক গালাগালি করছিল। তাদের একজনের চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল এবং তার রগগুলো ফুলে গিয়েছিল। তখন নবী করীম বললেন, আমি এমন একটি দু'আ জানি, যদি এই লোকটি তা পড়ে তবে তার রাগ দূর হয়ে যাবে। সে যদি পড়ে 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানি' তবে তার রাগ চলে যাবে। তখন লোকেরা তাকে বলল, নবী করীম বলেছেন, তুমি আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় চাও। সে বলল, আমি কি পাগল হয়েছি'। ১৪৫
শয়তান মানুষকে গুমরাহ করার জন্য অলস করে তোলে: শয়তান মানুষকে গুমরাহ করার জন্য কর্মবিমুখ ও অলস করে তোলে। বিশেষ করে দ্বীনের কাজের ক্ষেত্রে অলস করে তোলে এবং দুনিয়াবী ও খারাপ কাজে উৎসাহিত করে। মানুষ ঘুমালে ফজর নামাজ কাযা করার জন্য চেষ্টা করে। হাদীসে এসেছে -
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ عَلَى كُلِّ عُقْدَةٍ : عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدُ. فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ تَوَضَّأُ انْحَلَّتْ عُقْدَةً فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانًا . (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেন, 'যখন তোমাদের কেউ ঘুমায় শয়তান তার মাথার পিছন দিকে তিনটি গিরা দেয় এবং প্রত্যেক গিরার উপর মোহর মেরে বা থাবা মেরে বলে, রাত অনেক আছে তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও। যদি সে জাগে ও দু'আ পড়ে তাহ'লে একটি গিরা খুলে যায়। তারপর যদি সে ওযু করে তাহ'লে আরও একটি গিরা খুলে যায়। তারপর যদি সে সলাত আদায় করে তবে অপর গিরাটিও খুলে যায় এবং সে সকালে প্রফুল্ল মন ও পবিত্র অন্তরসহ সকাল অতিবাহিত করে। অন্যথা সে সকালে উঠে কলুষিত অন্তর ও অলস মনে। ১৪৬
শয়তানই মানুষকে পরস্পর তর্কের মাধ্যমে ঝগড়া লাগানো ও আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলায় যা সে জানে না: শয়তান মানুষের মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং আস্তে আস্তে তর্ক ঝগড়ায় রূপ নেয়। আল্লাহ বলেন,
وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ .
'নিশ্চয়ই শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্রত্যাদেশ করে, যেন তারা তোমাদের সাথে তর্ক করে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তোমরাও মুশরিক হয়ে যাবে। ১৪৭ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَّرِيدٍ
'কতক মানুষ অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে। ১৪৮ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,
إِنَّمَا يَأْمُرُكُمْ بِالسُّوءِ وَالْفَحْشَاءِ وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
'নিশ্চয়ই সে তোমাদেরকে মন্দ ও অশ্লীল কাজের আদেশ দেয় এবং তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলতে উৎসাহিত করে যা তোমরা জান না। ১৪৯
শয়তানই মানুষকে পাপকাজের চাকচিক্য দেখিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান করায়: বদর যুদ্ধের দিন কাফেরদের সাথে গায়িকা মেয়েরা ছিল এবং তারা গানবাজনাও করছিল। শয়তান তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। সে তাদেরকে মিষ্টি কথা দিয়ে ভুলাচ্ছিল এবং তাদের কার্যাবলী তাদের দৃষ্টিতে খুব চাকচিক্যময় ও শোভনীয় করে দেখাচ্ছিল। তাদের কানে কানে সে বলছিল, 'তোমাদেরকে কে পরাজিত করতে পারে? আমি তোমাদের সাহায্যকারী হিসাবে রয়েছি'। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَكُمْ
'যখন শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের দৃষ্টিতে খুব চাকচিক্যময় ও শোভনীয় করে দেখাচ্ছিল, তখন সে গর্বভরে বলেছিল, কোন মানুষই আজ তোমাদের উপর বিজয় লাভ করতে পারবে না, আমি সাহায্যার্থে তোমাদের নিকটেই থাকব'। ১৫০
শয়তানই মানুষকে রসূলুল্লাহ ﷺ সম্পর্কে অতিরঞ্জিত কথা চালু করায় : রসূলুল্লাহ ﷺ-কে মুহাববত করতে হবে সেভাবে যেভাবে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন। শয়তান মাঝে মাঝে এসে রসূলুল্লাহ ﷺ সম্পর্কে এমন কথা চালু করে, যা তিনি বলতে নিষেধ করেছেন। যেমন কতিপয় লোক রসূলুল্লাহ ﷺ-কে লক্ষ্য করে বলল, হে আমাদের রসূল, হে আমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি ও সর্বোত্তমের সন্তান, আমাদের প্রভু, আমাদের প্রভু তনয়! তখন তিনি বললেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيْكُمْ بِتَقْوَا كُمْ وَلَا يَسْتَهْوِ يَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَاللَّهِ مَا أُحِبُّ أَنْ تَرْفَعُونِي فَوْقَ مَنْزِلَتِي الَّتِي أَنْزَلَنِي اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
'হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের কথা বলে যাও। শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করতে না পারে। আমি হচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল। আল্লাহ আমাকে যে মর্যাদার স্থানে অধিষ্ঠিত করেছেন, তোমরা এর ঊর্ধ্বে আমাকে স্থান দাও এটা আমি পছন্দ করি না'। ১৫১
অন্য হাদীসে এসেছে, রসূলুল্লাহ ﷺ-এর কতিপয় সাহাবী তাঁকে বলল, আপনি আমাদের প্রভু। তদুত্তরে তিনি বললেন, 'বরকতময় 'মহান আল্লাহই হ'লেন একমাত্র প্রভু'। আর তারা যখন বললেন, আপনি আমাদের মধ্যে মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বোত্তম এবং আমাদের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল। তখন তিনি বললেন, 'তোমরা যা বলছিলে বলে যাও। শয়তান যেন তোমাদের উপর সওয়ার না হ'তে পারে'। ১৫২
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনার সারাংশে বলা যায় যে, এ কথা আমাদের জানা উচিত যে, বিদ'আতী কাজের ভিত্তি কি? বিভিন্ন বিদ'আতী কাজ সমাজে চালু হওয়ার পেছনে সাধারণ জনসাধারণ কেবল অনুসরণের দোষেরই দোষী। বিদ'আত সমাজে জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের তেমন অবদান নেই। কিছু নামধারী আলেম, কতিপয় ভণ্ড পীর সমাজে বিদ'আতের প্রবর্তন করে। এসব বিদ'আতগুলোকে সমাজে চালু করার জন্য প্রথমত কোন কোন আলেমের অসাধারণ ও বিস্ময়কর বুজুর্গ ও ফজিলত তুলে ধরা হয়। কোন না কোন ভাবে তার বংশ নিয়ে টেকানো হয় রসূলে এর সাথে। দেয়া হয় 'আওলাদে রসূলের (!) খেতাব। আবার কেউ নিয়ে বংশ টেকান মোল্লা আলী ক্বারী বা অন্য কোন প্রখ্যাত ইমামের সাথে। (নাউযুবিল্লাহ)। অতঃপর ঐ বুজুর্গের বুজুর্গীর দোহাই দিয়ে বিদ'আত বাজারজাতকরণে প্রয়াস চালায়। বলা হয় অমুক বড় বুজুর্গ এ কাজ করেছেন, তিনি অনেক বড় বড় আলেম, অলিয়ে কামেল ছিলেন সুতরাং এ কাজ জায়েয হওয়ার এটাই বড় দলিল (!)। কথিত বুজুর্গের বাহারী টাইটেলের আবর্তে অবুঝ শিশুর ন্যায় কিছু লোক ব্যাকুল হযে যায়। অতএব, হে মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে সমাজে প্রচলিত বিদ'আত হতে হেফাজত করুন এবং কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক দ্বীন বুঝার তৌফিক দিন, আমীন।
টিকাঃ
১০৭ ইবনু তায়মিয়া, মাজমূ' ফাতাওয়া ১০/২৫৪
১০৮ সূরা আল-ইতিছাম, পৃঃ নংঃ ১/৬৪-৬৫.
১০৯ সূরা মায়েদা: ৩
১১০ সূরা ইসরা: ৩৬
১১১ সূরা আ'রাফ: ৩৩
১১২ বুখারী, হাঃ ৭৩০৭, মুসলিম, হাঃ ২৬৭০
১১৩ সূরা ছোয়াদঃ ২৬
১১৪ সূরা কাহাফ: ২৮
১১৫ সূরা জাসিয়া: ২৩
১১৬ সূরা কাসাসঃ ৫০
১১৭ সূরা নাজম: ২৩
১১৮ সূরা আলে-ইমরান: ৭
১১৯ সূরা আল-হাশর: ৭
১২০ সূরা আহযাবঃ ৩৬
১২১ সূরা আল-বাকারা: ১৭০
১২২ সূরা যুখরুফ: ২২
১২৩ সূরা ফাতির: ৮
১২৪ সূরা আহযাবঃ ৬৬-৬৭
১২৫ সূরা ফুরকান: ২৭-২৯
১২৬ সূরা আনআম: ৬৮
১২৭ বুখারী, হাঃ ৫৫৩৪, মুসলিম; মুস্তাদরিক; সূত্র: [https://islam inbangla2017/2668](https://islaminbangla2017/2668)
১২৮ সূরা বাকারা : ১৭৪
১২৯ সূরা আলে-ইমরান : ১৮৭
১৩০ সূরা আলে-ইমরান : ১০৪
১৩১ মুসলিম, হাঃ ৪৯
১৩২ মুসলিম, হাঃ ৫০
১৩৩ তিরমিযী, হা: ২৬৪৯, আবু দাউদ, হাঃ ৩৬৫৮ ইবনে মাজাহ, হাঃ ২৬৬
১৩৪ যিযালুল জান্নাহ, হাঃ ৭৬, মিশকাত, হাঃ ৫৩৬৯, তিরমিযী, হাঃ ২১৮৩
১৩৫ সূরা আ'রাফ: ১৩৮
১৩৬ তিরমিযী, হাঃ ২১৮৭
১৩৭ বুখারী, হাঃ ৭৩২০, মুসলিম, হাঃ ২৬৬৯
১৩৮ ফতোয়া ইবনে তাইমিয়া: ২২নং খন্ড; ৩৬১-৩৬৩, ইতিসাম: আল্লামা শাতেবী ১ম: ২৮৭-২৯৪
১৩৯ সূরা নিসা : ১৭১
১৪০ নাসাঈ, হাঃ ৫/২৬৮
১৪১ বুখারী, হাঃ ৩৪৪৫
১৪২ মুসলিম, হাঃ ১৭১৮; রিয়াযুস সালেহীন, হাঃ ১৬৪৬, ১৬৯
১৪৩ মুসলিম, হাঃ ৪২৪৩
১৪৪ শাত্বেবী, আল-ই'তিছাম ১/১১৯; সুয়ূতী, আল-আমরু বিল ইত্তিবা, পৃঃ ১৯
১৪৫ বুখারী হাঃ ৩২৮২, মুসলিম হাঃ ২৬১০
১৪৬ বুখারী, হাঃ ১১৪২, মুসলিম, হাঃ ৭৭৬, মিশকাত হা: ১২১৯
১৪৭ সূরা আন'আম: ৬/১২১
১৪৮ সূরা হজ্জ্বঃ ২২/৩
১৪৯ সূরা বাক্বারাহঃ ২/১৬৯
১৫০ সূরা আনফালঃ ৮/৪৮
১৫১ আহমাদ, হাঃ ১২৫৭৪; সিলসিলাহ সহীহাহ হাঃ ১৫৭২
১৫২ আবুদাউদ, হাঃ ৪৮০৬, মিশকাত, হাঃ ৪৯০১