📄 বিদ‘আতের অনুসারীদের অবস্থান
বিদ'আতের অনুসারীরা মৃত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হৃদয়ের অধিকারী। আল্লাহ্ তা'আলা অবিশ্বাসীকে মৃত ও অন্ধকারে নিমজ্জিত ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মৃত ও অন্ধকার হৃদয় সম্পন্ন ব্যক্তি আল্লাহ ও দ্বীনের পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞ। তাই তাদের কবরও হবে অন্ধকারময়। যখন কিয়ামতের দিন পুলসিরাত পার হওয়ার জন্য মানুষের মাঝে নূর বন্টন করা হবে, তখনও তাদের অন্ধকারের মধ্যেই রাখা হবে। এ নূর তারা পাবে না। তাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের মধ্য থেকে যার কল্যাণ কামনা করেন, তাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখান। আর যার কল্যাণ কামনা করেন না। তাকে অন্ধকারের মধ্যেই রেখে দেন। ৮৯ এ প্রসঙ্গে আল্লামা সারাখসী লিখেনঃ১০
وَمَا تَرَدَّدَ بَيْنَ الْبِدْعَةِ وَالسُّنَّةِ يَتْرُكُهُ لِأَنَّ تَرْكَ الْبِدْعَةِ لَازِمٌ وَأَدَاءُ السُّنَّةِ غَيْرُ لَازِمٍ
"আর যে বিষয়টি বিদ'আতও হতে পারে আবার সুন্নাতও হতে পারে বলে উভয় সম্ভাবনা রয়েছে এমন বিষয় পরিত্যাগ করবে, কেননা বিদ'আত পরিত্যাগ করা অপরিহার্য জরুরী, আর সুন্নাত পালন করা অপরিহার্য নয়।"৯১ তিনি অন্যত্র লিখেনঃ
وَمَا تَرَدَّدَ بَيْنَ الْمُبَاحِ وَالْبِدْعَةِ لَا يُؤْتَى بِهِ فَإِنَّ التَّحَرُّزَ عَنِ الْبِدْعَةِ وَاجِبٌ... وَمَا تَرَدَّدَ بَيْنَ السُّنَّةِ وَالْبِدْعَةِ لَا يُؤْتَى بِهِ
"যে বিষয়টি বৈধও হতে পারে আবার বিদ'আত হতে পারে বলে উভয় সম্ভাবনা রয়েছে এমন বিষয়ের উপর আমল করা যাবে না, কেননা বিদ'আত পরিহার করে চলা ওয়াজিব ... এবং যে কাজ সুন্নাতও হতে পারে আবার বিদ'আতও হতে পারে বলে উভয় সম্ভাবনা রয়েছে এমন কাজ করা যাবে না। ১২”
অতএব, বিদ'আতপন্থীদের অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হলে বিনা দ্বিধায় এ কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর যাবতীয় আদেশ-নিষেধ যথাযথভাবে মেনে নেওয়া অপরিহার্য। আর এটিই হচ্ছে কিতাব ও সুন্নাতের অধিকার বা দাবী। কেননা কুরআন এমন এক গ্রন্থ, যার শুরুতেই আল্লাহ চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন,
ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
'এটি এমন এক কিতাব, যার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহভীরুদের জন্য এটি হিদায়াত বা পথ প্রদর্শনকারী। '৯৩ অন্যত্র মহান আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেন- 'নিশ্চয়ই কুরআন এক মর্যাদাশীল গ্রন্থ। সম্মুখ বা পশ্চাত কোন দিক দিয়েই এতে বাতিল কিছুরই প্রবেশাধিকার নেই। এটি মহাজ্ঞানী ও চির প্রশংসিত সত্তার পক্ষ হ'তে অবতীর্ণ। ৯৪
টিকাঃ
৮৯ ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়াহ আলা গাজওয়াল মুআত্তালা ওয়াল জাহমিয়া - ইবনে কাইয়্যিম (রঃ): ২/৩৮-৪১
৯০ শামসুল আয়িম্মাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন সাহাল আস্-সার্খাসি, হানাফী মাযহাবের অন্যতম মুজতাহিদ আলেম। ওফাত: ৪৮৩ হিজরী, মোতাবেক ১০৮০ ঈসায়ী। (আল-আ'লাম: ৫/৩১৫)
৯১ সার্থাসী, আল-মাবসূত, ২/১৪৬।
৯২ প্রাগুক্ত, ৩/৩৫৭।
৯৩ সূরা বাক্বারাহঃ ২
৯৪ সূরা হামীম সাজদা : ৪১/৪১-৪২
📄 বিদ‘আত হারাম
ধর্মের মধ্যে নতুন কিছুর সংযোজন বা বিয়োজন করা বিদআত বা হারাম বলে বিবেচিত। কারণ শরীয়তের বিধান প্রণয়নের দায়িত্ব এককভাবে শুধুই আল্লাহর এবং তাঁর ইচ্ছা ও অনুমতি ব্যতীত শরীয়তের বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার কারো নেই। পবিত্র কুরআন ধর্মীয় পুরোহিতদের অন্ধ অনুসরণের কারণে ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং তাদের নিরঙ্কুশ কর্মবিধায়ক নির্ধারণ করার কারণে ভর্ৎসনা করে বলেছে,
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ
তারা আল্লাহর পরিবর্তে তাদের ধর্মযাজক ও সংসার বিরাগী পুরোহিতদের নিজেদের পালনকর্তা বলে গ্রহণ করেছে। ৯৫
যদিও ইহুদী আলেমরা তাঁদের অনুসারীদের নিজেদের উপাসনার দিকে আহ্বান করতেন না কিংবা তাঁদের অনুসারীরাও তাঁদের উপাসনা করত না, কিন্তু তাঁরা আল্লাহর হালাল করা বস্তুকে হারাম এবং হারাম করা বস্তুকে হালাল বলে ঘোষণা করতেন। জনসাধারণ তা জানা সত্ত্বেও তাঁদের আনুগত্য করত ও তাঁদের কথা শুনত। এ কারণেই এ আনুগত্যকে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিপালক গণ্যকারী বলেছেন যা প্রকৃতপক্ষে একরূপ উপাসনার নামান্তর। খ্রিস্টানদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন,
وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ
আর বৈরাগ্য, তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল যা আল্লাহ তাদের জন্য নির্ধারণ করেননি। ৯৬ সহীহ হাদীসসমূহেও কঠোরভাবে বিদ'আত কে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। মহানবী বলেছেন,
مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةً وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ.
আল্লাহ্ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোন পথ প্রদর্শনকারী নেই। নিশ্চয়ই সর্বাধিক সত্যবাণী হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার কিতাবের বাণী। আর সর্বোত্তম পথ হলো মুহাম্মাদ কর্তৃক প্রদর্শিত পথ। আর মন্দ বিষয়গুলো হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবসৃষ্ট আমল বা কাজ। প্রত্যেক নবসৃষ্ট আমলই বিদ'আত। প্রত্যেক বিদ'আতই ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণام জাহান্নাম।১৭ নিশ্চয়ই শরীয়তে সকল প্রকার বিদ'আত হারাম ও পথভ্রষ্টতা। এ প্রসঙ্গে রসূল বলেনঃ
وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ.
তোমরা নব্য সৃষ্ট বিষয় হতে বেঁচে থাক। কেননা সকল নবসৃষ্ট বস্তু বিদ'আত ও সকল বিদ'আত পথভ্রষ্টতা। ১৮ রসূল বলেনঃ
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدُّ
যে আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু প্রবর্তন করে যা এর অন্তর্ভূক্ত নয় তা প্রত্যাখ্যাত। ১৯ অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ.
অর্থঃ যে ব্যক্তি (ইবাদতের) নামে এমন কোন আমল করে যা আমাদের পক্ষ থেকে অনুমোদিত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত। ১০০
উভয় হাদীসে এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, দ্বীনের মাঝে নবসৃষ্ট সকল বিষয় 'বিদ'আত এবং সকল বিদ'আতই ভ্রষ্টতা ও প্রত্যাখ্যাত। অতএব ইবাদতে বিদ'আত হারাম।
ইমাম শাতেবী বলেন, বিদ'আতপন্থীর গুনাহ একটির মধ্যে সীমিত থাকে না বরং বিভিন্ন দিকে শাখা বিস্তার করে। যেমন-
১। বিদ'আতী ব্যক্তি ইজতিহাদের দাবীদার হয় বা কারো তাকলীদ করে।
২। বিদ'আতপন্থী হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে বিদ'আত প্রবর্তন করে। যথা মান-সম্মান, ধন-দৌলত, ধর্ম, বুদ্ধি অথবা অন্য কোন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে।
৩। বিদ'আতপন্থী স্বীয় কর্মকান্ড প্রকাশ্যে অথবা গোপনে করে।
৪। স্বীয় বিদ'আতের দিকে মানুষকে আহ্বান করে আবার কখনও করে না।
৫। সে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বহির্ভূত গণ্য হবে বা হবে না।
৬। সেটা মৌলিক বিদ'আত অথবা আপেক্ষিক বিদ'আত হবে।
৭। বিদ'আতটি স্পস্ট হবে অথবা অস্পষ্ট হবে।
৮। বিদ'আতটি কুফরী হবে বা হবে না।
৯। বিদ'আতটি একাধিকবার করা হবে বা হবে না। তিনি (ইমাম শাতেবী) বলেন, এ সকল দিক তথা কারণগুলোর ভিন্নতার ফলে গুনাহও বিভিন্ন ধরণের হয়। ১০১
অতএব বিদ'আত ও শরীয়তের দলিল দ্বারা সাব্যস্ত আমল এক হতে পারে না। আর যা মাকরুহ ও হারাম তা পুরোপুরিই বিদ'আত। ১০২ মোট কথা - ধর্মের কাজ নবীর তরীকা অনুযায়ী করলে নবীর সুন্নাত হবে আর ধর্মের কাজ নিজের ইচ্ছামত করলে বিদ'আত হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথের হেদায়ত দান করুন, আমীন।
টিকাঃ
৯৫ সূরা তাওবা: ৩১
৯৬ সূরা হাদীদ: ২৭
৯৭ মুসলিম, হাঃ ৮৬৭, ১৫৩৫, নাসাঈ, হাঃ ১৫৬০, ১৫৭৮
৯৮ আবু দাউদ, হাঃ ৪৬০৭, তিরমিযী, হাঃ ২৬৭৬
৯৯ সহীহুল বুখারী, হাঃ ২৬৯৭, মুসলিম, হা: ১৭১৮, আবু দাউদ, হাঃ ৪৬০৭, ইবনু মাজাহ, হাঃ ১৪, আহমাদ, হাঃ ২৩৯২৯, ২৪৬০৪, ২৪৯৪৪, ২৫৫০২, ২৫৬৫৯, ২৫৭৯৭
১০০ সহীহ মুসলিম, হাঃ ১৭১৮
১০১ আল-ইতিসাম - শাতেবী, পৃঃ নং: ১/২১৬-২২৪
১০২ আল-ইতিসাম- শাতেবী ১/২৪৬
📄 বিদ‘আতের প্রকারভেদ
দ্বীনের ভিতর সকল বিদ'আতই হারাম। যারা বিদ'আতকে হাসানাহ ও সাইয়্যেআহ বলে বিভক্ত করে, তারা ভুল করে থাকেন এবং রসূল ﷺ - এর বানী
فإنكلبدعة ضلالة.
নিশ্চয়ই প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহ এর বিরোধিতাকারী। ১০৩ অতএব, রসূলুল্লাহ ﷺ বিদ'আত প্রসঙ্গে রায় দিতে গিয়ে বলেছেন প্রত্যেক বিদ'আতই গোমরাহী আর বিদআতীরা বলছে, না প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহী নয় বরং কিছু বিদ'আত আছে হাসানাহ (ভাল)। আল্লামা হফেয ইবনে রজব বলেন: নবী আকরাম ﷺ - এর বাণী (كل بدعة ضلالة) (প্রত্যেক বিদ'আত গোমরাহী) একটি (جوامعالكلم) তথা ব্যাপক অর্থ বোধক বাক্য। কোন কিছুই তার বহির্ভূত নয়। সকল প্রকারই তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এটি দ্বীনের একটি বিশেষ মূলনীতি। এটি রসূলের নিম্নোক্ত বাণীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বক্তব্য। রসূল ﷺ বলেনঃ
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَةٌ.
(যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, সেটি পরিত্যাজ্য হবে)। ১০৪
আল্লামা সুযুতী তার ‘মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজ বিসূন্নাহ’ কিতাবে লেখেন - তোমরা জেনে রাখ! - আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করুন - যে ব্যক্তি রসূল এর হাদীস - চাই তা তার কথা হোক বা কর্ম হোক - দলীল হওয়াকে অস্বীকার করল, সে কুফরী করল, সে ইসলামের গন্ডী থেকে বের হয়ে গেল। তার হাশর ইয়াহূদী ও নাসারাদের সাথে হবে অথবা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কোনো কাফের দলের সাথে হবে।' সুতরাং যে কেউ নতুন কিছু উদ্ভাবন ও প্রবর্তন করবে এবং তাকে দ্বীনের দিকে নিসবত (সম্বন্ধ) করবে অথচ দ্বীনে তার কোন মূল ভিত্তি নেই যার দিকে সে ফিরতে পারে, সেটিই গোমরাহী ও ভ্রষ্টতা। দ্বীন এ সকল বস্তু থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। এ ক্ষেত্রে সকল বিষয় যথা আকীদাহ ও আমল সব সমান।
টিকাঃ
১০৩ মুসলিম, হাঃ ৮৬৭
১০৪ সহীহুল বুখারী, হাঃ ২৬৯৭, মুসলিম, হাঃ ১৭১৮, আবু দাউদ, হাঃ ৪৬০৭, ইবনু মাজাহ, হাঃ ১৪, আহমাদ, হাঃ ২৩৯২৯, ২৪৬০৪, ২৪৯৪৪, ২৫৫০২, ২৫৬৫৯, ২৫৭৯৭
📄 পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ
সাহাবী ওমর একবার সালাতে তারাবীহ সম্পর্কে বলেছিলেনঃ نعمت البدعة هذه )কত সুন্দর বিদ'আত এটি) বিদ'আতকে হাসানাহ ও সাইয়্যেআহ দ্বারা বিভক্তকারীদের নিকট ওমরের এ উক্তিটি ব্যতীত তাদের মতের স্বপক্ষে আর কোন দলিল নেই। তারা আরো বলে যে, এরূপ আরো অনেক নতুন নতুন বিষয়ের প্রবর্তন হয়েছিল কিন্তু সালাফের কেউ সে গুলোকে ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান করেননি, যেমন কুরআনুল কারীমকে এক মাসহাফে একত্রিত করা, (যা রাসূলের যুগে ছিল না) হাদীস লেখা ও সংকলন করা এটিও রসূল নিজে করে যাননি। আপত্তি উত্থাপিত বিষয়গুলো বিদ'আত নয় বরং শরীয়তের এগুলোর একটি ভিত্তি আছে।
আর ওমর এর বক্তব্য نعمتالبدعة তে শরঈ بدعة নয়। সুতরাং যে সকল বিষয়ের একটি শরঈ ভিত্তি থাকবে সেগুলো সম্পর্কে যখন بدعة (বিদ'আত) বলে মন্তব্য করা হবে তখন শাব্দিক বিদ'আত বুঝতে হবে শরঈ নয়। আর সালাতে তারাবীহ তো রসূলুল্লাহ নিজেই সাহাবীদের নিয়ে পড়ে ছিলেন। শেষ দিকে এসে ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি তাদের থেকে পিছিয়ে গেছেন। তবে সাহাবারা বিক্ষিপ্তভাবে রাসূলের জীবদ্দশায় এবং ওফাতের পর ধারাবাহিকভাবে পড়েছেন। এক পর্যায়ে এসে ওমর সকলকে এক ইমামের পিছনে একত্রিত করে দিয়েছেন যেমন তারা রাসূলের পিছনে পড়ে ছিলেন। ১০৫
উপরোক্ত আলোচনার পর বলা যায় যে, আর এক গ্রন্থে কুরআন মজীদ একত্রিত করাও শরীয়তের একটি ভিত্তি আছে। কারণ রসূলুল্লাহ নিজে কুরআন লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেগুলো বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তাকারে ছিল পরে সাহাবায়ে কেরাম সংরক্ষণের নিমিত্তে সবগুলোকে এক গ্রন্থে জমা করেছেন। হাদীস লিপিবদ্ধ করারও একটি শরঈ ভিত্তি আছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জানা যাবে যে ইলম ও ইবাদত সংশ্লিষ্ট সাধারণ বিদ'আতের প্রচলন উম্মতের মধ্যে খোলাফায়ে রাশেদীনের শেষ যুগে শুরু হয়েছে। যেমন রসূলুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেছেনঃ
فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّينَ فَتَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ
তোমাদের উপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাত ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত ধারণ করা। তোমরা একে শক্তভাবে ধারণ করো এবং তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরো। সাবধান! ইবাদাতের নামে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে তৈরি করা সকল নব উদ্ভাবিত কাজ থেকে বিরত থাকো। ১০৬ অতএব, উপরোক্ত আলোচনার সারাংশে বলা যায় যেঃ
(১) ঐ বিদ'আতী কাজ বা আমল আল্লাহর নিকট কখনোই গৃহীত হবে না।
(২) বিদ'আতী কাজ বা আমলের ফলে মুসলিম সমাজে গোমরাহী বিস্তার লাভ করে এবং
(৩) এ গোমরাহীর চূড়ান্ত ফলাফল হলো বিদ'আত কার্য সম্পাদনকারীকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
টিকাঃ
১০৫ আলআহাদীসুল মুখতারা, ইমাম জিয়াউদ্দীন মাকদেসী ১/৪৮১/১১৬১
১০৬ আবু দাউদ, হাঃ ৪৬০৭; সুনানে বায়হাকী আল কুবরা, হা: ২০১২৫; দারেমী, হাঃ ৯৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ ৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ ৩২৯; মুসনাদে আহমাদ, হাঃ ১৭১৪৫