📄 সুন্নাতের পরিচয়
সুন্নাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, )اَلطَّرِيق( পথ, রাস্তা, নির্দেশনা, নিয়ম ইত্যাদি। সুন্নাহ )السنة( শব্দটি سن - يس থেকে ক্রিয়ামূল। যার অর্থ তরীকা বা পন্থা, পদ্ধতি, রীতিনীতি, হুকুম ইত্যাদি। শরয়ী পারিভাষিক অর্থ উল্লেখ করতে ইবনু মানযুর লিখেনঃ ৬৭
" وإذا أطلقت في الشرع فإنما يراد بها ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم ونهى عنه وندب إليه قولا وفعلا مما لم ينطق به الكتاب العزيز ولهذا يقال في أدلة الشرع الكتاب والسنة أي القرآن والحديث. "
"তবে যখন শরীয়তে সুন্নাত শব্দটি প্রয়োগ করা হয় তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়, নবী যে সব বিষয়ের আদেশ করেছেন, যে সব থেকে নিষেধ করেছেন, কথা ও কর্মের মাধ্যমে যে দিকে আহ্বান করেছেন, যা সম্মানিত কিতাব কুরআনে বলা হয় নি। এ জন্যই বলা হয়, শরীয়তের দলীল কিতাব ও সুন্নাত। অর্থাৎ হাদীস এবং কুরআন।”৬৮
উসূলে ফিকহের কিতাবাদিতে সুন্নাতের সংজ্ঞায় বলা হয়েছেঃ
" السنة في اصطلاح الأصوليين هي ما صدر عن النبي صلى الله عليه وسلم غير القرآن" وهذا يشمل: قوله صلى الله علیه وسلم ، وفعله، وتقريره، وكتابته، وإشارته، وهمه، وتركه " ) معالم اصول الفقة عند اهل السنة والجماعة )
“উসূলীদের পরিভাষায় সুন্নাত হচ্ছে, “কুরআন ছাড়া যা কিছুই নবী থেকে প্রকাশ পেয়েছে” এই সংজ্ঞায় নবী এর কথা, কর্ম, স্বীকৃতি, লিখা, ইঙ্গিত, প্রতিজ্ঞা ও বর্জন সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।”৬৯
আল্লামা শাওকানী (সুন্নাতের সংজ্ঞাটি যেভাবে বর্ণনা করেন: ৭০
" و أما معناها شرعًا: أي: في اصطلاح أهل الشرع فهي : قول النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وفعله وتقريره، وتطلق بالمعنى العام على الواجب وغيره في عرف أهل اللغة والحديث، وأما في عرف أهل الفقه فإنما يطلقونها على ما ليس بواجب، وتطلق على ما يقابل البدعة كقولهم : فلان من أهل السنة " . (ارشاد الفحول الى تحقيق الحق من علم الاصول ، الفصل الاول في معنى السنة لغة وشرعاً )
"শরয়ী পরিভাষায় সুন্নাতের অর্থ, অর্থাৎ শরীয়তবিদদের পরিভাষায় সুন্নাত হচ্ছে: নবী এর কথা, কাজ ও সমর্থন। ভাষাবিদ ও হাদীস বিশারদদের নিকট ব্যাপক অর্থে তা ওয়াজিব এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর প্রয়োগ করা হয়। তবে ফিক্বহবিদদের পরিভাষায় তারা ওয়াজিব নয় এমন বিষয়ের উপর সুন্নাতের প্রয়োগ করে থাকেন। এর বিপরীতে বিদ'আত শব্দটি ব্যবহার হয়, যেমন বলা হয়, অমুক আহলুস্-সুন্নাহ।"৭১
উপরের সংজ্ঞা থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি যে, ফিক্বহের পরিভাষায় সুন্নাতের একটি অর্থ, ফরয এবং ওয়াজিব ব্যতীত অন্যান্য আমল। তবে সুন্নাতের মৌলিক অর্থ, রসূল এর সার্বিক জীবন আদর্শ। ফরয, ওয়াজিব ও নফল সবকিছুর উপর সুন্নাতের ব্যবহার হাদীসে প্রসিদ্ধ। মোটকথা, রসূল এর জীবন আদর্শই দীন। জীবনাদর্শের বিভিন্ন দিকের গুরুত্বের তারতম্য থেকে বা রসূল এর কথা থেকে ফরয, ওয়াজিব, নফল ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। ইবাদতের মধ্যে সুন্নাতের ব্যতিক্রম মানেই দীনের মধ্যে তাহরিফ বা পরিবর্তন। দীনকে আল্লাহ তা'আলা পরিপূর্ণ করার ঘোষণা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনাদর্শই সর্বোচ্চ আদর্শ বলে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। ৭২ তাই কোনো ধরণের কম-বেশি, যোগ-বিয়োগ করার সুযোগ নেই। নবী যখন যে ইবাদত যেভাবে করেছেন তা তখন সেভাবে করতে হবে। এর ব্যতিক্রম করলে তা সুন্নাত বিরোধী বলে অগ্রাহ্য হবে তথা বিদ'আত।
সুতরাং, বলা যায় যে, সুন্নাত হচ্ছে সেই বিশেষ পথ, পন্থা ও পদ্ধতি, যা নবী করীম এর সময় থেকেই দ্বীন ইসলামের ব্যাপারে কোন কাজ করার বা না করার দিক দিয়ে বাস্তবভাবে অনুসরণ করা হয়। এ হিসেবে সুন্নাত হলো সেই মূল আদর্শ, যা আল্লাহ তা'আলা বিশ্ব-মানবের জন্য নাযিল করেছেন এবং যা রসূলুল্লাহ নিজে তাঁর বাস্তব জীবনে অনুসরণ করেছেন। কেননা নবী করীম যা বাস্তবভাবে অনুসরণ করেছেন, তার উৎস হলো ওহী। ওহীর সূত্রে নাযিল হওয়া আদর্শই রসূলুল্লাহ কাজে ও কর্মে অনুসরণ করেছেন। এটাই হচ্ছে সুন্নাত। এ সুন্নাতেরই অপর নাম হচ্ছে ইসলাম। কুরআন মাজীদে এ সুন্নাতকেই সিরাতুল মুস্তাকীম বলে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَضَاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴾
এ পথই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্য কোন পথের অনুসরণ করো না, নতুবা তোমরা তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন, যেন তোমরা সাবধান হও।৭৩
এ আয়াত থেকে সিরাতুল মুস্তাকীম বলতে সেই জিনিসকেই বুঝানো হয়েছে, যা বুঝা যায় সুন্নাত শব্দ থেকে। ইমাম শাতেবী (সিরাতুল মুস্তাকীম এর পরিচয় দান প্রসঙ্গে লিখেছেন:
فَالصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ هُوَ سَبِيْلُ اللهِ الَّذِي دَعَا إِلَيْهِ وَهُوَ السُّنَّةُ وَالسُّبُلُ هِيَ سُبُلُ أَهْلِ الْاِخْتِلَافِ الْحَائِدِيْنَ عَنِ الصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ وَهُمْ أَهْلُ الْبِدَاعِ
অর্থাৎ সিরাতুল মুস্তাকীম হচ্ছে আল্লাহর সেই পথ, যা অনুসরণের জন্য তিনি দাওয়াত দিয়েছেন; এটাই হলো সুন্নাত। আর অন্যান্য পথ বলতে বুঝানো হয়েছে বিরোধ ও বিভেদপন্থীদের পথ, যা মানুষকে সিরাতুল মুস্তাকীম থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। আর তারাই হচ্ছে বিদ'আতপন্থী। ৭৪
টিকাঃ
৬৭ আরবী ভাষার বিশাল শব্দ ভান্ডার সম্বলিত বিখ্যাত অভিধান 'লিসানুল-আরব' এর রচয়িতা আবুল ফযল জামালুদ্দীন ইবনু মানযুর আল-আনসারী, জন্ম: ৬৩০ ওফাত: ৭১১ হিজরী, মোতাবেক: ১২৩২-১৩১১ ঈসায়ী। মূল আফ্রিক্বী বংশীয়, তবে তার জন্ম ও মৃত্যু মিশরে। (আল-আ'লামঃ ৭/১০৮)
৬৮ লিসানুল আরব, প্রাগুক্ত
৬৯ ড. মুহাম্মদ হুসাইন ইবন হাসান, মা'আলিমুল উসূলিল ফিক্বহী 'ইনদা আহলিস্-সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ, দ্বিতীয় আলোচনা, সুন্নাতের সংজ্ঞা, পৃঃ নংঃ ১১৮
৭০ মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আশ্-শাওকানী। ১১৭৩-১২৫০ হিজরী, ১৭৬০-১৮৩৪ ঈসায়ী। ইয়ামান এর সান'আর ফক্বীহ, মুজতাহিদ। উসুল, হাদীস, ফিক্বহ, তাফসীর সর্ব বিষয়ে তার পান্ডিত্য ও রচনা বিদ্যমান
৭১ আল্লামা শাওকানী, ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহক্বীক্বিল হাক্বি মিন ইলমিল উসুল, প্রথম পরিচ্ছেদ, সুন্নাতের আভিধানিক এবং শরয়ী অর্থ, ১/৯৫
৭২ সূরা আহযাবঃ ২১
৭৩ সূরা আন'আম: ১৫৩
৭৪ আল ই'তিসাম লিইমাম শাতেবী, ১/৫৭
📄 সুন্নাত ও বিদ‘আতের অনুসারীর অবস্থান এবং সুন্নাতের অনুসারীর মর্যাদা
প্রকৃত সুন্নাতের অনুসারী ব্যক্তি সজিব, সতেজ ও আলোকিত হৃদয়ের অধিকারী হয়। যা আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছেন। এটা ঈমানদারদের একটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য। কেননা সজিব ও আলোকিত হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি আল্লাহ্ পক্ষ থেকে জ্ঞান, বুদ্ধি ও হিদায়াত প্রাপ্ত। তারা তাওহীদে বিশ্বাসী ও রসূল এর প্রকৃত অনুসারী হওয়ার তাওফীক লাভ করে থাকে। যেমনঃ খুলাফায়ে রাশেদীনের আমলে সুন্নাতের গুরুত্ব কত বেশী ছিল তা নিম্নের হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয়। যেমন-
عَنْ عُمَرَ رَضِى اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ جَاءَ إِلَى الْحَجَرِ الأَسْوَدِ فَقَبَّلَهُ، فَقَالَ إِنِّي أَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لا تَضُرُّ وَلا تَنْفَعُ ، وَلَوْلا أَنِّي رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى عليه عليه وسلم يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ .
ওমর হতে বর্ণিত যে, তিনি হাজরে আসওয়াদের নিকট গমন করলেন এবং একে চুমু দিলেন। অতঃপর (পাথরকে সম্বোধন করে) বললেন, আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে, তুমি একটি পাথর। তুমি কারও ক্ষতি বা উপকার করতে পার না। যদি আমি রসূল কে তোমায় চুমু দিতে না দেখতাম, তবে আমি তোমাকে কখনই চুমু দিতাম না'। প্রত্যেক মুমিনের ভিতর-বাহির, কথা-কাজ ইত্যাদি সবই সমুজ্জ্বল। আর এ আলো মুমিন ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের দিন তার ঈমানী শক্তির দৃঢ়তা ও দুর্বলতার উপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হবে। এ আলো তার সামনে পিছনে চলতে থাকবে। সেদিন কারো কারো নূরের জ্যোতি হবে সূর্যের জ্যোতির ন্যায়, আবার কারো চন্দ্রের জ্যোতির ন্যায়, আবার কারো কারো জ্যোতি হবে লম্বা খেজুর গাছের ন্যায়, কারো জ্যোতি হবে দন্ডায়মান মানুষের ন্যায়, এমনকি মুমিনদের কাউকে তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলের মাথায় নূর দেয়া হবে। তা একবার জ্বলবে আবার নিভে যাবে। মোটকথা দুনিয়াতে যে যতটুকু ঈমানের শক্তিতে বলিয়ান ছিল কিয়ামতের দিন তাকে ততটুকু ঈমানের জ্যোতি দেয়া হবে। ৭৬ আর এ কারনেই সুন্নাত যা পালন করা উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য অপরিহার্য। সুন্নাতের অধিকার হচ্ছে, বাস্তব জীবনে যথাযথভাবে তা অনুশীলন করা। এ প্রসঙ্গে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণাঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ، إِلَّا مَنْ أَبَى قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَنْ يَأْبَى قَالَ مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, রসূল বলেন, 'আমার উম্মতের প্রত্যেকেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, কেবলমাত্র অবাধ্য ব্যতীত। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, আবাধ্য কে? হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে যাবে। আর যে ব্যক্তি আমার নাফরমানি করবে সে-ই হচ্ছে আবাধ্য'। ৭৭
টিকাঃ
৭৫ বুখারী, হাঃ ১৫৯৭, ১৬১০; মিশকাত, হাঃ ২৫৮৯
৭৬ ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়াহ আলা গাজওয়াল মুআত্তালা ওয়াল জাহমিয়া- ইবনে কাইয়্যিম : ২/৩৮
৭৭ সহীহ বুখারী, হাঃ ৭২৮০; মিশকাত, হাঃ ১৪৩
📄 সুন্নাতের অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য
সুন্নাতের গুরুত্ব যেমন অপরিসীম, তেমনি সুন্নাত পালনে প্রতিবন্ধকতাও ব্যাপক। সে যুগে যেমন ইসলাম কবুল করার কারণে মর্মান্তিকভাবে নির্যাতিত হ'তে হয়েছিল, এ যুগেও তেমনি সুন্নাত পালনের কারণে নানাবিধ নির্যাতন ভোগ করতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সুন্নাত পালন করার মাধ্যমে সুন্নাতের অনুসারীদের কতিপয় বৈশিষ্ট রয়েছে যা নিম্নে আলোচনা করা হলো -
১. কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা: কুরআন ও হাদীস এমন ভাবে আঁকড়ে ধরা যেমন ভাবে মাড়ির দাঁত দিয়ে কোন কিছু আঁকড়ে ধরা হয়, যা সহজে ছুটে না। অধিকন্তু আরও বলা যায় যে, দ্বীনের মৌলিক বিধানাবলী ও তার শাখা- প্রশাখার ব্যাপারে কুরআন ও হাদীস অনুসরণ করা। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাও - যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর। ৭৮
উক্ত বিষয়টি হাদীসেও অনুরূপ নির্দেশনা এসেছ। যেমন - বিদায় হজ্জের ভাষণে রসূল দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন,
تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّلْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ
'আমি তোমাদের নিকটে দু'টি বস্তু ছেড়ে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা ঐ দু'টি বস্তুকে মযবুতভাবে ধরে থাকবে, ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না; সে দু'টি বস্তু হ'ল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাত'। অতএব, বলা যায় যে, যে ব্যক্তি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহকে যত আঁকড়ে ধরবে তার পক্ষে বিদ'আত থেকে দূরে থাকা তত বেশি সহজ হবে।
২. বিদ'আত অনুসারীদের ঘৃণা করা : বিদ'আতীদের সাথে চলাফেরা করা একজন মুমিনের জন্য খুবই বিপজ্জনক। কেননা বিদ'আতীরা এমন ধরনের কাজ করে ফেলে তাতে তার আমল বরবাদ হয়ে যায় যা সে যত বেশি ভালো কাজই করুক না কেন। তাই সুন্নাতের অনুসারীদের ভালবাসা ও বিদ'আতের অনুসারীদের ঘৃণা করতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এ প্রসঙ্গে বলেছেনঃ
أُولئِكَ الَّذِينَ يَعْلَمُ اللَّهُ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُلْ لَهُمْ فِي أَنْفُسِهِمْ قَوْلًا بَلِيغًا
ওরা হল সেসব লোক, যাদের অন্তরে কি আছে আল্লাহ তা জানেন। সুতরাং তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও এবং তাদেরকে সদুপদেশ দাও। আর তাদেরকে তাদের নিজদের ব্যাপারে মর্মস্পর্শী কথা বল। ৮০
৪. সর্বত্র সুন্নাতের অনুসরন : সুন্নাতের অনুসারীরা সংখ্যায় কম হলেও নিজেকে একাকী না ভাবা। কেননা সততা মুমিনের হারানো সম্পদ। সে সত্যকে গ্রহণ করে যদিও মানুষ তার বিরোধিতা করে। এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস উল্লেখ না করলেই নয়। যেমন, আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূল বলেছেন,
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُونَ هَوَاهُ تَبَعًا لِمَا جِئْتُ بِهِ
'তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হ'তে পারবে না যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমার আনীত দীন ও শরী'আতের অধীন হবে'। ৮১
৫. সত্যাশ্রয়ী হওয়া: কুরআন ও হাদীসের আদর্শ বাস্তবায়নের নিমিত্তে কথা ও কাজে সত্যাশ্রয়ী হওয়া। আর এ ক্ষেত্রে জাল ও যঈফ হাদীসের উপর নির্ভর না করা উচিত। কেননা বিদ'আতী আমল সমূহের মূল উৎসই হলো জাল ও যঈফ হাদীসের উপর নির্ভরশীল হওয়া যা কোনভাবেই প্রকৃত মুমিন বান্দার পক্ষে তা সম্ভব নয়। সুতরাং, বিদ'আত থেকে বাঁচতে হলে জাল ও যঈফ হাদীস বর্জন করতে হবে এবং সত্যাশ্রয়ী হয়ে কুরআন ও সহীহ হাদীসের অনুশীলন ও চর্চা করে যেতে হবে।
৬. সুন্নাতের আদর্শ মাপকাঠি নির্ধারন: রসূল কেই একমাত্র আদর্শের মাপকাঠি হিসেবে মেনে নেয়া। কারণ, তার চরিত্রই হচ্ছে আল-কুরআনের প্রতিচ্ছবি। ৮২ অতএব বলা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা একমাত্র রসূল -কে উসওয়াতুন হাসানা বা দ্বীনের মাপকাঠি বানিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম রসূলের সবচেয়ে বেশী অনুসরন করেছেন বলেই রসূলের আনুগত্যের ব্যাপারে তারা শ্রেষ্ঠ আদর্শ। কিন্তু রসূল যেমন নিজেই আদর্শ সাহাবায়ে কেরام সে হিসেবে রসূলের সমান মর্যাদার অধিকিরী নন। এমন কি সব সাহাবী এক মানের নন। চার খলিফার সবাইও এক মানের নন। তাই দ্বীনের একমাত্র মাপকাঠি রসূল এবং সবাইকে একমাত্র রসূলকেই অনুসরন করার চেষ্টা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
রসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর। ৮৩
৭। বিদ'আত রসূলের আনুগত্যের পরিপন্থী : বিদ'আত চর্চা করার আরেক অর্থ হলো রসূলের আনুগত্যের গন্ডি থেকে বেরিয়ে পড়া। কেননা রাসূলের আনুগত্য করাকে ইসলামী শরীয়াতে সুন্নাত নামে অভিহিত করা হয়। আর বিদ'আত যেহেতু সুন্নাতের বিপরীত, তাই বিদ'আতের অনুসরণের অর্থই হলো সুন্নাতের বৈপরিত্য অবলম্বন করা। এ কারণেই মহান রাববুল 'আলামীন তাঁর হাবীবকে শরী'য়াতের সুস্পষ্ট বিধান বলে দিয়ে কেবল ঐ বিধানেরই আনুগত্য করতে আদেশ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেনঃ
ثم جعلناك على شريعة من الأمر فأتبعها ولا تتبع أهواء الذين لا يعلمون
“অতঃপর আমি আপনাকে শরী'য়াতের এক বিশেষ পন্থার উপর রেখেছি। অতএব আপনি এর অনুসরণ করুন এবং যারা জানে না তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করবেন না।”৮৪
রসূল নিজেও তাই একদিকে যেমন আমাদেরকে তাঁর সুন্নাতের অনুকরণের তাকীদ করেছেন, অপরদিকে বিদ'আতকে পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। 'উসমান ইবনে হাযির আযাদী বলেনঃ একবার আমি হযরত 'আব্দুল্লাহ ইবনে 'আববাসের সমীপে উপস্থিত হয়ে নিবেদন করলাম যে, 'আপনি আমাকে একটি উপদেশ দান করুন। তদুত্তরে তিনি বলেনঃ
عليك بتقوى الله والاستقامة ، واتبع ولا تبتدع
“তোমার উচিত তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অবলম্বন করা এবং এর উপর অটল অবিচল থাকা। (যার পন্থা হলো এই যে) আমার আদর্শের অনুসরণ কর, কিন্তু কিছুতেই বিদ'আতের অনুকরণ করো না।”৮৫
রসূলের সাহাবীগণ তাই সুন্নাতের অনুকরণের ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। কোন প্রকার যুক্তি-তর্ক কিংবা বুদ্ধি-বিবেচনা দিয়ে কখনোই তারা সুন্নাতের সামান্যতম ব্যত্যয় ঘটানোর কথা মনে আনতেন না। ইবনে 'আববাসের নিম্নোক্ত হাদীসটি রসূলের সুন্নাহর ব্যাপারে তাঁদের এরূপ অনমনীয় মনোভাবেরই সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
عن ابن عباس أنه سئل : ما بال المسافر يصلي ركعتين إذا انفرد، وأربعا إذا انتم بمقيم؟ فقال: تلك السنة. وفي لفظ أنه قال له موسى بن سلمة: إنا إذا كنا معكم صلينا أربعاً، وإذا رجعنا صلينا ركعتين . فقال: تلك سنة أبي القاسم صلى الله عليه وسلم
"ইবন 'আববাস থেকে বর্ণিত, মুসাফিরের সালাত সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে, সে যখন একা নামায পড়ে তখন দুই রাকা'আত পড়ে, আর যখন মুকিমের পেছনে ইক্তেদা করে তখন কেন চার রাকা'আত পড়ে? তখন তিনি বললেন, এটিই হলো সুন্নাত (রসূলের অনুসৃত পন্থা)। অন্য এক বর্ণণায় এভাবে এসেছে যে, মূসা বিন সালামাহ তাঁকে জিজ্ঞেস করলো যে, আমরা যখন আপনার সাথে থাকি তখন চার রাকা'আত নামায পড়ি, আর যখন নিজেদের মাঝে চলে যাই, তখন দুই রাকা'আত পড়ি কেন? তখন তিনি বললেনঃ এটিই হলো আবুল কাসিমের সুন্নাত। ৮৬
'আলী ইবন আবি তালিবের নিম্নোক্ত উক্তিটিও অনুরূপ প্রমাণ বহন করে। তিনি বলেছিলেনঃ
لو كان الدين بالرأي لكان أسفل الخفين أولى بالمسح من أعلاه
"দীনের বিধান যদি বুদ্ধিবৃত্তি তথা যুক্তিতর্কের মাধ্যমেই নির্ধারিত হত, তাহলে মোজার উপরের অংশ মসেহ করার চেয়ে নিচের অংশ মাসেহ করাই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত হত।"৮৭
সুতরাং, বলা যায় যে, শেষ যামানায় সুন্নাত পালন করা হবে খুবই কঠিন। তবে আশার কথা হ'ল এরূপ নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে সুন্নাত পালনকারীদের জন্যই রয়েছে মহা পুরস্কার। একটি সুন্নাত দৃঢ়ভাবে ধারণের মর্যাদা হবে ৫০ জন শহীদের সমান।
যেমন এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস উল্লেখ করা যায় যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ হ'তে বর্ণিত রসূল এরশাদ করেন,
إِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ زَمَانَ صَبْرٍ لِلْمُتَمَسِّكِ فِيْهِ أَجْرُ خَمْسِيْنَ شَهِيدًا مِنْكُمْ
'তোমাদের পরে এমন একটা কঠিন সময় আসছে, যখন সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী ব্যক্তি তোমাদের মধ্যকার পঞ্চাশ জন শহীদের সমান নেকী পাবে'।"
মানুষের সামগ্রিক জীবনকে পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের নিকটে সমর্পণ করতে হবে যা উক্ত মানদন্ডের সাথে মিলে যাবে তা গ্রহণযোগ্য হবে। আর যা মিলবে না তা প্রত্যাখ্যাত হবে।
টিকাঃ
৭৮ সূরা নিসা: ৫৯
৭৯ মুওয়াত্ত্বা, হাঃ ১৬২৮; মিশকাত, হাঃ ১৮৬
৮০. সূরা নিসা: ৬৩
৮১ শারহুস্ সুন্নাহ; মিশকাত, হাঃ ১৬৭
৮২ আকীদাতুস সালফ ও আসহাবুল হাদীস- ইমাম আবু উসমান ইসমাঈল ইবনে আব্দুর রহমান ঃ পৃঃ ২৬৪
৮৩ সূরা হাশর: ৭
৮৪ সূরা আল-জাসিয়া: ১৮
৮৫ আদ দারিমী, আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান, সুনানু দারিমী, (বৈরুত দারুল, কিতাবিল আরাবী, ১৪০৭ হিঃ), খন্ডঃ ১, পৃঃ নংঃ ৬৫
৮৬ মুসনাদ আহমাদ, হাঃ ১৮৬২
৮৭ আবু দাউদ, হাঃ ১৬২
৮৮ ত্বাবারাণী কাবীর, হাঃ ১০২৪০; সহীহুল জামে, হাঃ ২২৩
📄 বিদ‘আতের অনুসারীদের অবস্থান
বিদ'আতের অনুসারীরা মৃত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হৃদয়ের অধিকারী। আল্লাহ্ তা'আলা অবিশ্বাসীকে মৃত ও অন্ধকারে নিমজ্জিত ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মৃত ও অন্ধকার হৃদয় সম্পন্ন ব্যক্তি আল্লাহ ও দ্বীনের পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞ। তাই তাদের কবরও হবে অন্ধকারময়। যখন কিয়ামতের দিন পুলসিরাত পার হওয়ার জন্য মানুষের মাঝে নূর বন্টন করা হবে, তখনও তাদের অন্ধকারের মধ্যেই রাখা হবে। এ নূর তারা পাবে না। তাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের মধ্য থেকে যার কল্যাণ কামনা করেন, তাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখান। আর যার কল্যাণ কামনা করেন না। তাকে অন্ধকারের মধ্যেই রেখে দেন। ৮৯ এ প্রসঙ্গে আল্লামা সারাখসী লিখেনঃ১০
وَمَا تَرَدَّدَ بَيْنَ الْبِدْعَةِ وَالسُّنَّةِ يَتْرُكُهُ لِأَنَّ تَرْكَ الْبِدْعَةِ لَازِمٌ وَأَدَاءُ السُّنَّةِ غَيْرُ لَازِمٍ
"আর যে বিষয়টি বিদ'আতও হতে পারে আবার সুন্নাতও হতে পারে বলে উভয় সম্ভাবনা রয়েছে এমন বিষয় পরিত্যাগ করবে, কেননা বিদ'আত পরিত্যাগ করা অপরিহার্য জরুরী, আর সুন্নাত পালন করা অপরিহার্য নয়।"৯১ তিনি অন্যত্র লিখেনঃ
وَمَا تَرَدَّدَ بَيْنَ الْمُبَاحِ وَالْبِدْعَةِ لَا يُؤْتَى بِهِ فَإِنَّ التَّحَرُّزَ عَنِ الْبِدْعَةِ وَاجِبٌ... وَمَا تَرَدَّدَ بَيْنَ السُّنَّةِ وَالْبِدْعَةِ لَا يُؤْتَى بِهِ
"যে বিষয়টি বৈধও হতে পারে আবার বিদ'আত হতে পারে বলে উভয় সম্ভাবনা রয়েছে এমন বিষয়ের উপর আমল করা যাবে না, কেননা বিদ'আত পরিহার করে চলা ওয়াজিব ... এবং যে কাজ সুন্নাতও হতে পারে আবার বিদ'আতও হতে পারে বলে উভয় সম্ভাবনা রয়েছে এমন কাজ করা যাবে না। ১২”
অতএব, বিদ'আতপন্থীদের অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হলে বিনা দ্বিধায় এ কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর যাবতীয় আদেশ-নিষেধ যথাযথভাবে মেনে নেওয়া অপরিহার্য। আর এটিই হচ্ছে কিতাব ও সুন্নাতের অধিকার বা দাবী। কেননা কুরআন এমন এক গ্রন্থ, যার শুরুতেই আল্লাহ চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন,
ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
'এটি এমন এক কিতাব, যার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। আল্লাহভীরুদের জন্য এটি হিদায়াত বা পথ প্রদর্শনকারী। '৯৩ অন্যত্র মহান আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেন- 'নিশ্চয়ই কুরআন এক মর্যাদাশীল গ্রন্থ। সম্মুখ বা পশ্চাত কোন দিক দিয়েই এতে বাতিল কিছুরই প্রবেশাধিকার নেই। এটি মহাজ্ঞানী ও চির প্রশংসিত সত্তার পক্ষ হ'তে অবতীর্ণ। ৯৪
টিকাঃ
৮৯ ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়াহ আলা গাজওয়াল মুআত্তালা ওয়াল জাহমিয়া - ইবনে কাইয়্যিম (রঃ): ২/৩৮-৪১
৯০ শামসুল আয়িম্মাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন সাহাল আস্-সার্খাসি, হানাফী মাযহাবের অন্যতম মুজতাহিদ আলেম। ওফাত: ৪৮৩ হিজরী, মোতাবেক ১০৮০ ঈসায়ী। (আল-আ'লাম: ৫/৩১৫)
৯১ সার্থাসী, আল-মাবসূত, ২/১৪৬।
৯২ প্রাগুক্ত, ৩/৩৫৭।
৯৩ সূরা বাক্বারাহঃ ২
৯৪ সূরা হামীম সাজদা : ৪১/৪১-৪২