📄 শারীরিক প্রস্তুতি
নারীদের বুকে হাত বাঁধার দলীল এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল
নারীরা নাভীর নিচে হাত বাঁধবে এবং পুরুষরা নাভীর নিচে হাত রাখবে মর্মে হানাফীরা যে পার্থক্য করেছেন তার পক্ষে কোন দলীল নেই। মাজমাউয যাওয়ায়েদ গ্রন্থে তাবারানীর একটি হাদীস রফউল ইদাইনের সাথে সম্পৃক্ত, হাত বাঁধার সাথে নয়। প্রতীয়মান হল, নারীদের বুকে হাত বাঁধা প্রসঙ্গে ইজমার দাবীটি প্রত্যাখ্যাত।
নাভীর নিচে হাত বাঁধার ব্যাপারে হানাফীদের যুক্তি ও তার খণ্ডন:
যুক্তি-১: 'নাভীর নিচে হাত বাঁধা লজ্জাস্থান আবৃত করার ও লুঙ্গিকে হেফাযত রাখার অধিক উত্তম উপায়'।
আরয রইল, সম্ভবত এমন কোন বিবেকবান মানুষ পাওয়া যাবে না যিনি এই যুক্তির সামনে নিজের বিবেকের উপর মাতম করবেন না। সলাতে এসে কাপড় খুলে যাওয়ার আশঙ্কা করা কোন বিবেক ও যুক্তির আলোকে হচ্ছে তা প্রতীয়মান নয়। মজার বিষয় এই যে, হানাফীরা নারীদের জন্য এই বৈধতা রেখেছেন যে, তারা বুকে হাত বাঁধবে। নারীদের কি সতর সামলানোর দরকার নেই?
যুক্তি-২: 'পুরুষ নামাযে বুকের উপর হাত বাঁধলে নারীদের সাথে সাদৃশ্য স্থাপন আবশ্যক হয়ে যাবে'।
আরয রইল, বুকের উপর হাত বাঁধার প্রমাণ পুরুষদের সম্পর্কেই বলা হয়। আর নারীরা এ হুকুমের অনুগামী। এমতাবস্থায় যদি সাদৃশ্য দুর করা উদ্দেশ্য হত তাহলে হানাফীদের উচিত ছিল পুরুষদেরকে বুকের উপর হাত বাঁধতে বলা এবং নারীদেরকে তাদের অনুসারী হওয়া থেকে দুরে রাখা।
যুক্তি-৩: 'নাভীর নিচে হাত বাঁধা নম্রতা ও সম্মানের আলামত'।
আরয রইল, পুরো দুনিয়াতে কোথাও এই অবস্থানকে সম্মানের আলামত বলা হয় নি। বরং একে বেআদবী মনে করা হয়। এর বিপরীতে বুকে হাত বাঁধাকে অবশ্যই সম্মানের একটি পদ্ধতি গণ্য করা হয়।
টিকাঃ
৭২৩. মাজমাউয যাওয়ায়েদ ২/১০৩।
৭২৮. দিরহামুস সুর্বাহ পৃ. ৪৮।
৭২৯. দিরহামুস সুরা পৃ. ৪৫।
📄 সঠিক নিয়মে নামাজ আদায়
আহনাফের মধ্য হতেও কিছু আলেম সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু - এর তাফসীর হতে দলীল গ্রহণ করতে গিয়ে বলেছেন যে, নামাযে বুকের উপর হাত বাঁধা কুরআন মাজীদ দ্বারাও প্রমাণিত। এমনকি কিছু হানাফী আলেম এরই ভিত্তিতে শীআদের খন্ডন করে থাকেন। যারা নামাযে হাত-ই বাঁধে না। যেমন দেওবন্দী মাযহাবের রঈসুল মুনাযিরীন মাওলানা আবুল ফযল মুহাম্মাদ কারামুদ্দীন সাহেব স্বীয় প্রসিদ্ধ 'আফতাবে হেদায়াত' গ্রন্থে লিখেছেন, 'এখানে নহরের এই অর্থ প্রতীয়মান হয় যে, ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নামায পড়। ওয়ানহার এর প্রসিদ্ধতর ও স্পষ্টতর অর্থ এই যে, বুকের উপর হাত বেঁধে নামায পড়তে হবে। এটাই খুশূ ও খুযূ প্রকাশের তরীকা'।
শায়েখ ইরশাদুল হক আসারী হাফিযাহুল্লাহ লিখেছেন, 'আমাদের হানাফী আলেমরাও আশ্চর্যজনকভাবে রাফেযীদের মোকাবেলায় নামাযে হাত বাঁধার প্রমাণ কুরআন মাজীদের {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَر} দ্বারা পেশ করেন। বরং তারা বুকের উপর হাত বাঁধার উল্লেখ করেন। কিন্তু আহলে হাদীসের মোকাবেলায় বুকের উপর হাত বাঁধাকে তারা অস্বীকার করেন। اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى তোমরা ন্যায়-পরায়ণতা প্রদর্শন কর। এটি তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী'।
টিকাঃ
৪৫৬. আফতাবে হেদায়াত পৃ. ৪৩০।
৪৫৭. নামায মে হাথ কাহা বাঁধে পৃ. ৯।
৪৫৮. ঐ।
৪৫৯. ইবনুল মুনযির, আল-আওসাত ৩/৯৩।
📄 তাহাজ্জুদ নামাজ
মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ-এর একটি নুসখার একটি স্থানে নজরের ভুলের কারণে নাসেখ সাহেব দ্বিতীয় আসারের মধ্যেও প্রথম আসারের মতন যুক্ত করে দিয়েছেন। যেমন আওয়ামা সাহেবের তাহকীককৃত প্রকাশিত মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ-এর ৫ম খন্ডে (হা/৭৭৬৩) এ আসারটি রয়েছে: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْসٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي الْحُسْنَاءِ، أَنَّ عَلِيًّا أَمَرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِهِمْ فِي رَمَضَانَ عِشْرِينَ رَكْعَةً. এরপরেই রয়েছে- حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَابِ أَمَرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِهِمْ عِشْرِينَ رَكْعَةً. আওয়ামা সাহেবের দৃষ্টিতে শায়েখ আবেদ সিন্ধীর নুসখা হতে অন্য আসারটি গায়েব। যেমনটা স্বয়ং আওয়ামা সাহেব টীকায় লিখেছেন।
টিকাঃ
৬৪২. মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ৫/২২৩, তাহকীক: আওয়ামাহ।
৬৪৩. মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ৫/২২০, তাহকীক : আওয়ামাহ।
📄 সিয়াম (রোজা)
রাসূলের সাহাবী আনাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা আছে যে তিনি বলেছেন, 'দ্রুত ইফতার করা, সেহরীতে দেরী করা এবং নামাযে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে নাভীর নিচে স্থাপন করা নবীদের আখলাক ছিল'। এ বর্ণনাটি মওযু ও মনগড়া। এতে সাঈদ বিন যারবী নামক একজন রাবী রয়েছেন। তিনি মাতরূক ও অত্যন্ত সমালোচিত।
মহামিথ্যুক আবূ খালেদ ওমর বিন খালেদ আল-ওয়াসতী বলেছে, আলী রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা আছে যে, তিনি বলেছেন, তিনটি বস্তু আম্বিয়া কেরামের আখলাকের অন্তর্ভুক্ত। ১. দ্রুত ইফতার করা। ২. দেরীতে সেহরী করা। ৩. ডান হাতের কব্জি বাম হাতের কব্জির উপর রেখে নাভীর নিচে রাখা। এ বর্ণনাটি বাতিল ও মিথ্যা। কেননা এটি বর্ণনা করেছেন আবু খালেদ আমর বিন খালেদ আল-ওয়াসিতী, যাকে ইমাম আহমাদসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ অনেক বড় মিথ্যুক এবং হাদীস জালকারী বলেছেন।
টিকাঃ
৫৫১. বায়হাকী, খিলাফিয়াত ২/২৫৩-২৫৪।
৫৭২. সহীহ ইবনু হিব্বান হা/১৭৭০।