📄 জিকিরের পদ্ধতি
সাহাবীদের আসারসমূহ
আসার-১ ইবনু আব্বাস (রা)-এর হাদীস ‘فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ’
ইমাম ইবরাহীম বিন ইসহাক আল-হারবী (মৃ. ২৮৫ হি.) বলেছেন, কুরআনের মুফাসসির আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা আছে যে, {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} (তুমি তোমার রবের জন্য সলাত পড় ও নহর কর)-এর তাফসীরে তিনি বলেছেন, নামাযে নহরের কাছে (বুকের কাছে) হাত রাখা উদ্দেশ্য।
ইমাম সুয়ূতী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা আছে যে, {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} (তুমি তোমার রবের জন্য সলাত পড় ও নহর কর)-এর তাফসীরে তিনি বলেছেন, এতে নামাযের মধ্যে নহরের কাছে তথা বুকের উপর হাত রাখা উদ্দেশ্য। সুতরাং এই আয়াতে এ কথাটির শরীয়তসম্মত হওয়া ও প্রমাণ রয়েছে।
তাহকীক : এ বর্ণনাটি হুকমী মারফু। কেননা স্রেফ রায় ও ইজতিহাদ দ্বারা {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} -এর এই তাফসীর করা যেতে পারে না। আর এই হুকমী মারফু হাদীসটি পূর্বে আলোচিত আনাস রাযিআল্লাহু আনহু-এর মারফু হাদীসের জন্য সহীহ শাহেদ হয়েছে। কেননা এর সনদটি একেবারেই সহীহ।
টিকাঃ
৪৩০. হারবী, গরীবুল হাদীস ২/৪৪৩, সনদ সহীহ।
৪৩১. আল-ইকলীল ফী ইসবাতিত তানযীল পৃ. ৩০০।
📄 সদা-সর্বদা আল্লাহ তায়ালার স্মরণ
রাবী-১ : আবুল জাওযা আওস বিন আব্দুল্লাহ আর-রিবঈ
(১) ইমাম আবূ যুরআহ আর-রাযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'তিনি বসরী, সিকাহ রাবী' (আল-জারহু ওয়াত-তাদীল ২/৩০৪, সনদ সহীহ)। (২) ইমাম আবূ হাতেম আর-রাযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'তিনি সিকাহ রাবী'। (৩) ইমাম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ তাকে সিকাত গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন, 'তিনি আবেদ ও ফাযেল ছিলেন'। (৪) হাফেয ইবনু হাজার রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'তিনি সিকাহ রাবী'।
একটি সংশয় নিরসন: কিছু মানুষ কোনরূপ ভিত্তি ব্যতীতই এই দাবী করে যাচ্ছেন যে, আবুল জাওযা রহিমাহুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে শ্রবণ করেছেন মর্মে প্রমাণিত নেই।
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে আবুল জাওযার সামার বিষয়টি প্রমাণ করছি। যেমন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আবুল জাওযা বলেছেন যে, 'আমি ইবনু আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে শুনেছি, তিনি সোনা-রূপার ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে ফতওয়া দিতেন'।
তাহকীক : এ বর্ণনায় আবুল জাওযা স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস হতে শ্রবণ করেছেন। আর আবুল জাওযা পর্যন্ত এর সনদ একেবারেই সহীহ। আবুল জাওযা বুখারী ও মুসলিম সহ কুতুবে সিত্তার শক্তিশালী সিকাহ রাবী। সুতরাং তার বর্ণনা নির্ভরযোগ্য। এই দলীল দ্বারা সূর্যের রশ্মির চেয়েও স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে আবুল জাওযার সামা প্রমাণিত। উপরন্তু ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'আবুল জাওযা বলেছেন, আমি বারো বছর পর্যন্ত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু-এর কাছে ছিলাম। আর কুরআনের এমন কোন আয়াত নেই যে সম্পর্কে আমি ইবনু আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করি নি'।
টিকাঃ
৪৩৭. মুসনাদু আহমাদ ৩/৪৮, সনদ সহীহ।
৪৩৮. আল-ইলাল লি-আহমাদ ২/৪২, সনদ সহীহ।
📄 জিকিরের ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মসূচি
আলী (রা)-এর তাফসীর ‘فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ’
ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, রাসূলের সাহাবী আলী রাযিআল্লাহু আনহু {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} -এর তাফসীরে বলেছেন, 'এর দ্বারা নামাযে স্বীয় ডান হাত বাম হাতের বাহুর মধ্যখানে বুকের উপর রাখা উদ্দেশ্য'।
ব্যাখ্যা: 'সায়েদ' বাহু হতে কালাঈ পর্যন্ত অংশকে বলা হয়। যেমন লিসানুল আরব গ্রন্থে আছে, ‘মুলতাকাল যানদাইন মিন লাদুন ওয়াস সায়েদু : আল মিরফাকু ইলার রুসগ’। কামূসুল ওয়াহীদের লেখক 'আস-সায়েদ'-এর অর্থ এভাবে লিখেছেন, 'বাহু (কনুই হতে শুরু করে হাতের তালুর শেষ পর্যন্ত)'।
সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু -এর এ বর্ণনাটিও হুকমান মারফু। কেননা কেবল রায় ও ইজতিহাদ দ্বারা {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} -এর তাফসীর করা সম্ভব নয়। আর যখন এটা হুকমান মারফু তখন পূর্বোক্ত আনাস রাযিআল্লাহু আনহু -এর মারফু হাদীসের জন্য এটা দ্বিতীয় শাহেদ হিসেবে পরিগণিত হবে। কেননা এর সনদ একেবারেই সহীহ।
আহলে ইলমগণ বুকের উপর হাত বাঁধার উক্তিকে সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু-এর প্রতি সম্বন্ধ করেছেন। যেমন ইমাম ইবনুল মুনযির রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৩১৯ হি.) বলেছেন, 'আলী রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বুকের উপর হাত বাঁধতেন'।
টিকাঃ
৪৫৫. বুখারী, আত-তারীখুল কাবীর ৬/৪৩৭, সনদ সহীহ।
৪৫৯. ইবনুল মুনযির, আল-আওসাত ৩/৯৩।
📄 জিকিরের ব্যক্তিগত পন্থা
আহনাফের দলীলসমূহ
অনুচ্ছেদ-১ : মারফু বর্ণনা
হাদীস-১ : আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা)-এর প্রতি সম্বন্ধিত একটি সরীহ মারফু বর্ণনা
নাভীর নিচে হাত বাঁধা সম্পর্কে হানাফী আলেমদের কাছে একটিও ‘সরীহ মারফু মুসনাদ’ বর্ণনা নেই। না সহীহ রয়েছে। আর না যঈফ। বরং পূর্বের যামানার কোন বড় কাযযাবও এমন একটি মারফু মুসনাদ বর্ণনা বানিয়ে যাননি। নাভীর নিচে হাত বাঁধা সম্পর্কে আহনাফের বানানো এ হাদীসটি লক্ষ্য করুন। যেমনটা ‘দিরহামুস সুরা’ গ্রন্থের লেখক লিখেছেন, ‘নাভীর নিচে হাত বাঁধার দলীলগুলির মধ্যে একটি দলীল এটাও যেটাকে সাহেবুল মুহীত আল-বুরহানী এবং সাহেবুল মাজমাউল বাহরাঈনের ব্যাখ্যা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু বলেছেন, আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভীর নিচে স্থাপন করা সুন্নত’।
আরয রইল যে, দুনিয়ার কোন গ্রন্থেই এ হাদীসের অস্তিত্ব নেই। এ হাদীসের জন্য যেই শারহু মাজমাউল বাহরাঈনের চারটি পান্ডুলিপি অধ্যয়ন করেছি, চারটি পান্ডুলিপিতেই এ হাদীসটি অনুরূপভাবে পেয়েছি। প্রতীয়মান হল যে, এটা নাসেখের ভুল নয়। বরং স্বীয় মাসলাকের সমর্থনে একে বানানো হয়েছে। এজন্য এ বর্ণনাটির কোন সনদ উল্লেখ করা হয় নি। অর্থাৎ সনদবিহীন। এ বর্ণনাটির মতনের উপর চিন্তা করলে দেখা যায় যে, এতে বলা হচ্ছে 'উভয় হাতকে বাম হাতের উপর রাখা'! মানুষের কি তিনটি হাত? এ সকল কথাই এ বিষয়টির দলীল যে, এ বর্ণনাটি বানোয়াট।
টিকাঃ
৫২২. দিরহামুস সুরাহ পৃ. ৩১; ফাওযুল কিরাম (পান্ডুলিপি) পৃ. ১৮।
৫২৪. দুর্রাহ ফী ইযহারি গশশি নাকদিস সুরাহ পৃ. ৬৬।