📘 সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন 📄 জিকিরের অর্থ

📄 জিকিরের অর্থ


ওয়ানহার-এর তাফসীরে কুরবানী তাহকীক

কিছু মানুষ ইবনু আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহুর বরাতেও বলেছেন যে, তিনি ওয়ানহার-এর তাফসীরে কুরবানীর কথা বলেছেন। (বায়হাকী, মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার ১৪/২০)।

তাহকীক : এ বর্ণনার সনদ 'সিলসিলাতুল কাযিব'। ইবনু আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু-এর নিচের রাবীগণ সকলেই সমালোচিত। তাদের একজন হলেন মুহাম্মাদ বিন সায়েব আল-কালবী। যাকে অসংখ্য মুহাদ্দিস মিথ্যুক বলেছেন। স্বয়ং ইমাম বায়হাকী তার সম্পর্কে বলেছেন, 'এই আবূ সালেহ, কালবী এবং মুহাম্মাদ বিন মারওয়ান সবাই মুহাদ্দিসদের কাছে মাতরূক। তাদের কোন বর্ণনা দ্বারা মুহাদ্দিসগণ দলীল গ্রহণ করেননি। কেননা তাদের বর্ণনায় অত্যধিকহারে মুনকার ও মিথ্যা কথা পাওয়া যায়'।

ইমাম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৩৫৪ হি.) বলেছেন, 'কালবী সাবাঈ ছিল। সে আব্দুল্লাহ বিন সাবার অন্যতম একজন সাথী ছিল'। বরং স্বয়ং কালবী সুফিয়ান সাওরী রহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে বলেছে, 'তোমাকে যখন আমার উদ্ধৃতিতে আবূ সালেহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস হতে-সূত্রে বলা হবে তখন সেটি বর্ণনা করবে না। কেননা সেটি মিথ্যা'। প্রতীয়মান হল, এই তাফসীরটি মিথ্যা। ইবনু আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু এই তাফসীর আদৌ করেননি। বরং তার বরাতে মিথ্যাচার করা হয়েছে।

টিকাঃ
৪২৭. বায়হাকী, আল-আসমা ওয়াস-সিফাত ২/৩১২।
৪২৮. ইবনু হিব্বান, আল-মাজরূহীন ২/২৫৩।
৪২৯. ইবনু আবী হাতিম, আল-জারহু ওয়াত-তাদীল ৭/২৭০, সনদ সহীহ।

📘 সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন 📄 জিকিরের পদ্ধতি

📄 জিকিরের পদ্ধতি


সাহাবীদের আসারসমূহ
আসার-১ ইবনু আব্বাস (রা)-এর হাদীস ‘فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ’

ইমাম ইবরাহীম বিন ইসহাক আল-হারবী (মৃ. ২৮৫ হি.) বলেছেন, কুরআনের মুফাসসির আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা আছে যে, {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} (তুমি তোমার রবের জন্য সলাত পড় ও নহর কর)-এর তাফসীরে তিনি বলেছেন, নামাযে নহরের কাছে (বুকের কাছে) হাত রাখা উদ্দেশ্য।

ইমাম সুয়ূতী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা আছে যে, {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} (তুমি তোমার রবের জন্য সলাত পড় ও নহর কর)-এর তাফসীরে তিনি বলেছেন, এতে নামাযের মধ্যে নহরের কাছে তথা বুকের উপর হাত রাখা উদ্দেশ্য। সুতরাং এই আয়াতে এ কথাটির শরীয়তসম্মত হওয়া ও প্রমাণ রয়েছে।

তাহকীক : এ বর্ণনাটি হুকমী মারফু। কেননা স্রেফ রায় ও ইজতিহাদ দ্বারা {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} -এর এই তাফসীর করা যেতে পারে না। আর এই হুকমী মারফু হাদীসটি পূর্বে আলোচিত আনাস রাযিআল্লাহু আনহু-এর মারফু হাদীসের জন্য সহীহ শাহেদ হয়েছে। কেননা এর সনদটি একেবারেই সহীহ।

টিকাঃ
৪৩০. হারবী, গরীবুল হাদীস ২/৪৪৩, সনদ সহীহ।
৪৩১. আল-ইকলীল ফী ইসবাতিত তানযীল পৃ. ৩০০।

📘 সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন 📄 সদা-সর্বদা আল্লাহ তায়ালার স্মরণ

📄 সদা-সর্বদা আল্লাহ তায়ালার স্মরণ


রাবী-১ : আবুল জাওযা আওস বিন আব্দুল্লাহ আর-রিবঈ
(১) ইমাম আবূ যুরআহ আর-রাযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'তিনি বসরী, সিকাহ রাবী' (আল-জারহু ওয়াত-তাদীল ২/৩০৪, সনদ সহীহ)। (২) ইমাম আবূ হাতেম আর-রাযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'তিনি সিকাহ রাবী'। (৩) ইমাম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ তাকে সিকাত গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন, 'তিনি আবেদ ও ফাযেল ছিলেন'। (৪) হাফেয ইবনু হাজার রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'তিনি সিকাহ রাবী'।

একটি সংশয় নিরসন: কিছু মানুষ কোনরূপ ভিত্তি ব্যতীতই এই দাবী করে যাচ্ছেন যে, আবুল জাওযা রহিমাহুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে শ্রবণ করেছেন মর্মে প্রমাণিত নেই।

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে আবুল জাওযার সামার বিষয়টি প্রমাণ করছি। যেমন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আবুল জাওযা বলেছেন যে, 'আমি ইবনু আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে শুনেছি, তিনি সোনা-রূপার ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে ফতওয়া দিতেন'।

তাহকীক : এ বর্ণনায় আবুল জাওযা স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস হতে শ্রবণ করেছেন। আর আবুল জাওযা পর্যন্ত এর সনদ একেবারেই সহীহ। আবুল জাওযা বুখারী ও মুসলিম সহ কুতুবে সিত্তার শক্তিশালী সিকাহ রাবী। সুতরাং তার বর্ণনা নির্ভরযোগ্য। এই দলীল দ্বারা সূর্যের রশ্মির চেয়েও স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে আবুল জাওযার সামা প্রমাণিত। উপরন্তু ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'আবুল জাওযা বলেছেন, আমি বারো বছর পর্যন্ত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু-এর কাছে ছিলাম। আর কুরআনের এমন কোন আয়াত নেই যে সম্পর্কে আমি ইবনু আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করি নি'।

টিকাঃ
৪৩৭. মুসনাদু আহমাদ ৩/৪৮, সনদ সহীহ।
৪৩৮. আল-ইলাল লি-আহমাদ ২/৪২, সনদ সহীহ।

📘 সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন 📄 জিকিরের ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মসূচি

📄 জিকিরের ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মসূচি


আলী (রা)-এর তাফসীর ‘فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ’

ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, রাসূলের সাহাবী আলী রাযিআল্লাহু আনহু {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} -এর তাফসীরে বলেছেন, 'এর দ্বারা নামাযে স্বীয় ডান হাত বাম হাতের বাহুর মধ্যখানে বুকের উপর রাখা উদ্দেশ্য'।

ব্যাখ্যা: 'সায়েদ' বাহু হতে কালাঈ পর্যন্ত অংশকে বলা হয়। যেমন লিসানুল আরব গ্রন্থে আছে, ‘মুলতাকাল যানদাইন মিন লাদুন ওয়াস সায়েদু : আল মিরফাকু ইলার রুসগ’। কামূসুল ওয়াহীদের লেখক 'আস-সায়েদ'-এর অর্থ এভাবে লিখেছেন, 'বাহু (কনুই হতে শুরু করে হাতের তালুর শেষ পর্যন্ত)'।

সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু -এর এ বর্ণনাটিও হুকমান মারফু। কেননা কেবল রায় ও ইজতিহাদ দ্বারা {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} -এর তাফসীর করা সম্ভব নয়। আর যখন এটা হুকমান মারফু তখন পূর্বোক্ত আনাস রাযিআল্লাহু আনহু -এর মারফু হাদীসের জন্য এটা দ্বিতীয় শাহেদ হিসেবে পরিগণিত হবে। কেননা এর সনদ একেবারেই সহীহ।

আহলে ইলমগণ বুকের উপর হাত বাঁধার উক্তিকে সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু-এর প্রতি সম্বন্ধ করেছেন। যেমন ইমাম ইবনুল মুনযির রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৩১৯ হি.) বলেছেন, 'আলী রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বুকের উপর হাত বাঁধতেন'।

টিকাঃ
৪৫৫. বুখারী, আত-তারীখুল কাবীর ৬/৪৩৭, সনদ সহীহ।
৪৫৯. ইবনুল মুনযির, আল-আওসাত ৩/৯৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px