📘 সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন 📄 আপনার মিশন

📄 আপনার মিশন


ইমাম আবূ দাউদ রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ২৭৫ হি.) বলেছেন,
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ يَعْنِي ابْنَ حُمَيْدٍ، عَنْ ثَوْرِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ طَاؤس، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى، ثُمَّ يَشُدُّ بَيْنَهُمَا عَلَى صَدْرِهِ وَهُৱֹ فِي الصَّلَاةِ
'তাউস বিন কায়সান হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযে স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন। আর তিনি একে নিজের বুকের উপর বাঁধতেন'।

নামাযে বুকের উপর হাত বাঁধার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ রয়েছে: সম্ভবত এ হাদীসটি এবং এর ন্যায় হাদীসগুলির ভিত্তিতে ইমাম সুয়ূতী রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৯১১ হি.) বলেছেন, 'তিনি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন। অতঃপর তিনি হস্তদ্বয়কে বুকের উপর রাখতেন'।

তাহকীক : এ বর্ণনাটি মুরসাল হিসেবে একেবারেই সহীহ। এর রাবীদের উপর পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত আলোচনা আসছে। রইল বর্ণনাটির মুরসাল হওয়া। তো আরয রইল যে, আহনাফের মতে মুরসাল রেওয়ায়াত হুজ্জত হয়ে থাকে। যেহেতু এই মুরসাল বর্ণনাটির অসংখ্য শাহেদ বিদ্যমান (যেমনটা এই গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়েই উল্লেখিত আছে)। সেহেতু এ হাদীসটি একেবারেই সহীহ।

টিকাঃ
১৮. আবূ দাউদ হা/৭৫৯।
১৯. আমালুল ইয়াউম ওয়াল-লাইলা পৃ. ১১; ফাতহুল গফুর পৃ. ৫৯।
২০. নামায মে খুশৃ আওর আজিয়ী পৃ. ১১-১২।
২১. ইবনু আবী হাতিম, আল-জারহু ওয়াত-তাদীল ৪/৫০০, সনদ সহীহ।
২২. আত-তাবাকাতুল কুবরা ৭/৪৫৭।
২৩. তারীখু ইবনু মাঈন (দারেমীর বর্ণনা) পৃ. ৪৬।

📘 সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন 📄 তাযকিয়ার পূর্বশর্ত

📄 তাযকিয়ার পূর্বশর্ত


ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহ বলেছেন,
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي سِمَاكٌ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ هُلْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ يَنْصَرِفُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ، وَرَأَيْتُهُ، قَالَ، يَضَعُ هَذِهِ عَلَى صَدْرِهِ
হুলব আত-তাঈ রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা আছে যে, 'নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখেছি। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডান ও বাম উভয় দিকে ফেরাতেন। আর আমি তাকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখেছি যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাতকে (ডান হাত) এ হাতের (বাম হাতের) উপর স্থাপন করে বুকের উপর রেখেছেন'।

তাহকীক: এ হাদীসটি সহীহ। হাফেয ইবনু হাজার রহিমাহুল্লাহ ফাতহুল বারীতে সীনার উপর হাত বাঁধা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলিতে একেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আল্লামা মুহাম্মাদ আলী নামাবী রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১৩২২ হি.) এর সনদ সম্পর্কে বলেছেন, 'সনদটি হাসান'।

মতনের উপর প্রথম অভিযোগ ও পর্যালোচনা: এই বর্ণনাটিকে ইয়াহ্ইয়া বিন সাঈদ ব্যতীত আর অন্য কোন রাবী হাত বাঁধার উল্লেখ করেননি বলে যে অভিযোগ করা হয়, তা সঠিক নয়। এ বিষয়টি সিকাহ রাবীর বর্ধিত বর্ণনার অর্ন্তভুক্ত। আর সিকাহ রাবীর বর্ধিতাংশ গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে যদি করীনা তার পক্ষে থাকে। আলোচ্য হাদীসে অতিরিক্ত অংশ বর্ণনাকারী ইমাম ইয়াহইয়া বিন সাঈদ রহিমাহুল্লাহ এবং ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহিমাহুল্লাহ কেবল-ই খুব বড় মাপের হাফেয, মুতকিন এবং সাবত-ই নন; বরং উভয়েই 'আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস' ছিলেন। সুতরাং তাদের অতিরিক্ত অংশ কোনরূপ গবেষণা-দ্বিধা ব্যতীতই গ্রহণ করা যাবে।

টিকাঃ
৭৩. আহমাদ ৫/২২৬; ইবনুল জাওযী, আত-তাহকীক ফী মাসায়িলিল খিলাফ ১/৩৩৮।
৭৪. ফাতহুল বারী ২/২২৪।
৭৫. আসারুস সুনান ১/৬৮।
৭৬. মিয়ারুন নুক্কাদ ফী তামঈযিল মাগশুশি আনিল জিয়াদ পৃ. ১১৩।
৭৭. আস-সিকাত ২/২১৪।

📘 সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন 📄 আশীর্বাদ ও সুফল

📄 আশীর্বাদ ও সুফল


ইমাম ইবনু খুযায়ামা রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৩১১ হি.) বলেছেন,
نا أَبُو مُوسَى، نا مُؤَمَّلٌ ، نا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ : صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى عَلَى صَدْرِهِ
ওয়ায়েল বিন হুজর হতে বর্ণনা আছে যে, 'আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামায পড়েছি। তিনি ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর রেখেছিলেন'।

উলামাদের জন্য লক্ষণীয়: এ হাদীসটি নিঃসন্দেহে ও কোনরূপ সংশয় ব্যতীতই সহীহ। এই সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে আহলে ইলমগণ নামাযের পদ্ধতি বলতে গিয়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, আল্লাহর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায় বুকের উপর হাত বাঁধতেন। ইমাম ইবনু খুযায়মাহ রহিমাহুল্লাহ একে সহীহ ইবনু খুযায়মাহ গ্রন্থে সন্নিবেশ করেছেন, যার উদ্দেশ্য এই যে, তিনি এই হাদীসকে সহীহ বলেছেন।
দশজন মুহাদ্দিস এর দৃষ্টিতে হাদীসটি সহীহ: (১) ইমাম ইবনু খুযায়মাহ, (২) ইমাম নববী, (৩) হাফেয ইবনু সাইয়েদুন নাস, (৪) হাফেয ইবনু হাজার, (৫) আল্লামা আইনী, (৬) শামসুদ্দীন ইবনুল হাজ্জ, (৭) ইবনু নুজাইম মিসরী, (৮) আল্লামা ইবনু হাজার হায়সামী, (৯) শায়েখ আব্দুল হক দেহলবী, (১০) আল্লামা আব্দুল হাঈ লাখনোবী।

টিকাঃ
২৫৯. সহীহ ইবনু খুযায়মাহ হা/৪৭৯, সনদ সহীহ।
২৬০. সিফরুস সাআদাহ পৃ. ৭।
২৬১. শারহুন আলাল হিদায়ান গ্রন্থের বরাতে পৃ. ৪০ তাহকীক: মুহাম্মাদ যিয়াউর রহমান আযামী।
২৬২. সহীহ ইবনু খুযায়মাহ ১/৩।
২৬৩. সহীহ ইবনু খুযায়মাহ ১/১৫৩।
২৬৪. ইবনুল মুলাক্কিন, আল-বাদরুল মুনীর ১/৬১৯।

📘 সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন 📄 সারসংক্ষেপ

📄 সারসংক্ষেপ


মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ গ্রন্থে তাহরীফ করে লেখা হয়েছে, 'ওয়ায়েল বিন হুজর রাযিআল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি আল্লাহর নবীকে দেখেছি। তিনি নামাযে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে নাভীর নিচে স্থাপন করেছিলেন'।

তাহকীক : এ বর্ণনায় 'নাভীর নিচে' শব্দগুলি নেই। বরং হানাফীরা নিজের মাসলাক প্রমাণ করার জন্য এ হাদীসে তাহরীফ করেছেন। আর নিজেদের পক্ষ থেকে তারা এতে 'নাভীর নিচে' শব্দগুলি সংযুক্ত করেছেন। এ কাজটি সর্বপ্রথম পাকিস্তানের হানাফী প্রতিষ্ঠান 'ইদারাতুল কুরআন ওয়াল-উলূম আল-ইসলামিয়া করাচী' করেছে। অতঃপর তাদেরকে অনুকরণ করে পাকিস্তানের মুলতানের অপর একটি প্রকাশনী 'তাইয়েব একাডেমী' মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বার অন্য একটি নুসখায় এই তাহরীফ করেছে।

সারকথা : মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ গ্রন্থে আহনাফ তাহরীফ করে এর একটি হাদীসের মধ্যে 'নাভীর নিচে' অংশটি বৃদ্ধি করেছেন। যখন তাদের এই চুরি ধরা পড়ে গেল তখন তারা যত্রতত্র সাহায্য অনুসন্ধান করতে লাগলেন। যদি বাস্তবেই এই সব সাহায্যের কোন দম থাকত তাহলে এ লোকেরা তখুনি এগুলি পেশ করতেন। যখন তারা এ হাদীসে পরিবর্তন সাধন করেছিলেন তখন তারা চুপ ছিলেন। কিন্তু যখন তাদেরকে ধরা হল তখন তারা 'ভিত্তিহীন সমর্থন' অনুসন্ধান করতে লাগলেন।

টিকাঃ
৬১০. মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ১/৩৯০।
৬১১. আত-তামহীদ ২০/৭৫।
৬১২. আল-জাওহারুন নাকী ২/৩১।
৬১৩. ফাতহুল গফুর পৃ. ৫২।
৬১৪. ফায়যুল বারী ২/২৬৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px