📘 সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন 📄 জীবনের লক্ষ্য

📄 জীবনের লক্ষ্য


ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ২৫৬ হি.) বলেছেন,
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ : كَانَ النَّاسُ يُؤْمেরُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ اليَدَ اليُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ اليُسْرَى فِي الصَّلَاةِ- قَالَ أَبُو حَازِمٍ لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا يَنْمِي ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِسْمَاعِيلُ : يُنْمَى ذَلِكَ وَلَمْ يَقُلْ يَنْمِي
'আমাদেরকে আব্দুল্লাহ বিন মাসলামা হাদীস বর্ণনা করেছেন মালেক হতে, তিনি আবূ হাযেম হতে, তিনি সাহল বিন সাদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাহল বিন সাদ) বলেছেন, লোকদেরকে আদেশ করা হত যে, নামাযে প্রত্যেক ব্যক্তি যেন ডান হাত তার বাম হাতের যিরার (কনুই থেকে নিম্ন আঙ্গুল পর্যন্ত অংশ) উপর রাখে। আবূ হাযেম বিন দীনার বর্ণনা করেছেন, আমি ভালভাবে মনে রেখেছি যে, তিনি একে (হাদীসটিকে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত সম্বন্ধ করেছেন। ইসমাঈল (বিন উয়াঈস) বলেছেন, এ কথা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছানো হত। এটা বলেন নি যে, তিনি পৌছাতেন'।

তাহকীক : এ হাদীসটির সহীহ হওয়ার জন্য সহীহ বুখারীতে থাকাই যথেষ্ট। কেননা সহীহ বুখারীর হাদীসগুলি সকল হাদীসের মধ্যে উচ্চ স্তরের শুদ্ধতা রাখে। ওলামায়ে উম্মত এ ফায়সালাই দিয়েছেন। উপরন্তু এ হাদীসকে ইমাম ইবনু হাযম রহিমাহুল্লাহ 'আল-মুহাল্লাহ' গ্রন্থে (৪/১১৪) এবং হাফেয ইবনু কাইয়েম রহিমাহুল্লাহ 'ইলামুল মুওয়াকক্কিঈন' গ্রন্থে (২/৬ হিন্দুস্তানী ছাপা) সহীহ বলেছেন।
এ হাদীসটি মারফু। যেমনটা রাবী আবূ হাযেম স্পষ্টভাবে বলেছেন। সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুমদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত আর কে হুকুম দিতে পারেন? এজন্যই হাফেয ইবনু হাজার রহিমাহুল্লাহ ফাতহুল বারীতে (২/১২৪) এবং আল্লামা আইনী রহিমাহুল্লাহ উমদাতুল কারীতে (৫/২৬৮) এই হাদীসকে মারফু প্রমাণ করেছেন।

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডান হাতকে বাম হাতের 'যিরা'-এর উপর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যিরা দ্বারা মধ্যমা আঙ্গুল পর্যন্ত অংশকে বলা হয়। অভিধানের উল্লিখিত গ্রন্থগুলি দ্বারা প্রতীয়মান হল যে, কনুই থেকে মধ্যমা আঙ্গুলের শেষ পর্যন্ত অংশকে যিরা বলা হয়। আর বুখারীর উল্লিখিত হাদীসে বাম হাতের 'যিরা' অর্থাৎ কনুই হতে শুরু করে মধ্যমা আঙ্গুল পর্যন্ত পুরো অংশের উপর ডান হাত রাখার হুকুম রয়েছে। এখন যদি এই হাদীসের উপর আমল করতে গিয়ে ডান হাতকে বাম হাতের 'যিরা' (কনুই থেকে মধ্যমা আঙ্গুল পর্যন্ত)-এর উপর রাখেন তাহলে উভয় হাত স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বুকের উপর এসে যাবে। বাস্তবে অনুশীলন করে দেখুন। সুতরাং বুখারীর এই হাদীসটি বুকের উপর হাত বাঁধার দলীল।

টিকাঃ
১. সহীহুল বুখারী ১/১০২ দরসী নুসখা; সহীহুল বুখারী, ফাতহুল বারীসহ কিতাবুল আযান, বাবু ওয়াযইল ঘুমনা আলা যিরায়িহিল য়ুসরা ফিস-সালাতি হা/৭৪০। ইমাম মালেক একে বর্ণনা করেছেন মুওয়াত্তা গ্রন্থে আবূ হাযেম হতে (হা/৩৭৬)।
২. শরহে নুখবাতুল ফিকার পৃ. ২২৪; সুয়ূতী, তাদরীবুর রাবী পৃ. ২৫ ইত্যাদি।
৩. দেখুন: আল্লামা বদীউদ্দীন শাহ রাশিদী রচিত নামায মে খুশূ আওর আজিযী পৃ. ৭-৮।
৪. দেখুন: তার রচিত গ্রন্থ আল-কামূসুল জাদীদ (আরবী-উর্দু) পৃ. ৩০৮, কুতুব খানায়ে হুসাইনিয়াহ দেওবন্দ, ইউপি।
৫. আলবানী, আসলু সিফাতি সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১/২১৮।

📘 সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন 📄 জান্নাতের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ

📄 জান্নাতের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ


ইমাম নাসাঈ রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৩০৩ হি.) বলেছেন,
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ : أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ زَائِدَةَ قَالَ : حَدَّثَنَا عَاصِمُ بن كليب قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي، أَنَّ وَائِلَ بْنَ حُجْرٍ أَخْبَرَهُ قَالَ : قُلْتُ لَأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلَاةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ كَيْفَ يُصَلِّي، فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ فَقামَ فَكَبَّرَ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَنَا بِأَذْنَيْهِ، ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى كَفِّهِ الْيُسْرَى وَالرُّسُعَ وَالسَّاعِد -
'আমাদেরকে সুয়াঈদ বিন নসর খবর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাদেরকে আব্দুল্লাহ বিন মুবারক হাদীস বর্ণনা করেছেন যায়েদা হতে। তিনি বলেছেন, আমাদের থেকে আসেম বিন কুলাইব বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, ওয়ায়েল বিন হুজর তাকে বলেছেন... 'অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় ডান হাত বাম হাতের তালুর পিঠ বা পাতা, কব্জি ও বাহুর উপর রেখেছেন'।

ব্যাখ্যা: এই হাদীসে এসেছে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিজের ডান হাত বাম হাতের তালু, কব্জি ও বাহুর উপর ভাগে রাখতেন। উপর্যুক্ত হাদীস মোতাবেক যদি ডান হাতকে বাম হাতের পুরো অংশের উপর রাখা হয়, তাহলে উভয় হাত স্বতন্ত্রভাবেই বুকের উপর এসে যাবে। সুতরাং এ হাদীসটিও নামাযে বুকের উপর হাত বাঁধার দলীল। আল্লামা আলবানী রহিমাহুল্লাহ লিখেছেন, 'এ হাদীসে উল্লিখিত পদ্ধতির আবশ্যিক ফলাফল এই যে, হাত বুকের উপর রাখতে হবে। যদি আপনি এর উপর গভীরভাবে চিন্তা করেন এবং এর উপর আমল করেন তাহলে (বাস্তবে) অনুশীলন করে দেখতে পারেন'।

তাহকীক : এ হাদীসটি সহীহ। আল্লামা নীমাবী রহিমাহুল্লাহ এ সম্পর্কে 'এর সনদ সহীহ' বলেছেন। (আসারুস সুনান (করাচী ছাপা) পৃ. ১০৪) এর সকল রাবী সিকাহ।

টিকাঃ
৬. সুনানে নাসাঈ হা/৮৮৯; আবু দাউদ হা/৭২৭; ইবনু হিব্বান হা/১৮৬০।
৭. হেদায়াতুর রুওয়াত ১/৩৬৭।
৮. ইবনু হাজার, তাকরীবুত তাহযীব রাবী নং ৩০৭৫।
৯. আত-তাবাকাতুল কুবরা ৬/৩৪১।
১০. মিন কালামি ইয়াহইয়া বিন মাঈন ফির-রিজাল পৃ. ৪৬।
১১. আল-ইলাল ওয়া মারফিাতুর রিজাল (মারওয়াযী, সালেহ ও মায়মুনী বর্ণিত) পৃ. ১৬৪।
১২. যাহাবী, মীযানুল ইতিদাল ২/৩৫৬; ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী ১/৪৫৭।
১৩. ইয়াকূব বিন শায়বাহ, মুসনাদ ওমর বিন খাত্তাব পৃ. ৯৪।
১৪. পৃ. ৪৫৪ হা/১।
১৫. সুনানে তিরমিযী হা/২৯২।
১৬. ইবনু আবী হাতিম, আল-জারহু ওয়াত-তাদীল ৩/৬১৩।
১৭. আত-তাবাকাতুল কুবরা ৭/৩৭২।

📘 সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন 📄 আপনার মিশন

📄 আপনার মিশন


ইমাম আবূ দাউদ রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ২৭৫ হি.) বলেছেন,
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ يَعْنِي ابْنَ حُمَيْدٍ، عَنْ ثَوْرِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ طَاؤس، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى، ثُمَّ يَشُدُّ بَيْنَهُمَا عَلَى صَدْرِهِ وَهُৱֹ فِي الصَّلَاةِ
'তাউস বিন কায়সান হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযে স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন। আর তিনি একে নিজের বুকের উপর বাঁধতেন'।

নামাযে বুকের উপর হাত বাঁধার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ রয়েছে: সম্ভবত এ হাদীসটি এবং এর ন্যায় হাদীসগুলির ভিত্তিতে ইমাম সুয়ূতী রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৯১১ হি.) বলেছেন, 'তিনি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন। অতঃপর তিনি হস্তদ্বয়কে বুকের উপর রাখতেন'।

তাহকীক : এ বর্ণনাটি মুরসাল হিসেবে একেবারেই সহীহ। এর রাবীদের উপর পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত আলোচনা আসছে। রইল বর্ণনাটির মুরসাল হওয়া। তো আরয রইল যে, আহনাফের মতে মুরসাল রেওয়ায়াত হুজ্জত হয়ে থাকে। যেহেতু এই মুরসাল বর্ণনাটির অসংখ্য শাহেদ বিদ্যমান (যেমনটা এই গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়েই উল্লেখিত আছে)। সেহেতু এ হাদীসটি একেবারেই সহীহ।

টিকাঃ
১৮. আবূ দাউদ হা/৭৫৯।
১৯. আমালুল ইয়াউম ওয়াল-লাইলা পৃ. ১১; ফাতহুল গফুর পৃ. ৫৯।
২০. নামায মে খুশৃ আওর আজিয়ী পৃ. ১১-১২।
২১. ইবনু আবী হাতিম, আল-জারহু ওয়াত-তাদীল ৪/৫০০, সনদ সহীহ।
২২. আত-তাবাকাতুল কুবরা ৭/৪৫৭।
২৩. তারীখু ইবনু মাঈন (দারেমীর বর্ণনা) পৃ. ৪৬।

📘 সালাতে হাত বাঁধার স্থান বিভ্রান্তি নিরসন 📄 তাযকিয়ার পূর্বশর্ত

📄 তাযকিয়ার পূর্বশর্ত


ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহ বলেছেন,
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي سِمَاكٌ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ هُلْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ يَنْصَرِفُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ، وَرَأَيْتُهُ، قَالَ، يَضَعُ هَذِهِ عَلَى صَدْرِهِ
হুলব আত-তাঈ রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা আছে যে, 'নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখেছি। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডান ও বাম উভয় দিকে ফেরাতেন। আর আমি তাকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখেছি যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাতকে (ডান হাত) এ হাতের (বাম হাতের) উপর স্থাপন করে বুকের উপর রেখেছেন'।

তাহকীক: এ হাদীসটি সহীহ। হাফেয ইবনু হাজার রহিমাহুল্লাহ ফাতহুল বারীতে সীনার উপর হাত বাঁধা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলিতে একেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আল্লামা মুহাম্মাদ আলী নামাবী রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১৩২২ হি.) এর সনদ সম্পর্কে বলেছেন, 'সনদটি হাসান'।

মতনের উপর প্রথম অভিযোগ ও পর্যালোচনা: এই বর্ণনাটিকে ইয়াহ্ইয়া বিন সাঈদ ব্যতীত আর অন্য কোন রাবী হাত বাঁধার উল্লেখ করেননি বলে যে অভিযোগ করা হয়, তা সঠিক নয়। এ বিষয়টি সিকাহ রাবীর বর্ধিত বর্ণনার অর্ন্তভুক্ত। আর সিকাহ রাবীর বর্ধিতাংশ গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে যদি করীনা তার পক্ষে থাকে। আলোচ্য হাদীসে অতিরিক্ত অংশ বর্ণনাকারী ইমাম ইয়াহইয়া বিন সাঈদ রহিমাহুল্লাহ এবং ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহিমাহুল্লাহ কেবল-ই খুব বড় মাপের হাফেয, মুতকিন এবং সাবত-ই নন; বরং উভয়েই 'আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস' ছিলেন। সুতরাং তাদের অতিরিক্ত অংশ কোনরূপ গবেষণা-দ্বিধা ব্যতীতই গ্রহণ করা যাবে।

টিকাঃ
৭৩. আহমাদ ৫/২২৬; ইবনুল জাওযী, আত-তাহকীক ফী মাসায়িলিল খিলাফ ১/৩৩৮।
৭৪. ফাতহুল বারী ২/২২৪।
৭৫. আসারুস সুনান ১/৬৮।
৭৬. মিয়ারুন নুক্কাদ ফী তামঈযিল মাগশুশি আনিল জিয়াদ পৃ. ১১৩।
৭৭. আস-সিকাত ২/২১৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px