📄 সালাম ফিরানো
অতঃপর নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডানে সালাম প্রদান করতেন এ বলে- "আস্সালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ" (এ পরিমাণ মাথা ঘুরাতেন যে) তাঁর ডান গালের শুভ্রতা দেখা যেত, বাম দিকেও সালাম প্রদান করতেন- "আস্সালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ" (এ পরিমাণ মাথা ঘুরাতেন যে) তাঁর বাম গালের শুভ্রতা দেখা যেত। (১) কখনো কখনো প্রথম সালামে এটুকু বৃদ্ধি করতেনঃ "অবারাকাতুহ্" (২) আর ডানে "আস্সালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ" বললে বামে কখনো কখনো এটুকু বলে ক্ষান্ত হতেন "আস্সালামু আলাইকুম"। (৩) আবার কখনো কখনো একটিই সালাম প্রদান করতেন সম্মুখের দিকে ডান দিকে সামান্য একটু ধাবমান অবস্থায়। (৪)
ছাহাবাগণ ডানে বামে সালাম ফিরানোর সময় তাদের হাত দ্বারা ইঙ্গিত করতেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এরূপ করতে দেখে বলেছিলেনঃ (৫) মা- শা'নুকুম তুশীরূনা বিআইদীকুম কাআন্নাহা- আযনা-বু খাইলিওঁ শুমসিন? ইযা- সাল্লামা আহাদুকুম ফালইয়ালতাফিত ইলা- সা-হিবিহী অলা- ইউমি'উ বিয়াদিহী (ফাল্লামা- সল্লূ- মা'আহু আইযান লাম ইয়াফ'আলূ- যা-লিকা ) (অফী রিওয়ায়াতিন : ইন্নামা- ইয়াকফী আহাদাকুম আন ইয়াদা'আ ইয়াদাহু 'আলা- ফখিযিহী সুম্মা ইউসাল্লিমু 'আলা- আখীহি মিন 'আলা- ইয়ামীনীহী অশিমা-লিহী )
তোমাদের ব্যাপার কী, তোমরা তোমাদের হাত দ্বারা এভাবে ইঙ্গিত করছ যেন তা উশৃঙ্খল তেজস্বী ঘোড়ার লেজ? যখন তোমাদের কেউ সালাম ফিরাবে সে যেন তার সাথীর দিকে দৃষ্টিপাত করে, হাত দ্বারা ইঙ্গিত না করে।" এরপর যখন তারা নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছালাত আদায় করত তখন আর তারা তা করত না। অন্য বর্ণনায় এসেছে: তোমাদের যে কারো জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, সে তার উরুর উপর হাত রাখবে এবং ডানে বামে অবস্থিত তার ভাইকে সালাম প্রদান করবে। (১)
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অ তাহলীলুহাত তাসলিম আর ছলাতের হালালকারী অর্থাৎ ছলাতে হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বৈধকারী হলো সালাম প্রদান। (২)
টিকাঃ
(১) অনুরূপভাবে মুসলিম (৫৮২), আবূ দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী এটিকে বর্ণনা করে ছহীহ বলেছেন।
(২) আবূ দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ (১/৮৭/২) ছহীহ সনদে। আব্দুল হক এটিকে ছহীহ প্রমাণ করেছেন তার "আহকাম" গ্রন্থে (৫৬/২)। অনুরূপভাবে নব্বী ও হাফিয ইবনু হাজারও, আরো বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাযযাক তার মুছান্নাফ গ্রন্থে (২/২১৯), আবূ ই'য়ালা তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (৩/১২৫২), ত্ববরানী "কাবীর" গ্রন্থে (৩/৬৭/২), আওসাত্ব গ্রন্থে (১/২৬০০/২), দারাকুত্বনী অন্য সূত্রে।
(৩) নাসাঈ, আহমাদ ও সাররাজ ছহীহ সনদে।
(৪) ইবনু খুযাইমাহ, বাইহাকী, যিয়া-“মুস্তারাহ” গ্রন্থে, আব্দুল গনী মাকদিসী সুনান গ্রন্থে (২৪৩/১) ছহীহ সনদে, আহমাদ, ত্ববরানী "আউসাত্ব” গ্রন্থে, (৩২/২) যাওয়ায়েদুল মু'জামাইন থেকে, হাকিম বর্ণনা করে ছহীহ বলেছেন এবং যাহাবী ও ইবনুল মুলাকুকুিন (২৯/১) তার সমর্থন করেছেন। আর এটি ইরওয়া গ্রন্থে (৩২৭নং) হাদীছের আওতায় উদ্ধৃত হয়েছে।
(৫) শুমস শব্দটি শুমূস শব্দের বহুবচন, যার অর্থ তেজস্বিতা ও উগ্রতাসম্পন্ন ঐ চঞ্চল পশু যে স্থির থাকে না।
(১) মুসলিম, আবূ আওয়ানাহ, সাররাজ ও ইবনু খুযাইমাহ। জ্ঞাতব্য: ইবাযিয়াহরা (খারীজীদের একটি দল) এ হাদীছকে বিকৃত করেছে। তাদের মধ্যমণি (নেতা) তার অজ্ঞাত মুসনাদে এটিকে অন্য শব্দে বর্ণনা করেছেন। যাতে করে এটি দ্বারা তাকবীরের সাথে হাত উঠালে তাদের নিকট ছালাত বিনষ্ট হওয়ার পক্ষে দলীল গ্রহণ করতে পারে। তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সায়ইয়াবীও, তারও প্রতিবাদ করা হয়েছে ভূমিকায়। তাদের বর্ণিত শব্দ বাত্বিল। এর বিশদ বর্ণনা রয়েছে "যাঈফাহ” গ্রন্থে (৬০৪৪)।
(২) এটিকে হাকিম ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন এবং যাহাবী তার সমর্থন করেছেন। পূর্ণ হাদীছ ৮৬ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।
📄 সালাম বলা ওয়াজিব
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অ তাহলীলুহাত তাসলিম আর ছলাতের হালালকারী অর্থাৎ ছলাতে হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বৈধকারী হলো সালাম প্রদান। (২)
টিকাঃ
(২) এটিকে হাকিম ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন এবং যাহাবী তার সমর্থন করেছেন। পূর্ণ হাদীছ ৮৬ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।
📄 উপসংহার
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছলাতের যে বিবরণী ও পদ্ধতি উল্লেখ করা হল এতে নারী-পুরুষ সবাই সমান। ঐ সকল পদ্ধতির কিছু অংশেও নারীদের স্বাতন্ত্র্য রয়েছে এ দাবীর স্বপক্ষে সুন্নাহতে কিছুই উদ্ধৃত হয়নি। বরং নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ বাণীর সাধারণ ভঙ্গি তাদেরকেও শামিল করে: সল্লূ- কামা- রায়াইতুমূনী উসল্লী তোমরা ঠিক ঐভাবে ছালাত আমাকে ছালাত আদায় করতে দেখ। আর এটাই হচ্ছে ইবরাহীম নাখাঈর উক্তি। তিনি বলেছেন: তাফ'আলুল মারআত ফিস সলা-তি কামা- ইয়াফ'আলুর রাজুল নারী ছলাতে তাই করবে যা একজন পুরুষ করে। এটি বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী শাইবাহ (১/৭৫/২) ছহীহ সনদে।
সাজদাহ অবস্থায় নারীর সংকুচিত হওয়ার যে হাদীছ রয়েছে যাতে এও আছে যে, এক্ষেত্রে নারী; পুরুষের মত নয়, সে হাদীছটি মুরসাল (مرسل) (সূত্র ধারা ছিন্ন) এটা প্রামাণ্যের অযোগ্য। এটিকে বর্ণনা করেছেন আবূ দাউদ "মারাসীল" গ্রন্থে (১১৭/৮৭) ইয়াযীদ বিন আবু হাবীবের বরাতে। আর এটি "যাঈফাহ"তে উদ্ধৃত হয়েছে (২৬৫২)।
আর ইমাম আহমাদ যা বর্ণনা করেছেন স্বীয় ছেলে কর্তৃক সংকলিত তার থেকে বর্ণনাকৃত মাসায়েল গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৭১) ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি মহিলাদেরকে ছলাতে চারজানু হয়ে বসতে বলতেন। এর সনদ ছহীহ নয়। কারণ এর বর্ণনা সূত্রের ভিতর আব্দুল্লাহ ইবনুল উমরী নামক রাবী যাঈফ বা দুর্বল।
পক্ষান্তরে ইমাম বুখারী "আত্তারীখুছ ছগীর" গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৯৫) ছহীহ সনদে উন্মুদ্দার-দা' থেকে বর্ণনা করেছেন- আন্নাহা- কা-নাত তাজ্বলিসু ফী সলা-তিহা- জালসাতার রাজুলিন অকা-নাত ফক্বীহাতান তিনি (উন্মুদ্দারদা') ছলাতে পুরুষদের বসার মতই বসতেন, অথচ তিনি ফক্বীহাহ্ অর্থাৎ ধর্মজ্ঞানের অধিকারিণী ছিলেন।
০০০ ০০০ ০০০
তাকবীর থেকে তাসলীম পর্যন্ত নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছালাত আদায় পদ্ধতি ও বিবরণীর এতটুকুই সংকলন করা আমার জন্য সহজসাধ্য হল। আল্লাহর নিকট আশাবাদী তিনি যেন একে তাঁর সম্মানিত চেহারার (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে খাঁটি করে নেন, এবং তাঁর দয়ালু নাবীর সুন্নাহর প্রতি দিক নির্দেশক করে দেন।
📄 সমাপ্তির দু‘আ
সুবহানাকাল্লাহুম্মা অবিহামদিহী, অ সুবহানাকাল্লাহুম্মা অবিহামদিকা, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা, আস্তাগফিরুকা অ আতূবু ইলাইকা *
আল্লাহুম্মা ছল্লি 'আলা- মুহাম্মাদিন অ 'আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন, অ বা-রিক 'আলা- মুহাম্মাদিন অ 'আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- সল্লাইতা অ বা-রাকতা 'আলা- ইবরা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদুন *