📄 সালাম ফিরার পূর্বে দু‘আ পাঠ এবং এর প্রকার ভেদ
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছলাতের ভিতর (৫) বিভিন্ন দু'আ পাঠ করতেন। কখনো এটি, কখনো ওটি, কখনো অন্যটি। আর নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুছল্লী ব্যক্তিকে তার নির্বাচিত দু'আ পাঠের নির্দেশও দিয়েছেন। (১) এই সেই দু'আগুলোঃ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিকা মিন 'আযা-বিল ক্বাবরি অ আ'ঊযু বিকা মিন ফিত্নাতিিল মাসীহিিদ দাজ্জা-লি অ আ'ঊযু বিকা মিন ফitনাতিল মাহ্ইয়া- অল মামা-তি আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিকা মিনাল মা'ছামি অল মাগরামি
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। মাসীহুদ দাজ্জালের ফিৎনাহ থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। জীবন মরণের ফিৎনাহ থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! মা'ছাম (২) (যার কারণে মানুষ পাপে লিপ্ত হয়) ও মাগরাম (১) অর্থাৎ ঋণ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিকা মিন শাররি মা- 'আমিলতু, অ মিন শাররি মা- লাম আ'mal (বা'দু ) )
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি তার অনিষ্ট থেকে যা করেছি (২) এবং যা [এখনো] করিনি তার অনিষ্ট থেকেও। (৩)
আল্লাহুম্মা হা-সিবনী হিসা-বাম ইয়াসীরা-" অর্থঃ হে আল্লাহ! অতি সহজভাবে আমার হিসাব নিও। (৪)
আল্লাহুম্মা বি'ইলমিকাল গাইবা, অক্বুদরাতিকা 'আলাল খালক্বি, আহ্য়িনী মা- 'আলিমতুল হায়া-তা খাইরাল লী, অতাওয়াফ্ফানী ইযা- কা-নatil অওফা-তু খাইরাল লী আল্লাহুম্মা আসআলুকা খাশইয়াতাকা ফিল গাইবি অশ শাহা-দাতি, অ আসআলুকা কালিমাতাল হাক্বি (অফী রিওয়ায়াতিন : আল হাকামু) অল 'আদলি ফিল গাযাবি অর রিযা-, অ আসআলুকাল ক্বসদা ফিল ফাক্বরি অল গিনা-, অ আসআলুকা না'ঈমান লা- ইয়াবীদ, অ আসআলুকা ক্বুর্রাতা 'আইনিন (লা-তানফাদ, অ লা- তানক্বতি'উ, অ আসআলুকর রিযা- বা'দাল ক্বাযা-ই, অ আসআলুকা বারদাল 'আইশি বা'দাল মাওতি, অ আসআলুকা লায্যাতান নাযারি ইলা- ওয়াজহিকা, অ (আসআলুকাস শাওক্বা ইলা- লিক্ব-ইকা ফী গাইরি যার্রা-ইন মুযিররাতিন, অ লা- ফিতনাতিন মুযিল্ললাতিন, আল্লাহুম্মা যাইয়্যিন্না- বিযীনাতিল ঈমা-নি, অজ'আলনা- হুদা-তাম মুহতাদীন
অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার গায়েব জানা ও মাখলুকের উপর ক্ষমতা থাকার অসীলায়, যে পর্যন্ত আমার জীবিত থাকা আমার জন্য ভাল মনে কর সে পর্যন্ত আমাকে হায়াত দান কর। আর আমার জন্য যখন মরণ ভাল মনে কর তখন আমাকে মৃত্যুদান কর। হে আল্লাহ! দৃশ্যমান ও অদৃশ্যের বিষয়ে তোমার ভীতি (আল্লাহভীরুতা) চাই। আরো চাই তোমার নিকট উচিত (সত্য) কথা (অন্য বর্ণনা মতে ফায়সালার কথা) এবং ক্রোধ ও সন্তুষ্টাবস্থায় ন্যায়পরায়ণতা। চাই ধনাঢ্যতা ও দারিদ্রের মধ্যমাবস্থা। আর তোমার নিকট, স্থায়ী নিআমত চাই, তোমার নিকট চক্ষুশীতলকারী এমন জিনিস চাই যা নিঃশেষ নিবৃত্ত হবার নয়, তোমার ফায়সালা করার পর তাতে তোমার সন্তুষ্টি চাই। মৃত্যুর পর আরামদায়ক স্থায়ী জীবন চাই। তোমার চেহারা মুবারক দর্শনের স্বাদ আস্বাদন করতে চাই। তোমার সাক্ষাতের প্রতি আকর্ষণ চাই কোন রূপ ক্ষতিকর রোগ-ব্যাধি ও ভ্রষ্টকারী ফিৎনাহ ব্যতীত। হে আমাদের রব! ঈমানের অলঙ্কার দ্বারা আমাদেরকে অলংকৃত কর এবং আমাদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্ত হিদায়াত দানকারী বানাও। (১)
টিকাঃ
(৫) ছলাতের ভিতর বলেছি- "তাশাহহুদে" বলিনি কারণ মূল হাদীছে এরূপই আছে-=="তার ছলাতে” যা তাশাহহুদ ও অন্য কোন অবস্থাকে নির্দিষ্ট করছেনা। বরং এটা দু'আ যোগ্য সকল অবস্থাকেই আওতাভুক্ত করছে যেমন সাজদাহ ও তাশাহহুদ, এ দু'অবস্থায় দু'আর নির্দেশ এসেছে যেমন ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(১) বুখারী ও মুসলিম। আছরাম বলেছেন: আমি আহমাদ (রহঃ)-কে বললাম, তাশাহহুদের পর কিসের মাধ্যমে দু'আ করবো? তিনি বললেন, যেভাবে হাদীছে এসেছে। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি কি বলেননি? সুম্মা লিইয়াতাখাইয়্যার মিনাদ দু'আ-ই মা- শা-আ অতঃপর দু'আ থেকে যা ইচ্ছা নির্বাচন করে পাঠ করবে? তিনি বললেন, খবরে (হাদীছে) যে সব দু'আ এসেছে সেগুলো থেকে পছন্দ মত পাঠ করবে। পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে বলেছিলেন, "যা হাদীছে এসেছে"। একথা সংকলন করেছেন ইবনু তাইমিয়াহ (রহঃ)। আমি তার হস্তলিখা থেকে সংকলন করেছি "মাজমূ ফাতাওয়া" (৬৯/২১৮/১)। আর তিনি এটাকে শ্রেয় বলে গণ্য করেছেন। তিনি বলেছেন যে, উপরোক্ত হাদীছে আদদু'আ- শব্দের লা-ম অব্যয়টির নির্দেশ এই যে, ঐ সকল দু'আ যা আল্লাহ পছন্দ করেন, সব জাতীয় দু'আ নয়। তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত। অতঃপর তিনি বলেছেন: শরীয়ত ও সুন্নত সম্মত ছাড়া অন্য দু'আ না বলাই অধিক শ্রেয়। অর্থাৎ ওগুলো বলা যা হাদীছে বর্ণিত হয়েছে ও যা উপকারী। আমার (আলবানীর) কথা তাই যা তিনি (আহমাদ) বলেছেন। তবে উপকারী দু'আ কোন্টি তা জানা নির্ভর করে ছহীহ ইলমের উপর, আর এর অধিকারী তো অল্পই। অতএব সবচেয়ে উত্তম হলো- বর্ণিত দু'আর প্রতি ক্ষান্ত থাকা। বিশেষভাবে ঐ দু'আগুলো যেগুলো দু'আকারীর উদ্দেশ্য সম্বলিত। আল্লাহই অধিক জ্ঞানী।
(২) এমন বিষয় যার কারণে মানুষ পাপী হয়। অথবা স্বয়ং পাপকর্ম, এ ক্ষেত্রে ইসমুন মিন মাসদার এর স্থলাভিষিক্ত ধরা হবে। অনুরূপভাবে আলমাগরাম শব্দটিও, এর মাধ্যমে ঋণ উদ্দেশ্য ==করা হয়েছে। এর দলীল হাদীছের পূর্ণাঙ্গ অংশ, আইশাহ (রাযিঃ) বলেছিলেন, হে আল্লাহর রসূল! কত বেশী পরিমাণ আপনি মাগরাম (ঋণ) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছেন। তিনি বললেন: লোক যখন ঋণী হয় তখন কথা বললে মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।
(২) অর্থাৎ যা পাপ কাজ করেছি তার অনিষ্টতা থেকে এবং সৎ কাজ না করার অনিষ্টতা থেকে ও সব সৎ কাজ পরিত্যাগের অনিষ্টতা থেকে।
(৩) নাসাঈ- ছহীহ সনদে ও ইবনু আবী আছিম "আসসুন্নাহ” কিতাবে, ৩৭০ আমার তাহক্বীক, বর্ধিত (ব্রাকেটের) অংশ তারই বর্ণনা থেকে।
(৪) আহমাদ ও হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ্ আখ্যা দিয়েছেন ও যাহাবী তার সমর্থন করেছেন।