📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 তাশাহহুদে নবী (ﷺ) এর প্রতি ছালাত পাঠ ওয়াজিব

📄 তাশাহহুদে নবী (ﷺ) এর প্রতি ছালাত পাঠ ওয়াজিব


নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে ছলাতের ভিতর (৫) (তাশাহ্হুদে) আল্লাহর মহিমাকীর্তন ও নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ছালাত পাঠ না করতে শুনে বলেছিলেন: "এ ব্যক্তি তাড়াহুড়া করলো"। অতঃপর তাকে ডেকে তার ও অন্যান্যদের উদ্দেশে বললেনঃ
"ইযা- ছাল্লা- আহাদুকুম ফালইয়াবদা' বিতাহমীদ রাব্বিহী জাল্লা অ'আযযা, অস্সানা-ই 'আলাইহি সুম্মা ইউছল্লী (অফী রিওয়ায়াতিন : লিইউছল্লি 'আলান্নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা সুম্মা ইয়াদ'ঊ বিমা- যা-আ"
তোমাদের কেউ ছালাত আদায় করলে প্রথমে যেন আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করে অতঃপর নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ছালাত পাঠ করে। অতঃপর যা ইচ্ছা দু'আ করবে। (১)
«সামি'আ রাজুলান ইউছল্লী ফামাজ্জাদাল্লাহা অ হামিদাহু অ ছল্লা- 'আলান্নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ফাক্বা-লা রাসূ-লুল্লাহি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা উদ'উ তুজ্বাব, অ সাল তু'ত্বা- »
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছালাতরত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে আল্লাহ্র মহিমাকীর্তন ও প্রশংসা এবং নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ছালাত পাঠ করতে শুনার পর বললেন- দু'আ কর কবুল হবে, চাও প্রদত্ত হবে। (২)

টিকাঃ
(৫) ছলাতের ভিতর বলেছি- "তাশাহহুদে" বলিনি কারণ মূল হাদীছে এরূপই আছে-=="তার ছলাতে” যা তাশাহহুদ ও অন্য কোন অবস্থাকে নির্দিষ্ট করছেনা। বরং এটা দু'আ যোগ্য সকল অবস্থাকেই আওতাভুক্ত করছে যেমন সাজদাহ ও তাশাহহুদ, এ দু'অবস্থায় দু'আর নির্দেশ এসেছে যেমন ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(১) আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ (১/৮৩/২) এবং হাকিম বর্ণনা করে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী এর সমর্থন করেছেন। জেনে রাখুন এ হাদীছ এ মর্মে নির্দেশ করছে যে, এ তাশাহহুদে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ছলাত পাঠ করা ওয়াজিব। কারণ এর জন্য নির্দেশ এসেছে। আর ওয়াজিব হওয়ার পক্ষে গেছেন ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ- তার দুটি বর্ণনার শেষটি অনুসারে। এ দু'জনের পূর্বে ছাহাবাহ ও অন্যান্য বিদ্বানগণের একটি দলও এ পক্ষেই মত ব্যক্ত করেছেন। আ-জুররী (রহঃ) তার "আশশারীআহ” গ্রন্থে (৪১৫) বলেছেন: "শেষ তাশাহহুদে যে ব্যক্তি নবীর প্রতি ছালাত পাঠ করবেনা তাঁর উপর ছলাত দোহরানো ওয়াজিব।" অতএব যে ব্যক্তি ওয়াজিব বলার কারণে ইমাম শাফিঈকে শায বা ব্যতিক্রমী (রীতি বিরুদ্ধ) বলে প্রতিপন্ন করেছে সে ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শন করেনি। যেমনটি ফক্বীহ হায়ছামী বর্ণনা করেছেন স্বীয় গ্রন্থ আদ্দুরুল মানন্দ ফিছু ছলাতি অস্সালামি 'আলা ছাহিবিল মাক্বামিল মাহমূদ (১৩-১৬)।
(2) নাসাঈ, ছহীহ সনদে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 দু‘আর পূর্বে চার বিষয়বস্তু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গ

📄 দু‘আর পূর্বে চার বিষয়বস্তু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গ


নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ "ইযা- ফারাগা আহাদুকুম মিনাত্ তাশাহ্হুদি (আল আ-খিরি) ফালইয়াসতা'ইয বিল্লাহি মিন আরবা'ইন (ইয়াক্বূলু: আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিকা মিন 'আযা-বি জাহান্নামা অ মিন 'আযা-বিল ক্বাবরি অ মিন ফিত্নাতিিল মাহ্ইয়া- অল মামা-তি অ মিন শাররি (ফিত্নাতিি) আল মাসীহিিদ দাজ্জা-লি (সুম্মা ইয়াদ'ঊ লি নাফসিহী বিমা- বাদাআ লাহু )"
তোমাদের কেউ যখন তাশাহহুদ (শেষেরটি) সমাপ্ত করে সে যেন চার বিষয়বস্তু থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে। বলবে : হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন মরণের বিপর্যয় থেকে, মাসীহুদ্দজ্জালের ফিৎনাহর অনিষ্ট থেকে। অতঃপর নিজের জন্য যা ইচ্ছা দু'আ করবে। (২)
কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইয়াদ'ঊ বিহী ফী তাশাহ্হুদিহী
আরো এসেছে যে, নবী ছাল্লাল্লাহু •আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত দু'আ পাঠ করতেন তাশাহহুদে। (৩) আরো এসেছে- (কান্না ইউ'আল্লিমুহূছ ছাহা-বাতা রাযিআল্লাহু 'আনহুম কামা- ইউ'আল্লিমুহুমুস সূরাতা মিনাল কুরআ-ন )
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ছাহাবাগণকে এমনভাবে এটা শিক্ষা দিতেন যেমনভাবে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। (৪)

টিকাঃ
(২) মুসলিম, আবূ আওয়ানাহ, নাসাঈ, ইবনুল জারুদ "আল-মুন্তাক্বা" গ্রন্থে (২৭), আর এটা ইরওয়াতেও সংকলিত হয়েছে (৩৫০)।
(৩) আবূ দাউদ, আহমাদ; ছহীহ সনদে।
(৪) মুসলিম ও আবূ আওয়ানাহ।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সালাম ফিরার পূর্বে দু‘আ পাঠ এবং এর প্রকার ভেদ

📄 সালাম ফিরার পূর্বে দু‘আ পাঠ এবং এর প্রকার ভেদ


নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছলাতের ভিতর (৫) বিভিন্ন দু'আ পাঠ করতেন। কখনো এটি, কখনো ওটি, কখনো অন্যটি। আর নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুছল্লী ব্যক্তিকে তার নির্বাচিত দু'আ পাঠের নির্দেশও দিয়েছেন। (১) এই সেই দু'আগুলোঃ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিকা মিন 'আযা-বিল ক্বাবরি অ আ'ঊযু বিকা মিন ফিত্নাতিিল মাসীহিিদ দাজ্জা-লি অ আ'ঊযু বিকা মিন ফitনাতিল মাহ্ইয়া- অল মামা-তি আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিকা মিনাল মা'ছামি অল মাগরামি
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। মাসীহুদ দাজ্জালের ফিৎনাহ থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। জীবন মরণের ফিৎনাহ থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! মা'ছাম (২) (যার কারণে মানুষ পাপে লিপ্ত হয়) ও মাগরাম (১) অর্থাৎ ঋণ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিকা মিন শাররি মা- 'আমিলতু, অ মিন শাররি মা- লাম আ'mal (বা'দু ) )
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি তার অনিষ্ট থেকে যা করেছি (২) এবং যা [এখনো] করিনি তার অনিষ্ট থেকেও। (৩)
আল্লাহুম্মা হা-সিবনী হিসা-বাম ইয়াসীরা-" অর্থঃ হে আল্লাহ! অতি সহজভাবে আমার হিসাব নিও। (৪)
আল্লাহুম্মা বি'ইলমিকাল গাইবা, অক্বুদরাতিকা 'আলাল খালক্বি, আহ্য়িনী মা- 'আলিমতুল হায়া-তা খাইরাল লী, অতাওয়াফ্ফানী ইযা- কা-নatil অওফা-তু খাইরাল লী আল্লাহুম্মা আসআলুকা খাশইয়াতাকা ফিল গাইবি অশ শাহা-দাতি, অ আসআলুকা কালিমাতাল হাক্বি (অফী রিওয়ায়াতিন : আল হাকামু) অল 'আদলি ফিল গাযাবি অর রিযা-, অ আসআলুকাল ক্বসদা ফিল ফাক্বরি অল গিনা-, অ আসআলুকা না'ঈমান লা- ইয়াবীদ, অ আসআলুকা ক্বুর্রাতা 'আইনিন (লা-তানফাদ, অ লা- তানক্বতি'উ, অ আসআলুকর রিযা- বা'দাল ক্বাযা-ই, অ আসআলুকা বারদাল 'আইশি বা'দাল মাওতি, অ আসআলুকা লায্যাতান নাযারি ইলা- ওয়াজহিকা, অ (আসআলুকাস শাওক্বা ইলা- লিক্ব-ইকা ফী গাইরি যার্রা-ইন মুযিররাতিন, অ লা- ফিতনাতিন মুযিল্ললাতিন, আল্লাহুম্মা যাইয়্যিন্না- বিযীনাতিল ঈমা-নি, অজ'আলনা- হুদা-তাম মুহতাদীন
অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার গায়েব জানা ও মাখলুকের উপর ক্ষমতা থাকার অসীলায়, যে পর্যন্ত আমার জীবিত থাকা আমার জন্য ভাল মনে কর সে পর্যন্ত আমাকে হায়াত দান কর। আর আমার জন্য যখন মরণ ভাল মনে কর তখন আমাকে মৃত্যুদান কর। হে আল্লাহ! দৃশ্যমান ও অদৃশ্যের বিষয়ে তোমার ভীতি (আল্লাহভীরুতা) চাই। আরো চাই তোমার নিকট উচিত (সত্য) কথা (অন্য বর্ণনা মতে ফায়সালার কথা) এবং ক্রোধ ও সন্তুষ্টাবস্থায় ন্যায়পরায়ণতা। চাই ধনাঢ্যতা ও দারিদ্রের মধ্যমাবস্থা। আর তোমার নিকট, স্থায়ী নিআমত চাই, তোমার নিকট চক্ষুশীতলকারী এমন জিনিস চাই যা নিঃশেষ নিবৃত্ত হবার নয়, তোমার ফায়সালা করার পর তাতে তোমার সন্তুষ্টি চাই। মৃত্যুর পর আরামদায়ক স্থায়ী জীবন চাই। তোমার চেহারা মুবারক দর্শনের স্বাদ আস্বাদন করতে চাই। তোমার সাক্ষাতের প্রতি আকর্ষণ চাই কোন রূপ ক্ষতিকর রোগ-ব্যাধি ও ভ্রষ্টকারী ফিৎনাহ ব্যতীত। হে আমাদের রব! ঈমানের অলঙ্কার দ্বারা আমাদেরকে অলংকৃত কর এবং আমাদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্ত হিদায়াত দানকারী বানাও। (১)

টিকাঃ
(৫) ছলাতের ভিতর বলেছি- "তাশাহহুদে" বলিনি কারণ মূল হাদীছে এরূপই আছে-=="তার ছলাতে” যা তাশাহহুদ ও অন্য কোন অবস্থাকে নির্দিষ্ট করছেনা। বরং এটা দু'আ যোগ্য সকল অবস্থাকেই আওতাভুক্ত করছে যেমন সাজদাহ ও তাশাহহুদ, এ দু'অবস্থায় দু'আর নির্দেশ এসেছে যেমন ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(১) বুখারী ও মুসলিম। আছরাম বলেছেন: আমি আহমাদ (রহঃ)-কে বললাম, তাশাহহুদের পর কিসের মাধ্যমে দু'আ করবো? তিনি বললেন, যেভাবে হাদীছে এসেছে। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি কি বলেননি? সুম্মা লিইয়াতাখাইয়্যার মিনাদ দু'আ-ই মা- শা-আ অতঃপর দু'আ থেকে যা ইচ্ছা নির্বাচন করে পাঠ করবে? তিনি বললেন, খবরে (হাদীছে) যে সব দু'আ এসেছে সেগুলো থেকে পছন্দ মত পাঠ করবে। পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে বলেছিলেন, "যা হাদীছে এসেছে"। একথা সংকলন করেছেন ইবনু তাইমিয়াহ (রহঃ)। আমি তার হস্তলিখা থেকে সংকলন করেছি "মাজমূ ফাতাওয়া" (৬৯/২১৮/১)। আর তিনি এটাকে শ্রেয় বলে গণ্য করেছেন। তিনি বলেছেন যে, উপরোক্ত হাদীছে আদদু'আ- শব্দের লা-ম অব্যয়টির নির্দেশ এই যে, ঐ সকল দু'আ যা আল্লাহ পছন্দ করেন, সব জাতীয় দু'আ নয়। তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত। অতঃপর তিনি বলেছেন: শরীয়ত ও সুন্নত সম্মত ছাড়া অন্য দু'আ না বলাই অধিক শ্রেয়। অর্থাৎ ওগুলো বলা যা হাদীছে বর্ণিত হয়েছে ও যা উপকারী। আমার (আলবানীর) কথা তাই যা তিনি (আহমাদ) বলেছেন। তবে উপকারী দু'আ কোন্টি তা জানা নির্ভর করে ছহীহ ইলমের উপর, আর এর অধিকারী তো অল্পই। অতএব সবচেয়ে উত্তম হলো- বর্ণিত দু'আর প্রতি ক্ষান্ত থাকা। বিশেষভাবে ঐ দু'আগুলো যেগুলো দু'আকারীর উদ্দেশ্য সম্বলিত। আল্লাহই অধিক জ্ঞানী।
(২) এমন বিষয় যার কারণে মানুষ পাপী হয়। অথবা স্বয়ং পাপকর্ম, এ ক্ষেত্রে ইসমুন মিন মাসদার এর স্থলাভিষিক্ত ধরা হবে। অনুরূপভাবে আলমাগরাম শব্দটিও, এর মাধ্যমে ঋণ উদ্দেশ্য ==করা হয়েছে। এর দলীল হাদীছের পূর্ণাঙ্গ অংশ, আইশাহ (রাযিঃ) বলেছিলেন, হে আল্লাহর রসূল! কত বেশী পরিমাণ আপনি মাগরাম (ঋণ) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছেন। তিনি বললেন: লোক যখন ঋণী হয় তখন কথা বললে মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।
(২) অর্থাৎ যা পাপ কাজ করেছি তার অনিষ্টতা থেকে এবং সৎ কাজ না করার অনিষ্টতা থেকে ও সব সৎ কাজ পরিত্যাগের অনিষ্টতা থেকে।
(৩) নাসাঈ- ছহীহ সনদে ও ইবনু আবী আছিম "আসসুন্নাহ” কিতাবে, ৩৭০ আমার তাহক্বীক, বর্ধিত (ব্রাকেটের) অংশ তারই বর্ণনা থেকে।
(৪) আহমাদ ও হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ্ আখ্যা দিয়েছেন ও যাহাবী তার সমর্থন করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00