📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 বিতরে কুনূত

📄 বিতরে কুনূত


কখনো কখনো (৩) "নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিত্র অর্থাৎ বেজোড় রাক্'আত বিশিষ্ট ছলাতে কুনূত করতেন।” (১) আর "তা করতেন রুকূ'র পূর্বে”। (২)
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান বিন আলী (রাযিঃ)-কে বিত্রের কিরা'আত শেষ করে এ দু'আটি বলতে শিখিয়েছিলেনঃ আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা, অ'আ-ফিনী ফীমান 'আ-ফাইতা, অতাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা, অবা-রিকলী ফীমা- আ'ত্বাইতা, অক্বিনী শাররা মা- ক্বাযাইতা, (ফা) ইন্নাকা তাক্বযী অলা- ইয়ুক্বা- 'আলাইকা, (অ) ইন্নাহু লা- ইয়াযিল্লু মান ওয়া-লাইতা, অলা- ইয়া'ইযযু মান 'আ-দাইতা) তাবারাকতা রাব্বানা- অতা'আ-লাইতা (লা-মানজা- মিনকা ইল্লা- ইলাইকা ) )
আল্লা-হুম্মাদিনী ফীমান' হাদাইতা ওয়া'আ-ফিনী ফীমান 'আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান্ তাওয়াল্লাইতা ওয়া বা- রিকলী ফী-মা আ'ত্বাইতা ওয়া ক্বিনী শাররা মা- ক্বাযাইতা, ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা- ইউকযা- 'আলাইকা ইন্নাহু লা- ইয়াযিলু মাউওয়া-লাইতা ওয়ালা- ইয়া'ইয্যু মান 'আ-দাইতা (১) তাবা-রাকতা রাব্বানা- ওয়া তা'আ-লাইতা, লা-মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। (২)
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক পথ দেখিয়ে তাদের অন্তর্গত করো যাদের তুমি হেদায়াত করেছ, আমাকে নিরাপদে রেখে তাদের মধ্যে শামিল করো যাদের তুমি নিরাপদে রেখেছ। তুমি আমার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে তাদের মধ্যে শামিল কর যাদের তুমি অভিভাবক হয়েছ। তুমি আমাকে যা দান করেছ তার মধ্যে বরকত দাও। তুমি আমাকে সেই অনিষ্ট থেকে রক্ষা কর যা তুমি নির্ধারণ করেছ, কারণ তুমি ফয়সালাকারী এবং তোমার উপর কারো ফয়সালা কার্যকর হয় না, তুমি যার সাথে মিত্রতা পোষণ কর তাকে কেউ লাঞ্ছিত করতে পারে না। [ আর যার সাথে শত্রুতা পোষণ কর সে কখনো সম্মানী হতে পারে না। ] হে আমাদের রব! তুমি খুবই বরকতময়, সুউচ্চ ও সুমহান। তোমার থেকে পরিত্রাণের স্থল কেবল তোমার নিকটেই রয়েছে।

টিকাঃ
(৩) আমরা এজন্য "কখনো কখনো” করতেন বলেছি কারণ যে সমস্ত ছাহাবা বিতর সম্পর্কীয় হাদীছগুলো বর্ণনা করেছেন তারা এর ভিতর কুনূত উল্লেখ করেননি। যদি নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা (বিতরে) কুনূত করতেন তাহলে সকলে তাঁর থেকে এটা সংকলন করতেন। হ্যাঁ তবে বিতরে কুনূত করার কথা উবাই বিন কা'ব নামক একজন ছাহাবী নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এ থেকে আরো প্রমাণিত হয় যে, কখনো কখনো তিনি তা করতেন। এ থেকে আরো প্রমাণিত হয় যে, বিতরে কুনূত করা ওয়াজিব নয়। এটাই সিংহভাগ (অধিকাংশ) আলিমের মাযহাব। এজন্য (হানাফী মাযহাবের) গবেষক আলিম ইবনুল হুমাম তার ফাতহুল কাদীর গ্রন্থে স্বীকার করে বলেছেন (১/৩০৬, ৩৫৯, ৩৬০ পৃঃ) বিতরে কুনূত করা ওয়াজিব বলে যে মতটি রয়েছে তা অত্যন্ত দুর্বল যার পক্ষে কোন (ছহীহ) দলীল সাব্যস্ত হয়নি। নিঃসন্দেহে তাঁর এ স্বীকৃতি তাঁর ন্যায়পরায়ণতা ও গোঁড়ামি বর্জনের প্রমাণ বহনকারী। কারণ যে কথাকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন তা হচ্ছে তাঁর মাযহাবের বিপরীত।
(১) ইবনু আবী শাইবাহ (১২/৪১/১), আবু দাউদ, নাসাঈ "আসসুনানুল কুবরা”তে (ক্বাফ ২১৮/১-২), আহমাদ, ত্বাবারানী, বাইহাকী ও "ইবনু আসাকির (৪/২৪৪/২) ছহীহ সনদে, আর তাঁর থেকে ইবনু মানদাহ স্বীয় "আত্তাওহীদ” গ্রন্থে (৭০/২) শুধু দু'আ উদ্ধৃত করেছেন অন্য একটি হাসান সনদে, আর এটি ইরওয়াতেও উদ্ধৃত হয়েছে। (৪২৬)
জ্ঞাতব্য: নাসাঈ কুনূতের শেষে এই বর্ধিত অংশ উল্লেখ করেছেন: ছল্লাল্লাহু 'আলান্নাবীয়্যিল উম্মী আল্লাহ ছলাত বর্ষণ করুন নিরক্ষর নবীর উপর। এর সনদ যঈফ। একে যঈফ বলেছেন হাফিয ইবনু হাজার, ক্বাসত্বলানী, যুরক্বানী ও অন্যান্যগণ। এজন্যই বর্ধিত অংশাবলী একত্রিত করার ক্ষেত্রে আমাদের রীতি অনুযায়ী এখানে তা উল্লেখ করলাম না বরং বই এর ভূমিকায় উল্লেখিত আমাদের শর্তসাপেক্ষে তা উল্লেখ করা থেকে ক্ষান্ত থাকলাম।
ইয্য বিন আব্দুস সালাম তার "আল ফাতাওয়া" গ্রন্থে বলেছেন (১/৬৬, বর্ষ ১৯৬২) "কুনূতে রাছুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ছলাত পাঠ ছহীহ সূত্রে সাব্যস্ত হয়নি এবং রাছুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ছলাত পাঠের অতিরিক্ত কিছু পাঠ করা উচিত নয়।" তাঁর এ বক্তব্য দ্বারা এটাই ইঙ্গিত করেছেন যে, বিদআতে হাসানা বলার অবকাশ সৃষ্টি করা যাবে না। যেমন বর্তমান যুগের কিছু লোক বলে থাকে।
শাইখ আলবানী বলেন, পরবর্তীতে যা উদঘাটন করেছি তা হলো এই যে, রামাযানের ক্বিয়ামুল্লাইলে উবাই বিন কা'ব (রাযিঃ)-এর ইমামতের হাদীছে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি কুনূতের শেষে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ছলাত পাঠ করতেন। আর তা ছিল উমার (রাযিঃ)-এর যুগে।
এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন ইবনু খুযাইমাহ তার "ছহীহ” গ্রন্থে (১০৯৭)। অনুরূপ বিষয় সাব্যস্ত হয়েছে আবূ হালীমাহ মুআয আল-আনছারীর হাদীছেও। তিনিও তাঁর (উমারের) যুগে লোকদের ইমামতি করতেন। এটি বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল কাযী (হাদীস নং ১০৭) ও অন্যান্যগণ। অতএব, সালাফগণের আমলের দরুণ এ বর্ধিত অংশটুকু শরীয়ত সম্মত। সুতরাং সাধারণভাবে এ বর্ধিত অংশ বলাকে বিদ'আত বলা সমীচীন হবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(১) এ বর্ধিত অংশটুকু হাদীছে সাব্যস্ত হয়েছে। যেমনটি বলেছেন, হাফিয (ইবনু হাজার) তার "তালখীছ" গ্রন্থে। আমি এটি তদন্ত করে সাব্যস্ত করেছি "মূল গ্রন্থে"। এ তথ্য ইমাম নব্বীর জ্ঞানগোচর হয়নি যার ফলে তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তার "রাওযাতুত্ ত্বা-লিবীন” গ্রন্থে (১/২৫৩ পৃঃ ইসলামী লাইব্রেরী ছাপা) স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, এ অংশটুকু আলিমগণের পক্ষ থেকে বৃদ্ধিকৃত। যেমন তারা বৃদ্ধি করেছেন ফালাকাল হামদু 'আলা- মা- ক্বাযাইতা আস্তাগফিরুকা অ আতূবু ইলাইকা আপনার প্রশংসা করি এবং আপনার নিকট ক্ষমা চাই ও তাওবাহ করি। বড় আশ্চর্যের বিষয় এই যে, কয়েক লাইনের পরেই তিনি বলেছেন: কাযী আবৃত্ ত্বইয়িব কর্তৃক অলা- ইয়া'ইয্যু মান 'আ-দাইতা অস্বীকার করায় ঐক্যবদ্ধভাবে সকলে তার প্রতি কঠোরতা পোষণ করেছেন। অথচ বাইহাকীর বর্ণনাতে এ অংশটুকু এসেছে। আল্লাহই অধিক জ্ঞানী।
(২) ইবনু খুযাইমাহ (১/১১৯/২) অনুরূপভাবে ইবুন আবী শাইবাহ্ এবং যাদেরকে তার সাথে পূর্ববর্তী উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 নবী (ﷺ)

📄 নবী (ﷺ)


নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে এই দু'আ বলতে শিখিয়েছিলেন:
আল্লাহুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাসীরান অলা- ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা- আনতা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন 'ইনদিকা অরহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম
হে আল্লাহ! আমি নিজের উপর অনেক অত্যাচার করেছি, আর কেউ পাপরাশি মোচন করতে পারবে না একমাত্র তুমি ছাড়া। অতএব আমাকে ক্ষমা কর, ক্ষমা তোমার নিকটেই রয়েছে। আর আমাকে রহম কর, নিশ্চয় তুমি অতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। (২)

টিকাঃ
(২) মুসলিম, আবূ আওয়ানাহ, নাসাঈ, ইবনুল জারুদ "আল-মুন্তাক্বা" গ্রন্থে (২৭), আর এটা ইরওয়াতেও সংকলিত হয়েছে (৩৫০)।
(৩) আবূ দাউদ, আহমাদ; ছহীহ সনদে।
(৪) মুসলিম ও আবূ আওয়ানাহ।
(৫) ছলাতের ভিতর বলেছি- "তাশাহহুদে" বলিনি কারণ মূল হাদীছে এরূপই আছে-=="তার ছলাতে” যা তাশাহহুদ ও অন্য কোন অবস্থাকে নির্দিষ্ট করছেনা। বরং এটা দু'আ যোগ্য সকল অবস্থাকেই আওতাভুক্ত করছে যেমন সাজদাহ ও তাশাহহুদ, এ দু'অবস্থায় দু'আর নির্দেশ এসেছে যেমন ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 আবূ বাক্র (রাঃ) কে এই দু‘আ বলতে শিখিয়েছিলেন

📄 আবূ বাক্র (রাঃ) কে এই দু‘আ বলতে শিখিয়েছিলেন


আল্লাহুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাসীরান অলা- ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা- আনতা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন 'ইনদিকা অরহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম
হে আল্লাহ! আমি নিজের উপর অনেক অত্যাচার করেছি, আর কেউ পাপরাশি মোচন করতে পারবে না একমাত্র তুমি ছাড়া। অতএব আমাকে ক্ষমা কর, ক্ষমা তোমার নিকটেই রয়েছে। আর আমাকে রহম কর, নিশ্চয় তুমি অতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। (২)

টিকাঃ
(১) নাসাঈ, হাকিম বর্ণনা করে ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন এবং যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(২) বুখারী ও মুসলিম। [দু'আ মাছুর সম্বন্ধে দু'টি তথ্য। (ক) এ দু'আটিকে আমাদের দেশের আলিম ও জনসাধারণ দু'আয়ে মা'ছুর বলে থাকে। মাছুর মাثور অর্থ বর্ণিত বা বর্ণনাকৃত। এ অর্থে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যত দু'আ বর্ণনা করা হয়েছে সবই মাছুর। নির্দিষ্টভাবে শুধু আল্লাহুম্মা ইন্নী যলামুনাফসী...... দু'আকে মাছুর বলা ভুল। বরং এ দু'আটি "দু'আয়ে সিদ্দীক্বী" নামে নামকরণ করা হলে সঙ্গত হতো।==

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সালাম ফিরানো

📄 সালাম ফিরানো


অতঃপর নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডানে সালাম প্রদান করতেন এ বলে- "আস্সালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ" (এ পরিমাণ মাথা ঘুরাতেন যে) তাঁর ডান গালের শুভ্রতা দেখা যেত, বাম দিকেও সালাম প্রদান করতেন- "আস্সালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ" (এ পরিমাণ মাথা ঘুরাতেন যে) তাঁর বাম গালের শুভ্রতা দেখা যেত। (১) কখনো কখনো প্রথম সালামে এটুকু বৃদ্ধি করতেনঃ "অবারাকাতুহ্" (২) আর ডানে "আস্সালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ" বললে বামে কখনো কখনো এটুকু বলে ক্ষান্ত হতেন "আস্সালামু আলাইকুম"। (৩) আবার কখনো কখনো একটিই সালাম প্রদান করতেন সম্মুখের দিকে ডান দিকে সামান্য একটু ধাবমান অবস্থায়। (৪)
ছাহাবাগণ ডানে বামে সালাম ফিরানোর সময় তাদের হাত দ্বারা ইঙ্গিত করতেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এরূপ করতে দেখে বলেছিলেনঃ (৫) মা- শা'নুকুম তুশীরূনা বিআইদীকুম কাআন্নাহা- আযনা-বু খাইলিওঁ শুমসিন? ইযা- সাল্লামা আহাদুকুম ফালইয়ালতাফিত ইলা- সা-হিবিহী অলা- ইউমি'উ বিয়াদিহী (ফাল্লামা- সল্লূ- মা'আহু আইযান লাম ইয়াফ'আলূ- যা-লিকা ) (অফী রিওয়ায়াতিন : ইন্নামা- ইয়াকফী আহাদাকুম আন ইয়াদা'আ ইয়াদাহু 'আলা- ফখিযিহী সুম্মা ইউসাল্লিমু 'আলা- আখীহি মিন 'আলা- ইয়ামীনীহী অশিমা-লিহী )
তোমাদের ব্যাপার কী, তোমরা তোমাদের হাত দ্বারা এভাবে ইঙ্গিত করছ যেন তা উশৃঙ্খল তেজস্বী ঘোড়ার লেজ? যখন তোমাদের কেউ সালাম ফিরাবে সে যেন তার সাথীর দিকে দৃষ্টিপাত করে, হাত দ্বারা ইঙ্গিত না করে।" এরপর যখন তারা নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছালাত আদায় করত তখন আর তারা তা করত না। অন্য বর্ণনায় এসেছে: তোমাদের যে কারো জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, সে তার উরুর উপর হাত রাখবে এবং ডানে বামে অবস্থিত তার ভাইকে সালাম প্রদান করবে। (১)
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অ তাহলীলুহাত তাসলিম আর ছলাতের হালালকারী অর্থাৎ ছলাতে হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বৈধকারী হলো সালাম প্রদান। (২)

টিকাঃ
(১) অনুরূপভাবে মুসলিম (৫৮২), আবূ দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী এটিকে বর্ণনা করে ছহীহ বলেছেন।
(২) আবূ দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ (১/৮৭/২) ছহীহ সনদে। আব্দুল হক এটিকে ছহীহ প্রমাণ করেছেন তার "আহকাম" গ্রন্থে (৫৬/২)। অনুরূপভাবে নব্বী ও হাফিয ইবনু হাজারও, আরো বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাযযাক তার মুছান্নাফ গ্রন্থে (২/২১৯), আবূ ই'য়ালা তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (৩/১২৫২), ত্ববরানী "কাবীর" গ্রন্থে (৩/৬৭/২), আওসাত্ব গ্রন্থে (১/২৬০০/২), দারাকুত্বনী অন্য সূত্রে।
(৩) নাসাঈ, আহমাদ ও সাররাজ ছহীহ সনদে।
(৪) ইবনু খুযাইমাহ, বাইহাকী, যিয়া-“মুস্তারাহ” গ্রন্থে, আব্দুল গনী মাকদিসী সুনান গ্রন্থে (২৪৩/১) ছহীহ সনদে, আহমাদ, ত্ববরানী "আউসাত্ব” গ্রন্থে, (৩২/২) যাওয়ায়েদুল মু'জামাইন থেকে, হাকিম বর্ণনা করে ছহীহ বলেছেন এবং যাহাবী ও ইবনুল মুলাকুকুিন (২৯/১) তার সমর্থন করেছেন। আর এটি ইরওয়া গ্রন্থে (৩২৭নং) হাদীছের আওতায় উদ্ধৃত হয়েছে।
(৫) শুমস শব্দটি শুমূস শব্দের বহুবচন, যার অর্থ তেজস্বিতা ও উগ্রতাসম্পন্ন ঐ চঞ্চল পশু যে স্থির থাকে না।
(১) মুসলিম, আবূ আওয়ানাহ, সাররাজ ও ইবনু খুযাইমাহ। জ্ঞাতব্য: ইবাযিয়াহরা (খারীজীদের একটি দল) এ হাদীছকে বিকৃত করেছে। তাদের মধ্যমণি (নেতা) তার অজ্ঞাত মুসনাদে এটিকে অন্য শব্দে বর্ণনা করেছেন। যাতে করে এটি দ্বারা তাকবীরের সাথে হাত উঠালে তাদের নিকট ছালাত বিনষ্ট হওয়ার পক্ষে দলীল গ্রহণ করতে পারে। তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সায়ইয়াবীও, তারও প্রতিবাদ করা হয়েছে ভূমিকায়। তাদের বর্ণিত শব্দ বাত্বিল। এর বিশদ বর্ণনা রয়েছে "যাঈফাহ” গ্রন্থে (৬০৪৪)।
(২) এটিকে হাকিম ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন এবং যাহাবী তার সমর্থন করেছেন। পূর্ণ হাদীছ ৮৬ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00