📄 তৃতীয় রাক্‘আতের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান অতঃপর চতুর্থ রাক্‘আতের উদ্দেশ্যে
অতঃপর (নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের প্রতি ছালাত পাঠান্তে) তাকবীর বলে তৃতীয় রাকআতের উদ্দেশ্যে দাঁড়াতেন। (২) আর ছলাতে ত্রুটিকারীকে এর নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন-
সুম্মা ইসনা' যা-লিকা ফী কুল্লি রাক'আতিন অ সাজদাতিন )
অতঃপর প্রত্যেক রাক্'আতে ও সাজদায় এরূপ করবে। যেমনটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আরো এসেছে কান আল্লাহু ইযা- ক্বা-মা মিনাল ক্বা'দাতি কাব্বারা সুম্মা ক্বা-মা তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বৈঠক থেকে উঠতেন তাকবীর বলতেন। অতঃপর দাঁড়াতেন। (১) আর এই তাকবীরের সাথে তিনি কখনো কখনো দুই হাত উত্তোলন করতেন। (২) আর যখন চতুর্থ রাক্'আতের জন্য উঠার ইচ্ছা পোষণ করতেন তখন আল্লাহু আকবার বলতেন। (৩) আর এর নির্দেশ দিয়েছিলেন ছলাতে ত্রুটিকারী ব্যক্তিকে যেমনটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
আর এই তাকবীরের সাথেও “নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো তাঁর দুই হাত উত্তোলন করতেন।” (৪)
অতঃপর তিনি তাঁর বাম পা-র উপর ধীর শান্তভাবে এ পরিমাণ বসতেন যাতে প্রত্যেক হাড্ডি তার নিজ জায়গায় প্রত্যাবর্তন করতে পারে। অতঃপর যমীনে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। (৫)
“যখন তিনি দাঁড়াতেন আটা খমিরের ন্যায় (মুষ্ঠিবদ্ধাবস্থায়) দু'হাতের উপর ভর দিতেন।” (৬)
তিনি এ দু' রাক'আতের (তৃতীয় ও চতুর্থ) প্রত্যেক রাক'আতে সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন এবং এরই নির্দেশ দিয়েছিলেন ছলাতে ত্রুটিকারীকে। কখনো কখনো এ দু'রাক'আতে সূরাহ্ ফাতিহার সাথে যোহর ও আছরের ছলাতে কিছু আয়াত পাঠ করতেন। যেমনটি ইতিপূর্বে যোহর ছলাতের কিরা'আত সংক্রান্ত আলোচনায় অতিবাহিত হয়েছে।
টিকাঃ
(২) বুখারী ও মুসলিম।
(১) আবূ 'ইয়ালা তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (২/২৮৪) উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন। আর সিলসিলা ছহীহাহতেও তা সংকলিত হয়েছে। (৬০৪)
(২,৩,৪) বুখারী ও আবু দাউদ।
(৪) আবু আওয়ানাহ ও নাসাঈ ছহীহ সনদে।
(৫) বুখারী ও আবু দাউদ।
(৬) হারবী তার "গারীবুল হাদীছ" গ্রন্থে (এ অর্থ করেছেন)। আর এ অর্থ বুখারী ও আবু দাউদের নিকটেও। আর এ শব্দ এসেছে। ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছলাতের ভিতর কোন ব্যক্তিকে হাতে ভর দিয়ে দাঁড়াতে নিষেধ করেছেন বলে যে হাদীছ রয়েছে তা মুনকার (প্রত্যাখ্যাত), ছহীহ নয়। যেমনটি বর্ণনা করেছি যাইফাহ গ্রন্থে (৯৬৭)।
📄 উপনীত হওয়ায় পাঠ ওয়াক্ত ছালাতে কুনূত প্রসঙ্গ
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কারো জন্য দু'আ করতেন অথবা বদ্দু'আ করতে চাইতেন তখন কুনূত (১) করতেন- শেষ রাক্'আতের রুকুর পরে- যখন বলতেন- "সামি'আল্লাহু লিমান হামীদাহ, রব্বানা লাকাল হামদ........। (২)
"উচ্চৈঃস্বরে দু'আ করতেন।” (৩) "তাঁর দু'খানা হাত উত্তোলন করতেন।”(৪) "তাঁর পিছনে যারা থাকত তারা (মুক্তাদীগণ) আমীন বলতেন। (৫) "নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরা পাঁচ ওয়াক্ত ছলাতেই কুনূত করতেন।” (৬)
কিন্তু তিনি এর ভিতর কেবল তখনই কুনূত করতেন যখন কোন সম্প্রদায়ের জন্য দু'আ অথবা কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বদদু'আ করতে চাইতেন। (৭) কখনো তিনি কুনূতে এ দু'আ বলেছেন:
{ আল্লাহুম্মা আনজিল অলীদা বিন অলীদিন, অ সালামাতা বিন হিশা-মিন, অ 'আইয়া-শা বিন আবী রাবী'আতা , আল্লাহুম্মা আশদুদ্ ওয়াত্বআতাকা 'আলা- মুযারিন, অজ'আলহা- সিনিনা কাসিনী ইউসুফা আল্লাহুম্মা আল'আনিল লিহ্ইয়া-না অ রি'লান , অ যাকওয়া-না, অ 'উসাইয়্যাতা , 'আসাতিল্লাহা অ রাসূ-লাহু - }
হে আল্লাহ! তুমি রক্ষা কর অলীদ বিন অলীদ, সালামাহ বিন হিশাম, 'আইয়াশ্ বিন আবী রাবীআহকে, আর মুযার গোত্রকে কঠিনভাবে নিপীড়িত কর এবং তাদেরকে ইউসুফ নাবীর যুগের সমবর্ষব্যাপী দুর্ভিক্ষে আপতিত কর।
[ হে আল্লাহ! তুমি লিহ্ইয়ান, রি'ল, যাকওয়ান ও আছিয়াহ- আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধাচারণকারী এদের উপর লা'নত বর্ষণ কর। (১) অতঃপর যখন কুনূত সমাপ্ত করতেন তখন "আল্লাহু আকবার" বলে সাজদাহ করতেন। (২)
টিকাঃ
(১) "কুনূত” অনেক অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে এখানে ছলাতের কিয়ামের নির্দিষ্ট জায়গায় দু'আ করা উদ্দেশ্য।
(২,৩) বুখারী ও আহমাদ।
(৪) আহমাদ ও ত্ববরানী, ছহীহ সনদে। আর আহমাদ ও ইসহাক উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গি এই যে, মুছল্লী কুনূতে তার দুই হাত উত্তোলন করবে। যেমনটি রয়েছে মারঅযীর "আল মাসায়েল" গ্রন্থে (পৃঃ ২৩) কিন্তু দু'হাত দিয়ে চেহারা বুলানো (মুছা বা মাস্হ করা) এ স্থলে প্রমাণিত নয়। অতএব তা বিদ'আত। আর ছলাতের বাইরেও এটা ছহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়। এ বিষয়ে যত হাদীছ বর্ণনা করা হয় সবই দুর্বল, একটা অপরটার চেয়ে অধিক দুর্বল। যেমনটি তদন্ত করে সাব্যস্ত করেছি- যাঈফ আবু দাউদে (২৬২) ও আল-আহাদীছুছু ছহীহাতে (৫৯৭)। এ কারণে আল-ইয্য বিন আব্দুস সালাম তার ফাতাওয়া সংকলনে বলে দিয়েছেন : লা- ইয়াফ'আলুহূ ইল্লাল জুহ্হালু এটা একমাত্র তারাই করে যারা জাহিল।
(৫) আবু দাউদ, সাররাজ, হাকীম- এটিকে বর্ণনা করে ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন এবং যাহাবী ও অন্যান্যগণ তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৬) আবু দাউদ, সাররাজ, দারাকুতনী- দুটি হাসান সনদে।
(৭) ইবনু খুযাইমাহ তাঁর ছহীহ গ্রন্থে (১/৭৮/২), খাত্ত্বীব বাগদাদী স্বীয় "আল-কুনুত" গ্রন্থে- ছহীহ সনদে।
(১) আহমাদ ও বুখারী, আর বর্ধিতটুকু (বন্ধনিযুক্ত অংশ) মুসলিমের।
(২) নাসাঈ, আহমাদ, আস্সাররাজ (১/১০৯), আবূ ই'য়ালা তার মুসনাদ গ্রন্থে উত্তম সনদে।
📄 বিতরে কুনূত
কখনো কখনো (৩) "নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিত্র অর্থাৎ বেজোড় রাক্'আত বিশিষ্ট ছলাতে কুনূত করতেন।” (১) আর "তা করতেন রুকূ'র পূর্বে”। (২)
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান বিন আলী (রাযিঃ)-কে বিত্রের কিরা'আত শেষ করে এ দু'আটি বলতে শিখিয়েছিলেনঃ আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা, অ'আ-ফিনী ফীমান 'আ-ফাইতা, অতাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা, অবা-রিকলী ফীমা- আ'ত্বাইতা, অক্বিনী শাররা মা- ক্বাযাইতা, (ফা) ইন্নাকা তাক্বযী অলা- ইয়ুক্বা- 'আলাইকা, (অ) ইন্নাহু লা- ইয়াযিল্লু মান ওয়া-লাইতা, অলা- ইয়া'ইযযু মান 'আ-দাইতা) তাবারাকতা রাব্বানা- অতা'আ-লাইতা (লা-মানজা- মিনকা ইল্লা- ইলাইকা ) )
আল্লা-হুম্মাদিনী ফীমান' হাদাইতা ওয়া'আ-ফিনী ফীমান 'আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান্ তাওয়াল্লাইতা ওয়া বা- রিকলী ফী-মা আ'ত্বাইতা ওয়া ক্বিনী শাররা মা- ক্বাযাইতা, ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা- ইউকযা- 'আলাইকা ইন্নাহু লা- ইয়াযিলু মাউওয়া-লাইতা ওয়ালা- ইয়া'ইয্যু মান 'আ-দাইতা (১) তাবা-রাকতা রাব্বানা- ওয়া তা'আ-লাইতা, লা-মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। (২)
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক পথ দেখিয়ে তাদের অন্তর্গত করো যাদের তুমি হেদায়াত করেছ, আমাকে নিরাপদে রেখে তাদের মধ্যে শামিল করো যাদের তুমি নিরাপদে রেখেছ। তুমি আমার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে তাদের মধ্যে শামিল কর যাদের তুমি অভিভাবক হয়েছ। তুমি আমাকে যা দান করেছ তার মধ্যে বরকত দাও। তুমি আমাকে সেই অনিষ্ট থেকে রক্ষা কর যা তুমি নির্ধারণ করেছ, কারণ তুমি ফয়সালাকারী এবং তোমার উপর কারো ফয়সালা কার্যকর হয় না, তুমি যার সাথে মিত্রতা পোষণ কর তাকে কেউ লাঞ্ছিত করতে পারে না। [ আর যার সাথে শত্রুতা পোষণ কর সে কখনো সম্মানী হতে পারে না। ] হে আমাদের রব! তুমি খুবই বরকতময়, সুউচ্চ ও সুমহান। তোমার থেকে পরিত্রাণের স্থল কেবল তোমার নিকটেই রয়েছে।
টিকাঃ
(৩) আমরা এজন্য "কখনো কখনো” করতেন বলেছি কারণ যে সমস্ত ছাহাবা বিতর সম্পর্কীয় হাদীছগুলো বর্ণনা করেছেন তারা এর ভিতর কুনূত উল্লেখ করেননি। যদি নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা (বিতরে) কুনূত করতেন তাহলে সকলে তাঁর থেকে এটা সংকলন করতেন। হ্যাঁ তবে বিতরে কুনূত করার কথা উবাই বিন কা'ব নামক একজন ছাহাবী নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এ থেকে আরো প্রমাণিত হয় যে, কখনো কখনো তিনি তা করতেন। এ থেকে আরো প্রমাণিত হয় যে, বিতরে কুনূত করা ওয়াজিব নয়। এটাই সিংহভাগ (অধিকাংশ) আলিমের মাযহাব। এজন্য (হানাফী মাযহাবের) গবেষক আলিম ইবনুল হুমাম তার ফাতহুল কাদীর গ্রন্থে স্বীকার করে বলেছেন (১/৩০৬, ৩৫৯, ৩৬০ পৃঃ) বিতরে কুনূত করা ওয়াজিব বলে যে মতটি রয়েছে তা অত্যন্ত দুর্বল যার পক্ষে কোন (ছহীহ) দলীল সাব্যস্ত হয়নি। নিঃসন্দেহে তাঁর এ স্বীকৃতি তাঁর ন্যায়পরায়ণতা ও গোঁড়ামি বর্জনের প্রমাণ বহনকারী। কারণ যে কথাকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন তা হচ্ছে তাঁর মাযহাবের বিপরীত।
(১) ইবনু আবী শাইবাহ (১২/৪১/১), আবু দাউদ, নাসাঈ "আসসুনানুল কুবরা”তে (ক্বাফ ২১৮/১-২), আহমাদ, ত্বাবারানী, বাইহাকী ও "ইবনু আসাকির (৪/২৪৪/২) ছহীহ সনদে, আর তাঁর থেকে ইবনু মানদাহ স্বীয় "আত্তাওহীদ” গ্রন্থে (৭০/২) শুধু দু'আ উদ্ধৃত করেছেন অন্য একটি হাসান সনদে, আর এটি ইরওয়াতেও উদ্ধৃত হয়েছে। (৪২৬)
জ্ঞাতব্য: নাসাঈ কুনূতের শেষে এই বর্ধিত অংশ উল্লেখ করেছেন: ছল্লাল্লাহু 'আলান্নাবীয়্যিল উম্মী আল্লাহ ছলাত বর্ষণ করুন নিরক্ষর নবীর উপর। এর সনদ যঈফ। একে যঈফ বলেছেন হাফিয ইবনু হাজার, ক্বাসত্বলানী, যুরক্বানী ও অন্যান্যগণ। এজন্যই বর্ধিত অংশাবলী একত্রিত করার ক্ষেত্রে আমাদের রীতি অনুযায়ী এখানে তা উল্লেখ করলাম না বরং বই এর ভূমিকায় উল্লেখিত আমাদের শর্তসাপেক্ষে তা উল্লেখ করা থেকে ক্ষান্ত থাকলাম।
ইয্য বিন আব্দুস সালাম তার "আল ফাতাওয়া" গ্রন্থে বলেছেন (১/৬৬, বর্ষ ১৯৬২) "কুনূতে রাছুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ছলাত পাঠ ছহীহ সূত্রে সাব্যস্ত হয়নি এবং রাছুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ছলাত পাঠের অতিরিক্ত কিছু পাঠ করা উচিত নয়।" তাঁর এ বক্তব্য দ্বারা এটাই ইঙ্গিত করেছেন যে, বিদআতে হাসানা বলার অবকাশ সৃষ্টি করা যাবে না। যেমন বর্তমান যুগের কিছু লোক বলে থাকে।
শাইখ আলবানী বলেন, পরবর্তীতে যা উদঘাটন করেছি তা হলো এই যে, রামাযানের ক্বিয়ামুল্লাইলে উবাই বিন কা'ব (রাযিঃ)-এর ইমামতের হাদীছে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি কুনূতের শেষে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ছলাত পাঠ করতেন। আর তা ছিল উমার (রাযিঃ)-এর যুগে।
এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন ইবনু খুযাইমাহ তার "ছহীহ” গ্রন্থে (১০৯৭)। অনুরূপ বিষয় সাব্যস্ত হয়েছে আবূ হালীমাহ মুআয আল-আনছারীর হাদীছেও। তিনিও তাঁর (উমারের) যুগে লোকদের ইমামতি করতেন। এটি বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল কাযী (হাদীস নং ১০৭) ও অন্যান্যগণ। অতএব, সালাফগণের আমলের দরুণ এ বর্ধিত অংশটুকু শরীয়ত সম্মত। সুতরাং সাধারণভাবে এ বর্ধিত অংশ বলাকে বিদ'আত বলা সমীচীন হবে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(১) এ বর্ধিত অংশটুকু হাদীছে সাব্যস্ত হয়েছে। যেমনটি বলেছেন, হাফিয (ইবনু হাজার) তার "তালখীছ" গ্রন্থে। আমি এটি তদন্ত করে সাব্যস্ত করেছি "মূল গ্রন্থে"। এ তথ্য ইমাম নব্বীর জ্ঞানগোচর হয়নি যার ফলে তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তার "রাওযাতুত্ ত্বা-লিবীন” গ্রন্থে (১/২৫৩ পৃঃ ইসলামী লাইব্রেরী ছাপা) স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, এ অংশটুকু আলিমগণের পক্ষ থেকে বৃদ্ধিকৃত। যেমন তারা বৃদ্ধি করেছেন ফালাকাল হামদু 'আলা- মা- ক্বাযাইতা আস্তাগফিরুকা অ আতূবু ইলাইকা আপনার প্রশংসা করি এবং আপনার নিকট ক্ষমা চাই ও তাওবাহ করি। বড় আশ্চর্যের বিষয় এই যে, কয়েক লাইনের পরেই তিনি বলেছেন: কাযী আবৃত্ ত্বইয়িব কর্তৃক অলা- ইয়া'ইয্যু মান 'আ-দাইতা অস্বীকার করায় ঐক্যবদ্ধভাবে সকলে তার প্রতি কঠোরতা পোষণ করেছেন। অথচ বাইহাকীর বর্ণনাতে এ অংশটুকু এসেছে। আল্লাহই অধিক জ্ঞানী।
(২) ইবনু খুযাইমাহ (১/১১৯/২) অনুরূপভাবে ইবুন আবী শাইবাহ্ এবং যাদেরকে তার সাথে পূর্ববর্তী উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
📄 নবী (ﷺ)
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে এই দু'আ বলতে শিখিয়েছিলেন:
আল্লাহুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাসীরান অলা- ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা- আনতা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন 'ইনদিকা অরহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রাহীম
হে আল্লাহ! আমি নিজের উপর অনেক অত্যাচার করেছি, আর কেউ পাপরাশি মোচন করতে পারবে না একমাত্র তুমি ছাড়া। অতএব আমাকে ক্ষমা কর, ক্ষমা তোমার নিকটেই রয়েছে। আর আমাকে রহম কর, নিশ্চয় তুমি অতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। (২)
টিকাঃ
(২) মুসলিম, আবূ আওয়ানাহ, নাসাঈ, ইবনুল জারুদ "আল-মুন্তাক্বা" গ্রন্থে (২৭), আর এটা ইরওয়াতেও সংকলিত হয়েছে (৩৫০)।
(৩) আবূ দাউদ, আহমাদ; ছহীহ সনদে।
(৪) মুসলিম ও আবূ আওয়ানাহ।
(৫) ছলাতের ভিতর বলেছি- "তাশাহহুদে" বলিনি কারণ মূল হাদীছে এরূপই আছে-=="তার ছলাতে” যা তাশাহহুদ ও অন্য কোন অবস্থাকে নির্দিষ্ট করছেনা। বরং এটা দু'আ যোগ্য সকল অবস্থাকেই আওতাভুক্ত করছে যেমন সাজদাহ ও তাশাহহুদ, এ দু'অবস্থায় দু'আর নির্দেশ এসেছে যেমন ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।