📄 ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর বর্ণিত তাশাহহুদ
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে (ছাহাবাদেরকে) এমনভাবে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন যেমনভাবে তিনি তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। (১) আর তাশাহহুদ গোপন স্বরে পড়া সুন্নত। (২)
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাহাবীদেরকে তাশাহ্হুুদের বিভিন্ন প্রকার শব্দ শিখিয়েছেন।
১। ইবনু মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত তাশাহ্হুদ- তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাশাহ্হুদ শিক্ষা দিয়েছেন এমনভাবে (দুই হাতের তালু এক সাথে মিলিয়ে দেখালেন) যেমনভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন।
আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি, অস্সলা-ওয়া-তু, অত্বত্বাইয়্যিবা-তু আসসালা-মু 'আলাইকা আইয়ুহান্নাবীয়্যু অরাহমাতুল্লা-হি অবারা-কা-তুহু, আসসালা-মু 'আলাইনা- অ 'আলা- 'ইবা-দিল্লা-হিছ ছা-লিহীন আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান 'আবদুহূ অ রাসূ-লুহূ (৩)
আল্লাহর জন্যই যাবতীয় তাহিয়াত, ছালাওয়াত (১) ও ত্বাইয়বিাত (২) সালাম (৩) আপনার প্রতি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত (৪) হে আমাদের নাবী। সালাম আমাদের প্রতি ও আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাহগণের প্রতি। (ছালিহীন বা সৎকর্মশীল বান্দা বললে আসমান ও যমীনের প্রত্যেকটি সৎবান্দা এর আওতাভুক্ত হয়ে যায়)।
আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি এই মর্মে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ (উপাস্য) নেই। আর মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।
ইবনু মাসউদ বলেন: আমরা উক্ত শব্দে অর্থাৎ »أَيُّهَا النَّبِيُّ হে নাবী! সম্বোধন সূচক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে তাশাহহুদ পাঠ করতাম যখন তিনি আমাদের মাঝে বিদ্যমান ছিলেন, কিন্তু যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন তখন আমরা গ أَيُّهَا النَّبِيُّ এর পরিবর্তে عَلَى النَّبِيُّ অর্থাৎ নাবীর উপর বলতাম। (৫)
টিকাঃ
(১) বুখারী ও মুসলিম।
(২) আবূ দাউদ ও হাকিম এবং তিনি বর্ণনা করে ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন, যাহাবী তার সমর্থন করেছেন।
(৩) তাশাহ্হুুদের মূল শব্দ হচ্ছে ব্রাকেটের বাইরের শব্দগুলো, তবে 'আলাইকা আইয়ুহান্নবী-এর পরিবর্তে 'আলান্নাবী' বলা যাবে যেমনটি উপস্থিত বক্তব্য থেকে জানা যায়। -সম্পাদক।
(১) তাহিয়্যাত আত্তাহিয়াতু এমন শব্দাবলী যা সুরক্ষা, রাজ্য ও স্থায়িত্বের প্রতি নির্দেশ করে। আর এসব গুণাবলীর অধিকারী একমাত্র আল্লাহ। অর্থাৎ আল্লাহ যাবতীয় প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে সুরক্ষিত সকল রাজ্য তাঁরই আর তিনিই কেবল চিরস্থায়ী। (আস্সলাওয়াত ছালাওয়াত) ঐ সকল শব্দ যার দ্বারা আল্লাহর মহানত্ব প্রকাশ করা উদ্দেশ্য যে সকল শব্দের কেবল তিনিই অধিকারী, আর কারো জন্য তা প্রযোজ্য নয়। (নিহায়াহ)
(২) (আত্ত্বাইয়িবাত তাইয়িবাত) ঐ মানানসই সুন্দর বাক্য যার মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা করা হয়। তবে তা এমন যেন না হয় যে, তার পরিপূর্ণ গুণাবলীর জন্য অনুপযুক্ত। যার দ্বারা রাজা বাদশাহদেরকে সম্ভাষণ জানান হতো।
(৩) (আসসালাম) আল্লাহর নিকট আশ্রিত হওয়া ও নিরাপত্তা লাভ করা। কারণ আস্সালামু والله عليك حفيظ وكفيل তোমার সংরক্ষণকারী ও দায়িত্বশীল। যেমন বলা হয় আল্লাহু মা'আকা আল্লাহ তোমার সাথে রয়েছেন- এর অর্থ তিনি তোমার সাথে রয়েছেন সংরক্ষণ, সাহায্য ও দয়া করার মাধ্যমে।
(৪) বারাকা-তুহু বারাকাতঃ অবিরাম ধারায় আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা যে কোন কল্যাণের নাম।
(৫) বুখারী, মুসলিম, ইবনু আবী শাইবাহ (১/৯০/২) আস্সারাজ ও আবূ ই'য়ালা স্বীয় মুসনাদ গ্রন্থে (২৫৮/২) এ হাদীছটি 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।==
📄 ইবনু আববাস (রাঃ) এর তাশাহহুদ
তিনি বলেছেন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এমনভাবে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন যেমনভাবে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি এভাবে বলতেন:
আসসালা-মু 'আলাইকা আইয়ুহান্নাবীয়্যু অ রাহমাতুল্লা-হি অ বারা-কা-তুহু আসসালা-মু 'আলাইনা- অ 'আলাত তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি, আল মুবা-রাকা-তু অস সলা-ওয়া-তু অত্বত্বাইয়্যিবা-তু লিল্লা-হি, {আল} 'ইবা-দিল্লা-হিছ ছা-লিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান অ রাসূ-লুহূ) : 'আবদুহূ অ রাসূ-লুহূ অ রাসূ-লুল্লা-হ, অফী রিওয়ায়াতিন
সকল তাহিয়াত, মুবারাকবাদ ও তাইয়িবাত আল্লাহর জন্য। সালাম বর্ষিত হোক আপনার প্রতি হে নাবী এবং আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত। আমাদের প্রতি ও আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাদের প্রতিও সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই। আরো সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, অন্য বর্ণনায় রয়েছে- তাঁর প্রেরিত বান্দা ও রাসূল। (১)
টিকাঃ
(১) নূবী (রহঃ) বলেন শব্দের (ভিতর, অব্যয়টি ব্যবহৃত হয়নি যার) উহ্য অবস্থা এরূপ হবে : অতছ সলা-ওয়া-তু অতত্বাইয়্যিবা-তু অল মুবা-রাকা-তু এমনভাবে ইবনু মাসউদ ও অন্যান্যদের বর্ণনায় এসেছে। =
এখানে সংক্ষেপায়নের উদ্দেশ্যে, অক্ষরটি উহ্য রাখা হয়েছে আর এমনটি আরবী ভাষায় বৈধ যা ভাষাবিদদের নিকট পরিচিত।
হাদীছের অর্থ এই যে, নিশ্চয় তাহিয়াত এবং যা এর পর উল্লেখ রয়েছে এসব কেবল আল্লাহর জন্য উপযুক্ত। এর প্রকৃত মর্ম তিনি ব্যতীত আর কারো জন্য শোভনীয় নয়।
(১) মুসলিম, আবূ উওয়ানাহ্, শাফিঈ ও নাসায়ী।
📄 ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু এর তাশাহহুদ
তিনি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন : আততাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি, {অতছ সলা-ওয়া-তু, {অত্বত্বাইয়্যিবা-তু আসসালা-মু 'আলাইকা আইয়ুহান্নাবীয়্যু আল্লাহ - ক্বালা ইবনু 'উমার : যিদতু ফীহা- : অ বারা-কা-তুহু - আসসালা-মু 'আলাইনা- অ 'আলা- 'ইবা-দিল্লা-হিছ ছা-লিহীন আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু - ক্বালা ইবনু 'উমার : অ যিদতু ফীহা- : ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু - অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান 'আবদুহু অ রাসূ-লুহূ »
তাহিয়াত, ছালাওয়াত ও তাইয়িবাত সমস্তই একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আপনার উপর হে নাবী, ইবনু উমার বলেন : আমি পরে এর ভিতর "অবারাকাতুহু” এবং 'তাঁর উপর বরকত' এ অংশ যোগ করেছি(২) শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের উপর এবং সমস্ত সৎকর্মশীল বান্দাদের উপর। আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি এই মর্মে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই, ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন : এর পরে আমি এর ভিতর যোগ করেছি ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু অর্থাৎ তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই। আরো সাক্ষ্য প্রদান করছি এই মর্মে যে, মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। (১)
টিকাঃ
(২) এ বর্ধিত অংশ এবং এর পরের বর্ধিত অংশ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত তাশাহহুদে সাব্যস্ত রয়েছে; ইবনু উমার (রাঃ) নিজের পক্ষ থেকে বৃদ্ধি করেননি, আর তিনি তা করতেও পারেন না। বরং অন্য ছাহাবীদের থেকে গ্রহণ করেছেন- যারা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটুকু বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সরাসরি যে তাশাহহুদ শুনে ছিলেন তার উপর এটুকু বৃদ্ধি করেছেন।
(১) আবূ দাউদ ও দারাকুতনী এবং তিনি একে ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন।
📄 আবূ মূসা আশ্‘আরী (রাঃ) এর তাশাহহুদ
তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
অ ইযা- কা-না 'ইনদাল ক্বা'দাতি ফালইয়াকুন মিন আউওয়ালি ক্বাওলি আহাদিকুম : «আততাহিয়্যা-তুত্ব ত্বাইয়্যিবা-তুছ ছলা-ওয়া-তু লিল্লা-হি আসসালা-মু 'আলাইকা আইয়ুহান্নাবীয়্যু অ বারা-কা-তুহু, আসসালা-মু 'আলাইনা- অ 'আলা- 'ইবা-দিল্লা-হিছ ছা-লিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু - ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু } অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান 'আবদুহু অ রাসূ-লুহূ (সাব'উ কালিমাতিন মিন তাহিয়্যাতিছ ছলা-তি )
যখন তোমাদের কোন ছালাত আদায়কারী বৈঠকে থাকবে তখন তার প্রথম কথা হবে এই: তাহিয়াত, তাইয়িবাত ও ছলাওয়াত সবই আল্লাহর প্রাপ্য। শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক আপনার উপর হে নাবীজী। আমাদের উপর ও আল্লাহর সকল সৎকর্মশীল বান্দার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি এ মর্মে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই, তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই। আরো সাক্ষ্য প্রদান করছি এমর্মে যে, মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। "এ সাতটি বাক্য হচ্ছে ছলাতের তাহিয়্যাত।" (২)
টিকাঃ
(২) মুসলিম, আবূ উওয়ানাহ্, আবূ দাউদ ও ইবনু মাজাহ।