📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 তাশাহহুদের বৈঠক

📄 তাশাহহুদের বৈঠক


নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাক'আত শেষে তাশাহ্হুদের উদ্দেশ্যে বসতেন। ফজরের ন্যায় দুই রাক'আত বিশিষ্ট ছালাত হলে দুই সাজদার মাঝখানে বসার ন্যায় পা বিছিয়ে (৪) বসতেন। অনুরূপভাবে বসতেন তিন ও চার রাক'আত বিশিষ্ট ছালাতের প্রথম বৈঠকেও (৫) তিনি এবিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
ফাইযা- জালাসতা ফী ওয়াসাত্বিছ ছলা-তি, ফাত্বমা'ইন্না, অফতারিশ ফখিযাকাল ইউসরা-, সুম্মা তাশাহ্হাদ *
তুমি যখন ছালাতের মাঝামাঝিতে বসবে তখন প্রশান্তি সহকারে বসবে, বাম উরু বিছিয়ে দিবে অতঃপর তাশাহুদ পড়বে (৬)
আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন:
« ওনাহা-নী খালীলী ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা 'আন ইকু'আ-ইন কা ইকু'আ-ইল কাল্বি » আমার বন্ধু ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কুকুরের মত বসতে নিষেধ করেছেন (১) অপর হাদীছে আছে- কান্না ইয়ানহা- 'আন 'উক্ববাতিশ শাইত্বা-ন শয়তানের মত বসতে নিষেধ করতেন। (২)
« অকা-না ইযা- ক্বা'আদা ফিত্ তাশাহ্হুদি ওয়াযা'আ কাফ্ফাহুল ইউমনা- 'আলা- ফখিযিহী (অফী রিওয়ায়াতিন : রুকবাতিহিল ইউমনা- অ ওয়াযা'আ কাফ্ফাহুল ইউসরা- 'আলা- ফখিযিহী (অফী রিওয়ায়াতিন : রুকবাতিহি) আল ইউসরা-, বা-সিত্বাহা- 'আলাইহা- »
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশাহহুদের জন্য বসলে উরুর উপর ডান হাতের তালু রাখতেন, অন্য এক বর্ণনায় আছে ডান হাঁটুর উপর রাখতেন এবং বাম হাতের তালু স্বীয় উরুর উপর রাখতেন, অপর বর্ণনায় আছে বাম হাঁটুর উপর বিছিয়ে রাখতেন (৩)
« কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইয়াদা'উ হাদ্দা মিরফাক্বিহিল আইমানা 'আলা- ফখিযিহিল ইউমনা- »
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান কনুই এর শেষাংশ (৪) ডান উরুর উপর রাখতেন (৫)
নাহা- রাজুলান অ হুয়া জা-লিসুন মু'তামিদুন 'আলা- ইয়াদিহিল ইউসরা- ফিস সলা-তি ফাক্ব-লা : ( ইন্নাহা- সলা-তুল ইয়াহূদ ) অফী লাফযিন : লা- তাজ্ব্লিস হা-কাযা-, ইন্নামা- হা-যিহী জিলসাতুল্লাযীনা ইউ'আযযাবূna, অফী হাদীছিন আ-খারা : হিয়া ক্বি'দাতুল মাগযূবি 'আলাইহিম
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে ছালাতাবস্থায় বাম হাতের উপর ভর করা দেখে এই বলে নিষেধ করেন যে, এটি হচ্ছে ইয়াহুদদের ছালাত। (১) অপর শব্দে রয়েছে- এইভাবে বসবেনা কেননা এটি হচ্ছে শাস্তিযোগ্য লোকেদের বসার নিয়ম (২) অপর হাদীছে রয়েছে- "এটি হচ্ছে গজবে নিপতিত লোকেদের বসার নিয়ম।" (৩)

টিকাঃ
(৪) বুখারী ও আবূ দাউদ।
(৫) নাসাঈ (১/১৭৩) ছহীহ সনদে
(৬) আবূ দাউদ ও বায়হাকী উত্তম সনদে।
(১) ত্বায়ালুসী, আহমাদ, ইবনু আবী শাইবাহ, দেখুন ৫নং টীকা (পৃষ্ঠা- ১৪৩) 'ইকুআ' সম্পর্কে আবু উবাইদা ও অন্যান্যগণ বলেন: কোন ব্যক্তির স্বীয় নিতম্বদ্বয়কে মাটির সাথে লাগিয়ে দিয়ে গোছাদ্বয়কে দাঁড় করে রাখা এবং হস্তদ্বয়কে মাটিতে স্থাপন করা যেমনভাবে কুকুর বসে থাকে। আমি বলতে চাই: এটি দুই সাজদার মাঝখানে 'ইকুআ' যা শরীয়ত সম্মত বলা হয়েছে তার বিপরীত যেমনটি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে।
(২) মুসলিম, আবূ উওয়ানাহ্ ও অন্যান্যগণ, এটি 'ইরওয়াউল গালীল' গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩৬)
(৩) মুসলিম ও আবু উওয়ানাহ।
(৪) এখানে হাদ্দ শব্দের অর্থ হচ্ছে- প্রান্ত, এ থেকে উদ্দেশ্য যেন এই যে, তিনি স্বীয় কনুই পার্শ্বদেশ থেকে দূরে রাখতেন না। একথা ইবনুল কাইয়িম 'যাদুল মা'আদ' গ্রন্থে সুস্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন।
(৫) ছহীহ্ ছনদে আবু দাউদ ও নাসাঈ।
(১) বাইহাকী হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এটি, পরবর্তী হাদীছসহ আল ইরওয়া গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩৮০)
(২) উত্তম সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ।
(৩) আব্দুর রায্যাক, আব্দুল হকু একে ছহীহ বলেছেন স্বীয় 'আহকাম' গ্রন্থে (১২৮৪ আমার গবেষণা সম্বলিত)

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 তাশাহহুদে আঙ্গুল নাড়ানো

📄 তাশাহহুদে আঙ্গুল নাড়ানো


কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইয়াবসুতু কাফ্ফাহুল ইউসরা- 'আলা- রুকবাতিহিল ইউসরা- অইয়াক্ববিযু আসা-বি'আ কাফ্ফিহিল ইউমনা- কুল্লাহা-, অ ইউশীরু বিইসবা'ইহিল্লাতী তালিল ইবহা-মা ইলাল ক্বিবলাতি অ ইয়ারমী বিবাসারিহী ইলাইহা- *
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতের তালু বাম হাঁটুর উপর বিছিয়ে দিতেন, আর ডান হাতের সবগুলো অঙ্গুলি মুষ্টিবদ্ধ করে তর্জনী দ্বারা কিবলার দিকে ইঙ্গিত করতেন এবং এর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন। (৪)
<< কান্না ইযা- আশা-রা বিইসবা'ইহী ওয়াযা'আ ইবহা-মাহু 'আলা- ইসবা'ইহিল উসত্বা- >>
অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করা কালে কখনও কখনও তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার উপর রাখতেন। (১)
<< ওতা-রাতান কা-না ইউহাল্লিকু বিহিমা- হালক্বাতান, অ কা-না রফা'আ ইসবা'আহু ইউহাররিকুহা- ইয়াদ্'উ বিহা- অ ইয়াক্বূলু : লাহী আশাদ্দু 'আলাশ শাইত্বা-নি মিনাল হাদীদি ইয়া'নীস সাব্বা-বাহ >>
আবার নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও উক্ত অঙ্গুলিদ্বয় দ্বারা গোলাকৃতি করতেন (২) এবং অঙ্গুলি উঠিয়ে নাড়ানো পূর্বক দু'আ করতেন (৩) এবং বলতেন এটি (অর্থাৎ তর্জনী) শয়তানের বিরুদ্ধে লোহা অপেক্ষা কঠিন। (১) নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছাহাবাগণ (এটা পরিত্যাগের উপরে) একে অপরকে জবাবদিহি করতেন অর্থাৎ দু'আতে অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করার বেলায় তারা এমনটি করতেন। (২) তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় তাশাহহুদেই এই আমল করতেন (৩) তিনি এক ব্যক্তিকে দুই অঙ্গুলি দ্বারা দু'আ করতে দেখে বললেন: একটি দিয়ে কর, একটি দিয়ে কর এবং তর্জনী দ্বারা ইঙ্গিত করলেন। (৪)

টিকাঃ
(৪) মুসলিম, আবু উওয়ানা ও ইবনু খুযাইমা, এতে হুমাইদী স্বীয় "মুসনাদে" (১৩১/১) এমনিভাবে আবু ইয়ালা (২৭৫/২) ইবনু উমার থেকে ছহীহ সনদে এ বর্ধিত অংশটুকু বর্ণনা করেন যে, "এটি শয়তানকে আঘাতকারী, কেউ যেন এমনটি করতে না ভুলে, (এই বলে) হুমাইদী স্বীয় অঙ্গুলি খাড়া করলেন, হুমাইদী বলেন, মুসলিম=বিন আবু মারইয়াম বলেছেন- আমাকে জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি স্বপ্নে নবীগণকে সিরিয়ার এক গীর্জায় স্বাকারে ছালাত পড়া অবস্থায় এমনটি করতে দেখেছেন (এই কথা বলে) হুমাইদী স্বীয় অঙ্গুলি উঠান।
আমি বলতে চাই: এটি একটি দুস্প্রাপ্য অজানা উপকারী তথ্য, এর সনদ ঐ ব্যক্তিটি পর্যন্ত ছহীহ।
(১) মুসলিম ও আবু উওয়ানা।
(২, ৩) আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবনুল জারুদ, "আল-মুনতাক্বা"তে (২০৮) ও ইবনু খুযাইমাহ (১/৮৬/১-২) ইবনু হিব্বান স্বীয় 'ছহীহ' গ্রন্থে (৪৮৫) ছহীহ সনদে। ইবনুল মুলাক্কিন একে ছহীহ বলেছেন (২৮/২) অঙ্গুলি নাড়ানোর হাদীছের পক্ষে ইবনু আদীতে সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে (২৮৭/১)। উছমান বিন মুকসিম নামক বর্ণনাকারী সম্পর্কে বলেন- য'ঈফুন ইউকতাবু হাদীছূহু এমন পর্যায়ের যঈফ যার হাদীছ লিখা যাবে। হাদীছের শব্দ ইয়াদ্'উ বিহা- অর্থ- “এর মাধ্যমে দু'আ করতেন" এর মর্ম সম্পর্কে ইমাম ত্বাহাবী বলেন- এতে এ কথার প্রমাণ রয়েছে যে, এটি ছালাতের শেষাংশে ছিল।
আমি বলতে চাই: এতে প্রমাণিত হচ্ছে- সুন্নাত হলো সালাম ফিরানো পর্যন্ত আঙ্গুলের ইঙ্গিত ও দু'আ চালু রাখা, কেননা দু'আর ক্ষেত্র সালামের পূর্বে, এটি ইমাম মালিক ও অন্যান্যদের গৃহীত মতও বটে। ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করা হলো: ছালাতে কি মুছল্লী ব্যক্তি স্বীয় অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করবে? প্রতি উত্তরে তিনি বলেন: হ্যাঁ কঠিনভাবে, এটি ইবনু হানী স্বীয় মাসায়িল আনিল ইমাম আহমাদ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৮০)-তে উল্লেখ করেন।
আমি বলতে চাই: এথেকে প্রমাণিত হয় যে, তাশাহহুদে আঙ্গুলি নাড়ানো নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুসাব্যস্ত সুন্নাত। যার উপর আহমাদ ও অন্যান্য হাদীছের ইমামগণ আমল করেছেন। অতএব যে সব লোকেরা এ ধারণা পোষণ করেন যে, এটি ছালাতের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অনর্থক কাজ এবং ===এ কারণে সাব্যস্ত সুন্নত জানা সত্ত্বেও অঙ্গুলি নাড়ায় না- উপরন্তু আরবী বাকভঙ্গির বিপরীত ব্যাখ্যার অপচেষ্টা চালায় যা ইমামদের বুঝেরও বিপরীত, তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে। আরও আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তাদের কেউ কেউ এই মাস'আলাটি ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে হাদীছ বিরোধী কথায় ইমামের ছাফাই গায় এই যুক্তিতে যে, ইমামের ভুল ধরা তাকে দোষারোপ করা ও অসম্মান করা, কিন্তু এক্ষেত্রে তারা সেকথা ভুলে গিয়ে এই সুসাব্যস্ত হাদীছ পরিত্যাগ করে এবং এর উপর আমলকারীদেরকে বিদ্রূপ মশকারী করে। অথচ সে জানুক আর নাই জানুক তার এ বিদ্রূপ ঐসব ইমামদেরকেও জড়াচ্ছে যাদের বেলায় তার অভ্যাস হল বাত্বিল দ্বারা হলেও তাদের ছাফাই গাওয়া। বস্তুতঃ এক্ষেত্রে তারা সুন্নাহ সম্মত কথাই বলেছেন। বরং তার এই বিদ্রূপ স্বয়ং নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত গড়াচ্ছে কেননা তিনিইতো আমাদের নিকট এটি নিয়ে এসেছেন। অতএব এটিকে কটাক্ষ করা মানে তাঁকে কটাক্ষ করারই নামান্তর ফামা- জাযা-উ মান ইয়াফ'আলু যা-লিকা মিনকুম ইল্লা- অতএব তোমাদের মধ্যে যারা এমনটি করে তাদের... ছাড়া আর কী প্রতিদান হতে পারে। আর ইঙ্গিত করার পরেই অঙ্গুলি নামিয়ে ফেলা অথবা লা- বলে উঠানো ও ইল্লাল্লাহ বলে নামানো হাদীছে এগুলোর কোনই প্রমাণ নেই, বরং এ হাদীছের বক্তব্য অনুযায়ী তা হাদীছ বিরোধী কাজ। এমনিভাবে যে হাদীছে আছে- ইন্নাহু কা-না লা- ইউহাররিকুহা-য, তিনি অঙ্গুলি নাড়াতেন না, এ হাদীছ সনদের দিক থেকে সাব্যস্ত নয়। যেমনটি জঈফ আবূ দাউদে (১৭৫) আমি তদন্ত সাপেক্ষে সাব্যস্ত করেছি। আর যদি সাব্যস্ত ধরেও নেয়া হয় তদুপরি এটি হচ্ছে না বাচক, আর হাঁ বাচক না বাচকের উপর প্রাধান্যযোগ্য- যা আলিম সমাজে জানা-শুনা বিষয়, অতএব অস্বীকারকারীদের কোন প্রমাণ অবশিষ্ট থাকল না।
(১) আহমাদ, বায্যার, আবূ জা'ফর, বস্তুরী 'আল-আমালী' গ্রন্থে (৬০/১) ত্বাবারানী 'আদদু'আ' গ্রন্থে (১৭৩/১) আব্দুল গানী মাকুদিসী 'আসসুনান' গ্রন্থে (১২/২) হাসান সনদে, রু'ইয়ানী তার মুসনাদ গ্রন্থে (২৪৯/২) ও বাইহাক্বী।
(২) ইবনু আবী শাইবাহ (২/১২৩/২) হাসান সনদে।
(৩) নাসাঈ ও বাইহাকী ছহীহ সনদে।
(৪) ইবনু আবী শাইবাহ (১২/৪০/১) ও (২/১২৩/২), নাসাঈ, হাকিম এটাকে ছহীহ প্রমাণ করেছেন এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং এর সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা ইবনু আবী শাইবাহর নিকট রয়েছে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 প্রথম তাশাহহুদ ওয়াজিব হওয়া ও এর ভিতর দু‘আ করা

📄 প্রথম তাশাহহুদ ওয়াজিব হওয়া ও এর ভিতর দু‘আ করা


নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক দু'রাক্'আতে আত্তাহিয়াতু পড়তেন। (১) তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসার পর প্রথমে যা বলতেন তা হলো আত্তাহিয়াতু। (২)
প্রথম দু'রাক'আতে যদি আত্তাহিয়াতু পড়তে ভুলে যেতেন তাহলে সাহু সাজদাহ দিতেন। (৩)
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পাঠ করার নির্দেশ দিতেন এ বলে:
ইযা- ক্বা'আদতুম ফী কুল্লি রাক'আতাইনি ফাক্বুলূ- : আততাহিয়্যা-তু আল্খ ...... অ লিইয়াত্বাখাইয়্যার আহাদুকুম মিনাদ দু'আ-ই আ'জাবাহু ইলাইহি, ফালইয়াদ'উল্লাহা আয্যাওয়া জাল (বিহী} অফী লাফযিন : « ক্বুলূ- : ফী কুল্লি জালসাতিন : আততাহিয়্যা-তু অআমারবিহী (আল মুসীয়ু সলা-তাহু আইযান, কামা- তাক্বাদ্দামা আ-নিফান *
যখন তোমরা প্রত্যেক দুই রাক্'আতের মাঝে বসবে তখন তোমরা বলবে আত্তাহিয়াতু..... শেষ পর্যন্ত। অতঃপর তোমাদের যে কেউ তার পছন্দমত ইচ্ছাধীন দু'আ নির্বাচন করে তার দ্বারা মহান আল্লাহর নিকট দু'আ করবে। (৪) অন্য শব্দে রয়েছে তোমরা প্রত্যেক বৈঠকে আত্তাহিয়াতু বলবে। (৫) এটা পাঠ করার জন্য নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছালাতে ত্রুটিকারীকেও নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেমনটি অনতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

টিকাঃ
(১) মুসলিম ও আবূ আওয়ানাহ।
(২) এ হাদীছটি বাইহাকী উত্তম সনদে 'আ-ইশাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর বরাতে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি বলেছেন ইবনুল মুলকুকুিন (২৮/২)।
(৩) বুখারী ও মুসলিম। এটি ইরওয়া গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩৩৮) সনদ ছহীহ।
(৪) নাসাঈ, আহমাদ, ত্বাবারানী তার কাবীর গ্রন্থে (৩/২৫/১) সনদ ছহীহ। আমার কথা এই যে, হাদীছের বাহ্যিক ভঙ্গি প্রত্যেক তাশাহহুদে দু'আ পড়া শরীয়তসিদ্ধ হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে- যদিও তার পরে সালাম না থাকে। ইবনু হাম্ (রহঃ)-এরও উক্তি তাই।
(৫) নাসাঈ ছহীহ সনদে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 শরীয়ত সম্মত হওয়া প্রসঙ্গ

📄 শরীয়ত সম্মত হওয়া প্রসঙ্গ


কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইউ'আল্লিমুত তাশাহ্হুদা কামা- ইউ'আল্লিমুহুমুস সূরাতা মিনাল কুরআ-নি অস সুন্নাতু ইখফা-উহু
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে (ছাহাবাদেরকে) এমনভাবে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন যেমনভাবে তিনি তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। (১) আর তাশাহহুদ গোপন স্বরে পড়া সুন্নত। (২)

টিকাঃ
(১) বুখারী ও মুসলিম।
(২) আবূ দাউদ ও হাকিম এবং তিনি বর্ণনা করে ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন, যাহাবী তার সমর্থন করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00