📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সাজদাহ থেকে উঠা

📄 সাজদাহ থেকে উঠা


অতঃপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আল্লাহু আকবার' বলে সাজদাহ থেকে মাথা উঠাতেন। (২) এ বিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
লা- তাতিম্মু সলা-তুন লিআহাদিম মিনান্নাসি হাত্তা- ...... ইয়াসজুদু, হাত্তা- তাত্বমা'ইন্না মাফা-সিলুহ, সুম্মা ইয়াক্বূলু : আল্লাহু আকবারু অ ইয়ারফা'উ রা'সাহু হাত্তা- ইয়াসতাবিয়া ক্বা-'ইদান, অ কা-না ইয়ারফা'উ ইয়াদaihi মা'আ হা-যাত তাকবীলি আহ্ইয়া-নান *
কোন ব্যক্তির ছালাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ.... না এভাবে সাজদা করবে যে, তার দেহের প্রত্যেকটি জয়েন্ট সুস্থিরভাবে অবস্থান নেয় অতঃপর 'আল্লাহু আকবার' বলে স্বীয় মস্তক উত্তোলন করবে এবং সোজা হয়ে বসবে। (৩) তিনি কখনও এই তাকবীরের সাথে হস্ত উত্তোলন করতেন (৪)
সুম্মা ইয়াফরিশু রিজলাহুল ইউসরা- ফায়াক্ব'উদু 'আলাইহা- মুত্বমা'ইন্নানিন্ )
অতঃপর স্বীয় বাম পা বিছিয়ে তার উপর সুস্থিরভাবে বসতেন। (১) এ ব্যাপারে ছালাতে ত্রুটিকারীকে তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেন:
ইযা- সাজাদতা ফামাক্কিনিস সুজূদাকা, ফাইযা- রাফা'তা ফাক্ব'উদ 'আলা- ফখিযিকাল ইউসরা- )
তুমি যখন সাজদা করবে তখন স্থির হয়ে তা করবে আর যখন উঠবে তখন স্বীয় বাম উরুর উপর বসবে। (২)
অকা-না ইয়ানসিবু রিজলাহুল ইউমনা-, অ ইয়াসতাক্ববিলু বিআসা-বি'ইহাল ক্বিবলাহ )
তিনি স্বীয় ডান পা খাড়া রাখতেন। (৩) এবং অঙ্গুলিগুলো কিবলামুখী রাখতেন। (৪)

টিকাঃ
(২) বুখারী ও মুসলিম।
(৩) আবূ দাউদ ও হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন।
(৪) ছহীহ সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ। ইমাম আহমাদের নিকট এই স্থানে এবং প্রত্যেক তাকবীরের সময় হস্ত উত্তোলন সুন্নতসম্মত। ইবনুল কাইয়িম 'আল বাদাই' (৪/৮৯) গ্রন্থে লিখেন: 'আছরম (মূলতঃ ইবনুল আছরম) তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেন যে, ইমাম সাহেবকে হস্ত উত্তোলন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, প্রতি উত্তরে তিনি বলেন: ইহা প্রত্যেক উঁচু-নিচুর সময় করণীয়, আছরম বলেন: আমিত আবু আব্দিল্লাহকে দেখেছি তিনি ছালাতে প্রত্যেক উঁচু-নিচু হওয়ার সময় হস্ত উত্তোলন করতেন। ===শাফি'ঈদের মধ্য হতে এ কথার প্রবক্তা ইবনুল মুনযির ও আবু আলী। এটি ইমাম মালিক ও শাফিঈরও একটি বক্তব্য, 'ত্বরহুত্তাছরীব' দ্রষ্টব্য। এ স্থানে আনাস ইবনু উমার, নাফি' তাউস, হাসান বাছরী, ইবনু সীরীন, আবু আইয়ূব সাখতিয়ানী প্রমুখগণ থেকেও বিশুদ্ধ সনদে হস্ত উত্তোলন সাব্যস্ত হয়েছে। (দেখুন 'মুছান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ- ১/১০৬)।
(১) বুখারী 'জুটু রফউল ইয়াদাইন' আবু দাউদ ছহীহ সনদে, মুসলিম ও আবু উওয়ানাh এটি 'আল ইরওয়া' গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩১৬)
(২) উত্তম সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ।
(৩) বুখারী ও বাইহাকী।
(৪) ছহীহ সনদে নাসাঈ।

অতঃপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আল্লাহু আকবার' বলে সাজদাহ থেকে মাথা উঠাতেন। (২) এ বিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
লা- তাতিম্মু সলা-তুন লিআহাদিম মিনান্নাসি হাত্তা- ...... ইয়াসজুদু, হাত্তা- তাত্বমা'ইন্না মাফা-সিলুহ, সুম্মা ইয়াক্বূলু : আল্লাহু আকবারু অ ইয়ারফা'উ রা'সাহু হাত্তা- ইয়াসতাবিয়া ক্বা-'ইদান, অ কা-না ইয়ারফা'উ ইয়াদaihi মা'আ হা-যাত তাকবীলি আহ্ইয়া-নান *
কোন ব্যক্তির ছালাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ.... না এভাবে সাজদা করবে যে, তার দেহের প্রত্যেকটি জয়েন্ট সুস্থিরভাবে অবস্থান নেয় অতঃপর 'আল্লাহু আকবার' বলে স্বীয় মস্তক উত্তোলন করবে এবং সোজা হয়ে বসবে। (৩) তিনি কখনও এই তাকবীরের সাথে হস্ত উত্তোলন করতেন (৪)
সুম্মা ইয়াফরিশু রিজলাহুল ইউসরা- ফায়াক্ব'উদু 'আলাইহা- মুত্বমা'ইন্নানিন্ )
অতঃপর স্বীয় বাম পা বিছিয়ে তার উপর সুস্থিরভাবে বসতেন। (১) এ ব্যাপারে ছালাতে ত্রুটিকারীকে তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেন:
ইযা- সাজাদতা ফামাক্কিনিস সুজূদাকা, ফাইযা- রাফা'তা ফাক্ব'উদ 'আলা- ফখিযিকাল ইউসরা- )
তুমি যখন সাজদা করবে তখন স্থির হয়ে তা করবে আর যখন উঠবে তখন স্বীয় বাম উরুর উপর বসবে। (২)
অকা-না ইয়ানসিবু রিজলাহুল ইউমনা-, অ ইয়াসতাক্ববিলু বিআসা-বি'ইহাল ক্বিবলাহ )
তিনি স্বীয় ডান পা খাড়া রাখতেন। (৩) এবং অঙ্গুলিগুলো কিবলামুখী রাখতেন। (৪)

টিকাঃ
(২) বুখারী ও মুসলিম।
(৩) আবূ দাউদ ও হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন।
(৪) ছহীহ সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ। ইমাম আহমাদের নিকট এই স্থানে এবং প্রত্যেক তাকবীরের সময় হস্ত উত্তোলন সুন্নতসম্মত। ইবনুল কাইয়িম 'আল বাদাই' (৪/৮৯) গ্রন্থে লিখেন: 'আছরম (মূলতঃ ইবনুল আছরম) তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেন যে, ইমাম সাহেবকে হস্ত উত্তোলন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, প্রতি উত্তরে তিনি বলেন: ইহা প্রত্যেক উঁচু-নিচুর সময় করণীয়, আছরম বলেন: আমিত আবু আব্দিল্লাহকে দেখেছি তিনি ছালাতে প্রত্যেক উঁচু-নিচু হওয়ার সময় হস্ত উত্তোলন করতেন। ===শাফি'ঈদের মধ্য হতে এ কথার প্রবক্তা ইবনুল মুনযির ও আবু আলী। এটি ইমাম মালিক ও শাফিঈরও একটি বক্তব্য, 'ত্বরহুত্তাছরীব' দ্রষ্টব্য। এ স্থানে আনাস ইবনু উমার, নাফি' তাউস, হাসান বাছরী, ইবনু সীরীন, আবু আইয়ূব সাখতিয়ানী প্রমুখগণ থেকেও বিশুদ্ধ সনদে হস্ত উত্তোলন সাব্যস্ত হয়েছে। (দেখুন 'মুছান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ- ১/১০৬)।
(১) বুখারী 'জুটু রফউল ইয়াদাইন' আবু দাউদ ছহীহ সনদে, মুসলিম ও আবু উওয়ানাh এটি 'আল ইরওয়া' গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩১৬)
(২) উত্তম সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ।
(৩) বুখারী ও বাইহাকী।
(৪) ছহীহ সনদে নাসাঈ।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 দু’ই সাজদার মধ্যে পায়ের গোড়ালির উপর বসা

📄 দু’ই সাজদার মধ্যে পায়ের গোড়ালির উপর বসা


কান্না আহ্ইয়া-নান ইউক্বি'ঈ ইয়ানতাসিবু 'আলা- 'আক্বিবাইhi অ সুদূরি ক্বদামাইহি *
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনও ইকুআ' করে তথা উভয় গোড়ালি ও পায়ের বক্ষদেশের উপর দাঁড় করিয়ে তার উপর বসতেন। (৫)

টিকাঃ
(৫) মুসলিম, আবূ উওয়ানা, আবুশ শাইখ 'মা-রাওয়াহু আবুয যুবাইর আন জাবির গ্রন্থে (নং ১০৪-১০৬), বাইহাকী। ইবনুল কাইয়িম ভুল বশত, দুই সাজদার মধ্য খানে পা বিছিয়ে বসার কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এ বৈঠকে এ পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি বর্ণিত হয়নি।"
আমি বলতে চাই: কথাটি কিভাবে সঠিক হতে পারে যেখানে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ছহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযীতে এই হাদীছ==বর্ণিত হয়েছে এবং তিরমিযী একে ছহীহ বলেছেন অন্যান্যরাও এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন দেখুন 'আছছাহীহা' (৩৮৩)। বাইহাকীতেও হাসান সনদে ইবনু উমার থেকে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে যাকে ইবনু হাজার ছহীহ বলেছেন। আবু ইসহাক আল-হারবী 'গারীবুল হাদীছ' (খণ্ড ৫/১২/১) তাউস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাসকে ইকুআ' করতে দেখেছেন, এর সনদ বিশুদ্ধ। আল্লাহ ইমাম মালিককে রহম করুন। তিনি বলেছিলেন- 'আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি কারো কোন কথা অগ্রাহ্য করেন না এবং তার কোন কথা অগ্রাহ্য হবে না-কেবল এই কবরবাসী ব্যতীত; এ কথা বলে তিনি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবরের দিকে ইঙ্গিত করতেন। এই সুন্নতের উপর ছাহাবা, তাবিইন ও অন্যান্যদের একদল আমল করেছেন। এ বিষয়ে আমি মূল কিতাবে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। আমার আরেকটি কথা হচ্ছে এই যে, এখানে উল্লেখিত ইকুআ' নিষিদ্ধ ইকুআ' থেকে ভিন্ন, যা তাশাহ্ হুদের বৈঠকের আলোচনায় আসবে।

কান্না আহ্ইয়া-নান ইউক্বি'ঈ ইয়ানতাসিবু 'আলা- 'আক্বিবাইhi অ সুদূরি ক্বদামাইহি *
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনও ইকুআ' করে তথা উভয় গোড়ালি ও পায়ের বক্ষদেশের উপর দাঁড় করিয়ে তার উপর বসতেন। (৫)

টিকাঃ
(৫) মুসলিম, আবূ উওয়ানা, আবুশ শাইখ 'মা-রাওয়াহু আবুয যুবাইর আন জাবির গ্রন্থে (নং ১০৪-১০৬), বাইহাকী। ইবনুল কাইয়িম ভুল বশত, দুই সাজদার মধ্য খানে পা বিছিয়ে বসার কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এ বৈঠকে এ পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি বর্ণিত হয়নি।"
আমি বলতে চাই: কথাটি কিভাবে সঠিক হতে পারে যেখানে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ছহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযীতে এই হাদীছ==বর্ণিত হয়েছে এবং তিরমিযী একে ছহীহ বলেছেন অন্যান্যরাও এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন দেখুন 'আছছাহীহা' (৩৮৩)। বাইহাকীতেও হাসান সনদে ইবনু উমার থেকে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে যাকে ইবনু হাজার ছহীহ বলেছেন। আবু ইসহাক আল-হারবী 'গারীবুল হাদীছ' (খণ্ড ৫/১২/১) তাউস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাসকে ইকুআ' করতে দেখেছেন, এর সনদ বিশুদ্ধ। আল্লাহ ইমাম মালিককে রহম করুন। তিনি বলেছিলেন- 'আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি কারো কোন কথা অগ্রাহ্য করেন না এবং তার কোন কথা অগ্রাহ্য হবে না-কেবল এই কবরবাসী ব্যতীত; এ কথা বলে তিনি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবরের দিকে ইঙ্গিত করতেন। এই সুন্নতের উপর ছাহাবা, তাবিইন ও অন্যান্যদের একদল আমল করেছেন। এ বিষয়ে আমি মূল কিতাবে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। আমার আরেকটি কথা হচ্ছে এই যে, এখানে উল্লেখিত ইকুআ' নিষিদ্ধ ইকুআ' থেকে ভিন্ন, যা তাশাহ্ হুদের বৈঠকের আলোচনায় আসবে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 দু’ই সাজদার মধ্যবর্তী অবস্থায় স্থিরতা অবলম্বন ওয়াজিব

📄 দু’ই সাজদার মধ্যবর্তী অবস্থায় স্থিরতা অবলম্বন ওয়াজিব


কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইয়াত্বমা'ইন্নু হাত্তা- ইয়ারজি'আ কুল্লু 'আযমিন ইলা- মাওযি'ইহী *
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই সাজদার মধ্যবর্তী অবস্থায় এমনভাবে স্থিরতা অবলম্বন করতেন যার ফলে প্রত্যেক হাড় স্ব স্ব স্থানে ফিরে যেত। (১) তিনি এ বিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
লা- তাতিম্মু সলা-তু আহাদিকুম হাত্তা- ইয়াফ'আলা যা-লিকা *
এমনটি না করা পর্যন্ত তোমাদের কারো ছালাত পূর্ণ হবে না। (২)
অকা-না ইউতীলুহা- হাত্তা- তাকূনা ক্বারী বাম মিন সাজদাতিহী, অ আহ্ইয়া-নান ইয়ামকুছু হাত্তা- ইয়াক্বূলুল ক্বা-ইলু : ক্বদ নাসিয়া *
বৈঠককে এতই দীর্ঘায়িত করতেন যে প্রায় সাজদার পরিমাণ হয়ে যেত। (৩) আবার কখনও এত দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান করতেন যে, কেউ কেউ মনে মনে বলতে লাগত, নিশ্চয় তিনি ভুলে গেছেন। (১)

টিকাঃ
(১) ছহীহ সনেদ আবূ দাউদ ও বাইহাকী।
(২) আবূ দাউদ, হাকিম এবং তিনি একে ছাহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।
(১) বুখারী, মুসলিম। ইবনুল কাইয়িম বলেন: ছাহাবাদের যুগ অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর থেকে লোকজন এই সুন্নত পরিত্যাগ করেছে, পক্ষান্তরে যারা হাদীছকে ফয়ছালা দানকারী হিসাবে বরণ করে নিয়েছে এবং এর বিপরীত কোন বক্তব্যের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেনা, তারা এই আদর্শ বিরুদ্ধ কোন কিছুর তোওয়াক্কাই করে না।

কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইয়াত্বমা'ইন্নু হাত্তা- ইয়ারজি'আ কুল্লু 'আযমিন ইলা- মাওযি'ইহী *
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই সাজদার মধ্যবর্তী অবস্থায় এমনভাবে স্থিরতা অবলম্বন করতেন যার ফলে প্রত্যেক হাড় স্ব স্ব স্থানে ফিরে যেত। (১) তিনি এ বিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
লা- তাতিম্মু সলা-তু আহাদিকুম হাত্তা- ইয়াফ'আলা যা-লিকা *
এমনটি না করা পর্যন্ত তোমাদের কারো ছালাত পূর্ণ হবে না। (২)
অকা-না ইউতীলুহা- হাত্তা- তাকূনা ক্বারী বাম মিন সাজদাতিহী, অ আহ্ইয়া-নান ইয়ামকুছু হাত্তা- ইয়াক্বূলুল ক্বা-ইলু : ক্বদ নাসিয়া *
বৈঠককে এতই দীর্ঘায়িত করতেন যে প্রায় সাজদার পরিমাণ হয়ে যেত। (৩) আবার কখনও এত দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান করতেন যে, কেউ কেউ মনে মনে বলতে লাগত, নিশ্চয় তিনি ভুলে গেছেন। (১)

টিকাঃ
(১) ছহীহ সনেদ আবূ দাউদ ও বাইহাকী।
(২) আবূ দাউদ, হাকিম এবং তিনি একে ছাহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।
(১) বুখারী, মুসলিম। ইবনুল কাইয়িম বলেন: ছাহাবাদের যুগ অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর থেকে লোকজন এই সুন্নত পরিত্যাগ করেছে, পক্ষান্তরে যারা হাদীছকে ফয়ছালা দানকারী হিসাবে বরণ করে নিয়েছে এবং এর বিপরীত কোন বক্তব্যের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেনা, তারা এই আদর্শ বিরুদ্ধ কোন কিছুর তোওয়াক্কাই করে না।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 দু’ই সাজদার মধ্যে পঠিতব্য দু‘আ ও যিকরসমূহ

📄 দু’ই সাজদার মধ্যে পঠিতব্য দু‘আ ও যিকরসমূহ


নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বৈঠকে বলতেন : আল্লাহুম্মাগফিরলী অরহামনী অজবুরনী অাহদিনী, অ'আ-ফিনী, অরযুক্বনী *
অপর বর্ণনায় রব্বি শব্দ এসেছে। অর্থঃ হে আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা কর, দয়া কর, ক্ষতি পূরণ কর, মর্যাদা বৃদ্ধি কর, হিদায়াত দাও, নিরাপত্তা ও জীবিকা দান কর। (২)
২। কখনও তিনি বলতেন : রব্বিগফিরলী ইগফিরলী *
অর্থ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর, আমাকে ক্ষমা কর। (৩) উপরোক্ত দুটি দু'আ তিনি রাত্রিকালীন নফল ছালাতে পাঠ করতেন। (৪) অতঃপর তিনি তাকবীর বলে দ্বিতীয় সাজদা করতেন। (১) তিনি এ বিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে পূর্বোক্ত বক্তব্যের ন্যায় ধীরস্থিরতার জন্য নির্দেশ দিয়ে বলেন:
সুম্মা তাক্বূলু : «আল্লাহু আকবারু সুম্মা তাসজুদু হাত্তা- তাত্বমা'ইন্না মাফা-সিলুকা, সুম্মা ইফ'আল যা-লিকা ফী সলা-তিকা কুল্লিহা- *
অতঃপর তুমি 'আল্লাহু আকবার' বলবে, অতঃপর এমনভাবে সাজদা করবে যাতে তোমার জোড়াগুলো স্থির হয়ে যায়। অতঃপর পুরো ছালাতে তুমি এমনটি করবে। (২)
কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইয়ারফা'উ ইয়াদaihi মা'আ হা-যাত তাকবীলি আহ্ইয়া-নান *
তিনি কখনও এই তাকবীরের সময় হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন। (৩) তিনি এই সাজদাকে প্রথম সাজদার ন্যায় সম্পাদন করতেন, অতঃপর তাকবীর বলে স্বীয় মস্তক উত্তোলন করতেন। (৪) এ বিষয়ে তিনি ছালাতে ত্রুটিকারীকে দ্বিতীয় সাজদার নির্দেশ দান পূর্বক বলেন:
সুম্মা ইয়ারফা'উ রা'সাহু ফাইউকাব্বিরু, অক্ব-লা লাহু : সুম্মা ইসনা' যা-লিকা ফী কুল্লি রাক'আতিন অ সাজদাতিন ফাইযা- ফা'আলতা যা-লিকা ফাক্বাদ তামাক্কাত সলা-তুকা, অ ইন আনক্বাসতা মিনহু শাইয়্যান, আনক্বাসতা মিন সলা-তিকা )
অতঃপর স্বীয় মস্তক উত্তোলন পূর্বক 'আল্লাহ আকবার' বলতেন (৫) এবং তাকে এও বলেন- অতঃপর প্রত্যেক রাক'আত ও সাজদায় এমনটি করবে। আর তুমি যখন এসব করবে তখন তোমার ছালাত পূর্ণ হবে। যদি এতে ত্রুটি কর তবে যে পরিমাণ ত্রুটি করবে সেই পরিমাণেই ছালাত ত্রুটিপূর্ণ থেকে যাবে (১) তিনি এই ক্ষেত্রে কখনো কখনো হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন। (২)

টিকাঃ
(২) আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৩) হাসান সনদে ইবনু মাজাহ, ইমাম আহমাদ এই দু'আ গ্রহণ করেন। ইসহাক ইবনু রা-হাওয়াইহ্ বলেন: ইচ্ছা করলে এ দু'আ তিনবার বলবে অথবা ইচ্ছা করলে আল্লাহুম্মাগফিরলী বলবে, কেননা দুই সাজদার মধ্যখানে দুটি দু'আই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে উল্লেখ হয়েছে, যেমন রয়েছে- 'মাসা-ইলুল ইমাম আহমদ ও ইসহাক বিন রা-হাওয়াইহ্' এর গ্রন্থে ইসহাক আল-মারওয়াযীর বর্ণনা মতে। (পৃষ্ঠা ১৯)
(৪) এটি ফরয ছালাতে পড়া রীতি বিরুদ্ধ নয়। যেহেতু ফরয এবং নফলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, এ মতই পোষণ করেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। তারা মনে করেন যে, এটা ফরয এবং নফল উভয় ছালাতেই বৈধ যেমন ইমাম তিরমিযী উদ্ধৃত করেন, ইমাম ত্বাহাবীও 'মুশকিলুল আ-ছা-র' গ্রন্থে এর বৈধতা স্বীকার করেন। বিশুদ্ধ চিন্তা-বিবেচনাও এ কথার সমর্থন করে কেননা ছালাতে এমন কোন স্থান নেই যেখানে যিকর পাঠ করা যায় না। অতএব এখানেও তাই হওয়া উচিত। ব্যাপারটি অতি স্পষ্ট।
(১) বুখারী ও মুসলিম।
(২) আবূ দাউদ, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, অতিরিক্ত অংশ বুখারী ও মুসলিমের।
(৩) দু'টি ছহীহ সনদে আবু উওয়ানাহ্ ও আবূ দাউদ, এই হস্ত উত্তোলন সম্পর্কে আহমাদ এবং মালিক ও শাফিঈ উভয়জন থেকে বর্ণিত এক বর্ণনায় সমর্থন করেছেন, দেখুন পৃষ্ঠা ১৫১ টীকা- ৩।
(৪) বুখারী ও মুসলিম।
(৫) আবু দাউদ, হাকিম, তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেন।

নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বৈঠকে বলতেন : আল্লাহুম্মাগফিরলী অরহামনী অজবুরনী অাহদিনী, অ'আ-ফিনী, অরযুক্বনী *
অপর বর্ণনায় রব্বি শব্দ এসেছে। অর্থঃ হে আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা কর, দয়া কর, ক্ষতি পূরণ কর, মর্যাদা বৃদ্ধি কর, হিদায়াত দাও, নিরাপত্তা ও জীবিকা দান কর। (২)
২। কখনও তিনি বলতেন : রব্বিগফিরলী ইগফিরলী *
অর্থ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর, আমাকে ক্ষমা কর। (৩) উপরোক্ত দুটি দু'আ তিনি রাত্রিকালীন নফল ছালাতে পাঠ করতেন। (৪) অতঃপর তিনি তাকবীর বলে দ্বিতীয় সাজদা করতেন। (১) তিনি এ বিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে পূর্বোক্ত বক্তব্যের ন্যায় ধীরস্থিরতার জন্য নির্দেশ দিয়ে বলেন:
সুম্মা তাক্বূলু : «আল্লাহু আকবারু সুম্মা তাসজুদু হাত্তা- তাত্বমা'ইন্না মাফা-সিলুকা, সুম্মা ইফ'আল যা-লিকা ফী সলা-তিকা কুল্লিহা- *
অতঃপর তুমি 'আল্লাহু আকবার' বলবে, অতঃপর এমনভাবে সাজদা করবে যাতে তোমার জোড়াগুলো স্থির হয়ে যায়। অতঃপর পুরো ছালাতে তুমি এমনটি করবে। (২)
কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইয়ারফা'উ ইয়াদaihi মা'আ হা-যাত তাকবীলি আহ্ইয়া-নান *
তিনি কখনও এই তাকবীরের সময় হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন। (৩) তিনি এই সাজদাকে প্রথম সাজদার ন্যায় সম্পাদন করতেন, অতঃপর তাকবীর বলে স্বীয় মস্তক উত্তোলন করতেন। (৪) এ বিষয়ে তিনি ছালাতে ত্রুটিকারীকে দ্বিতীয় সাজদার নির্দেশ দান পূর্বক বলেন:
সুম্মা ইয়ারফা'উ রা'সাহু ফাইউকাব্বিরু, অক্ব-লা লাহু : সুম্মা ইসনা' যা-লিকা ফী কুল্লি রাক'আতিন অ সাজদাতিন ফাইযা- ফা'আলতা যা-লিকা ফাক্বাদ তামাক্কাত সলা-তুকা, অ ইন আনক্বাসতা মিনহু শাইয়্যান, আনক্বাসতা মিন সলা-তিকা )
অতঃপর স্বীয় মস্তক উত্তোলন পূর্বক 'আল্লাহ আকবার' বলতেন (৫) এবং তাকে এও বলেন- অতঃপর প্রত্যেক রাক'আত ও সাজদায় এমনটি করবে। আর তুমি যখন এসব করবে তখন তোমার ছালাত পূর্ণ হবে। যদি এতে ত্রুটি কর তবে যে পরিমাণ ত্রুটি করবে সেই পরিমাণেই ছালাত ত্রুটিপূর্ণ থেকে যাবে (১) তিনি এই ক্ষেত্রে কখনো কখনো হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন। (২)

টিকাঃ
(২) আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৩) হাসান সনদে ইবনু মাজাহ, ইমাম আহমাদ এই দু'আ গ্রহণ করেন। ইসহাক ইবনু রা-হাওয়াইহ্ বলেন: ইচ্ছা করলে এ দু'আ তিনবার বলবে অথবা ইচ্ছা করলে আল্লাহুম্মাগফিরলী বলবে, কেননা দুই সাজদার মধ্যখানে দুটি দু'আই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে উল্লেখ হয়েছে, যেমন রয়েছে- 'মাসা-ইলুল ইমাম আহমদ ও ইসহাক বিন রা-হাওয়াইহ্' এর গ্রন্থে ইসহাক আল-মারওয়াযীর বর্ণনা মতে। (পৃষ্ঠা ১৯)
(৪) এটি ফরয ছালাতে পড়া রীতি বিরুদ্ধ নয়। যেহেতু ফরয এবং নফলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, এ মতই পোষণ করেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। তারা মনে করেন যে, এটা ফরয এবং নফল উভয় ছালাতেই বৈধ যেমন ইমাম তিরমিযী উদ্ধৃত করেন, ইমাম ত্বাহাবীও 'মুশকিলুল আ-ছা-র' গ্রন্থে এর বৈধতা স্বীকার করেন। বিশুদ্ধ চিন্তা-বিবেচনাও এ কথার সমর্থন করে কেননা ছালাতে এমন কোন স্থান নেই যেখানে যিকর পাঠ করা যায় না। অতএব এখানেও তাই হওয়া উচিত। ব্যাপারটি অতি স্পষ্ট।
(১) বুখারী ও মুসলিম।
(২) আবূ দাউদ, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, অতিরিক্ত অংশ বুখারী ও মুসলিমের।
(৩) দু'টি ছহীহ সনদে আবু উওয়ানাহ্ ও আবূ দাউদ, এই হস্ত উত্তোলন সম্পর্কে আহমাদ এবং মালিক ও শাফিঈ উভয়জন থেকে বর্ণিত এক বর্ণনায় সমর্থন করেছেন, দেখুন পৃষ্ঠা ১৫১ টীকা- ৩।
(৪) বুখারী ও মুসলিম।
(৫) আবু দাউদ, হাকিম, তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00