📄 মাটি ও চাটাই এর উপর সাজদাহ করা
অকা-না ইয়াসজুদু 'আলাল আরযি কাছীরান *
তিনি মাটির উপরেই বেশীর ভাগ সাজদা করতেন। (২)
কান্না আসহা-বুহু ইউছাল্লূনা মা'আহু ফী শিদ্দাতিিল হাররি, ফাইযা- লাম ইয়াসতাত্বি' আহাদুহুম আন ইউমকিনা জাবহাতাহু মিনাল আরযি, বাসাত্বা ছাওবাহু ফাসাজাদা 'আলাইহি *
ছাহাবাগণ কঠিন গরমের ভিতর তাঁর সাথে ছালাত আদায় করা কালে যিনি স্বীয় কপাল মাটিতে ঠেকাতে পারতেন না তিনি তার কাপড় বিছিয়ে দিয়ে তার উপর সাজদা করতেন। (৩)
আর তিনি এ কথা বলতেন : .... অ জু'ইলাতিল আরযু কুল্লাহু লী অ লিউম্মাতী মাসজিদান অ তূহূরা-, ফাআইনামা- আদ্রাকাত রাজুলান মিন উম্মাতীস সলা-তা, ফা'ইনদahু মাসজিদুহু, অ 'ইনদাহু তূহূরুহু, অ কা-না মিন ক্বাবলী ইউ'আযযিমূনা যা-লিকা, ইন্নama- কা-নূ ইউছাল্লূনা ফী কানা-ইসিহিম অ বিয়া'ইহিম *
আমার ও আমার উম্মতের জন্য গোটা পৃথিবীকে মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের উপযোগী করে দেয়া হয়েছে। অতএব যেখানেই কোন লোকের ছালাত উপস্থিত হবে সেখানেই তার জন্য মসজিদ তথা ছালাতের স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের উপাদান রয়েছে। আমার পূর্বেকার লোকেদেরকে এ ব্যাপারে বিরাট অসুবিধা পোহাতে হত, তারা কেবল গীর্জা ও উপাসনালয়গুলোতেই ছালাত আদায় করতে পারত। (১)
কখনো তিনি ভিজা মাটি ও পানির উপর সাজদাহ করতেন, এ ঘটনাই ঘটেছিল একুশ রমাযানের রাত্রের ফজরে। সে রাত্রে আসমান থেকে বৃষ্টিপাত হওয়ায় মসজিদের ছাদ (চাল) বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়েছিল, আর তা ছিল খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত। এ কারণেই তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পানি ও ভিজা মাটির (কাদার) উপর সাজদাহ করেন। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন: ফাআবসারাত 'আইনা-ইয়া রাসূ-লুল্লাহি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা অ'আলা- জাবহাতিহী অ আনফিহী আছারুল মা-ই অত্বত্বীন *
আমার চক্ষুদ্বয় রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এবং তাঁর কপাল ও নাককে পানি ও মাটির চিহ্ন যুক্ত অবস্থায় দেখেছে। (২)
অকা-না ইউছাল্লী 'আলাল খুমরাতি আহ্ইয়া-নান, অ 'আলাল হাসীরি আহ্ইয়া-নান, অ ছল্লা- 'আলাইhi মাররাতান অক্বাদ আসওয়াদদা মিন তূলি মা- লুবিসা *
তিনি কখনো কাপড়ের টুকরোর (৩) উপর আবার কখনো, চাটাই (৪) এর উপর ছালাত আদায় করতেন। কখনো তিনি এমন চাটাই এর উপরেও ছালাত পড়েছেন যা দীর্ঘকাল ব্যবহারের কারণে কাল রূপ ধারণ করেছে। (১)
টিকাঃ
(২) কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মসজিদ চাটাই বা অন্য কিছু দ্বারা কার্পেটিং করা ছিল না। এ বিষয়ে প্রমাণ বহনকারী অনেক হাদীছ রয়েছে তন্মধ্যে পরবর্তী হাদীছ এবং আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আসন্ন হাদীছ প্রণিধান যোগ্য।
(৩) মুসলিম ও আবূ উওয়ানাহ্।
(১) আহমাদ, সাররাজ ও বাইহাকী, ছহীহ সনদে।
(২) বুখারী ও মুসলিম। হাদীছে আল খুমরাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে তাল জাতীয় বৃক্ষের পাতা দ্বারা তৈরী ছোট চাটাই যার উপর সাজদাকালে কপাল রাখা যায়। খুমরাহ এই পরিমাণ ব্যতীত অন্য কিছুর উপর প্রয়োগ হয়না। 'আন নিহায়াহ'।
(৪) মুসলিম ও আবু উওয়ানা।
(১) বুখারী ও মুসলিম। অত্র হাদীছে একথার প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে যে, কোন বস্তুর উপর বসাকে এক পর্যায়ের পরিধানও বলা যায়। অতএব রেশমী কাপড়ের উপর বসা হারাম প্রমাণিত হল যেহেতু বুখারী মুসলিমসহ অন্যান্য কিতাবে এটা পরিধান করা হারাম সাব্যস্ত হয়েছে। বরং বুখারী-মুসলিমে স্পষ্ট ভাষায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই বড় আলিমদের ভিতর থেকে যিনি একে বৈধ বলেছেন তাঁর কথায় ধোঁকা খাবেন না।
📄 সাজদাহ থেকে উঠা
অতঃপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আল্লাহু আকবার' বলে সাজদাহ থেকে মাথা উঠাতেন। (২) এ বিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
লা- তাতিম্মু সলা-তুন লিআহাদিম মিনান্নাসি হাত্তা- ...... ইয়াসজুদু, হাত্তা- তাত্বমা'ইন্না মাফা-সিলুহ, সুম্মা ইয়াক্বূলু : আল্লাহু আকবারু অ ইয়ারফা'উ রা'সাহু হাত্তা- ইয়াসতাবিয়া ক্বা-'ইদান, অ কা-না ইয়ারফা'উ ইয়াদaihi মা'আ হা-যাত তাকবীলি আহ্ইয়া-নান *
কোন ব্যক্তির ছালাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ.... না এভাবে সাজদা করবে যে, তার দেহের প্রত্যেকটি জয়েন্ট সুস্থিরভাবে অবস্থান নেয় অতঃপর 'আল্লাহু আকবার' বলে স্বীয় মস্তক উত্তোলন করবে এবং সোজা হয়ে বসবে। (৩) তিনি কখনও এই তাকবীরের সাথে হস্ত উত্তোলন করতেন (৪)
সুম্মা ইয়াফরিশু রিজলাহুল ইউসরা- ফায়াক্ব'উদু 'আলাইহা- মুত্বমা'ইন্নানিন্ )
অতঃপর স্বীয় বাম পা বিছিয়ে তার উপর সুস্থিরভাবে বসতেন। (১) এ ব্যাপারে ছালাতে ত্রুটিকারীকে তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেন:
ইযা- সাজাদতা ফামাক্কিনিস সুজূদাকা, ফাইযা- রাফা'তা ফাক্ব'উদ 'আলা- ফখিযিকাল ইউসরা- )
তুমি যখন সাজদা করবে তখন স্থির হয়ে তা করবে আর যখন উঠবে তখন স্বীয় বাম উরুর উপর বসবে। (২)
অকা-না ইয়ানসিবু রিজলাহুল ইউমনা-, অ ইয়াসতাক্ববিলু বিআসা-বি'ইহাল ক্বিবলাহ )
তিনি স্বীয় ডান পা খাড়া রাখতেন। (৩) এবং অঙ্গুলিগুলো কিবলামুখী রাখতেন। (৪)
টিকাঃ
(২) বুখারী ও মুসলিম।
(৩) আবূ দাউদ ও হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন।
(৪) ছহীহ সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ। ইমাম আহমাদের নিকট এই স্থানে এবং প্রত্যেক তাকবীরের সময় হস্ত উত্তোলন সুন্নতসম্মত। ইবনুল কাইয়িম 'আল বাদাই' (৪/৮৯) গ্রন্থে লিখেন: 'আছরম (মূলতঃ ইবনুল আছরম) তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেন যে, ইমাম সাহেবকে হস্ত উত্তোলন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, প্রতি উত্তরে তিনি বলেন: ইহা প্রত্যেক উঁচু-নিচুর সময় করণীয়, আছরম বলেন: আমিত আবু আব্দিল্লাহকে দেখেছি তিনি ছালাতে প্রত্যেক উঁচু-নিচু হওয়ার সময় হস্ত উত্তোলন করতেন। ===শাফি'ঈদের মধ্য হতে এ কথার প্রবক্তা ইবনুল মুনযির ও আবু আলী। এটি ইমাম মালিক ও শাফিঈরও একটি বক্তব্য, 'ত্বরহুত্তাছরীব' দ্রষ্টব্য। এ স্থানে আনাস ইবনু উমার, নাফি' তাউস, হাসান বাছরী, ইবনু সীরীন, আবু আইয়ূব সাখতিয়ানী প্রমুখগণ থেকেও বিশুদ্ধ সনদে হস্ত উত্তোলন সাব্যস্ত হয়েছে। (দেখুন 'মুছান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ- ১/১০৬)।
(১) বুখারী 'জুটু রফউল ইয়াদাইন' আবু দাউদ ছহীহ সনদে, মুসলিম ও আবু উওয়ানাh এটি 'আল ইরওয়া' গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩১৬)
(২) উত্তম সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ।
(৩) বুখারী ও বাইহাকী।
(৪) ছহীহ সনদে নাসাঈ।
অতঃপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আল্লাহু আকবার' বলে সাজদাহ থেকে মাথা উঠাতেন। (২) এ বিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
লা- তাতিম্মু সলা-তুন লিআহাদিম মিনান্নাসি হাত্তা- ...... ইয়াসজুদু, হাত্তা- তাত্বমা'ইন্না মাফা-সিলুহ, সুম্মা ইয়াক্বূলু : আল্লাহু আকবারু অ ইয়ারফা'উ রা'সাহু হাত্তা- ইয়াসতাবিয়া ক্বা-'ইদান, অ কা-না ইয়ারফা'উ ইয়াদaihi মা'আ হা-যাত তাকবীলি আহ্ইয়া-নান *
কোন ব্যক্তির ছালাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ.... না এভাবে সাজদা করবে যে, তার দেহের প্রত্যেকটি জয়েন্ট সুস্থিরভাবে অবস্থান নেয় অতঃপর 'আল্লাহু আকবার' বলে স্বীয় মস্তক উত্তোলন করবে এবং সোজা হয়ে বসবে। (৩) তিনি কখনও এই তাকবীরের সাথে হস্ত উত্তোলন করতেন (৪)
সুম্মা ইয়াফরিশু রিজলাহুল ইউসরা- ফায়াক্ব'উদু 'আলাইহা- মুত্বমা'ইন্নানিন্ )
অতঃপর স্বীয় বাম পা বিছিয়ে তার উপর সুস্থিরভাবে বসতেন। (১) এ ব্যাপারে ছালাতে ত্রুটিকারীকে তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেন:
ইযা- সাজাদতা ফামাক্কিনিস সুজূদাকা, ফাইযা- রাফা'তা ফাক্ব'উদ 'আলা- ফখিযিকাল ইউসরা- )
তুমি যখন সাজদা করবে তখন স্থির হয়ে তা করবে আর যখন উঠবে তখন স্বীয় বাম উরুর উপর বসবে। (২)
অকা-না ইয়ানসিবু রিজলাহুল ইউমনা-, অ ইয়াসতাক্ববিলু বিআসা-বি'ইহাল ক্বিবলাহ )
তিনি স্বীয় ডান পা খাড়া রাখতেন। (৩) এবং অঙ্গুলিগুলো কিবলামুখী রাখতেন। (৪)
টিকাঃ
(২) বুখারী ও মুসলিম।
(৩) আবূ দাউদ ও হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন।
(৪) ছহীহ সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ। ইমাম আহমাদের নিকট এই স্থানে এবং প্রত্যেক তাকবীরের সময় হস্ত উত্তোলন সুন্নতসম্মত। ইবনুল কাইয়িম 'আল বাদাই' (৪/৮৯) গ্রন্থে লিখেন: 'আছরম (মূলতঃ ইবনুল আছরম) তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেন যে, ইমাম সাহেবকে হস্ত উত্তোলন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, প্রতি উত্তরে তিনি বলেন: ইহা প্রত্যেক উঁচু-নিচুর সময় করণীয়, আছরম বলেন: আমিত আবু আব্দিল্লাহকে দেখেছি তিনি ছালাতে প্রত্যেক উঁচু-নিচু হওয়ার সময় হস্ত উত্তোলন করতেন। ===শাফি'ঈদের মধ্য হতে এ কথার প্রবক্তা ইবনুল মুনযির ও আবু আলী। এটি ইমাম মালিক ও শাফিঈরও একটি বক্তব্য, 'ত্বরহুত্তাছরীব' দ্রষ্টব্য। এ স্থানে আনাস ইবনু উমার, নাফি' তাউস, হাসান বাছরী, ইবনু সীরীন, আবু আইয়ূব সাখতিয়ানী প্রমুখগণ থেকেও বিশুদ্ধ সনদে হস্ত উত্তোলন সাব্যস্ত হয়েছে। (দেখুন 'মুছান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ- ১/১০৬)।
(১) বুখারী 'জুটু রফউল ইয়াদাইন' আবু দাউদ ছহীহ সনদে, মুসলিম ও আবু উওয়ানাh এটি 'আল ইরওয়া' গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩১৬)
(২) উত্তম সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ।
(৩) বুখারী ও বাইহাকী।
(৪) ছহীহ সনদে নাসাঈ।
📄 দু’ই সাজদার মধ্যে পায়ের গোড়ালির উপর বসা
কান্না আহ্ইয়া-নান ইউক্বি'ঈ ইয়ানতাসিবু 'আলা- 'আক্বিবাইhi অ সুদূরি ক্বদামাইহি *
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনও ইকুআ' করে তথা উভয় গোড়ালি ও পায়ের বক্ষদেশের উপর দাঁড় করিয়ে তার উপর বসতেন। (৫)
টিকাঃ
(৫) মুসলিম, আবূ উওয়ানা, আবুশ শাইখ 'মা-রাওয়াহু আবুয যুবাইর আন জাবির গ্রন্থে (নং ১০৪-১০৬), বাইহাকী। ইবনুল কাইয়িম ভুল বশত, দুই সাজদার মধ্য খানে পা বিছিয়ে বসার কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এ বৈঠকে এ পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি বর্ণিত হয়নি।"
আমি বলতে চাই: কথাটি কিভাবে সঠিক হতে পারে যেখানে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ছহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযীতে এই হাদীছ==বর্ণিত হয়েছে এবং তিরমিযী একে ছহীহ বলেছেন অন্যান্যরাও এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন দেখুন 'আছছাহীহা' (৩৮৩)। বাইহাকীতেও হাসান সনদে ইবনু উমার থেকে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে যাকে ইবনু হাজার ছহীহ বলেছেন। আবু ইসহাক আল-হারবী 'গারীবুল হাদীছ' (খণ্ড ৫/১২/১) তাউস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাসকে ইকুআ' করতে দেখেছেন, এর সনদ বিশুদ্ধ। আল্লাহ ইমাম মালিককে রহম করুন। তিনি বলেছিলেন- 'আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি কারো কোন কথা অগ্রাহ্য করেন না এবং তার কোন কথা অগ্রাহ্য হবে না-কেবল এই কবরবাসী ব্যতীত; এ কথা বলে তিনি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবরের দিকে ইঙ্গিত করতেন। এই সুন্নতের উপর ছাহাবা, তাবিইন ও অন্যান্যদের একদল আমল করেছেন। এ বিষয়ে আমি মূল কিতাবে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। আমার আরেকটি কথা হচ্ছে এই যে, এখানে উল্লেখিত ইকুআ' নিষিদ্ধ ইকুআ' থেকে ভিন্ন, যা তাশাহ্ হুদের বৈঠকের আলোচনায় আসবে।
কান্না আহ্ইয়া-নান ইউক্বি'ঈ ইয়ানতাসিবু 'আলা- 'আক্বিবাইhi অ সুদূরি ক্বদামাইহি *
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনও ইকুআ' করে তথা উভয় গোড়ালি ও পায়ের বক্ষদেশের উপর দাঁড় করিয়ে তার উপর বসতেন। (৫)
টিকাঃ
(৫) মুসলিম, আবূ উওয়ানা, আবুশ শাইখ 'মা-রাওয়াহু আবুয যুবাইর আন জাবির গ্রন্থে (নং ১০৪-১০৬), বাইহাকী। ইবনুল কাইয়িম ভুল বশত, দুই সাজদার মধ্য খানে পা বিছিয়ে বসার কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এ বৈঠকে এ পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি বর্ণিত হয়নি।"
আমি বলতে চাই: কথাটি কিভাবে সঠিক হতে পারে যেখানে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ছহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযীতে এই হাদীছ==বর্ণিত হয়েছে এবং তিরমিযী একে ছহীহ বলেছেন অন্যান্যরাও এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন দেখুন 'আছছাহীহা' (৩৮৩)। বাইহাকীতেও হাসান সনদে ইবনু উমার থেকে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে যাকে ইবনু হাজার ছহীহ বলেছেন। আবু ইসহাক আল-হারবী 'গারীবুল হাদীছ' (খণ্ড ৫/১২/১) তাউস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাসকে ইকুআ' করতে দেখেছেন, এর সনদ বিশুদ্ধ। আল্লাহ ইমাম মালিককে রহম করুন। তিনি বলেছিলেন- 'আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি কারো কোন কথা অগ্রাহ্য করেন না এবং তার কোন কথা অগ্রাহ্য হবে না-কেবল এই কবরবাসী ব্যতীত; এ কথা বলে তিনি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবরের দিকে ইঙ্গিত করতেন। এই সুন্নতের উপর ছাহাবা, তাবিইন ও অন্যান্যদের একদল আমল করেছেন। এ বিষয়ে আমি মূল কিতাবে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। আমার আরেকটি কথা হচ্ছে এই যে, এখানে উল্লেখিত ইকুআ' নিষিদ্ধ ইকুআ' থেকে ভিন্ন, যা তাশাহ্ হুদের বৈঠকের আলোচনায় আসবে।
📄 দু’ই সাজদার মধ্যবর্তী অবস্থায় স্থিরতা অবলম্বন ওয়াজিব
কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইয়াত্বমা'ইন্নু হাত্তা- ইয়ারজি'আ কুল্লু 'আযমিন ইলা- মাওযি'ইহী *
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই সাজদার মধ্যবর্তী অবস্থায় এমনভাবে স্থিরতা অবলম্বন করতেন যার ফলে প্রত্যেক হাড় স্ব স্ব স্থানে ফিরে যেত। (১) তিনি এ বিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
লা- তাতিম্মু সলা-তু আহাদিকুম হাত্তা- ইয়াফ'আলা যা-লিকা *
এমনটি না করা পর্যন্ত তোমাদের কারো ছালাত পূর্ণ হবে না। (২)
অকা-না ইউতীলুহা- হাত্তা- তাকূনা ক্বারী বাম মিন সাজদাতিহী, অ আহ্ইয়া-নান ইয়ামকুছু হাত্তা- ইয়াক্বূলুল ক্বা-ইলু : ক্বদ নাসিয়া *
বৈঠককে এতই দীর্ঘায়িত করতেন যে প্রায় সাজদার পরিমাণ হয়ে যেত। (৩) আবার কখনও এত দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান করতেন যে, কেউ কেউ মনে মনে বলতে লাগত, নিশ্চয় তিনি ভুলে গেছেন। (১)
টিকাঃ
(১) ছহীহ সনেদ আবূ দাউদ ও বাইহাকী।
(২) আবূ দাউদ, হাকিম এবং তিনি একে ছাহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।
(১) বুখারী, মুসলিম। ইবনুল কাইয়িম বলেন: ছাহাবাদের যুগ অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর থেকে লোকজন এই সুন্নত পরিত্যাগ করেছে, পক্ষান্তরে যারা হাদীছকে ফয়ছালা দানকারী হিসাবে বরণ করে নিয়েছে এবং এর বিপরীত কোন বক্তব্যের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেনা, তারা এই আদর্শ বিরুদ্ধ কোন কিছুর তোওয়াক্কাই করে না।
কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইয়াত্বমা'ইন্নু হাত্তা- ইয়ারজি'আ কুল্লু 'আযমিন ইলা- মাওযি'ইহী *
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই সাজদার মধ্যবর্তী অবস্থায় এমনভাবে স্থিরতা অবলম্বন করতেন যার ফলে প্রত্যেক হাড় স্ব স্ব স্থানে ফিরে যেত। (১) তিনি এ বিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
লা- তাতিম্মু সলা-তু আহাদিকুম হাত্তা- ইয়াফ'আলা যা-লিকা *
এমনটি না করা পর্যন্ত তোমাদের কারো ছালাত পূর্ণ হবে না। (২)
অকা-না ইউতীলুহা- হাত্তা- তাকূনা ক্বারী বাম মিন সাজদাতিহী, অ আহ্ইয়া-নান ইয়ামকুছু হাত্তা- ইয়াক্বূলুল ক্বা-ইলু : ক্বদ নাসিয়া *
বৈঠককে এতই দীর্ঘায়িত করতেন যে প্রায় সাজদার পরিমাণ হয়ে যেত। (৩) আবার কখনও এত দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান করতেন যে, কেউ কেউ মনে মনে বলতে লাগত, নিশ্চয় তিনি ভুলে গেছেন। (১)
টিকাঃ
(১) ছহীহ সনেদ আবূ দাউদ ও বাইহাকী।
(২) আবূ দাউদ, হাকিম এবং তিনি একে ছাহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।
(১) বুখারী, মুসলিম। ইবনুল কাইয়িম বলেন: ছাহাবাদের যুগ অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর থেকে লোকজন এই সুন্নত পরিত্যাগ করেছে, পক্ষান্তরে যারা হাদীছকে ফয়ছালা দানকারী হিসাবে বরণ করে নিয়েছে এবং এর বিপরীত কোন বক্তব্যের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেনা, তারা এই আদর্শ বিরুদ্ধ কোন কিছুর তোওয়াক্কাই করে না।