📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সাজদার ফযীলত

📄 সাজদার ফযীলত


নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: মা- মিন উম্মাতী মিন আহাদিন ইল্লা- অ আনা আ'রিফুহু ইয়াওমাল ক্বিয়া-মাহ, ক্বা-লূ- অকাইফা তা'রিফুহুম ইয়া- রাসূ-লুল্লা-হি ! ফী কাছরাতিিল খালা-ইক্ব? ক্বালা- : আরাআইতা লাও দাখালতা সীরাতান ফীহা- খাইরুন দাহমুন বিহিম অফীha- ফারাসুন আগাররু মুহাজ্জালুন আমা- কুনতা তা'রিফুহু মিনহা- ? ক্বালা- : বালা- ক্বালা- : ফাইন্না উম্মাতী ইয়াওমা ইযিন গুররুম মিনাস সুজূদি মুহাজ্জালূনা মিনাল উযূই *
আমার যে কোন উম্মতকে কিয়ামতের দিন আমি চিনে নিতে পারব। ছাহাবাগণ বললেন: এতসব সৃষ্টিকুলের মধ্যে আপনি তাদেরকে কিভাবে চিনবেন হে আল্লাহর রাসূল? তিনি উত্তরে বললেন: তুমি যদি কোন আস্তাবলে (১) প্রবেশ কর যেখানে নিছক কাল ঘোড়ার মধ্যে এমন সব ঘোড়াও থাকে যেগুলোর হাত পা(২) ও মুখ ধবধবে সাদা তবে কি তুমি উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না? ছাহাবী বললেন: হ্যাঁ, পারব। তিনি বললেন: ঐ দিন সাজদার কারণে আমার উম্মতের চেহারা (৩) সাদা ধবধবে হবে, আর ওযুর কারণে হাত-পা উজ্জ্বল সাদা (৪) হবে। (৫) তিনি আরো বলতেন:
ইযা- আরা-দাল্লা-হু রাহ্মাতাম মান আরা-দা মিন আহলিন্না-রি, আমারাল্লা-হুল মালাইকা-তা আন ইউখরিজু- মান ইয়া'বুদুল্লাহা, ফাইুখরিজূনাাহুম অ ইয়া'রিফূnaহুম বিআ-ছা-রিস সুজূদি, অ হাররামাল্লা-হু 'আলান্না-রি আন তা'কুলা আছারাস সুজূদি, ফাইুখরিজূ-না মিনান্না-রি ফাকুল্লু ইবনি আ-দামা তা'কুলুহুন না-রু ইল্লা- আছারাস সুজূদি *
আল্লাহ যখন জাহান্নামীদের কাউকে দয়া করতে চাইবেন তখন ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিবেন ঐ লোকদের বের করার জন্য যারা আল্লাহর ইবাদত করতো। অনন্তর তারা তাদেরকে বের করবেন। তারা তাদেরকে সাজদার চিহ্নসমূহ দেখে চিনে নিবেন। আল্লাহ আগুনের উপর সাজদার চিহ্ন ভক্ষণ হারাম করে দিয়েছেন। এভাবে তারা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবেন। বস্তুতঃ আদম সন্তানের সর্বাঙ্গ আগুন ভক্ষণ করবে শুধু সাজদার স্থান ব্যতীত। (১)

টিকাঃ
(১) এখানে মূলেঃ «সীরাহ» শব্দের অর্থ: আস্তাবল- যা পশুর জন্যে পাথর অথবা বৃক্ষের ডাল-পালা দ্বারা বানানো হয়। এর বহু বচন হচ্ছে- «সিয়ার» 'আননিহায়াহ'। পূর্বের মুদ্রণগুলোতে ছুবরাহ শব্দ বসানো ছিল যার অর্থ (পেশ দ্বারা) স্তূপীকৃত বস্তু বুঝায়। এটি ভুল ছিল যা সম্মানিত শাইখ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যাইদ ২০-২-১৪০৯ হিজরী পত্র মারফত আমাকে অবহিত করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(২) এখানে মূলে যে মু'হাজ্জাল শব্দ রয়েছে তার অর্থ হচ্ছে এমন ব্যক্তি যার হাত ও পা-র বেড়ি বন্ধনের স্থান পর্যন্ত উচ্চে শুভ্রতা ছড়ায় যা কজি অতিক্রম করে কিন্তু হাঁটু অতিক্রম করে না। কেননা এ দু'টি হাজল তথা নুপুর ও বেড়ি বন্ধনের স্থান। শুধু এক হাতের বা দুই হাতের শুভ্রতা দ্বারা »মু'হাজ্জাল হবেনা যতক্ষণ না এক বা উভয় পায়েও তা বিদ্যমান থাকবে।
(৩) মূলে আল গুররাহ শব্দটির অর্থঃ মুখমণ্ডলের শুভ্রতা। এখানে উযূর মাধ্যমে মুখ মণ্ডলের শুভ্রতা উদ্দেশ্য।
(৪) এখানে :মু'হাজ্জালূন শব্দের অর্থ হচ্ছে- উযূর মাধ্যমে হাত, পা ও মুখমণ্ডলের সাদা=স্থানসমূহ। মানুষের দু'হাত, পা ও চেহারায় ফুটে উঠা চিহ্নকে ঘোড়ার হাত, পা ও চেহারার শুভ্রতার সাথে রূপকার্থে সদৃশতা দেয়া হয়েছে।
(৫) ছহীহ সনদে আহমাদ, তিরমিযী এর কিয়দাংশ বর্ণনা করে ছহীহ বলেছেন। হাদীছটিকে 'আছ ছাহীহা' গ্রন্থে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
(১) বুখারী ও মুসলিম। এ হাদীছে পাওয়া যাচ্ছে যে, পাপী মুছাল্লীগণ জাহান্নামে চীরস্থায়ী হবে না, এমনিভাবে অলসতাবশত ছালাত তরককারী তাওহীদবাদী ব্যক্তিও চীরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না। এ বিষয়টি বিশুদ্ধভাবে সাব্যস্ত হয়েছে দেখুন 'আছ ছাহীহা' (২০৫৪)। (উল্লেখ্য যে, শেষোক্ত কথাটি লেখকের মত যা সংশ্লিষ্ট হাদীছের মর্ম বিরোধী -সম্পাদক)

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 মাটি ও চাটাই এর উপর সাজদাহ করা

📄 মাটি ও চাটাই এর উপর সাজদাহ করা


অকা-না ইয়াসজুদু 'আলাল আরযি কাছীরান *
তিনি মাটির উপরেই বেশীর ভাগ সাজদা করতেন। (২)
কান্না আসহা-বুহু ইউছাল্লূনা মা'আহু ফী শিদ্দাতিিল হাররি, ফাইযা- লাম ইয়াসতাত্বি' আহাদুহুম আন ইউমকিনা জাবহাতাহু মিনাল আরযি, বাসাত্বা ছাওবাহু ফাসাজাদা 'আলাইহি *
ছাহাবাগণ কঠিন গরমের ভিতর তাঁর সাথে ছালাত আদায় করা কালে যিনি স্বীয় কপাল মাটিতে ঠেকাতে পারতেন না তিনি তার কাপড় বিছিয়ে দিয়ে তার উপর সাজদা করতেন। (৩)
আর তিনি এ কথা বলতেন : .... অ জু'ইলাতিল আরযু কুল্লাহু লী অ লিউম্মাতী মাসজিদান অ তূহূরা-, ফাআইনামা- আদ্রাকাত রাজুলান মিন উম্মাতীস সলা-তা, ফা'ইনদahু মাসজিদুহু, অ 'ইনদাহু তূহূরুহু, অ কা-না মিন ক্বাবলী ইউ'আযযিমূনা যা-লিকা, ইন্নama- কা-নূ ইউছাল্লূনা ফী কানা-ইসিহিম অ বিয়া'ইহিম *
আমার ও আমার উম্মতের জন্য গোটা পৃথিবীকে মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের উপযোগী করে দেয়া হয়েছে। অতএব যেখানেই কোন লোকের ছালাত উপস্থিত হবে সেখানেই তার জন্য মসজিদ তথা ছালাতের স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের উপাদান রয়েছে। আমার পূর্বেকার লোকেদেরকে এ ব্যাপারে বিরাট অসুবিধা পোহাতে হত, তারা কেবল গীর্জা ও উপাসনালয়গুলোতেই ছালাত আদায় করতে পারত। (১)
কখনো তিনি ভিজা মাটি ও পানির উপর সাজদাহ করতেন, এ ঘটনাই ঘটেছিল একুশ রমাযানের রাত্রের ফজরে। সে রাত্রে আসমান থেকে বৃষ্টিপাত হওয়ায় মসজিদের ছাদ (চাল) বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়েছিল, আর তা ছিল খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত। এ কারণেই তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পানি ও ভিজা মাটির (কাদার) উপর সাজদাহ করেন। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন: ফাআবসারাত 'আইনা-ইয়া রাসূ-লুল্লাহি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা অ'আলা- জাবহাতিহী অ আনফিহী আছারুল মা-ই অত্বত্বীন *
আমার চক্ষুদ্বয় রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এবং তাঁর কপাল ও নাককে পানি ও মাটির চিহ্ন যুক্ত অবস্থায় দেখেছে। (২)
অকা-না ইউছাল্লী 'আলাল খুমরাতি আহ্ইয়া-নান, অ 'আলাল হাসীরি আহ্ইয়া-নান, অ ছল্লা- 'আলাইhi মাররাতান অক্বাদ আসওয়াদদা মিন তূলি মা- লুবিসা *
তিনি কখনো কাপড়ের টুকরোর (৩) উপর আবার কখনো, চাটাই (৪) এর উপর ছালাত আদায় করতেন। কখনো তিনি এমন চাটাই এর উপরেও ছালাত পড়েছেন যা দীর্ঘকাল ব্যবহারের কারণে কাল রূপ ধারণ করেছে। (১)

টিকাঃ
(২) কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মসজিদ চাটাই বা অন্য কিছু দ্বারা কার্পেটিং করা ছিল না। এ বিষয়ে প্রমাণ বহনকারী অনেক হাদীছ রয়েছে তন্মধ্যে পরবর্তী হাদীছ এবং আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আসন্ন হাদীছ প্রণিধান যোগ্য।
(৩) মুসলিম ও আবূ উওয়ানাহ্।
(১) আহমাদ, সাররাজ ও বাইহাকী, ছহীহ সনদে।
(২) বুখারী ও মুসলিম। হাদীছে আল খুমরাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে তাল জাতীয় বৃক্ষের পাতা দ্বারা তৈরী ছোট চাটাই যার উপর সাজদাকালে কপাল রাখা যায়। খুমরাহ এই পরিমাণ ব্যতীত অন্য কিছুর উপর প্রয়োগ হয়না। 'আন নিহায়াহ'।
(৪) মুসলিম ও আবু উওয়ানা।
(১) বুখারী ও মুসলিম। অত্র হাদীছে একথার প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে যে, কোন বস্তুর উপর বসাকে এক পর্যায়ের পরিধানও বলা যায়। অতএব রেশমী কাপড়ের উপর বসা হারাম প্রমাণিত হল যেহেতু বুখারী মুসলিমসহ অন্যান্য কিতাবে এটা পরিধান করা হারাম সাব্যস্ত হয়েছে। বরং বুখারী-মুসলিমে স্পষ্ট ভাষায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই বড় আলিমদের ভিতর থেকে যিনি একে বৈধ বলেছেন তাঁর কথায় ধোঁকা খাবেন না।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সাজদাহ থেকে উঠা

📄 সাজদাহ থেকে উঠা


অতঃপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আল্লাহু আকবার' বলে সাজদাহ থেকে মাথা উঠাতেন। (২) এ বিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
লা- তাতিম্মু সলা-তুন লিআহাদিম মিনান্নাসি হাত্তা- ...... ইয়াসজুদু, হাত্তা- তাত্বমা'ইন্না মাফা-সিলুহ, সুম্মা ইয়াক্বূলু : আল্লাহু আকবারু অ ইয়ারফা'উ রা'সাহু হাত্তা- ইয়াসতাবিয়া ক্বা-'ইদান, অ কা-না ইয়ারফা'উ ইয়াদaihi মা'আ হা-যাত তাকবীলি আহ্ইয়া-নান *
কোন ব্যক্তির ছালাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ.... না এভাবে সাজদা করবে যে, তার দেহের প্রত্যেকটি জয়েন্ট সুস্থিরভাবে অবস্থান নেয় অতঃপর 'আল্লাহু আকবার' বলে স্বীয় মস্তক উত্তোলন করবে এবং সোজা হয়ে বসবে। (৩) তিনি কখনও এই তাকবীরের সাথে হস্ত উত্তোলন করতেন (৪)
সুম্মা ইয়াফরিশু রিজলাহুল ইউসরা- ফায়াক্ব'উদু 'আলাইহা- মুত্বমা'ইন্নানিন্ )
অতঃপর স্বীয় বাম পা বিছিয়ে তার উপর সুস্থিরভাবে বসতেন। (১) এ ব্যাপারে ছালাতে ত্রুটিকারীকে তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেন:
ইযা- সাজাদতা ফামাক্কিনিস সুজূদাকা, ফাইযা- রাফা'তা ফাক্ব'উদ 'আলা- ফখিযিকাল ইউসরা- )
তুমি যখন সাজদা করবে তখন স্থির হয়ে তা করবে আর যখন উঠবে তখন স্বীয় বাম উরুর উপর বসবে। (২)
অকা-না ইয়ানসিবু রিজলাহুল ইউমনা-, অ ইয়াসতাক্ববিলু বিআসা-বি'ইহাল ক্বিবলাহ )
তিনি স্বীয় ডান পা খাড়া রাখতেন। (৩) এবং অঙ্গুলিগুলো কিবলামুখী রাখতেন। (৪)

টিকাঃ
(২) বুখারী ও মুসলিম।
(৩) আবূ দাউদ ও হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন।
(৪) ছহীহ সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ। ইমাম আহমাদের নিকট এই স্থানে এবং প্রত্যেক তাকবীরের সময় হস্ত উত্তোলন সুন্নতসম্মত। ইবনুল কাইয়িম 'আল বাদাই' (৪/৮৯) গ্রন্থে লিখেন: 'আছরম (মূলতঃ ইবনুল আছরম) তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেন যে, ইমাম সাহেবকে হস্ত উত্তোলন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, প্রতি উত্তরে তিনি বলেন: ইহা প্রত্যেক উঁচু-নিচুর সময় করণীয়, আছরম বলেন: আমিত আবু আব্দিল্লাহকে দেখেছি তিনি ছালাতে প্রত্যেক উঁচু-নিচু হওয়ার সময় হস্ত উত্তোলন করতেন। ===শাফি'ঈদের মধ্য হতে এ কথার প্রবক্তা ইবনুল মুনযির ও আবু আলী। এটি ইমাম মালিক ও শাফিঈরও একটি বক্তব্য, 'ত্বরহুত্তাছরীব' দ্রষ্টব্য। এ স্থানে আনাস ইবনু উমার, নাফি' তাউস, হাসান বাছরী, ইবনু সীরীন, আবু আইয়ূব সাখতিয়ানী প্রমুখগণ থেকেও বিশুদ্ধ সনদে হস্ত উত্তোলন সাব্যস্ত হয়েছে। (দেখুন 'মুছান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ- ১/১০৬)।
(১) বুখারী 'জুটু রফউল ইয়াদাইন' আবু দাউদ ছহীহ সনদে, মুসলিম ও আবু উওয়ানাh এটি 'আল ইরওয়া' গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩১৬)
(২) উত্তম সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ।
(৩) বুখারী ও বাইহাকী।
(৪) ছহীহ সনদে নাসাঈ।

অতঃপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আল্লাহু আকবার' বলে সাজদাহ থেকে মাথা উঠাতেন। (২) এ বিষয়ে ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
লা- তাতিম্মু সলা-তুন লিআহাদিম মিনান্নাসি হাত্তা- ...... ইয়াসজুদু, হাত্তা- তাত্বমা'ইন্না মাফা-সিলুহ, সুম্মা ইয়াক্বূলু : আল্লাহু আকবারু অ ইয়ারফা'উ রা'সাহু হাত্তা- ইয়াসতাবিয়া ক্বা-'ইদান, অ কা-না ইয়ারফা'উ ইয়াদaihi মা'আ হা-যাত তাকবীলি আহ্ইয়া-নান *
কোন ব্যক্তির ছালাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ.... না এভাবে সাজদা করবে যে, তার দেহের প্রত্যেকটি জয়েন্ট সুস্থিরভাবে অবস্থান নেয় অতঃপর 'আল্লাহু আকবার' বলে স্বীয় মস্তক উত্তোলন করবে এবং সোজা হয়ে বসবে। (৩) তিনি কখনও এই তাকবীরের সাথে হস্ত উত্তোলন করতেন (৪)
সুম্মা ইয়াফরিশু রিজলাহুল ইউসরা- ফায়াক্ব'উদু 'আলাইহা- মুত্বমা'ইন্নানিন্ )
অতঃপর স্বীয় বাম পা বিছিয়ে তার উপর সুস্থিরভাবে বসতেন। (১) এ ব্যাপারে ছালাতে ত্রুটিকারীকে তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেন:
ইযা- সাজাদতা ফামাক্কিনিস সুজূদাকা, ফাইযা- রাফা'তা ফাক্ব'উদ 'আলা- ফখিযিকাল ইউসরা- )
তুমি যখন সাজদা করবে তখন স্থির হয়ে তা করবে আর যখন উঠবে তখন স্বীয় বাম উরুর উপর বসবে। (২)
অকা-না ইয়ানসিবু রিজলাহুল ইউমনা-, অ ইয়াসতাক্ববিলু বিআসা-বি'ইহাল ক্বিবলাহ )
তিনি স্বীয় ডান পা খাড়া রাখতেন। (৩) এবং অঙ্গুলিগুলো কিবলামুখী রাখতেন। (৪)

টিকাঃ
(২) বুখারী ও মুসলিম।
(৩) আবূ দাউদ ও হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন।
(৪) ছহীহ সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ। ইমাম আহমাদের নিকট এই স্থানে এবং প্রত্যেক তাকবীরের সময় হস্ত উত্তোলন সুন্নতসম্মত। ইবনুল কাইয়িম 'আল বাদাই' (৪/৮৯) গ্রন্থে লিখেন: 'আছরম (মূলতঃ ইবনুল আছরম) তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেন যে, ইমাম সাহেবকে হস্ত উত্তোলন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, প্রতি উত্তরে তিনি বলেন: ইহা প্রত্যেক উঁচু-নিচুর সময় করণীয়, আছরম বলেন: আমিত আবু আব্দিল্লাহকে দেখেছি তিনি ছালাতে প্রত্যেক উঁচু-নিচু হওয়ার সময় হস্ত উত্তোলন করতেন। ===শাফি'ঈদের মধ্য হতে এ কথার প্রবক্তা ইবনুল মুনযির ও আবু আলী। এটি ইমাম মালিক ও শাফিঈরও একটি বক্তব্য, 'ত্বরহুত্তাছরীব' দ্রষ্টব্য। এ স্থানে আনাস ইবনু উমার, নাফি' তাউস, হাসান বাছরী, ইবনু সীরীন, আবু আইয়ূব সাখতিয়ানী প্রমুখগণ থেকেও বিশুদ্ধ সনদে হস্ত উত্তোলন সাব্যস্ত হয়েছে। (দেখুন 'মুছান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ- ১/১০৬)।
(১) বুখারী 'জুটু রফউল ইয়াদাইন' আবু দাউদ ছহীহ সনদে, মুসলিম ও আবু উওয়ানাh এটি 'আল ইরওয়া' গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩১৬)
(২) উত্তম সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ।
(৩) বুখারী ও বাইহাকী।
(৪) ছহীহ সনদে নাসাঈ।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 দু’ই সাজদার মধ্যে পায়ের গোড়ালির উপর বসা

📄 দু’ই সাজদার মধ্যে পায়ের গোড়ালির উপর বসা


কান্না আহ্ইয়া-নান ইউক্বি'ঈ ইয়ানতাসিবু 'আলা- 'আক্বিবাইhi অ সুদূরি ক্বদামাইহি *
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনও ইকুআ' করে তথা উভয় গোড়ালি ও পায়ের বক্ষদেশের উপর দাঁড় করিয়ে তার উপর বসতেন। (৫)

টিকাঃ
(৫) মুসলিম, আবূ উওয়ানা, আবুশ শাইখ 'মা-রাওয়াহু আবুয যুবাইর আন জাবির গ্রন্থে (নং ১০৪-১০৬), বাইহাকী। ইবনুল কাইয়িম ভুল বশত, দুই সাজদার মধ্য খানে পা বিছিয়ে বসার কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এ বৈঠকে এ পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি বর্ণিত হয়নি।"
আমি বলতে চাই: কথাটি কিভাবে সঠিক হতে পারে যেখানে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ছহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযীতে এই হাদীছ==বর্ণিত হয়েছে এবং তিরমিযী একে ছহীহ বলেছেন অন্যান্যরাও এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন দেখুন 'আছছাহীহা' (৩৮৩)। বাইহাকীতেও হাসান সনদে ইবনু উমার থেকে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে যাকে ইবনু হাজার ছহীহ বলেছেন। আবু ইসহাক আল-হারবী 'গারীবুল হাদীছ' (খণ্ড ৫/১২/১) তাউস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাসকে ইকুআ' করতে দেখেছেন, এর সনদ বিশুদ্ধ। আল্লাহ ইমাম মালিককে রহম করুন। তিনি বলেছিলেন- 'আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি কারো কোন কথা অগ্রাহ্য করেন না এবং তার কোন কথা অগ্রাহ্য হবে না-কেবল এই কবরবাসী ব্যতীত; এ কথা বলে তিনি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবরের দিকে ইঙ্গিত করতেন। এই সুন্নতের উপর ছাহাবা, তাবিইন ও অন্যান্যদের একদল আমল করেছেন। এ বিষয়ে আমি মূল কিতাবে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। আমার আরেকটি কথা হচ্ছে এই যে, এখানে উল্লেখিত ইকুআ' নিষিদ্ধ ইকুআ' থেকে ভিন্ন, যা তাশাহ্ হুদের বৈঠকের আলোচনায় আসবে।

কান্না আহ্ইয়া-নান ইউক্বি'ঈ ইয়ানতাসিবু 'আলা- 'আক্বিবাইhi অ সুদূরি ক্বদামাইহি *
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনও ইকুআ' করে তথা উভয় গোড়ালি ও পায়ের বক্ষদেশের উপর দাঁড় করিয়ে তার উপর বসতেন। (৫)

টিকাঃ
(৫) মুসলিম, আবূ উওয়ানা, আবুশ শাইখ 'মা-রাওয়াহু আবুয যুবাইর আন জাবির গ্রন্থে (নং ১০৪-১০৬), বাইহাকী। ইবনুল কাইয়িম ভুল বশত, দুই সাজদার মধ্য খানে পা বিছিয়ে বসার কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এ বৈঠকে এ পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি বর্ণিত হয়নি।"
আমি বলতে চাই: কথাটি কিভাবে সঠিক হতে পারে যেখানে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ছহীহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযীতে এই হাদীছ==বর্ণিত হয়েছে এবং তিরমিযী একে ছহীহ বলেছেন অন্যান্যরাও এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন দেখুন 'আছছাহীহা' (৩৮৩)। বাইহাকীতেও হাসান সনদে ইবনু উমার থেকে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে যাকে ইবনু হাজার ছহীহ বলেছেন। আবু ইসহাক আল-হারবী 'গারীবুল হাদীছ' (খণ্ড ৫/১২/১) তাউস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাসকে ইকুআ' করতে দেখেছেন, এর সনদ বিশুদ্ধ। আল্লাহ ইমাম মালিককে রহম করুন। তিনি বলেছিলেন- 'আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি কারো কোন কথা অগ্রাহ্য করেন না এবং তার কোন কথা অগ্রাহ্য হবে না-কেবল এই কবরবাসী ব্যতীত; এ কথা বলে তিনি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবরের দিকে ইঙ্গিত করতেন। এই সুন্নতের উপর ছাহাবা, তাবিইন ও অন্যান্যদের একদল আমল করেছেন। এ বিষয়ে আমি মূল কিতাবে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। আমার আরেকটি কথা হচ্ছে এই যে, এখানে উল্লেখিত ইকুআ' নিষিদ্ধ ইকুআ' থেকে ভিন্ন, যা তাশাহ্ হুদের বৈঠকের আলোচনায় আসবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00