📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সাজদার যিকরসমূহ

📄 সাজদার যিকরসমূহ


নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই রুকন আদায় করা কালে বিভিন্ন ধরনের যিক্র ও দু'আ পাঠ করতেন, যার মধ্যে একেক সময় তিনি একেকটা অবলম্বন করতেন। যথা- সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা- , আ দ
অর্থ: আমি আমার সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
এ দু'আটি তিনবার পড়তেন। (১) কখনো তিনি এর অধিকবার দু'আটি আওড়াতেন (২) এক পর্যায়ে তিনি রাত্রিকালীন নফল ছালাতে এত বেশী পরিমাণ দু'আটি পাঠ করেন যার ফলে তাঁর সাজদা প্রায় দাঁড়ানোর পরিমাণ দীর্ঘায়িত হয়েছিল অথচ ঐ দাঁড়ানোতে তিনি তিনটি দীর্ঘ সূরা পাঠ করেছিলেন সেগুলো হচ্ছে 'বাকারা', 'নিসা' 'আলু-ইমরান' যার ভিতর দু'আ ও ইসতিগফারও ছিল। যেমনটি 'রাত্রিকালীন ছালাতে' অতিক্রান্ত হয়েছে। সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা- অ বিহামদিহি » (২)
অর্থ: সর্বাধিক সমুন্নত স্বীয় প্রভুর প্রশংসাসহ পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি। এই দু'আ তিনি তিনবার পাঠ করতেন। (৩)
সুব্বূহুন ক্বুদ্দূসুন রাব্বুল মালাইকাতি অররূহি , (৪)
(এ দু'আটির অর্থ পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে পৃষ্ঠা- ১১৬) সুবহানাকাল্লাহুম্মা রাব্বানা- অবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী অকা-না ইউকছিরু মিনহু ফী রুকূ'ইহী অ সুজূদিহী ইয়াতাআওয়্যালুল কুরআ-ন *
এ দু'আটির অর্থ পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে পৃষ্ঠা...... (১)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ দু'আটি রুকু ও সাজদাহতে বেশী বেশী পড়তেন (এর দ্বারা) কুরআন এর মর্ম বাস্তবায়ন করতেন। আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু অ বিকা আ-মানতু, অ লাকা আসলামতু, সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাযী খালাক্বাহু, অ সওয়্যারাহু, অ শাক্কা সাম'আহু অ বাসরাহু, তাবারাকাল্লা-হু আহ্সানুল খা-লিক্বীন। *
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার উদ্দেশে সাজদা করলাম এবং তোমার উপরে ঈমান আনলাম এবং তোমার বশ্যতা স্বীকার করলাম, তুমি আমার প্রতিপালক। আমার মুখমণ্ডল সেই যাতকে সাজদাহ করল যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সুন্দর আকৃতি দান করেছেন এবং তিনি তাতে চক্ষু-কর্ণ সৃষ্টি করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ বরকতময় সর্বোত্তম স্রষ্টা। (২)
আল্লাহুম্মাগফিরলী যানবী কুল্লাহু, দিক্কাহু অ জিল্লাহু, অ আউয়ালাহু অ আ-খিরাহু অ 'আলা-নিয়্যাতাহু অ সিররাহু। ইনা
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার সব গুনাহ ক্ষমা করে দাও, ক্ষমা করে দাও ছোট, বড়, পূর্বের, পরের, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব গুনাহ। (৩)
সাজাদা লাকা সাওয়া-দী অখায়া-লী অ আ-মানা বিকা ফুয়া-দী, আবূউ বিনি'মাতিকা 'আলাইয়া- অ হা-যা- ইয়াদী অমা- জানাইতু 'আলা- নাফসী *
অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশে আমার অন্তর ও মস্তিষ্ক সাজদাহ করল, তোমার উপর আমার হৃদয় ঈমান আনয়ন করল, আমি আমার উপরে তোমার প্রদত্ত নিয়ামতের স্বীকারোক্তি জানাচ্ছি, আমার এ দু'হাতের কামাই ও স্বীয় সত্ত্বার উপর কৃত অন্যায় কর্মও স্বীকার করে নিচ্ছি। (১)
সুবহা-না যিল জাবারূতি অল মালাকূতি অল কিবরিয়া-ই অল 'আযামাহ *
অর্থঃ (এই দু'আর অর্থ রুকুতে অতিবাহিত হয়েছে, পৃষ্ঠা- ১১৭।) এটি ও এর পরবর্তী দু'আগুলো তিনি রাত্রিকালীন নফল ছালাতে পাঠ করতেন। (২)
সুবহানাকাল্লাহুম্মা অবিহামদিকা লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা *
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার প্রশংসাসহ পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন মা'বুদ নেই। (৩)
আল্লাহুম্মাগফিরলী মা- আসরারতু অমা- আ'লানতু *
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার গোপনে ও প্রকাশ্যে কৃত অপরাধ ক্ষমা কর। (৪)
আল্লাহুম্মাজ'আল ফী ক্বালবী নূরা-, অফী লিসা-নী নূরা-) অজ'আল ফী সাম'ঈ নূরা- অজ'আল ফী বাসারী নূরা- , অজ'আল মিন তাহ্তী নূরা- , অজ'আল মিন ফাওক্বী নূরা- , অ'আন ইয়ামীনী নূরা- , অ'আন ইয়াসা-রী নূরা- , অজ'আল আমা-মী নূরা- , অজ'আল মিন খালফী নূরা- , অজ'আল ফী নাফসী নূরা- , অ আ'যিম লী নূরা- *
অর্থ : হে আল্লাহ তুমি আমার অন্তরে, জিহ্বায়, কানে, চোখে, নীচে-উপরে, ডানে-বামে, সামনে-পিছনে এবং স্বয়ং আমার সত্ত্বায় নূর দান কর। আমাকে এসবে বিপুল পরিমাণ নূর দান কর। (৫)
আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিরযা-কা মিন সাখাত্বিকা অ আ'ঊযু বিমু'আ-ফা-তিকা মিন 'উক্বূবাতিকা (১২)
অ'আঊযু বিকা মিনকা লা- উহসী সানা-আন 'আলাইকা আনতা কামা- আসনাইতা 'আলা- নাফসিকা
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তোমার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, তোমার ক্ষমা গুণের মাধ্যমে তোমার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, তোমার অসীলায় তোমার পাকড়াও থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আমি তোমার প্রশংসা করে শেষ করতে পারব না। তুমি ঐ রূপ যেমন তুমি নিজে প্রশংসা করেছ। (১)

টিকাঃ
(১) আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, দারাকুতনী, ত্বাহাবী, বাযযার, ত্বাবরানী, 'আল-কাবীর' গ্রন্থে সাতজন ছাহাবী থেকে। রুকুর যিকর (পৃষ্ঠা- ১১৫-১১৬) এর টীকা দ্রষ্টব্য।
(২) পূর্বোল্লিখিত টীকা (পৃষ্ঠা- ১১৫-১১৬) দ্রষ্টব্য।
(৩) ছহীহ, আবু দাউদ, দারাকুতনী, আহমাদ, ত্বাবরানী ও বাইহাকী।
(৪) মুসলিম ও আবূ উওয়ানাহ।
(১) বুখারী ও মুসলিম, এটি রুকুর যিকরসমূহেরও অন্তর্ভুক্ত, পূর্বেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এতে কুরআনে উল্লেখিত নির্দেশের উপর আমল করতেন।
(২) মুসলিম, আবু উওয়ানাহ, ত্বাহাবী ও দারাকুতনী।
(৩) মুসলিম ও আবু উওয়ানাহ্।
(১) ইবনু নছর, বায্যার, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন। কিন্তু যাহাবী তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে উক্ত হাদীছের পক্ষে বহু সাক্ষ্য প্রদানকারী বর্ণনা মূল কিতাবে রয়েছে। ('অতএব হাদীছ গ্রহণযোগ্য')।
(২) ছহীহ সনদে আবূ দাউদ, নাসাঈ, রুকুর অধ্যায়ে এর ব্যাখ্যা উল্লেখ হয়েছে।
(৩) মুসলিম, আবূ উওয়ানা, নাসাঈ ও ইবনু নাছর।
(৪) ইবনু আবী শাইবাহ (৬২/১১২/১) ও নাসাঈ। হাকিম একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী এতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৫) মুসলিম, আবু উওয়ানাহ্, ইবনু আবী শাইবা 'আল-মুছান্নাফ' (১২/১০৬/২৩১১২/১)।
(১) মুসলিম, আবূ উওয়ানাহ্, ইবনু আবী শাইবা 'আল-মুছান্নাফ' (১২/১০৬/২৫১১২/১)।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সাজদায় কুরআন পড়া নিষেধ

📄 সাজদায় কুরআন পড়া নিষেধ


নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু' এবং সাজদায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করতেন, তবে এই রুকন্টিতে তিনি বেশী করে দু'আ করার নির্দেশ দিতেন, যেমন রুকু' অধ্যায়ে উল্লেখ হয়েছে।
তিনি বলতেন:
আক্বরাবু মা- ইয়াকূনুল 'আব্দু মীর রাব্বিহী অ হুয়া সা-জিদুন ফাকছিরুদ্ দু'আ-আ ফীহি )
বান্দাহ আল্লাহর সর্বাধিক নিকটতম অবস্থায় থাকে তখনই যখন সে সাজদা করে, তাই এমতাবস্থায় তোমরা বেশী করে দু'আ কর। (২)

টিকাঃ
(২) মুসলিম, আবূ উওয়ানাহ্, বাইহাকী, এটি 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থে উদ্ধত হয়েছে- (৪৫৬)।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সাজদাকে দীর্ঘায়িত করা

📄 সাজদাকে দীর্ঘায়িত করা


নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বীয় সাজদাহকে রুকুর কাছাকাছি দীর্ঘায়িত করতেন, আবার কখনোবা কোন কারণ বশতঃ তারও অধিক পরিমাণ দীর্ঘ করতেন, যেমন কিছু সংখ্যক ছাহাবী বলেন:
খরাজা 'আলাইনা- রাসূ-লুল্লাহি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ফী ইহদা- সলা-তাইনিিল 'আশীয়্যি (আয যুহরি আও ইল 'আসরি) অ হুয়া হা-মিলুন হাসানা আও হুসাইনা, ফাতাক্বাদ্দামান্নাবীয়্যু ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ফাওয়াদা'আহু (ইনদা ক্বাদামিহিল ইউমনা-) সুম্মা কাব্বারা লিস সলা-তি ফাসল্লা- ফাসajাদা বাইনা যাহরা-নাই সলা-তিহী সাজদাতান আত্বা-লাহা-, ক্বালা- : ফারফা'তু রা'সী (মিম বাইনিন্নাসি) ফাইযাস সবীয়্যু 'আলা- যাহরি রাসূ-লিল্লা-হি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা অ হুয়া সা-জিদুন, ফারাজা'তু ইলা- সুজূদী ফাল্লামা- ক্বাযা- রাসূ-লুল্লাহি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামাছ সলা-তা, ক্ব-লান্নাসু : ইয়া- রাসূ-লুল্লা-হি ! ইন্নাকা সাজাদতা বাইনা যাহরা-নাই সলা-তিকা (হা-যিহী) সাজদাতান আত্বালতাহা-, হাত্তা- যযান্না- আন্নাহু ক্বাদ হাদাসা আমরুন, আও আন্নahু ইউওহায়া ইলাইকা ! ক্বালা- :
কুল্লু যা-লিকা লাম ইয়াকুন অলা-কিন ইবনী ইরতাহালানী ফাকারিহতু আন উ'আজ্বিলাহু হাত্তা- ইয়াক্বযী হা-জাতাহু )
রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুহরের বা আছরের মধ্যে যে কোন এক ছালাতে হাসান বা হুসাইনকে কোলে করে নিয়ে আসেন। তিনি (ইমামতের স্থলে) অগ্রসর হয়ে তাকে স্বীয় ডান পায়ের নিকটে রাখেন অতঃপর ছালাতের উদ্দেশ্যে তাকবীর বলেন এবং ছালাত আদায় করেন। তাঁর এই ছালাতে একটি সাজদাকে দীর্ঘায়িত করলে লোকজনের মধ্য হতে আমি স্বীয় মস্তক উত্তোলন করি। দেখতে পেলাম যে, বালকটি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পিঠের উপরে রয়েছে আর তিনি সাজদারত অবস্থায় রয়েছেন, এ দেখে আমি আবার সাজদায় চলে যাই। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছালাত শেষ করলে লোকজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ছালাতে একটি সাজদাকে এতই দীর্ঘায়িত করেছেন যে, আমাদের এই ধারণা হয়েছিল যে, সম্ভবত একটা কিছু ঘটেছে অথবা ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। তিনি বললেন: ও সবের কোনটাই নয় বরং আমার এই ছেলেটি আমার উপরে আরোহণ (১) করেছিল, ফলে তার চাহিদা পূর্ণ না হতেই তাকে জলদি নামিয়ে দেয়া অপছন্দ মনে করেছি। (১)
অপর হাদীছে এসেছে: কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইউছাল্লী ফাইযা- সাজada অছাবাল হাসানু অল হুসাইন 'আলা- যাহরিহী ফাইযা- মানা'ঊহুমা- আশা-রা ইলাইহিম আন দা'ঊহুমা- ফাল্লামা- ক্বাযাছ সলা-তা ওয়াযা'আহুমা- ফী হিজরিহী অক্ব-লা : (মান আহাব্বানী ফালইউহিব্বু হা-যাইনি *
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ছালাত আদায় কালে সাজদায় যেতেই হাসান ও হুসাইন তাঁর পিঠে লাফিয়ে চড়ে বসত, অন্যরা তাদেরকে নিষেধ করতে গেলেই তিনি ইঙ্গিতে বলতেন যে, তাদেরকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে রাখ। অতঃপর ছালাত শেষ করে তাদেরকে কোলে বসিয়ে বললেন: যে ব্যক্তি আমাকে ভাল বাসে সে যেন এই দু'জনকেও ভালবাসে। (২)

টিকাঃ
(১) এখানে মুলে ইরতাহালানী। শব্দ রয়েছে যার অর্থ হচ্ছে- আমার পিঠে চড়ে আমাকে আরোহণের বাহনে পরিণত করল আর ফাকারিহতু আন উ'আজ্বিলাহু এখানে উ'আজ্বিলাহু শব্দটি তা'জ্বীল, অথবা ই'জ্বাল মাসদার থেকে উদাত।
(১) নাসাঈ, ইবনু আসাকির (৪/২৫৭/১-২) ও হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন।
(২) ইবনু খুযাইমাহ স্বীয় 'গ্রন্থে' (৮৮৭) ইবনু মাসউদ থেকে হাসান সনদে, বাইহাকী মুরসাল সনদে (২/২৬৩) ইবনু খুযাইমাহ এর জন্য অধ্যায় রচনা করেন। "অর্থবহ ইঙ্গিত দ্বারা ছালাত বাত্বিল বা বিনষ্ট না হওয়ার প্রমাণুল্লেখের অধ্যায়।”
আমি বলতে চাই- এ বিষয়টি ঐ সকল তথ্যজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত যা রায় পন্থীরা হারাম করে বসেছে, অথচ এ বিষয়ে অনেক হাদীছ বুখারী মুসলিমসহ অন্যান্য কিতাবাদিতে রয়েছে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সাজদার ফযীলত

📄 সাজদার ফযীলত


নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: মা- মিন উম্মাতী মিন আহাদিন ইল্লা- অ আনা আ'রিফুহু ইয়াওমাল ক্বিয়া-মাহ, ক্বা-লূ- অকাইফা তা'রিফুহুম ইয়া- রাসূ-লুল্লা-হি ! ফী কাছরাতিিল খালা-ইক্ব? ক্বালা- : আরাআইতা লাও দাখালতা সীরাতান ফীহা- খাইরুন দাহমুন বিহিম অফীha- ফারাসুন আগাররু মুহাজ্জালুন আমা- কুনতা তা'রিফুহু মিনহা- ? ক্বালা- : বালা- ক্বালা- : ফাইন্না উম্মাতী ইয়াওমা ইযিন গুররুম মিনাস সুজূদি মুহাজ্জালূনা মিনাল উযূই *
আমার যে কোন উম্মতকে কিয়ামতের দিন আমি চিনে নিতে পারব। ছাহাবাগণ বললেন: এতসব সৃষ্টিকুলের মধ্যে আপনি তাদেরকে কিভাবে চিনবেন হে আল্লাহর রাসূল? তিনি উত্তরে বললেন: তুমি যদি কোন আস্তাবলে (১) প্রবেশ কর যেখানে নিছক কাল ঘোড়ার মধ্যে এমন সব ঘোড়াও থাকে যেগুলোর হাত পা(২) ও মুখ ধবধবে সাদা তবে কি তুমি উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না? ছাহাবী বললেন: হ্যাঁ, পারব। তিনি বললেন: ঐ দিন সাজদার কারণে আমার উম্মতের চেহারা (৩) সাদা ধবধবে হবে, আর ওযুর কারণে হাত-পা উজ্জ্বল সাদা (৪) হবে। (৫) তিনি আরো বলতেন:
ইযা- আরা-দাল্লা-হু রাহ্মাতাম মান আরা-দা মিন আহলিন্না-রি, আমারাল্লা-হুল মালাইকা-তা আন ইউখরিজু- মান ইয়া'বুদুল্লাহা, ফাইুখরিজূনাাহুম অ ইয়া'রিফূnaহুম বিআ-ছা-রিস সুজূদি, অ হাররামাল্লা-হু 'আলান্না-রি আন তা'কুলা আছারাস সুজূদি, ফাইুখরিজূ-না মিনান্না-রি ফাকুল্লু ইবনি আ-দামা তা'কুলুহুন না-রু ইল্লা- আছারাস সুজূদি *
আল্লাহ যখন জাহান্নামীদের কাউকে দয়া করতে চাইবেন তখন ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিবেন ঐ লোকদের বের করার জন্য যারা আল্লাহর ইবাদত করতো। অনন্তর তারা তাদেরকে বের করবেন। তারা তাদেরকে সাজদার চিহ্নসমূহ দেখে চিনে নিবেন। আল্লাহ আগুনের উপর সাজদার চিহ্ন ভক্ষণ হারাম করে দিয়েছেন। এভাবে তারা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করবেন। বস্তুতঃ আদম সন্তানের সর্বাঙ্গ আগুন ভক্ষণ করবে শুধু সাজদার স্থান ব্যতীত। (১)

টিকাঃ
(১) এখানে মূলেঃ «সীরাহ» শব্দের অর্থ: আস্তাবল- যা পশুর জন্যে পাথর অথবা বৃক্ষের ডাল-পালা দ্বারা বানানো হয়। এর বহু বচন হচ্ছে- «সিয়ার» 'আননিহায়াহ'। পূর্বের মুদ্রণগুলোতে ছুবরাহ শব্দ বসানো ছিল যার অর্থ (পেশ দ্বারা) স্তূপীকৃত বস্তু বুঝায়। এটি ভুল ছিল যা সম্মানিত শাইখ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যাইদ ২০-২-১৪০৯ হিজরী পত্র মারফত আমাকে অবহিত করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(২) এখানে মূলে যে মু'হাজ্জাল শব্দ রয়েছে তার অর্থ হচ্ছে এমন ব্যক্তি যার হাত ও পা-র বেড়ি বন্ধনের স্থান পর্যন্ত উচ্চে শুভ্রতা ছড়ায় যা কজি অতিক্রম করে কিন্তু হাঁটু অতিক্রম করে না। কেননা এ দু'টি হাজল তথা নুপুর ও বেড়ি বন্ধনের স্থান। শুধু এক হাতের বা দুই হাতের শুভ্রতা দ্বারা »মু'হাজ্জাল হবেনা যতক্ষণ না এক বা উভয় পায়েও তা বিদ্যমান থাকবে।
(৩) মূলে আল গুররাহ শব্দটির অর্থঃ মুখমণ্ডলের শুভ্রতা। এখানে উযূর মাধ্যমে মুখ মণ্ডলের শুভ্রতা উদ্দেশ্য।
(৪) এখানে :মু'হাজ্জালূন শব্দের অর্থ হচ্ছে- উযূর মাধ্যমে হাত, পা ও মুখমণ্ডলের সাদা=স্থানসমূহ। মানুষের দু'হাত, পা ও চেহারায় ফুটে উঠা চিহ্নকে ঘোড়ার হাত, পা ও চেহারার শুভ্রতার সাথে রূপকার্থে সদৃশতা দেয়া হয়েছে।
(৫) ছহীহ সনদে আহমাদ, তিরমিযী এর কিয়দাংশ বর্ণনা করে ছহীহ বলেছেন। হাদীছটিকে 'আছ ছাহীহা' গ্রন্থে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
(১) বুখারী ও মুসলিম। এ হাদীছে পাওয়া যাচ্ছে যে, পাপী মুছাল্লীগণ জাহান্নামে চীরস্থায়ী হবে না, এমনিভাবে অলসতাবশত ছালাত তরককারী তাওহীদবাদী ব্যক্তিও চীরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না। এ বিষয়টি বিশুদ্ধভাবে সাব্যস্ত হয়েছে দেখুন 'আছ ছাহীহা' (২০৫৪)। (উল্লেখ্য যে, শেষোক্ত কথাটি লেখকের মত যা সংশ্লিষ্ট হাদীছের মর্ম বিরোধী -সম্পাদক)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00