📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 হস্তদ্বয়ের উপর ভর করে সাজদায় গমন করা

📄 হস্তদ্বয়ের উপর ভর করে সাজদায় গমন করা


কান্না ইয়াদা'উ ইয়াদাইহি 'আলাল আরযি ক্বাবলা রুকবাতাইহি *
তিনি মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে হস্তদ্বয় রাখতেন। (১) তিনি এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে বলতেন:
ইযা- সাজাদা আহাদুকুম ফালা- ইয়াবরুকু কামা- ইয়াবরুকুল বা'ঈরু, অ লিইয়াদা' ইয়াদাইহি ক্বাবলা রুকবাতাইহি *
তোমাদের কেউ যখন সাজদা করে তখন যেন উটের ন্যায় না বসে বরং সে যেন স্বীয় হাঁটুদ্বয়ের পূর্বে হস্তদ্বয় রাখে। (২) তিনি বলতেন:
ইন্নাল ইয়াদাইনি তাসজুদা-নি কামা- ইয়াসজুদুল ওয়াজহু, ফাইযা- ওয়াযা'আ আহadুকুম ওয়াজহাহু ফাল ইয়াদা' ইয়াদাইহি, অ ইযা- রাফা'আ ফাল ইয়ারফা'হুমা- *
মুখমণ্ডল যেমন সাজদাহ করে ঠিক তদ্রূপ হস্তদ্বয়ও সাজদাহ করে থাকে তাই যখন তোমাদের কেউ স্বীয় মুখমণ্ডল মাটিতে রাখতে যাবে তখন যেন (পূর্বে) হস্তদ্বয় রাখে এবং যখন উঠে তখনও যেন পূর্বে হস্তদ্বয় উঠায়। (১)
তিনি হাতের তালু দ্বয়ের উপর ভর করতেন ও বিছিয়ে দিতেন। (২) আর অঙ্গুলিসমূহ মিলিত রেখে (৩) ক্বিবলামুখী করতেন। (৪)
কান্না ইয়াজ'আলুহুমা- হাযওয়া মানকিবাইহি, অ আহ্ইয়া-নান হাযওয়া উযুনাইহি, কান্না ইউমকিনু আনফাহু অ জাবহাতাহু মিনাল আরযি *
তিনি হস্তদ্বয়ের তালুকে কাঁধ বরাবর রাখতেন। (৫) আবার কখনো কান বরাবর রাখতেন। (৬)

টিকাঃ
(১) ইবনু খুযাইমাহ্ (১/৭৬/১) দারাকুত্বনী হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন। এর বিপরীতে যে হাদীছ এসেছে তা ছহীহ নয়। এই মত পোষণ করেছেন ইমাম মালিক। ইমাম আহমদ থেকেও এমনটি এসেছে। ইবনুল জাউযীর 'আতত্বাহকীক' গ্রন্থে (১০৮/২), মারওয়াযী স্বীয় 'মাসায়িল' গ্রন্থে (১/১৪৭/১) ইমাম আওযায়ী' থেকে ছহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন আমি লোকজনকে হাঁটুর পূর্বে হাত রাখার উপর পেয়েছি।, (২) আবূ দাউদ, তাম্মাম 'আল ফাওয়াইদ' গ্রন্থে (ক্বাফ ১০৮/১) ছহীহ সনদে নাসাঈ, 'আছছুগরা' ও 'আল-কুবরা' (৪৭/১ ফটোকপি) বাদশাহ আব্দুল আযীয ইউনিভার্সিটি, মক্কা) আব্দুল হক্ব 'আল-আহকামুল কুবরাতে (৫৪/১) একে ছহীহ বলেছেন এবং "কিতাবুত্তাহাজ্জুদে" (৫৬/১) বলেছেন: এটি পূর্বের হাদীছ অর্থাৎ তার বিরোধী ওয়াইল এর হাদীছ অপেক্ষা উত্তম সনদ বিশিষ্ট বরং এটি যেমন (ওয়াইলের হাদীছ) উপরোক্ত ছহীহ হাদীছ ও তার পুর্বের হাদীছ বিরোধী ঠিক তদ্রুপ সনদের দিক দিয়েও তা ছহীহ নয় এবং এ অর্থে যে সব হাদীছ এসেছে এগুলোও অনুরূপ। দেখুন আমার আলোচনা 'আয যঈফাহ্' (৯২৯) ও 'আল ইরওয়া' (৩৫৭)। জেনে রাখুন উটের হাঁটুর পূর্বে হাত রাখার বিষয়ে ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ হচ্ছে এই যে, সে সর্ব প্রথম হাঁটু রাখে এবং তার হাঁটু হাতের মধ্যে হয়ে থাকে। দেখুন 'লিসানুল আরব' ও অন্যান্য অভিধান গ্রন্থ, ত্বাহাবী ==='মুশকিলুল আ-ছার' ও 'শারহু মা'আনিল আ-ছার' গ্রন্থে এরূপ কথাই উল্লেখ করেছেন। ইমাম ক্বাসিম সরকুসত্বী রাহিমাহল্লাহ-ও 'গরীবুল হাদীছে' (২/৭০/১-২) আবু হুরায়রা থেকে ছহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রাহ্ বলেছেন: "তোমাদের কেউ পলাতক উটের ন্যায় যেন অবতরণ না করে।" ইমাম ক্বাসিম বলেন: এটা সাজদার ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে, পূর্ণ ধীরতা ও পর্যায়ক্রমতা বজায় না রেখে বিচলিত উটের ন্যায় নিজেকে নিক্ষেপ না করে এবং ধীরস্থিরতার সাথে অবতরণ করে। প্রথমে হস্তদ্বয় রাখবে অতঃপর হাঁটুদ্বয় রাখবে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি হাদীছও বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর উপরোল্লিখিত হাদীছ উল্লেখ করেন। ইবনুল কাইয়িম অদ্ভুত এক মন্তব্য করে বলেছেন: যেটা বিবেক সম্মত নয় এবং ভাষাবিদগণও এই ব্যাখ্যার সাথে পরিচিত নন। কিন্তু আমি যেসব প্রমাণপঞ্জির দিকে ইঙ্গিত করেছি তা এর প্রতিবাদ করে এবং এছাড়াও আরো অনেক প্রমাণপঞ্জি আছে। তাই এগুলো অধ্যয়ন করা উচিত, আমি এ বিষয়ে শাইখ তুওয়াইজিরীর প্রতিবাদে লিখিত পুস্তিকায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি তা অচিরেই প্রকাশ পাবে।
(১) ইবনু খুযাইমাহ্ (১/৭৯/২) আহমদ, সাররাজ, হাকিম একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেন। এটি 'আল-ইরওয়া' (৩১৩) এ সন্নিবেশিত হয়েছে।
(২) আবূ দাউদ, হাকিম, তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৩) ইবনু খুযাইমাহ্, বাইহাক্বী, হাকিম একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৪) ছহীহ সনদে বাইহাকী, ইবনু আবী শাইবা (১/৮২/২) ও সাররাজ, অন্য সূত্রে তাওজীহুল আছাবি' গ্রন্থে।
(৫ ও ৭) আবূ দাউদ, তিরমিযী এবং তিনি ও ইবনুল মুলাক্কিন একে ছহীহ বলেছেন (২৭/২) এটি 'আল ইরওয়া' উদ্ধৃত হয়েছে। (৩০৯)
(৬) আবূ দাউদ ও নাসাঈ ছহীহ সনদে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সাজদায় ধীরস্থিরতা অবলম্বন অপরিহার্য

📄 সাজদায় ধীরস্থিরতা অবলম্বন অপরিহার্য


তিনি ছালাতে ত্রুটিকারীকে বলেছেন:
ইযা- সাজাদতা ফামাক্কিন লিসুজূদিকা, অফী রিওয়ায়াতিন : ইযা- আনতা সাজাদতা ফাআমাক্কানতা ওয়াজহাকা অ ইয়াদাইকা, হাত্তা- ইয়াত্বমা'ইন্না কুল্লু 'আযমিন মিনকা ইলা- মাওযি'ইহী )
তুমি যখন সাজদাহ করবে তখন সুস্থিরভাবে করবে। (১) অপর বর্ণনায় আছে- তুমি যখন সাজদাহ করবে তখন কপাল ও হাত সুস্থিরভাবে রাখবে যাতে তোমার প্রত্যেক অঙ্গ নিজ স্থানে প্রশান্তি অবলম্বন করতে পারে। (২) তিনি বলতেন :
লা- সলা-তা লিমান লা- ইউসীবু আনফাহু মিনাল আরযি মা- ইউসীবুল জাবীন
ঐ ব্যক্তির ছালাত বিশুদ্ধ হয় না যে কপালের মত করে নাক মাটিতে ঠেকায় না। (৩) তিনি হাঁটুদ্বয় এবং পদদ্বয়ের অগ্রভাগকে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করতেন। (৪) তিনি পদদ্বয়ের বক্ষদেশ ও আঙ্গুলের মাথা কিবলামুখী রাখতেন। (৫) গোড়ালিদ্বয়কে মিলিয়ে রাখতেন। (৬) পদদ্বয় খাড়া করে রাখতেন। (৭) এবং এবিষয়ে নির্দেশও দিয়েছেন। (৮) তিনি পদদ্বয়ের অঙ্গুলিগুলো ভিতরের দিকে গুটিয়ে নিতেন। (৯)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই সাতটি অঙ্গের উপর সাজদাহ করতেন : হাতের তালুদ্বয়, হাঁটুদ্বয়, পদদ্বয়, কপাল ও নাক, এখানে তিনি সাজদার ক্ষেত্রে শেষের দুই অঙ্গকে এক অঙ্গ ধরেছেন যেমন তিনি বলেছেন:
«উমিরতু আন আসজুদা (অফী রিওয়ায়াতিন : উমিরনা- আন নাসজুদা) 'আলা- সাব'ই আ'যমিন : 'আলাল জাবহাতি, অআশা-রা বিয়াদিহী 'আলা- আনফিহি - অল ইয়াদাইনি (অফী লাফযিন : আল কাফ্ফাইনি), অর রুকবাতাইনি, অ আত্বরা-ফিল ক্বদামাইনি, অলা- নাকফিতুছ ছিয়া-বা অশ শা'রা»
আমি আদিষ্ট হয়েছি অপর বর্ণনায় আছে আমরা আদিষ্ট হয়েছি যেন আমরা সাতটি অস্থির উপর সাজদাহ করি, যা হচ্ছে- কপাল আর এ বলে তিনি স্বীয় হাত দ্বারা নাকের দিকে ইঙ্গিত (১) করেন, হস্তদ্বয় (অপর শব্দে হাতের তালুদ্বয়) হাঁটুদ্বয়, উভয় পায়ের অগ্রভাগ, আরো আদিষ্ট হয়েছি আমরা যেন কাপড় ও চুল (২) না গুটাই (৩) তিনি বলতেন:
ইযা- সাজাদাল 'আবদু সাজাদা মা'আহু সাব'আতু আ-রা-বা ওয়াজহুহু অকাফ্ফা-হু অরুকবাতাহা- অক্বাদা-মা-হু»
বান্দা যখন সাজদা করে তখন তার সাথে সাতটি অঙ্গ (৪) সাজদাহ করে, সেগুলো হচ্ছে- তার মুখমণ্ডল, হাতের তালুদ্বয়, হাঁটুদ্বয় ও পদদ্বয়। (৫) তিনি পিছনের দিকে চুল বেঁধে রেখে ছালাত আদায়কারী এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন (৬)
ইন্নামা- মাসালু হা-যা- মাসালুল্লাযী ইউছাল্লী অহুয়া মাকতূফুন অক্ব-লা আইযান : যা-লিকা কিফলুশ শাইত্বা-ন
এ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে জড়াবদ্ধ হয়ে ছালাত আদায় করে। (১) তিনি আরো বলেন: এটি (বাঁধা চুল) হচ্ছে শয়তানের আসন। (২) এখানে খোপার গোড়া উদ্দেশ্য।
«অকা-না লা- ইয়াফতারিশু যিরা-'আইহি বাল কা-না ইয়ারফা'উহুমা- 'আনিল আরযি, অ ইউবা-ইদুহুমা- 'আন জানবাইহি হাত্তা- ইয়াবদুওয়া বিয়া-যু ইবত্বাইহি মিওঁ ওয়ারা-ইহি, অ হাত্তা- লাও আন্না বাহীমাতান আরা-দাত আন তামুররা তাহ্তা ইয়াদাইহি মাররাত »
তিনি বাহুদ্বয় বিছিয়ে রাখতেন না(৩) বরং এ দু'টিকে মাটি থেকে উপরে রাখতেন এবং পার্শ্বদ্বয় থেকে দূরে রাখতেন ফলে পিছন থেকে তাঁর বগলের শুভ্রতা প্রকাশিত হত। (৪) এমনকি যদি বকরীর বাচ্চা (৫) তাঁর হাতের নীচ দিয়ে গমন করতে ইচ্ছা করত তবে তা পারত। (৬) তিনি এত বেশী করে এই দূরত্ব বজায় রাখতেন, যা দেখে তার কোন ছাহাবী বলেন:
«ইন্না কুন্না- লানা'বী লিররাসূ-লিল্লা-হি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা মিম্মা- ইউজা-ফী বিয়াদািহি 'আন জানবাইহি ইযা- সাজাদা »
সajদাহকালে হস্তদ্বয়কে পার্শ্বদ্বয় থেকে দূরে রাখার চিত্র দেখে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি মমতা (৭) জাগত (৮) তিনি এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে বলতেন:
ইযা- সাজাদতা ফাযা' কাফ্ফাইকা অরফা' মিরফাক্বাইকা অ ইয়াক্বূলu : «ই'তাদিলূ- ফিস সুজূদি অলা- ইয়াবসুত আহাদুকুম যিরা-'আইহি ইম্বিসা-তা (অফী লাফযিন : কামa- ইয়াবসুতু) আল কাল্বু», অফী লাফযিন আ-খারা অ হাদীছিন আ-খারা : (অলা- ইয়াফতারিশ আহাদুকুম যিরা-'আইহি ইফতিরা-শাল কাল্বি, অ কা-না ইয়াক্বূলু : লা- তাবসুত যিরা-'আইকা (বাসতাস সাব'ই) অদ'আম 'আলা- রা-হাতাইকা, অ তাজা-ফা 'আন যাব'আইকা, ফাইন্নাকা ইযা- ফা'আলতা যা-লিকা সাজাদা কুল্লু 'উযবু মinka মা'আকা )
তুমি যখন সাজদাহ করবে তখন তোমার উভয় হাতের তালুদ্বয় (মাটিতে) রাখবে এবং কনুইদ্বয় উঁচু করে রাখবে। (১) তিনি আরো বলতেন: তোমরা সাজদাবস্থায় সোজা থাকবে, আর তোমাদের কেউ যেন স্বীয় বাহুদ্বয় কুকুরের মত মাটিতে বিছিয়ে না রাখে। (২) অপর শব্দে ও অপর হাদীছে রয়েছে: তোমাদের কেউ স্বীয় বাহুদ্বয়কে কুকুরের মত যেন বিছিয়ে না রাখে(৩) তিনি বলতেন: তুমি হিংস্র প্রাণীর ন্যায় বাহুদ্বয় বিছিয়ে দিওনা, আর হাতের তালুদ্বয়ের উপর ভর রাখবে এবং বাহুদ্বয়কে দূরে রাখবে (৪) এমনটি করতে পারলে (বুঝে নিবে) যে, তোমার সাথে প্রতিটি অঙ্গ সাজদাহ করেছে। (৫)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু ও সাজদাহ পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করার নির্দেশ দিতেন এবং যে ব্যক্তি তা করতনা তাকে ক্ষুধার্ত ব্যক্তির সাথে তুলনা করতেন যে দু'একটি খেজুর খায় কিন্তু তাতে মোটেও তার ক্ষুধা দূর হয় না। এহেন এমন লোক সম্পর্কে তিনি বলতেন: ইন্নাহু মিন আসওয়াইন ন্না-সি সারাক্বাতান *
এ হচ্ছে নিকৃষ্টতম চোর। যে ব্যক্তি রুকু ও সাজদায় স্বীয় মেরুদণ্ডকে সোজা করেনা তিনি তার ছালাত বাত্বিল বলে ফায়ছালা দিতেন। বিস্তারিত ব্যাখ্যা রুকু অধ্যায়ে অতিবাহিত হয়েছে এবং সাজদায় স্থিরতা অবলম্বনের ক্ষেত্রে ছালাতে ত্রুটিকারীকে তিনি যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাও এই অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ হয়েছে।

টিকাঃ
(১) ছহীহ সনদে আবু দাউদ ও আহমাদ।
(২) ইবনু খুযাইমাহ্ (১/১০/১) হাসান সনদে।
(৩) দারাকুত্বনী, ত্বাবারানী (৩/১৪০/১) ও আবু নুয়াইম 'আখবার আছবাহান' গ্রন্থে।
(৪) ছহীহ সনদে বাইহাকী, ইবনু আবী শাইবা (১/৮২/২) ও সাররাজ তাওজীহুল আছাবি' গ্রন্থে (২/৩৬৩) অন্য সূত্রে, হাকিম একে ছহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন।
(৫) বুখারী, আবু দাউদ, অতিরিক্ত অংশটি ইবনু রা-হাওয়াইহ স্বীয় 'মুসনাদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ইবনু সা'য়াদ (৪/১৫৭) ইবnu উমার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ছালাতাবস্থায় তার সর্বাঙ্গ ক্বিবলামুখী রাখা পছন্দ করতেন, এমনকি স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলিকেও ক্বিবলামুখী রাখতেন।
(৬) ত্বাহাবী ও ইবনু খুযাইমাহ্ (৬৫৪নং) হাকিম। তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৭) ছহীহ সনদে বাইহাকী।
(৮) তিরমিযী, সাররাজ এবং হাকিম একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন।
(৯) আবূ দাউদ, তিরমিযী এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন, নাসাঈ ও ইবনু মাজাহ এখানে « ইয়াফ্তাখু » শব্দটি 'খা' অক্ষর দ্বারা গঠিত, যার অর্থঃ অঙ্গুলিগুলোর জোড়ার স্থানকে মুড়িয়ে ভিতরে দিকে গুটিয়ে নিতেন। 'আন নিহায়াহ'।
(১) এখানে «আশা-রা শব্দটি যেন »আমার (র অক্ষরে তাশদীদ দ্বারা) শব্দের অর্থে এসেছে। সে জন্য তাকে ইলা- এর পরিবর্তে 'আলা- দ্বারা ব্যবহার (মুতা'আদ্দী) করা হয়েছে। ফতহুলবারী দ্রষ্টব্য।
(২) অর্থাৎ আমাদের এগুলো জড় করা ও ছড়াতে না দেয়া। এখানে রুকু ও সাজদাকালে হাত দ্বারা কাপড় ও চুল উঠানো উদ্দেশ্য। (নিহায়াহ)
আমি বলতে চাইঃ এই নিষেধাজ্ঞা ছালাত রত অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট নয় বরং আলিমদের অধিকাংশ বিদ্বানের নিকট- যদি কেউ ছালাতের পূর্বে চুল ও কাপড় গুটিয়ে নেয় তবে তাও নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে। এ কথার স্বপক্ষে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগত হাদীছ সমর্থন যোগায়। যাতে তিনি চুল বাধা অবস্থায় ছালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।
(৩) বুখারী ও মুসলিম। এটি 'আল-ইরওয়া'তে (৩১০) সন্নিবেশিত হয়েছে।
(৪) আ-রা-ব শব্দের অর্থ: অঙ্গসমূহ যা 'ইরব শব্দের বহু বচন। যার হামযা অক্ষরে কাসরাহ (যের) ও রা অক্ষরে সাকিন হবে।
(৫৬) মুসলিম, আবূ উওয়ানা ও ইবনু হিব্বান।
(৬) অর্থাৎ খোঁপা বাঁধা ও পাকানো। ইবনুল আছীর বলেন: হাদীছের ব্যাখ্যা হচ্ছে- চুল যদি ছড়ানো থাকে, তবে সাজদাকালে তা মাটিতে পড়বে ফলে এর সাজদার ছওয়াব সাজদাকারী পাবে, পক্ষান্তরে যদি বাঁধা থাকে তবে এর অর্থ দাঁড়াল এই যে, এটা সাজদা করলনা, আর তিনি এ ব্যক্তিকে জড়াবদ্ধ লোক তথা দু'হাত বাঁধা ব্যক্তির সাথে এজন্য তুলনা করলেন যে, এমতাবস্থায় সাজদা কালে হাত মাটিতে পড়েনা। আমি বলতে চাই: ইমাম শাওকানী ইবনুল আরাবী থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা থেকে এটাই স্পষ্ট হয় যে, এ বিধান কেবল পুরুষদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, মহিলাদের ক্ষেত্রে নয়।
(২) আবূ দাউদ, তিরমিযী এবং তিনি একে হাসান বলেছেন। ইবনু খুযাইমাহ এবং ইবনু হিব্বান একে ছহীহ বলেছেন 'ছহীহ আবূ দাউদ' (৬৫৩)।
(৩) বুখারী ও আবূ দাউদ।
(৪) বুখারী ও মুসলিম, এটি 'আল ইরওয়াতে' (৩৫৯) উদ্ধৃত হয়েছে।
(৫) এখানে মূল হাদীছে «আল বাহীমাতু» শব্দ রয়েছে যা «আল বাহামু» শব্দের এক বচন, এর অর্থ হচ্ছে বকরীর বাচ্চা।
(৬) মুসলিম, আবূ উওয়ানাহ্ ও ইবনু হিব্বান।
(৭) এখানে মূল হাদীছে «লানা'বী» শব্দ রয়েছে যার অর্থ হচ্ছে- দুঃখ ও মমতা বোধ করা।
(৮) আবূ দাউদ ও ইবনু মাজাহ হাসান সনদে।
(১) মুসলিম ও আবূ উওয়ানাহ্।
(২) বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও আহমাদ।
(৩) আহমাদ ও তিরমিযী এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন।
(৪) এখানে মূল হাদীছে জাজ্জিফ শব্দের অর্থ হচ্ছে দূরে রাখবে, আর দ্বাবা' শব্দের অর্থ হচ্ছে বাহুর মধ্যভাগ। 'আন নিহায়া'
(৫) ইবনু খুযাইমা (১/৮০/২) মাকুদিসী 'আল মুখতারা' গ্রন্থে, হাকিম মুসতাদরাক গ্রন্থে এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সাজদার যিকরসমূহ

📄 সাজদার যিকরসমূহ


নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই রুকন আদায় করা কালে বিভিন্ন ধরনের যিক্র ও দু'আ পাঠ করতেন, যার মধ্যে একেক সময় তিনি একেকটা অবলম্বন করতেন। যথা- সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা- , আ দ
অর্থ: আমি আমার সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
এ দু'আটি তিনবার পড়তেন। (১) কখনো তিনি এর অধিকবার দু'আটি আওড়াতেন (২) এক পর্যায়ে তিনি রাত্রিকালীন নফল ছালাতে এত বেশী পরিমাণ দু'আটি পাঠ করেন যার ফলে তাঁর সাজদা প্রায় দাঁড়ানোর পরিমাণ দীর্ঘায়িত হয়েছিল অথচ ঐ দাঁড়ানোতে তিনি তিনটি দীর্ঘ সূরা পাঠ করেছিলেন সেগুলো হচ্ছে 'বাকারা', 'নিসা' 'আলু-ইমরান' যার ভিতর দু'আ ও ইসতিগফারও ছিল। যেমনটি 'রাত্রিকালীন ছালাতে' অতিক্রান্ত হয়েছে। সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা- অ বিহামদিহি » (২)
অর্থ: সর্বাধিক সমুন্নত স্বীয় প্রভুর প্রশংসাসহ পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি। এই দু'আ তিনি তিনবার পাঠ করতেন। (৩)
সুব্বূহুন ক্বুদ্দূসুন রাব্বুল মালাইকাতি অররূহি , (৪)
(এ দু'আটির অর্থ পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে পৃষ্ঠা- ১১৬) সুবহানাকাল্লাহুম্মা রাব্বানা- অবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী অকা-না ইউকছিরু মিনহু ফী রুকূ'ইহী অ সুজূদিহী ইয়াতাআওয়্যালুল কুরআ-ন *
এ দু'আটির অর্থ পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে পৃষ্ঠা...... (১)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ দু'আটি রুকু ও সাজদাহতে বেশী বেশী পড়তেন (এর দ্বারা) কুরআন এর মর্ম বাস্তবায়ন করতেন। আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু অ বিকা আ-মানতু, অ লাকা আসলামতু, সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাযী খালাক্বাহু, অ সওয়্যারাহু, অ শাক্কা সাম'আহু অ বাসরাহু, তাবারাকাল্লা-হু আহ্সানুল খা-লিক্বীন। *
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার উদ্দেশে সাজদা করলাম এবং তোমার উপরে ঈমান আনলাম এবং তোমার বশ্যতা স্বীকার করলাম, তুমি আমার প্রতিপালক। আমার মুখমণ্ডল সেই যাতকে সাজদাহ করল যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সুন্দর আকৃতি দান করেছেন এবং তিনি তাতে চক্ষু-কর্ণ সৃষ্টি করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ বরকতময় সর্বোত্তম স্রষ্টা। (২)
আল্লাহুম্মাগফিরলী যানবী কুল্লাহু, দিক্কাহু অ জিল্লাহু, অ আউয়ালাহু অ আ-খিরাহু অ 'আলা-নিয়্যাতাহু অ সিররাহু। ইনা
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার সব গুনাহ ক্ষমা করে দাও, ক্ষমা করে দাও ছোট, বড়, পূর্বের, পরের, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব গুনাহ। (৩)
সাজাদা লাকা সাওয়া-দী অখায়া-লী অ আ-মানা বিকা ফুয়া-দী, আবূউ বিনি'মাতিকা 'আলাইয়া- অ হা-যা- ইয়াদী অমা- জানাইতু 'আলা- নাফসী *
অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশে আমার অন্তর ও মস্তিষ্ক সাজদাহ করল, তোমার উপর আমার হৃদয় ঈমান আনয়ন করল, আমি আমার উপরে তোমার প্রদত্ত নিয়ামতের স্বীকারোক্তি জানাচ্ছি, আমার এ দু'হাতের কামাই ও স্বীয় সত্ত্বার উপর কৃত অন্যায় কর্মও স্বীকার করে নিচ্ছি। (১)
সুবহা-না যিল জাবারূতি অল মালাকূতি অল কিবরিয়া-ই অল 'আযামাহ *
অর্থঃ (এই দু'আর অর্থ রুকুতে অতিবাহিত হয়েছে, পৃষ্ঠা- ১১৭।) এটি ও এর পরবর্তী দু'আগুলো তিনি রাত্রিকালীন নফল ছালাতে পাঠ করতেন। (২)
সুবহানাকাল্লাহুম্মা অবিহামদিকা লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা *
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার প্রশংসাসহ পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন মা'বুদ নেই। (৩)
আল্লাহুম্মাগফিরলী মা- আসরারতু অমা- আ'লানতু *
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার গোপনে ও প্রকাশ্যে কৃত অপরাধ ক্ষমা কর। (৪)
আল্লাহুম্মাজ'আল ফী ক্বালবী নূরা-, অফী লিসা-নী নূরা-) অজ'আল ফী সাম'ঈ নূরা- অজ'আল ফী বাসারী নূরা- , অজ'আল মিন তাহ্তী নূরা- , অজ'আল মিন ফাওক্বী নূরা- , অ'আন ইয়ামীনী নূরা- , অ'আন ইয়াসা-রী নূরা- , অজ'আল আমা-মী নূরা- , অজ'আল মিন খালফী নূরা- , অজ'আল ফী নাফসী নূরা- , অ আ'যিম লী নূরা- *
অর্থ : হে আল্লাহ তুমি আমার অন্তরে, জিহ্বায়, কানে, চোখে, নীচে-উপরে, ডানে-বামে, সামনে-পিছনে এবং স্বয়ং আমার সত্ত্বায় নূর দান কর। আমাকে এসবে বিপুল পরিমাণ নূর দান কর। (৫)
আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিরযা-কা মিন সাখাত্বিকা অ আ'ঊযু বিমু'আ-ফা-তিকা মিন 'উক্বূবাতিকা (১২)
অ'আঊযু বিকা মিনকা লা- উহসী সানা-আন 'আলাইকা আনতা কামা- আসনাইতা 'আলা- নাফসিকা
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তোমার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, তোমার ক্ষমা গুণের মাধ্যমে তোমার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, তোমার অসীলায় তোমার পাকড়াও থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আমি তোমার প্রশংসা করে শেষ করতে পারব না। তুমি ঐ রূপ যেমন তুমি নিজে প্রশংসা করেছ। (১)

টিকাঃ
(১) আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, দারাকুতনী, ত্বাহাবী, বাযযার, ত্বাবরানী, 'আল-কাবীর' গ্রন্থে সাতজন ছাহাবী থেকে। রুকুর যিকর (পৃষ্ঠা- ১১৫-১১৬) এর টীকা দ্রষ্টব্য।
(২) পূর্বোল্লিখিত টীকা (পৃষ্ঠা- ১১৫-১১৬) দ্রষ্টব্য।
(৩) ছহীহ, আবু দাউদ, দারাকুতনী, আহমাদ, ত্বাবরানী ও বাইহাকী।
(৪) মুসলিম ও আবূ উওয়ানাহ।
(১) বুখারী ও মুসলিম, এটি রুকুর যিকরসমূহেরও অন্তর্ভুক্ত, পূর্বেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এতে কুরআনে উল্লেখিত নির্দেশের উপর আমল করতেন।
(২) মুসলিম, আবু উওয়ানাহ, ত্বাহাবী ও দারাকুতনী।
(৩) মুসলিম ও আবু উওয়ানাহ্।
(১) ইবনু নছর, বায্যার, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন। কিন্তু যাহাবী তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে উক্ত হাদীছের পক্ষে বহু সাক্ষ্য প্রদানকারী বর্ণনা মূল কিতাবে রয়েছে। ('অতএব হাদীছ গ্রহণযোগ্য')।
(২) ছহীহ সনদে আবূ দাউদ, নাসাঈ, রুকুর অধ্যায়ে এর ব্যাখ্যা উল্লেখ হয়েছে।
(৩) মুসলিম, আবূ উওয়ানা, নাসাঈ ও ইবনু নাছর।
(৪) ইবনু আবী শাইবাহ (৬২/১১২/১) ও নাসাঈ। হাকিম একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী এতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৫) মুসলিম, আবু উওয়ানাহ্, ইবনু আবী শাইবা 'আল-মুছান্নাফ' (১২/১০৬/২৩১১২/১)।
(১) মুসলিম, আবূ উওয়ানাহ্, ইবনু আবী শাইবা 'আল-মুছান্নাফ' (১২/১০৬/২৫১১২/১)।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সাজদায় কুরআন পড়া নিষেধ

📄 সাজদায় কুরআন পড়া নিষেধ


নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু' এবং সাজদায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করতেন, তবে এই রুকন্টিতে তিনি বেশী করে দু'আ করার নির্দেশ দিতেন, যেমন রুকু' অধ্যায়ে উল্লেখ হয়েছে।
তিনি বলতেন:
আক্বরাবু মা- ইয়াকূনুল 'আব্দু মীর রাব্বিহী অ হুয়া সা-জিদুন ফাকছিরুদ্ দু'আ-আ ফীহি )
বান্দাহ আল্লাহর সর্বাধিক নিকটতম অবস্থায় থাকে তখনই যখন সে সাজদা করে, তাই এমতাবস্থায় তোমরা বেশী করে দু'আ কর। (২)

টিকাঃ
(২) মুসলিম, আবূ উওয়ানাহ্, বাইহাকী, এটি 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থে উদ্ধত হয়েছে- (৪৫৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00