📄 রুকু‘তে কুরআন পাঠ নিষেধ
কান্না ইয়ানহা- 'আন ক্বিরা-আতিল কুরআ-নি ফির রুকূ'ই অস্সুজূদি, অ কা-না ইয়াক্বূলু : আ-লা- অ ইন্নী নুহীতু আন আক্বরাআল কুরআ-না রা-কি'আন আও সা-জিদান, ফাআম্মার রুকূ'উ ফা'আযযিমু ফীহির রাব্বা আয্যাওয়া জাল, অ আম্মাস সুজূদু ফাজতাহিদূ ফিদ্দু'আ-ই, ফাক্বামিনুন আন ইউসতা-জাবা লাকুম
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু ও সাজদায় কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করতেন। (১)
তিনি বলতেন- জেনে রেখ আমাকে রুকু বা সাজদাবস্থায় কুরআন পড়তে নিষেধ করা হয়েছে, তাই রুকুতে তোমরা পরাক্রমশালী মহান প্রতিপালকের বড়ত্ব বর্ণনা কর, আর সাজদায় দু'আ করতে সচেষ্ট হও। কেননা এটি হচ্ছে তোমাদের দু'আ কবুল হওয়ার (২) উপযুক্ত ক্ষেত্র। (৩)
টিকাঃ
(১) মুসলিম ও আবূ আওয়ানা। নিষেধাজ্ঞাটি ফরয এবং নফল উভয় প্রকার ছালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইবনু আসাকির (১৭/২৯৯/১) যে অতিরিক্ত অংশ উল্লেখ করেছে যা হচ্ছে- »ফাফী সলা-তিত্ তাত্বাওউ'ই ফালা- জুনা-হা« অর্থঃ "তবে নফল ছালাতে তা পড়তে অসুবিধা নেই" এটুকু হয় শায (شاذ) হাদীছ অথবা মুনকার (منکر) হাদীছ। ইবনু আসাকির নিজেই একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন। অতএব এর উপর আমল করা বৈধ হবে না।
(২) এখানে «ক্বামিনুন» শব্দের মীমে যবর এবং যের উভয়টাই বিশুদ্ধ। শব্দটির অর্থ হচ্ছে উপযুক্ত বা আশাব্যঞ্জক।
(৩) আবূ দাউদ, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সমর্থন করেছেন।
📄 রুকু‘ থেকে সোজা হয়ে সুস্থিরভাবে দাঁড়ানো ও পঠিতব্য দু‘আ
অতঃপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু অবস্থা থেকে মেরুদণ্ডকে উঠাতেন এই বলতে বলতে : «সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু» অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি তার কথা শুনেন। (৪) এ বিষয়ে তিনি ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন : ওলা তাতিম্মু সলা-তুন লিআhাদিম মিনান্নাসি হাত্তা- ..... ইউকাব্বিরু ..... সুম্মা ইয়ারকা'উ ...... সুম্মা ইয়াক্বূলু : «সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু হাত্তা- ইয়াসতাবিয়া ক্বা-ইমান »
কোন ব্যক্তির ছালাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে আল্লাহ আকবার বলবে অতঃপর রুকু করবে অতঃপর »সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু« বলে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। (৫)
ওকানা ইযা- রাফা'আ রা'সাহু ইস্তাওয়া- হাত্তা- ইয়া'ঊদা কুল্লু ফাক্বা-রিন মাক্কা-নাহু
তিনি যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখন এমনভাবে সোজা হতেন যে, মেরুদণ্ডের হাড়গুলো স্ব-স্ব স্থানে ফিরে যেত। (১) অতঃপর তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় বলতেন- »রাব্বানা- (অ) লাকাল হামদু « অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক সব প্রশংসা তোমার। (২) এ বিষয়ে তিনি মুক্তাদীসহ সকল প্রকার মুছল্লীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন - »সল্লূ- কামা- রায়াইতুমূনী উসল্লী « অর্থঃ আমাকে তোমরা যেভাবে ছালাত আদায় করতে দেখ ঠিক সেভাবে ছলাত আদায় কর। (৩)
তিনি বলতেন : ইন্নামা- জু'ইলাল ইমা-মু লিইউ'তাম্মা বিহী ..... অ ইযা- ক্বালা- : সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু , ফাক্বুলূ : আল্লাহুম্মা রাব্বানা- লাকাল হামdu ইয়াসমা'উল্লা-হু লাকুম, ফাইন্নাল্লাহা তাবা-রাকা অ তা'আ-লা- ক্বালা- 'আলা- লিসা-নি নাবীয়্যিহী ছাল্লাল্লা-হু 'আলাইহি অসাল্লামা : সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু *
ইমামকে কেবল অনুসরণের উদ্দেশে নিয়োগ করা হয়...... তিনি যখন «সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু » বলতেন তখন তোমরা বলবে রাব্বানা- লাকাল হামদু আল্লাহুম্মা { , অর্থাৎ- হে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ! তোমার জন্যই সব প্রশংসা। আল্লাহ তোমাদের কথা শ্রবণ করবেন, কেননা আল্লাহ তাবারাক ওয়াতা'আলা স্বীয় নবীর কণ্ঠে বলেছেন : সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি তা শ্রবণ করেন। (৪)
উপরোক্ত নির্দেশের কারণ দর্শিয়ে অপর হাদীছে তিনি বলেন:
ফাইন্নাহু মান ওয়া-ফাক্বা ক্বওলুহূ ক্বওলুল মালাইকাতি, গুফিরা লাহু মা- তাক্বাদ্দামা মিন যানবিহী
কেননা যার কথা ফিরিশতাদের কথার সাথে মিলে যাবে তার পূর্বকৃত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (১) তিনি রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবার সময় দু'হাত উঠাতেন। (২) তাকবীরে তাহরীমায় উল্লেখিত নিয়মানুসারে এবং তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ হয়েছে বলতেন:
(৫) রাব্বানা- লাকাল হামদু আ
কখনো বলতেন:
(৪) রাব্বানা- লাকাল হামদু আ
কখনো এই শব্দ দুটোর সাথে- ও আল্লাহুম্মা শব্দ যোগ করতেন। (৫) ,৩৩৪
তিনি এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে বলতেন:
ইযা- ক্বা-লাল ইমা-মু সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু , ফাক্বুলূ : আল্লাহুম্মা রাব্বানা- ! লাকাল হামdu, ফাইন্নাহু মান ওয়া-ফাক্বা ক্বওলুল মালাইকাতি, গুফিরা লাহু মা- তাক্বাদ্দামা মিন যাম্বিহী )
ইমাম যখন- «সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু» বলেন তখন তোমরা বলবে- পোলট আ রাফাত প্যাল এস ফর আল্লাহুম্মা রাব্বানা- লাকাল হামদু তার পূর্বকৃত পাপ মাফ করে দেয়া হবে। (১)
কখনো তিনি এরসাথে নিম্নোক্ত দু'আগুলোর যে কোন একটি বৃদ্ধি করতেন: মিলআস সামা-ওয়া-তি অ মিলআল আরযি অমা- বাইনাহুমা-, অমা- শি'তা মিন শাইয়িন বা'দু *
অর্থ: আসমান ভর্তি, যমীন ভর্তি এবং তদুপরি তুমি আরো যা চাও তাও ভর্তি তোমার প্রশংসা। (২)
মিলআস সামা-ওয়া-তি অ (মিলআল আরযি অমা- বাইনাহুমা-, অ মিলআ মা- শি'তা মিনাল আ- শাইয়িন বা'দু *
অর্থ: আসমান ভর্তি, যমীন ভর্তি, এতদুভয়ের মধ্যে যাকিছু আছে তা ভর্তি ও তদুপরি তুমি আরো যা চাও তাও ভর্তি তোমার প্রশংসা। (৩)
কখনো উপরোক্ত দু'আর সাথে এই কথা যোগ করতেন: আহ্লাছ ছানা-ই অল মাজদি, লা- মা-নি'আ লিমা- আ'ত্বাইতা, অলা- মু'ত্বিয়া লিমা- মানা'তা, অলা- ইয়ানফা'উ ৯১ যা-ল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু
অর্থঃ হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী! তুমি যা দাও তা রোধকারী কেউ নেই, তুমি যা রোধ কর তা দানকারী কেউ নেই। আর কোন বিত্তশালী ব্যক্তির সম্পদ (৪) তোমার কাছে কোন উপকার করতে পারে না। (৫)
৮। কখনো তিনি এই শব্দগুলো বৃদ্ধি করতেন:
মিলআস সামা-ওয়া-তি, অ মিলআল আরযি, অ মিলআ মা- শি'তা মিন শাইয়িন বা'দু, আহ্লাছ ছানা-ই অল মাজদি, আহাক্কু মা- ক্ব-লাল 'আবদু, অ কুল্লুনা- লাকা 'আবদুন। {আল্লাহুম্মা লা- মা-নি'আ লিমা- আ'ত্বাইতা, অলা- মু'ত্বিয়া লিমা- মানা'তা, অলা- ইয়ানফা'উ যা-ল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু *
অর্থ: আসমান, জমিন এবং তদুপরি তুমি যা চাও তাও ভরতি তোমার প্রশংসা। হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী, বান্দার প্রশংসা পাওয়ার সর্বাধিক যোগ্য, আমরা সবাই তোমার বান্দাহ, তুমি যা দাও তা রোধকারী কেউ নেই এবং তুমি যা রোধ কর তা দানকারী কেউ নেই, আর কোন বিত্তশালী ব্যক্তির সম্পদ তোমার নিকট কোন উপকার করতে পারবে না। (১)
কখনো তিনি রাত্রের ছালাতে বলতেন:
রাব্বিল হামদু লির রাব্বিল হামদু
অর্থ : আমার প্রতিপালকের জন্য সকল প্রশংসা। আমার প্রতিপালকের জন্য সকল প্রশংসা। এই দু'আটি বারংবার পাঠ করতেন যার ফলে তার রুকুর পর দাঁড়ানোর সময় রুকুর সময়ের কাছাকাছি হয়ে যেত। যে রুকু প্রাথমিক দাঁড়ানোর প্রায় সমপরিমাণ ছিল যার ভিতর তিনি সূরা আল-বাক্বারা পাঠ করেছেন। (২)
রাব্বানা- অ লাকাল হামদু হামদান কাসীরান তায়্যিবাম মুবা-রাকান ফীhi, মুবা-রাকান 'আলাইহি কামা- ইউহিব্বু রাব্বুনা- অ ইয়ারযা-
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার জন্য সব প্রশংসা। অত্যধিক পবিত্র প্রশংসা যার মধ্যে ও উপরে বরকত নিহিত। ঠিক ঐভাবে যেভাবে আমাদের প্রতিপালক ভালবাসেন ও সন্তুষ্ট হন।
এ দু'আটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিছনে ছালাত আদায়কারী এক ব্যক্তি ঐ সময় বলেছিল যখন তিনি রুকু থেকে মাথা উঠান এবং "সমিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলেন। ছালাত শেষে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: এক্ষণি (ছালাতে) কে কথা বলেছ? লোকটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল আমি বলেছি! রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আমি তেত্রিশের ঊর্ধ্বে ফেরেশতাকে এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করতে দেখলাম যে, তাদের কে কার পূর্বে তা লিপিবদ্ধ করবে। (১)
টিকাঃ
(৪) বুখারী ও মুসলিম।
(৫) আবূ দাউদ, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(১) বুখারী ও আবূ দাউদ, ‘ছহীহ আবূ দাউদ’ (৭২২)। »আল ফাক্বার যবর দ্বারা এর অর্থ মেরুদণ্ডের হাড় যা ঘাড় থেকে নিয়ে পশুর লেজের সূচনাস্থল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ‘কামূস’ ও ফাতহুল বারী দ্রষ্টব্য। (২/৩০৮)
(২,৩) বুখারী ও আহমাদ।
(৪) মুসলিম, আবু আওয়ানা, আহমাদ ও আবূ দাউদ। জ্ঞাতব্য : এই হাদীছ মুক্তাদীর সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু বলার সাথে ইমামের শরীক না হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে না। তদ্রূপ রাব্বানা- লাকাল হামদু বলাতে ইমামের মুক্তাদীর সাথে শরীক না হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে না। কেননা হাদীছটি ইমাম ও মুক্তাদী এ রুকনটিতে কী পাঠ করবে তা বলার জন্য আসেনি। বরং এসেছে এটা বর্ণনা করার জন্য যে, ইমামের সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু বলার পর মুক্তাদী রাব্বানা- লাকাল হামদু বলবে। এই ব্যাখ্যার সমর্থনে রয়েছে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইমাম হওয়া সত্ত্বেও রাব্বানা- লাকাল হামদু বলার হাদীছ, এমনিভাবে নবী (ছাল্লাল্লাহু == আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীছটির সাধারণ ভঙ্গিও এর সমর্থন করে- সল্লূ কামা- রায়াইতুমূনী উসল্লী অর্থ : তোমরা আমাকে যেভাবে ছালাত আদায় করতে দেখ ঠিক সেইভাবে ছালাত আদায় কর। এ হাদীছের দাবী হচ্ছে- ইমাম যা করবে মুক্তাদীও তাই করবে যেমন, সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু ও অন্যান্য কার্যাদি। এ বিষয় নিয়ে আমার সাথে যে বিদ্বানগণ বুঝাপড়া করেছিলেন তাদের চিন্তা করা উচিত। আশা করি যা উল্লেখ করেছি তাই যথেষ্ট। অধিক জানার জন্য হাফিয সূয়ূতীর এ বিষয়ে লিখিত পুস্তিকা "দফউত্তাশনী'য় ফী হুকমিত্ তাসমী" যা তার কিতাব 'আল-হাবী-লিল ফাতাউয়ি (১/৫২৯)-এর অন্তর্ভুক্ত।
(১) বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন।
(২,৩,৪) বুখারী ও মুসলিম। এ হস্ত উত্তোলন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে সাব্যস্ত। কিছু সংখ্যক হানাফী আলিমসহ বেশিরভাগ আলিম হাত উঠানোর পক্ষে মত পোষণ করেন। পূর্বোক্ত টীকা দ্রষ্টব্য, পৃষ্ঠা- ১১১।
(৫) বুখারী, আহমাদ, ইবনুল কাইয়িম প্রমাদ বশতঃ এই আল্লাহুম্মা ও »ওয়াও« এর সমন্বয়ে বর্ণিত হাদীছ অর্থাৎ আল্লাহুম্মা রাব্বানা- অ লাকাল হামদু এর বিশুদ্ধতাকে 'যাদুল মা'আদ' গ্রন্থে অস্বীকার করেন। অথচ তা বুখারী, মুসনাদ আহমাদ ও নাসাঈতে আবু হুরাইরা==থেকে দুটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এমনিভাবে ইবনু উমার থেকে দারিমীতে ও আবু সাঈদ খুদরী থেকে বাইহাকীতে ও আবু মূসা আশ'আরী থেকে নাসাঈর এক বর্ণনায়ও তা রয়েছে।
(১) বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী একে ছহীহ বলেছেন।
(২,৩,৪) মুসলিম ও আবূ আওয়ানাহ।
(৪) এখানে «আল জাদ্দু» শব্দটি বিশুদ্ধ মতানুসারে ফাত্হ দ্বারা হবে যার অর্থঃ ভাগ্য, বড়ত্ব ও রাজত্ব। অর্থাৎ পৃথিবীতে সন্তান, বড়ত্ব ও রাজত্ব লাভে ভাগ্যবান কোন ব্যক্তির এসব উপকারে আসবে না তথা তার সম্পদ তাকে মুক্তি দিতে পারবে না বরং তার উপকার ও মুক্তির জন্য নেক আমলই কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
(৫) মুসলিম ও আবূ আওয়ানাহ।
(১) মুসলিম, আবু আওয়ানাহ ও আবূ দাউদ।
(২) ছহীহ সনদে আবু দাউদ ও নাসাঈ, এটি 'আল-ইরওয়া'তে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩৩৫)
(১) মালিক, বুখারী ও আবু দাউদ।
📄 রুকু‘র পর দণ্ডায়মান অবস্থাকে দীর্ঘায়িত করা ও তাতে ধীরস্থিরতা ওয়াজিব
পূর্বে যেমন উল্লেখ হয়েছে যে, তিনি তাঁর ক্বিয়াম রুকুর কাছাকাছি দীর্ঘায়িত করতেন, বরং কখনো এই পরিমাণ দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, দীর্ঘ সময় দাঁড়ানোর কারণে মন্তব্যকারী এমনও বলত যে, তিনি ভুলে গেছেন। (২)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এতে স্থিরতার জন্য নির্দেশ দিতেন, তিনি ছালাতে ত্রুটিকারীকে বলেছিলেন:
সুম্মা ইরফা' রা'সাকা হাত্তা- তা'তাদিলা ক্বা-ইমান ফায়া'খুযু কুল্লু 'আযমিন মা'খাযাহু, অফী রিওয়ায়াতিন :
অ ইযা- রাফা'তা ফাক্বিম সলবাকা, অরফা' রা'সাকা হাত্তা- তারজি'আল 'ইযা-মু ইলা- মাফা-সিলিহা-,
অ যুকিরা লাহু : ইন্নাহু লা- তাতিম্মu সলা-তুন লিআহাদিম মিনান্নাসি ইযা- লাম ইয়াফ'আল যা-লিকা *
অতঃপর তুমি তোমার মাথা এভাবে উঠাবে যাতে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পার ও প্রত্যেকটি হাড় স্ব-স্ব স্থানে ফিরে যেতে পারে। অপর বর্ণনায় আছে যখন মাথা উঠাবে তখন মেরু দণ্ডকে সোজা করবে এবং এমনভাবে মাথা উঠাবে যাতে হাড়গুলো স্বীয় জোড়ায় ফিরে যায়। (৩) এবং তাকে এও বলে দেন যে, কারো ছলাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা লাভ করবে না, যতক্ষণ না সে এ কাজগুলো করবে। তিনি বলতেন:
লা- ইয়ানযুরুুল্লাহু আয্যাওয়া জাল ইলা- সলা-তি 'আবদিন লা- ইউক্বীমু সলবাহু বাইna রুকূ'ইহা- অ সুজূদিহা- *
আল্লাহ ঐ বান্দার ছালাতের দিকে তাকান না, যে ছালাতের রুকু ও সাজদার মধ্যে স্বীয় মেরুদণ্ড সোজা করে না। (১)
টিকাঃ
(২) বুখারী, মুসলিম ও আহমাদ। আর এটি 'আল-ইয়াওয়াতে (৩০৭) উদ্ধৃত হয়েছে।
(৩) বুখারী, মুসলিম শুধু প্রথম শব্দে, দারিমী, হাকিম, শাফিঈ ও আহমাদ অপর শব্দে।
এখানে 'ইযাম দ্বারা উদ্দেশ্য পীঠের মেরুদণ্ডে অবস্থিত পরস্পর মিলিত হাড় যেমন একটু পূর্বে রুকু থেকে সোজা হওয়ার অধ্যায়ে উল্লেখ হয়েছে। আর মাফাসিল হচ্ছে »মিফসাল« শব্দের বহুবচন যার অর্থঃ শরীরের প্রত্যেক দুই হাড়ের মিলন কেন্দ্র (জয়েন্ট)। দেখুন আল-'মুজামুল অসীত্ব'।
জ্ঞাতব্য: এই হাদীছের মর্ম সুস্পষ্ট। আর তা হচ্ছে এই যে, কাউমায় (দাঁড়ানোতে) ধীরস্থিরভাবে অবস্থান করা, পক্ষান্তরে মক্কা, মদীনা ও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য এলাকায় আমাদের যে ভাইগণ এ হাদীছ থেকে অত্র কাউমায় বাম হাত ডান হাতের উপরে রাখার বৈধতা প্রমাণ করেছেন তা হাদীছটির বর্ণনা সমষ্টি থেকে অনেক দূরে। যে হাদীছটি ফক্বীহদের নিকট ছালাতে ত্রুটিকারীর হাদীছ নামে পরিচিত। বরং এহেন প্রমাণ গ্রহণ বাত্বিল। কেননা উল্লেখিত হাত রাখার কোন আলোচনা উপরোক্ত হাদীছের কোন সূত্রের কোন শব্দে প্রথম কিয়ামেই নেই। অতএব উল্লেখিত ধারণা করার ব্যাখ্যায় রুকুর পর বাম হাতকে ডান হাতের দ্বারা ধারণ করা কিভাবে সিদ্ধ হতে পারে? এই বক্তব্য হল ঐ অবস্থার জন্য প্রযোজ্য যখন হাদীছের শব্দ সমষ্টি এখানে উক্ত ব্যাখ্যার স্বপক্ষে শক্তি যোগায় অথচ এখানে তা না হয়ে শব্দগুলো পরিষ্কারভাবে এর বিপক্ষে প্রমাণ বহন করছে। সর্বোপরি উপরোক্ত হাত রাখার ব্যাপারে মূলতঃ হাদীছটিতে আদৌ কোন বক্তব্য নেই। কেননা 'ইযাম দ্বারা পিঠের হাড় উদ্দেশ্য যেমনটি পূর্বে উল্লেখ হয়েছে। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পূর্বোক্ত কাজও এর সমর্থন করে। যাতে রয়েছে ইস্তাওয়া- হাত্তা- ..... ইয়া'ঊদা কুল্লু ফাক্বা-রিন মাক্কা-নাহু অর্থ: এমনভাবে সোজা হতেন যে, প্রত্যেকটি জোড়া স্ব-স্ব স্থানে ফিরে যেত। তাই ইনছাফ সহকারে চিন্তা করুন। এ বিষয়ে আমি মোটেও সন্দিহান নই যে, এই কাউমায় বুকের উপর হাত রাখা ভ্রষ্টতাপূর্ণ বিদ'আত, কেননা ছালাতের ব্যাপারে এতসব হাদীছ থাকা সত্ত্বেও কোন একটি হাদীছে আদৌ এর উল্লেখ আসেনি। যদি এর কোন ভিত্তি থাকত তবে অবশ্যই আমাদের পর্যন্ত একটি সূত্রে হলেও কোন বর্ণনা এসে পৌঁছত। একথার সমর্থনে এও রয়েছে যে, সলাফদের মধ্যে কেউই এই আমল করেননি এবং আমার জানামতে কোন হাদীছের ইমাম তা উল্লেখও করেনি।
আর শাইখ তুওয়াইজিরী স্বীয় 'রিসালার' (১৮-১৯) পৃষ্ঠায় ইমাম আহমদ (রহঃ) থেকে যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে উপরোক্ত বক্তব্যের কোন দ্বন্দ্ব নেই যাতে তিনি বলেছেন: 'রুকুর পরে কেউ ইচ্ছা করলে স্বীয় হস্তদ্বয় ছেড়েও দিতে পারে এবং বেঁধেও রাখতে পারে (এটা ছালিহ বিন ইমাম আহমদ তাঁর 'মাসায়িল' গ্রন্থের ৯০ পৃষ্ঠায় স্বীয় পিতা থেকে যা উল্লেখ করেছেন তারই অর্থ)। দ্বন্দু হওয়ার কারণ এই যে, কথাটি রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেননি বরং তা তাঁর গবেষণা ও রাই প্রসূত কথা যা কখনো ভুল হয়ে থাকে। অতএব কোন বিষয় (যেমন উপস্থিত বিষয়টি) বিদ'আত সাব্যস্ত হওয়ার উপর কোন বিশুদ্ধ দলীল পাওয়া গেলে কোন ইমামের মতে তা বিদ'আত হওয়ার পথে অন্তরায় হবেনা। যেমন ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ তাঁর কিছু কিতাবাদিতে এ বিষয়টি ধার্য করেছেন। বরং আমি ইমাম আহমদের এ বক্তব্যে এরই প্রমাণ পাচ্ছি যে, তাঁর নিকট উপরোক্ত হাত রাখা হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি কেননা তিনি তা করা ও না করার বেলায় এখতিয়ার দিয়েছেন। তবে সম্মানিত শাইখ কি একথা বলবেন যে, ইমাম রুকুর পূর্বেও হাত রাখার ক্ষেত্রে এখতিয়ার দিয়েছেন। অতএব সাব্যস্ত হয়ে গেল যে, উপরোক্ত হাত রাখার বিষয়টি হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি। আর এটাই উদ্দেশ্য ছিল। এটা ছিল এই মাস'আলা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। তবে মাস'আলাটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। কিন্তু এখানে এর সুযোগ নেই বরং তার ঐ প্রতিবাদ পর্বেই রয়েছে যার ইঙ্গিত এই নতুন মুদ্রিত কিতাবের পঞ্চম ভূমিকার ৩০ পৃষ্ঠায় রয়েছে।
(১) ছহীহ সনদে আহমাদ ও ত্বাবারানী স্বীয় 'আল-কাবীর' গ্রন্থে।