📄 রুকু‘র যিক্র বা দু‘আসমূহ
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনেকগুলো যিকর ও দু'আ পাঠ করতেন। তিনি একেক সময় একেকটি পাঠ করতেন : « সুবহানা রব্বিয়াল 'আযীম » অর্থ : আমি মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি- তিনবার (৪) কখনো তিনি তিনবারেরও অধিকবার এই দু'আ আওড়াতেন (১)। একবার তিনি এত বেশী শব্দগুলো আওড়ালেন যে তাঁর রুকু কিয়ামের (দাঁড়ানোর) কাছাকাছি হয়ে গিয়েছিল। অথচ তিনি কাউমায় দীর্ঘ তিনটি সূরা পাঠ করতেন: তা হচ্ছে 'বাকারাহ', 'নিসা' ও 'আলু-ইমরান'। এর মাঝে মাঝে তিনি দু'আ ও ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। যেমনটি 'রাত্রিকালীন ছালাত' অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুবহানা রব্বিয়াল 'আযীম অ বিহামদিহি ) (২)
অর্থ : আমি আমার প্রতিপালকের প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তিনবার। (২)
সুব্বূহুন, ক্বুদ্দূসুন, রাব্বুল মালাইকাতি অররূহি ) (৪)
অর্থ : সকল ফিরিশতা ও জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এর প্রভু অতি বরকতময় (৩) পবিত্র। (৪)
সুবহানাকাল্লাহুম্মা রাব্বানা- অবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী ) ৪১
অর্থ:- "হে আমার উপাস্য আমি তোমার প্রশংসাসহ পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, হে আমার উপাস্য! তুমি আমাকে ক্ষমা কর।" তিনি কুরআনের উপর আমল করতঃ রুকু ও সাজদাতে এ দু'আটি বেশী বেশী করে পড়তেন। (৫)
আল্লাহুম্মা লাকা রাকা'তু, অ বিকা আ-মানতু, অ লাকা আসলামতু (আনতা রাব্বী), খাশা'আ লাকা (৫) সাম'ঈ, অ বাসারী, অ মুখ্খী, অ 'আযমী (অফী রিওয়ায়াতিন অ 'ইযা-মী) অ 'আসাবী, « অমাস্তাক্বাল্লাত বিহী ক্বাদামী লিল্লা-হি রাব্বিল 'আ-লামীন »
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার উদ্দেশে রুকু করছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উদ্দেশ্যে আত্মসমর্পণ করেছি, তুমি আমার প্রতিপালক। আমার কান, চোখ, মগজ, হাড়, শিরা ও আমার পদযুগল যা কিছু বয়ে এনেছে (১) সবই বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্য সুনির্ধারিত। (২)
আল্লাহুম্মা লাকা রাকা'তু, অ বিকা আ-মানতু, অ লাকা আসলামতু, অ'আলাইকা তাওয়াক্কালতু আনতা রাব্বী, খাশা'আ লাকা সাম'ঈ, অ বাসারী অ দামী অ লাহমী অ 'আযমী অ 'আসাবী লিল্লা-হি রাব্বিল 'আ-লামীন *
অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার উদ্দেশে রুকু করছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উদ্দেশে আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার উপরই ভরসা করেছি, তুমি আমার প্রতিপালক। আমার কান, চোখ, রক্ত, মাংস, হাড় এবং শিরা বিশ্ব প্রতিপালকের জন্য সুনির্দিষ্ট। (৩)
সুবহা-না যিল জাবারূতি অল মালাকূতি অল কিবরিয়া-ই অল 'আযামাহ। অ হা-যা- ক্ব-লাহু ফী সলা-তিল লাইল *
অর্থঃ হে প্রতাপ, রাজত্ব (৪) অহংকার ও বড়ত্বের মালিক আল্লাহ! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
এ দু'আটি তিনি রাত্রের (নফল) ছালাতে পড়েছেন। (৫)
টিকাঃ
(৪) আহমাদ, আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, দারাকুতনী, ত্বাহাবী, বায্যার, ইবনু খুযাইমাহ (৬০৪) ও তাবারানী সাতজন ছাহাবী থেকে 'আল-কাবীর' গ্রন্থে। এতে ঐসব ব্যক্তিদের প্রতিবাদ পাওয়া যায় যারা তিন তাসবীহ এর কথা অস্বীকার করেছেন, যেমন ইবনুল ক্বাইয়িম ও অন্যান্যগণ।
(১) এ কথা ঐসব হাদীছ থেকে বুঝা যায় যেগুলোতে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কিয়াম, রুকু ও সাজদা সমান হওয়ার কথা রয়েছে। যেমনটি এই অনুচ্ছেদের পরে আসছে।
(২) ছহীহ, আবূ দাউদ, দারাকুতনী, আহমাদ, তাবারানী ও বাইহাকী এটি বর্ণনা করেছেন।
(৩) আবু ইসহাক বলেন আস্সাব্বুহ তিনি যিনি সর্ব প্রকার অশুভ থেকে মুক্ত। ক্বুদ্দূস হচ্ছে বরকতময়, কারো মতে এর অর্থ হচ্ছে- পবিত্র। ইবনু সীদাহ বলেন- সুব্বূহ ক্বুদ্দূস আল্লাহর গুণবাচক নামের অন্তর্ভুক্ত, কেননা তাঁর পবিত্রতা ও ত্রুটি বিমুক্ততা বর্ণনা করা হয়। (লিসানুল আরব)
(৪) মুসলিম ও আবু আউয়ানাহ।
(৫) বুখারী ও মুসলিম ইয়া'তাওয়্যালুল কুরআন বাক্যটির অর্থ হচ্ছে কুরআনে এ বিষয়ে যা==আদেশ করা হয়েছে তার উপর আমল করতেন। অর্থাৎ মহান আল্লাহর এই বাণীতে ফাসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা অ ইস্তাগফিরহু ইন্নাহু কা-না তাওয়্যা-বা- অর্থাৎ- তাই তুমি স্বীয় প্রতিপালকের প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা কর এবং ক্ষমা চাও, তিনি অবশ্যই তাউবাহ কবুলকারী।
(১) ইস্তাক্বাল্লাত অর্থ : বহন করেছে, এটা ইস্তিক্বলাল থেকে নির্গত- যার অর্থ উঁচু হওয়া। এটা বিশেষের পর সাধারণ বুঝানোর পদ্ধতি মাত্র।
(২) মুসলিম, আবু আওয়ানা, ত্বাহাবী ও দারাকুতনী।
(৩) ছহীহ সনদে নাসাঈ।
(৪) এখানে আল জাবারূত শব্দটি আল জাবর এর মুবা-লাগাহ বা চূড়ান্ত জ্ঞাপক শব্দ যার অর্থ বাধ্যতা, বশ্যতা। আল মালাকূত শব্দটি আল মুলক থেকে অধিক চূড়ান্ত জ্ঞাপক শব্দ যার অর্থঃ ক্ষমতা, রাজত্ব। অর্থাৎ তিনি হচ্ছেন চূড়ান্ত বাধ্যতা ও ক্ষমতার অধিকারী।
(৫) ছহীহ সনদে আবূ দাউদ, নাসাঈ।
ফায়েদাহ: একই রুকুতে এই সবগুলো দু'আ পাঠকরা যাবে কিনা? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ইবনুল কাইয়িম 'যাদুল মা'আদ' কিতাবে দ্বিধা পোষণ করেছেন। ইমাম নববী দৃঢ়তার সাথে প্রথম মত সমর্থন করে বলেন: উত্তম হলো যথাসম্ভব সবগুলো দু'আ পাঠ করা। এমনিভাবে সব বিষয়ের দু'আর ক্ষেত্রে এরূপ করা উচিত। তবে আবুতাইয়িব ছিদ্দীক হাসান খান "নুযুলুল আবরার" (৮৪) কিতাবে উক্ত মতকে অগ্রাহ্য করে বলেন: একেক সময় একেকটা পাঠ করবে। সবগুলো একত্রে পড়ার কোন দলীল আমি দেখতে পাইনা। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একেক সময় একেকটা পাঠ করতেন। (তাঁর) অনুসরণ হবে- নতুন আবিষ্কার অপেক্ষা উত্তম।
এটাই হাকু ইনশা'আল্লাহ। কিন্তু হাদীছ দ্বারা এই রুকনটিসহ অন্যান্য রুকন দীর্ঘায়িত করা প্রমাণিত আছে। যেমন পরবর্তীতে এর আলোচনা আসছে। তাঁর রুকু তাঁর দাঁড়ানোর পরিমাণের কাছাকাছি হয়ে যেত। সুতরাং মুছল্লী ব্যক্তি যদি এই ক্ষেত্রে দীর্ঘায়িত করার সুন্নত পালন করতে যায় তাহলে তা ইমাম নববীর মতানুযায়ী সবগুলো দু'আ পাঠ ব্যতীত সম্ভব হবে না। আত্মা ইবনু নাছর 'কিয়ামুল্লাইল' (৭৬) কিতাবে ইবনু জুরাইজ থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আত্মা থেকে তা বর্ণনা করেছেন। অন্যথায় বার বার পড়ার পন্থা অবলম্বন করতে হবে যা এসব দু'আর কোন কোনটির ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বর্ণনাও করা হয়েছে। আর এটাই সুন্নতের অধিক নিকটবর্তী পন্থা আল্লাহ সমধিক জ্ঞাত।
📄 রুকু‘ দীর্ঘায়িত করা
কান্না ইয়াজ'আলু রুকূ'আহু, অক্বিয়া-মাহু বা'দার রুকূ'ই অ সুজূদাহু, অ জালসাতাহু বাইনাস সাজদাতাইনি ক্বারী বাম মিনাস সাওয়া-ই
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু ও রুকুর পর দাঁড়ানো, সাজদাহ এবং দুই সাজদার মাঝখানে অবস্থানের পরিমাণ বরাবরের কাছাকাছি রাখতেন। (১)
টিকাঃ
(১) বুখারী ও মুসলিম, এটি 'ইরওয়াউল গালীল' গ্রন্থে (৩৩১) উদ্ধৃত হয়েছে।
📄 রুকু‘তে কুরআন পাঠ নিষেধ
কান্না ইয়ানহা- 'আন ক্বিরা-আতিল কুরআ-নি ফির রুকূ'ই অস্সুজূদি, অ কা-না ইয়াক্বূলু : আ-লা- অ ইন্নী নুহীতু আন আক্বরাআল কুরআ-না রা-কি'আন আও সা-জিদান, ফাআম্মার রুকূ'উ ফা'আযযিমু ফীহির রাব্বা আয্যাওয়া জাল, অ আম্মাস সুজূদু ফাজতাহিদূ ফিদ্দু'আ-ই, ফাক্বামিনুন আন ইউসতা-জাবা লাকুম
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু ও সাজদায় কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করতেন। (১)
তিনি বলতেন- জেনে রেখ আমাকে রুকু বা সাজদাবস্থায় কুরআন পড়তে নিষেধ করা হয়েছে, তাই রুকুতে তোমরা পরাক্রমশালী মহান প্রতিপালকের বড়ত্ব বর্ণনা কর, আর সাজদায় দু'আ করতে সচেষ্ট হও। কেননা এটি হচ্ছে তোমাদের দু'আ কবুল হওয়ার (২) উপযুক্ত ক্ষেত্র। (৩)
টিকাঃ
(১) মুসলিম ও আবূ আওয়ানা। নিষেধাজ্ঞাটি ফরয এবং নফল উভয় প্রকার ছালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইবনু আসাকির (১৭/২৯৯/১) যে অতিরিক্ত অংশ উল্লেখ করেছে যা হচ্ছে- »ফাফী সলা-তিত্ তাত্বাওউ'ই ফালা- জুনা-হা« অর্থঃ "তবে নফল ছালাতে তা পড়তে অসুবিধা নেই" এটুকু হয় শায (شاذ) হাদীছ অথবা মুনকার (منکر) হাদীছ। ইবনু আসাকির নিজেই একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন। অতএব এর উপর আমল করা বৈধ হবে না।
(২) এখানে «ক্বামিনুন» শব্দের মীমে যবর এবং যের উভয়টাই বিশুদ্ধ। শব্দটির অর্থ হচ্ছে উপযুক্ত বা আশাব্যঞ্জক।
(৩) আবূ দাউদ, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সমর্থন করেছেন।
📄 রুকু‘ থেকে সোজা হয়ে সুস্থিরভাবে দাঁড়ানো ও পঠিতব্য দু‘আ
অতঃপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু অবস্থা থেকে মেরুদণ্ডকে উঠাতেন এই বলতে বলতে : «সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু» অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি তার কথা শুনেন। (৪) এ বিষয়ে তিনি ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন : ওলা তাতিম্মু সলা-তুন লিআhাদিম মিনান্নাসি হাত্তা- ..... ইউকাব্বিরু ..... সুম্মা ইয়ারকা'উ ...... সুম্মা ইয়াক্বূলু : «সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু হাত্তা- ইয়াসতাবিয়া ক্বা-ইমান »
কোন ব্যক্তির ছালাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে আল্লাহ আকবার বলবে অতঃপর রুকু করবে অতঃপর »সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু« বলে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। (৫)
ওকানা ইযা- রাফা'আ রা'সাহু ইস্তাওয়া- হাত্তা- ইয়া'ঊদা কুল্লু ফাক্বা-রিন মাক্কা-নাহু
তিনি যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখন এমনভাবে সোজা হতেন যে, মেরুদণ্ডের হাড়গুলো স্ব-স্ব স্থানে ফিরে যেত। (১) অতঃপর তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় বলতেন- »রাব্বানা- (অ) লাকাল হামদু « অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক সব প্রশংসা তোমার। (২) এ বিষয়ে তিনি মুক্তাদীসহ সকল প্রকার মুছল্লীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন - »সল্লূ- কামা- রায়াইতুমূনী উসল্লী « অর্থঃ আমাকে তোমরা যেভাবে ছালাত আদায় করতে দেখ ঠিক সেভাবে ছলাত আদায় কর। (৩)
তিনি বলতেন : ইন্নামা- জু'ইলাল ইমা-মু লিইউ'তাম্মা বিহী ..... অ ইযা- ক্বালা- : সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু , ফাক্বুলূ : আল্লাহুম্মা রাব্বানা- লাকাল হামdu ইয়াসমা'উল্লা-হু লাকুম, ফাইন্নাল্লাহা তাবা-রাকা অ তা'আ-লা- ক্বালা- 'আলা- লিসা-নি নাবীয়্যিহী ছাল্লাল্লা-হু 'আলাইহি অসাল্লামা : সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু *
ইমামকে কেবল অনুসরণের উদ্দেশে নিয়োগ করা হয়...... তিনি যখন «সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু » বলতেন তখন তোমরা বলবে রাব্বানা- লাকাল হামদু আল্লাহুম্মা { , অর্থাৎ- হে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ! তোমার জন্যই সব প্রশংসা। আল্লাহ তোমাদের কথা শ্রবণ করবেন, কেননা আল্লাহ তাবারাক ওয়াতা'আলা স্বীয় নবীর কণ্ঠে বলেছেন : সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি তা শ্রবণ করেন। (৪)
উপরোক্ত নির্দেশের কারণ দর্শিয়ে অপর হাদীছে তিনি বলেন:
ফাইন্নাহু মান ওয়া-ফাক্বা ক্বওলুহূ ক্বওলুল মালাইকাতি, গুফিরা লাহু মা- তাক্বাদ্দামা মিন যানবিহী
কেননা যার কথা ফিরিশতাদের কথার সাথে মিলে যাবে তার পূর্বকৃত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (১) তিনি রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবার সময় দু'হাত উঠাতেন। (২) তাকবীরে তাহরীমায় উল্লেখিত নিয়মানুসারে এবং তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ হয়েছে বলতেন:
(৫) রাব্বানা- লাকাল হামদু আ
কখনো বলতেন:
(৪) রাব্বানা- লাকাল হামদু আ
কখনো এই শব্দ দুটোর সাথে- ও আল্লাহুম্মা শব্দ যোগ করতেন। (৫) ,৩৩৪
তিনি এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে বলতেন:
ইযা- ক্বা-লাল ইমা-মু সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু , ফাক্বুলূ : আল্লাহুম্মা রাব্বানা- ! লাকাল হামdu, ফাইন্নাহু মান ওয়া-ফাক্বা ক্বওলুল মালাইকাতি, গুফিরা লাহু মা- তাক্বাদ্দামা মিন যাম্বিহী )
ইমাম যখন- «সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু» বলেন তখন তোমরা বলবে- পোলট আ রাফাত প্যাল এস ফর আল্লাহুম্মা রাব্বানা- লাকাল হামদু তার পূর্বকৃত পাপ মাফ করে দেয়া হবে। (১)
কখনো তিনি এরসাথে নিম্নোক্ত দু'আগুলোর যে কোন একটি বৃদ্ধি করতেন: মিলআস সামা-ওয়া-তি অ মিলআল আরযি অমা- বাইনাহুমা-, অমা- শি'তা মিন শাইয়িন বা'দু *
অর্থ: আসমান ভর্তি, যমীন ভর্তি এবং তদুপরি তুমি আরো যা চাও তাও ভর্তি তোমার প্রশংসা। (২)
মিলআস সামা-ওয়া-তি অ (মিলআল আরযি অমা- বাইনাহুমা-, অ মিলআ মা- শি'তা মিনাল আ- শাইয়িন বা'দু *
অর্থ: আসমান ভর্তি, যমীন ভর্তি, এতদুভয়ের মধ্যে যাকিছু আছে তা ভর্তি ও তদুপরি তুমি আরো যা চাও তাও ভর্তি তোমার প্রশংসা। (৩)
কখনো উপরোক্ত দু'আর সাথে এই কথা যোগ করতেন: আহ্লাছ ছানা-ই অল মাজদি, লা- মা-নি'আ লিমা- আ'ত্বাইতা, অলা- মু'ত্বিয়া লিমা- মানা'তা, অলা- ইয়ানফা'উ ৯১ যা-ল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু
অর্থঃ হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী! তুমি যা দাও তা রোধকারী কেউ নেই, তুমি যা রোধ কর তা দানকারী কেউ নেই। আর কোন বিত্তশালী ব্যক্তির সম্পদ (৪) তোমার কাছে কোন উপকার করতে পারে না। (৫)
৮। কখনো তিনি এই শব্দগুলো বৃদ্ধি করতেন:
মিলআস সামা-ওয়া-তি, অ মিলআল আরযি, অ মিলআ মা- শি'তা মিন শাইয়িন বা'দু, আহ্লাছ ছানা-ই অল মাজদি, আহাক্কু মা- ক্ব-লাল 'আবদু, অ কুল্লুনা- লাকা 'আবদুন। {আল্লাহুম্মা লা- মা-নি'আ লিমা- আ'ত্বাইতা, অলা- মু'ত্বিয়া লিমা- মানা'তা, অলা- ইয়ানফা'উ যা-ল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু *
অর্থ: আসমান, জমিন এবং তদুপরি তুমি যা চাও তাও ভরতি তোমার প্রশংসা। হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী, বান্দার প্রশংসা পাওয়ার সর্বাধিক যোগ্য, আমরা সবাই তোমার বান্দাহ, তুমি যা দাও তা রোধকারী কেউ নেই এবং তুমি যা রোধ কর তা দানকারী কেউ নেই, আর কোন বিত্তশালী ব্যক্তির সম্পদ তোমার নিকট কোন উপকার করতে পারবে না। (১)
কখনো তিনি রাত্রের ছালাতে বলতেন:
রাব্বিল হামদু লির রাব্বিল হামদু
অর্থ : আমার প্রতিপালকের জন্য সকল প্রশংসা। আমার প্রতিপালকের জন্য সকল প্রশংসা। এই দু'আটি বারংবার পাঠ করতেন যার ফলে তার রুকুর পর দাঁড়ানোর সময় রুকুর সময়ের কাছাকাছি হয়ে যেত। যে রুকু প্রাথমিক দাঁড়ানোর প্রায় সমপরিমাণ ছিল যার ভিতর তিনি সূরা আল-বাক্বারা পাঠ করেছেন। (২)
রাব্বানা- অ লাকাল হামদু হামদান কাসীরান তায়্যিবাম মুবা-রাকান ফীhi, মুবা-রাকান 'আলাইহি কামা- ইউহিব্বু রাব্বুনা- অ ইয়ারযা-
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার জন্য সব প্রশংসা। অত্যধিক পবিত্র প্রশংসা যার মধ্যে ও উপরে বরকত নিহিত। ঠিক ঐভাবে যেভাবে আমাদের প্রতিপালক ভালবাসেন ও সন্তুষ্ট হন।
এ দু'আটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিছনে ছালাত আদায়কারী এক ব্যক্তি ঐ সময় বলেছিল যখন তিনি রুকু থেকে মাথা উঠান এবং "সমিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলেন। ছালাত শেষে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: এক্ষণি (ছালাতে) কে কথা বলেছ? লোকটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল আমি বলেছি! রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আমি তেত্রিশের ঊর্ধ্বে ফেরেশতাকে এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করতে দেখলাম যে, তাদের কে কার পূর্বে তা লিপিবদ্ধ করবে। (১)
টিকাঃ
(৪) বুখারী ও মুসলিম।
(৫) আবূ দাউদ, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(১) বুখারী ও আবূ দাউদ, ‘ছহীহ আবূ দাউদ’ (৭২২)। »আল ফাক্বার যবর দ্বারা এর অর্থ মেরুদণ্ডের হাড় যা ঘাড় থেকে নিয়ে পশুর লেজের সূচনাস্থল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ‘কামূস’ ও ফাতহুল বারী দ্রষ্টব্য। (২/৩০৮)
(২,৩) বুখারী ও আহমাদ।
(৪) মুসলিম, আবু আওয়ানা, আহমাদ ও আবূ দাউদ। জ্ঞাতব্য : এই হাদীছ মুক্তাদীর সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু বলার সাথে ইমামের শরীক না হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে না। তদ্রূপ রাব্বানা- লাকাল হামদু বলাতে ইমামের মুক্তাদীর সাথে শরীক না হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে না। কেননা হাদীছটি ইমাম ও মুক্তাদী এ রুকনটিতে কী পাঠ করবে তা বলার জন্য আসেনি। বরং এসেছে এটা বর্ণনা করার জন্য যে, ইমামের সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু বলার পর মুক্তাদী রাব্বানা- লাকাল হামদু বলবে। এই ব্যাখ্যার সমর্থনে রয়েছে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইমাম হওয়া সত্ত্বেও রাব্বানা- লাকাল হামদু বলার হাদীছ, এমনিভাবে নবী (ছাল্লাল্লাহু == আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীছটির সাধারণ ভঙ্গিও এর সমর্থন করে- সল্লূ কামা- রায়াইতুমূনী উসল্লী অর্থ : তোমরা আমাকে যেভাবে ছালাত আদায় করতে দেখ ঠিক সেইভাবে ছালাত আদায় কর। এ হাদীছের দাবী হচ্ছে- ইমাম যা করবে মুক্তাদীও তাই করবে যেমন, সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহু ও অন্যান্য কার্যাদি। এ বিষয় নিয়ে আমার সাথে যে বিদ্বানগণ বুঝাপড়া করেছিলেন তাদের চিন্তা করা উচিত। আশা করি যা উল্লেখ করেছি তাই যথেষ্ট। অধিক জানার জন্য হাফিয সূয়ূতীর এ বিষয়ে লিখিত পুস্তিকা "দফউত্তাশনী'য় ফী হুকমিত্ তাসমী" যা তার কিতাব 'আল-হাবী-লিল ফাতাউয়ি (১/৫২৯)-এর অন্তর্ভুক্ত।
(১) বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন।
(২,৩,৪) বুখারী ও মুসলিম। এ হস্ত উত্তোলন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে সাব্যস্ত। কিছু সংখ্যক হানাফী আলিমসহ বেশিরভাগ আলিম হাত উঠানোর পক্ষে মত পোষণ করেন। পূর্বোক্ত টীকা দ্রষ্টব্য, পৃষ্ঠা- ১১১।
(৫) বুখারী, আহমাদ, ইবনুল কাইয়িম প্রমাদ বশতঃ এই আল্লাহুম্মা ও »ওয়াও« এর সমন্বয়ে বর্ণিত হাদীছ অর্থাৎ আল্লাহুম্মা রাব্বানা- অ লাকাল হামদু এর বিশুদ্ধতাকে 'যাদুল মা'আদ' গ্রন্থে অস্বীকার করেন। অথচ তা বুখারী, মুসনাদ আহমাদ ও নাসাঈতে আবু হুরাইরা==থেকে দুটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এমনিভাবে ইবনু উমার থেকে দারিমীতে ও আবু সাঈদ খুদরী থেকে বাইহাকীতে ও আবু মূসা আশ'আরী থেকে নাসাঈর এক বর্ণনায়ও তা রয়েছে।
(১) বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী একে ছহীহ বলেছেন।
(২,৩,৪) মুসলিম ও আবূ আওয়ানাহ।
(৪) এখানে «আল জাদ্দু» শব্দটি বিশুদ্ধ মতানুসারে ফাত্হ দ্বারা হবে যার অর্থঃ ভাগ্য, বড়ত্ব ও রাজত্ব। অর্থাৎ পৃথিবীতে সন্তান, বড়ত্ব ও রাজত্ব লাভে ভাগ্যবান কোন ব্যক্তির এসব উপকারে আসবে না তথা তার সম্পদ তাকে মুক্তি দিতে পারবে না বরং তার উপকার ও মুক্তির জন্য নেক আমলই কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
(৫) মুসলিম ও আবূ আওয়ানাহ।
(১) মুসলিম, আবু আওয়ানাহ ও আবূ দাউদ।
(২) ছহীহ সনদে আবু দাউদ ও নাসাঈ, এটি 'আল-ইরওয়া'তে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩৩৫)
(১) মালিক, বুখারী ও আবু দাউদ।