📄 রুকু‘র পদ্ধতি
কান্না ইয়াদা'উ কাফফাইহি 'আলা- রুকবাতাইহি
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকুতে স্বীয় হাঁটুদ্বয়ের উপর হস্তদ্বয় রাখতেন। (২) এবং তিনি এজন্য নির্দেশ দিতেন। (৩) তিনি ছালাতে ত্রুটিকারীকেও এ বিষয়ে আদেশ করেন যেমন ইতিপূর্বে উল্লেখ হয়েছে। তিনি অঙ্গুলিগুলোর মাঝে ফাঁক রাখতেন (৪) হস্তদ্বয়কে হাঁটুদ্বয়ের উপর স্থাপন করতেন; দুই হাঁটুকে আঁকড়ে ধরার মত করে (৫) এ বিষয়ে তিনি ছালাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
ইযা- রাকা'তা ফাযা' রা-হাতাইকা 'আলা- রুকবাতাইকা, সুম্মা ফাররিজ বাইনা আসা-বি'ইকা, সুম্মা উমকুছ হাত্তা- ইয়াখুযু কুল্লু 'উযুইম মাখাযাহু »
যখন তুমি রুকূ করবে তখন তোমার হস্তদ্বয় উভয় হাঁটুর উপর রাখবে এবং অঙ্গুলিগুলোর মাঝে ফাঁক রাখবে অতঃপর এমন সময় পর্যন্ত থামবে যাতে প্রত্যেকটি অঙ্গ স্ব স্ব স্থানে স্থির হতে পারে। (১)
তিনি কনুই দু'টোকে পাঁজর দেশ থেকে দূরে রাখতেন। (২) তিনি রুকু কালে পিঠকে সমান করে প্রসারিত করতেন। (৩) এমন সমান করতেন যে, তাতে পানি ঢেলে দিলেও তা যেন স্থির থেকে যাবে। (৪) তিনি ছালাতে ত্রুটিকারীকে বলেছিলেন: অতঃপর যখন রুকু করবে তখন স্বীয় হস্তদ্বয় হাঁটুদ্বয়ের উপর রাখবে এবং পিঠকে প্রসারিত করে স্থিরভাবে রুকু করবে। (৫) তিনি পিঠ অপেক্ষা মাথা উঁচু বা নীচু রাখতেন না। (৬) বরং তা মাঝামাঝি থাকত। (৭)
টিকাঃ
(২, ৩, ৪) বুখারী ও আবূ দাউদ।
(৫) হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী এবং তায়ালুসী ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এটি ছহীহ আবু দাউদে উদ্ধৃত হয়েছে। (৮০৯)
(১) ইবনু খুযাইমাহ ও ইবনু হিব্বান স্ব-স্ব ছহীহ গ্রন্থে।
(২) তিরমিযী এবং ইবনু খুযাইমাহ একে ছহীহ বলেছেন।
(৩) বাইহাকী ছহীহ সনদে ও বুখারী।
(৪) তাবারানী 'আল কাবীর' ও 'আছ ছাগীর' গ্রন্থে এবং আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ 'যাওয়াইদুল মুসনাদ' গ্রন্থে ও ইবনু মাজাহ।
(৫) ছহীহ সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ।
(৬) আবু দাউদ, বুখারী ছহীহ সনদে 'জুযউল কিরাআত' গ্রন্থে। লা- ইয়াক্বনা'উ শব্দের অর্থ- তিনি স্বীয় মাথাকে এমন পরিমাণ উপরে উঠাতেন না যাতে মাথা পিঠ অপেক্ষা উপরে থাকে- 'নিহায়াহ'।
(৭) মুসলিম ও আবু আওয়ানাহ।
📄 রুকু‘তে ধীরস্থিরতা অবলম্বন ফরয
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শান্ত শিষ্টভাবে রুকু করতেন। আর ছলাতে ত্রুটিকারীকেও এ বিষয়ে নির্দেশ দান করেছেন। যেমনটি পূর্বের অনুচ্ছেদের শুরুতে উল্লেখ হয়েছে। তিনি বলতেন:
আতিম্মুর রুকূ'আ অস্সুজূদা, ফাওয়াল্লাযী নাফসী বিয়াদিহি, ইন্নী লা- আরা-কুম মিম বা'দি যাহরী ইযা- মা- রাকা'তুম অ ইযা- মা- সাজাদতুম »
তোমরা রুকু এবং সাজদা পরিপূর্ণভাবে আদায় কর। ঐ আল্লাহর শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন রয়েছে আমি তোমাদেরকে পিছন থেকে (৮) দেখে থাকি যখন তোমরা রুকু ও সাজদাহ কর। (১)
রাআ- রাজুলান লা- ইউতিম্মু রুকূ'আহু, অ ইয়ানকুুরু ফী সুজূদিহী অহুয়া ইউছাল্লী, ফাক্বা-লা : লাও মা-তা হা-যা- 'আলা- হা-লিহী হা-যিহী মা-তা 'আলা- গাইরি মিল্লাতি মুহাম্মাদিন ) ইয়ানকুুরু সলা-তাহু কামা- ইয়ানকুরুুল গুরা-বুদ্দামা, মাসালুল্লাযী লা- ইউতিম্মু রুকূ'আহু অ ইয়ানকুুরু ফী সুজূদিহী, মাসালুল জা-ই'ইল্লাযী ইয়া'কুলুত তাম্রা-তা অততাম্রাতাইনি লা- ইউগনিনি 'আনহু শাইয়্যান )
তিনি এক ব্যক্তিকে ছালাত রত অবস্থায় দেখতে পেলেন, সে তার রুকূ পূর্ণভাবে আদায় করছে না এবং সাজদায় ঠোকর দিচ্ছে। তিনি বললেন : যদি এই ব্যক্তি তার এই অবস্থায় মারা যায় তবে সে মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ধর্মের উপর মারা যাবে না। কাক যেমন রক্তের মধ্যে ঠোকর দিয়ে থাকে সেও তদ্রূপ তার ছালাতে ঠোকর দিচ্ছে। যে ব্যক্তি পূর্ণভাবে রুকু করে না এবং সাজদায় ঠোকর দেয় তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ ক্ষুধার্তের ন্যায় যে একটি অথবা দু'টি খেজুর খায় কিন্তু তাতে মোটেও তার ক্ষুধা নিবারণ হয় না। (১) আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন :
নাহা-নী খালীলী ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা আন আনকুরা ফী সলা-তী নাক্বরাদ্ দীক্ব, অ আন আলতাফিতা ইলতিফা-তাছ ছা'লাব, অ আন উক্বিআ কা ইকু'আ-ইল ক্বিরদ )
আমার একান্ত বন্ধু (নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ছালাতে মোরগের ন্যায় টোকর দিতে, শিয়ালের ন্যায় এদিক ওদিক তাকাতে ও বানরের ন্যায় বসতে নিষেধ করেছেন। (২) তিনি বলতেন-
আসওয়ানু ন্না-সি সারাক্বা-তাল্লাযী ইয়াসরিক্বু মিন সলা-তিহী, ক্বা-লূ : ইয়া- রাসূ-লুল্লা-হি ! অ কাইফা ইয়াসরিক্বু মিন সলা-তিহী? ক্বালা- : ( লা- ইউতিম্মু রুকূ'আহা- অ সুজূদাহা- ))
সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট চোর হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে ছালাতে চুরি করে। ছাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রাসূল : ছালাতে আবার কিভাবে চুরি করবে? উত্তরে তিনি বললেন : সে ছালাতের রুকু ও সাজদাগুলো পূর্ণ করেনা। (১) অকা-না ইউছাল্লী, ফালামাহা বিমুআখ্খিরি 'আইনিহী ইলা- রাজুলিন লা- ইউক্বীমু সলবাহু ফির রুকূ'ই অস্সুজূদি, ফালাম্মানসরাফা ক্বালা- : "ইয়া- মা'শারাল মুসলিমীন ! ইন্নাহু লা- সla-ta লিমান লা- ইউক্বীমু সলবাহু ফির রুকূ'ই অস্সুজূদি ")
তিনি এক সময় ছালাত পড়া অবস্থায় আড় চোখে একটি লোককে দেখতে পেলেন যে, সে তার মেরুদণ্ডকে রুকু ও সাজদায় সোজা করছেনা। ছালাত শেষে তিনি বললেনঃ হে মুসলিম সম্প্রদায়, যে ব্যক্তি রুকু ও সাজদায় স্বীয় মেরুদণ্ডকে সোজা করেনা তার কোন প্রকারেই ছালাত হবে না। (২) অপর এক হাদীছে বলেছেন: ছালাত আদায়কারীর ছালাত ততক্ষণ পর্যন্ত যথেষ্ট হবে না যতক্ষণ রুকু ও সাজদায় স্বীয় পিঠ সোজা না করবে। (৩)
টিকাঃ
(৮) এখানে বা'দ শব্দটি ওয়ায়া শব্দের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমনটি অপর হাদীছে এসেছে। আমি বলতে চাই: এই দেখা প্রকৃতই ছিল যা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুজিযা ছিল। এটা শুধু ছালাতাবস্থার জন্য নির্দিষ্ট। সর্বাবস্থায় এমনটি হওয়ার উপর কোন প্রমাণ বহন করে না।
(১) বুখারী ও মুসলিম।
(১) আবু ইয়ালা স্বীয় 'মুসনাদে' (৩৪০, ৩৪৯/১), আজুররী 'আরবাইন' গ্রন্থে বাইহাকী ও ত্বাবারানী (১/১৯২/১) আযযিয়া 'আলমুনতাকা মিনাল আহাদীছিছ ছিহাহ ওয়াল হিসান গ্রন্থে (২৭৬/১), ইবনু আসাকির (২/২২৬/২, ৪১৪/১, ৮/১৪/১ ও ৭৬/২) হাসান সনদে। একে ইবনু খুযাইমাহ ছহীহ বলেছেন (১/৮২/১) হাদীছের অতিরিক্ত অংশ ছাড়া প্রথম অংশের উপর মুরসাল সনদে শাহিদ (সাক্ষ্যমূলক) বর্ণনা পাওয়া যায় যা ইবনু বাত্ত্বাহ এর 'আল ইবানাহ' গ্রন্থে রয়েছে। (৫/৪৩/১)
(২) ত্বায়ায়ালিসী, আহমাদ, ইবনু আবী শাইবাহ। এটা হাসান হাদীছ, যেমনটি হাফিয আব্দুল হাক ইশবিলীর 'আহকাম' নামক গ্রন্থের টীকায় আমি আলোচনা করেছি। (১৩৪৮)
(১) ইবনু আবী শাইবাহ (১/৮৯/২) ত্বাবারানী, হাকিম- এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(২) ইবনু আবী শাইবাহ (১/৮৯/১) ইবনু মাজাহ ও আহমাদ, ছহীহ সনদে। আছ ছাহীহা (২৫৩৬) দ্রষ্টব্য।
(৩) আবু আওয়ানাহ, আবু দাউদ ও সাহমী (৬১) এবং দারাকুতনী একে ছহীহ বলেছেন।
📄 রুকু‘র যিক্র বা দু‘আসমূহ
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনেকগুলো যিকর ও দু'আ পাঠ করতেন। তিনি একেক সময় একেকটি পাঠ করতেন : « সুবহানা রব্বিয়াল 'আযীম » অর্থ : আমি মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি- তিনবার (৪) কখনো তিনি তিনবারেরও অধিকবার এই দু'আ আওড়াতেন (১)। একবার তিনি এত বেশী শব্দগুলো আওড়ালেন যে তাঁর রুকু কিয়ামের (দাঁড়ানোর) কাছাকাছি হয়ে গিয়েছিল। অথচ তিনি কাউমায় দীর্ঘ তিনটি সূরা পাঠ করতেন: তা হচ্ছে 'বাকারাহ', 'নিসা' ও 'আলু-ইমরান'। এর মাঝে মাঝে তিনি দু'আ ও ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। যেমনটি 'রাত্রিকালীন ছালাত' অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুবহানা রব্বিয়াল 'আযীম অ বিহামদিহি ) (২)
অর্থ : আমি আমার প্রতিপালকের প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তিনবার। (২)
সুব্বূহুন, ক্বুদ্দূসুন, রাব্বুল মালাইকাতি অররূহি ) (৪)
অর্থ : সকল ফিরিশতা ও জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এর প্রভু অতি বরকতময় (৩) পবিত্র। (৪)
সুবহানাকাল্লাহুম্মা রাব্বানা- অবিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী ) ৪১
অর্থ:- "হে আমার উপাস্য আমি তোমার প্রশংসাসহ পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, হে আমার উপাস্য! তুমি আমাকে ক্ষমা কর।" তিনি কুরআনের উপর আমল করতঃ রুকু ও সাজদাতে এ দু'আটি বেশী বেশী করে পড়তেন। (৫)
আল্লাহুম্মা লাকা রাকা'তু, অ বিকা আ-মানতু, অ লাকা আসলামতু (আনতা রাব্বী), খাশা'আ লাকা (৫) সাম'ঈ, অ বাসারী, অ মুখ্খী, অ 'আযমী (অফী রিওয়ায়াতিন অ 'ইযা-মী) অ 'আসাবী, « অমাস্তাক্বাল্লাত বিহী ক্বাদামী লিল্লা-হি রাব্বিল 'আ-লামীন »
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার উদ্দেশে রুকু করছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উদ্দেশ্যে আত্মসমর্পণ করেছি, তুমি আমার প্রতিপালক। আমার কান, চোখ, মগজ, হাড়, শিরা ও আমার পদযুগল যা কিছু বয়ে এনেছে (১) সবই বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্য সুনির্ধারিত। (২)
আল্লাহুম্মা লাকা রাকা'তু, অ বিকা আ-মানতু, অ লাকা আসলামতু, অ'আলাইকা তাওয়াক্কালতু আনতা রাব্বী, খাশা'আ লাকা সাম'ঈ, অ বাসারী অ দামী অ লাহমী অ 'আযমী অ 'আসাবী লিল্লা-হি রাব্বিল 'আ-লামীন *
অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার উদ্দেশে রুকু করছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উদ্দেশে আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার উপরই ভরসা করেছি, তুমি আমার প্রতিপালক। আমার কান, চোখ, রক্ত, মাংস, হাড় এবং শিরা বিশ্ব প্রতিপালকের জন্য সুনির্দিষ্ট। (৩)
সুবহা-না যিল জাবারূতি অল মালাকূতি অল কিবরিয়া-ই অল 'আযামাহ। অ হা-যা- ক্ব-লাহু ফী সলা-তিল লাইল *
অর্থঃ হে প্রতাপ, রাজত্ব (৪) অহংকার ও বড়ত্বের মালিক আল্লাহ! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
এ দু'আটি তিনি রাত্রের (নফল) ছালাতে পড়েছেন। (৫)
টিকাঃ
(৪) আহমাদ, আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, দারাকুতনী, ত্বাহাবী, বায্যার, ইবনু খুযাইমাহ (৬০৪) ও তাবারানী সাতজন ছাহাবী থেকে 'আল-কাবীর' গ্রন্থে। এতে ঐসব ব্যক্তিদের প্রতিবাদ পাওয়া যায় যারা তিন তাসবীহ এর কথা অস্বীকার করেছেন, যেমন ইবনুল ক্বাইয়িম ও অন্যান্যগণ।
(১) এ কথা ঐসব হাদীছ থেকে বুঝা যায় যেগুলোতে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কিয়াম, রুকু ও সাজদা সমান হওয়ার কথা রয়েছে। যেমনটি এই অনুচ্ছেদের পরে আসছে।
(২) ছহীহ, আবূ দাউদ, দারাকুতনী, আহমাদ, তাবারানী ও বাইহাকী এটি বর্ণনা করেছেন।
(৩) আবু ইসহাক বলেন আস্সাব্বুহ তিনি যিনি সর্ব প্রকার অশুভ থেকে মুক্ত। ক্বুদ্দূস হচ্ছে বরকতময়, কারো মতে এর অর্থ হচ্ছে- পবিত্র। ইবনু সীদাহ বলেন- সুব্বূহ ক্বুদ্দূস আল্লাহর গুণবাচক নামের অন্তর্ভুক্ত, কেননা তাঁর পবিত্রতা ও ত্রুটি বিমুক্ততা বর্ণনা করা হয়। (লিসানুল আরব)
(৪) মুসলিম ও আবু আউয়ানাহ।
(৫) বুখারী ও মুসলিম ইয়া'তাওয়্যালুল কুরআন বাক্যটির অর্থ হচ্ছে কুরআনে এ বিষয়ে যা==আদেশ করা হয়েছে তার উপর আমল করতেন। অর্থাৎ মহান আল্লাহর এই বাণীতে ফাসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা অ ইস্তাগফিরহু ইন্নাহু কা-না তাওয়্যা-বা- অর্থাৎ- তাই তুমি স্বীয় প্রতিপালকের প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা কর এবং ক্ষমা চাও, তিনি অবশ্যই তাউবাহ কবুলকারী।
(১) ইস্তাক্বাল্লাত অর্থ : বহন করেছে, এটা ইস্তিক্বলাল থেকে নির্গত- যার অর্থ উঁচু হওয়া। এটা বিশেষের পর সাধারণ বুঝানোর পদ্ধতি মাত্র।
(২) মুসলিম, আবু আওয়ানা, ত্বাহাবী ও দারাকুতনী।
(৩) ছহীহ সনদে নাসাঈ।
(৪) এখানে আল জাবারূত শব্দটি আল জাবর এর মুবা-লাগাহ বা চূড়ান্ত জ্ঞাপক শব্দ যার অর্থ বাধ্যতা, বশ্যতা। আল মালাকূত শব্দটি আল মুলক থেকে অধিক চূড়ান্ত জ্ঞাপক শব্দ যার অর্থঃ ক্ষমতা, রাজত্ব। অর্থাৎ তিনি হচ্ছেন চূড়ান্ত বাধ্যতা ও ক্ষমতার অধিকারী।
(৫) ছহীহ সনদে আবূ দাউদ, নাসাঈ।
ফায়েদাহ: একই রুকুতে এই সবগুলো দু'আ পাঠকরা যাবে কিনা? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ইবনুল কাইয়িম 'যাদুল মা'আদ' কিতাবে দ্বিধা পোষণ করেছেন। ইমাম নববী দৃঢ়তার সাথে প্রথম মত সমর্থন করে বলেন: উত্তম হলো যথাসম্ভব সবগুলো দু'আ পাঠ করা। এমনিভাবে সব বিষয়ের দু'আর ক্ষেত্রে এরূপ করা উচিত। তবে আবুতাইয়িব ছিদ্দীক হাসান খান "নুযুলুল আবরার" (৮৪) কিতাবে উক্ত মতকে অগ্রাহ্য করে বলেন: একেক সময় একেকটা পাঠ করবে। সবগুলো একত্রে পড়ার কোন দলীল আমি দেখতে পাইনা। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একেক সময় একেকটা পাঠ করতেন। (তাঁর) অনুসরণ হবে- নতুন আবিষ্কার অপেক্ষা উত্তম।
এটাই হাকু ইনশা'আল্লাহ। কিন্তু হাদীছ দ্বারা এই রুকনটিসহ অন্যান্য রুকন দীর্ঘায়িত করা প্রমাণিত আছে। যেমন পরবর্তীতে এর আলোচনা আসছে। তাঁর রুকু তাঁর দাঁড়ানোর পরিমাণের কাছাকাছি হয়ে যেত। সুতরাং মুছল্লী ব্যক্তি যদি এই ক্ষেত্রে দীর্ঘায়িত করার সুন্নত পালন করতে যায় তাহলে তা ইমাম নববীর মতানুযায়ী সবগুলো দু'আ পাঠ ব্যতীত সম্ভব হবে না। আত্মা ইবনু নাছর 'কিয়ামুল্লাইল' (৭৬) কিতাবে ইবনু জুরাইজ থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আত্মা থেকে তা বর্ণনা করেছেন। অন্যথায় বার বার পড়ার পন্থা অবলম্বন করতে হবে যা এসব দু'আর কোন কোনটির ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বর্ণনাও করা হয়েছে। আর এটাই সুন্নতের অধিক নিকটবর্তী পন্থা আল্লাহ সমধিক জ্ঞাত।
📄 রুকু‘ দীর্ঘায়িত করা
কান্না ইয়াজ'আলু রুকূ'আহু, অক্বিয়া-মাহু বা'দার রুকূ'ই অ সুজূদাহু, অ জালসাতাহু বাইনাস সাজদাতাইনি ক্বারী বাম মিনাস সাওয়া-ই
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু ও রুকুর পর দাঁড়ানো, সাজদাহ এবং দুই সাজদার মাঝখানে অবস্থানের পরিমাণ বরাবরের কাছাকাছি রাখতেন। (১)
টিকাঃ
(১) বুখারী ও মুসলিম, এটি 'ইরওয়াউল গালীল' গ্রন্থে (৩৩১) উদ্ধৃত হয়েছে।