📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 ইমামের প্রতি মনোযোগ বা গুঞ্জনমুক্ত দান

📄 ইমামের প্রতি মনোযোগ বা গুঞ্জনমুক্ত দান


নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইমামের ক্বিরাআত পাঠে জটিলতা সৃষ্টি হলে তা উন্মোচন করে দেয়া সুন্নাহ্ সম্মত করেছেন।
( ছল্লা- সলা-তান ফাক্বারাআ ফীহা- ফালুবিসা 'আলাইহি ফাল্লামানসরাফা ক্বালা- লিউবাইয়িন : আছল্লাইতা মা'আনা- ? ক্বালা- : না'আম, ক্বালা- : ফামা- মানা'আকা (আন তাফতাহা 'আলাইয়া- ) )
তিনি তাঁর কোন এক ছালাতের কিরা'আতকালে তাতে এলোমেলো হয়ে যায়। ছালাত শেষে উবাই নামক ছাহাবীকে বললেন: তুমি কি আমাদের সাথে ছালাত পড়েছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তবে আমাকে জটিলতামুক্ত করতে কোন্ জিনিস তোমাকে বাধা দান করেছে। (১)

টিকাঃ
(১) আবূ দাউদ, ইবনু হিব্বান, ত্বাবারানী, ইবনু আসাকির (২/২৯৬/২) আযযিয়া 'আলমুখতারাহ' গ্রন্থে বিশুদ্ধ সনদে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 ক্বুরতূন ঠেকাতে আউযুবিল্লাহ পাঠ ও থুথু নিক্ষেপ

📄 ক্বুরতূন ঠেকাতে আউযুবিল্লাহ পাঠ ও থুথু নিক্ষেপ


« ক্বালা লাহু 'উছমানু বনু আবিল 'আ-সি রাযিআল্লাহু 'আনহু : ইয়া রাসূলাল্লা-হি ! ইন্নাস শাইত্বা-না ক্বাদ হা-লা বাইনী অ বাইনা সলা-তী অ ক্বিরা-আতী , ইয়ালবিসুহা- 'আলাইয়া- ? ফাক্বা-লা রাসূ-লুল্লাহি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা : যা-কা শাইত্বা-নুন ইউক্বা-লু লাহু : খিনযাব, ফাইযা- আহসাসতাহু ফাতা'আউওয়ায বিল্লাহি মিনহু, অ'আত্তাফিল .. 'আলা- ইয়াসা-রিকা ছালা-সান , ক্বালা- : ফাফা'আলতু যা-লিকা ফাআযহাবাহুল্লাহু 'আন্নী »
'উছমান বিন আবুল আছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! শয়তান আমার মধ্যে এবং আমার ছালাত ও কির'আতের মধ্যে অন্তরায় হয়ে আমার কিরা'আতে জটিলতা সৃষ্টি করে। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: এ হচ্ছে শয়তান, যাকে 'খিনযাব' বলা হয়। তুমি তার আগমন অনুভব করলে, আল্লাহর নিকট তিনবার আশ্রয় কামনা করবে এবং বাম দিকে তিনবার থুথু (২) ফেলবে। তিনি (উছমান) বলেন: এর পর থেকে আমি এমনটি করি ফলে আল্লাহ তাকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেন। (৩)

টিকাঃ
(২) এখানে অততাফিল শব্দটি আততাফাল থেকে উদ্গত হয়েছে যার অর্থঃ ইষৎ থুথুসহ ফুৎকার প্রদান করা যা নাফছ অপেক্ষা বেশী ('নিহায়াহ')।
(৩) মুসলিম ও আহমাদ, ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: এ হাদীছে শয়তানের কুমন্ত্রণার সময় আ'উযুবিল্লাহ পড়ে বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলা মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 তৃতীয় রাক্‘আতের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান অতঃপর চতুর্থ রাক্‘আতের উদ্দেশ্যে

📄 তৃতীয় রাক্‘আতের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান অতঃপর চতুর্থ রাক্‘আতের উদ্দেশ্যে


অতঃপর (নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের প্রতি ছালাত পাঠান্তে) তাকবীর বলে তৃতীয় রাকআতের উদ্দেশ্যে দাঁড়াতেন। (২) আর ছলাতে ত্রুটিকারীকে এর নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন-
সুম্মা ইসনা' যা-লিকা ফী কুল্লি রাক'আতিন অ সাজদাতিন )
অতঃপর প্রত্যেক রাক্'আতে ও সাজদায় এরূপ করবে। যেমনটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আরো এসেছে কান আল্লাহু ইযা- ক্বা-মা মিনাল ক্বা'দাতি কাব্বারা সুম্মা ক্বা-মা তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বৈঠক থেকে উঠতেন তাকবীর বলতেন। অতঃপর দাঁড়াতেন। (১) আর এই তাকবীরের সাথে তিনি কখনো কখনো দুই হাত উত্তোলন করতেন। (২) আর যখন চতুর্থ রাক্'আতের জন্য উঠার ইচ্ছা পোষণ করতেন তখন আল্লাহু আকবার বলতেন। (৩) আর এর নির্দেশ দিয়েছিলেন ছলাতে ত্রুটিকারী ব্যক্তিকে যেমনটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
আর এই তাকবীরের সাথেও “নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো তাঁর দুই হাত উত্তোলন করতেন।” (৪)
অতঃপর তিনি তাঁর বাম পা-র উপর ধীর শান্তভাবে এ পরিমাণ বসতেন যাতে প্রত্যেক হাড্ডি তার নিজ জায়গায় প্রত্যাবর্তন করতে পারে। অতঃপর যমীনে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। (৫)
“যখন তিনি দাঁড়াতেন আটা খমিরের ন্যায় (মুষ্ঠিবদ্ধাবস্থায়) দু'হাতের উপর ভর দিতেন।” (৬)
তিনি এ দু' রাক'আতের (তৃতীয় ও চতুর্থ) প্রত্যেক রাক'আতে সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন এবং এরই নির্দেশ দিয়েছিলেন ছলাতে ত্রুটিকারীকে। কখনো কখনো এ দু'রাক'আতে সূরাহ্ ফাতিহার সাথে যোহর ও আছরের ছলাতে কিছু আয়াত পাঠ করতেন। যেমনটি ইতিপূর্বে যোহর ছলাতের কিরা'আত সংক্রান্ত আলোচনায় অতিবাহিত হয়েছে।

টিকাঃ
(২) বুখারী ও মুসলিম।
(১) আবূ 'ইয়ালা তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (২/২৮৪) উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন। আর সিলসিলা ছহীহাহতেও তা সংকলিত হয়েছে। (৬০৪)
(২,৩,৪) বুখারী ও আবু দাউদ।
(৪) আবু আওয়ানাহ ও নাসাঈ ছহীহ সনদে।
(৫) বুখারী ও আবু দাউদ।
(৬) হারবী তার "গারীবুল হাদীছ" গ্রন্থে (এ অর্থ করেছেন)। আর এ অর্থ বুখারী ও আবু দাউদের নিকটেও। আর এ শব্দ এসেছে। ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছলাতের ভিতর কোন ব্যক্তিকে হাতে ভর দিয়ে দাঁড়াতে নিষেধ করেছেন বলে যে হাদীছ রয়েছে তা মুনকার (প্রত্যাখ্যাত), ছহীহ নয়। যেমনটি বর্ণনা করেছি যাইফাহ গ্রন্থে (৯৬৭)।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 উপনীত হওয়ায় পাঠ ওয়াক্ত ছালাতে কুনূত প্রসঙ্গ

📄 উপনীত হওয়ায় পাঠ ওয়াক্ত ছালাতে কুনূত প্রসঙ্গ


নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কারো জন্য দু'আ করতেন অথবা বদ্‌দু'আ করতে চাইতেন তখন কুনূত (১) করতেন- শেষ রাক্'আতের রুকুর পরে- যখন বলতেন- "সামি'আল্লাহু লিমান হামীদাহ, রব্বানা লাকাল হামদ........। (২)
"উচ্চৈঃস্বরে দু'আ করতেন।” (৩) "তাঁর দু'খানা হাত উত্তোলন করতেন।”(৪) "তাঁর পিছনে যারা থাকত তারা (মুক্তাদীগণ) আমীন বলতেন। (৫) "নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরা পাঁচ ওয়াক্ত ছলাতেই কুনূত করতেন।” (৬)
কিন্তু তিনি এর ভিতর কেবল তখনই কুনূত করতেন যখন কোন সম্প্রদায়ের জন্য দু'আ অথবা কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বদদু'আ করতে চাইতেন। (৭) কখনো তিনি কুনূতে এ দু'আ বলেছেন:
{ আল্লাহুম্মা আনজিল অলীদা বিন অলীদিন, অ সালামাতা বিন হিশা-মিন, অ 'আইয়া-শা বিন আবী রাবী'আতা , আল্লাহুম্মা আশদুদ্ ওয়াত্বআতাকা 'আলা- মুযারিন, অজ'আলহা- সিনিনা কাসিনী ইউসুফা আল্লাহুম্মা আল'আনিল লিহ্ইয়া-না অ রি'লান , অ যাকওয়া-না, অ 'উসাইয়্যাতা , 'আসাতিল্লাহা অ রাসূ-লাহু - }
হে আল্লাহ! তুমি রক্ষা কর অলীদ বিন অলীদ, সালামাহ বিন হিশাম, 'আইয়াশ্ বিন আবী রাবীআহকে, আর মুযার গোত্রকে কঠিনভাবে নিপীড়িত কর এবং তাদেরকে ইউসুফ নাবীর যুগের সমবর্ষব্যাপী দুর্ভিক্ষে আপতিত কর।
[ হে আল্লাহ! তুমি লিহ্ইয়ান, রি'ল, যাকওয়ান ও আছিয়াহ- আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধাচারণকারী এদের উপর লা'নত বর্ষণ কর। (১) অতঃপর যখন কুনূত সমাপ্ত করতেন তখন "আল্লাহু আকবার" বলে সাজদাহ করতেন। (২)

টিকাঃ
(১) "কুনূত” অনেক অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে এখানে ছলাতের কিয়ামের নির্দিষ্ট জায়গায় দু'আ করা উদ্দেশ্য।
(২,৩) বুখারী ও আহমাদ।
(৪) আহমাদ ও ত্ববরানী, ছহীহ সনদে। আর আহমাদ ও ইসহাক উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গি এই যে, মুছল্লী কুনূতে তার দুই হাত উত্তোলন করবে। যেমনটি রয়েছে মারঅযীর "আল মাসায়েল" গ্রন্থে (পৃঃ ২৩) কিন্তু দু'হাত দিয়ে চেহারা বুলানো (মুছা বা মাস্হ করা) এ স্থলে প্রমাণিত নয়। অতএব তা বিদ'আত। আর ছলাতের বাইরেও এটা ছহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়। এ বিষয়ে যত হাদীছ বর্ণনা করা হয় সবই দুর্বল, একটা অপরটার চেয়ে অধিক দুর্বল। যেমনটি তদন্ত করে সাব্যস্ত করেছি- যাঈফ আবু দাউদে (২৬২) ও আল-আহাদীছুছু ছহীহাতে (৫৯৭)। এ কারণে আল-ইয্য বিন আব্দুস সালাম তার ফাতাওয়া সংকলনে বলে দিয়েছেন : লা- ইয়াফ'আলুহূ ইল্লাল জুহ্হালু এটা একমাত্র তারাই করে যারা জাহিল।
(৫) আবু দাউদ, সাররাজ, হাকীম- এটিকে বর্ণনা করে ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন এবং যাহাবী ও অন্যান্যগণ তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৬) আবু দাউদ, সাররাজ, দারাকুতনী- দুটি হাসান সনদে।
(৭) ইবনু খুযাইমাহ তাঁর ছহীহ গ্রন্থে (১/৭৮/২), খাত্ত্বীব বাগদাদী স্বীয় "আল-কুনুত" গ্রন্থে- ছহীহ সনদে।
(১) আহমাদ ও বুখারী, আর বর্ধিতটুকু (বন্ধনিযুক্ত অংশ) মুসলিমের।
(২) নাসাঈ, আহমাদ, আস্সাররাজ (১/১০৯), আবূ ই'য়ালা তার মুসনাদ গ্রন্থে উত্তম সনদে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00