📄 ধীর গতিতে ও সুললিত কণ্ঠে ক্বিরা‘আত পাঠ
কান্না ছাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামা- - কামা- আমারাহুল্লাহু তা'আ-লা- - ইউরাত্তিলুল কুরআ-না তারতীলা- লা- হা-যা- অলা- 'আজ্বালাতান, বাল ক্বিরা-আতা (মুফাস্সারাতান হারফান হারফান, হাত্তা- অ কা-না ইউরাত্তিলুস সূরাতা হাত্তা- তাকূনা আতওয়ালা মিন আতওয়ালা মিনহা-
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী ধীরস্থিরভাবে কুরআন পাঠ করতেন। তাড়াহুড়া বা ঝটপট করে নয় বরং অক্ষর, অক্ষর করে সুস্পষ্টভাবে তিনি কুরআন পাঠ করতেন। (১) তিনি এমনি ধীরস্থিরভাবে কুরআন পাঠ করতেন যে, তাতে সূরা দীর্ঘ থেকে আরো দীর্ঘতর হয়ে যেত। (২) তিনি বলতেন: ইউক্বা-লু লিসা-হিবিল কুরআ-নি : ইক্বরা' অর্তাক্বি অরাত্তিল কামা- কুনতা তুরাত্তিলু ফিদ্দুনিয়া- ফাইন্না মানযিলাকা 'ইনদা আ-খিরি আ-ইয়াতিন তাক্বরাউহা- )
কুরআনধারীকে বলা হবে পড়তে থাক যেভাবে দুনিয়াতে ধীরস্থিরভাবে পড়তে এবং উপরে উঠতে থাক। তোমার অবস্থানস্থল সেখানেই হবে, যেখানে সর্বশেষ আয়াতটি পাঠ করবে। (৩) তিনি মাদের (টেনে পড়ার) অক্ষরে টেনে পড়তেন। »بسم الله« আল্লাহ শব্দ টেনে পড়তেন »الرحمن এর মীমকে টেনে পড়তেন »الرحيم« এর ইয়াকে টেনে পড়তেন (৪) »নাসিদ « এর «» ইয়াকে (৫) এবং এ ধরনের মদের স্থানগুলোতে টেনে পড়তেন। তিনি আয়াতের শেষ মাথায় থামতেন যেমনটি পূর্বেই উল্লেখ হয়েছে। (১)
তিনি কখনো স্বীয় স্বরকে (তরঙ্গ সদৃশ) ক্রমাগতভাবে প্রবাহিত করতেন (২) যেমন মক্কা বিজয়ের দিন করেছিলেন। তিনি তখন উষ্ট্রীর উপর কোমল কণ্ঠে সূরা ফাত্হ (৪৮:২৯) পড়ছিলেন। (৩) আব্দুল্লাহ বিন মুগাফফাল তাঁর পুনরাবৃত্তিকে এভাবে উল্লেখ করেন (৩)। (৪) তিনি সুললিত কণ্ঠে কুরআন পাঠের নির্দেশ দিতেন। তিনি বলতেন:
যাইয়্যিনুল কুরআ-না বিআসওয়া-তিকুম ফাইন্নাস সওতাল হাসানা ইয়াযীদুল কুরআ-না হুসনা-
অর্থঃ তোমরা কুরআনকে তোমাদের কণ্ঠ দ্বারা সৌন্দর্য মণ্ডিত কর কেননা সুললিত কণ্ঠস্বর কুরআনের সৌন্দর্য বর্ধক। (৫) তিনি আরো বলতেন:
« إن من أحسن الناس صوتاً بالقرآن، الذي إذا سمعتموه يقرأ حسبتموه يخشى الله »
ঐ লোকের কুরআন পাঠের সুর সর্বাপেক্ষা সুন্দর যার পাঠ শ্রবণে তোমাদের মনে হয় যে, সে আল্লাহকে ভয় করছে। (১)
তিনি সুর দিয়ে কুরআন পড়তে নির্দেশ দিতেন। তিনি বলতেন:
« تعلموا كتاب الله، وتعاهدوه واقتنوه وتغنوا به، فوالذي نفسي بيده، لهو أشد تفلتا من المخاض في العقل »
তোমরা আল্লাহর কিতাব শিখ, এর সাথে লেগে থাক ও একে আঁকড়িয়ে ধরে রাখ এবং সুললিত কণ্ঠে পাঠ কর। ঐ আল্লাহর শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন রয়েছে, রশি দিয়ে উট বেঁধে রাখা অপেক্ষা কুরআন মনে রাখা কঠিন। (২)
তিনি আরো বলতেন: « ليس منا من لم يتغن بالقرآن »
যে ব্যক্তি ভাল স্বরে কুরআন পড়েনা সে আমার দলভুক্ত নয়। (৩)
তিনি আরো বলতেন:
« ما أذن الله لشيء ما أذن ) وفي لفظ : كأذنه ) لنبي ( حسن الصوت ) وفي لفظ : حسن الترنم ) يتغنى بالقرآن ( يجهر به ) »
আল্লাহ তা'আলা নবী কর্তৃক সুর দিয়ে কুরআন পাঠ যেভাবে শ্রবণ করেন সেভাবে অন্য কোন কথা শ্রবণ (১) করেন না। (২)
তিনি আবু মূসা আশ'আরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেন: গত রাত্রে আমি যখন তোমার কুরআন পাঠ শ্রবণ করছিলাম তখন যদি তুমি আমাকে দেখতে, নিঃসন্দেহে তুমি দাউদ (আলাইহিস্ সালাম)-এর সুমধুর সুর (৩) প্রাপ্ত হয়েছ। এতদ শ্রবণে আবূ মূসা বলেন: যদি আমি আপনার উপস্থিতি টের পেতাম তাহলে আপনার উদ্দেশ্যে সুরকে আরো সুন্দর ও আবেগ পূর্ণ করে তুলতাম। (৪)
টিকাঃ
(১) ইবনুল মুবারক » الزهد কিতাবে (১৬২/১( :الكواكب« )৫৭৫) থেকে, আবূ দাউদ ও আহমাদ, ছহীহ সনদে।
(২) মুসলিম ও মালিক।
(৩) আবূ দাউদ ও তিরমিযী এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন।
(৪) বুখারী ও আবূ দাউদ।
(৫) বুখারী, أفعال العباده গ্রন্থে ছহী সনদে।
(১) সূরা ফাতিহা পাঠ অধ্যায় দ্রষ্টব্য। (পৃষ্ঠা ৬৪)
(২) ইয়ারজিউ শব্দটি )তারজী' তারজী' শব্দ থেকে রূপান্তরিত। হাফিজ ইবনু হাজার বলেন: এটা )তারজী' কুরআন পাঠের সময় হরকতসমূহ উচ্চারণের টান কাছাকাছি হওয়া, এর মূল কথা হচ্ছে পুনরাবৃত্তি করা। স্বরকে পুনঃ পুনঃ আওড়ানো বলতে কণ্ঠ নালীতে তাকে ক্রমাগতভাবে ছাড়া বা প্রবাহিত করা বুঝায়। মানাওয়ী বলেন: এটা সাধারণত প্রশান্তি ও উৎফুল্ল অবস্থায় হয়ে থাকে। নবী মুছতফা (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের দিনে এমনটি পরিপূর্ণভাবে অনুভব করেন।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।
(৪) হাফিয ইবনু হাজার তার (৩) কথার বাখ্যায় বলেন: যবর যুক্ত হামযা, তার পরে সাকিন যুক্ত আলিফ অতঃপর অপর হামযা। শাইখ আলী আলক্বারী অন্যদের থেকেও একই ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বলেন, স্পষ্টত এগুলো তিনটি আলিফ মামদূদাহ মাত্র।
(৫) মুআল্লাক বা সনদবিহীনভাবে বুখারী, আবু দাউদ, দারিমী, হাকিম ও তাম্মাম রাযী দু'টি ছহীহ ছহীহ সনদে।
জ্ঞাতব্য: প্রথম হাদীছটি কোন কোন বর্ণনাকারীর নিকট উলট-পালট হয়ে যায় ফলে তিনি বর্ণনা করেন- "যাইয়্যিনু আসওয়া-তাকুম বিল কুরআন" অর্থঃ তোমরা কুরআন দ্বারা স্বীয় কণ্ঠস্বরকে সুন্দর কর। এটা বর্ণনাসূত্র ও মর্ম উভয় দিক দিয়ে স্পষ্ট ভুল। তাই যে ব্যক্তি একে বিশুদ্ধ বলেছেন তিনি ভুলে নিমজ্জিত হয়েছেন। কেননা এটা অত্র বিষয়ের ব্যাখ্যাদানকারী অনেক বিশুদ্ধ হাদীছ বিরোধী বরং এটা উলট-পালট হাদীছের দৃষ্টান্ত হওয়ার যোগ্য। বিস্তারিত আলোচনার জন্য الأحاديث الضعيفة (৫৩২৮) দ্রষ্টব্য।
(১) হাদীছটি ছহীহ, ইবনুল মুবারক « الزهد » গ্রন্থে (১৬২/১), الكواكب ৫৭৫ থেকে। দারিমী, ইবনু নাছর, ত্বাবরানী, আবু নুআইম « أخباراً صبهان » গ্রন্থে ও আযয্যিয়া « المختارة » গ্রন্থে।
(২) দারিমী ও আহমাদ, ছহীহ সনদে। এখানে « المخاض » শব্দের অর্থ হচ্ছে উট। « العقل » শব্দের অর্থ হচ্ছে ঐ রশি যেটা দিয়ে উট বাঁধা হয়।
(৩) আবূ দাউদ, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী এতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
জ্ঞাতব্য: অত্র স্থানে উল্লেখিত হাদীছের সনদ নিয়ে আব্দুল কাদির আরনাউত্ব ও তার সহযোগী কর্তৃক শাইখ আলবানীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত একটি আপত্তি এবং শাইখ আলবানী কর্তৃক তার খণ্ডনমূলক পর্যালোচনা সম্বলিত একটি দীর্ঘ টীকা ছিল। পাঠকের সুবিধার্থে তার অনুবাদ করা হলনা। (অনুবাদক ও সম্পাদক)
(১) মুনযিরী বলেন: «আযান» (১) যালের নীচে যের দিয়ে অর্থ হবে: আল্লাহ তা'আলা সুমধুর সূরে কুরআন পাঠকারীর পড়া শ্রবণের ন্যায় লোকজনের কথা শ্রবণ করেন না। সুফইয়ান বিন 'উয়াইনা ও অন্যান্যদের মধ্যে যারা বলেন তাগান্য বিল কুরআ-ন অর্থ কুরআন দ্বারা অমুখাপেক্ষিতা অনুভব করা এ ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যাত।
(২) বুখারী, মুসলিম, ত্বাহাবী, ইবনু মান্দাহ :অত্তাওহীদ (৮১/১)
(৩) আলিমগণ বলেন: এখানে মিযমার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সুললিত কণ্ঠ। (যদিও) এর প্রকৃত অর্থ গান। আ-লা দাঊদ বলতে এখানে স্বয়ং দাউদ আলাইহিস সালামকেই বুঝানো উদ্দেশ্য। কখনো কখনো ওমুকের পরিবার বলে তাকেই বুঝানো হয়ে থাকে। দাউদ (আলাইহিস সালাম) ছিলেন দারুন সুন্দর সুরের অধিকারী। ইমাম নববী একথা মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন।
(৪) এখানে হাব্বারাত শব্দের অর্থ হচ্ছে সুরকে সুন্দর ও আবেগপূর্ণ করা 'নিহায়াহ'। আব্দুর রায্যাক আল্-'আমালী' গ্রন্থে (২/৪৪/১) বুখারী, মুসলিম, ইবনু নাছর ও হাকিম।
📄 ইমামের প্রতি মনোযোগ বা গুঞ্জনমুক্ত দান
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইমামের ক্বিরাআত পাঠে জটিলতা সৃষ্টি হলে তা উন্মোচন করে দেয়া সুন্নাহ্ সম্মত করেছেন।
( ছল্লা- সলা-তান ফাক্বারাআ ফীহা- ফালুবিসা 'আলাইহি ফাল্লামানসরাফা ক্বালা- লিউবাইয়িন : আছল্লাইতা মা'আনা- ? ক্বালা- : না'আম, ক্বালা- : ফামা- মানা'আকা (আন তাফতাহা 'আলাইয়া- ) )
তিনি তাঁর কোন এক ছালাতের কিরা'আতকালে তাতে এলোমেলো হয়ে যায়। ছালাত শেষে উবাই নামক ছাহাবীকে বললেন: তুমি কি আমাদের সাথে ছালাত পড়েছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তবে আমাকে জটিলতামুক্ত করতে কোন্ জিনিস তোমাকে বাধা দান করেছে। (১)
টিকাঃ
(১) আবূ দাউদ, ইবনু হিব্বান, ত্বাবারানী, ইবনু আসাকির (২/২৯৬/২) আযযিয়া 'আলমুখতারাহ' গ্রন্থে বিশুদ্ধ সনদে।
📄 ক্বুরতূন ঠেকাতে আউযুবিল্লাহ পাঠ ও থুথু নিক্ষেপ
« ক্বালা লাহু 'উছমানু বনু আবিল 'আ-সি রাযিআল্লাহু 'আনহু : ইয়া রাসূলাল্লা-হি ! ইন্নাস শাইত্বা-না ক্বাদ হা-লা বাইনী অ বাইনা সলা-তী অ ক্বিরা-আতী , ইয়ালবিসুহা- 'আলাইয়া- ? ফাক্বা-লা রাসূ-লুল্লাহি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা : যা-কা শাইত্বা-নুন ইউক্বা-লু লাহু : খিনযাব, ফাইযা- আহসাসতাহু ফাতা'আউওয়ায বিল্লাহি মিনহু, অ'আত্তাফিল .. 'আলা- ইয়াসা-রিকা ছালা-সান , ক্বালা- : ফাফা'আলতু যা-লিকা ফাআযহাবাহুল্লাহু 'আন্নী »
'উছমান বিন আবুল আছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! শয়তান আমার মধ্যে এবং আমার ছালাত ও কির'আতের মধ্যে অন্তরায় হয়ে আমার কিরা'আতে জটিলতা সৃষ্টি করে। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: এ হচ্ছে শয়তান, যাকে 'খিনযাব' বলা হয়। তুমি তার আগমন অনুভব করলে, আল্লাহর নিকট তিনবার আশ্রয় কামনা করবে এবং বাম দিকে তিনবার থুথু (২) ফেলবে। তিনি (উছমান) বলেন: এর পর থেকে আমি এমনটি করি ফলে আল্লাহ তাকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেন। (৩)
টিকাঃ
(২) এখানে অততাফিল শব্দটি আততাফাল থেকে উদ্গত হয়েছে যার অর্থঃ ইষৎ থুথুসহ ফুৎকার প্রদান করা যা নাফছ অপেক্ষা বেশী ('নিহায়াহ')।
(৩) মুসলিম ও আহমাদ, ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: এ হাদীছে শয়তানের কুমন্ত্রণার সময় আ'উযুবিল্লাহ পড়ে বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলা মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে।
📄 তৃতীয় রাক্‘আতের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান অতঃপর চতুর্থ রাক্‘আতের উদ্দেশ্যে
অতঃপর (নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের প্রতি ছালাত পাঠান্তে) তাকবীর বলে তৃতীয় রাকআতের উদ্দেশ্যে দাঁড়াতেন। (২) আর ছলাতে ত্রুটিকারীকে এর নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন-
সুম্মা ইসনা' যা-লিকা ফী কুল্লি রাক'আতিন অ সাজদাতিন )
অতঃপর প্রত্যেক রাক্'আতে ও সাজদায় এরূপ করবে। যেমনটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আরো এসেছে কান আল্লাহু ইযা- ক্বা-মা মিনাল ক্বা'দাতি কাব্বারা সুম্মা ক্বা-মা তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বৈঠক থেকে উঠতেন তাকবীর বলতেন। অতঃপর দাঁড়াতেন। (১) আর এই তাকবীরের সাথে তিনি কখনো কখনো দুই হাত উত্তোলন করতেন। (২) আর যখন চতুর্থ রাক্'আতের জন্য উঠার ইচ্ছা পোষণ করতেন তখন আল্লাহু আকবার বলতেন। (৩) আর এর নির্দেশ দিয়েছিলেন ছলাতে ত্রুটিকারী ব্যক্তিকে যেমনটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
আর এই তাকবীরের সাথেও “নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো তাঁর দুই হাত উত্তোলন করতেন।” (৪)
অতঃপর তিনি তাঁর বাম পা-র উপর ধীর শান্তভাবে এ পরিমাণ বসতেন যাতে প্রত্যেক হাড্ডি তার নিজ জায়গায় প্রত্যাবর্তন করতে পারে। অতঃপর যমীনে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। (৫)
“যখন তিনি দাঁড়াতেন আটা খমিরের ন্যায় (মুষ্ঠিবদ্ধাবস্থায়) দু'হাতের উপর ভর দিতেন।” (৬)
তিনি এ দু' রাক'আতের (তৃতীয় ও চতুর্থ) প্রত্যেক রাক'আতে সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন এবং এরই নির্দেশ দিয়েছিলেন ছলাতে ত্রুটিকারীকে। কখনো কখনো এ দু'রাক'আতে সূরাহ্ ফাতিহার সাথে যোহর ও আছরের ছলাতে কিছু আয়াত পাঠ করতেন। যেমনটি ইতিপূর্বে যোহর ছলাতের কিরা'আত সংক্রান্ত আলোচনায় অতিবাহিত হয়েছে।
টিকাঃ
(২) বুখারী ও মুসলিম।
(১) আবূ 'ইয়ালা তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (২/২৮৪) উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন। আর সিলসিলা ছহীহাহতেও তা সংকলিত হয়েছে। (৬০৪)
(২,৩,৪) বুখারী ও আবু দাউদ।
(৪) আবু আওয়ানাহ ও নাসাঈ ছহীহ সনদে।
(৫) বুখারী ও আবু দাউদ।
(৬) হারবী তার "গারীবুল হাদীছ" গ্রন্থে (এ অর্থ করেছেন)। আর এ অর্থ বুখারী ও আবু দাউদের নিকটেও। আর এ শব্দ এসেছে। ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছলাতের ভিতর কোন ব্যক্তিকে হাতে ভর দিয়ে দাঁড়াতে নিষেধ করেছেন বলে যে হাদীছ রয়েছে তা মুনকার (প্রত্যাখ্যাত), ছহীহ নয়। যেমনটি বর্ণনা করেছি যাইফাহ গ্রন্থে (৯৬৭)।