📄 বিতরের ছালাত
কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইয়াক্বরাউ ফীর রাক'আতিিল ঊলা- সাব্বিহিছমা রাব্বিকাল আ'লা- (৮৭:১৯) , অফিছ ছা-নিয়াহ ক্বুল ইয়া- আইয়্যুহাল কা-ফিরূনা (১০৯:৬) , অফিছ ছা-লিসাতি ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদুন (১১২:৪)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম রাক'আতে 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল 'আলা'। (৮৭:১৯) দ্বিতীয় রাক'আতে 'কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন' (১০৯:৬) এবং তৃতীয় রাক'আতে 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' (১১২:৪) পড়তেন। (২) কখনো সূরা ইখলাছের সাথে তৃতীয় রাক'আতে 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক' (১১৩:৫) ও 'কুল আ'উযু বিরাব্বিন্ না-স' (১১৪:৬) যোগ করতেন। (৩)
একবার বিতরের (বেজোড়) রাক'আতে তিনি সূরা 'নিসা' (৪:১৭৬) থেকে একশত আয়াত পাঠ করেন। (৪) বিতর ছালাতের পরের দু'রাক'আতে (৫) 'ইযা-যুলল্যিলাত' (৯৯:৮) ও 'কুল ইয়া-আইয়্যুহাল কাফিরুন' পাঠ করতেন। (১)
টিকাঃ
(২) নাসাঈ ও হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন।
(৩) তিরমিযী, আবুল আব্বাস আল আছম্ম স্বীয় 'হাদীছ' গ্রন্থে (২য় খণ্ড ১১৭ নং), হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(৪) নাসাঈ ও আহমাদ ছহীহ সনদে।
(৫) এই দু'ই রাক'আত পড়া ছহীহ মুসলিম ও অন্যান্য কিতাবে সাব্যস্ত আছে তবে এ দু'রাক'আত পড়া অপর আরেকটি হাদীছের বিপরীত হয়। তা হচ্ছে- ইজ'আলু- আ-খিরা সলা-তিকুম বিল্লাইলি অওতরাহ রাখবে। আলিমগণ উভয় হাদীছের মধ্যে সমতা বিধান করতে গিয়ে মত বিরোধ করেছেন কিন্তু এর কোনটাই আমার নিকট প্রাধান্য যোগ্য মনে হয়নি। পূর্বোক্ত আদেশের উপর আমল করতে গিয়ে সতর্কতা স্বরূপ দু'রাক'আত না পড়ায় শ্রেয়, আল্লাহ সর্বজ্ঞ। ==তবে পরবর্তীতে আমি একটি বিশুদ্ধ হাদীছ অবহিত হই যাতে বিতরের পরে দু'রাক'আত পড়ার আদেশ রয়েছে, অতএব কাজের সাথে আদেশ সংযুক্ত হয়ে প্রত্যেকের জন্য এই দু'রাক'আত পড়া সাব্যস্ত হল। এমতাবস্থায় (বিতর সংক্রান্ত) প্রথম নির্দেশ তথা হাদীছটিকে শেষে রাখাটা মুসতাহাব এ অর্থে নিতে হবে। ফলে কোন দ্বন্দু থাকে না। আমি বিতরের পরে দু'রাক'আত আদেশসূচক হাদীছ »الصحيحة« (১৯৯৩) তে উদ্ধৃত করেছি। আল্লাহর তাউফীক দানের উপর তাঁর যাবতীয় প্রশংসা।
(১) আহমাদ, ইবনু নাছর, ত্বাহাবী (১/২০২) ইবনু খুযাইমাহ ও ইবনু হিব্বান, হাসান ছহীহ সনদে।
📄 জুমু‘আহ’র ছালাত
কান্না রাসূ-লুল্লাহি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইয়াক্বরাউ - আহ্ইয়া-নান - ফীল ঊলা- বিসূরাতি (আলজুমু'আতি) (৬২:১১), অফিল উখরা- : ইযা- জা-আকাল মুনা-ফিকূনা (৬৩:১১), অতা-রাতান ইয়াক্বরাউ - বাদালুহা- : হাল আতা-কা হাদীছুল গা-শিয়াহ (৮৮:২৬)
রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো প্রথম রাক'আতে সূরা 'জুমু'আহ্' (৬২:১১) পড়তেন এবং পরের রাক'আতে 'ইযা-জা-আকাল মুনাফিকুন' (৬৩:১১) পড়তেন। (২) কখনো এর পরিবর্তে 'হাল আতা-কা হাদীছুল গাশিয়াহ' (৮৮:২৬) পড়তেন। (৩) কখনো প্রথম রাক'আতে 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা' (৮৭:১৯) ও দ্বিতীয় রাক'আতে 'হাল আতাকা' পড়তেন। (৪)
টিকাঃ
(২) মুসলিম ও আবু দাউদ, এটি الإرواء গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩৪৫)
(৩) মুসলিম ও আবূ দাউদ।
(৪) মুসলিম ও আবূ দাউদ।
📄 দুই ঈদের ছালাত
কান্নাল্লা-হু ইয়াক্বরাউ আহ্ইয়া-নান ফীল ঊলা- সাব্বিহিছমা রাব্বিকাল আ'লা- ) অফিল উখরা- : হাল আতা-কা )
অ আহ্ইয়া-নান ইয়াক্বরাউ ফীহিমা- ক্বা-ফ অল কুরআ-নুল মাজীদ (৫০:৪৫) অ ইক্বতারাবাতিছ ছা-'আহ (৫৫:৫৪)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো ঈদের ছালাতের প্রথম রাক'আতে "সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা” পড়তেন এবং দ্বিতীয় রাক'আতে "হাল আতাকা" পড়তেন। (১)
আবার কখনো দুই রাক'আতে "কা-ফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ" (৫০:৪৫) ও "ইক্বতারাবাতিস্ সা'আহ” (৫৪ঃ ৫৫) পড়তেন। (২)
টিকাঃ
(১) মুসলিম ও আবূ দাউদ।
(২) মুসলিম ও আবূ দাউদ।
📄 জানাযার ছালাত
সুন্নত হচ্ছে ঐ ছালাতে "সূরা ফাতিহা" পাঠ করা(৩) এবং সেই সাথে অপর একটি সূরা পাঠ করা। (৪) আর তা নিম্নস্বরে প্রথম তাকবীরের পরে পাঠ করতেন। (৫)
টিকাঃ
(৩) এটি হচ্ছে ইমাম শাফি'ঈ, আহমাদ, ইসহাক প্রমুখগণের মত। আর পরবর্তী হানাফী মুহাক্কিক (তথ্যান্নেষী) কিছু আলিমও এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফাতিহার পর অপর আরেকটি সূরা মিলানো শাফি'ঈদের একটি দৃষ্টিভঙ্গি আর এটিই সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি।
(৪) বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনুল জারুদ। অতিরিক্ত অংশটি শাজ (নগণ্য) নয় যেমনটি তুওয়াইজিরী ধারণা করেছেন। (দেখুন মূল কিতাবের ভূমিকা ৩০-৩২ পৃষ্ঠা)
(৫) নাসাঈ ও ত্বাহাবী ছহীহ সনদে।