📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 মাগরিবের সুন্নাতে ছালাতে ক্বিরা‘আত

📄 মাগরিবের সুন্নাতে ছালাতে ক্বিরা‘আত


তিনি মাগরিবের ফরয পরবর্তী সুন্নত ছালাতে 'কুল ইয়া আইয়ুহাল কা-ফিরুন' (১০৯:৬) ও 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (১১২:৪) পাঠ করতেন। (২)

টিকাঃ
(১) ত্বাবারানী ছহীহ সনদে »আল কাবীর« গ্রন্থে।
(২) আহমাদ, মাকুদিসী, নাসাঈ, ইবনু নছর ও ত্বাবারানী।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 ইশা’র ছালাত

📄 ইশা’র ছালাত


নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইশার প্রথম দু'রাক্'আতে মুফাছছাল অংশের মধ্যম সূরাগুলো পাঠ করতেন। (৩) তিনি কখনো 'ওয়াশ্ শামসি ওয়ায্যুহা-হা' (৯১:১৫) বা অনুরূপ সূরাগুলো পাঠ করতেন। (৪) কখনো 'ইযাস্সামা-উন শাক্বক্বাত' (৮৪:২৫) পাঠ করতেন এবং এর ভিতর সাজদাহ করতেন। (৫) একবার তিনি সফরে প্রথম রাক'আতে ওয়াত্ত্বীনি ওয়ায যাইতুন (৯৫:৮) পাঠ করেন। (৬) তিনি এই ছালাতে কিরা'আত দীর্ঘ করতে নিষেধ করেছেন।
আর এ নিয়ম তখনই করেছিলেন যখন:
ছাল্লা- মু'আ-যু বনু জাবালিন লিআছহা-বিহিল 'ইশা-আ ফাত্বোয়াল্লা 'আলাইহিম ফানসরাফা রাজুলুম মিনাল আনসা-রি ফাসল্লা-, ফাআখবারা মু'আ-যু 'আনহু, ফাক্বা-লা : ইন্নাহু মুনা-ফিকুন। অলাম্মা- বালাগা যা-লিকার রাজুলা দাখালা 'আলা- রাসূ-লিল্লা-হি ছাল্লাল্লা-হু 'আলাইহি অসাল্লামা ফাআখবারাহু মা- ক্বা-লা মু'আ-যুন, ফাক্বা-লা লাহুন্নাবীয়্যু ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা : আতুরীদু
আন তাকূনা ফাত্তা-নান্ ইয়া- মু'আ-য? ইযা- আম্মাতিন্না-সা ফাক্বরা' বিওয়াশ্ শামসি অযুহা-হা- অ সাব্বিহিছ মা রাব্বিকাল আ'লা- অ ইক্বরা' বিসমি রাব্বিকা অঅল্লাইলি ইযা- ইয়াগশা- ফাইন্নাহু ইউছাল্লী অ ওয়ারা-কা আল ক্বাবীরু অज़् যয়ীফু অযুল হা-জাহ *
মুয়া'য (রাযিয়াল্লাহু আনহু) স্বীয় সাথীদেরকে নিয়ে ইশা'র ছালাত আদায় করেন। তিনি কিরা'আত দীর্ঘ করলে একজন আনছারী ছাহাবী জামা'আত ছেড়ে দিয়ে একাকী ছালাত পড়েন। মুয়াযকে এই সংবাদ দেয়া হলে তিনি বলেন- সে মুনাফিক হবে। লোকটি এ সংবাদ জানার পর আল্লাহর রাসূলের নিকট উপস্থিত হয়ে মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা জানাল। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে মুয়ায! তুমি কি ফিৎনাবাজ হতে চাও? যখন লোক জনের ইমামত করবে তখন পড়বে 'ওয়াশামসি ওয়ায যুহা-হা' (৯১:১৫) 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা' (৭৭:১৯) 'ইকু'রা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী খালাক' (৯৬:১৯) 'ওয়াল্লাইলি ইযা-ইয়াগশা' (৯২ঃ২১) কেননা তোমার পিছনে বৃদ্ধ, দুর্বল ও (অদম্য) প্রয়োজন বিশিষ্ট লোক ছালাত পড়ে। (১)

টিকাঃ
(৩) ছহীহ সনদে নাসাঈ ও আহমাদ।
(৪) আহমাদ ও তিরমিযী- তিনি একে হাসান বলেছেন।
(৫) বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈ।
(৬) বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈ।
(১) বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈ, এটা الإرواء গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (২৯৫)

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 রাতের নফল ছালাত

📄 রাতের নফল ছালাত


সল্লাইতু মা'আন্নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা লাইলাতান, ফালাম ইয়াযাল ক্বা-ইমান হাত্তা- হামামতু বিআমরি সু-ইন, ক্বীলা : অমা- হামামতা? ক্বালা- : হামামতু আন আক্ব'উদা অ আযারান্নাবীয়্যা ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা *
আমি এক রাতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছালাত পড়ি, তিনি এত দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, এক পর্যায়ে আমি একটি মন্দ পরিকল্পনা করে ফেলেছিালাম। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কী পরিকল্পনা করেছিলেন? তিনি বললেন: নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বাদ দিয়ে বসে পড়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। (১)
হুযাইফা বিন ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেনঃ
সল্লাইতু মা'আন্নাবীয়্যি ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা যা-তা লাইলাতিন ফাফতাতাহা (আল বাক্বারা) ফাক্বulতু : ইয়ারকা'উ 'ইনদাল মিআতি, সুম্মা মাযা ফাক্বulতু : ইউছল্লী বিহা- ফী (রাক'আতাইনি), ফামা-যা, ফাক্বulতু : ইয়ারকা'উ বিহা- , সুম্মা ইফতাতাহা (আননিসা-আ) ফাক্বরাআহা-, সুম্মা ইফতাতাহা «আ-লা 'ইমরানা», ফাক্বরাআহা-, ইয়াক্বরাউ মুতারাস্সিলা-, ইযা- মাররা বিআ-ইয়াতিন ফীহা- তাসবীহুন সাব্বাহা, অ ইযা- মাররা বিসুওয়া-লিন সাআলা, অ ইযা- মাররা বিতা'আউউযিন তা'আউওয়াযা, সুম্মা রাকা'আ....... আল হাদীছ।
আমি এক রাতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছালাত পড়ি। তিনি 'সূরা বাকারা' দিয়ে শুরু করলেন। আমি মনে মনে বললাম, একশত আয়াত পূর্ণ করে হয়ত রুকু করবেন, কিন্তু না- তিনি অতিক্রম করে গেলেন। আমি বললাম, হয়ত একে দুই রাক'আতে ভাগ করে পড়বেন- কিন্তু তাও না, তিনি পড়তে থাকলেন। এবার ভাবলাম এটা শেষ করে বোধ হয় রুকু করবেন, না তিনি সূরা 'নিসা' শুরু করলেন এবং পূরোটাও পড়ে ফেললেন। এরপর 'আ-লু ইমরান' (২) ধরলেন ও পাঠও সম্পন্ন করলেন। তিনি থেমে থেমে তা পাঠ করছিলেন। আল্লাহর পবিত্রতা জ্ঞাপক আয়াত আসলে তিনি পবিত্রতা জ্ঞাপন করতেন। আবেদন মূলক আয়াতে আবেদন করতেন। আশ্রয় ভিক্ষার আয়াতে আশ্রয় ভিক্ষা করতেন। অতঃপর রুকু করেন......... আলহাদীছ। (৩)
এক রাতে ব্যথিত শরীর নিয়েও তিনি লম্বা ৭টি সূরা পাঠ করেন। (৪) কখনো তিনি এগুলো হতে একটি করে সূরা প্রত্যেক রাক'আতে পাঠ করতেন। (১)
মা 'আলিমা আন্নাহু ক্বারা'আল কুরআনুল কুল্লা ফী লাইলাতিন (ক্বত্ত্ব) আদৌ একথা জানা যায়নি যে, তিনি এক রাত্রে পূর্ণ কুরআন খতম করেছেন। (২) বরং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে এ বিষয়ে অনুমতি দেননি। তাকে বলেছিলেন:
ইক্বরা'ইল কুরআ-না ফী কুল্লি শাহরিন ক্বালা : ক্বুলতু : ইন্নী আজ্বিদু ক্বুওয়াতান ক্বালা : ফাক্বরা'হু ফী 'ইশরিনা লাইলাতান ক্বালা : ক্বুলতু : ইন্নী আজ্বিদু ক্বুওয়াতান, ক্বালা : ফাক্বরা'হু ফী সাব'ইন অলা- তাযিদ 'আলা- যা-লিকা
প্রত্যেক মাসে একবার কুরআন পড়বে, তিনি বলেন, আমি বললাম- আমি তার চেয়েও বেশী শক্তি রাখি। তখন তিনি বললেন: তবে বিশ রাত্রে তা পড়বে। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমি আরো ক্ষমতা অনুভব করি। তিনি বললেন: তবে এক সপ্তাহে, এর উপরে যাবে না (তথা এর চেয়ে কম সময়ে খতম দিবে না)। (৩) অতঃপর তাকে পাঁচ দিনের অনুমতি দেন (৪) এবং পরবর্তীতে তিন দিনেরও অনুমতি দেন (৫) এবং এর চেয়ে কমে পড়তে তিনি তাকে নিষেধ করেন। (৬) তিনি তাকে এর কারণ দর্শাতে যেয়ে বলেছেন:
লা- ইয়াফক্বাহু মান ক্বারা'আল কুরআ-না ফী আক্বাল্লা মিন সালা-সিন, অফী লাফযিন : লা- ইয়াফক্বাহু মান ক্বারা'আল কুরআ-না ফী আক্বাল্লা মিন সালা-সিন
যে ব্যক্তি তিন দিনের কমে কুরআন পড়বে সে তা বুঝতে সক্ষম হবে না। (৭) অপর শব্দে এসেছে ঐ ব্যক্তি কুরআন বুঝে না যে তিন দিনের কমে তা পড়ে। (৮) অতঃপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন-
ফাইন্না লি কুল্লি 'আ-বিদিন শাররাতান, অ লি কুল্লি শাররাতিন ফাতরাতান, ফাইম্মা ইলা- সুন্নাতিন, অ ইম্মা ইলা- বিদা'তিন, ফামান কা-নাত ফাতরাতুহু ইলা- সুন্নাতিন ফাক্বদিহতাদা-, অমান কা-নাত ফাতরাতুহু ইলা- সুন্নাতিন ফাক্বদিহতাদা-, অমান কা-নাত ফatরাতুহু ইলা- গাইরি যা-লিকা ফাক্বাদ হালাকা।
প্রত্যেক ইবাদতকারীর রয়েছে তেজদীপ্ততা। (১) আর প্রত্যেক তেজস্বিতার রয়েছে স্থিরতা আর এর শেষ পরিণতি হয় সুন্নাতের প্রতি হবে, অন্যথায় বিদ'আতের প্রতি হবে। যার স্থিরতা সুন্নাতের প্রতি হবে সে হিদায়াত পাবে। পক্ষান্তরে যার স্থিরতা অন্য কোন কিছুর প্রতি হবে সে ধ্বংস প্রাপ্ত হবে। (২)
তাইতো নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিন দিনের কমে কুরআন খতম করতেন না। (৩) তিনি বলতেন:
মান সল্লা- ফী লাইলাতিম বিমা-তাইনি আ-ইয়াহ, ফাইন্নাহু ইয়াকতুবু মিনাল ক্বা-নিতীনাল মুখলিসীন (১) যে ব্যক্তি রাত্রে দু'শত আয়াত পড়ার মাধ্যমে ছালাত আদায় করবে সে » ক্বা-নীতীনা মুখলিসীন « একনিষ্ট অনুগতদের তালিকায় লিখিত হবে। (১)
তিনি প্রত্যেক রাত্রে সূরা 'বানী ইসরাঈল' (১৭:১১১) ও সূরা 'যুমার' (৩৯:৭৫) পাঠ করতেন। (২) তিনি বলতেন :
মান সল্লা- ফী লাইলাতিম বিমিআতি আ-ইয়াতিন লাম ইয়ুকতাব মিনাল গা-ফিলীন
যে ব্যক্তি রাত্রে এক শত আয়াত পড়ার মাধ্যমে ছালাত আদায় করবে সে গাফিলদের তালিকায় লিপিবদ্ধ হবে না। (৩) কখনো তিনি প্রত্যেক রাক'আতে পঞ্চাশ বা ততোধিক আয়াত পাঠ করতেন। (৪) কখনো বা "ইয়া আইয়ুহাল্ মুয্যাম্মিল” (৮৩:২০) এর পরিমাণ কিরা'আত পাঠ করতেন। (৫)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কদাচিৎ ছাড়া পূর্ণ রাত্রি ছালাত পড়তেন না। (৬)
আব্দুল্লাহ বিন খাব্বাব বিন আরত্ব (যিনি রাসূলের সঙ্গে বদর যুদ্ধে অংশ নেন) রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এক রাত্রে ফজর পর্যন্ত (ইবাদতরত থাকতে) লক্ষ্য করেন, অপর বর্ণনায় ছালাত পড়তে দেখেন। যখন তিনি স্বীয় ছালাত শেষে সালাম ফিরালেন তখন খাব্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন : হে আল্লাহর রাসূল, আপনার জন্য আমার পিতা মাতা উৎসর্গ হউক- আজ রাতে আপনি এমন ছালাত পড়েছেন যা আর কোন দিন পড়েননি? তিনি বলেন :
আ-জ্বাল ইন্নাহা- সলা-তু রাগাবিন অ রাহাবিন অ ইন্নী সাআলতু রাব্বী আয্যাওয়া জাল সালা-ছা খিসা-লিন ফাআ'ত্বা-নী ইসনাতাইনি অ মানা'আনী ওয়াহিদাতান : সাআলতু রাব্বী আন লা- ইয়ুহ্লিক্বানা- বিমা- আহ্লাকা বিহিল উমামা ক্বাবলানা- ) অফী লাফযিন : আল্লা- ইয়ুহ্লিকা উম্মাতী বিসানাতিন ), ফাআ'ত্বা-নীহা-, অসাআলতু রাব্বী আয্যাওয়া জাল আল্লা- ইউযহিরা 'আলাইনা- 'আদুওয়্যান মিন গাইরিনা-, ফাআ'ত্বা-নীহা-, অসাআলতু রাব্বী আল্লা- ইউলবিসানা- শিয়া'আন, ফামানা'আনীহা-
হ্যাঁ এটি ছিল আশা ও ভয়ের ছালাত। আমি (এই ছালাতে) আমার প্রতিপালকের নিকট তিনটি বস্তু চেয়েছিলাম যার দুটি আমাকে দিয়েছেন এবং একটি দেননি। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট চেয়েছি, তিনি যেন পূর্বেকার জাতিকে যে কারণে ধ্বংস করেছেন সে কারণে আমাদেরকে ধ্বংস না করেন (অপর বর্ণনায় রয়েছে : আমার উম্মতকে যেন দুর্ভিক্ষ দ্বারা ধ্বংস না করে দেন)। তিনি ইহা দান করেছেন। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট এই দু'আ করেছি যে, তিনি যেন আমাদের উপর বিজাতীয় শত্রুকে বিজয়ী না করেন। তিনি আমাকে এটা দিয়েছেন। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট আরো দু'আ করি যে, তিনি যেন আমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত না করে দেন, কিন্তু এটি কবুল করেননি। (১)
পূর্ণ এক রাত্রি তিনি একটি আয়াত বারংবার পাঠ করে করে ফজর পর্যন্ত গড়িয়ে দেন। আয়াতটি হচ্ছে:
ইন তু'আযযিবহুম ফাইন্নাহুম 'ইবা-দুকা অ ইন তাগফির লাহুম ফাইন্নাকা আনতাল 'আযীযুল হাকীম
অর্থাৎ যদি তুমি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে ওরাতো তোমারই দাস আর যদি তাদেরকে ক্ষমা কর, তবে তুমিতো পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। (৫:১১৮)
এই আয়াতটি তিনি রুকূতে পড়েন, সাজদাতে পড়েন এবং এর মাধ্যমে দু'আও করেন। সকাল হলে আবু যর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি গত রাতে এই একটি মাত্র আয়াত ফজর পর্যন্ত পড়তে থেকেছেন। রুকূ, সাজদা এবং দু'আতে এটাই পড়েছেন। অথচ আল্লাহ তা'আলা আপনাকে পূর্ণ কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে কেউ এ রকম করলে আমরা তা আপত্তিকর ভাবতাম। তিনি বললেন: আমি আমার প্রভুর নিকট আমার উম্মতের জন্য' সুপারিশাধিকার আবেদন করি ফলে তিনি আমাকে তা দান করেছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না সে ইনশাআল্লাহ তা লাভ করবে। (২)
এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এক প্রতিবেশী রয়েছে যে রাত্রিকালীন ছলাত পড়ে তবে সে তাতে (১১২২:৪) ﴿ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ ﴾ ব্যতীত অন্য কোন কিরা'আত পড়ে না; এটাই বারবার পাঠ করে, অতিরিক্ত কিছুই পড়ে না। অভিযোগকারী যেন একে অপর্যাপ্ত মনে করেছে। আল্লাহর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:
ওয়াল্লাযী নাফসী বিয়াদিহি, ইন্নাহা- লা তা'দিলু ছুলুছাল কুরআন
ঐ সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে এই সূরা কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য। (১)

টিকাঃ
(১) ছহীহ সনদে নাসাঈ।
(১) বুখারী ও মুসলিম।
(২) এভাবেই রিওয়ায়াত এসেছে 'নিসা' 'আলু-ইমরান' এর পূর্বে। এতে এ কথার প্রমাণ পাওয়া যায় যে, উসমানী কুরআনের সিরিয়াল ভঙ্গ করা বৈধ। পূর্বেও এমন কথার উল্লেখ হয়েছে।
(৩) মুসলিম ও নাসাঈ।
(৪) আবু ইয়ালা, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেন। অপর বর্ণনায় আতত্বূল শব্দ এসেছে। ইবনুল আসীর বলেন: যম্মা দ্বারা »ত্বুলা এর বহু বচন যেমন কুবরা এর বহু বচন কুবর সাতটি দীর্ঘ সূরা হচ্ছে- 'আল-বাক্বারা' 'আলু-ইমরান' 'আন্-নিসা' 'আল-মা-ইদা' 'আল-আন'আম' 'আল-আ'রাফ' 'আত্-তাউবাহ'।
(১) ছহীহ সনদে আবু দাউদ, নাসাঈ।
(২) মুসলিম ও আবূ দাউদ।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।
(৪) নাসাঈ ও তিরমিযী এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন।
(৫) বুখারী ও আহমাদ।
(৬) দারিমী, সাঈদ বিন মানছুর স্বীয় ‘সুনান’ গ্রন্থে ছহীহ সনদে।
(৭) ছহীহ সনদে আহমাদ
(৮) দারিমী, তিরমিযী এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন।
(১) শাররাহ শিন সাকিন ও রা-তাশদীদ যুক্ত হবে এর অর্থঃ কর্ম তৎপরতা ও মনোবল। যৌবনের শাররাহ তেজস্বিতা হচ্ছে প্রাথমিক ও তেজদীপ্ত মুহূর্ত।
ইমাম ত্বাহাবী বলেন: এটি বিভিন্ন বিষয়াভ্যান্তরস্থ সেই তেজদীপ্ততা- যা মুসলিমগণ তাদের মহান প্রতি পালকের নৈকট্য অর্জনের বিভিন্ন আমলের ক্ষেত্রে নিজেদের ভিতর থাকা কামনা করেন। আর রসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক্ষেত্রে তাদের তেজদীপ্ততা থাকা পছন্দ করেছেন। তবে ঐ তেজদীপ্ততা নয় যা থেকে তাদের ক্ষান্ত থাকা উচিত এবং যা তা থেকে অন্য কিছুর দিকে বের করে নিয়ে যায়।
আর তিনি এসব নেক আমলকে মৃত্যু পর্যন্ত ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন যেগুলো নিয়মিত পালনের বৈধতা রয়েছে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এর ব্যাখ্যা বর্ণিত রয়েছে আহাব্বুল আ'মাল ইলাল্লাহি আদওয়ামুহা ওয়া ইন ক্বাল, অর্থ আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয়তম আমল হচ্ছে- নিয়মিত আমল যদি তা কমও হয়।
আমি (লেখক) বলতে চাই: এই হাদীছটি যাকে শুরুতে ইমাম ত্বাহাবী (র.) অর্থাৎ বর্ণিত হয়েছে বলেছেন তা বিশুদ্ধ- যাকে বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন- আইশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে।
(২) আহমাদ ও ইবনু হিব্বান স্বীয় সহীহ গ্রন্থে।
(৩) ইবনু সা'দ (১/৩৭৬) ও আবুশ শাইখ (أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم) (২৮১)
(১) দারিমী, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(২) আহমাদ, ইবনু নাছর, ছহীহ সনদে।
(৩) দারিমী, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৪) বুখারী ও আবূ দাউদ।
(৫) ছহীহ সনদে আহমাদ ও আবূ দাউদ।
(৬) মুসলিম ও আবূ দাউদ।==আমি (লিখক) বলতে চাই: এ হাদীছটিসহ অন্যান্য হাদীছের আলোকেই সর্বদা বা অধিকাংশ সময় পূর্ণ রাত জেগে ইবাদত করা মাকরুহ। কেননা এটা সুন্নতের বিপরীত। যদি পূর্ণ রাত্রি জেগে ইবাদত করা উত্তম হত তবে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা ছাড়তেন না। আর সর্বোত্তম নির্দেশনা হচ্ছে- মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশনা।
ইমাম আবু হানীফা সম্পর্কে যে কথা প্রচলিত আছে যে, তিনি দীর্ঘ চল্লিশ বৎসর ইশার উযূ দ্বারা ফজর পড়েছেন তা শুনে ধোঁকায় পড়া চলবে না। কেননা এর কোন ভিত্তি নেই। বরং আল্লামা ফিরুজ আবাদী (র:) (الرد على المعترض( (1/88) কিতাবে বলেন: এটি স্পষ্ট মিথ্যা সম্ভারের একটি ঘটনা যার সম্বন্ধ ইমাম সাহেবের দিকে করা সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কেননা এতে কোন উল্লেখযোগ্য মর্যাদা প্রমাণিত হয় না। বরং তাঁর মত ইমামের পক্ষে উচিত ছিল উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করা। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, প্রত্যেক ছালাতের জন্য উযূ নবায়ন করা উত্তম ও পরিপূর্ণ কাজ। তাও তখনকার ব্যাপার যখন তাঁর একাধারে চল্লিশ বৎসর রাত্রি জাগরণ সাব্যস্ত হবে। বস্তুত এমনটি অসম্ভব হওয়াই স্বাভাবিক। যা কিছু অজ্ঞ ও গোড়া লোকেদের কপোলকল্পিত অবান্তর কাহিনী মাত্র যা আবু হানীফাসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের ব্যাপারে রটনা করেছে। বস্তুত এসবই হচ্ছে মিথ্যা।
(১) নাসাঈ, আহমাদ, ত্বাবারানী (১/১৮৭/২) এবং তিরমিযী একে ছহীহ বলেছেন।
(২) নাসাঈ, ইবনু খুযাইমা (১/৭০/১) আহমাদ, আবু নাছর ও হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন আর যাহাবী তার সমর্থন করেছেন।
(১) আহমাদ ও বুখারী।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 বিতরের ছালাত

📄 বিতরের ছালাত


কান্না ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা ইয়াক্বরাউ ফীর রাক'আতিিল ঊলা- সাব্বিহিছমা রাব্বিকাল আ'লা- (৮৭:১৯) , অফিছ ছা-নিয়াহ ক্বুল ইয়া- আইয়্যুহাল কা-ফিরূনা (১০৯:৬) , অফিছ ছা-লিসাতি ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদুন (১১২:৪)
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম রাক'আতে 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল 'আলা'। (৮৭:১৯) দ্বিতীয় রাক'আতে 'কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন' (১০৯:৬) এবং তৃতীয় রাক'আতে 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' (১১২:৪) পড়তেন। (২) কখনো সূরা ইখলাছের সাথে তৃতীয় রাক'আতে 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক' (১১৩:৫) ও 'কুল আ'উযু বিরাব্বিন্ না-স' (১১৪:৬) যোগ করতেন। (৩)
একবার বিতরের (বেজোড়) রাক'আতে তিনি সূরা 'নিসা' (৪:১৭৬) থেকে একশত আয়াত পাঠ করেন। (৪) বিতর ছালাতের পরের দু'রাক'আতে (৫) 'ইযা-যুলল্যিলাত' (৯৯:৮) ও 'কুল ইয়া-আইয়্যুহাল কাফিরুন' পাঠ করতেন। (১)

টিকাঃ
(২) নাসাঈ ও হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন।
(৩) তিরমিযী, আবুল আব্বাস আল আছম্ম স্বীয় 'হাদীছ' গ্রন্থে (২য় খণ্ড ১১৭ নং), হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(৪) নাসাঈ ও আহমাদ ছহীহ সনদে।
(৫) এই দু'ই রাক'আত পড়া ছহীহ মুসলিম ও অন্যান্য কিতাবে সাব্যস্ত আছে তবে এ দু'রাক'আত পড়া অপর আরেকটি হাদীছের বিপরীত হয়। তা হচ্ছে- ইজ'আলু- আ-খিরা সলা-তিকুম বিল্লাইলি অওতরাহ রাখবে। আলিমগণ উভয় হাদীছের মধ্যে সমতা বিধান করতে গিয়ে মত বিরোধ করেছেন কিন্তু এর কোনটাই আমার নিকট প্রাধান্য যোগ্য মনে হয়নি। পূর্বোক্ত আদেশের উপর আমল করতে গিয়ে সতর্কতা স্বরূপ দু'রাক'আত না পড়ায় শ্রেয়, আল্লাহ সর্বজ্ঞ। ==তবে পরবর্তীতে আমি একটি বিশুদ্ধ হাদীছ অবহিত হই যাতে বিতরের পরে দু'রাক'আত পড়ার আদেশ রয়েছে, অতএব কাজের সাথে আদেশ সংযুক্ত হয়ে প্রত্যেকের জন্য এই দু'রাক'আত পড়া সাব্যস্ত হল। এমতাবস্থায় (বিতর সংক্রান্ত) প্রথম নির্দেশ তথা হাদীছটিকে শেষে রাখাটা মুসতাহাব এ অর্থে নিতে হবে। ফলে কোন দ্বন্দু থাকে না। আমি বিতরের পরে দু'রাক'আত আদেশসূচক হাদীছ »الصحيحة« (১৯৯৩) তে উদ্ধৃত করেছি। আল্লাহর তাউফীক দানের উপর তাঁর যাবতীয় প্রশংসা।
(১) আহমাদ, ইবনু নাছর, ত্বাহাবী (১/২০২) ইবনু খুযাইমাহ ও ইবনু হিব্বান, হাসান ছহীহ সনদে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00