📄 আছরের ছালাত
আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম দুই রাক'আতে 'সূরা ফাতিহা' এবং অপর দু'টি সূরা পাঠ করতেন। এবং প্রথম রাক'আতকে দ্বিতীয় রাক'আত অপেক্ষা দীর্ঘায়িত করতেন। (৭) ছাহাবাগণ ধারণা করতেন যে, তাঁর এরূপ করার পিছনে উদ্দেশ্য এটাই ছিল যে, লোকজন যেন রাক'আতটি পেয়ে যায়। (৮) তিনি উভয় রাক'আতে আনুমানিক পনের আয়াত তথা যহরে প্রথম দু'রাক্'আতের অর্ধেকের মত পাঠ করতেন। শেষ দু'রাক্'আতকে প্রথম দু'রাক্'আতের অর্ধেকের মত সংক্ষিপ্ত করতেন। (১) আবার তিনি এই উভয় রাক'আতে শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন। (১) তিনি মাঝে মধ্যে ছাহাবাদেরকে আয়াত বিশেষ শুনাতেন। (২) যহরের ছালাতে উল্লেখিত সূরাগুলো তিনি এই ছালাতেও পাঠ করতেন।
টিকাঃ
(৭) বুখারী ও মুসলিম।
(৮) ছহীহ সনদে আবু দাউদ ও ইবনু খুযাইমাহ্।
(১) আহমাদ ও মুসলিম।
(১) বুখারী ও মুসলিম।
(২) বুখারী ও মুসলিম।
📄 মাগরিবের ছালাত
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ ছালাতে কখনো কখনো মুফাছছাল অংশের সংক্ষিপ্ত সূরাগুলো «قصار المفصل» পাঠ করতেন। (৩) তাঁর সাথে ছালাত শেষ করে ফিরার পথে যে কোন লোক স্বীয় তীর নিক্ষেপের স্থান দেখতে পেত। (৪)
তিনি কোন এক সফরে মাগরিবের দ্বিতীয় রাক্'আতে 'ওয়াত্তীনি ওয়ায্যাইতুন' (৯৫:৮) পাঠ করেন। (৫) কখনো তিনি দীর্ঘ বিস্তীর্ণ (طوال المفصل) এবং নাতি দীর্ঘ (أوساط) সূরা পাঠ করতেন। কখনো তিনি الَّذِيْنَ كَفَرُوا ﴾ وَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ সূরা মুহাম্মদ (৪৭ঃ৩৮) পাঠ করতেন। (৬) আবার কখনো 'আঙুর (৫২:৪৯) (৭) এবং কখনো 'আল মুরসালাত' (৭৭:৫০) পড়তেন। এই (শেষোক্ত) সূরাটি তাঁর জীবনের সর্বশেষ ছালাতে পাঠ করেন। (৮) তিনি কখনো উভয় রাক্'আতে সর্বাপেক্ষা দুটি দীর্ঘ সূরার মধ্যে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সূরা (১) 'আল-আরাফ' (৭ঃ২০৬) উভয় রাক্'আতে পাঠ করতেন। (১০) আর কখনো কখনো উভয় রাক্'আতের 'আল-আনফাল' (৮:৭৫) পাঠ করতেন। (১)
টিকাঃ
(৩) বুখারী ও মুসলিম।
(৪) ছহীহ সনদে নাসাঈ ও আহমাদ।
(৫) ছহীহ সনদে ত্বায়ালিসী ও আহমাদ।
(৬) ইবনু খুযাইমা (১/১৬৬/২) ও ত্বাবারানী এবং মাকুদিসী ছহীহ সনদে।
(৭) বুখারী, মুসলিম।
(৮) বুখারী, মুসলিম।
(৯) এখানে «ত্বুলা» শব্দটি «আত্বওয়াল» এর স্ত্রী লিঙ্গ, আর «আত্বত্বুলাইয়াইন» শব্দটি হচ্ছে «ত্বুলা» শব্দের দ্বিবচন। দীর্ঘ দু'টি সূরা হচ্ছে 'আল-আ'রাফ' ঐকমত্যে ও 'আল-আনয়াম' সমধিক প্রাধান্য যোগ্য মতে। (ফতহুল বারী)
(১০) বুখারী, আবূ দাউদ, ইবনু খুযাইমা (১/৬৮/১) আহমাদ, সাররাজ ও মুখাল্লিছ।
📄 মাগরিবের সুন্নাতে ছালাতে ক্বিরা‘আত
তিনি মাগরিবের ফরয পরবর্তী সুন্নত ছালাতে 'কুল ইয়া আইয়ুহাল কা-ফিরুন' (১০৯:৬) ও 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (১১২:৪) পাঠ করতেন। (২)
টিকাঃ
(১) ত্বাবারানী ছহীহ সনদে »আল কাবীর« গ্রন্থে।
(২) আহমাদ, মাকুদিসী, নাসাঈ, ইবনু নছর ও ত্বাবারানী।
📄 ইশা’র ছালাত
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইশার প্রথম দু'রাক্'আতে মুফাছছাল অংশের মধ্যম সূরাগুলো পাঠ করতেন। (৩) তিনি কখনো 'ওয়াশ্ শামসি ওয়ায্যুহা-হা' (৯১:১৫) বা অনুরূপ সূরাগুলো পাঠ করতেন। (৪) কখনো 'ইযাস্সামা-উন শাক্বক্বাত' (৮৪:২৫) পাঠ করতেন এবং এর ভিতর সাজদাহ করতেন। (৫) একবার তিনি সফরে প্রথম রাক'আতে ওয়াত্ত্বীনি ওয়ায যাইতুন (৯৫:৮) পাঠ করেন। (৬) তিনি এই ছালাতে কিরা'আত দীর্ঘ করতে নিষেধ করেছেন।
আর এ নিয়ম তখনই করেছিলেন যখন:
ছাল্লা- মু'আ-যু বনু জাবালিন লিআছহা-বিহিল 'ইশা-আ ফাত্বোয়াল্লা 'আলাইহিম ফানসরাফা রাজুলুম মিনাল আনসা-রি ফাসল্লা-, ফাআখবারা মু'আ-যু 'আনহু, ফাক্বা-লা : ইন্নাহু মুনা-ফিকুন। অলাম্মা- বালাগা যা-লিকার রাজুলা দাখালা 'আলা- রাসূ-লিল্লা-হি ছাল্লাল্লা-হু 'আলাইহি অসাল্লামা ফাআখবারাহু মা- ক্বা-লা মু'আ-যুন, ফাক্বা-লা লাহুন্নাবীয়্যু ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি অসাল্লামা : আতুরীদু
আন তাকূনা ফাত্তা-নান্ ইয়া- মু'আ-য? ইযা- আম্মাতিন্না-সা ফাক্বরা' বিওয়াশ্ শামসি অযুহা-হা- অ সাব্বিহিছ মা রাব্বিকাল আ'লা- অ ইক্বরা' বিসমি রাব্বিকা অঅল্লাইলি ইযা- ইয়াগশা- ফাইন্নাহু ইউছাল্লী অ ওয়ারা-কা আল ক্বাবীরু অज़् যয়ীফু অযুল হা-জাহ *
মুয়া'য (রাযিয়াল্লাহু আনহু) স্বীয় সাথীদেরকে নিয়ে ইশা'র ছালাত আদায় করেন। তিনি কিরা'আত দীর্ঘ করলে একজন আনছারী ছাহাবী জামা'আত ছেড়ে দিয়ে একাকী ছালাত পড়েন। মুয়াযকে এই সংবাদ দেয়া হলে তিনি বলেন- সে মুনাফিক হবে। লোকটি এ সংবাদ জানার পর আল্লাহর রাসূলের নিকট উপস্থিত হয়ে মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা জানাল। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে মুয়ায! তুমি কি ফিৎনাবাজ হতে চাও? যখন লোক জনের ইমামত করবে তখন পড়বে 'ওয়াশামসি ওয়ায যুহা-হা' (৯১:১৫) 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা' (৭৭:১৯) 'ইকু'রা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী খালাক' (৯৬:১৯) 'ওয়াল্লাইলি ইযা-ইয়াগশা' (৯২ঃ২১) কেননা তোমার পিছনে বৃদ্ধ, দুর্বল ও (অদম্য) প্রয়োজন বিশিষ্ট লোক ছালাত পড়ে। (১)
টিকাঃ
(৩) ছহীহ সনদে নাসাঈ ও আহমাদ।
(৪) আহমাদ ও তিরমিযী- তিনি একে হাসান বলেছেন।
(৫) বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈ।
(৬) বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈ।
(১) বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈ, এটা الإرواء গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (২৯৫)