📄 ফজরের ছালাত
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (طوال المفصل দীর্ঘ বিস্তীর্ণ (৩) সূরাগুলো পাঠ করতেন (১) কখনো সূরা ওয়াক্বি'আহ (৫৬:৯৬) ও এ ধরনের অন্য সূরা উভয় রাক্'আতে পাঠ করতেন। (২) তিনি বিদায় হাজ্জের সময় সূরা তুর থেকে (৫২ঃ ৪৯) পাঠ করেছিলেন। (৩)
"তিনি কখনো 'ক্বা-ফ' ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ।" (৫০:৪৫) এবং এ ধরনের অন্য সূরা প্রথম রাক'আতে পাঠ করতেন। (৪)
আবার কখনো < قصار المفصل > নাতিদীর্ঘ সূরা যেমন ﴾ إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ ﴿ (৮১:১৫) পাঠ করতেন। (৫)
একদা তিনি উভয় রাক্'আতেই ﴾ إِذَا زُلْزِلَتْ ﴿ (৯৯:৮) পাঠ করেন। এমনকি বর্ণনাকারী বলেন: আমি বুঝতে পারলাম না যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমনটি কি ভুল ক্রমে করলেন নাকি স্বেচ্ছায় করলেন? (৬)
একবার সম্ভবত তিনি ﴾ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ﴿ (১১০:৫) এবং ﴾ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿ (১১৪:৬) পাঠ করেন (৭) এবং উকবা বিন আ-মির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেন: তুমি ছালাতে সূরা নাস ও সূরা ফালাক পাঠ করবে [কেননা এ দু'টির মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর তুলনা নাই] (৮)
কোন সময় তিনি এতদাপেক্ষা বেশী পাঠ করতেন, ষাট কিংবা তার উর্ধে আয়াত পাঠ করতেন। (১)
এর কোন বর্ণনাকারী বলেন: আমি জানি না (ষাট আয়াত) এক রাক'আতে পড়তেন না দুই রাক'আতে।
তিনি সূরা 'রুম' (৩০:৬০) পাঠ করতেন। (২) আবার কখনো সূরা 'ইয়াসীন' (৩৬/৮৩) পাঠ করতেন। (৩)
এক সময় তিনি মক্কায় থাকাকালীন অবস্থায় ফজরের ছালাতে সূরা 'আল'মুমিনূন' পাঠ করতে শুরু করেন, পরিশেষে যখন মূসা ও হারুন অথবা ঈসা (৪) (কোন বর্ণনাকারীর সন্দেহ হয়েছে) এর উল্লেখ আসল তখন তাঁকে কাশি পেয়ে বসল ফলে তিনি রুকূতে চলে গেলেন। (৫)
কখনো তিনি 'অছ্ছাফ্ফাত' (৭৭:১৮২) দ্বারা ছাহাবাদেরকে ছালাত পড়াতেন। (৬) তিনি জুমু'আর দিনের ফজর ছালাতে প্রথম রাক্'আতে আলিফ লা-ম মীম তানযিলুস সাজদাহ (৩২ঃ ৩০) ও দ্বিতীয় রাক্'আতে 'হাল আতা-আলাল ইনসান' (৭৬ঃ৩১) পাঠ করতেন। (৭) তিনি প্রথম রাক্'আত দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাক'আত সংক্ষিপ্ত করতেন। (৮)
টিকাঃ
(৩) বিশুদ্ধ উক্তি অনুযায়ী সেগুলো হচ্ছে- সূরা 'ক্বা-ফ' থেকে নিয়ে সাতটি সূরার নাম যেমন পূর্বে উল্লেখ হয়েছে।
(১) ছহীহ সনদে নাসাঈ ও আহমাদ।
(২) আহমাদ, ইবনু খুযাইমা (১/৬৯/১) হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী এতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।
(৪) মুসলিম ও তিরমিযী, এটি ও তার সাথে পরবর্তী হাদীছটি < الإرواء > গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩৪৫)
(৫) মুসলিম ও আবূ দাউদ।
(৬) ছহীহ সনদে আবু দাউদ ও বাইহাকী, স্পষ্টতঃ যা বুঝা যায় তা এই যে, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ কাজটি ইচ্ছাকৃতই ছিল-বিধান প্রবর্তনের লক্ষ্যে।
(৭) আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ (১/৬৯/২) ইবnu বিশরান < الأمالي > তে ও ইবনু আবী শাইবাহ (১২/১৭৬/১), হাকিম একে ছহীহ বলেছেন এবং যাহাবী এতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(৮) ছহীহ সনদে আবূ দাউদ ও আহমাদ।
(১) বুখারী ও মুসলিম।
(২) উত্তম সনদে ন Nasa'i, আহমাদ ও বায্যার। এটা হচ্ছে পরবর্তীকালের শেষ সিদ্ধান্ত যা ) تمام المنة ( )১৮৫) ও অন্যান্য কিতাবে উল্লেখিত বক্তব্যের বিপরীত। বিষয়টি যেন উপলব্ধি করা হয়।
(৩) ছহীহ সনদে আহমাদ।
(৪) মূসা (আলাইহিস্সালাম)-এর উল্লেখ আল্লাহর এই আয়াতে রয়েছে: সুম্মা আরসালনা- মূসা- অ আখাহু হা-রূনা বিআ-ইয়া-তিনা- অ সুলত্বা-নিম মুবীন ) আর ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর উল্লেখ এ থেকে চার আয়াত পরের আয়াতে রয়েছে যা হচ্ছে : অ জা'আলনাবনা মারইয়ামা অ উম্মাহু আ-ইয়াতাঁও অ আ-ওয়াইনা-হুমা- ইলা- রাবওয়াতিন যা-তি ক্বারা-রিওঁ অ ম'ঈন )
(৫) বুখারী মুআল্লাকভাবে (সনদছিন্নভাবে) ও মুসলিম, এটি <الإرواء> তে উদ্ধৃত হয়েছে। (৩৯৭)
(৬) আহমাদ, আবূ ইয়ালা- উভয়েই স্বীয় মুসনদদ্বয়ে এবং মাকুদিসী المختارة<। তে।
(৭) বুখারী ও মুসলিম।
(৮) বুখারী ও মুসলিম।
📄 ফজরের সুন্নাতে ক্বিরা‘আত
ফজরের দু'রাক'আত সুন্নত ছালাতে তাঁর কিরা'আত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ছিল। (১) এমনকি 'আয়শা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সন্দেহমূলকভাবে বলতেন যে, তিনি কি আদৌ সূরা ফাতিহা পড়েছেন? (২) তিনি কখনো ফাতিহার পর প্রথম রাক্'আতে (২ঃ১৩৬) আয়াত তথাঃ ﴾ قُولُوا أَمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا﴿ এর শেষ পর্যন্ত পড়তেন।
এবং দ্বিতীয় রাক্'আতে (৩ঃ৬৪) আয়াত তথাঃ قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ ﴾ এর শেষ পর্যন্ত পড়তেন। (৩)
আবার কখনো এর (৩: ৬৪) পরিবর্তে (২৩: ৫২) তথা এই আয়াত ) فَلَمَّا أَحَسٌ عِيْسَى مِنْهُمُ الْكُفَرَ﴿ এর শেষ পর্যন্ত পড়তেন। (৪) কখনো প্রথম রাক'আতে﴾ قل يَا أَيُّهَا العَكَافِرُونَ﴿ )১০৯:৬) ও দ্বিতীয় রাক্'আতে﴾ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ Face পড়তেন। (৫)
তিনি বলতেন: বড়ই ভাল সূরা দু'টি। (৬)
একবার তিনি এক ব্যক্তিকে প্রথম রাক'আতে প্রথম সূরাটি অর্থাৎ কাফিরুন পড়তে শুনে বললেন এ বান্দাটি স্বীয় রবের প্রতি ঈমান আনতে পেরেছে অতঃপর দ্বিতীয় রাক্'আতে দ্বিতীয় সূরা (ইখলাছ) পড়লে তিনি বললেন: এই বান্দাটি স্বীয় রবকে চিনতে পেরেছে। (৭)
টিকাঃ
(১) ছহীহ সনদে আহমাদ।
(২) বুখারী ও মুসলিম।
(৩) মুসলিম, ইবনু খুযাইমাহ ও হাকিম।
(৪) মুসলিম ও আবূ দাউদ।
(৫) মুসলিম ও আবূ দাউদ।
(৬) ইবনু মাজাহ ও ইবনু খুযাইমাহ।
(৭) তাহাভী, ইবনু হিব্বান স্বীয় صحيح গ্রন্থে, ইবনু বিশরান, হাফিয ইবনু হাজার একে والأحاديث العاليات গ্রন্থে (হাদীছ নং ১৬) হাসান বলেছেন।
📄 যহরের ছালাত
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যহরের প্রথম দু'রাক'আতে সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন এবং সেই সাথে দু'টি সূরাও পড়তেন। দ্বিতীয় রাক্'আত অপেক্ষা প্রথম রাক্'আত দীর্ঘ করতেন। (১)
কখনো তিনি এ রাক্'আতটিকে এত দীর্ঘ করতেন যে, দীর্ঘায়িত করার ফলে ছালাত শুরু হওয়ার পর কোন ব্যক্তি বাকী' নামক স্থানে গিয়ে তার প্রয়োজন (শৌচকার্য) সেরে বাড়ি এসে উযূ করে উপস্থিত হয়েও তাঁকে প্রথম রাক'আতে পেত। (২)
ছাহabagan ধারণা করতেন যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এমন করার পিছনে এই উদ্দেশ্য ছিল যে, লোকেরা যেন প্রথম রাক'আত পেয়ে যায়। (৩) তিনি প্রথম দুই রাক'আতে ত্রিশ আয়াত পরিমাণ পাঠ করতেন। সূরা আলিফ লাম-তানযীল 'সাজদাহ' (২২ঃ৩০) এর সমপরিমাণ, এর ভিতর সূরা ফাতিহাও রয়েছে। (৪)
তিনি কখনো সূরা "ওয়াস্সামাই অতত্বারিকু” বা “ওয়াস্ সামাই যা-তিল বুরুজ” কিংবা “ওয়াল্ লাইলি ইযা ইয়াশা” বা এ জাতীয় অন্য কোন সূরা পাঠ করতেন। (৫) তিনি কখনো 'ইযাস্ সামা-উন শাককাত' বা এজাতীয় সূরাও পাঠ করতেন। (৬) ছাহাবাগণ যহর এবং আছরে তাঁর কিরাআত পাঠ অনুভব করতেন দাড়ির নড়াচড়া দেখে। (৭)
টিকাঃ
(১) বুখারী ও মুসলিম।
(২) মুসলিম ও বুখারী »জুযউল ক্বিরা'আত« গ্রন্থ।
(৩) ছহীহ সনদে আবু দাউদ ও ইবনু খুযাইমাহ (১/১৬৫/১)।
(৪) আহমাদ ও মুসলিম।
(৫) আবূ দাউদ, তিরমিযী এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন, অনুরূপভাবে ইবনু খুযাইমাহ্ (১/৬৭/২)।
(৬) ইবনু খুযাইমাহ স্বীয় صحیح গ্রন্থে (১/৬৭/২)।
(৭) বুখারী ও আবূ দাউদ।
📄 শেষের দু’ই রাক্‘আতে ফাতিহার পর নবী (ﷺ) কর্তৃক বিভিন্ন আয়াত পাঠের বর্ণনা
তিনি শেষ দু'রাক'আতকে প্রথম দু'রাক'আত অপেক্ষা সংক্ষেপ করতেন তথা অর্ধেকের পরিমাণ যা পনের আয়াতের মত হয়। (১) আবার কখনো তিনি এ দু'রাক্'আতে শুধু ফাতিহাই পড়তেন। (২)
টিকাঃ
(১) আহমাদ ও মুসলিম। এ হাদীছে শেষ দু'রাক্'আতে ফাতিহার অতিরিক্ত কিরা'আত পাঠ সুন্নতসম্মত হওয়ার দলীল রয়েছে। এ কথার পক্ষে একদল ছাহাবা রয়েছেন তন্মধ্যে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রয়েছেন, ইমাম শাফি'ঈর এটাই বক্তব্য চাই তা যহরের ছালাতে হোক আর অন্য কোন ছলাতে হোক। আমাদের পরবর্তী উলামাদের মধ্যে এই মত গ্রহণ করেন আবুল হাসানাত লাক্ষ্ণোভী :التعليق الممجد على موطا محمد গ্রন্থে (১০২ পৃষ্ঠা)
তিনি বলেন: আমাদের কিছু সাথী আজগুবী কাজ করেছেন, তারা শেষ দুই রাক্'আতে ক্বিরা'আত পাঠের উপর সাহু-সাজদা ওয়াজিব করে দিয়েছেন। المنية কিতাবের ব্যাখ্যাতাগণ এর সুন্দর প্রতিবাদ করেছেন। যথা ইবরাহীম হালবী, ইবনু আমীর আল হাজ্জ ও অন্যান্যগণ। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা এ কথার প্রবক্তা তাদের নিকট হাদীছ পৌঁছেনি। যদি তাদের নিকট হাদীছ পৌঁছত তবে অবশ্যই তারা এ কথা বলতেন না।
(২) বুখারী ও মুসলিম।