📄 ফরয ও নফল ছালাতে সরবে ও নীরবে ক্বিরা‘আত পাঠ প্রসঙ্গ
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের ছালাত এবং মাগরিব ও ইশার ছালাতের প্রথম দুই রাক'আতে সরবে ক্বিরা'আত পড়তেন এবং যুহর, আছর, মাগরিবের তৃতীয় রাক্'আতে ও ইশা'র শেষ দু'রাক্'আতে নীরবে কিরা'আত পড়তেন। (১)
ছাহাবাগণ নীরব ক্বিরা'আত বিশিষ্ট ছালাতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ির নড়াচড়া (২) দেখে আবার কখনো তাঁর দ্বারা তাদেরকে আয়াত বিশেষ শুনানোর মাধ্যমে তাঁর কুরআন পাঠের প্রমাণ পেতেন। (৩) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমু'আ, দুই ঈদ (৪) ইসতিসক্কা (পানি চাওয়া) (৫) ও সূর্য গ্রহণের (৬) ছালাতেও সরবে ক্বিরা'আত পাঠ করতেন।
টিকাঃ
(১) এ বিষয়ে অনেক বিশুদ্ধ হাদীছ থাকার সাথে সাথে এর উপর মুসলিম সম্প্রদায়ের ইজমাও হয়েছে যা পূর্ববর্তীদের থেকে পরবর্তীদের দ্বারা সংকলিত হয়েছে। যেমনটি বলেছেন ইমাম নববী। অচিরেই এর কিছু পরবর্তীতে আসছে। আরো দেখুন- الإرواء )৩৪৫)
(২) বুখারী ও আবূ দাউদ।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।
(৪) দেখুন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিরা'আত (صلاة 3 صلاة الجمعة العيدين) অধ্যায়ে।
(৫) বুখারী ও আবু দাউদ।
(৬) বুখারী ও মুসলিম।
📄 রাতের নফল ছালাতে সরবে ও নীরবে ক্বিরা‘আত পাঠ
তিনি রাতের ছালাতে কখনো নীরবে এবং কখনো সরবে (৮) কিরা'আত পড়তেন। তিনি ঘরে ছালাত আদায় কালে হুজরায় অবস্থিত লোক তাঁর কিরা'আত শুনতে পেত (৯)। আর কখনো স্বীয় শব্দকে আরো উঁচু করতেন ফলে হুজরার বাহিরে অবস্থানরত লোকও তা শুনতে পেত। (১০)
তিনি আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-কে এরই (এভাবে পড়ারই) আদেশ প্রদান করেছেন। আর তা ঐ সময় আদেশ দিয়েছিলেন যখন তিনি এক রাত্রে বাহির হয়ে শুনতে পেলেন, আবু বকর নিচুস্বরে ছালাত পড়ছেন, আবার উমরের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে শুনতে পেলেন, তিনি উচ্চৈঃস্বরে ছালাত পড়ছেন। অতঃপর তারা উভয়ে যখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট একত্রিত হলেন তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে আবু বকর! আমি তোমার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম তখন তুমি নিম্নস্বরে ছালাত পড়ছিলে? তিনি জবাব দিলেন- হে আল্লাহর রাসূল, আমি যার সাথে কানা-কানি করেছি তাঁকে শুনিয়েছি। 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন: আমি (আজ রাত্রে) তোমার নিকট দিয়ে অতিক্রম করি তখন তুমি উচ্চৈঃস্বরে ছালাত পড়ছিলে? তিনি বললেন- হে আল্লাহর রাসূল, আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন লোকদের জাগাই এবং শয়তানকে তাড়াই। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : হে আবু বকর! তোমার স্বর একটু উঁচু করবে, আর উমরকে বললেন: হে উমার! তোমার স্বর একটু নিচু কর। (১) তিনি বলতেন- প্রকাশ্যে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে ছাদকা দাতার সমতুল্য, আর নীরবে কুরআন পাঠকারী গোপনে ছাদকাদাতার সমতুল্য। (২)
টিকাঃ
(৭) আব্দুল হক التهجد কিতাবে (৯০/১) বলেন: দিনের বেলার নফল ছালাতের ক্ষেত্রে নীরবে বা সরবে পড়ার কোন বিশুদ্ধ হাদীছ নেই তবে স্পষ্টত এটাই বুঝা যাচ্ছে যে, তিনি নীরবেই পড়তেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন হুযাইফার নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন এমতাবস্থায় তিনি সরব কির'আত দ্বারা ছালাত পড়ছিলেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন- হে আব্দুল্লাহ! তুমি আল্লাহকে শুনাও, আমাদেরকে না। কিন্তু এ হাদীছটি শক্তিশালী নয়।
(৮) বুখারী أفعال العباد কিতাবে ও মুসলিম।
(৯) আবূ দাউদ, তিরমিযী, হাসান সনদে الشمائل গ্রন্থে। আল হুজরাহ বলতে এখানে বাড়ীর দ্বার প্রান্তে তার সংশ্লিষ্ট ঘরসমূহের একটি ঘর বুঝানো হয়েছে। হাদীছের মর্ম হচ্ছে এই যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উচ্চস্বর এবং গোপন স্বরের মাঝামাঝি পন্থা অবলম্বন করতেন।
(১০) নাসাঈ, তিরমিযী الشمائل গ্রন্থে এবং বাইহাকী দালা-ইল গ্রন্থে হাসান সনদে।
(১) আবূ দাউদ, হাকিম, তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন।
(২) তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু হিব্বান ও হাকিম, তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে একমত পোষণ করেছেন।