📄 সূরা ফাতিহা পাঠের পর রাসূল (ﷺ) এর ক্বিরা‘আত
তিনি সূরা ফাতিহা পাঠান্তে অপর একটি সূরা পাঠ করতেন। কখনও তিনি ক্বিরা'আত দীর্ঘ করতেন আবার কখনও কারণ বশত সংক্ষিপ্ত করতেন। যেমন সফর, কাশি, রোগ অথবা (ছালাতে উপস্থিত মহিলার) শিশুর কান্নার কারণে। আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা ফজরের ছালাত সংক্ষেপ (৩) করলেন। অপর এক হাদীছে আছে: তিনি ফজরের ছালাতে কুরআনের সর্বাপেক্ষা সংক্ষিপ্ত দু'টি সূরা পাঠ করলেন, জিজ্ঞাসা করা হল- হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন এরূপ সংক্ষেপ করলেন? প্রতি উত্তরে তিনি বললেন: আমি একটি শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে অনুমান করলাম যে, তার মা হয়ত আমাদের সাথে ছালাত পড়ছে, এজন্য শিশুটির মাকে তার জন্য অবসর দেয়ার ইচ্ছায় এরূপ করলাম। (১) তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: আমি ছালাতে প্রবেশকালে তাকে দীর্ঘ করার ইচ্ছা রাখি, অতঃপর শিশুর কান্না শুনে সংক্ষিপ্ত করে ফেলি। কেননা আমি তার প্রতি মায়ের গভীর উদ্বিগ্নতার কথা জানি। (২) তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূরার প্রথম থেকে ক্বিরা'আত শুরু করতেন এবং অধিকাংশ সময়ে তা পূর্ণ করতেন। (৩) তিনি বলতেন: রুকু ও সাজদার পূর্বে প্রত্যেক সূরাকে তার অংশ (পূর্ণাঙ্গতা) দাও (অর্থাৎ শেষ করো)। (৪) অপর শব্দে আছে; প্রত্যেক সূরার জন্য রাকা'আত রয়েছে। (৫) কখনো তিনি এক সূরাকে দুই রাক'আতে ভাগ করে পড়তেন। (৬) আবার কখনো এক সূরাকেই দ্বিতীয় রাক'আতে পুনরাবৃত্তি করতেন। (৭)
কখনো তিনি একই রাক'আতে দুই বা ততোধিক সূরা পাঠ করতেন। (৮) জনৈক আনছারী ছাহাবী কুবা মসজিদে তাদের (কুবাবাসীদের) ইমামত করতেন। তিনি কিরা'আত পাঠের (৯) পূর্বে ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ )ইখলাছ) সূরাটি পাঠ করতেন। অতঃপর তার সাথে অপর আরেকটি সূরা পাঠ করতেন। প্রত্যেক রাক'আতে এরূপ করতেন। ছাহাবাগণ এই নিয়ে তাঁর সাথে কথা বললেন যে, আপনি সূরা ইখলাছ দ্বারা কিরা'আত শুরু করেন অতঃপর যথেষ্ট মনে না করে অপর আরেকটি সূরা পাঠ করেন। (বরং) হয় আপনি সূরা ইখলাছই পড়বেন আর না হয় এ ছাড়া অন্য সূরা পাঠ করবেন। তিনি বললেন: আমি তা ছাড়তে পারবনা। এই সূরাসহ (ছালাত পড়ানো) যদি তোমাদের ভাল লাগে তবে আমি তোমাদের ইমামত করতে পারি, আর যদি তোমাদের খারাপ লাগে তবে আমি তোমাদের থেকে বিদায় গ্রহণ করব। বস্তুতঃ তাদের দৃষ্টিতে ওদের মধ্যে এই ছাহাবীই সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন। তাই তিনি ছাড়া অন্য কেউ তাঁদের ইমাম হওয়াকে তাঁরা অপছন্দ করতেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের কাছে আগমন করলে তাঁরা বিষয়টি খুলে বললেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে অমুক ব্যক্তি! তোমার সাথীদের নির্দেশ মানতে তোমার বাধা কী? এবং প্রত্যেক রাক'আতে তোমাকে এই সূরা পড়তে কোন্ জিনিসটি উদ্বুদ্ধ করেছে? তিনি উত্তরে বললেন : আমি সূরাটিকে ভালবাসি। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : ঐ সূরাটির ভালবাসা তোমাকে জান্নাতী বানিয়ে দিয়েছে। (১)
টিকাঃ
(৩) এখানে জাওয়্যায শব্দটি হালকা করলেন, এ হাদীছ ও এর অর্থবহ হাদীছগুলো শিশুদেরকে মসজিদে নিয়ে আসার বৈধতার প্রমাণ বহন করে। পক্ষান্তরে সচরাচর মানুষের মুখে যে হাদীছ শুনা যায় জান্নিবূ- মাসা-জ্বিদাকুম সিব্ইয়া-নাকুম « অর্থঃ তোমরা তোমাদের শিশুদেরকে মসজিদ থেকে দূরে রাখ। এ হাদীছটি দূর্বল বা অশুদ্ধ। সবার ঐকমত্যে এটা প্রমাণ যোগ্য নয়। যারা একে যঈফ বলেছেন তাদের মধ্যে আছেন ইবনুল জাউযী, আল মুনযিরী, আল হাইসামী, হাফিয ইবনু হাজার আল-আসকালানী, আল-বৃসিরী। আব্দুল হক আর-ইশবিলী বলেন- এর কোন ভিত্তি নেই।
(১) বিশুদ্ধ সনদে আহমাদ, অপর হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী দাউদ المصاحف , “আল-মাছহিফ” গ্রন্থে (৪/১৪/২)।
(২) বুখারী ও মুসলিম।
(৩) এর উপর অনেক হাদীছ প্রমাণ বহন করে যেগুলো পরবর্তীতে আসবে।
(৪) ইবনু আবী শাইবাহ (১/১০০/১) আহমাদ, আব্দুল গানী আল মাকদিসী, বিশুদ্ধ সনদে-সুনান السنن গ্রন্থে (৯/২)।
(৫) বিশুদ্ধ সনদে ইবনু নছর ও তাহাবী। আমার (আলবানীর) নিকট হাদীছের অর্থ হচ্ছে- প্রত্যেক রাক'আতে একটি সূরা পাঠ করা যাতে রাক'আতের পূর্ণ হক্ব আদায় হয়। এখানে আদেশ দ্বারা শ্রেয়মূলক আদেশ উদ্দেশ্য, অনিবার্যমূলক নয়। অর্থাৎ এরূপ করাই শ্রেয়। যার প্রমাণ পরবর্তীতে আসছে।
(৬) আহমাদ ও আবু 'ইয়ালা দুটি সূত্রে। "ফজরের ছালাতে কিরাত" অধ্যায় দ্রষ্টব্য।
(৭) যেমনটি করেছিলেন ফজরের ছলাতে, আর তা অনতি দূরেই আসছে।
(৮) এর ব্যাখ্যা ও উদ্ধৃতি অনতি দূরেই আসছে।
(৯) অর্থাৎ ফাতেহা পাঠের পর যে সূরাটি পাঠ করতে চাইতেন তার পূর্বে।
(১) বুখারী সনদ বিহীনভাবে, তিরমিযী অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণনা করে একে ছহীহ বলেছেন।
📄 নবী (ﷺ) কর্তৃক এক রাক্‘আতে সমাবোধক ও অন্য সূরার সংযুক্তি করণ
নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমার্থবোধক (২) লম্বা (মুফাসসাল) সূরাগুলো একত্রিত করতেন যেমন তিনি এক রাক'আতে সূরা 'আর-রহমান' (৫৫ঃ৭৮) (৩) ও "আন্নাজম" (৫৩ঃ৬২) পড়তেন এবং ইকুতারাবাত (৫৪:৫৫) ও "আল্হা-ক্কাহ” (৬৯:৫২) অপর রাক্'আতে পড়তেন। সূরা "আত্-তুর" (৫২:৪৯) ও "আয-যারিয়াত” (৫১:৬০) এক রাক'আতে পড়তেন এবং সূরা "ইযা অক্বাআত” (৫৬:৯৬) ও "নূন” (৬৮:৫২) অপর রাক্'আতে পড়তেন। সূরা "সাআলা সায়িল" (৭০:৪৪) ও "আন্-নাযিআত” (৭৯:৪৬) এক রাক্'আতে পড়তেন এবং সূরা "ওয়াইলুল্লিল্লল্ মুতাফফিফীন” (৮৩ঃ৩৬) ও "আবাসা” (৮০:৪২) অপর রাক'আতে পড়তেন। সূরা "মুদ্দাস্সির” (৭৪ঃ৫৬) ও "আল-মুয্যাম্মিল” (৭৩ঃ২০) এক রাক'আতে পড়তেন এবং সূরা "হাল আতা” অর্থাৎ সূরা ইনসান (৭৬ঃ৩১) ও "লা-উকুসিমু বিইয়াউমিল কিয়ামাহ" (৭৫:৪০) অপর রাক্'আতে পড়তেন। আবার "আম্মা ইয়াতাসা-আলুন" (৭৮ঃ৪০) ও "আল মুরসালা-ত" (৭৭:৫০) এক রাক্'আতে পড়তেন এবং "আদ্দুখান” (৪৪:৫৯) ও "ইজাশ্ শামসু কুম্ভীরাত” (৮১ঃ২৯) অপর রাক্ আতে পড়তেন। (৪)
কখনো তিনি (السبع الطوال ) সাতটি লম্বা সূরা থেকে একাধিক সূরা একত্রিত করতেন। যেমন সূরা "বাক্বারা", "নিসা" ও "আলু-ইমরান"-কে রাত্রের নফল ছালাতের এক রাক'আতে পাঠ করতেন, যার বর্ণনা অচিরেই আসছে। তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন : আফজালুস সলা-তি তূলুল ক্বিয়া-মি অর্থঃ সর্বোত্তম ছালাত হচ্ছে দীর্ঘ কিয়াম বিশিষ্ট ছালাত। (১)
তিনি যখন লায়সা যা-লিকা বিক্বা-দিরিন 'আলা- আন ইউহ্ইয়াল মাওতা- মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম নন? এই আয়াত পড়তেন তখন বলতেন- সুবহানাকা ফাবালা অর্থঃ আমি তোমার পবিত্রতা জ্ঞান পূর্বক বলছি, হ্যাঁ। আর যখন পড়তেন- সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা- অর্থঃ তুমি স্বীয় প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা জ্ঞাপন কর তখন বলতেন : সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা- অর্থাৎ- হে আমার মহান প্রতিপালক! আমি তোমার পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি। (২)
টিকাঃ
(২) তথা অর্থগতভাবে এক অপরের সাদৃশ্যপূর্ণ। যেমন উপদেশ বিধান ও কাহিনী ইত্যাদি। আল মুফাস্সাল। দীর্ঘ সূরার শেষ সীমা সবার ঐকমত্যে কুরআনের শেষ পর্যন্ত এবং এর শুরু সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতানুযায়ী সূরা "কাফ" থেকে।
(৩) প্রথম সংখ্যাটি সূরার ক্রমিক নং এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি হচ্ছে- আয়াতের সংখ্যা। প্রথম সংখ্যাটি আমাদের জন্য স্পষ্ট করছে যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ সূরাগুলো একত্রে পাঠকালে কুরআনে এগুলোর যে ধারাবাহিকতা রয়েছে সেদিকে নযর দেননি। সুতরাং এর দ্বারা ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ণ করার বৈধতা প্রমাণিত হল। "রাত্রিকালীন (নফল) ছালাতে কির'আতের ব্যাপারও তাই যা অচিরেই আসছে। তবে ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করাই উত্তম।
(৪) বুখারী ও মুসলিম।
(১) মুসলিম ও ত্বাহাবী।
(২) ছহীহ সনদে আবু দাউদ ও বাইহাক্বী। এ নিয়মটি উন্মুক্ত তাই ছালাতের ভিতর ও বাহির উভয় অবস্থা এবং ফরয ও নফল উভয় ছালাত এর অন্তর্ভুক্ত হবে। ইবনু আবী শাইবাহ (২/১৩২/২) আবু মূসা আশ'য়ারী ও মুগীরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা উভয়ে এগুলো ফরয ছালাতে বলতেন। পক্ষান্তরে উমার ও আলী (রাঃ) থেকে উন্মুক্তরূপে তা উদ্ধৃত হয়েছে।
📄 শুধু সূরা ফাতিহা পড়ার উপর ক্ষান্ত হওয়া বৈধ
মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এশার ছালাত পড়তেন অতঃপর ফিরে গিয়ে স্বীয় সাথীদেরকে নিয়ে ছালাত আদায় করতেন। তিনি এক রাত্রে ফিরে গিয়ে তাদেরকে নিয়ে ছালাত পড়ছিলেন। তাঁর গোত্র বনু সালামার "সুলাইম" নামক একটি যুবকও (তার পিছনে) ছালাত পড়ছিল। যখন তার পক্ষে ছালাত দীর্ঘ বিবেচিত হল তখন সে জামা'আত ত্যাগ করে একাকী মসজিদের এক কিনারে ছালাত পড়ে বেরিয়ে গিয়ে স্বীয় উটের লাগাম ধরে চলে যায়। ছালাত শেষে মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে এ সংবাদ দেয়া হল। তিনি বলে ফেললেন: এর মধ্যে মুনাফিক্বী রয়েছে। অবশ্যই আমি এই আচরণ সম্পর্কে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অবহিত করব। যুবকটি বলল: আমিও মুয়াযের কৃতকর্মের কথা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জানাব। পরদিন সকাল বেলা দুজনই রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হাযির হলেন। মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যুবকটির ঘটনা তাঁকে জানালেন। যুবক বলল: হে আল্লাহর রাসূল, মুয়ায আপনার নিকট অনেকক্ষণ অবস্থান করে অতঃপর আমাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করে আবার আমাদের প্রতি (ছালাত) দীর্ঘ করে। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে মুয়ায তুমি কি ফিৎনাবাজ? এই বলে তিনি যুবকটিকে জিজ্ঞেস করলেন: হে ভাতিজা! তুমি কিভাবে ছালাত আদায় কর? সে বলল: আমি সূরা ফাতিহা পড়ি এবং আল্লাহর নিকট জান্নাত কামনা করি ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই। তবে আমি আপনার ও মুয়াযের মৃদু শব্দের কথা (দু'আ কালাম) পরিষ্কারভাবে বুঝি না(১) রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আমি ও মুয়াযও এই দুই এর (জান্নাত চাওয়া ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার দু'আর) আশে পাশেই আছি অথবা এ ধরনের অন্য কোন কথা বললেন। বর্ণনাকারী বলেন: যুবকটি বলল: তবে শীঘ্রই মুয়ায তখন বুঝবে যখন শত্রু সম্প্রদায় আসবে। আর ইতিমধ্যে তাদেরকে শত্রু আগমনের সংবাদ জানানো হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন- অতঃপর তাঁরা এসে পড়ল এবং যুবকটি (যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে) শহীদ হয়ে গেল।
পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করলেন: "আমার ও তোমার প্রতিপক্ষটির (যুবকটির) কী খবর?” তিনি বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! সে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকারকে সত্য প্রতিপন্ন করেছে, আমিই বরং মিথ্যা সেজেছি, সে শাহাদৎ বরণ করেছে। (২)
টিকাঃ
(১) এখানে দানদানাহ শব্দের অর্থঃ কোন ব্যক্তির এমনভাবে কথা বলা যে, তার গুণগুণ শব্দ শুনা যায় কিন্তু কথা বুঝা যায় না ইহা হাইমানাহ শব্দ অপেক্ষা একটু উঁচু স্বর বুঝায়। (নিহায়াহ)
(২) ইবনু খুযাইমাহ স্বীয় ছহীহ গ্রন্থে (১৬৩৪) এবং বাইহাকী, উত্তম সনদে, প্রমাণযোগ্য অংশটুকু আবু দাউদে (৭৫৮ ছহীহ আবু দাউদ)। ঘটনার মূল অংশটুকু বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে। প্রথম বর্ধিত অংশটুকু মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় রয়েছে, দ্বিতীয় বর্ধিত অংশটুকু মুসনাদে আহমাদে (৫/৭৪) তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ধিত অংশটুকু বুখারীতে রয়েছে। এই অধ্যায়ে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু'রাক'আত ছালাত আদায় করলেন তাতে সূরা ফাতিহা ছাড়া অন্যকিছু পাঠ করেননি। আহমাদ (১/২৮২), হারিছ বিন আবী উসামা স্বীয় মুসনাদে (পৃষ্ঠা ৩৮ যাওয়াইদ) ও বাইহাকী (২/৬২) বর্ণনা করেছেন দুর্বল সনদে। আমি পূর্ববর্তী মুদ্রণগুলোতে এ হাদীছটিকে হাসান বলেছিলাম। অতঃপর আমার নিকট পরিস্ফুটিত হয়েছে যে, আমি ধারণা প্রসূতভাবে তা করেছি, কেননা এর ভিত্তি হচ্ছে হানযালা আদদাউসীর উপর, আর সে হচ্ছে দুর্বল। আমি বুঝতে পারছিনা, কিভাবে এ ব্যাপারটি আমার নিকট গোপন থেকে গেল! সম্ভবতঃ আমি তাকে অন্য লোক মনে করেছিলাম। মোট কথা আল্লাহর জন্য সব প্রশংসা যে, তিনি আমাকে নিজের ভুল ধরতে পারার পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। এজন্যই আমি তাড়াতাড়ি করে কিতাব থেকে এটি বাদ দিয়েছি। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আমাকে উত্তম বিকল্প বের করে দেন যা হলো মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু =আনহু)-এর এই হাদীছ। এটি ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীছের সমার্থবোধক। সুতরাং সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যার নিয়ামতে পুণ্য কার্যাদি সম্পন্ন হয়।
📄 ফরয ও নফল ছালাতে সরবে ও নীরবে ক্বিরা‘আত পাঠ প্রসঙ্গ
নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের ছালাত এবং মাগরিব ও ইশার ছালাতের প্রথম দুই রাক'আতে সরবে ক্বিরা'আত পড়তেন এবং যুহর, আছর, মাগরিবের তৃতীয় রাক্'আতে ও ইশা'র শেষ দু'রাক্'আতে নীরবে কিরা'আত পড়তেন। (১)
ছাহাবাগণ নীরব ক্বিরা'আত বিশিষ্ট ছালাতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ির নড়াচড়া (২) দেখে আবার কখনো তাঁর দ্বারা তাদেরকে আয়াত বিশেষ শুনানোর মাধ্যমে তাঁর কুরআন পাঠের প্রমাণ পেতেন। (৩) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমু'আ, দুই ঈদ (৪) ইসতিসক্কা (পানি চাওয়া) (৫) ও সূর্য গ্রহণের (৬) ছালাতেও সরবে ক্বিরা'আত পাঠ করতেন।
টিকাঃ
(১) এ বিষয়ে অনেক বিশুদ্ধ হাদীছ থাকার সাথে সাথে এর উপর মুসলিম সম্প্রদায়ের ইজমাও হয়েছে যা পূর্ববর্তীদের থেকে পরবর্তীদের দ্বারা সংকলিত হয়েছে। যেমনটি বলেছেন ইমাম নববী। অচিরেই এর কিছু পরবর্তীতে আসছে। আরো দেখুন- الإرواء )৩৪৫)
(২) বুখারী ও আবূ দাউদ।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।
(৪) দেখুন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিরা'আত (صلاة 3 صلاة الجمعة العيدين) অধ্যায়ে।
(৫) বুখারী ও আবু দাউদ।
(৬) বুখারী ও মুসলিম।