📄 নীরব ক্বিরা‘আত সম্পন্ন ছালাতে (মুত্তাদীর) ক্বিরা‘আত পড়া ফরয
নীরব ক্বিরাআত সম্পন্ন ছালাতে (মুক্তাদীর) ক্বিরাআত পড়াকে তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বহাল রেখেছেন। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন-
কুন্না- নাক্বরাউ ফিয যুহরি অল 'আসরি খালফাল ইমা-মি ফিররাক'আতাইনি উল্ইয়া-ইনি বিফা-তিহাতিল কিতা-বি অ সূরাতিন, অফিল উখরা-ইনি বিফা-তিহাতিল কিতা-বি )
আমরা যুহর এবং আছরের ছালাতে প্রথম দু'রাকাআতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা ও অপর একটি সূরা পাঠ করতাম এবং পরবর্তী দুই রাকাআতে শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করতাম। (২)
তিনি (যুহর ও আছরের ছালাতে) কেবল সরবে ক্বিরাআত পড়ে তাঁকে বিব্রত করতে নিষেধ করেছেন যেমন একদা তিনি যুহরের ছালাত ছাহাবাদেরকে নিয়ে আদায় করে বললেন: তোমাদের মধ্যে কে سَبْحَ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى পাঠ করেছে? এক ব্যক্তি বলল (হে আল্লাহ রাসূল) আমি, তবে আমি এর মাধ্যমে শুধু ভাল ছাড়া আর কিছুই ইচ্ছা করিনি। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি টের পেয়েছি যে এক ব্যক্তি ক্বিরাআত নিয়ে আমার সাথে টানাহেঁচড়া করছে। (৩)
অপর হাদীছে এসেছে: তাঁরা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিছনে সরবে ক্বিরাআত পড়তেন, তাই তিনি বললেন, তোমরা আমার সাথে কুরআনকে সংমিশ্রণ করে ফেলেছ। (৪) তিনি আরো বলেন: "ছালাত আদায়কারী স্বীয় প্রতিপালকের সাথে কানাকানি করে। তাই সে যেন চিন্তা করে কিসের দ্বারা তার সাথে কানাকানি করবে। তোমরা কুরআন পাঠকালে একে অপরের উপর শব্দ উঁচু করবে না। (১)
তিনি বলতেন : যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করে তার জন্য একটি ছওয়াব, আর প্রতিটি ছওয়াবের বিনিময় দশগুণ পাবে। আমি বলি না যে, একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর। (২)
টিকাঃ
(২) ছহীহ সনদে ইবনু মাজাহ। এটি إرواء তেও উদ্ধৃত হয়েছে (৫০৬)।
(৩) মুসলিম, আবু আওয়ানা ও আস্সারাজ। .আল খালজা শব্দের অর্থ টানা হেঁচড়া করা।
(৪) বুখারী স্বীয় জুয গ্রন্থে, আহমাদ ও আস্সারাজ, হাসান সনদে।
(১) মালিক, বুখারী আফআলুল ইবাদ গ্রন্থে ছহীহ সনদে।
ফায়েদাহ : স্বরব কিরা'আত বিশিষ্ট ছালাতে নয় বরং শুধু নীরব কিরা'আত বিশিষ্ট ছালাতে ইমামের পিছনে কিরা'আত পড়ার পক্ষে রয়েছেন ইমাম শাফি'ঈ পুরানো বক্তব্যে, ইমাম আবূ হানীফার শিষ্য ইমাম মুহাম্মদ তার থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়াত অনুসারে, আরো একে গ্রহণ করেছেন মোল্লা আলী কারী হানাফী এবং হানাফী মাযহাবের কিছু সংখ্যক মাশায়িখ। এটিই হলো ইমাম যুহরী, ইমাম মালিক, ইমাম ইবনুল মুবারক, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল সহ মুহাদ্দিছগণের এক দল ও অন্যান্যদের মত এবং ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ্ এ মতই গ্রহণ করেছেন।
(২) তিরমিযী, হাকিম ছহীহ সনদে আ-জুরী একে আদাবু হামালাতিল কুরআন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এটা আস-সহীহাহ তে উদ্ধৃত হয়েছে (৬৬০) পক্ষান্তরে যে হাদীছে বর্ণিত আছে মান ক্বারাআ খালফাল ইমা-মি মূল্লিআ ফূহু না-রা- অর্থ : যে ব্যক্তি ইমামের পিছনে কিরাত পাঠ করে তার মুখ অগ্নি দ্বারা ভরপুর করা হবে। এই হাদীছটি বানোয়াট জাল। এর বর্ণনা - সিলসিলাতুল আহাদীছ আদ-দয়ীফা তে রয়েছে (৫৬৯)।
📄 আমীন প্রসঙ্গ ও ইমামের শব্দ করে আমীন বলা
অতঃপর তিনি যখন ফাতিহা পাঠ শেষ করতেন তখন প্রকাশ্য ও দীর্ঘ স্বরে আমীন বলতেন। (৩)
তিনি মুক্তাদীদেরকে ইমামের আমীন বলার একটু পরেই (সাথে সাথে) আমীন বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন : ইমাম যখন বলেন : গাইরিল মাগযূবি 'আলাইহিম অলায যা-ল্লীন তখন তোমরা আমীন বলবে কেননা (তখন) ফিরিশতাগণ আমীন বলেন এবং ইমামও আমীন বলেন। অপর শব্দে ইমাম যখন আমীন বলেন তখন তোমরা আমীন বলবে কেননা যার আমীন ফিরিশতাদের আমীনের সাথে মিলে যাবে (অপর শব্দে : তোমাদের কেউ যখন ছালাতে আমীন বলে এবং ফিরিশতাগণ আসমানে আমীন বলেন, ফলে যদি একজনেরটা অপরজনের সাথে মিলে যায় তাহলে) তার পূর্বকৃত সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (৪) অপর হাদীছে বলেছেন : ফাকুলু- আ-মীন ইউহিব্বুকুমুল্লাহু তোমরা আমীন বলবে। আল্লাহ পাক তোমাদের দু'আ কবুল করবেন। (১) তিনি বলতেন: মা- হাসাদাতকুমুল ইয়াহূদু 'আলা- শাইয়িন মা- হাসাদাতকুম 'আলাছ ছালা-মি অত্তামীন )
ইয়াহুদরা তোমাদের সালাম ও (ইমামের পিছনে) আমীন বলার উপর যেরূপ বিদ্বেষ পোষণ করে অন্য কোন বিষয়ে এরূপ বিদ্বেষ পোষণ করে না। (২)
টিকাঃ
(৩) বুখারী জুযউল কিরাআতু খালফাল ইমাম, আবু দাউদ ছহীহ সনদে।
(৪) বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, দারিমী। অতিরিক্ত কথাগুলো শেষোক্ত দু'জনের। হাফিয ইবনু হাজর ফতহুল বারীতে আবু দাউদের কথাও উল্লেখ করেছেন কিন্তু তা তার ধারণা মাত্র। তবে হাদীছ দ্বারা ইমামের আমীন না বলার উপর প্রমাণ গ্রহণ করা বাত্বিল প্রতিপন্ন হচ্ছে। যেমন ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে। হাফিয ইবনু হাজার বলেন- এটা ইমামের আমীন বলার ব্যাপারে সুস্পষ্ট। আমি বলতে চাই, দ্বিতীয় শব্দটি এর সাক্ষ্য বহন করে। ইবনু আব্দিল বার التمهيد গ্রন্থে (৭/১৩) বলেন- এটি হচ্ছে অধিকাংশ মুসলিমদের বক্তব্য, তাদের মধ্যে মদিনাবাসীদের বর্ণনানুযায়ী ইমাম মালিকও একজন। কারণ এ বিষয়ে ছহীহ সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীছ এসেছে। একটি আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কর্তৃক (অর্থাৎ অত্র হাদীছ) ও অপরটি ওয়ায়েল বিন হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বর্ণিত অর্থাৎ এর পূর্বেরটি।
(১) মুসলিম ও আবূ 'আওয়ানাহ্।
(২) বুখারী "আল-আদাবুল মুফরাদ” গ্রন্থে, ইবনু মাজাহ, ইবনু খুযাইমাহ, আহমাদ ও আস্সাররাজ দুটি ছহীহ সনদে। ফায়েদাহ: মুক্তাদীদের "আমীন" বলা ইমামের বলার সাথে সাথে প্রকাশ্য শব্দে হবে।
ইমামের পূর্বে বলবেনা, যেমনটি অধিকাংশ মুছল্লী করে থাকে। আর ইমামের পরেও বলবে না। এ নিয়মই পরিশেষে আমার নিকট প্রাধান্যযোগ্য বলে প্রকাশ পেয়েছে। যেমনটি তদন্ত সাপেক্ষে সাব্যস্ত করেছি আমার কোন কোন গ্রন্থে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিলসিলা যাঈফাহ ৯৫২, ছহীহুত্ তারগীব অত্তারহীব ১ম খণ্ড ২০৫ পৃষ্ঠা।
📄 সূরা ফাতিহা পাঠের পর রাসূল (ﷺ) এর ক্বিরা‘আত
তিনি সূরা ফাতিহা পাঠান্তে অপর একটি সূরা পাঠ করতেন। কখনও তিনি ক্বিরা'আত দীর্ঘ করতেন আবার কখনও কারণ বশত সংক্ষিপ্ত করতেন। যেমন সফর, কাশি, রোগ অথবা (ছালাতে উপস্থিত মহিলার) শিশুর কান্নার কারণে। আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা ফজরের ছালাত সংক্ষেপ (৩) করলেন। অপর এক হাদীছে আছে: তিনি ফজরের ছালাতে কুরআনের সর্বাপেক্ষা সংক্ষিপ্ত দু'টি সূরা পাঠ করলেন, জিজ্ঞাসা করা হল- হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন এরূপ সংক্ষেপ করলেন? প্রতি উত্তরে তিনি বললেন: আমি একটি শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে অনুমান করলাম যে, তার মা হয়ত আমাদের সাথে ছালাত পড়ছে, এজন্য শিশুটির মাকে তার জন্য অবসর দেয়ার ইচ্ছায় এরূপ করলাম। (১) তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: আমি ছালাতে প্রবেশকালে তাকে দীর্ঘ করার ইচ্ছা রাখি, অতঃপর শিশুর কান্না শুনে সংক্ষিপ্ত করে ফেলি। কেননা আমি তার প্রতি মায়ের গভীর উদ্বিগ্নতার কথা জানি। (২) তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূরার প্রথম থেকে ক্বিরা'আত শুরু করতেন এবং অধিকাংশ সময়ে তা পূর্ণ করতেন। (৩) তিনি বলতেন: রুকু ও সাজদার পূর্বে প্রত্যেক সূরাকে তার অংশ (পূর্ণাঙ্গতা) দাও (অর্থাৎ শেষ করো)। (৪) অপর শব্দে আছে; প্রত্যেক সূরার জন্য রাকা'আত রয়েছে। (৫) কখনো তিনি এক সূরাকে দুই রাক'আতে ভাগ করে পড়তেন। (৬) আবার কখনো এক সূরাকেই দ্বিতীয় রাক'আতে পুনরাবৃত্তি করতেন। (৭)
কখনো তিনি একই রাক'আতে দুই বা ততোধিক সূরা পাঠ করতেন। (৮) জনৈক আনছারী ছাহাবী কুবা মসজিদে তাদের (কুবাবাসীদের) ইমামত করতেন। তিনি কিরা'আত পাঠের (৯) পূর্বে ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ )ইখলাছ) সূরাটি পাঠ করতেন। অতঃপর তার সাথে অপর আরেকটি সূরা পাঠ করতেন। প্রত্যেক রাক'আতে এরূপ করতেন। ছাহাবাগণ এই নিয়ে তাঁর সাথে কথা বললেন যে, আপনি সূরা ইখলাছ দ্বারা কিরা'আত শুরু করেন অতঃপর যথেষ্ট মনে না করে অপর আরেকটি সূরা পাঠ করেন। (বরং) হয় আপনি সূরা ইখলাছই পড়বেন আর না হয় এ ছাড়া অন্য সূরা পাঠ করবেন। তিনি বললেন: আমি তা ছাড়তে পারবনা। এই সূরাসহ (ছালাত পড়ানো) যদি তোমাদের ভাল লাগে তবে আমি তোমাদের ইমামত করতে পারি, আর যদি তোমাদের খারাপ লাগে তবে আমি তোমাদের থেকে বিদায় গ্রহণ করব। বস্তুতঃ তাদের দৃষ্টিতে ওদের মধ্যে এই ছাহাবীই সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন। তাই তিনি ছাড়া অন্য কেউ তাঁদের ইমাম হওয়াকে তাঁরা অপছন্দ করতেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের কাছে আগমন করলে তাঁরা বিষয়টি খুলে বললেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে অমুক ব্যক্তি! তোমার সাথীদের নির্দেশ মানতে তোমার বাধা কী? এবং প্রত্যেক রাক'আতে তোমাকে এই সূরা পড়তে কোন্ জিনিসটি উদ্বুদ্ধ করেছে? তিনি উত্তরে বললেন : আমি সূরাটিকে ভালবাসি। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : ঐ সূরাটির ভালবাসা তোমাকে জান্নাতী বানিয়ে দিয়েছে। (১)
টিকাঃ
(৩) এখানে জাওয়্যায শব্দটি হালকা করলেন, এ হাদীছ ও এর অর্থবহ হাদীছগুলো শিশুদেরকে মসজিদে নিয়ে আসার বৈধতার প্রমাণ বহন করে। পক্ষান্তরে সচরাচর মানুষের মুখে যে হাদীছ শুনা যায় জান্নিবূ- মাসা-জ্বিদাকুম সিব্ইয়া-নাকুম « অর্থঃ তোমরা তোমাদের শিশুদেরকে মসজিদ থেকে দূরে রাখ। এ হাদীছটি দূর্বল বা অশুদ্ধ। সবার ঐকমত্যে এটা প্রমাণ যোগ্য নয়। যারা একে যঈফ বলেছেন তাদের মধ্যে আছেন ইবনুল জাউযী, আল মুনযিরী, আল হাইসামী, হাফিয ইবনু হাজার আল-আসকালানী, আল-বৃসিরী। আব্দুল হক আর-ইশবিলী বলেন- এর কোন ভিত্তি নেই।
(১) বিশুদ্ধ সনদে আহমাদ, অপর হাদীছটি বর্ণনা করেছেন ইবনু আবী দাউদ المصاحف , “আল-মাছহিফ” গ্রন্থে (৪/১৪/২)।
(২) বুখারী ও মুসলিম।
(৩) এর উপর অনেক হাদীছ প্রমাণ বহন করে যেগুলো পরবর্তীতে আসবে।
(৪) ইবনু আবী শাইবাহ (১/১০০/১) আহমাদ, আব্দুল গানী আল মাকদিসী, বিশুদ্ধ সনদে-সুনান السنن গ্রন্থে (৯/২)।
(৫) বিশুদ্ধ সনদে ইবনু নছর ও তাহাবী। আমার (আলবানীর) নিকট হাদীছের অর্থ হচ্ছে- প্রত্যেক রাক'আতে একটি সূরা পাঠ করা যাতে রাক'আতের পূর্ণ হক্ব আদায় হয়। এখানে আদেশ দ্বারা শ্রেয়মূলক আদেশ উদ্দেশ্য, অনিবার্যমূলক নয়। অর্থাৎ এরূপ করাই শ্রেয়। যার প্রমাণ পরবর্তীতে আসছে।
(৬) আহমাদ ও আবু 'ইয়ালা দুটি সূত্রে। "ফজরের ছালাতে কিরাত" অধ্যায় দ্রষ্টব্য।
(৭) যেমনটি করেছিলেন ফজরের ছলাতে, আর তা অনতি দূরেই আসছে।
(৮) এর ব্যাখ্যা ও উদ্ধৃতি অনতি দূরেই আসছে।
(৯) অর্থাৎ ফাতেহা পাঠের পর যে সূরাটি পাঠ করতে চাইতেন তার পূর্বে।
(১) বুখারী সনদ বিহীনভাবে, তিরমিযী অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণনা করে একে ছহীহ বলেছেন।
📄 নবী (ﷺ) কর্তৃক এক রাক্‘আতে সমাবোধক ও অন্য সূরার সংযুক্তি করণ
নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমার্থবোধক (২) লম্বা (মুফাসসাল) সূরাগুলো একত্রিত করতেন যেমন তিনি এক রাক'আতে সূরা 'আর-রহমান' (৫৫ঃ৭৮) (৩) ও "আন্নাজম" (৫৩ঃ৬২) পড়তেন এবং ইকুতারাবাত (৫৪:৫৫) ও "আল্হা-ক্কাহ” (৬৯:৫২) অপর রাক্'আতে পড়তেন। সূরা "আত্-তুর" (৫২:৪৯) ও "আয-যারিয়াত” (৫১:৬০) এক রাক'আতে পড়তেন এবং সূরা "ইযা অক্বাআত” (৫৬:৯৬) ও "নূন” (৬৮:৫২) অপর রাক্'আতে পড়তেন। সূরা "সাআলা সায়িল" (৭০:৪৪) ও "আন্-নাযিআত” (৭৯:৪৬) এক রাক্'আতে পড়তেন এবং সূরা "ওয়াইলুল্লিল্লল্ মুতাফফিফীন” (৮৩ঃ৩৬) ও "আবাসা” (৮০:৪২) অপর রাক'আতে পড়তেন। সূরা "মুদ্দাস্সির” (৭৪ঃ৫৬) ও "আল-মুয্যাম্মিল” (৭৩ঃ২০) এক রাক'আতে পড়তেন এবং সূরা "হাল আতা” অর্থাৎ সূরা ইনসান (৭৬ঃ৩১) ও "লা-উকুসিমু বিইয়াউমিল কিয়ামাহ" (৭৫:৪০) অপর রাক্'আতে পড়তেন। আবার "আম্মা ইয়াতাসা-আলুন" (৭৮ঃ৪০) ও "আল মুরসালা-ত" (৭৭:৫০) এক রাক্'আতে পড়তেন এবং "আদ্দুখান” (৪৪:৫৯) ও "ইজাশ্ শামসু কুম্ভীরাত” (৮১ঃ২৯) অপর রাক্ আতে পড়তেন। (৪)
কখনো তিনি (السبع الطوال ) সাতটি লম্বা সূরা থেকে একাধিক সূরা একত্রিত করতেন। যেমন সূরা "বাক্বারা", "নিসা" ও "আলু-ইমরান"-কে রাত্রের নফল ছালাতের এক রাক'আতে পাঠ করতেন, যার বর্ণনা অচিরেই আসছে। তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন : আফজালুস সলা-তি তূলুল ক্বিয়া-মি অর্থঃ সর্বোত্তম ছালাত হচ্ছে দীর্ঘ কিয়াম বিশিষ্ট ছালাত। (১)
তিনি যখন লায়সা যা-লিকা বিক্বা-দিরিন 'আলা- আন ইউহ্ইয়াল মাওতা- মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম নন? এই আয়াত পড়তেন তখন বলতেন- সুবহানাকা ফাবালা অর্থঃ আমি তোমার পবিত্রতা জ্ঞান পূর্বক বলছি, হ্যাঁ। আর যখন পড়তেন- সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা- অর্থঃ তুমি স্বীয় প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা জ্ঞাপন কর তখন বলতেন : সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা- অর্থাৎ- হে আমার মহান প্রতিপালক! আমি তোমার পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি। (২)
টিকাঃ
(২) তথা অর্থগতভাবে এক অপরের সাদৃশ্যপূর্ণ। যেমন উপদেশ বিধান ও কাহিনী ইত্যাদি। আল মুফাস্সাল। দীর্ঘ সূরার শেষ সীমা সবার ঐকমত্যে কুরআনের শেষ পর্যন্ত এবং এর শুরু সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতানুযায়ী সূরা "কাফ" থেকে।
(৩) প্রথম সংখ্যাটি সূরার ক্রমিক নং এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি হচ্ছে- আয়াতের সংখ্যা। প্রথম সংখ্যাটি আমাদের জন্য স্পষ্ট করছে যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ সূরাগুলো একত্রে পাঠকালে কুরআনে এগুলোর যে ধারাবাহিকতা রয়েছে সেদিকে নযর দেননি। সুতরাং এর দ্বারা ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ণ করার বৈধতা প্রমাণিত হল। "রাত্রিকালীন (নফল) ছালাতে কির'আতের ব্যাপারও তাই যা অচিরেই আসছে। তবে ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করাই উত্তম।
(৪) বুখারী ও মুসলিম।
(১) মুসলিম ও ত্বাহাবী।
(২) ছহীহ সনদে আবু দাউদ ও বাইহাক্বী। এ নিয়মটি উন্মুক্ত তাই ছালাতের ভিতর ও বাহির উভয় অবস্থা এবং ফরয ও নফল উভয় ছালাত এর অন্তর্ভুক্ত হবে। ইবনু আবী শাইবাহ (২/১৩২/২) আবু মূসা আশ'য়ারী ও মুগীরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা উভয়ে এগুলো ফরয ছালাতে বলতেন। পক্ষান্তরে উমার ও আলী (রাঃ) থেকে উন্মুক্তরূপে তা উদ্ধৃত হয়েছে।