📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সর্ব ক্বিরা‘আত সম্পন্ন ছালাতে ইমামের পিছনে

📄 সর্ব ক্বিরা‘আত সম্পন্ন ছালাতে ইমামের পিছনে


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছালাতে ত্রুটিকারীকে ছালাতে এই সূরা পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। (১) তবে যে ব্যক্তি এটা মুখস্থ করতে অপারগ তাকে বলেছেন: তুমি এই দু'আ পড়বে। (২) ، সুবহানাল্লা-হি অলহামদুলিল্লাহি অ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু অল্লাহু আকবারু অলা- হাওla অলা- ক্বুওয়াতা ইল্লা- বিল্লাহি তিনি ছালাতে ত্রুটিকারীকে বলেছিলেন কুরআন পড়া জানলে তা পাঠ করবে নচেৎ পড়বেন। (৩) লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আলহামদু লিল্লা-হি

টিকাঃ
(১) বুখারী, ছহীহ সনদে ক্বিরা'আতু খালফাল ইমা-ম গ্রন্থ।
(২) আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমা (১/৮০/২), হাকিম, ত্বাবারানী, ইবনু হিব্বান- তিনি ও হাকিম একে ছহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এটি ইরওয়া الإرواء গ্রন্থে ৩০৩ রয়েছে।
(৩) আবু দাউদ, তিরমিযী এবং তিনি একে হাসান বলেছেন, এর সনদ ছহীহ صحيح أبي داؤد (২৫৯)।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 ক্বিরা‘আত পড়ার বিধান রহিত

📄 ক্বিরা‘আত পড়ার বিধান রহিত


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুক্তাদীদেরকে সরব ক্বিরাআত সম্পন্ন ছালাতে ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন যেমন একদা ফজরের ছালাতে ক্বিরাআত পড়াকালে পড়া ভারী লাগলে ছালাত শেষে তিনি বললেন- সম্ভবতঃ তোমরা তোমাদের ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পড়ছিলে। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল হ্যাঁ, আমরা তাড়াহুড়া করে (৫) তা করি। তিনি বললেন: এমনটি কর না, তবে তোমাদের সূরা ফাতিহা পড়াটা স্বতন্ত্র, কেননা এটি যে পড়ে না তার ছালাত হয় না। (৬) পরবর্তীতে প্রকাশ্য শব্দ বিশিষ্ট ছালাতে সব ধরনের ক্বিরাআত পড়তে নিষেধ করে দেন আর তা এভাবে যে তিনি একদিন সরব ক্বিরাআত সম্পন্ন ছালাত শেষে, অপর এক বর্ণনানুযায়ী ফজরের ছালাত শেষে বললেন: তোমাদের কেউ কি এই মুহূর্তে আমার সাথে ক্বিরাআত পড়েছে? এক ব্যক্তি বলল, হ্যাঁ আমি পড়েছি- হে আল্লাহর রাসূল! (৭) তিনি বললেন: (তাইতো) আমি বলছি কুরআন পাঠে আমার সাথে দ্বন্দ্ব হচ্ছে কেন? (১) আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: এতদশ্রবণে লোকজন রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিছনে সরব ক্বিরাআত বিশিষ্ট ছালাতে ক্বিরাআত পড়া থেকে বিরত হয়ে যায়, এবং ইমাম যে সব ছালাতে সরব ক্বিরাআত পড়তেন না সে সব ছালাতে তারা মনে মনে চুপিসারে ক্বিরাআত পড়তে থাকে। (২)
তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইমামের ক্বিরাআত শ্রবণার্থে চুপ থাকাকে ইমামের পূর্ণ অনুসরণ গণ্য করে বলেন: إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا )
অর্থ: ইমামকে কেবল তার অনুসরণের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে অতএব তিনি যখন আল্লাহ আকবার বলেন তখন তোমরা আল্লাহ আকবার বল এবং তিনি যখন ক্বিরাত পড়েন তখন তোমরা চুপ থাকবে। (৩) এমনিভাবে তিনি ইমামের ক্বিরাত শ্রবণকে তাঁর পিছনে ক্বিরাত পাঠ থেকে প্রয়োজন মুক্তকারী ধরেছেন। তিনি বলেন: মান কা-না লাহু ইমা-মুন ফাক্বিরা-আতুল ইমা-মি লাহু ক্বিরা-আহ অর্থঃ যে ব্যক্তির ইমাম থাকবে তার ইমামের ক্বিরাতই তার ক্বিরাতের জন্য যথেষ্ট। (১)
এ হাদীছ সরব ক্বিরাত বিশিষ্ট ছালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

টিকাঃ
(৪) পরের পৃষ্ঠার ১ নং টীকা দেখুন।
(৫) এখানে আল হাইযদ শব্দ এসেছে যার অর্থ তাড়াতাড়ি করে ক্বিরাত পড়া ও তাড়াহুড়া করে ক্বিরাত ধরা।
(৬) বুখারী স্বীয় জুয গ্রন্থে, আবু দাউদ ও আহমাদ এবং তিরমিযী, দারাকুত্বনী একে হাসান বলেছেন।
(৭) মূলতঃ এ হাদীছটি বা তার বক্তব্য পূর্বের হাদীছের নাছি বা রহিতকারী নয় যেমনটি বুঝেছেন আল্লামা আলবানী (রহঃ)। বরং এটিতে পূর্বের ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটেছে=এই মাত্র। পূর্বের হাদীছে অনেক মুছল্লী কর্তৃক ক্বিরা'আত পাঠের মাধ্যমে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিরা'আতে বিভ্রাট ঘটেছিল। যার জন্য সবাই ঐ ভাবেই কিরা'আত পাঠ করতে থাকে, পরবর্তীতে এক ফজরের ছলাতে মাত্র এক ব্যক্তি বিভ্রাটমূলক কিরাত পাঠের মাধ্যমে উক্ত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায়, সম্ভবতঃ এ ব্যক্তি পূর্বোক্ত ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন না। ছলাত শেষান্তে এ ব্যক্তিকেও বিভ্রাট মূলক কিরা'আত করা থেকে নিষেধ করে দেন। এবার সবাই বিভ্রাট মূলক কিরা'আত থেকে বিরত হয়ে গেল। আমাদের এ ব্যাখ্যার স্বপক্ষে একই রাবীর অর্থাৎ আবূ হুরাইরার বর্ণিত হাদীছ রয়েছে যা মুসলিম ও অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। "আবু হুরাইরাকে তার কোন শিষ্য জিজ্ঞেস করেছিল ইমামের কিরাআতকালে আমি কিভাবে সূরাহ্ ফাতিহা পাঠ করব। তিনি বললেন, اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ মনে মনে সূরাহ ফাতিহা পাঠ করবে। অতঃপর গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, ইমামের সরবে কিরা'আতকালে মুক্তাদীর পাঠ না করে চুপ থেকে শুনার নির্দেশ ও সূরা ফাতিহা পাঠ ছাড়া ছলাত হয় না এর মাঝে কোন দ্বন্দ্ব নেই। বরং দু'হাদীছের মর্ম একই। কারণ একাগ্রতার সাথে চুপ থেকে শুনলেই- মনে মনে পড়া হয়ে যায়। (সম্পাদক)
(১) খত্বাবী বলেন: এখানে ইয়াযদাদা শব্দের অর্থ: এক ক্বিরাআতে অপরটির অনুপ্রবেশ ঘটানো ও একটির অপরটির উপর প্রাধান্য লাভ। এই শব্দের আরেকটি অর্থ হল, পরস্পর অংশগ্রহণ ও পালাক্রমে কোন কাজ করা...... এখানে দ্বিতীয় অর্থই চূড়ান্ত যেহেতু ছাহাবাগণ সম্পূর্ণভাবে ক্বিরা'আত পড়া থেকে বিরত হয়ে যান। যদি এখানে প্রথম অর্থ উদ্দেশ্য হয়ে থাকত তাহলে তারা ক্বিরা'আত থেকে বিরত হতেন না বরং শুধু দ্বন্দ্ব লাগানো থেকে বিরত হলেই চলত, এই বক্তব্যটি সুস্পষ্ট।
(২) মালিক, হুমাইদী, বুখারী স্বীয় জুয, আবু দাউদ, আহমাদ, আল মুহামিলী (১/১৩৯/৬) তিরমিযী একে হাসান বলেছেন, আবু হাতিম রাযী, ইবনু হিব্বাবন ও ইবনুল কাইয়িম একে ছহীহ বলেছেন।
(৩) ইবনু আবী শাইবাহ্ (১/৯৭/১), আবু দাউদ, মুসলিম, আবূ আওয়ানাহ্, আররুইয়ানী স্বীয় মুসনাদ গ্রন্থে (১/১১৯/২৪), এটি "আল-ইরওয়া" তে রয়েছে (৩৩২ ও ৩৯৪)
(১) ইবনু আবী শাইবাহ (১/৯৭/১) দারাকুত্বনী, ইবনু মাজাহ, ত্বাহাবী ও আহমাদ একে মুসনাদ ও মুরসালভাবে অনেক সূত্রে বর্ণনা করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ একে শক্তিশালী বলেছেন। যেমনটি রয়েছে ইবনু আবদিল হাদীর الفروع (২/৪৮ ক) গ্রন্থে। বুছিরী; এর কোন কোন সূত্রকে ছহীহ বলেছেন। আমি মূল কিতাবে এর সূত্রগুলো জড় করেছি এবং বিস্তারিত আলোচনা করেছি। অতঃপর إرواء الغليل এও তাই করেছি (৫০০)।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 নীরব ক্বিরা‘আত সম্পন্ন ছালাতে (মুত্তাদীর) ক্বিরা‘আত পড়া ফরয

📄 নীরব ক্বিরা‘আত সম্পন্ন ছালাতে (মুত্তাদীর) ক্বিরা‘আত পড়া ফরয


নীরব ক্বিরাআত সম্পন্ন ছালাতে (মুক্তাদীর) ক্বিরাআত পড়াকে তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বহাল রেখেছেন। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন-
কুন্না- নাক্বরাউ ফিয যুহরি অল 'আসরি খালফাল ইমা-মি ফিররাক'আতাইনি উল্ইয়া-ইনি বিফা-তিহাতিল কিতা-বি অ সূরাতিন, অফিল উখরা-ইনি বিফা-তিহাতিল কিতা-বি )
আমরা যুহর এবং আছরের ছালাতে প্রথম দু'রাকাআতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা ও অপর একটি সূরা পাঠ করতাম এবং পরবর্তী দুই রাকাআতে শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করতাম। (২)
তিনি (যুহর ও আছরের ছালাতে) কেবল সরবে ক্বিরাআত পড়ে তাঁকে বিব্রত করতে নিষেধ করেছেন যেমন একদা তিনি যুহরের ছালাত ছাহাবাদেরকে নিয়ে আদায় করে বললেন: তোমাদের মধ্যে কে سَبْحَ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى পাঠ করেছে? এক ব্যক্তি বলল (হে আল্লাহ রাসূল) আমি, তবে আমি এর মাধ্যমে শুধু ভাল ছাড়া আর কিছুই ইচ্ছা করিনি। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি টের পেয়েছি যে এক ব্যক্তি ক্বিরাআত নিয়ে আমার সাথে টানাহেঁচড়া করছে। (৩)
অপর হাদীছে এসেছে: তাঁরা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিছনে সরবে ক্বিরাআত পড়তেন, তাই তিনি বললেন, তোমরা আমার সাথে কুরআনকে সংমিশ্রণ করে ফেলেছ। (৪) তিনি আরো বলেন: "ছালাত আদায়কারী স্বীয় প্রতিপালকের সাথে কানাকানি করে। তাই সে যেন চিন্তা করে কিসের দ্বারা তার সাথে কানাকানি করবে। তোমরা কুরআন পাঠকালে একে অপরের উপর শব্দ উঁচু করবে না। (১)
তিনি বলতেন : যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করে তার জন্য একটি ছওয়াব, আর প্রতিটি ছওয়াবের বিনিময় দশগুণ পাবে। আমি বলি না যে, একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর। (২)

টিকাঃ
(২) ছহীহ সনদে ইবনু মাজাহ। এটি إرواء তেও উদ্ধৃত হয়েছে (৫০৬)।
(৩) মুসলিম, আবু আওয়ানা ও আস্সারাজ। .আল খালজা শব্দের অর্থ টানা হেঁচড়া করা।
(৪) বুখারী স্বীয় জুয গ্রন্থে, আহমাদ ও আস্সারাজ, হাসান সনদে।
(১) মালিক, বুখারী আফআলুল ইবাদ গ্রন্থে ছহীহ সনদে।
ফায়েদাহ : স্বরব কিরা'আত বিশিষ্ট ছালাতে নয় বরং শুধু নীরব কিরা'আত বিশিষ্ট ছালাতে ইমামের পিছনে কিরা'আত পড়ার পক্ষে রয়েছেন ইমাম শাফি'ঈ পুরানো বক্তব্যে, ইমাম আবূ হানীফার শিষ্য ইমাম মুহাম্মদ তার থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়াত অনুসারে, আরো একে গ্রহণ করেছেন মোল্লা আলী কারী হানাফী এবং হানাফী মাযহাবের কিছু সংখ্যক মাশায়িখ। এটিই হলো ইমাম যুহরী, ইমাম মালিক, ইমাম ইবনুল মুবারক, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল সহ মুহাদ্দিছগণের এক দল ও অন্যান্যদের মত এবং ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ্ এ মতই গ্রহণ করেছেন।
(২) তিরমিযী, হাকিম ছহীহ সনদে আ-জুরী একে আদাবু হামালাতিল কুরআন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এটা আস-সহীহাহ তে উদ্ধৃত হয়েছে (৬৬০) পক্ষান্তরে যে হাদীছে বর্ণিত আছে মান ক্বারাআ খালফাল ইমা-মি মূল্লিআ ফূহু না-রা- অর্থ : যে ব্যক্তি ইমামের পিছনে কিরাত পাঠ করে তার মুখ অগ্নি দ্বারা ভরপুর করা হবে। এই হাদীছটি বানোয়াট জাল। এর বর্ণনা - সিলসিলাতুল আহাদীছ আদ-দয়ীফা তে রয়েছে (৫৬৯)।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 আমীন প্রসঙ্গ ও ইমামের শব্দ করে আমীন বলা

📄 আমীন প্রসঙ্গ ও ইমামের শব্দ করে আমীন বলা


অতঃপর তিনি যখন ফাতিহা পাঠ শেষ করতেন তখন প্রকাশ্য ও দীর্ঘ স্বরে আমীন বলতেন। (৩)
তিনি মুক্তাদীদেরকে ইমামের আমীন বলার একটু পরেই (সাথে সাথে) আমীন বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন : ইমাম যখন বলেন : গাইরিল মাগযূবি 'আলাইহিম অলায যা-ল্লীন তখন তোমরা আমীন বলবে কেননা (তখন) ফিরিশতাগণ আমীন বলেন এবং ইমামও আমীন বলেন। অপর শব্দে ইমাম যখন আমীন বলেন তখন তোমরা আমীন বলবে কেননা যার আমীন ফিরিশতাদের আমীনের সাথে মিলে যাবে (অপর শব্দে : তোমাদের কেউ যখন ছালাতে আমীন বলে এবং ফিরিশতাগণ আসমানে আমীন বলেন, ফলে যদি একজনেরটা অপরজনের সাথে মিলে যায় তাহলে) তার পূর্বকৃত সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (৪) অপর হাদীছে বলেছেন : ফাকুলু- আ-মীন ইউহিব্বুকুমুল্লাহু তোমরা আমীন বলবে। আল্লাহ পাক তোমাদের দু'আ কবুল করবেন। (১) তিনি বলতেন: মা- হাসাদাতকুমুল ইয়াহূদু 'আলা- শাইয়িন মা- হাসাদাতকুম 'আলাছ ছালা-মি অত্তামীন )
ইয়াহুদরা তোমাদের সালাম ও (ইমামের পিছনে) আমীন বলার উপর যেরূপ বিদ্বেষ পোষণ করে অন্য কোন বিষয়ে এরূপ বিদ্বেষ পোষণ করে না। (২)

টিকাঃ
(৩) বুখারী জুযউল কিরাআতু খালফাল ইমাম, আবু দাউদ ছহীহ সনদে।
(৪) বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, দারিমী। অতিরিক্ত কথাগুলো শেষোক্ত দু'জনের। হাফিয ইবনু হাজর ফতহুল বারীতে আবু দাউদের কথাও উল্লেখ করেছেন কিন্তু তা তার ধারণা মাত্র। তবে হাদীছ দ্বারা ইমামের আমীন না বলার উপর প্রমাণ গ্রহণ করা বাত্বিল প্রতিপন্ন হচ্ছে। যেমন ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে। হাফিয ইবনু হাজার বলেন- এটা ইমামের আমীন বলার ব্যাপারে সুস্পষ্ট। আমি বলতে চাই, দ্বিতীয় শব্দটি এর সাক্ষ্য বহন করে। ইবনু আব্দিল বার التمهيد গ্রন্থে (৭/১৩) বলেন- এটি হচ্ছে অধিকাংশ মুসলিমদের বক্তব্য, তাদের মধ্যে মদিনাবাসীদের বর্ণনানুযায়ী ইমাম মালিকও একজন। কারণ এ বিষয়ে ছহীহ সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীছ এসেছে। একটি আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কর্তৃক (অর্থাৎ অত্র হাদীছ) ও অপরটি ওয়ায়েল বিন হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বর্ণিত অর্থাৎ এর পূর্বেরটি।
(১) মুসলিম ও আবূ 'আওয়ানাহ্।
(২) বুখারী "আল-আদাবুল মুফরাদ” গ্রন্থে, ইবনু মাজাহ, ইবনু খুযাইমাহ, আহমাদ ও আস্সাররাজ দুটি ছহীহ সনদে। ফায়েদাহ: মুক্তাদীদের "আমীন" বলা ইমামের বলার সাথে সাথে প্রকাশ্য শব্দে হবে।
ইমামের পূর্বে বলবেনা, যেমনটি অধিকাংশ মুছল্লী করে থাকে। আর ইমামের পরেও বলবে না। এ নিয়মই পরিশেষে আমার নিকট প্রাধান্যযোগ্য বলে প্রকাশ পেয়েছে। যেমনটি তদন্ত সাপেক্ষে সাব্যস্ত করেছি আমার কোন কোন গ্রন্থে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিলসিলা যাঈফাহ ৯৫২, ছহীহুত্ তারগীব অত্তারহীব ১ম খণ্ড ২০৫ পৃষ্ঠা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00