📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার নির্দেশ

📄 বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার নির্দেশ


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতেন। (৫) আর বলতেন:
ইন্না মা'শারাল আম্বিয়া-উ উমিরনা- বিতাজিল ফিতরিনা- অ তা'খীরি সুহুরিনা- অ আন নাযা'আ আইমা-নানা- 'আলা- শামা-ইলিনা- ফিস্ সলা-হ
আমরা নবীদের দল ইফতার অবিলম্বে করতে, সাহুর বিলম্বে খেতে এবং ছালাতে ডান হাতের উপর বাম হাত রাখতে আদিষ্ট হয়েছি। (৬)
মাররা বিররাজুলিন অহুয়া ইউছাল্লী অক্বাদ ওয়াযা'আ ইয়াদাহুল ইউছরা- 'আলাল ইউমনা- ফানতাযা'আহা- অ ওয়াযা'আল ইউমনা- 'আলাল ইউছরা-
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন এমতাবস্থায় যে, সে তার ডান হাতের উপর বাম হাত রেখে ছলাত আদায় করছিল, তিনি তার হাত ছাড়িয়ে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখলেন। (৭)

টিকাঃ
(৫) মুসলিম ও আবু দাউদ; এটি الإرواء তেও উদ্ধৃত হয়েছে (৩৫২)।
(৬) ইবনু হিব্বান ও যিয়া ছহীহ সনদে।
(৭) আহমাদ ও আবু দাউদ ছহীহ সনদে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 বুকের উপর হাত রাখা

📄 বুকের উপর হাত রাখা


নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর ডান হাত রাখতেন। (৮) এ বিষয়ে স্বীয় ছাহাবাগণকেও আদেশ প্রদান করেছেন। (১) তিনি কখনো ডান হাত দ্বারা বাম হাত আঁকড়ে ধরতেন। (২) তিনি হস্তদ্বয়কে বুকের উপর রাখতেন। (৩) তিনি ছলাতে কোমরে (৪) হাত রাখতে নিষেধ করতেন। (৫) এটা মেরুদণ্ডে (হাত রাখায়) গণ্য যা থেকে তিনি নিষেধ করতেন। (৬)

টিকাঃ
(৮) আবু দাউদ, নাসাঈ (১/৫৪/২) ছহীহ সনদে, আর ইবনু হিব্বানও ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন (৪৮৫)।
(১) মালিক, বুখারী ও আবু আওয়ানাহ্।
(২) নাসাঈ, দারাকুত্বনী, ছহীহ সনদ সহকারে। এ হাদীছ প্রমাণ করছে যে, হাত বাঁধা সুন্নাত। আর প্রথম হাদীছ প্রমাণ করছে যে, হাত রাখা সুন্নাত। অতএব উভয়টাই সুন্নাত। কিন্তু হাত বাঁধা ও হাত রাখার মধ্যে সমন্বয় বিধান করতে গিয়ে পরবর্তী হানাফী আলিমগণ যে পদ্ধতি পছন্দ করেছেন তা হচ্ছে বিদআত; যার রূপ তারা এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ডান হাতকে বাম হাতের উপর কনিষ্ঠা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা আঁকড়ে ধরবে এবং অপর তিন অঙ্গুলি বিছিয়ে রাখবে (ইবনু আবিদীন কর্তৃক দুররে মুখতারের টীকা (১/৪৫৪)। অতএব হে পাঠক! পরবর্তীদের (মনগড়া) এ কথা যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে।
(৩) আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ স্বীয় ছহীহ গ্রন্থে (১/৫৪/২) আহমাদ, আবুশ্ শাইখ স্বীয় "তারীখু আছবাহান” গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১২৫) ইমাম তিরমিযীর একটি সনদকে হাসান বলেছেন। গভীরভাবে চিন্তা করলে এর বক্তব্য মুওয়াত্তা ইমাম মালিক এবং বুখারীতে পাওয়া যাবে। এ হাদীছের বিভিন্ন বর্ণনাসূত্র নিয়ে আমি أحكام الجنائز কিতাবের (১১৮) পৃষ্ঠায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
জ্ঞাতব্য: বুকের উপর হাত রাখাটাই ছহীহ হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত। এছাড়া অন্য কোথাও রাখার হাদীছ হয় দুর্বল, আর না হয় ভিত্তিহীন। এই সুন্নাতের উপর ইমাম ইসহাক বিন রাহভিয়া আমল করেছেন। মারওয়াযী আল مسأل গ্রন্থে ২২২ পৃষ্ঠাতে বলেন, ইসহাক আমাদেরকে নিয়ে বিত্রের ছলাত পড়তেন এবং তিনি কুনূতে হাত উঠাতেন আর রুকুর পূর্বে কুনূত পড়তেন। তিনি বক্ষদেশের উপরে বা নীচে হাত রাখতেন। কাযী 'ইয়াযও إعلام। কিতাবের ১৫ পৃষ্ঠায় (রিবাত্ব তৃতীয় সংস্করণ) এ مستحبات الصلاة ছলাতের মুস্তাহাব কাজ বর্ণনার ক্ষেত্রে অনুরূপ কথা বলেছেন, ডান হাতকে বাম হাতের পৃষ্ঠের উপর বুকে রাখা। আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদের বক্তব্যও এর কাছাকাছি, তিনি তার ئل। এর ৬২ পৃষ্ঠায় বলেন: আমার পিতাকে দেখেছি যখন তিনি ছলাত পড়তেন তখন তার এক হাতকে অপর হাতের উপর বুকের উপরস্থলে রাখতেন দেখুন 1 (20) إرواء الغليل
(৪) এটা হচ্ছে কোমরের উপর হাত রাখা যেমন কোন কোন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।
(৫) বুখারী ও মুসলিম আর এটি إرواء গ্রন্থেও উদ্ধৃত হয়েছে (৩৭৪)।
(৬) আবু দাউদ, নাসাঈ ও অন্যান্যগণ।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সাজদার স্থানে দৃষ্টি রাখা ও একাগ্রতা

📄 সাজদার স্থানে দৃষ্টি রাখা ও একাগ্রতা


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছলাত অবস্থায় মাথা নীচু করে যমীনের দিকে দৃষ্টি রাখতেন। (১) তিনি যখন কা'বা ঘরে প্রবেশ করেন তখন থেকে বেরিয়ে আসা পর্যন্ত তাঁর দৃষ্টি সাজদার স্থানচ্যুত হয়নি। (২) তিনি বলেন:
ولا ينبغي أن يكون في البيت شيء يشغل المصلي )
ঘরে এমন কোন বস্তু থাকা উচিত নয় যা মুছাল্লীকে অন্যমনস্ক করতে পারে। (৩)
তিনি আকাশের দিকে দৃষ্টি উঠাতে নিষেধ করতেন। (৪) এমনকি এ বিষয়ে তাকিদ দিয়ে বলেছেন-
<< لينتهين أقوام يرفعون أبصارهم إلى السماء في الصلاة أو لا ترجع إليهم ( وفي رواية : أو لتخطفن أبصارهم ) >> যারা ছলাতাবস্থায় আকাশের দিকে তাকায় তারা যেন এথেকে বিরত হয় অন্যথায় তাদের চক্ষু ফিরে পাবে না। অপর বর্ণনানুযায়ী তাদের চক্ষু কেড়ে নেয়া হবে। (৫)
অন্য হাদীছে রয়েছে:
<< فإذا صليتم فلا تلتفتوا فإن الله ينصب وجهه لوجه عبده في صلاته ما لم يلتفت >> তোমরা যখন ছলাত পড়বে তখন এদিক সেদিক তাকাবে না, কেননা বান্দাহ যতক্ষণ পর্যন্ত এদিক সেদিক না তাকায় ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাঁর
চেহারাকে বান্দার চেহারার প্রতি নিবদ্ধ রাখেন। (১) তিনি এদিক সেদিক তাকানো اختلاس يختلسه الشيطان من صلاة العبد : 167 | 17 ছলাতে শয়তানের ছিনতাই। (২)
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেন: আল্লাহ তা'আলা ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দাহর ছলাতাবস্থায় তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন যতক্ষণ সে এদিক-ওদিক না তাকায়। তাই যখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় তখন আল্লাহও তার থেকে বিমুখ হয়ে যান। (৩)
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনটি কাজ নিষেধ করেছেন: মোরগের মতো ঠোকর দেয়া, কুকুরের মত বসা ও শিয়ালের মতো এদিক-ওদিক তাকানো। (৪)
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: চির বিদায় গ্রহণকারীর ন্যায় ছলাত পড় যেন তুমি তাঁকে (আল্লাহকে) দেখছ আর যদি তাঁকে দেখতে না পাও তবে তিনি তো তোমাকে দেখছেন। (৫)
তিনি আরো বলেন: ফরয ছলাতের সময় উপস্থিত হলে যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে তার জন্য ওযু করে এবং সুন্দরভাবে তার একাগ্রতা ও রুকু (ইত্যাদি) পালন করে সেই ছলাত তার পূর্বেকৃত (ছাগীরা) গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়, যতক্ষণ না কাবীরা গুনাহ্ করবে। আর এ ধারা সারা জীবন চলতে থাকবে। (৬)
একদা তিনি রেখা অঙ্কিত একটি পশমী কাপড়ে ছলাত আদায় করেন, এর ফলে একবার তার রেখাগুলোর প্রতি দৃষ্টি পড়ে যায়। অতঃপর ছলাত শেষে বললেন, আমার এই কাপড়টি আবু জাহম এর নিকট নিয়ে যাও এবং তার রেখাবিহীন মোটা কাপড়টি নিয়ে আস। কেননা এইমাত্র কাপড়টি আমার ছলাতে বিঘ্নতা সৃষ্টি করেছে। অপর বর্ণনায় আছে: আমি ছালাতাবস্থায় তার রেখার দিকে দৃষ্টি দেয়ার ফলে এটি আমাকে বিভ্রান্ত করে ফেলার উপক্রম হয়েছিল। (৭)
'আইশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর একটি কাপড়ে ছবি ছিল সে কাপড়টি সহওযা ছোট্ট কামরা (১) পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দিকে মুখ করে ছলাত পড়ছিলেন তাই তিনি বলেছিলেন একে আমার সম্মুখ থেকে সরিয়ে ফেল? কেননা এ ছবিগুলো ছলাতের ভিতর আমার সামনে ভেসে উঠে। (২)
তিনি আরো বলতেন: খাবারের উপস্থিতিতে কোন ছলাত নেই, আর নেই মলমূত্রের চাপের অবস্থায়। (৩)

টিকাঃ
(১) বাইহাক্বী, হাকিম-এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন আর তা যথার্থই। প্রথম হাদীছের পক্ষে দশজন ছাহাবীর হাদীছ সাক্ষ্য বহন করে যা ইবনু আসাকির বর্ণনা করেছেন (১৭/২০২/২) আরো দেখুন الإرواء কিতাবে (৩৫৪)। জ্ঞাতব্য: এই হাদীছদ্বয় থেকে বুঝা যায় যে, যমীনে সাজদার স্থানে দৃষ্টি রাখা সুন্নাত। অতএব কিছু সংখ্যক মুছল্লী যারা চক্ষু বন্ধ করে ছলাত পড়ে, এ হচ্ছে ঠাণ্ডা পরহেযগারী। বস্তুতঃ মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম)-এর আদর্শই হচ্ছে সর্বোত্তম আদর্শ।
(৩) ছহীহ সনদে আবু দাউদ ও আহমাদ। এটি صحيح أبي داود গ্রন্থে রয়েছে (১৭৭১) হাদীছে উল্লেখিত البيت তথা ঘর শব্দ দ্বারা কা'বা ঘর বুঝানো উদ্দেশ্য। যেমন হাদীছের প্রেক্ষাপট নির্দেশ করছে।
(৪) বুখারী, আবু দাউদ।
(৫) বুখারী, মুসলিম ও সাররাজ।
(১) তিরমিযী, হাকিম, তারা উভয়ই একে ছহীহ বলেছেন "صحيح الترغيب" (৩৫৩)।
(২) বুখারী ও আবু দাউদ।
(৩) আবু দাউদ ও অন্যান্যগণ, একে ইবনু হিব্বান ও ইবনু খুযাইমা ছহীহ বলেছেন। "ছহীহ আত্তারগীব” (৫৫৫)।
(৪) আহমাদ, আবু ইয়ালা "সহীহ আত্তারগীব” (৫৫৬)।
(৫) আল মুখাল্লাছ ফী আহাদীছ মুনতাক্বাহ, তাবরানী, রুয়ানী, যিয়া "আল মুখতারাহ" ইবনু মাজাহ, আহমাদ, ইবনু আসাকির ফকীহ হাইসামী "আসনাল মাতা-লিব” গ্রন্থে একে ছহীহ বলেছেন।
(৬) মুসলিম
(৭) বুখারী, মুসলিম ও মালিক, এটি উদ্ধৃত হয়েছে আল-ইরওয়াতে (৩৭৬)।
(১) সহওযা বলা হয় যমীনের সামান্য ঢালু অবস্থানে অবস্থিত ছোট্ট ঘরকে যা সামগ্রী ভাণ্ডার ও গুদাম সদৃশ "নিহায়াহ”।
(২) বুখারী, মুসলিম, আবু 'আওয়ানাহ্। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ছবিগুলোকে ছিঁড়ে ফেলা ও নস্যাৎ করার আদেশ না দিয়ে কেবল সরিয়ে নিতে বলার কারণ এই যে, এগুলো প্রাণীর ছবি ছিল না। (আল্লাহই অধিক জ্ঞাত)। বুখারী ও মুসলিমের বিভিন্ন বর্ণনায় অন্যান্য ছবি নস্যাৎ করে ফেলার কথা এসেছে। বিস্তারিত জানার জন্য “ফাতহুল বারী” (১০/৩২১) ও "গাইয়াতুল মারাম ফী তাখরীজি আহাদীছিল হালালি ওয়াল হারাম" (১৩১-১৪৫নং) হাদীছের পর্যালোচনা দ্রষ্টব্য।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 ছালাতের শুরুতে পঠিতব্য দু‘আ

📄 ছালাতের শুরুতে পঠিতব্য দু‘আ


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিভিন্ন দু'আ দ্বারা ছলাত শুরু করতেন। এর মধ্যে তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা, মাহাত্ম্য ও গুণকীর্তন করতেন। তিনি এ ব্যাপারে ছলাতে ত্রুটিকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন: লা তাতিম্মু সলা-তুন লিআহাদিম মিনান্নাসি হাত্তা ইউকাব্বিরা, অ ইয়াহামিদাল্লাহা আয্যাওয়া জাল অ ইয়ুছনিআলাইহি, অ ইয়াক্বরাআ বিমা- তায়াস্সারা মিনাল কুরা-ন.........।
কোন ব্যক্তির ছলাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে “আল্লাহু আকবার” বলবে এবং আল্লাহর প্রশংসা ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করবে এবং কুরআন থেকে সহজসাধ্য অংশ পড়বে। (৪)
তিনি একেক সময় একেক দু'আ পড়তেন। দু'আগুলো হচ্ছেঃ আল্লাহুম্মা বা-ইদ বাইনী অ বাইনা খাত্বা- ইয়া-ইয়া কামা- বা-'আদতা বাইনাল মাশরিকি অল মাগরিব, আল্লাহুম্মা নাক্বক্বিনী মিনাল খাত্বা-ইয়া-, কামা- ইয়ুনাক্কাস ছাওবুল আবইয়াদু মিনাদ দানাসি, আল্লাহুম্মাগসিল খাত্বা-ইয়া-ইয়া বিলমা-ই অছ ছালজি অল বারাদ।
অর্থঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার এবং আমার পাপের মধ্যে এই পরিমাণ
দূরত্ব সৃষ্টি কর, যে পরিমাণ দূরত্ব রেখেছ পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে; হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার পাপ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন কর যেভাবে সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমার পাপকে পানি, বরফ ও শিশির দ্বারা ধৌত কর।" নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি ফরয ছলাতে পড়তেন। (১)
অজ্জাহতু অজহিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাছ ছামাওয়াতী অল আরযা হানীফাম মুসলিমা অমা- আনা- মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সলা-তী অ নুছুকী অ মাহইয়া-ইয়া অ মামা-তী লিল্লা-হি রাব্বিল 'আ-লামীন। লা- শারীকা লাহু, অবিযা-লিকা উমিরতু অ আনা আউয়ালুল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা আনতাল মালিকু, লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা, (সুবহা-নাকা অ বিহামদিকা) আনতা রাব্বী অ আনা 'আবদুকা, যলামতু নাফসী অ'তারাফতু বিযানবী ফাগফিরলী যাম্বী জামী'আন ইন্নাহু লা- ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা- আনতা অ আহদিনী লিআহসানিল আখলা-ক্বি লা- ইয়াহদী লিআহ্সানিহা- ইল্লা- আনতা, অসরিফ 'আন্নী সায়্যিআহা-, লা- ইয়াসরিফু 'আন্নী সায়্যিআহা- ইল্লা- আনতা, লাব্বাইকা অ সা'দাইকা, অল খাইরু কুল্লুহু ফী ইয়াদাইকা, অশ শাররু লাইসা ইলাইকা অল মাহদী মিন হাদাইতা আনা- বিকা অ ইলাইকা আ-লমানজা- অলা- মালজা- মিনকা ইল্লা- ইলাইকা) তাবা-রাকতা অতা'আ-লাইতা, আস্তাগফিরুকা অ আতূবু ইলাইকা
অর্থ: আমি একনিষ্ঠ অনুগত মুসলিম হিসাবে স্বীয় মুখমণ্ডলকে ঐ সত্ত্বার সম্মুখীন করলাম যিনি আসমান ও যমীনকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। অবশ্যই আমার ছলাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন, আমার মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তাঁর কোন অংশীদার নেই। আর আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের প্রথম জন। (২) হে আল্লাহ তুমি রাজ্যাধিপতি তুমি ব্যতীত কোন প্রকৃত মা'বুদ নেই। আমি প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি।
তুমি আমার প্রতিপালক এবং আমি তোমার দাস বা বান্দা। (১) আমি স্বীয় আত্মার উপর অত্যাচার করেছি। আমি আমার অপরাধ স্বীকার করছি, অতএব তুমি আমার সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করে দাও। তুমি ব্যতীত আর কেউ অপরাধ ক্ষমা করতে পারবে না। তুমি আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের সন্ধান দাও কেননা তুমি ব্যতীত আর কেউই এর সন্ধান দিতে পারে না এবং আমার অসচ্চরিত্র অপসারণ কর। কেননা তুমি ব্যতীত আর কেউ তা সরাতে পারে না। আমি তোমার আনুগত্যে অটল এবং তোমার হুকুম ও দীনের সর্বদা সহযোগী। (২) সকল কল্যাণ তোমার দুই হাতে, মন্দ বিষয় তোমার দিকে সম্বন্ধযোগ্য নয়। (৩) হিদায়াতপ্রাপ্ত কেবল সেই যাকে তুমি হিদায়াত দান কর। আমি তোমার কারণেই আছি ও তোমার নিকটই প্রত্যাবর্তিত হব। তোমার থেকে পরিত্রাণের স্থান ও আশ্রয়স্থল কেবল তোমার কাছেই রয়েছে। তুমি বরকতময় ও সুউচ্চ। তোমার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করছি ও তাওবাহ করছি।
পূর্বোক্ত দু'আটি তিনি ফরয ও নফল উভয় ছলাতেই পড়তেন। (৪)
৩। পূর্বোক্ত দু'আটাই তবে অআনতা রাব্বী অ আনা 'আবদুকা শব্দ থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত বাদ যাবে এবং এর পূর্বের অংশটুকু থাকবে। (১)
৪। পূর্বোক্ত দু'আর অআনা আউয়ালুল মুসলিমীন এরপর এটুকু বৃদ্ধি করবে।
আল্লাহুম্মাহদিনা লিআহ্সানিল আখলা-ক্বি অ আহ্সানিল আ'মাল, লা ইয়াহদী লিআহ্সানিহা- ইল্লা- আনতা অ ক্বিনী সায়্যিআল আখলা-ক্বি অল আ'মাল, লা- ইয়াক্বী সায়্যিআহা- ইল্লা- আনতা
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে সর্বোত্তম চরিত্র ও সর্বোত্তম আমলের পথ প্রদর্শন কর; তুমি ছাড়া এর সর্বোত্তম পথ প্রদর্শন অন্য কেউ করতে পারে না। আর আমাকে মন্দ চরিত্র ও মন্দ কাজ থেকে রক্ষা কর। তুমি ছাড়া অন্য কেউ এর মন্দ থেকে রক্ষা করতে পারে না। (২)
সুবহানাকাল্লাহুম্মা অবিহামদিকা, অতাবারাকাসমুকা, অতা'আ-লা- জাদ্দুকা, অলা- ইলা-হা গাইরুকা (৩)
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার প্রশংসা জড়িত পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, তোমার নাম অনেক বরকতমণ্ডিত হোক, তোমার মহানত্ব সমুন্নত হোক। আর তুমি ছাড়া প্রকৃত কোন মা'বুদ নেই। (৩)
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় কথা হচ্ছে: ..... স সুবহানাকাল্লাহুম্মা অর্থাৎ উপরোক্ত দু'আটি। (৪)
৬। উপরোক্ত দু'আটিই (সুবহানাকা....) তবে তাহাজ্জুদের ছলাতে লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু তিনবার ও আল্লাহু আকবার তিনবার বর্ধিত
করতেন। (৫)
আল্লাহু আকবার কাবীরা- অল হামদু লিল্লা-হি কাসীরা- সুবহানাল্লা-হি বুকরাতাঁও অ আসিলা- (৭)
অর্থ: আল্লাহই প্রকৃতপক্ষে সবচাইতে বড় এবং তাঁর জন্য অনেক প্রশংসা, আমি সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি।
ছাহাবাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি এই দু'আ দ্বারা ছলাত শুরু করলে নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আমি এ শব্দগুলোর জন্য আশ্চর্য হয়েছি, কারণ (এগুলোর) জন্য আসমানের দ্বারগুলো খোলা হয়েছিল। (১) আলহামদু লিল্লা-হি হামদান কাসীরা- তায়্যিবাম মুবা-রাকান ফীহি (৮)
আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা যা পবিত্র ও বরকতপূর্ণ।
এই দু'আ দ্বারা অন্য এক ব্যক্তি ছলাত শুরু করলে নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আমি বারজন ফেরেশতাকে দেখেছি তাঁরা এই মর্মে প্রতিযোগিতা করছেন যে, কে কার পূর্বে এই দু'আ নিয়ে উঠবেন। (২)
আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আনতা ক্বায়্যিমুস সামা-ওয়া-তি অল আরযি অমান ফীহিন্না অ লাকাল হামদু আনতা মালিকুস সামা-ওয়া-তি অল আরযি অমান ফীহিন্না অলাকাল হামদু আনতা নূরুস সামা-ওয়া-তি অল আরযি অমান ফীহিন্না অলাকাল হামদু আনতাল হাক্কু অ ওয়া'দুকা হাক্কু অ লিক্বা-উকা হাক্কু অ ক্বওলুকা হাক্কু অল জান্নাতু হাক্কু অন্ন-রু হাক্কু অন্নাবীয়্যূনা হাক্কু অ মুহাম্মাদুন হাক্কু। আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু অ 'আলাইকা তাওয়াক্কালতু অ বিকা আ-মানতু অ ইলাইকা আনাবতু অ বিকা খাসামতু অ ইলাইকা হাকামতু আনতা রাব্বুনা- অ ইলাইকাল মাসীরু ফাগফিরলী মা- ক্বাদ্দামতু অমা- আখ্খারতু অমা- আসরারতু অমা- আ'লানতু, অমা- আনতা আ'লামু বিহী মিন্নী, আনতাল মুকাদ্দিমু অ আনতাল মুআখ্খিরু লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা অলা- হাওলা অলা- ক্বুওয়াতা ইল্লা- বিকা
অর্থ: হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য, তুমি আসমান যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যে যারা রয়েছে তাদের আলো। (৩) তোমার জন্যে সমস্ত প্রশংসা তুমি আসমান যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যে যারা আছে তাদের রক্ষক। (৪) তোমার জন্যে সমস্ত প্রশংসা, তুমি আসমান, যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যে যারা আছে তাদের মালিক। সব প্রশংসা তোমার, তুমি সত্য, তোমার ওয়াদা সত্য, তোমার কথা সত্য, তোমার সাক্ষাৎ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, ক্বিয়ামত সত্য,
নবীগণ সত্য, মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্য। হে আল্লাহ! আমি তোমারই উদ্দেশ্যে ইসলাম গ্রহণ করেছি, তোমার উপরই ভরসা রাখি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি, তোমার পক্ষে বিতর্ক করি। তোমার কাছেই মীমাংসা চাই। তুমি আমাদের প্রতিপালক, তোমার নিকটেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আমার পূর্বের ও পরের সব গুনাহ মাফ করে দাও, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য গুনাহ ক্ষমা কর। আমার অপেক্ষা তুমি যা অধিক জানো তাও ক্ষমা করে দাও, তুমি অগ্রগণ্যকারী, তুমিই পশ্চাদপদকারী, তুমি আমার মাবুদ তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন মাবুদ নেই। তুমি ব্যতীত কোন উপায় ও ক্ষমতা নেই। (১)
তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দু'আটি নফল ছলাতে পড়তেন যেমন পরবর্তী দু'আগুলোও নফল ছলাতে পড়তেন। (২)
আল্লাহুম্মা রাব্বা জিব্রাঈলা অ মীকাঈলা অ ইসরা-ফীলা ফা-তিরাছ ছামাওয়াতী অল আরযি 'আ-লিমাল গাইবি অশ শাহা-দাতি আনতা তাহকুমু বাইনা 'ইবা-দিকা ফীমা- কা-নূ ফীহি ইয়াখতালিফূনা, ইহদিনী লিমাখতুলিফা ফীহি মিনাল হাক্কি বিইযনিকা ইন্নাকা তাহদী মান তাশা-উ ইলা- সিরা-ত্বিম মুস্তাক্বীম
অর্থ : হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীল (আলাইহিমুস্ সালাম)-এর প্রভু আসমান যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান বস্তুর জ্ঞানের অধিকারী তুমি স্বীয় বান্দাদের মতভেদকৃত বিষয়ে ফায়সালা করে থাক। তোমার অনুমোদনক্রমে মতভেদকৃত বিষয়ে সত্যের পথে আমাকে পরিচালিত কর। তুমি যাকে চাও সঠিক পথ দেখিয়ে থাক। (৩)
১১। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- দশবার আল্লাহু আকবার, দশবার আল-হামদুলিল্লাহ, দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ও দশবার আসতাগফিরুল্লাহ পাঠ করতেন অতঃপর বলতেন:
আল্লাহুম্মাগফিরলী অাহদিনী অরযুক্বনী অ 'আ-ফিনী
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর, হিদায়াত দাও, জীবিকা দান কর এবং সুস্থতা দাও।
এই দু'আও দশবার বলতেনঃ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আ'ঊযু বিকা মিনায যাইক্বি ইয়াওমাল হিসা-ব
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট বিচার দিবসের সংকীর্ণতাপূর্ণ অবস্থা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। (৪)
১২। আল্লাহু আকবার তিনবার, অতঃপর বলতেন: যুল মালাকূতি অল জাবারূতি অল কিবরিয়া-ই অল 'আযামাহ
অর্থঃ রাজত্ব, অসীম ক্ষমতা, বড়ত্ব, মহত্ত্ব, অহঙ্কারের মালিক। (১)

টিকাঃ
(৪) আবু দাউদ, হাকিম এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
(১) বুখারী, মুসলিম, দ্বিতীয় হাদীছটি ইবনু আবী শাইবাহ (১২/১১০) পৃষ্ঠাতে রয়েছে, এটি الإرواء গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে (৮)।
(২) অধিকাংশ বর্ণনাতে এরূপই আছে। কোন কোন বর্ণনাতে আছে وأنا من المسلمين আমি মুসলিমদের মধ্যে গণ্য। বাহ্যত এটা কোন বর্ণনাকারীর হেরফের। এর প্রমাণও এসেছে। অতএব মুছল্লীর وأنا أول المسلمين (আমি মুসলিমদের প্রথমজন) বলাই উচিত। আর এটা বলাতে কোন অসুবিধাও নেই। পক্ষান্তরে কেউ কেউ ধারণা করে যে, উক্ত আয়াতের অর্থ সমস্ত মানুষ এ গুণ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর আমি সর্বপ্রথম এ গুণে গুণান্বিত হচ্ছি। বাস্তবে এমনটি নয়। বরং তার অর্থ তিনি (আল্লাহ) যা আদেশ দিয়েছেন তা পালনের জন্য দ্রুত অগ্রসর হওয়া। এ সাদৃশ্য আয়াত قل إن كان للرحمن ولد فأنا أول العابدين বলুন যদি রহমানের সন্তান থাকতো তাহলে আমি ইবাদতকারীদের প্রথমজন। মূসা আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: وأنا أول المؤمنين আর আমি মু'মিনদের প্রথম জন।
(১) আমি তোমার বান্দা বা দাস অর্থ আমি আর কারো দাসত্ব করিনা বা করব না। এটা বলেছেন আযহারী।
(২) (أي أنا مقيم على طاعتك إقامة بعد إقامة) আমি তোমার আনুগত্যে প্রতিষ্ঠিতর পর প্রতিষ্ঠিত। (ألب بالمقام) থেকে অর্থাৎ যখন কোন জায়গায় অবস্থান নেয়। (وسعديك) তোমার নির্দেশের সহযোগিতার পর সহযোগিতা এবং সন্তুষ্টিপূর্ণ দ্বীনের নিয়মিত অনুসরণের পর অনুসরণ। অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথভাবে আল্লাহর আনুগত্য ও দ্বীনের উপর অটল অবিচল থাকা।
(৩) আল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক ও সম্বন্ধ নেই। ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আল্লাহ পাক ভাল মন্দের সৃষ্টিকর্তা তাই তাঁর কোন কোন সৃষ্টির মধ্যে মন্দত্ব থাকতে পারে কিন্তু তাঁর চরিত্র ও কাজের মধ্যে তা নেই। তাইতো আল্লাহ পাক যুলম থেকে মুক্ত যে যুলমের মর্ম হচ্ছে বস্তুকে অপাত্রে রাখা তাই তিনি কোন বস্তুকে তার যোগ্য পাত্র ছাড়া কোথাও রাখেন না এহেন কাজের সবটুকুই ভাল। আর মন্দ হচ্ছে বস্তুকে অপাত্রে রাখা অতএব যোগ্য পাত্রে রাখলে আদৌ সে মন্দ হবে না। জানা গেল যে, মন্দ কাজের জন্য আল্লাহ দায়ী নন। (তিনি বলেন): যদি তুমি বল- তাহলে তিনি মন্দকে কেন সৃষ্টি করলেন? আমি বলব, তাঁর সৃষ্টি ও কার্য-সম্পাদন ভাল কেননা সৃষ্টি ও কার্য সম্পাদন তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ। পক্ষান্তরে মন্দের সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট ও গুণান্বিত নন। আর সৃষ্টির মধ্যে যা মন্দ রয়েছে এত কেবল এজন্যই মন্দ যে আল্লাহ থেকে সে সম্পর্কচ্যুত পক্ষান্তরে কাজ ও সৃষ্টি তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট সে জন্যই সে ভাল। এ বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য ইবনুল কাইয়িমের (شفاء العليل في مسائل القضاء والقدر والتعليل) (১৭৮-২০৬) দ্রষ্টব্য।
(৪) মুসলিম, আবু আওয়ানাহ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনু হিব্বান, আহমাদ, শাফি'ঈ, ত্বাবারানী। অতএব যে ব্যক্তি এই দু'আকে নফল ছলাতের জন্য নির্দিষ্ট করেছে সে ভুল ধারণা করেছে।
(১) বিশুদ্ধ সনদে নাসাঈ।
(২) বিশুদ্ধ সনদে নাসাঈ ও দারাকুত্বনী।
(৩) সুবহানাকা অর্থ আসবিহকা তাসবিহান অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমাকে সর্ব প্রকার ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে পবিত্র বলে ঘোষণা করছি। অবিহামদিকা অর্থাৎ আমরা তোমার প্রশংসায় নিযুক্ত রয়েছি। ... ওতাবারাকা অর্থ: তোমার নামের বরকত (কল্যাণ) বৃদ্ধি পাক, এজন্য যেই তোমার নাম স্মরণ করেছে সে সকল কল্যাণ লাভ করেছে। এজাদ্দু অর্থ: তোমার সম্মান ও মহানত্ব উঁচু হোক।
(৪) আবু দাউদ ও হাকিম এবং তিনি একে বিশুদ্ধ বলেছেন এবং যাহাবী এতে একমত পোষণ করেছেন। উক্বাইলী বলেছেন (পৃঃ ১০৩) এই হাদীছ বিভিন্ন সূত্রে উত্তম সনদসমূহ দ্বারা বর্ণিত হয়েছে, এটি الارواء (৩৪১) পৃষ্ঠাতে উদ্ধৃত হয়েছে।
(৫) ইবনু মান্দাহ তার التوحيد গ্রন্থে (২/১২৩) বিশুদ্ধ সনদে, নাসাঈ عمل اليوم والليلة মাউকূফ ও মারফু সনদে جامع المسانيد এ ইবনু কাসীর (৩/২/২৩৫/২) পরবর্তীতে নাসাঈতেই তা আমার দৃষ্টিগোচর হয় (নং ৮৪৯ ও ৮৫০) তাই আমি الصحيحة এর (২৯৩৯) হাদীছটি উদ্ধৃত করেছি।
(১) মুসলিম, আবু আওয়ানা, তিরমিযী একে ছহীহ বলেছেন, আবু নুআইম একে اخبار أصبهان )১/২১০) কিতাবে জুবাইর ইবনু মুত্বইম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নফল ছলাতে তা পড়তে শুনেছেন।
(২) মুসলিম ও আবু আওয়ানাহ।
(৩) আলো বলতে আলো দানকারী যার মাধ্যমে সবাই পথের সন্ধান পেয়ে থাকে।
(৪) রক্ষক বলতে আসমান যমীনের রক্ষণাবেক্ষণকারী ও তত্ত্বাবধায়ক।
(১) বুখারী, মুসলিম, আবু আওয়ানা, আবু দাউদ, ইবনু নছর ও দারিমী।
(২) এর দ্বারা এটা বুঝায় না যে, ফরয ছলাতে তা পড়া যাবে না। এটা স্পষ্ট কথা, তবে ইমাম- মুক্তাদীদের প্রতি লক্ষ করে তা পড়বেন না।
(৩) মুসলিম ও আবু আওয়ানাহ।
(৪) আহমাদ, ইবনু আবী শাইবাহ (১২/১১৯/২) আবু দাউদ, ত্বাবারানী (৬২/২) ও الصغير এর সমন্বিত গ্রন্থে একটি ছহীহ সনদে ও অপরটি হাসান সনদে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00