📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 হস্ত উত্তোলন প্রসঙ্গ

📄 হস্ত উত্তোলন প্রসঙ্গ


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন সময় তাকবীর বলার সাথে হস্ত উত্তোলন করতেন। (৭) আবার কখনো বা তাকবীরের পরে (৮) আবার কখনো বা তাকবীরের পূর্বে (১) হস্ত উত্তোলন করতেন।
"তিনি অঙ্গুলিসমূহ প্রসারিত অবস্থায় দু'হাত উত্তোলন করতেন। তবে আঙ্গুলসমূহের মাঝে ফাঁক করতেন না এবং একেবারে মিলাতেনও না। (২) হস্তদ্বয়কে স্বীয় কাঁধ বরাবর উঠাতেন। (৩) আবার কখনো বা কানের লতি বরাবর উঠাতেন। (৪)

টিকাঃ
(৭ ও ৮) বুখারী ও নাসাঈ।
(১) বুখারী ও আবু দাউদ।
(২) আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ (১/৬২/২ ও ৬৪/১) তামামুল মিন্নাহ এবং হাকিম একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাঁর সমর্থন দিয়েছেন।
(৩) বুখারী ও নাসাঈ।
(৪) বুখারী ও আবু দাউদ।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার নির্দেশ

📄 বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার নির্দেশ


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতেন। (৫) আর বলতেন:
ইন্না মা'শারাল আম্বিয়া-উ উমিরনা- বিতাজিল ফিতরিনা- অ তা'খীরি সুহুরিনা- অ আন নাযা'আ আইমা-নানা- 'আলা- শামা-ইলিনা- ফিস্ সলা-হ
আমরা নবীদের দল ইফতার অবিলম্বে করতে, সাহুর বিলম্বে খেতে এবং ছালাতে ডান হাতের উপর বাম হাত রাখতে আদিষ্ট হয়েছি। (৬)
মাররা বিররাজুলিন অহুয়া ইউছাল্লী অক্বাদ ওয়াযা'আ ইয়াদাহুল ইউছরা- 'আলাল ইউমনা- ফানতাযা'আহা- অ ওয়াযা'আল ইউমনা- 'আলাল ইউছরা-
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন এমতাবস্থায় যে, সে তার ডান হাতের উপর বাম হাত রেখে ছলাত আদায় করছিল, তিনি তার হাত ছাড়িয়ে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখলেন। (৭)

টিকাঃ
(৫) মুসলিম ও আবু দাউদ; এটি الإرواء তেও উদ্ধৃত হয়েছে (৩৫২)।
(৬) ইবনু হিব্বান ও যিয়া ছহীহ সনদে।
(৭) আহমাদ ও আবু দাউদ ছহীহ সনদে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 বুকের উপর হাত রাখা

📄 বুকের উপর হাত রাখা


নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর ডান হাত রাখতেন। (৮) এ বিষয়ে স্বীয় ছাহাবাগণকেও আদেশ প্রদান করেছেন। (১) তিনি কখনো ডান হাত দ্বারা বাম হাত আঁকড়ে ধরতেন। (২) তিনি হস্তদ্বয়কে বুকের উপর রাখতেন। (৩) তিনি ছলাতে কোমরে (৪) হাত রাখতে নিষেধ করতেন। (৫) এটা মেরুদণ্ডে (হাত রাখায়) গণ্য যা থেকে তিনি নিষেধ করতেন। (৬)

টিকাঃ
(৮) আবু দাউদ, নাসাঈ (১/৫৪/২) ছহীহ সনদে, আর ইবনু হিব্বানও ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন (৪৮৫)।
(১) মালিক, বুখারী ও আবু আওয়ানাহ্।
(২) নাসাঈ, দারাকুত্বনী, ছহীহ সনদ সহকারে। এ হাদীছ প্রমাণ করছে যে, হাত বাঁধা সুন্নাত। আর প্রথম হাদীছ প্রমাণ করছে যে, হাত রাখা সুন্নাত। অতএব উভয়টাই সুন্নাত। কিন্তু হাত বাঁধা ও হাত রাখার মধ্যে সমন্বয় বিধান করতে গিয়ে পরবর্তী হানাফী আলিমগণ যে পদ্ধতি পছন্দ করেছেন তা হচ্ছে বিদআত; যার রূপ তারা এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ডান হাতকে বাম হাতের উপর কনিষ্ঠা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা আঁকড়ে ধরবে এবং অপর তিন অঙ্গুলি বিছিয়ে রাখবে (ইবনু আবিদীন কর্তৃক দুররে মুখতারের টীকা (১/৪৫৪)। অতএব হে পাঠক! পরবর্তীদের (মনগড়া) এ কথা যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে।
(৩) আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ স্বীয় ছহীহ গ্রন্থে (১/৫৪/২) আহমাদ, আবুশ্ শাইখ স্বীয় "তারীখু আছবাহান” গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১২৫) ইমাম তিরমিযীর একটি সনদকে হাসান বলেছেন। গভীরভাবে চিন্তা করলে এর বক্তব্য মুওয়াত্তা ইমাম মালিক এবং বুখারীতে পাওয়া যাবে। এ হাদীছের বিভিন্ন বর্ণনাসূত্র নিয়ে আমি أحكام الجنائز কিতাবের (১১৮) পৃষ্ঠায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
জ্ঞাতব্য: বুকের উপর হাত রাখাটাই ছহীহ হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত। এছাড়া অন্য কোথাও রাখার হাদীছ হয় দুর্বল, আর না হয় ভিত্তিহীন। এই সুন্নাতের উপর ইমাম ইসহাক বিন রাহভিয়া আমল করেছেন। মারওয়াযী আল مسأل গ্রন্থে ২২২ পৃষ্ঠাতে বলেন, ইসহাক আমাদেরকে নিয়ে বিত্রের ছলাত পড়তেন এবং তিনি কুনূতে হাত উঠাতেন আর রুকুর পূর্বে কুনূত পড়তেন। তিনি বক্ষদেশের উপরে বা নীচে হাত রাখতেন। কাযী 'ইয়াযও إعلام। কিতাবের ১৫ পৃষ্ঠায় (রিবাত্ব তৃতীয় সংস্করণ) এ مستحبات الصلاة ছলাতের মুস্তাহাব কাজ বর্ণনার ক্ষেত্রে অনুরূপ কথা বলেছেন, ডান হাতকে বাম হাতের পৃষ্ঠের উপর বুকে রাখা। আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদের বক্তব্যও এর কাছাকাছি, তিনি তার ئل। এর ৬২ পৃষ্ঠায় বলেন: আমার পিতাকে দেখেছি যখন তিনি ছলাত পড়তেন তখন তার এক হাতকে অপর হাতের উপর বুকের উপরস্থলে রাখতেন দেখুন 1 (20) إرواء الغليل
(৪) এটা হচ্ছে কোমরের উপর হাত রাখা যেমন কোন কোন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।
(৫) বুখারী ও মুসলিম আর এটি إرواء গ্রন্থেও উদ্ধৃত হয়েছে (৩৭৪)।
(৬) আবু দাউদ, নাসাঈ ও অন্যান্যগণ।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 সাজদার স্থানে দৃষ্টি রাখা ও একাগ্রতা

📄 সাজদার স্থানে দৃষ্টি রাখা ও একাগ্রতা


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছলাত অবস্থায় মাথা নীচু করে যমীনের দিকে দৃষ্টি রাখতেন। (১) তিনি যখন কা'বা ঘরে প্রবেশ করেন তখন থেকে বেরিয়ে আসা পর্যন্ত তাঁর দৃষ্টি সাজদার স্থানচ্যুত হয়নি। (২) তিনি বলেন:
ولا ينبغي أن يكون في البيت شيء يشغل المصلي )
ঘরে এমন কোন বস্তু থাকা উচিত নয় যা মুছাল্লীকে অন্যমনস্ক করতে পারে। (৩)
তিনি আকাশের দিকে দৃষ্টি উঠাতে নিষেধ করতেন। (৪) এমনকি এ বিষয়ে তাকিদ দিয়ে বলেছেন-
<< لينتهين أقوام يرفعون أبصارهم إلى السماء في الصلاة أو لا ترجع إليهم ( وفي رواية : أو لتخطفن أبصارهم ) >> যারা ছলাতাবস্থায় আকাশের দিকে তাকায় তারা যেন এথেকে বিরত হয় অন্যথায় তাদের চক্ষু ফিরে পাবে না। অপর বর্ণনানুযায়ী তাদের চক্ষু কেড়ে নেয়া হবে। (৫)
অন্য হাদীছে রয়েছে:
<< فإذا صليتم فلا تلتفتوا فإن الله ينصب وجهه لوجه عبده في صلاته ما لم يلتفت >> তোমরা যখন ছলাত পড়বে তখন এদিক সেদিক তাকাবে না, কেননা বান্দাহ যতক্ষণ পর্যন্ত এদিক সেদিক না তাকায় ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাঁর
চেহারাকে বান্দার চেহারার প্রতি নিবদ্ধ রাখেন। (১) তিনি এদিক সেদিক তাকানো اختلاس يختلسه الشيطان من صلاة العبد : 167 | 17 ছলাতে শয়তানের ছিনতাই। (২)
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেন: আল্লাহ তা'আলা ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দাহর ছলাতাবস্থায় তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন যতক্ষণ সে এদিক-ওদিক না তাকায়। তাই যখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় তখন আল্লাহও তার থেকে বিমুখ হয়ে যান। (৩)
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনটি কাজ নিষেধ করেছেন: মোরগের মতো ঠোকর দেয়া, কুকুরের মত বসা ও শিয়ালের মতো এদিক-ওদিক তাকানো। (৪)
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: চির বিদায় গ্রহণকারীর ন্যায় ছলাত পড় যেন তুমি তাঁকে (আল্লাহকে) দেখছ আর যদি তাঁকে দেখতে না পাও তবে তিনি তো তোমাকে দেখছেন। (৫)
তিনি আরো বলেন: ফরয ছলাতের সময় উপস্থিত হলে যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে তার জন্য ওযু করে এবং সুন্দরভাবে তার একাগ্রতা ও রুকু (ইত্যাদি) পালন করে সেই ছলাত তার পূর্বেকৃত (ছাগীরা) গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়, যতক্ষণ না কাবীরা গুনাহ্ করবে। আর এ ধারা সারা জীবন চলতে থাকবে। (৬)
একদা তিনি রেখা অঙ্কিত একটি পশমী কাপড়ে ছলাত আদায় করেন, এর ফলে একবার তার রেখাগুলোর প্রতি দৃষ্টি পড়ে যায়। অতঃপর ছলাত শেষে বললেন, আমার এই কাপড়টি আবু জাহম এর নিকট নিয়ে যাও এবং তার রেখাবিহীন মোটা কাপড়টি নিয়ে আস। কেননা এইমাত্র কাপড়টি আমার ছলাতে বিঘ্নতা সৃষ্টি করেছে। অপর বর্ণনায় আছে: আমি ছালাতাবস্থায় তার রেখার দিকে দৃষ্টি দেয়ার ফলে এটি আমাকে বিভ্রান্ত করে ফেলার উপক্রম হয়েছিল। (৭)
'আইশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর একটি কাপড়ে ছবি ছিল সে কাপড়টি সহওযা ছোট্ট কামরা (১) পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দিকে মুখ করে ছলাত পড়ছিলেন তাই তিনি বলেছিলেন একে আমার সম্মুখ থেকে সরিয়ে ফেল? কেননা এ ছবিগুলো ছলাতের ভিতর আমার সামনে ভেসে উঠে। (২)
তিনি আরো বলতেন: খাবারের উপস্থিতিতে কোন ছলাত নেই, আর নেই মলমূত্রের চাপের অবস্থায়। (৩)

টিকাঃ
(১) বাইহাক্বী, হাকিম-এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন আর তা যথার্থই। প্রথম হাদীছের পক্ষে দশজন ছাহাবীর হাদীছ সাক্ষ্য বহন করে যা ইবনু আসাকির বর্ণনা করেছেন (১৭/২০২/২) আরো দেখুন الإرواء কিতাবে (৩৫৪)। জ্ঞাতব্য: এই হাদীছদ্বয় থেকে বুঝা যায় যে, যমীনে সাজদার স্থানে দৃষ্টি রাখা সুন্নাত। অতএব কিছু সংখ্যক মুছল্লী যারা চক্ষু বন্ধ করে ছলাত পড়ে, এ হচ্ছে ঠাণ্ডা পরহেযগারী। বস্তুতঃ মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম)-এর আদর্শই হচ্ছে সর্বোত্তম আদর্শ।
(৩) ছহীহ সনদে আবু দাউদ ও আহমাদ। এটি صحيح أبي داود গ্রন্থে রয়েছে (১৭৭১) হাদীছে উল্লেখিত البيت তথা ঘর শব্দ দ্বারা কা'বা ঘর বুঝানো উদ্দেশ্য। যেমন হাদীছের প্রেক্ষাপট নির্দেশ করছে।
(৪) বুখারী, আবু দাউদ।
(৫) বুখারী, মুসলিম ও সাররাজ।
(১) তিরমিযী, হাকিম, তারা উভয়ই একে ছহীহ বলেছেন "صحيح الترغيب" (৩৫৩)।
(২) বুখারী ও আবু দাউদ।
(৩) আবু দাউদ ও অন্যান্যগণ, একে ইবনু হিব্বান ও ইবনু খুযাইমা ছহীহ বলেছেন। "ছহীহ আত্তারগীব” (৫৫৫)।
(৪) আহমাদ, আবু ইয়ালা "সহীহ আত্তারগীব” (৫৫৬)।
(৫) আল মুখাল্লাছ ফী আহাদীছ মুনতাক্বাহ, তাবরানী, রুয়ানী, যিয়া "আল মুখতারাহ" ইবনু মাজাহ, আহমাদ, ইবনু আসাকির ফকীহ হাইসামী "আসনাল মাতা-লিব” গ্রন্থে একে ছহীহ বলেছেন।
(৬) মুসলিম
(৭) বুখারী, মুসলিম ও মালিক, এটি উদ্ধৃত হয়েছে আল-ইরওয়াতে (৩৭৬)।
(১) সহওযা বলা হয় যমীনের সামান্য ঢালু অবস্থানে অবস্থিত ছোট্ট ঘরকে যা সামগ্রী ভাণ্ডার ও গুদাম সদৃশ "নিহায়াহ”।
(২) বুখারী, মুসলিম, আবু 'আওয়ানাহ্। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ছবিগুলোকে ছিঁড়ে ফেলা ও নস্যাৎ করার আদেশ না দিয়ে কেবল সরিয়ে নিতে বলার কারণ এই যে, এগুলো প্রাণীর ছবি ছিল না। (আল্লাহই অধিক জ্ঞাত)। বুখারী ও মুসলিমের বিভিন্ন বর্ণনায় অন্যান্য ছবি নস্যাৎ করে ফেলার কথা এসেছে। বিস্তারিত জানার জন্য “ফাতহুল বারী” (১০/৩২১) ও "গাইয়াতুল মারাম ফী তাখরীজি আহাদীছিল হালালি ওয়াল হারাম" (১৩১-১৪৫নং) হাদীছের পর্যালোচনা দ্রষ্টব্য।
(৩) বুখারী ও মুসলিম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00