📄 তাকবীর প্রসঙ্গ
অতঃপর তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম( الله أكبر )আল্লাহু আকবার( বলে ছলাত শুরু করতেন। (৩) ছলাতে ত্রুটিকারীকেও তিনি এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন যেমন পূর্বে উল্লেখ হয়েছে এবং তাকে আরো বলেছিলেন:
ইন্নাহু লা তাতিম্মু সলা-তুন লিআহাদিম মিনান্নাসি হাত্তা ইয়াতওয়ায্যা'আ ফায়াওয়াযি'আল উযূআ মাওয়াযি'আহু সুম্মা ইয়াকুূলুল্লাহু আকবার
কারো ছলাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে ঠিক মত ওযু করবে, অতঃপর الله أكبر (আল্লাহু আকবার) বলবে। (১) তিনি আরো বলতেন:
মিফতাহুছ ছলা-তি আত্বত্বুহূরু অতাহরীমুহাত তাকবীরু অতাহলীলুহায তাসলীম
ছলাতের চাবি পবিত্রতা অর্জন (ওযু) আর তাকবীর দ্বারা ছলাতের ভিতর (এর অসংশ্লিষ্ট আল্লাহ ও তদীয় নাবী কর্তৃক) নিষিদ্ধ কাজগুলো হারাম হয়ে যায় (২) এবং সালাম দ্বারা তা হালাল হয়ে যায়। (৩)
তিনি তাকবীর বলা কালে স্বর উচু করতেন যাতে তাঁর পিছনের মুক্তাদীরা শুনতে পায়। (৪)
তিনি অসুস্থ হলে আবু বকর তাঁর স্বর উঁচু করে মুক্তাদীদের কাছে নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তাকবীর পৌছিয়ে দিতেন। (৫) তিনি বলতেন- ইমাম যখন الله أكبر (আল্লাহু আকবার) বলেন তখন তোমরাও (আল্লাহু আকবার) বল। (৬)
টিকাঃ
(৩) মুসলিম ও ইবনু মাজাহ। হাদীছে এ কথার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি ঐসব লোকদের ন্যায় শুরু করতেন না যারা বলে, "নাওয়াইতু আন উছাললিয়া" বরং এটি হচ্ছে সর্বসম্মত বিদ'আত। কেবল তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, বিদ'আতটা ভাল ধরনের (হাসানাহ্) না খারাপ (সাইয়িআহ) ধরনের। আমরা বলতে চাই: ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা। নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাধারণ বাণী হচ্ছে وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار অর্থাৎ প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতাই..... জাহান্নামে প্রবেশের কারণ। এ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা এখানে সম্ভব নয়।
(১) ত্বাবরানী বিশুদ্ধ সনদসহ বর্ণনা করেছেন।
(২) হারাম বলতে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা উদ্দেশ্য এবং হালাল বলতে ছলাতের বাহিরে যে সব কাজ হালাল তা-ই উদ্দেশ্য। তাহলীল ও তাহরীম মুহাল্লিল (হালালকারী) ও মুহাররিম (হারামকারী) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। হাদীছটি যেমন এ কথা বুঝাচ্ছে যে, ছলাতে (প্রবেশের) দ্বার রুদ্ধ, কোন বান্দাহ ওযু ব্যতীত তা খুলতে পারবে না, অনুরূপভাবে হাদীছটি একথার প্রতি নির্দেশ করছে যে, ছলাতের নিষিদ্ধতার গণ্ডিতে প্রবেশ করা তাকবীর ছাড়া অন্য কোন কাজ দ্বারা হবে না। আর সালাম ব্যতীত অন্য কোন কাজ দ্বারা তা থেকে বাহির হওয়া চলবে না। এটা অধিকাংশ আলিমদের অভিমত। (কিন্তু হানাফী মাযহাবে ঐ সবই জায়িয বরং সালামের পরিবর্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বায়ু নিঃসরণের মাধ্যমে ছলাত সমাপ্ত করা যায়।)
(৩) আবু দাউদ, তিরমিযী এবং হাকিম একে বর্ণনা করে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সমর্থন দিয়েছেন। হাদীছটি ইরওয়া গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে (৩০১)।
(৪) আহমাদ, হাকিম; তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সমর্থন দিয়েছেন।
(৫) মুসলিম ও নাসাঈ।
(৬) আহমাদ ও বায়হাকী বিশুদ্ধ সনদে।
📄 হস্ত উত্তোলন প্রসঙ্গ
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন সময় তাকবীর বলার সাথে হস্ত উত্তোলন করতেন। (৭) আবার কখনো বা তাকবীরের পরে (৮) আবার কখনো বা তাকবীরের পূর্বে (১) হস্ত উত্তোলন করতেন।
"তিনি অঙ্গুলিসমূহ প্রসারিত অবস্থায় দু'হাত উত্তোলন করতেন। তবে আঙ্গুলসমূহের মাঝে ফাঁক করতেন না এবং একেবারে মিলাতেনও না। (২) হস্তদ্বয়কে স্বীয় কাঁধ বরাবর উঠাতেন। (৩) আবার কখনো বা কানের লতি বরাবর উঠাতেন। (৪)
টিকাঃ
(৭ ও ৮) বুখারী ও নাসাঈ।
(১) বুখারী ও আবু দাউদ।
(২) আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ (১/৬২/২ ও ৬৪/১) তামামুল মিন্নাহ এবং হাকিম একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাঁর সমর্থন দিয়েছেন।
(৩) বুখারী ও নাসাঈ।
(৪) বুখারী ও আবু দাউদ।
📄 বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার নির্দেশ
নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতেন। (৫) আর বলতেন:
ইন্না মা'শারাল আম্বিয়া-উ উমিরনা- বিতাজিল ফিতরিনা- অ তা'খীরি সুহুরিনা- অ আন নাযা'আ আইমা-নানা- 'আলা- শামা-ইলিনা- ফিস্ সলা-হ
আমরা নবীদের দল ইফতার অবিলম্বে করতে, সাহুর বিলম্বে খেতে এবং ছালাতে ডান হাতের উপর বাম হাত রাখতে আদিষ্ট হয়েছি। (৬)
মাররা বিররাজুলিন অহুয়া ইউছাল্লী অক্বাদ ওয়াযা'আ ইয়াদাহুল ইউছরা- 'আলাল ইউমনা- ফানতাযা'আহা- অ ওয়াযা'আল ইউমনা- 'আলাল ইউছরা-
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন এমতাবস্থায় যে, সে তার ডান হাতের উপর বাম হাত রেখে ছলাত আদায় করছিল, তিনি তার হাত ছাড়িয়ে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখলেন। (৭)
টিকাঃ
(৫) মুসলিম ও আবু দাউদ; এটি الإرواء তেও উদ্ধৃত হয়েছে (৩৫২)।
(৬) ইবনু হিব্বান ও যিয়া ছহীহ সনদে।
(৭) আহমাদ ও আবু দাউদ ছহীহ সনদে।
📄 বুকের উপর হাত রাখা
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর ডান হাত রাখতেন। (৮) এ বিষয়ে স্বীয় ছাহাবাগণকেও আদেশ প্রদান করেছেন। (১) তিনি কখনো ডান হাত দ্বারা বাম হাত আঁকড়ে ধরতেন। (২) তিনি হস্তদ্বয়কে বুকের উপর রাখতেন। (৩) তিনি ছলাতে কোমরে (৪) হাত রাখতে নিষেধ করতেন। (৫) এটা মেরুদণ্ডে (হাত রাখায়) গণ্য যা থেকে তিনি নিষেধ করতেন। (৬)
টিকাঃ
(৮) আবু দাউদ, নাসাঈ (১/৫৪/২) ছহীহ সনদে, আর ইবনু হিব্বানও ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন (৪৮৫)।
(১) মালিক, বুখারী ও আবু আওয়ানাহ্।
(২) নাসাঈ, দারাকুত্বনী, ছহীহ সনদ সহকারে। এ হাদীছ প্রমাণ করছে যে, হাত বাঁধা সুন্নাত। আর প্রথম হাদীছ প্রমাণ করছে যে, হাত রাখা সুন্নাত। অতএব উভয়টাই সুন্নাত। কিন্তু হাত বাঁধা ও হাত রাখার মধ্যে সমন্বয় বিধান করতে গিয়ে পরবর্তী হানাফী আলিমগণ যে পদ্ধতি পছন্দ করেছেন তা হচ্ছে বিদআত; যার রূপ তারা এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ডান হাতকে বাম হাতের উপর কনিষ্ঠা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা আঁকড়ে ধরবে এবং অপর তিন অঙ্গুলি বিছিয়ে রাখবে (ইবনু আবিদীন কর্তৃক দুররে মুখতারের টীকা (১/৪৫৪)। অতএব হে পাঠক! পরবর্তীদের (মনগড়া) এ কথা যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে।
(৩) আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ স্বীয় ছহীহ গ্রন্থে (১/৫৪/২) আহমাদ, আবুশ্ শাইখ স্বীয় "তারীখু আছবাহান” গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১২৫) ইমাম তিরমিযীর একটি সনদকে হাসান বলেছেন। গভীরভাবে চিন্তা করলে এর বক্তব্য মুওয়াত্তা ইমাম মালিক এবং বুখারীতে পাওয়া যাবে। এ হাদীছের বিভিন্ন বর্ণনাসূত্র নিয়ে আমি أحكام الجنائز কিতাবের (১১৮) পৃষ্ঠায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
জ্ঞাতব্য: বুকের উপর হাত রাখাটাই ছহীহ হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত। এছাড়া অন্য কোথাও রাখার হাদীছ হয় দুর্বল, আর না হয় ভিত্তিহীন। এই সুন্নাতের উপর ইমাম ইসহাক বিন রাহভিয়া আমল করেছেন। মারওয়াযী আল مسأل গ্রন্থে ২২২ পৃষ্ঠাতে বলেন, ইসহাক আমাদেরকে নিয়ে বিত্রের ছলাত পড়তেন এবং তিনি কুনূতে হাত উঠাতেন আর রুকুর পূর্বে কুনূত পড়তেন। তিনি বক্ষদেশের উপরে বা নীচে হাত রাখতেন। কাযী 'ইয়াযও إعلام। কিতাবের ১৫ পৃষ্ঠায় (রিবাত্ব তৃতীয় সংস্করণ) এ مستحبات الصلاة ছলাতের মুস্তাহাব কাজ বর্ণনার ক্ষেত্রে অনুরূপ কথা বলেছেন, ডান হাতকে বাম হাতের পৃষ্ঠের উপর বুকে রাখা। আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদের বক্তব্যও এর কাছাকাছি, তিনি তার ئل। এর ৬২ পৃষ্ঠায় বলেন: আমার পিতাকে দেখেছি যখন তিনি ছলাত পড়তেন তখন তার এক হাতকে অপর হাতের উপর বুকের উপরস্থলে রাখতেন দেখুন 1 (20) إرواء الغليل
(৪) এটা হচ্ছে কোমরের উপর হাত রাখা যেমন কোন কোন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।
(৫) বুখারী ও মুসলিম আর এটি إرواء গ্রন্থেও উদ্ধৃত হয়েছে (৩৭৪)।
(৬) আবু দাউদ, নাসাঈ ও অন্যান্যগণ।