📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 নিয়ত প্রসঙ্গ

📄 নিয়ত প্রসঙ্গ


তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرىء ما نوى )
অর্থ: আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে। (২)

টিকাঃ
(১) ইমাম নববী ( روضة الطالبين )১/২২৪) এ বলেন: নিয়ত অর্থ ইচ্ছা করা। তাই মুছাল্লী স্বীয় অন্তরে ছলাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি যেমন যহর, ফরয ইত্যাদি উপস্থিত করবে অতঃপর মনে মনে প্রথম তাকবীর (তাকবীর তাহরীমাহ)-এর সাথে সংযুক্ত করবে ঐসব বিষয়ের সংকল্পকে।
{প্রকাশ থাকে যে, কোন কোন সমাজে মুছাল্লায় দাঁড়িয়ে মুছাল্লাহর দু'আ হিসাব "ইন্নী অজ্জাহতু...." পাঠ করা হয়। নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ছলাত আদায়ের পদ্ধতিতে তাকবীরের পূর্বে এ দু'আ পাঠের কোন নিয়ম নেই। অতএব, ইহা নাবীর তরীকা বহির্ভূত নবাবিষ্কৃত বিদ'আত। হাঁ তবে ছহীহ হাদীছসমূহে শুরুর (ছানার) বহু দু'আর মধ্যে অজ্জাহতু অজহিয়া... এ দু'আটি রয়েছে যা তাকবীরের পরে পাঠযোগ্য, পূর্বে নয়। দেখুন আবু দাউদ ও তিরমিযী। অনুরূপভাবে তাকবীরের পূর্বে বা যে কোন আমল ও ইবাদতের পূর্বে জনৈক মৌলভী সাহেবদের রচিত গদবাধা আরবী বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে নিয়ত পড়ার যে প্রচলন দেখা যায় যেমন "নাঅয়তু আন উছল্লিয়া...... আতাঅয্যাআ.... ইত্যাদিও দ্বীনের ভিতর নতুন আবিষ্কৃত বিদআত। প্রচলিত নিয়ত পড়ার নিয়ম কুরআন হাদীছে নেই। নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), ছাহাবাগণ, তাবিঈগণ, চারজন ইমামসহ ইমসলামে নির্ভরযোগ্য কোন আলিম পড়েননি। অনুরূপভাবে ইমামের "আনা ইমামুল লিমান হাযারা অমান ইয়াহ্যুর" বলাও নবাবিষ্কৃত বিদ'আত। মূলতঃ নিয়ত বলতে ও পড়তে হয় না। নিয়ত করতে হয়।} (সম্পাদক)
(২) বুখারী, মুসলিম ইত্যাদি। হাদীছটি الإرواء তে উদ্ধৃত হয়েছে (২২)।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 তাকবীর প্রসঙ্গ

📄 তাকবীর প্রসঙ্গ


অতঃপর তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম( الله أكبر )আল্লাহু আকবার( বলে ছলাত শুরু করতেন। (৩) ছলাতে ত্রুটিকারীকেও তিনি এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন যেমন পূর্বে উল্লেখ হয়েছে এবং তাকে আরো বলেছিলেন:
ইন্নাহু লা তাতিম্মু সলা-তুন লিআহাদিম মিনান্নাসি হাত্তা ইয়াতওয়ায্যা'আ ফায়াওয়াযি'আল উযূআ মাওয়াযি'আহু সুম্মা ইয়াকুূলুল্লাহু আকবার
কারো ছলাত ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে ঠিক মত ওযু করবে, অতঃপর الله أكبر (আল্লাহু আকবার) বলবে। (১) তিনি আরো বলতেন:
মিফতাহুছ ছলা-তি আত্বত্বুহূরু অতাহরীমুহাত তাকবীরু অতাহলীলুহায তাসলীম
ছলাতের চাবি পবিত্রতা অর্জন (ওযু) আর তাকবীর দ্বারা ছলাতের ভিতর (এর অসংশ্লিষ্ট আল্লাহ ও তদীয় নাবী কর্তৃক) নিষিদ্ধ কাজগুলো হারাম হয়ে যায় (২) এবং সালাম দ্বারা তা হালাল হয়ে যায়। (৩)
তিনি তাকবীর বলা কালে স্বর উচু করতেন যাতে তাঁর পিছনের মুক্তাদীরা শুনতে পায়। (৪)
তিনি অসুস্থ হলে আবু বকর তাঁর স্বর উঁচু করে মুক্তাদীদের কাছে নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তাকবীর পৌছিয়ে দিতেন। (৫) তিনি বলতেন- ইমাম যখন الله أكبر (আল্লাহু আকবার) বলেন তখন তোমরাও (আল্লাহু আকবার) বল। (৬)

টিকাঃ
(৩) মুসলিম ও ইবনু মাজাহ। হাদীছে এ কথার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি ঐসব লোকদের ন্যায় শুরু করতেন না যারা বলে, "নাওয়াইতু আন উছাললিয়া" বরং এটি হচ্ছে সর্বসম্মত বিদ'আত। কেবল তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, বিদ'আতটা ভাল ধরনের (হাসানাহ্) না খারাপ (সাইয়িআহ) ধরনের। আমরা বলতে চাই: ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা। নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাধারণ বাণী হচ্ছে وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار অর্থাৎ প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতাই..... জাহান্নামে প্রবেশের কারণ। এ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা এখানে সম্ভব নয়।
(১) ত্বাবরানী বিশুদ্ধ সনদসহ বর্ণনা করেছেন।
(২) হারাম বলতে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা উদ্দেশ্য এবং হালাল বলতে ছলাতের বাহিরে যে সব কাজ হালাল তা-ই উদ্দেশ্য। তাহলীল ও তাহরীম মুহাল্লিল (হালালকারী) ও মুহাররিম (হারামকারী) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। হাদীছটি যেমন এ কথা বুঝাচ্ছে যে, ছলাতে (প্রবেশের) দ্বার রুদ্ধ, কোন বান্দাহ ওযু ব্যতীত তা খুলতে পারবে না, অনুরূপভাবে হাদীছটি একথার প্রতি নির্দেশ করছে যে, ছলাতের নিষিদ্ধতার গণ্ডিতে প্রবেশ করা তাকবীর ছাড়া অন্য কোন কাজ দ্বারা হবে না। আর সালাম ব্যতীত অন্য কোন কাজ দ্বারা তা থেকে বাহির হওয়া চলবে না। এটা অধিকাংশ আলিমদের অভিমত। (কিন্তু হানাফী মাযহাবে ঐ সবই জায়িয বরং সালামের পরিবর্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বায়ু নিঃসরণের মাধ্যমে ছলাত সমাপ্ত করা যায়।)
(৩) আবু দাউদ, তিরমিযী এবং হাকিম একে বর্ণনা করে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সমর্থন দিয়েছেন। হাদীছটি ইরওয়া গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে (৩০১)।
(৪) আহমাদ, হাকিম; তিনি একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তার সমর্থন দিয়েছেন।
(৫) মুসলিম ও নাসাঈ।
(৬) আহমাদ ও বায়হাকী বিশুদ্ধ সনদে।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 হস্ত উত্তোলন প্রসঙ্গ

📄 হস্ত উত্তোলন প্রসঙ্গ


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন সময় তাকবীর বলার সাথে হস্ত উত্তোলন করতেন। (৭) আবার কখনো বা তাকবীরের পরে (৮) আবার কখনো বা তাকবীরের পূর্বে (১) হস্ত উত্তোলন করতেন।
"তিনি অঙ্গুলিসমূহ প্রসারিত অবস্থায় দু'হাত উত্তোলন করতেন। তবে আঙ্গুলসমূহের মাঝে ফাঁক করতেন না এবং একেবারে মিলাতেনও না। (২) হস্তদ্বয়কে স্বীয় কাঁধ বরাবর উঠাতেন। (৩) আবার কখনো বা কানের লতি বরাবর উঠাতেন। (৪)

টিকাঃ
(৭ ও ৮) বুখারী ও নাসাঈ।
(১) বুখারী ও আবু দাউদ।
(২) আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ (১/৬২/২ ও ৬৪/১) তামামুল মিন্নাহ এবং হাকিম একে ছহীহ বলেছেন ও যাহাবী তাঁর সমর্থন দিয়েছেন।
(৩) বুখারী ও নাসাঈ।
(৪) বুখারী ও আবু দাউদ।

📘 সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি > 📄 বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার নির্দেশ

📄 বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার নির্দেশ


নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতেন। (৫) আর বলতেন:
ইন্না মা'শারাল আম্বিয়া-উ উমিরনা- বিতাজিল ফিতরিনা- অ তা'খীরি সুহুরিনা- অ আন নাযা'আ আইমা-নানা- 'আলা- শামা-ইলিনা- ফিস্ সলা-হ
আমরা নবীদের দল ইফতার অবিলম্বে করতে, সাহুর বিলম্বে খেতে এবং ছালাতে ডান হাতের উপর বাম হাত রাখতে আদিষ্ট হয়েছি। (৬)
মাররা বিররাজুলিন অহুয়া ইউছাল্লী অক্বাদ ওয়াযা'আ ইয়াদাহুল ইউছরা- 'আলাল ইউমনা- ফানতাযা'আহা- অ ওয়াযা'আল ইউমনা- 'আলাল ইউছরা-
নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন এমতাবস্থায় যে, সে তার ডান হাতের উপর বাম হাত রেখে ছলাত আদায় করছিল, তিনি তার হাত ছাড়িয়ে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখলেন। (৭)

টিকাঃ
(৫) মুসলিম ও আবু দাউদ; এটি الإرواء তেও উদ্ধৃত হয়েছে (৩৫২)।
(৬) ইবনু হিব্বান ও যিয়া ছহীহ সনদে।
(৭) আহমাদ ও আবু দাউদ ছহীহ সনদে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00